05.02.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এই ঈশ্বরীয় পড়াশোনা হলো 'দি বেস্ট', একেই সোর্স অফ ইনকাম বলা হয়, এই পড়াতে যদি পাস করতে হয় তাহলে টিচারের মত-এ চলতে থাকো"

প্রশ্নঃ -
বাবা এই ড্রামার রহস্য জেনেও বাচ্চাদের দিয়ে কোন্ ধরনের পুরুষার্থ করান?

উত্তরঃ  
বাবা জানেন যে নম্বর অনুসারে সব বাচ্চারা সতোপ্রধান হবে কিন্তু তিনি বাচ্চাদের দিয়ে এই পুরুষার্থ করান বাচ্চারা যেন এমন পুরুষার্থ করে যাতে শাস্তি ভোগ করতে না হয় l শাস্তির থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যতটা সম্ভব ভালোবেসে বাবাকে স্মরণ করো l চলতে - ফিরতে, উঠতে - বসতে যদি স্মরণে থাকো তাহলে অনেক খুশীতে থাকবে l আত্মা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে l

ওম্ শান্তি ।
ওম্ শান্তি l বাচ্চারা এখন জানে যে, শিববাবা আমাদের জ্ঞান আর যোগ শেখাচ্ছেন l আমাদের যোগ কেমন, এ তো বাচ্চারাই জানে l আমরা যারা পবিত্র ছিলাম, তারাই এখন অপবিত্র হয়েছি কেননা ৮৪ জন্মের হিসেব তো চাই l এ হলো ৮৪ জন্মের চক্র l এ কথাও তারাই জানবে যারা ৮৪ জন্ম গ্রহণ করবে l বাচ্চারা, তোমরা এ কথা বাবার কাছ থেকে জেনেছো l কোটির মধ্যে কয়েকজনই এ কথা মানবে l বাবা শিক্ষাও কতো ক্লিয়ার ভাবে দেন l বাচ্চারা, তোমরাও পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে এই কথা মানবে l সবাই একরস ভাবে তো মানবে না l টিচারের পড়াকে সবাই একরস ভাবে মানবে না বা পড়বে না l নম্বর অনুসারে কেউ ২০ মার্কস পায়, কেউ আবার অনেক মার্কস্ পায় l কেউ আবার ফেলও করে যায় l ফেল কেন করে? কেননা তারা টিচারের মত এ চলে না l ওখানে অনেক মত থাকে l এখানে একই মত পাওয়া যায় l এ হলো ওয়ান্ডারফুল মত l বাচ্চারা জানে যে, অবশ্যই আমরা ৮৪ জন্ম নিয়েছি l বাবা বলেন - আমি যাঁর মধ্যে প্রবেশ করি... এ'কথা কে বলছেন? শিববাবা বলছেন l তিনি বলছেন, আমি যাঁর মধ্যে প্রবেশ করি, যাঁকে ভাগীরথ বলা হয়, ইনিও নিজের জন্মকে জানতেন না l বাচ্চারা, তোমরাও জানতে না l আমি তোমাদের এখন বোঝাচ্ছি l তোমরা এত জন্ম সতোপ্রধান ছিলে তারপর সতঃ, রজঃ, তমঃ-তে এসে নীচে নেমে এসেছো l এখন তোমরা এখানে পড়ার জন্য এসেছো l এই ঈশ্বরীয় পঠনপাঠন হলো উপার্জন, সোর্স অফ ইনকাম l এই পড়া হলো "দি বেস্ট l" ওই পড়াতে বলবে আই.সি.এস দি বেস্ট l তোমরা ১৬ কলা সম্পূর্ণ দেবতা ছিলে, এখন তোমাদের কোনো গুণ নেই l গেয়েও থাকে - নির্গুণ হারে... আমার মধ্যে কোনো গুণ নেই l সবাই এমন কথাই বলতে থাকে l তারা মনে করে ভগবান সর্বত্র বিরাজমান l দেবতাদের মধ্যেও ভগবান আছেন, এই কারণে দেবতাদের সামনে বসে বলতে থাকে, আমি নির্গুণ, আমার মধ্যে কোনো গুণ নেই.... কেবল তুমিই দয়া করতে পারো l এমনও গাওয়া হয় যে, বাবা ব্লিসফুল, দয়ালু, আমাদের উপরে দয়া করেন l মানুষ বলে - হে ঈশ্বর, কৃপা করো l তারা বাবাকে ডাকে, এখন সেই বাবা তোমাদের সামনে এসেছেন l এমন বাবাকে যে জানে তার কতো খুশী হওয়া উচিত l অসীম জগতের বাবা, যিনি প্রতি পাঁচ হাজার বছর অন্তর আমাদের আবার সম্পূর্ণ বিশ্বের রাজত্ব প্রদান করেন, তাই কতো অপার খুশীতে থাকা উচিত l

