02.02.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - উচ্চ পদ প্রাপ্ত করার জন্য বাবা তোমাদের যা পড়াচ্ছেন, যেভাবে পড়াচ্ছেন ঠিক সে'ভাবেই তাকে ধারণ করো, সর্বদা শ্রীমতে চলতে থাকো"

প্রশ্নঃ -
কখনও যেন আক্ষেপ না হয়, তার জন্য কোন্ বিষয়ে ভালো ভাবে ভাবনা চিন্তা করতে হবে?

উত্তরঃ  
প্রতিটি আত্মা যে পার্ট প্লে করছে, তা ড্রামায় পূর্ব নির্ধারিত । এটাই অনাদি আর অবিনাশী ড্রামা । এই বিষয়ে যদি চিন্তা ভাবনা করো, তবে কখনও আক্ষেপ হতে পারে না । আক্ষেপ তাদেরই হয় যারা ড্রামার আদি-মধ্য অন্তকে উপলব্ধি করতে পারে না । বাচ্চারা, তোমাদের এই ড্রামাকে সাক্ষী হয়ে দেখতে হবে, এতে কান্নাকাটি বা হতাশ হওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই ।

ওম্ শান্তি ।
আত্মাদের বাবা (রূহানী বাবা) বসে আত্মা রূপী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন যে, আত্মা কত ছোট । অনেক ছোট এই আত্মার মধ্যে শরীরকে কত বড় দেখায় । ছোট আত্মা যখন শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায় তারপর আর কিছুই দেখতে পায় না। আত্মার উপরই যা কিছু বলা হয় । এত ছোট বিন্দু (আত্মা) কী কী কাজই না করে ! খুব ছোট হীরে ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়েই দেখা যায়, হীরের মধ্যে কোনও দাগ নেই তো ! আত্মাও কত ছোট । কেমন ম্যাগনিফায়িং গ্লাস রয়েছে -- যা দিয়ে দেখছো ! কোথায় থাকে? কি কানেকশন আছে? এই চোখ দিয়েই কত বড় আকাশকে দেখা যায় ! বিন্দু বেরিয়ে গেলে আর কিছুই থাকে না । যেমন বাবা বিন্দু তেমনই আত্মাও বিন্দু । এত ছোট আত্মাও পিওর, ইমপিওর হয়ে যায়, এটাই ভালো করে ভেবে দেখার বিষয়। দ্বিতীয় কেউ জানেনা - আত্মা কে, পরমাত্মা কে । এত ছোট আত্মা শরীরে থেকে কত কি তৈরি করে । কত কি দেখে । সেই আত্মার মধ্যেই সম্পূর্ণ পার্ট সঞ্চিত থাকে -- ৮৪ জন্মের । কিভাবে আত্মা কাজ করে, এ সত্যিই ওয়ান্ডার । এত ছোট বিন্দুতে ৮৪ জন্মের পার্ট সঞ্চিত হয়ে আছে । আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে । যেমন নেহেরু ও খ্রাইস্টের মৃত্যু হয়েছে । আত্মা বেরিয়ে গেছে যখন শরীরও মৃত । কত বড় শরীর আর কত ছোট আত্মা । এটাও বাবা অনেকবার বুঝিয়েছেন যে, মানুষ কি করে জানবে এই সৃষ্টি চক্র প্রতি ৫ হাজার বছর পরে আবার ঘুরে আসে । অমুকে মারা গেছে এটা কোনও নতুন কথা নয় । তার আত্মা ঐ শরীর ছেড়ে অন্য শরীর ধারণ করেছে । ৫ হাজার বছর আগেও এই নাম রূপ নিয়েই শরীর ত্যাগ করেছিল । আত্মা জানে আমি এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীরে প্রবেশ করি ।

