04-02-2024 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 31-01-98 মধুবন


পাস উইথ অনার হওয়ার জন্য প্রত্যেক খাজানার অ্যাকাউন্ট চেক করে জমা করো


আজ বাপদাদা প্রত্যেক ছোট-বড় চারিদিকের দেশ-বিদেশের বাচ্চাদের ভাগ্য দেখে স্মিত হাসছিলেন। এইরকম ভাগ্য সমগ্র কল্পে ব্রাহ্মণ আত্মারা ছাড়া আর কারো হতে পারে না। দেবতারাও ব্রাহ্মণ জীবনকে শ্রেষ্ঠ মনে করে। প্রত্যেকে নিজেদের জীবনের শুরু থেকে দেখো, জন্ম থেকেই আমাদের ভাগ্য কতখানি শ্রেষ্ঠ! জীবনে জন্মানোর সাথে সাথেই মা বাবার পালনার ভাগ্য প্রাপ্ত হয়েছে। তারপর পড়াশোনার ভাগ্য প্রাপ্ত হয়েছে। তারপর গুরুর দ্বারা মৎ বা বরদান প্রাপ্ত হচ্ছে। বাচ্চারা তোমাদের পালনা, পড়াশোনা আর শ্রীমৎ, বরদান দাতা কে? পরম আত্মার দ্বারা এই তিনটিই প্রাপ্ত হচ্ছে। পালনা দেখো - পরমাত্ম পালনা কত কমসংখ্যক আত্মারাই প্রাপ্ত করে। পরমাত্ম শিক্ষকের পড়া তোমরা ব্যতীত কারো ভাগ্যে নেই। সদ্গুরুর দ্বারা শ্রীমৎ, বরদান তোমরাই প্রাপ্ত করো। তো তোমরা নিজেদের ভাগ্যকে ভালোভাবে জানো? ভাগ্যকে

স্মৃতিতে রেখে দোলনায় দুলতে থাকো, গীত গাইতে থাকো - বাঃ আমার ভাগ্য!