তোমরা জানো যে, এই শ্রীমতে তোমরা শ্রেষ্ঠর থেকেও শ্রেষ্ঠ তৈরী হচ্ছো l তোমরা যদি শ্রীমতে চলো তাহলেই শ্রেষ্ঠ হতে পারবে l অর্ধেক কল্প রাবণের মত চলে এসেছে l বাবা কতো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন l তোমরাই ৮৪ জন্মগ্রহণ করেছিলে, তোমরাই সতোপ্রধান ছিলে, এখন তোমাদের আবার সতোপ্রধান হতে হবে l এ হলো রাবণ রাজ্য l যখন এই রাবণের উপরে বিজয় প্রাপ্ত করবে তখনই রামরাজ্য স্থাপন হবে l বাবা বলেন, তোমরা আমার নিন্দা করে এসেছো l বাবার নামের কীর্তন করার পরিবর্তে নিন্দা করে চলেছে l বাবা বলেন, তোমরা আমার কতো অপকার করেছো l ড্রামাতে এমনই বানানো রয়েছে l এখন তোমাদের বোঝানো হয় যে, এইসব বিষয় থেকে মুক্ত হও l এক বাবাকে স্মরণ করো l এমন বলাও হয়ে থাকে, সৎসঙ্গ ২১ জন্মের জন্য উদ্ধার করে l তাহলে ডুবিয়েছিল কে? তোমাদের সাগরে ডুবিয়েছে কে? বাচ্চাদেরকেই তো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হবে, তাই না l তোমরা জানো যে, আমিই হলাম বাগানের মালী, কান্ডারী l অর্থ না বোঝার কারণে মানুষ অসীম জগতের বাবার অনেক নিন্দা করেছে l তা সত্ত্বেও অসীম জগতের বাবা তাদের অপার সুখ প্রদান করেন l অপকারকারীরও তিনি উপকার করেন l ওরা বুঝতে পারে না যে আমরা অপকার করছি l ওরা খুব আনন্দের সাথে বলে যে, ঈশ্বর সর্বব্যাপী l এখন, এমন তো হতেই পারে না l প্রত্যেকেই নিজের নিজের পার্ট পেয়েছে l এও তোমরা জানো যে, প্রত্যেকেই নিজের নিজের পার্ট পেয়েছে l এও তোমরা জানো যে, যখন দেবী - দেবতার রাজ্য ছিলো তখন আর কোনো রাজ্য ছিল না l ভারত তখন সতোপ্রধান ছিল l এখন ভারত তমোপ্রধান হয়ে গেছে l বাবা আসেন এই দুনিয়াকে সতোপ্রধান করতে l এও বাচ্চারা তোমরাই জানো l সমগ্র দুনিয়া যদি জানতে পারে তবে এখানে কিভাবে সবাই আসবে পড়ার জন্য l তাই বাচ্চারা, তোমাদের অপার খুশী হওয়া উচিত l খুশীর মতো পুষ্টিকর খাবার নেই l সত্যযুগে তোমরা খুব খুশীতে থাকো l দেবতাদের খাওয়াদাওয়া ইত্যাদি খুব সূক্ষ্ম হয় l তারা খুব খুশীতে থাকে l এখন তোমরা খুশী পেয়েছো l তোমরা জানো যে, আমরা সতোপ্রধান ছিলাম l বাবা এখন আবার আমাদের এমন ফার্স্টক্লাস যুক্তি বলে দিচ্ছেন l গীতাতেও প্রথম শব্দটি রয়েছে - "মনমনাভব" l এটাই তো গীতা এপিসোড, তাই না l গীতাতে কৃষ্ণের নাম দিয়ে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়েছে l সেটা হলো ভক্তিমার্গ l বাবাও এই নলেজ বুঝিয়ে বলেন। এতে বাকবিতন্ডার কোনো ব্যাপারই নেই l কেবল তোমাদের তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে হবে l এ হলো তমোপ্রধান দুনিয়া l কলিযুগে দেখো মানুষের অবস্থা কেমন হয়ে গেছে l এখানে অনেক মানুষ হয়ে গেছে l সত্যযুগে এক ধর্ম, এক ভাষা আর একটিই সন্তান হয় l সেখানে একটিই রাজত্ব চলে l এই ড্রামা বানানো আছে l তাহলে এক হলো সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান আর দ্বিতীয় হলো যোগ l জ্ঞানের ধুরিয়া (একে অপরকে রঙ লাগানো) আর হোলি ( অগ্নি পূজা) l মুখ্য বিষয় বাবা বলেন - এইসময় সকলেরই তমোপ্রধান জরাজীর্ণ অবস্থা, বিনাশ সামনে উপস্থিত l বাবা এখন বলছেন, তোমরা আমাকে ডেকেছিলে - তোমাদেরকে পবিত্র বানানোর জন্য l তোমরা পতিত হয়ে গেছো l আমাকেই পতিত - পাবন বলা হয় l তোমরা এখন আমার সাথে যোগযুক্ত হও ,আমাকে স্মরণ করো l আমি তোমাদেরকে সবকিছুই সঠিক বলে দেবো l বাকি জন্ম - জন্মান্তর তোমরা ভুল হয়ে এসেছো l তাই সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়ে গেছো l

