06.02.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - নিজের হার এবং জয়ের হিস্ট্রিকে স্মরণ করো, এটা সুখ আর দুঃখের খেলা, এখানে ৪ ভাগের ৩ ভাগ সুখ, আর ৪ ভাগের ১ ভাগ দুঃখ, ইক্যুয়াল (সমান) নয়।

প্রশ্নঃ -
এই অসীম জাগতিক ড্রামা ওয়ান্ডারফুল - কিভাবে?

উত্তরঃ  
এই অসীম জাগতিক ড্রামা এতো ওয়ান্ডারফুল যে প্রতি সেকেন্ডে সম্পূর্ণ সৃষ্টিতে যা হয়ে চলেছে, সেটা আবারও হুবহু রিপিট হবে। এই ড্রামা উকুনের মত, টিকটিক করে চলতেই থাকে। এক টিক্ এর সাথে অন্য টিক্ মিলবে না, সেইজন্যই এই ড্রামা বড়ই ওয়ান্ডারফুল। যে কোনো মানুষেরই ভালো বা মন্দ যে পার্টই চলে সে সবই নির্ধারিত হয়ে আছে। এই বিষয় গুলিকেও তোমরা বাচ্চারাই বুঝতে পারো।

ওম্ শান্তি ।
ওম্ শান্তির অর্থ বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে। কেননা এখন আত্ম-অভিমানী হয়েছো তোমরা। আত্মা নিজের পরিচয় দিয়ে বলে আমরা আত্মা। আত্মার স্বধর্মই হলো শান্ত। এখন সমস্ত আত্মাদের ঘরে ফেরার প্রোগ্রাম চলছে। এই ঘরে ফিরে যাওয়ার প্রোগ্রামের কথা কে বলেন? নিশ্চয়ই বাবা বলবেন। হে আত্মারা, এখন পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। সমস্ত অ্যাক্টর্স এসে গেছে। অল্প কিছু আত্মারা আছে, এখন সবাইকে ফিরে যেতে হবে। এরপর আবারও পার্ট রিপিট করতে হবে। তোমরা বাচ্চারা প্রকৃতপক্ষেই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের ছিলে, প্রথমে সত্যযুগে এসেছিলে তারপর পুনর্জন্ম নিতে-নিতে এখন পরের রাজ্যে এসে পড়েছো। এটা শুধুই তোমাদের আত্মা জানে আর কেউ জানে না। তোমরা হলে এক বাবার বাচ্চা। মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চাদের বাবা বলেন বাচ্চারা, তোমরা এখন পরের রাবণ রাজ্যে এসে পড়েছো। নিজেদের রাজ্য-ভাগ্য হারিয়ে বসে আছো। সত্যযুগে দেবী-দেবতা ধর্মের ছিলে, যা ৫ হাজার বছর হয়ে গেছে। অর্ধেক কল্প তোমরা রাজত্ব করেছো কেননা সিঁড়ি নিচে অবশ্যই নামতে থাকে (অবতরণের কলা শুরু হয়ে যায়)। সত্যযুগ থেকে ত্রেতা তারপর দ্বাপর কলিযুগে আসতেই হবে এটা ভুলে যেও না। নিজেদের হার এবং জিতের যে হিস্ট্রি তাকে স্মরণ করো। বাচ্চারা জানে যে আমরা সত্যযুগে সতোপ্রধান, সুখধামের বাসিন্দা ছিলাম। এরপর পুনর্জন্ম নিতে-নিতে দুঃখধামের জড়াজীর্ণ অবস্থায় এসে পৌঁছেছি। এখন তোমরা আত্মারা বাবার কাছ থেকে শ্রীমৎ পেয়ে থাকো, কেননা আত্মা-পরমাত্মা বহুকাল ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল..... তোমরা বাচ্চারা বহুকাল ধরে আলাদা ছিলে। প্রথমে তো তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে সুখের পার্ট প্লে করেছ। তারপর তোমাদের রাজ্য-ভাগ্য ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তোমরা এরপর দুঃখের পার্ট প্লে করতে এসে গেছো। এখন বাচ্চারা তোমাদের আবারও সুখ-শান্তির রাজ্য-ভাগ্য নিতে হবে। আত্মারা বলে বিশ্বে শান্তি আসুক। এই সময় তমোপ্রধান হওয়ার কারণে বিশ্বে অশান্তি। এটাও শান্তি আর অশান্তি, দুঃখ আর সুখের খেলা। তোমরা জানো ৫ হাজার বছর আগে বিশ্বে শান্তি ছিল। মূললোক তো হলোই শান্তিধাম। যেখানে আত্মারা থাকে সেখানে তো অশান্তির কোনো প্রশ্নই নেই। সত্যযুগে বিশ্বে শান্তি ছিল তারপর নিচে নামতে-নামতে অশান্ত হয়ে গেছে। সবাই এখন সম্পূর্ণ বিশ্বে শান্তি চায়। ব্রহ্ম মহাতত্ত্বকে বিশ্ব বলা যায় না। তাকে ব্রহ্মান্ড বলা হয়, যেখানে তোমরা আত্মারা নিবাস করো। আত্মার স্বধর্মই হলো শান্ত। যখন শরীর থেকে আত্মা আলাদা হয় তখন সে শান্ত হয়ে যায়, তারপর অন্য শরীর ধারণ করে শব্দে আসে। এখন তোমরা বাচ্চারা এখানে কেন এসেছো? বাচ্চারা বলে বাবা, নিজের শান্তিধাম, সুখধামে নিয়ে চলো। শান্তি অথবা মুক্তিধামে সুখ-দুঃখের পার্ট নেই। সত্যযুগ হলো সুখধাম, কলিযুগ দুঃখধাম। কিভাবে নিচে নেমে আসো? সেটাও সিঁড়িতে দেখানো হয়েছে। তোমরা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকো তারপর একবারই উপরে ওঠো (উত্তরণ)। পবিত্র হয়ে উপরে ওঠো আর পতিত হয়ে নিচে নামতে থাকো। পবিত্র হওয়া ছাড়া উপরে উঠতে পারবে না, সেইজন্যই আহ্বান করে বলে বাবা, এসে আমাদের পবিত্র করো।