অমৃতবেলায় যখন ঘুম থেকে ওঠো, তখন পরমাত্ম প্রেমে লভলীন হয়ে ওঠো। পরমাত্ম প্রেম উঠিয়ে দেয়। দিনচর্যার শুরুতেই হলো পরমাত্ম প্রেম। প্রেম না থাকলে উঠতে পারবে না। প্রেমই হলো তোমাদের সময়ের ঘন্টা। প্রেমের ঘন্টা তোমাদের উঠিয়ে দেয়। সারাদিন পরমাত্মার সাথে প্রত্যেক কাজ করায়। কত বড় ভাগ্য যে স্বয়ং বাবা নিজে পরমধাম ত্যাগ করে তোমাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আসেন। এইরকম কখনও শুনেছো কি যে, ভগবান প্রতিদিন নিজের ধাম ছেড়ে পড়ানোর জন্য আসেন! আত্মারা যতই দূর-দূর থেকে আসুক পরম ধাম থেকে দূর আর কোনও দেশ নেই। আছে কোনও দেশ? আমেরিকা, আফ্রিকা দূর? পরমধাম হলো উঁচুর থেকেও উঁচু ধাম। উঁচুর থেকে উঁচু ধামের থেকেও উঁচু থেকে উঁচু হলেন ভগবান, উঁচুর থেকেও উঁচু বাচ্চাদেরকে পড়াতে আসেন। এইরকম ভাগ্য নিজেরা অনুভব করো? সদ্গুরুর রূপে প্রত্যেক কাজের জন্য শ্রীমৎ-ও দেন এবং সাথেও থাকেন। শুধু মৎ দেন না, সাথেও থাকেন। তোমরা কী গান করো? আমার সাথে আছো নাকি দূরে আছো? সাথে আছো তাই না? যদি শুনতে হয় তো পরমাত্মা টিচারের থেকে শোনো, যখন কিছু খাও তো বাপদাদার সাথে খাও। যদি একা একা খাও তো সেটা তোমাদের ভুল। বাবা তো বলেন আমার সাথে খাও। বাচ্চারা তোমরাও প্রতিজ্ঞা করেছিলে - সাথে থাকবে, সাথে খাবে, সাথে পান করবে, সাথে নিয়ে শোবে আর যখন কোথাও যাবে তখন সাথে নিয়ে যাবে... ঘুমানোর সময় একা থাকবে না। একা ঘুমালে খারাপ স্বপ্ন বা খারাপ চিন্তা স্বপ্নেও আসবে। কিন্তু বাবা এতটাই তোমাদের ভালোবাসেন যে সদা বলেন আমার সাথে ঘুমাও, একা-একা ঘুমাবে না। যখন ঘুম থেকে ওঠো, তখনও আমার সাথে, যখন শুতে যাও তখনও আমার সাথে, খাওয়ার সময়ও আমার সাথে, চলার সময়ও আমার সাথে থাকো। যদি অফিসে যাও, বিজনেস করো তখনও সেই বিজনেসের তোমরা হলে ট্রাস্টী আর মালিক হলেন বাবা। অফিসে যাও তো তোমরা জানো যে আমার ডাইরেক্টর, বস্ হলেন বাপদাদা, আমি হলাম নিমিত্ত মাত্র, তাঁর ডাইরেক্শনে কাজ করি। কখনও উদাস হয়ে যাও তো বাবা বন্ধু হয়ে তোমার সঙ্গ দেন। ফ্রেন্ডও হয়ে যান। কখনও প্রেমের অশ্রু বইতে থাকলে, চোখের জল মুছিয়ে দিতে বাবা আসেন আর তোমাদের চোখের জল হৃদয়ের বাক্সে মুক্তোর মতো সমাহিত করে দেন। আবার কখনও কোনও কারণে বাবার উপরে রাগ করে বাবাকে অনেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা শোনাও তখন বাবা অভিমানী বাচ্চাদের মানাতে (রাগ ভাঙাতে) আসেন। বাচ্চারা, কোনও ব্যাপার নয়, এগিয়ে চলো। যা কিছু হয়ে গেছে, পাস্ট, ভুলে যাও, অতীতকে বিন্দু লাগিয়ে দাও, এইরকম ভাবে মানাতে আসেন। তো প্রতিটি দিনচর্যা কার সাথে হয়? বাপদাদার সাথে। বাপদাদার কখনও কখনও বাচ্চাদের কথা শুনে হাসিও পায়। বাচ্চারা যখন বলে যে বাবা, তুমি আমাদেরকে মনেই রাখো না, ভুলে যাও... একদিকে বলে কম্বাইন্ড, তো কম্বাইন্ড কখনও ভুলে যায় কি? যখন সাথে আছেন তখন সাথী কখনও ভুলে যায় কি? তো বাবা বলছেন শাবাস - বাচ্চাদের মধ্যে এত শক্তি আছে যে কম্বাইন্ডকেও আলাদা করে দেয়! আছে কম্বাইন্ড আর একটুখানি মায়া কম্বাইন্ডকেও আলাদা করে দেয়।