বাবা বাচ্চাদের বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমাদের আত্মা এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে l কে বানালো এমন ? পাঁচ বিকার l মানুষ তো এতো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে যে মাথাই খারাপ করে দেয় l শাস্ত্রার্থ যদি করে তাহলে নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে থাকে l একে অপরকে লাঠির আঘাতও করে l এখানে তো বাবা তোমাদের পতিত থেকে পবিত্র বানান, এতে শাস্ত্র কি করবে? পবিত্র তো হতেই হবে, তাই না l কলিযুগের পরে অবশ্যই সত্যযুগ আসতে হবে l সতোপ্রধানও অবশ্যই হতে হবে l বাবা বলেন, তোমরা নিজেদেরকে আত্মা মনে করো l তোমরা আত্মারা যদি তমোপ্রধান হয়ে থাকো, তাহলে শরীরও তোমরা তমোপ্রধান পাবে l সোনা যত ক্যারেটের হবে গয়নাও তেমনই হবে l খাদ তো দেওয়া হয়, তাই না l তোমাদের এখন ২৪ ক্যারেট সোনা হতে হবে l দেহী - অভিমানী ভব l দেহ - অভিমানে আসার কারণে তোমরা ছিঃ - ছিঃ হয়ে গেছো l কোনো খুশী নেই l রোগ ব্যাধি ইত্যাদি সবকিছুই আছে l এখন আমিই তো পতিত পাবন l আমাকে তোমরা ডেকেছো l আমি কোনো সাধু সন্ত আদি নই l কেউ আসে আর বলে - গুরুজীর দর্শন করবো l বলো, গুরুজী তো নেই আর দর্শন করাতেও কোনো লাভ নেই l বাবা তো সমস্ত কথাই সহজে বুঝিয়ে বলেন l যত স্মরণ করবে, ততই তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে থাকবে l তারপর দেবতা হয়ে যাবে l তোমরা এখানে আবারও সতোপ্রধান দেবতা হতে এসেছো l বাবা বলেন, আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের জং দূর হয়ে যাবে l তোমরা সতোপ্রধান হয়ে যাবে l পুরুষার্থেই তো হবে, তাই না l তোমরা উঠতে - বসতে, চলতে - ফিরতে বাবাকে স্মরণ করো l স্নান করতে করতে কি তোমরা বাবাকে স্মরণ করতে পারো না? নিজেকে আত্মা মনে করে যদি বাবাকে স্মরণ করো তাহলে জং দূর হয়ে যাবে আর তোমাদের খুশীর পারদ চড়তে থাকবে l আমি তোমাদের কতো ধন দিয়ে থাকিl তোমরা এখানে এসেছো বিশ্বের মালিক হওয়ার জন্য l ওখানে তোমরা সোনার মহল তৈরী করবে l তোমাদের কতো হীরে - জহরত থাকবে l ভক্তিতে যে মন্দির বানানো হয় সেখানে কতো হীরে জহরত থাকে l অনেক রাজারাই মন্দির নির্মাণ করে l এতো হীরে, সোনা কোথা থেকে আসে? এখন তো তা আর নেই l এই ড্রামাও তোমরাই জানো যে, কিভাবে চক্র ঘুরতে থাকে l যারা সবথেকে বেশী ভক্তি করেছে, একমাত্র তাদের বুদ্ধিতেই এই কথা ঢুকবে l নম্বরের ক্রমানুসারেই তারা বুঝতে পারবে l এখানে বুঝতে পারা যায়, কারা খুব সেবা করে, খুব খুশীতে থাকে, যোগে থাকে l এই অবস্থা শেষের দিকে হবে l যোগই অত্যন্ত জরুরী l তোমাদের সতোপ্রধান হতে হবে l বাবা যখন এসেছেন তখন তাঁর থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নিতে হবে l তোমরা এও বলো যে, বাবা তো আমার সাথেই আছেন l আমি শুনছি l তোমাদের যখন শোনান, আমিও শুনতে থাকি l কাউকে তো শোনাবেন, তাই না l জ্ঞান অমৃতের কলস তোমরা মায়েরা পাও l মায়েরা সবাইকে তা ভাগ করে দেন l তারা অনেক সেবাও করে l তোমরা সকলেই হলে সীতা l রাম হলেন একজন l তোমরা সবাই ব্রাইডস (বধূ), আমি হলাম ব্রাইডগ্রুম (বর) l আমি তোমাদের শৃঙ্গার করিয়ে শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দিই l গায়নও আছে যে উঁনি আমাদের বাবারও বাবা, পতিরও পতি l একদিকে মানুষ মহিমা করে অন্যদিকে আবার নিন্দাও করে l শিববাবার মহিমা আলাদা আবার কৃষ্ণের মহিমা আলাদা l সবার স্থান আলাদা - আলাদা l এখানে সবাইকে মিলিয়ে এক করে দিয়েছে l এ হলো অন্ধকার নগর.... , এখন তোমরা অবশ্য বাবার হয়েছো l তোমরা হলে শিববাবার পৌত্র - পৌত্রী l তোমাদের সকলেরই অধিকার রয়েছে, এই বাবার কাছে তো সম্পত্তি নেই l সম্পত্তি পাওয়া যায় পার্থিব আর অসীম জগতের বাবার থেকে l তৃতীয় আর কেউই নেই যার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার পাওয়া যায় l ইনি (ব্রহ্মা বাবা) বলেন, আমিও এঁনার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করি l পারলৌকিক পরমপিতা পরমাত্মাকে সকলেই স্মরণ করে l সত্যযুগে কেউই স্মরণ করবে না l সত্যযুগে থাকে একজন বাবা আর রাবণ রাজ্যে থাকে দুইজন বাবা l সঙ্গম যুগে থাকে তিনজন বাবা - লৌকিক, পারলৌকিক আর তৃতীয় হল এই ওয়ান্ডারফুল অলৌকিক বাবা l এনার দ্বারাই বাবা আমাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রদান করেন l ইনিও ওঁনার থেকেই অবিনাশী উত্তরাধিকার পান l ব্রহ্মাকে অ্যাডমও বলা হয় l গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার l শিবকে তো বাবা-ই বলা হবে l মনুষ্য সৃষ্টির বৃক্ষ ব্রহ্মার থেকে শুরু হয়, তাই তাঁকে গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার বলা হয় l এই জ্ঞান তো খুবই সহজ l তোমরা ৮৪ জন্মগ্রহণ করেছো l তোমাদের বোঝানোর জন্য চিত্রও আছে l এখন এতে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করার দরকারই নেই l ঋষি - মুনিদের জিজ্ঞেস করলে তারাও নেতি নেতি (এটাও না ওটাও না) বলে দেয় l এখন বাবা এসে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন l তাই এমন বাবাকে কতো ভালোবেসে স্মরণ করা উচিত l