তোমরা প্রথমে পবিত্র শান্তিধামে গিয়ে তারপর সুখধামে আসবে। প্রথমে থাকে সুখ, পরে আসে দুঃখ। সুখের মার্জিন থাকে বেশি। ইক্যুয়াল হলে তবে তো কোনো লাভই নেই। সবটাই অকেজো হয়ে গেল। বাবা বোঝান এই যে ড্রামা তৈরি হয়ে আছে এতে ৩/৪ ভাগ সুখ, বাকি ১/৪ ভাগ কিছু না কিছু দুঃখ আছে, সেইজন্যই একে সুখ-দুঃখের খেলা বলা হয়। বাবা জানেন যে আমাকে অর্থাৎ বাবাকে তোমরা বাচ্চারা ছাড়া আর কেউ-ই জানতে পারে না। আমিই তোমাদের নিজের পরিচয় দিয়েছি আর সৃষ্টির আদি- মধ্য-অন্তের জ্ঞান দিয়েছি। তোমাদের নাস্তিক থেকে আস্তিক করে তুলেছি। তিন লোক সম্পর্কেও তোমরা জানো। ভারতবাসী তো কল্পের আয়ুও জানে না। তোমরা এখন জানো বাবা আমাদের পুনরায় এসে পড়াচ্ছেন। বাবা গুপ্ত বেশে পরের দেশে এসেছেন। বাবাও হলেন গুপ্ত। মানুষ নিজের দেহকে জানে, আত্মাকে জানে না। আত্মা হলো অবিনাশী, দেহ বিনাশী। আত্মা আর আত্মার পিতাকে তোমাদের কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আমরা অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিতে চলেছি। উত্তরাধিকার তখনই পাবো যখন পবিত্র হবো। এই রাবণ রাজ্যে তোমরা পতিত হয়ে গেছো সেইজন্যই বাবাকে আহ্বান করো। বাবা হলেন দু'জন। পরমপিতা পরমাত্মা হলেন সকল আত্মাদের একজনই পিতা। এমন নয় যে, ব্রাদাররাই সব বাবা। যখন-যখন ভারতে ধর্মের অতি গ্লানি হয়, যখন সমস্ত ধর্মের যিনি পারলৌকিক পিতা, তাঁকে ভুলে যায়, তখনই বাবা আসেন। এটাও খেলা। যা কিছু খেলা হয় সেটাই রিপিট হতে থাকে। তোমরা আত্মারা কতবার পার্ট প্লে করার জন্য এসেছো আর চলে গেছো, এই নাটক উকুনের মত ধীরে-ধীরে চলতে থাকে। কখনোই বন্ধ হয়না । টিক্ - টিক্ হতেই থাকে কিন্তু এক টিক্ মিলবে না দ্বিতীয় টিক্ এর সাথে। কত ওয়ান্ডারফুল এই নাটক। সেকেন্ডে-সেকেন্ডে যা কিছু সম্পূর্ণ সৃষ্টিতে হয়ে চলেছে সেটাই আবারও রিপিট হবে। প্রত্যেক ধর্মের মুখ্য পার্টধারীদের কথা বলা হয়েছে। তারা সবাই নিজের - নিজের ধর্মের স্থাপনা করে। রাজধানী স্থাপন করে না। এক পরমপিতা পরমাত্মাই ধর্ম স্থাপনা করেন এবং রাজধানী বা ডিনায়েস্টিও স্থাপন করেন। ওরা তো ধর্ম স্থাপনা করে এবং ওদের পিছনে সবাইকে আসতে হয়। সবাইকে ফিরিয়ে কে নিয়ে যান? বাবা। কেউ তো আছে খুব অল্প পার্ট প্লে করেছে তারপরেই শেষ হয়ে গেছে। পোকামাকড়, জীবাণুর মতো, আবির্ভাব হয়ে মরে গেলো। ড্রামাতে এর কোনো গুরুত্ব নেই। অ্যাটেনশন তাহলে কোন দিকে যাবে? ক্রিয়েটারের দিকে যাবে, যাঁকে সবাই বলে ও গডফাদার! হে পরমপিতা! তিনি সকল আত্মাদের পিতা। প্রথমে ছিল আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম। কত বিশাল এই অসীম জাগতিক বৃক্ষ । কত মত মতান্তর, কত ভ্যারাইটি জিনিস বেরিয়েছে। গণনা করাও কঠিন হয়ে যায়। ফাউন্ডেশন নেই (তার কোনো ভিত্তিই নেই) । বাকি সব উপস্থিত রয়েছে । বাবা বলেন ‐ মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা, আমি তখনই আসি যখন অনেক ধর্ম হয়, এক ধর্ম নেই। ফাউন্ডেশন প্রায় লোপ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র চিত্র আছে। আদি সনাতন দেবী-দেবতা একটাই ধর্ম ছিল। বাকি সব ধর্ম পরে আসে। ত্রেতায় অনেক আছে যারা স্বর্গে আসে না।