এখন তোমরা শিব জয়ন্তী উৎসব পালন করো । তোমরা দেখাও যে, ৫ হাজার বছর পূর্বেও শিব জয়ন্তী উদযাপিত হয়েছিল । প্রতি ৫ হাজার বছর পরেও শিব জয়ন্তী যা হীরে তুল্য তা পালন করা হয় । এটাই সত্যি । বিচার সাগর মন্থন করতে হয় অন্যকে বোঝানোর জন্য । এই উৎসব পালন করা হয়, তোমরা বলবে এ কোনও নতুন কথা নয়, হিস্ট্রি রিপিট হয় সুতরাং ৫ হাজার বছর পরেও যার যে পার্ট থাকে, তাকেই সেই শরীর ধারণ করতে হয় । নিজের নাম রূপ দেশ কাল ছেড়ে অন্য শরীর ধারণ করে । এর উপরে বিচার সাগর মন্থন করে এমন ভাবে লেখো যাতে মানুষ অবাক হয়ে যায় । বাচ্চাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করি না যে - এর আগে কি দেখা হয়েছে? এত ছোট আত্মাকেই তো জিজ্ঞাসা করা হয়, তাই না ! এই নাম রূপ নিয়ে আগে কি দেখা হয়েছে? আত্মাই শোনে । অনেকেই বলে হ্যাঁ বাবা, তোমার সাথে কল্প পূর্বে মিলিত হয়েছিলাম । সম্পূর্ণ ড্রামার পার্ট বুদ্ধিতে আছে । ওরা হলো জাগতিক (হদের) ড্রামার অ্যাক্টর্স আর এ হলো অসীমের (বেহদের) ড্রামা । এই ড্রামা হুবহু অ্যাক্যুরেট, এর মধ্যে বিন্দুমাত্র ফারাক নেই । এখানে বায়োস্কোপ হলো জাগতিক, যা মেশিনের সাহায্যে চলে । বড়জোর দুই-চার রিল ঘোরে । আর এ হলো অনাদি অবিনাশী একটাই অসীমের (বেহদের) ড্রামা । এই ড্রামাতেই কত ছোট আত্মা এক পার্ট প্লে করে আবার দ্বিতীয় পার্ট প্লে করে । ৮৪ জন্মে কত বড় ফিল্মের রিল হবে তাহলে ! এ হলো নেচার । কারও কারও বুদ্ধিতে ধারণ হবে । এ হলো রেকর্ডের মতো, অত্যন্ত ওয়ান্ডারফুল। ৮৪ লক্ষ তো হতে পারে না । ৮৪ চক্র, একে কীভাবে বোঝানো যেতে পারে? সাংবাদিকদের কাছে যদি তোমরা ব্যাখ্যা করো তবে তারা সংবাদপত্রে প্রচার করতে পারে । ম্যাগাজিনেও প্রচার করতে পারে । আমরা এই সঙ্গমের কথাই বলছি। সত্যযুগে এসব কথা তো হবে না । না কলিযুগে হবে । জন্তু জানোয়ার ইত্যাদি যা কিছু আছে সবার জন্যই বলা হবে আবার ৫ হাজার বছর পরে দেখবো । কোনও পার্থক্য হবে না । ড্রামায় পূর্ব নির্ধারিত । সত্য যুগে জন্তু জানোয়ারও খুব সুন্দর হবে । সম্পূর্ণ ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি রিপিট হবে । যেমন ড্রামায় স্যুটিং হয় । একটা মাছি উড়ে চলে গেলে তাও রিপিট হবে । এখন আমরা এইসব ছোট ছোট জিনিসকে খেয়াল তো করব না । সর্বপ্রথম তো বাবা স্বয়ং বলেন আমি কল্পে কল্পে সঙ্গম যুগে এই ভাগ্যশালী রথের (ব্রহ্মা শরীর) মধ্যে আসি । আত্মা জিজ্ঞাসা করে এত ছোট বিন্দুর মধ্যে কোথা থেকে কিভাবে আসে? ওঁনাকে জ্ঞানের সাগর বলা হয় । এসব কথা বাচ্চারা তোমাদের মধ্যে যারা সুবুদ্ধি সস্পন্ন তারাই বুঝবে। প্রতি ৫ হাজার বছর পরে আমি আসি । কতখানি ভ্যালুয়েবল এই ঈশ্বরীয় পাঠ । বাবার কাছেই অ্যাক্যুরেট নলেজ আছে যা বাচ্চাদের প্রদান করেন । তোমাদের কেউ জিজ্ঞাসা করলে চট করে বলে দিতে পারবে সত্যযুগের আয়ু ১২৫০ বছরের । এক-এক জন্মের আয়ু ১৫০ বছর করে হয় । কত পার্ট প্লে করতে হয় । সমস্ত চক্র বুদ্ধিতে ঘোরে । আমরা ৮৪ জন্ম গ্রহণ করি । সম্পূর্ণ সৃষ্টি এইভাবেই চক্রাকারে ঘুরতে থাকে । এটা অনাদি অবিনাশী নির্ধারিত ড্রামা। এতে নতুন কিছু সংযোজন হতে পারে না । মনে রাখতে হবে সব কিছুই পূর্ব নির্ধারিত, চিন্তা করে কিছু হবে না । যা কিছু হবে সবই ড্রামায় নির্ধারিত । সাক্ষী হয়ে দেখতে হবে । ঐ নাটকে কেউ এমন পার্ট প্লে করে যে, দুর্বল চিত্তের লোকেরা সেই নাটক দেখে কান্নাকাটি শুরু করে । এ তো নাটক, তাই না! এটা সত্যি যে, এতে প্রতিটি আত্মা নিজের পার্ট প্লে করছে । ড্রামা কখনও বন্ধ হয় না। এখানে কান্নাকাটি করার বা আক্ষেপের কোনও প্রশ্নই নেই । কোনও নতুন কথা তো নয় । আক্ষেপ তারই হয় যে ড্রামার আদি-মধ্য অন্তকে রিয়েলাইজ করে না । এটাও তোমরা জানো । এই সময় আমরা জ্ঞান অর্জন করে যে পদ প্রাপ্ত করি, চক্র শেষে আবারও তাই হবো । এটাই বড় আশ্চর্যান্বিত হয়ে বিচার সাগর মন্থন করার বিষয় । কোনও মানুষ এই বিষয়ে জানেনা । ঋষি-মুনিরাও বলে থাকে - আমরা রচনা আর রচয়িতাকে জানি না । ওরা তো জানেই না রচয়িতা এত ছোট এক বিন্দু । উনিই নতুন সৃষ্টি রচনা করেন । তোমাদের, অর্থাৎ বাচ্চাদের পড়ান। জ্ঞানের সাগর তিনি । এসব কথা তোমরা বাচ্চারাই বোঝাও । তোমরা তো এমন বলবেই না যে আমরা জানিনা । তোমাদেরকে বাবা এই সময় এসে সব বুঝিয়ে বলেন ।

তোমাদের কোনও ব্যপারে আক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই । সবসময় উৎফুল্ল থাকা উচিত । জাগতিক ড্রামার ফিল্ম চলতে-চলতে ছিঁড়ে যাবে, পুরানো হয়ে যাবে, তারপর আবার বদল করবে । পুরানোটাকে ফেলে দেয় । কিন্তু এ তো অসীমের (বেহদের) অবিনাশী ড্রামা । এমন সব বিষয়ের উপরে চিন্তন করে দৃঢ় করে নেওয়া উচিত । এটা ড্রামা । আমরা বাবার শ্রীমতে চলে পতিত থেকে পবিত্র হয়ে উঠছি আর কোনো কথাই হতে পারে না, যার দ্বারা আমরা পতিত থেকে পবিত্র হতে পারবো বা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে পারবো । পার্ট প্লে করতে করতে আমরা সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়ে গেছি, আবার সতোপ্রধান হতে হবে । না আত্মা বিনাশ হয়, না পার্ট বিনাশ হয় । এমন সব বিষয়ের উপরে কেউ চিন্তা ভাবনা করে না । মানুষ তো শুনে অবাক হয়ে যাবে । ওরা তো শুধুমাত্র ভক্তি মার্গের শাস্ত্রই পড়ে। রামায়ণ, ভাগবত, গীতা ইত্যাদি সবই এক । এখানে তো বিচার সাগর মন্থন করতে হয় । অসীম জগতের বাবা যা বোঝান তাকে সঠিক ভাবে ধারণ করলে ভালো পদ প্রাপ্ত করতে পারবে । সবাই একই রকম ভাবে ধারণা করতে সক্ষম নয় । কেউ কেউ ভীষণ গভীরতায় গিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারে । আজকাল তো জেলেও ভাষণ দিতে যায় । বেশ্যাদের কাছেও যায়, অন্ধ বধিরদের কাছেও বাচ্চারা যায়, কেননা তাদেরও অধিকার আছে । ঈশারায় তারা বুঝতে পারে । অন্তরাত্মাই তো বুঝতে পারে । চিত্র সামনে রেখে দাও, পড়তে তো পারবে । বুদ্ধি তো আত্মার মধ্যেই আছে না ! হলই বা অন্ধ, খোঁড়া কিন্তু কোনো না কোনোভাবে ঠিক বুঝতে পারে । অন্ধদের তো কান আছে । তোমাদের কাছে সিঁড়ির খুব সুন্দর চিত্র রয়েছে । এই নলেজ যে কোনো কাউকে বুঝিয়ে স্বর্গে যাওয়ার উপযুক্ত করে তুলতে পারো । আত্মা বাবার থেকে অবিনাশী উত্তরাধীকার গ্রহণ করতে পারে । স্বর্গে যেতে পারে । এখানে তো কারো কারো ডিফেক্টিভ (শারীরিক ত্রুটি) অরগ্যান্সও থাকে । ওখানে (সত্য যুগে) পঙ্গু, খোঁড়া হবে না । ওখানে আত্মা আর শরীর দুই-ই পবিত্র হবে । প্রকৃতিও পবিত্র । নতুন জিনিস অবশ্যই সতোপ্রধান হয় । এটাও ড্রামায় নির্ধারিত । এক সেকেন্ডও পরের মুহূর্তে এক হতে পারে না । কিছু না কিছু পার্থক্য থাকবেই । এইভাবেই ড্রামাকে সাক্ষী দ্রষ্টা হয়ে দেখতে হবে । এই নলেজ এখন তোমরা পাচ্ছো তারপর আর কখনও পাবে না । প্রথমে তো এই নলেজ ছিলই না । একেই অনাদি অবিনাশী পূর্ব নির্ধারিত ড্রামা বলা হয় । একে ভালো ভাবে বুঝে ধারণ করে অপরকেও বোঝাতে হবে ।