এখন ড্রামা অনুসারে বাচ্চারা, তোমরা উপরে উঠছো l কল্পে কল্পে নম্বরের ক্রমানুসারে কেউ সতোপ্রধান, সতঃ, রজঃ, তমঃ হয় l এমনই পদ ওখানে পাওয়া যায়, তাই বাবা বলেন -- বাচ্চারা, খুব ভালোভাবে পুরুষার্থ করো তাহলে শাস্তি ভোগ করতে হবে না l তিনি অবশ্যই পুরুষার্থ করান l যদিও তিনি জানেন, তারাই হতে পারবে যারা কল্প পূর্বে হয়েছিল, তবুও অবশ্যই তিনি পুরুষার্থ করান l যারা বাবার কাছাকাছি থাকে তারাই পূজাও খুব ভালোভাবে করে থাকে l প্রথমদিকে তোমরা আমারই পূজা করো l তারপর অন্য দেবতাদের পূজা করা শুরু করো l এখন তোমাদের দেবতা হতে হবে l তোমরা যোগবলের দ্বারা তোমাদের রাজ্য স্থাপন করছো l যোগবলের দ্বারাই তোমরা বিশ্বের বাদশাহী নিচ্ছো l বাহুবলে কেউই বিশ্বের বাদশাহী নিতে পারে না l ওরা ভাই - ভাইকে নিজেদের মধ্যে লড়াই - ঝগড়া করিয়ে দেয় l কতো বারুদ তৈরী করে l ধারে একে অপরকে দিতে থাকে l বারুদ হলো বিনাশের জন্য কিন্তু এ কথা কারোর বুদ্ধিতেই আসে না, কেননা তারা মনে করে এই কল্প হলো লক্ষ বছরের l মানুষ ঘোর অন্ধকারে আছে l বিনাশ হয়ে যাবে আর সকলে কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় নিদ্রিত থাকবে l কেউই জাগবে না l তোমরা এখন জাগ্রত হয়েছো l বাবা হলেনই জাগ্রত জ্যোতি, নলেজফুল l বাচ্চারা, তোমাদের তিনি নিজের সমান বানাচ্ছেন l ওটা হলো ভক্তি আর এ হলো জ্ঞান l এই জ্ঞানে তোমরা সুখী হও l তোমাদের মনে হওয়া উচিত, আমরা আবার সতোপ্রধান হচ্ছি l বাবাকে স্মরণ করতে হবে l একেই বলা হয় অসীম জগতের সন্ন্যাস l এই পুরানো দুনিয়া তো বিনাশ হয়ে যাবে l এতে ন্যাচারাল ক্যালামেটিজও (প্রাকৃতিক বিপর্যয়) অনেক সাহায্য করবে l সেই সময় তোমরা ঠিকমতো খাবারও পাবে না l আমরা আমাদের খুশীর খাবারেই খুশী থাকবো l তোমরা জানো যে, এইসবই শেষ হয়ে যাবে l এতে মন খারাপের কোনো কথাই নেই l বাচ্চারা, আমি তোমাদের সতোপ্রধান বানাতেই আসি l প্রত্যেক কল্পে আমারই হলো এই কাজ l আচ্ছা l