বাপদাদা বাচ্চাদের খেলা দেখে এটাই বলছেন যে বাচ্চারা, সর্বদা নিজের ভাগ্যের স্মৃতিতে থাকো। হয় কি? চিন্তা করছো আমার ভাগ্য অনেক উঁচু অথচ চিন্তা স্বরূপ হয়ে যাচ্ছো, স্মৃতি স্বরূপ হচ্ছো না। চিন্তা খুবই ভালো করো আমি তো হলাম এই, আমি তো হলাম এই, আমি তো হলাম এই... শোনাও খুব ভালো। কিন্তু যখন চিন্তা করছো, যেটা চিন্তা করছো তার স্বরূপ হয়ে যাও। স্বরূপ হওয়াতেই দূর্বল হয়ে পড়ো। প্রত্যেক কথার স্বরূপ হয়ে যাও। যেটা চিন্তা করছো সেই স্বরূপও অনুভব করো। সবথেকে বড়-র থেকেও বড় হলো অনুভবী মূর্তি হওয়া। অনাদি কালে যখন পরমধামে ছিলে তো চিন্তা স্বরূপ ছিলে না, স্মৃতি স্বরূপ ছিলে। আমি হলাম আত্মা, আমি হলাম আত্মা- এটাও চিন্তা করতে হত না, স্বরূপ হয়েই ছিলে। আদিকালেও এই সময়ের পুরুষার্থের প্রালব্ধ-স্বরূপে ছিলে। চিন্তা করতে হত না যে আমি হলাম দেবতা, আমি হলাম দেবতা... দেবতা স্বরূপে স্থিত ছিলে। তো যখন অনাদিকাল, আদিকালে স্বরূপে স্থিত ছিলে তাহলে এখনও অন্তে স্বরূপে স্থিত হয়ে যাও। স্বরূপে স্থিত থাকলে নিজের গুণ এবং শক্তিগুলি স্বতঃতই ইমার্জ হতে থাকে। যখন কোনও দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজের সীটে সেট থাকে তখন সেই দায়িত্বের গুণ এবং কর্তব্যগুলি অটোমেটিক ইমার্জ হয়ে থাকে। এইরকম তোমরা সর্বদা স্বরূপের সিটে সেট থাকো তাহলে প্রত্যেক গুণ, প্রত্যেক শক্তি, সবরকমের নেশা স্বতঃতই ইমার্জ থাকবে। পরিশ্রম করতে হবে না। এটাই হলো ব্রাহ্মণদের ন্যাচারাল নেচার, যার মধ্যে অন্যান্য সকল জন্মের নেচার সমাপ্ত হয়ে যায়। ব্রাহ্মণ জীবনের ন্যাচারাল নেচার-ই হলো গুণ স্বরূপ, সর্ব শক্তি স্বরূপ আর বাকি যাকিছু পুরানো নেচার রয়েছে, সেগুলি ব্রাহ্মণ জীবনের নেচার নয়। এমন ভাবে বলো যে আমার নেচার এইরকমই কিন্তু কে বলছে - আমার নেচার? ব্রাহ্মণ নাকি ক্ষত্রিয়? নাকি পাস্ট জন্মের স্মৃতি স্বরূপ আত্মা বলছে? ব্রাহ্মণদের নেচার - যা ব্রহ্মা বাবার নেচার, সেটাই ব্রাহ্মণদের নেচার। তো চিন্তা করো - যে সময়ে বলছো আমার নেচার, আমার স্বভাব হলো এইরকম, তাহলে কি ব্রাহ্মণ জীবনে এইরকম শব্দ - আমার নেচার, আমার স্বভাব... হতে পারে? যদি এখনও পর্যন্ত সমাপ্ত করতে থাকছো আর পাস্টের নেচার ইমার্জ হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে যে এই সময় আমি ব্রাহ্মণ নই, ক্ষত্রিয়, পুরানো সংস্কার বিনাশ করার যুদ্ধ করছি। তো তোমরা কি কখনও ব্রাহ্মণ আবার কখনও ক্ষত্রিয় হয়ে যাও? কি পরিচয় দাও? ক্ষত্রিয় কুমার নাকি? কে তোমরা? তোমরা কি ক্ষত্রিয় কুমার? ব্রহ্মাকুমার ব্রহ্মাকুমারী। অন্য কোনও নামই তো নেই। কাউকে এমন বলে আহ্বান করো কি যে হে ক্ষত্রিয়কুমার এদিকে এসো? এইরকম বলে থাকো নাকি নিজের ক্ষেত্রে বলো যে আমি ব্রহ্মাকুমার নই, আমি ক্ষত্রিয় কুমার? তো ব্রাহ্মণ অর্থাৎ যেটা ব্রহ্মা বাবার নেচার সেটাই ব্রাহ্মণদের নেচার। এই শব্দ এখন থেকে আর কখনোই বলবে না, ভুল করেও বলবে না, চিন্তাও করবে না যে কি করবো আমার নেচারই এইরকম! এটা হলো অজুহাত। এটা বলাই হলো নিজেকে মুক্ত করার একটা অজুহাত। নতুন জন্ম হয়েছে, নতুন জন্মে পুরানো নেচার, পুরানো স্বভাব কোথা থেকে ইমার্জ হয়? তারমানে সম্পূর্ণ ভাবে মরেনি, এখনও অর্ধ জীবিত আছে, অর্ধমৃত হয়েছে কী? ব্রাহ্মণ জীবন অর্থাৎ যা ব্রহ্মা বাবার প্রতিটি কদম সেটাই হলো ব্রাহ্মণদের কদম।

