08.02.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - সর্বদা স্মরণে রাখো যে তুমি ব্রাহ্মণ, শীর্ষস্থানীয়, পুরুষোত্তম হতে চলেছে, তাহলে উৎফুল্ল থাকবে। নিজের সাথে নিজে কথা বলা শিখলে অপার খুশী থাকবে"

প্রশ্নঃ -
বাবার শরণে কারা আসতে পারে? বাবা কাদের শরণ দেন?

উত্তরঃ  
বাবার শরণে তারাই আসতে পারে যারা সম্পূর্ণ নষ্টমোহ হয়। যাদের বুদ্ধিযোগ সব দিক থেকে ছিন্ন হয়ে যায়। মিত্র-পরিজন ইত্যাদির সাথে বুদ্ধির যোগ থাকে না। বুদ্ধিতে কেবল থাকে যে আমার তো এক বাবা, দ্বিতীয় কেউ নেই। এরকম বাচ্চারাই সার্ভিস করতে পারে। বাবাও এইরকম বাচ্চাদেরই শরণ দেন।

ওম্ শান্তি ।
ইনি হলেন আত্মাদের পিতা, টিচার, গুরু। এটা তো বাচ্চারা ভালো ভাবে বুঝে গেছে, দুনিয়ার মানুষ এই বিষয়টিকে জানে না। যদিও সন্ন্যাসীরা বলে শিবোহম্। তাহলেও এইরকম বলবে না যে আমিই হলাম বাবা, টিচার, সদ্গুরু। তারা শুধু বলে শিবোহম্ (আমিই শিব) ততত্বম্ । পরমাত্মা সর্বব্যাপী হলে তো প্রত্যেকেই বাবা টিচার সদ্গুরু হয়ে যাবে। এইরকম তো কেউ বুঝবে না। মানুষ নিজেকে যে ভগবান, পরমাত্মা বলে সেটা তো একেবারেই হলো রং । বাচ্চাদের বাবা যা বোঝান সেটা বুদ্ধিতে তো ধারণ করতে হয়। ওই পড়াতে কতো সাবজেক্ট থাকে, এইরকম নয় সব সাবজেক্ট স্টুডেন্টের বুদ্ধিতে থাকে। এখানে বাবা যা পড়ান সেটা এক সেকেন্ডে বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এসে যায়। তোমরা রচয়িতা আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান শোনাও। তোমরাই ত্রিকালদর্শী বা চক্রধারী হও। ওই শারীরিক পড়ার সাবজেক্ট সম্পূর্ণ আলাদা। তোমরা প্রমাণ করে ব্যাখ্যা দাও, সকলের সদ্গতি দাতা হলেন এই এক বাবা। সকল আত্মারা পরমাত্মাকে স্মরণ করে। বলে ও গড ফাদার ! তো অবশ্যই বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। সেই উত্তরাধিকার হারিয়ে দুঃখের মধ্যে এসে পড়ে। এটা হলো সুখ দুঃখের খেলা। এই সময় সবাই হলো পতিত, দুঃখী। পবিত্র হলে অবশ্যই সুখ প্রাপ্ত হয়। সুখের দুনিয়া বাবা স্থাপন করেন। বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এটা রাখতে হবে যে বাবা আমাদেরকে বোঝাচ্ছেন, নলেজফুল হলেন এক বাবা-ই। সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান বাবা-ই প্রদান করেন। আরও যে সব ধর্ম আছে তারা নিজেদের সময় মতো আসবে। এই কথা আর কারোর বুদ্ধিতে নেই। বাচ্চারা তোমাদের জন্য বাবা এই পড়াশোনাকে একদমই সহজ রেখেছেন। শুধু একটু বিস্তৃত ভাবে বোঝান। আমাকে অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো তো তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। যোগের মহিমা অনেক। ভারতের প্রাচীন যোগ সুপ্রসিদ্ধ। কিন্তু যোগের মাধ্যমে কী লাভ হয়, এটা কারোর জানা নেই। এটা হল গীতার সেই যোগ যা নিরাকার ভগবান শেখাচ্ছেন। এছাড়া যে যোগ শেখানো হয় তা মানুষ শেখায়। দেবতাদের কাছে তো যোগের ব্যাপারই নেই। এই হঠযোগ ইত্যাদি সব মানুষ শেখায়। দেবতারা না শেখে, আর না শেখায়। দৈবী দুনিয়াতে যোগের ব্যাপার নেই। যোগের দ্বারা সবাই পবিত্র হয়ে যায়। সেটা অবশ্যই এখানেই হবে। বাবা আসেনই সঙ্গমে নতুন দুনিয়া স্থাপন করতে। এখন তোমরা পুরানো দুনিয়া থেকে নতুন দুনিয়াতে যাচ্ছো। এটা কাউকে বোঝানোটাই হলো ওয়ান্ডার। আমরা ব্রাহ্মণরা শীর্ষস্থানীয়, সত্যযুগ আর কলিযুগের মধ্যবর্তীতে হলো