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) স্বয়ং ভগবান আমাদের উপরে দয়া করেছেন, তিনি আমাদের পড়াচ্ছেন, এই নেশায় থাকতে হবে l পড়াশুনা হলো সোর্স অফ ইনকাম তাই মিস্ করবে না l
২ ) অপার খুশীর অনুভব করতে হবে আর করাতে হবে l চলতে - ফিরতে দেহী - অভিমানী হয়ে বাবার স্মরণে থেকে আত্মাকে অবশ্যই সতোপ্রধান করতে হবে l

বরদান:-
সময় অনুসারে প্র্যাক্টিক্যাল স্বরূপে প্রতিটি শক্তির অনুভবকারী মাস্টার সর্বশক্তিমান ভব

মাস্টারের অর্থ হলো যে শক্তিকে যে সময়ে আহ্বান করবে, সেই শক্তি সেই সময়ে প্র্যাক্টিক্যাল স্বরূপে অনুভব হবে। অর্ডার করলে আর হাজির হয়ে গেলো। এমনও নয় যে অর্ডার করবে সহ্যশক্তিকে আর এসে গেলো মোকাবিলা করার শক্তি, তাহলে তাকে মাস্টার বলা হবে না। তো ট্রায়াল করো যে, যে সময়ে যে শক্তির প্রয়োজন, সেই সময়ে সেই শক্তি কাজে আসে? এক সেকেণ্ড-ও দেরী হলে জয়ের পরিবর্তে পরাজয় হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
বুদ্ধিতে যত যত ঈশ্বরীয় নেশা থাকবে, কর্মে ততই নম্রতা আসবে।