তোমরা ব্রাহ্মণরাই এই জ্ঞান সম্পর্কে অবহিত । শক্তিশালী হওয়ার জন্য পাওয়ারফুল ওষুধ তোমরা এখানে পাচ্ছো । ভালো যা কিছু তারই মহিমা করা হয় । নতুন দুনিয়া কিভাবে স্থাপন হবে তারপর এই রাজ্য কেমন হবে তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুসারে তা জানবে । যে জানে সে অন্যদেরও বোঝাতে পারে । সে অনেক খুশিতে থাকে । কারও তো কানাকড়িও খুশি থাকে না । সবারই নিজের-নিজের পার্ট প্লে করতে হয় । যে বুদ্ধিতে ধারণ করতে সক্ষম হবে, বিচার সাগর মন্থন করবে সে-ই অন্যদের বোঝাতে পারবে । এই হলো তোমাদের ঈশ্বরীয় পঠনপাঠন, যার দ্বারা তোমরা সেটাই হয়ে উঠবে । তোমরা যে কোনো কাউকে বুঝিয়ে বলো যে, তুমি আত্মা । আত্মাই পরমাত্মাকে স্মরণ করে । আত্মারা সবাই ভাই-ভাই । বলাও হয় ঈশ্বর একজনই । বাকি সমস্ত মানুষের মধ্যে আত্মা আছে । সব আত্মাদের পারলৌকিক বাবা আছেন । যার মধ্যে নিশ্চয় বুদ্ধি (দৃঢ বিশ্বাস) থাকবে তাকে কেউ নাড়াতে পারবে না । সংশয় যার থাকবে তাকে সহজেই নড়ানো যাবে । সর্বব্যাপী জ্ঞানের উপর কতো তর্কবিতর্ক করে । তারাও নিজেদের জ্ঞানের বিষয়ে পাকাপোক্ত, যদিও আমাদের এই জ্ঞানের তারা নয়। সুতরাং ওরা দেবতা ধর্মের কি ভাবে বলা যেতে পারে । আদি সনাতন দেবী-দেবতাধর্ম প্রায় লুপ্ত । তোমরা বাচ্চারা সেটা জানো । আমাদের আদি সনাতন ধর্ম পবিত্র প্রবৃত্তির ছিল, এখন অপবিত্র হয়ে গেছে । যে প্রথমে পূজ্য ছিল সে-ই এখন পূজারী হয়ে গেছে । অনেক পয়েন্টস কণ্ঠস্থ হলে বোঝাতে পারবে । বাবা তোমাদের বোঝান তোমরা আবার অন্যদের বোঝাও যে, এই সৃষ্টি চক্র কিভাবে ঘুরছে । তোমরা ছাড়া আর কেউ জানেনা । তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুসারে আছে ।