তো বাপদাদা ভাগ্যও দেখছিলেন, এত শ্রেষ্ঠ ভাগ্য, এইরকম ভাগ্যশালী আত্মাদের মুখে এইরকম কথা শোভা পায় না। এই বছর মুক্তি বর্ষ পালন করছো তাই না - কি ক্লাস করাচ্ছো? এটা হলো মুক্তি বর্ষ। তো মুক্তিবর্ষ চলছে নাকি ১৯৯৯ এ আসবে? ১৯৯৮ এর বর্ষ কি মুক্তি বর্ষ? যারা মনে করো এই বছরটাই হল মুক্তি বর্ষ, তারা হাত নাড়াও। দেখো হাত নাড়ানো খুব সহজ। আসলে হয় কি? তোমরা বায়ুমন্ডলে বসে আছো, না! খুশীতে পুলকিত হয়ে আছো, তাই বাবার কথা মতো হাত নাড়িয়ে দিচ্ছো, কিন্তু হৃদয় থেকে হাত নাড়াও, প্রতিজ্ঞা করো - যা কিছু চলে যায় যাক কিন্তু মুক্তি বর্ষের প্রতিজ্ঞা যেন না যায়। এইরকম পাক্কা প্রতিজ্ঞা আছে? দেখো, ভেবে চিন্তে হাত তোলো। এই টিভি-তে আসুক বা না আসুক, বাপদাদার কাছে তো তোমাদের এই চিত্র (ফটো) উঠে যাচ্ছে। তো এই ধরনের দুর্বল বোল এর থেকেও মুক্তি। বাণী এমন মধুর হবে, বাবার সমান হবে, সদা প্রতিটি আত্মার প্রতি শুভ ভাবনার বাণী হবে, একে বলা হয় যুক্তিযুক্ত বাণী। সাধারণ বাণীও যেন চলতে-ফিরতে না হয়। যদি কেউ হঠাৎ করে চলে আসে তো এইরকমই অনুভব করবে যে এটা বাণী নয় মুক্তো। শুভ ভাবনার বাণী হলো হিরে মুক্তোর সমান ।কেননা বাপদাদা অনেকবার এই ইশারা দিয়েছেন যে সময় অনুসারে সকল খাজানা জমা করার জন্য এখন আর অল্প সময় অবশিষ্ট আছে। যদি এই সময়ে - সময়ের খাজানা, সংকল্পের খাজানা, বাণীর খাজানা, জ্ঞান ধনের খাজানা, যোগের শক্তিগুলির খাজানা, দিব্য জীবনের সর্ব গুণের খাজানা জমা না করে থাকো তো পুনরায় এইরকম জমা করার সময় প্রাপ্ত করা সহজ হবে না। সারাদিনে নিজের এই এক একটি খাজানার অ্যাকাউন্ট চেক করো। যেরকম স্থুল ধনের অ্যাকাউন্ট চেক করো, এত জমা আছে... এইরকম প্রত্যেক খাজানার অ্যাকাউন্ট জমা করে। চেক করো। সকল খাজানা চাই। যদি পাশ উইথ অনার হতে চাও তবে প্রত্যেক খাজানার জমা খাতা এতটাই ভরপুর চাই যা ২১ জন্ম জমা হওয়া খাতার থেকে প্রালব্ধ ভোগ করতে পারো। এখনও সময়ের টু লেট-এর ঘন্টা বাজেনি, কিন্তু শীঘ্রই বাজবে। দিন আর ডেট বলবো না। হঠাৎ করেই আউট হবে - টু লেট। তখন কি করবে? সেই সময় জমা করবে? তখন যতই চেষ্টা করো, সময় পাবে না। এইজন্য বাপদাদা অনেকবার ইশারা দিয়েছেন - জমা করো, জমা করো, জমা করো। কেননা তোমাদের এখনও টাইটেল হলো - সর্বশক্তিমান, শক্তিবান নয়, সর্বশক্তিমান। ভবিষ্যতে হলো সর্বগুণ সম্পন্ন, শুধু গুণসম্পন্ন নয়। এই খাজানা জমা করা অর্থাৎ গুণ আর শক্তি জমা করা। এক একটি খাজানা - গুণ আর শক্তির সাথে সম্বন্ধ যুক্ত । যেরকম সাধারণ বাণী নয় যেন মধুর ভাষী, এটা হলো একটা গুণ। সেইরকম প্রতিটি খাজানার কানেকশন রয়েছে ।