এখন তোমরা পুরুষার্থ করছো নতুন দুনিয়া স্বর্গে যাওয়ার জন্য। বাবা বলেন স্বর্গে তোমরা তখনই আসবে যখন আমাকে স্মরণ করে পবিত্র হবে এবং দৈবীগুণ ধারণ করবে। বাকি কল্প বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা তো অনেক আছে। বাচ্চারা বৃক্ষ সম্পর্কেও জেনেছে যে আমরাই আদি সনাতন দেবী-দেবতারা স্বর্গে ছিলাম। এখন স্বর্গ নেই। এখন নরক হয়ে গেছে। এইজন্যই বাবা প্রশ্নাবলি তৈরি করেছিলেন যে নিজের অন্তর্মনকে জিজ্ঞাসা করো - আমরা সত্যযুগী স্বর্গবাসী না কি কলিযুগের নরকবাসী? সত্যযুগ থেকে নিচে কলিযুগে নামছো? এরপর উপরে কিভাবে যাবে? বাবা শিক্ষা প্রদান করেন। তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান কিভাবে হবে? নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করলে যোগ অগ্নির দ্বারা তোমাদের পাপ কেটে যাবে। কল্প পূর্বেও তোমাদের জ্ঞান প্রদান করে দেবতা করে তুলেছিলাম, এখন তোমরা তমোপ্রধান হয়ে গেছো। কেউ তো নিশ্চয়ই আছেন যিনি সতোপ্রধান করে তুলবেন। পতিত-পাবন কোনো মনুষ্য হতে পারে না। হে পতিত-পাবন, হে ভগবান যখন বলে বুদ্ধি তখন উপরে যায়। তিনি হলেন নিরাকার। বাকি সবাই পার্টধারী। সবাই পুনর্জন্ম নিতে থাকে। আমি পুনর্জন্ম রহিত। এই ড্রামা তৈরি হয়েই আছে, এর সম্পর্কে কেউ-ই জানে না। তোমরাও জানতে না। এখন তোমাদের স্বদর্শন চক্রধারী বলা যায়। তোমরা স্ব আত্মার ধর্মে স্থিত হও। নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো। বাবা বোঝান এই সৃষ্টি চক্র কিভাবে ঘুরছে, সেইজন্যই তোমাদের নাম হলো স্বদর্শন চক্রধারী আর কারো মধ্যে এই জ্ঞান নেই। সুতরাং তোমাদের খুব খুশি হওয়া উচিত। বাবা আমাদের টিচার। খুব মিষ্টি এই বাবা। বাবার মতো মিষ্টি আর কেউ নেই। তোমরা পারলৌকিক বাবার বাচ্চারা পরলোকের নিবাসী আত্মা। বাবাও পরমধামে থাকেন। যেমন লৌকিক পিতা বাচ্চার জন্ম দিয়ে পালন করে শেষে সবকিছু দিয়ে যায় কেননা বাচ্চা সেইসবের উত্তরাধিকারী, এটাই নিয়ম। তোমরা যারা অসীম জগতের বাবার বাচ্চা হও, বাবা বলেন এখন তোমাদের আবার বাণীর ঊর্ধে ঘরে ফিরে যেতে হবে। ওখানে হলো সাইলেন্স তারপর মুভি, এরপর টকি (আওয়াজে আসা/সাকার লোক)। বাচ্চারা সূক্ষ্মলোকে যায়, সাক্ষাৎকার হয়। আত্মা বেরিয়ে যায় না। ড্রামাতে যা কিছু নির্ধারিত হয়ে আছে সেটাই সেকেন্ডে-সেকেন্ডে রিপিট হতে থাকে। এক সেকেন্ডও মেলে না পরের সেকেন্ডের সাথে। মানুষের পার্ট যেমন চলছে, ভালো বা মন্দ সব নির্ধারিত হয়ে আছে। সত্যযুগে ভালো, কলিযুগে খারাপ পার্ট প্লে করে। কলিযুগে মানুষ দুঃখী হয়। রাম রাজ্যে ছিঃছিঃ কোনো বিষয় নেই। রাম রাজ্য আর রাবণ রাজ্য একত্রে হতে পারে না। ড্রামাকে না জানার কারণে বলে থাকে সুখ-দুঃখ পরমাত্মা দিয়ে থাকেন। যেমন শিববাবাকে কেউ জানে না, তেমনি রাবণ সম্পর্কেও কারো জানা নেই। প্রতি বছর শিব জয়ন্তী উদযাপন করা হয়, তেমনি রাবণ দহনও প্রতি বছর করা হয়। এখন অসীম জগতের পিতা নিজের পরিচয় দিয়ে বলছেন নিজেকে আত্মা মনে করে আমি বাবাকে স্মরণ করো। বাবা হলেন খুব মিষ্টি। বাবা থোড়াই বসে নিজের মহিমা করবেন, যারা সুখ অনুভব করে তারাই মহিমা করে।