বাবাকেও প্রতিটি মুহূর্তে পয়েন্টস বারংবার রিপিট করতে হয় কেননা নতুন-নতুন অনেকে আসে । প্রথমে কিভাবে স্থাপন হয়েছিল, তোমাদেরও জিজ্ঞাসা করবে, সুতরাং তোমাদেরও রিপিট করতে হবে । তোমরা সবসময় সেবায় ব্যস্ত থাকবে । চিত্র দেখিয়েও তোমরা বোঝাতে পারো । কিন্তু জ্ঞানের ধারণা তো সবার একরকম হতে পারে না । এর জন্য জ্ঞান চাই, স্মরণ চাই, খুব ভালো ভাবে ধারণা হওয়া উচিত । সতোপ্রধান হওয়ার জন্য বাবাকে অবশ্যই স্মরণ করা উচিত । কিছু বাচ্চা আছে যারা নিজেদের কাজকর্মেই ফেঁসে থাকে, কিছুই পুরুষার্থ করে না । এটাও ড্রামায় নির্ধারিত । কল্প পূর্বে যে যেমন পুরুষার্থ করেছিল তেমনটাই করবে । একদম শেষে তোমাদের ভাই-ভাই হয়ে থাকতে হবে । নগ্ন হয়ে এসেছিলে নগ্ন হয়েই যেতে হবে । এমনটা যেন না হয় শেষে গিয়ে কেউ স্মরণে এলো । এখন তো কেউ ফিরে যেতে পারবে না । যতক্ষণ বিনাশ না হবে, স্বর্গে কিভাবে যাবে । নিশ্চয়ই সূক্ষ্মবতনে যাবে নয়তো এখানেই জন্ম নেবে । যা কিছু দুর্বলতা (কমজোরি) থাকবে আবারও তার জন্য পুরুষার্থ করবে । সেটাও যখন বড় হবে তখন বুঝবে । এসবই ড্রামায় নির্ধারিত । তোমাদের একরস অবস্থা একদম শেষে গিয়ে হবে । এমন নয় যে সবকিছু লিখলেই স্মরণ হতে থাকবে । লাইব্রেরিতে এত বই কেন রাখা হয় । ডাক্তার, উকিল অনেক বই সংগ্রহে রাখে, স্টাডি করে । তারা হলো মানুষদের উকিল । তোমরা আত্মারা হলে আত্মাদের উকিল । আত্মারা, আত্মাদের পড়ায় । ওটা হলো শরীরের জন্য অধ্যয়ন । আর এ হলো আধ্যাত্মিক (রূহানী) অধ্যয়ন । এই আধ্যাত্মিক (রূহানী) অধ্যয়নে ২১ জন্ম আর কোনও ভুলভ্রান্তি হবে না । মায়ার রাজ্যে অনেক ভুলভ্রান্তি হতেই থাকে । যে কারণে সহনও করতে হয় । যে সম্পূর্ণ পড়াশোনা করবে না, কর্মাতীত অবস্থাও প্রাপ্ত করতে পারবে না, সুতরাং সহন করতেই হবে । তারপর পদও কম হয়ে যাবে । বিচার সাগর মন্থন করে অন্যদের শোনালে তবেই চিন্তন চলতে থাকবে । বাচ্চারা জানে কল্প পূর্বেও বাবা এইভাবেই এসেছিলেন, যাঁর শিব জয়ন্তী উদযাপিত হয় । লড়াই ইত্যাদির তো কোনও প্রশ্নই আসে না । ওসব হল শাস্ত্রের কথা । এ হলো জ্ঞানের পঠনপাঠন । আমদানিতে খুশি অনুভব হয় । যে লক্ষপতি হয় তার অগাধ খুশি থাকে । কেউ লক্ষপতি হয়, কেউ বা কোটিপতি আবার কারও অল্প পয়সা থাকে । সুতরাং যার কাছে যত পরিমাণ জ্ঞান রত্ন থাকবে তার অগাধ খুশিও থাকবে । আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বিচার সাগর মন্থন করে নিজেকে জ্ঞান রত্নে পরিপূর্ণ করে তুলতে হবে । ড্রামার রহস্যকে ভালো ভাবে বুঝে অন্যদেরও বোঝাতে হবে । কোনও ব্যপারে আক্ষেপ না করে সবসময় উৎফুল্ল থাকতে হবে ।