বাপদাদা বাচ্চাদেরকে খুব ভালোবাসেন, সেইজন্য বারংবার ইশারা দিচ্ছেন। কেননা আজকের সভায় ভ্যারাইটি সবাই রয়েছে । ছোট বাচ্চাও আছে, টিচার্সও আছে কেননা টিচার্স-ই তো সমর্পণ হয়েছে। কুমারীরাও আছে, প্রবৃত্তি মার্গের আত্মারাও আছে। সব ভ্যারাইটির রয়েছে । খুব ভালো। সবাইকে চান্স দিয়েছে, এটা খুবই ভালো হয়েছে। বাচ্চাদের তো অনেক সময় ধরে আবেদন ছিল। ছিল, তাই না বাচ্চারা? আমাদের মিলনের চান্স কবে প্রাপ্ত হবে? তো ভালো হয়েছে - সকল ভ্যারাইটি ফুলের তোড়া বাবার সামনে আছে। আচ্ছা।

বাপদাদার সমগ্র বিশ্বের নিমিত্ত টিচারদের প্রতি এই শুভ ভাবনা আছে যে এই বর্ষে কোনও কমপ্লেইন্ট যেন না আসে।কমপ্লেইন্টের ফাইল যেন সমাপ্ত হয়ে যায়। বাপদাদার কাছেও অনেক ফাইল আছে। তো এই বছর কমপ্লেইন্টের ফাইল সমাপ্ত। সবাই ফাইন হয়ে যাও। ফাইনের থেকেও রিফাইন। পছন্দ হয়েছে? যে যেরকমই হোক, তার সাথে চলার বিধি শেখো। কেউ যদি কিছু করে, বার-বার বিঘ্ন রূপ হয়ে সামনে আসে, কিন্তু এই বিঘ্নতে সময় লাগানো, এইরকম কতদিন চলবে? এরও তো সমাপ্তি সমারোহ হওয়া উচিত তাই না? তো অন্যদেরকে দেখবে না। এ এইরকম করে, আমাকে কি করতে হবে? যদি সে পাহাড় হয় তাহলে আমাকে এড়িয়ে যেতে হবে, পাহাড় সরে যাবে না। এ পরিবর্তন হলে আমি হবো - এটা হলো পাহাড় সরে গেলে আমি এগিয়ে যেতে পারবো। না পাহাড় সরে যাবে আর না তোমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। সেইজন্য যদি সেই আত্মার প্রতি শুভ ভাবনা থাকে, তাহলে ইশারা দাও তারপর মন-বুদ্ধি থেকে খালি করে দাও। নিজেকে ওই বিঘ্ন স্বরূপ হওয়া আত্মার চিন্তার মধ্যে প্রবেশ করাবে না। যখন নম্বরের ক্রমানুসার আছে তো নম্বরের ক্রমানুসারে স্টেজও প্রাপ্ত হবে কিন্তু আমাকে নম্বর ওয়ান হতে হবে। এইরকম বিঘ্ন বা ব্যর্থ সংকল্পের রচয়িতা আত্মাদের প্রতি নিজে পরিবর্তন হয়ে তাদের প্রতি শুভ ভাবনা দিতে থাকো। সময়ও কম লাগে আর পরিশ্রমও কম মনে হয় কিন্তু যে স্ব পরিবর্তন করতে পারে, বিজয় মালা তারই গলায় স্থান পাবে। শুভ ভাবনা দিয়ে তাদেরকে পরিবর্তন করতে পারো তো করো, নাহলে তো ইশারায় বোঝাও, নিজের রেস্পন্সিবিলিটি সমাপ্ত করে দাও আর স্ব পরিবর্তন করে সামনের দিকে উড়তে থাকো। এই বিঘ্নরূপও হলো অ্যাটাচমেন্টের সোনার সুতো। এটাও উড়তে দেবে না। এ হলো সত্যতার পর্দার আড়ালে অত্যন্ত সূক্ষ্ম সূতো। তখন তোমরা চিন্তা করতে থাকো যে এটা তো সত্য কথা তাই না, এসব তো হয়েই থাকে তাই না, এসব তো হওয়া উচিত নয়। কিন্তু কতদিন দেখবে আর কতদিন বাঁধা দিতে থাকবে? এখন তো নিজেকে এই সূক্ষ্ম সুতোর থেকে মুক্ত করো। মুক্তি বর্ষ পালন করো। এইজন্য বাচ্চাদের যাকিছু আশা আছে, উৎসাহ আছে, উদ্দীপনা আছে, এইসবকিছুই বাবা ফাংশন করে পূর্ণ করছেন। কিন্তু এই বর্ষের অন্তিম ফাংশান হলো মুক্তি বর্ষের ফাংশান। ফাংশানে দাদীদেরকে সওগাত-ও (উপহার) দিয়ে থাকো। তো বাপদাদাকে এই মুক্ত বর্ষের ফাংশানে নিজের সম্পূর্ণতার গিফ্ট দেবে। আচ্ছা।

বরদান:-
সম্বন্ধ সম্পর্কে সন্তুষ্টতার বিশেষত্বের দ্বারা মালার দানাতে আসা সন্তুষ্টমণী ভব

সঙ্গম যুগ হলো সন্তুষ্টতার যুগ। যে নিজের কাছেও সন্তুষ্ট আর সম্পর্ক সম্বন্ধেও সদা সন্তুষ্ট থাকে সে-ই মালার দানাতে আসে । কেননা মালা সম্বন্ধের দ্বারাই তৈরী হয়। যদি মুক্তোর সাথে মুক্তোর সম্পর্ক না থাকে, তবে মালা তৈরী হবে না ।সেইজন্য সন্তুষ্টমণী হয়ে সদা সন্তুষ্ট থাকো আর সকলকে সন্তুষ্ট করো। পরিবারের অর্থই হলো সন্তুষ্ট থাকা আর সন্তুষ্ট করা। কোনও প্রকারের বিবাদ যেন না হয়।

স্লোগান:-
বিঘ্নের কাজ হলো আসা আর তোমাদের কাজ হলো বিঘ্ন-বিনাশক হওয়া।