তোমরা বাচ্চারা বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার পেয়ে থাকো। বাবা হলেন ভালোবাসার সাগর। এরপর সত্যযুগে তোমরা প্রেমময় এবং মধুর হয়ে ওঠো। কেউ যদি বলে ওখানেও বিকার আদি আছে, তাকে বলো ওখানে রাবণ রাজ্য নেই। রাবণ রাজ্য দ্বাপর থেকে শুরু হয়। কত ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন। ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফীকে আর কেউ-ই জানে না। এই সময়েই তিনি তোমাদের বুঝিয়ে থাকেন। তারপর তোমরা দেবতা হয়ে যাও।দেবতাদের থেকে উচ্চ আর কেউ নেই, সেইজন্যই ওখানে গুরু করার দরকার পড়ে না। এখানে তো অসংখ্য গুরু। সদ্গুরু হলেন একজনই। শিখ ধর্মাবলম্বীরাও বলে সদ্গুরু অকাল। সদ্গুরুই হলেন অকালমূর্ত। তিনি হলেন কালেরও কাল মহাকাল। ঐ কাল তো একজনকে নিয়ে যায়। বাবা বলেন আমি তো সবাইকেই নিয়ে যাই। পবিত্র করে প্রথমে সবাইকে শান্তিধাম আর সুখধামে নিয়ে যাই। যদি আমার হয়েও তারপর মায়ার বশীভূত হয়ে যায়, তাহলে বলা হয় যে গুরুর নিন্দুক কোথাও ঠাঁই পায় না। তারা স্বর্গের সম্পূর্ণ সুখ পাবে না, প্রজাতে চলে যাবে। বাবা বলেন আমার নিন্দা করিও না। আমি তোমাদের স্বর্গের মালিক বানাই সুতরাং দৈবী গুণ ধারণ করতে হবে। কাউকে দুঃখ দেবে না। বাবা বলেন আমি এসেছি তোমাদের সুখধামের মালিক করে তুলতে। বাবা হলেন ভালোবাসার সাগর, মানুষ হলো দুঃখ দেওয়ার সাগর। কাম কাটারি চালিয়ে একে অপরকে দুঃখ দিয়ে থাকে। ওখানে এসব কিছুই হয়না। ওখানে হলো রাম রাজ্য। যোগবলের দ্বারা ওখানে বাচ্চা জন্ম নেয়। এই যোগবলের দ্বারাই তোমরা সম্পূর্ণ বিশ্বকে পবিত্র করে তোলো । তোমরা উত্তরাধিকারী কিন্তু আননোন (অপরিচিত) । তোমরা অনেক প্রসিদ্ধি লাভ করো এরপর ভক্তি মার্গে তোমাদের অর্থাৎ দেবীদের কত মন্দির নির্মাণ করা হয়। বলাও হয় অমৃতের কলস মাতাদের মস্তকে রাখা হয়েছে। গো মাতাও বলে থাকে, এ হলো জ্ঞান। জলের কোনো কথা নেই। তোমরা হলে শিব শক্তি সেনা। ওরা এরপর তোমাদের কপি করে নিজেরা গুরু হয়ে বসে গেছে। এখন তোমরা সত্যের নৌকাতে বসে আছো। গানও গায় আমার নৌকা পারে নিয়ে যাও। এখন মাঝি পেয়ে গেছো পারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বেশ্যালয় থেকে শিবালয়ে নিয়ে যান তিনি । ওঁনাকে বাগানের মালীও বলা হয়, কাঁটার জঙ্গলকে ফুলের বাগান করে তোলেন। সেখানে শুধুই সুখ আর সুখ। এখানে আছে দুঃখ। বাবা যে পর্চা ছাপানোর জন্য বলেছেন তাতে লেখা আছে নিজের অন্তরকে জিজ্ঞাসা করো যে স্বর্গবাসী নাকি নরকবাসী? অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারো। সবাই বলে ভ্রষ্ট আচার রয়েছে, নিশ্চয়ই কোনো সময় শ্রেষ্ঠাচারীও ছিল ! তারা দেবতা ছিলেন, এখন নেই। যখন দেবী-দেবতা ধর্ম প্রায় লোপ হয়ে যায় তখনই ভগবানকে আসতে হয়, এক ধর্ম স্থাপনা করার জন্য। মোটকথা তোমরা নিজেদের জন্য স্বর্গ স্থাপনা করছো শ্রীমত অনুসারে। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ স্মরণ আর সুপ্রভাত। আত্মিক পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার সমান ভালোবাসার সাগর হতে হবে। দুঃখের সাগর নয়। বাবার নিন্দা হবে এমন কোনো কর্ম করা উচিত নয়। খুব মধুর আর প্রিয় হতে হবে।