২ ) নিজের অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে একরস স্থিতিতে স্থিত করতে হবে যাতে শেষে গিয়ে এক বাবা ছাড়া দ্বিতীয় কেউ স্মরণে না আসে । অভ্যাস করতে হবে আমরা ভাই-ভাই (আত্মা)। এখন ফিরে যেতে হবে ।

বরদান:-
অলসতার তরঙ্গকে বিদায় দিয়ে সদা উৎসাহ-উদ্দীপনাতে থাকা বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন আত্মা ভব

কোনও কোনও বাচ্চা অন্যদেরকে দেখে নিজে অলস হয়ে যায়। মনে করে এটা তো হতেই থাকে... চলতেই থাকে... যদি কেউ ঠোক্কর খায় তো তাকে দেখে অলস হয়ে নিজেও ঠোক্কর খাওয়া - এটাই কি বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন আত্মার লক্ষণ? বাপদাদার করুণা হয় যে এইরকম অলস আত্মাদের অনুতাপ করার মুহূর্ত গুলি কতটা কঠিন হবে, এইজন্য বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে অলসতার তরঙ্গকে, অন্যদেরকে দেখার তরঙ্গকে মন থেকে বিদায় দাও। অন্যদেরকে দেখো না, বাবাকে দেখো।

স্লোগান:-
ওয়ারিস কোয়ালিটি (গুণবান উত্তরাধিকারী) তৈরী করো তখন প্রত্যক্ষতার বাদ্য বাজবে।