২ ) যোগবলের দ্বারা পবিত্র হয়ে তারপর অন্যদেরও পবিত্র করে তুলতে হবে। কাঁটার জঙ্গলকে ফুলের বাগান তৈরি করার সেবা করতে হবে। সবসময় খুশিতে থাকতে হবে যে আমাদের মিষ্টি বাবা, পিতা এবং টিচারও। ওঁনার মতো মিষ্টি আর কেউ নেই।

বরদান:-
পরমাত্ম স্নেহ প্রাপ্তকারী এখনকার তথা ভবিষ্যতের রাজার দুলাল ভব

সঙ্গম যুগে তোমরা ভাগ্যবান বাচ্চারাই দিলারামের স্নেহের পাত্র। এই পরমাত্ম স্নেহ কোটির মধ্যে কোনও কোনো আত্মাদেরই প্রাপ্ত হয়। এই দিব্য স্নেহের দ্বারা তোমরা রাজার দুলাল হয়ে যাও। রাজার দুলাল অর্থাৎ এখনও রাজা এবং ভবিষ্যতেও রাজা। ভবিষ্যতের আগেই এখন স্বরাজ্য অধিকারী হয়ে গেছো। যেমন ভবিষ্যতে রাজ্যের মহিমা হবে এক রাজ্য, এক ধর্ম .... তেমনই এখন সর্ব কর্মেন্দ্রিয়ের প্রতি আত্মার একচ্ছত্র রাজ্য।

স্লোগান:-
নিজের চেহারার দ্বারা বাবার চরিত্র প্রদর্শন কারীই পরমাত্ম স্নেহী হয় ।