ব্রাহ্মণের শিখর। একেই সঙ্গম যুগ বলা হয়, যেখানে তোমরা পুরুষোত্তম হয়ে উঠছো। এটা বাচ্চাদের বুদ্ধিতে থাকে যে আমরা পুরুষোত্তম হতে থাকলে সর্বদা উৎফুল্ল থাকবো। যত সার্ভিস করবে ততই উৎফুল্ল থাকবে। উপার্জন করতে আর করাতে হবে। যত প্রদর্শনীতে সার্ভিস করবে তো যে শুনবে তার সুখ প্রাপ্ত হবে। নিজের আর অপরের কল্যাণ হবে। ছোট সেন্টারেও মুখ্য ৫-৬ টি চিত্র অবশ্যই দরকার। চিত্র দেখিয়ে বোঝানো সহজ হয়। সারাদিন সেবা আর সার্ভিস। মিত্র পরিজনের কাছে কোনও মোহের বন্ধনে আবদ্ধ হবে না। যা এই চোখের দ্বারা দেখছো সেই সবই বিনাশ হয়ে যাবে। আর যে সব দিব্য দৃষ্টির দ্বারা দেখছো সেই দুনিয়াই স্থাপনা হবে। ঐরকম নিজের সাথে কথা বললে তোমরা পরিপক্ক হয়ে যাবে। অসীম জগতের বাবার সাথে মিলিত হওয়ার খুশী থাকা চাই। কেউ রাজার কাছে জন্ম নিলে কত গর্বিত হয় । তোমরা বাচ্চারা স্বর্গের মালিক হচ্ছো। প্রত্যেকেই নিজের জন্য পরিশ্রম করছো। বাবা শুধু বলেন কাম চিতার উপর বসে তোমরা কালো হয়ে গেছ। এখন জ্ঞান চিতার উপর বসলে গৌর (সুন্দর) হয়ে যাবে। বুদ্ধিতে এই চিন্তাই যেন চলতে থাকে, যদি অফিসেও কর্ম করতে থাকো, তখনও স্মরণ করতে থাকো। এমন নয় যে সময় নেই। যখনই সময় পাবে আত্মিক উপার্জন করবে। কতো বড় এই উপার্জন ! হেল্থ ওয়েল্থ দুটো এক সাথে পাওয়া যায়। একটি কাহিনী আছে অর্জুন আর ভিলের(একলব্য) । ঐরকম গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে, জ্ঞান-যোগের দ্বারা এখানে যারা থাকে - তাদের থেকেও তীব্র গতিতে যেতে পারো। সমস্ত কিছু নির্ভর করে স্মরণের উপর। এখানে সবাই বসে পড়লে তবে সার্ভিস কি ভাবে করবে! রিফ্রেশ হয়ে সার্ভিসে যুক্ত হতে হবে। সার্ভিসের খেয়াল রাখতে হবে। বাবা তো প্রদর্শনীতে যেতে পারবেন না কারণ বাপদাদা দুজন একত্রিত ভাবে আছেন। বাবার(শিববাবার) আত্মা আর এনার (ব্রহ্মা বাবার) আত্মা একত্রিত আছেন। এ হলো ওয়ান্ডারফুল যুগল। এই যুগলকে তোমরা বাচ্চারা ছাড়া কেউ জানতে পারে না। নিজেকে যুগল রূপে ভাবলেও আবার বলে আমি একাই হলাম বাবার হারানিধি বাচ্চা। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র দেখে খুব খুশী হয় । আমার দ্বিতীয় জন্ম হলো এটা, আমি রাজগদিতে অবশ্যই বসবো। তোমরাও রাজযোগ শিখছো, এইম অবজেক্ট সামনে উপস্থিত রয়েছে। ইনি তো খুব খুশী যে, আমি বাবার হারানিধি বাচ্চা ! তবুও সদাকাল স্মরণ স্থির হয় না। অন্য দিকে মন চলে যায়। ড্রামার এরকম 'ল নেই যে একদম স্মরণ স্থির হয়ে যাবে আর কোনো চিন্তা আসবে না। মায়ার তুফান স্মরণ করতে দেয় না। আমার জন্য খুব সহজ, কারণ বাবা আমার মধ্যে প্রবেশ করেন । বাবার নম্বরওয়ান হারানিধি বাচ্চা আমি। প্রথম রাজকুমার হবো, আবার স্মৃতি বিস্মৃত হবে । নানান কথা মাথায় আসতে থাকে । এ হলো মায়া। বাবার নিজের অনুভব আছে বলেই তো বাচ্চাদের বোঝাতে পারেন। মনের মধ্যে এই নানান কথার আনাগোনা তখন বন্ধ হবে যখন কর্মাতীত অবস্থা হবে। আত্মা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে তখন আর এই শরীরে থাকতে পারে না। শিববাবা তো সর্বদা পিওরই পিওর। পতিত দুনিয়া আর পতিত শরীরে এসে পবিত্র করার ভূমিকাও এঁনারই (শিববাবার)। ড্রামাতে তিনিও বাঁধা রয়েছেন। তোমরা পবিত্র হয়ে গেলে আবার নতুন শরীর চাই। শিববাবার তো নিজস্ব শরীরই নেই। এই শরীরের আত্মার গুরুত্ব অনেক । ওঁনার এখানে কি আছে! উনি তো মুরলী চালিয়ে চলে যান। উনি(শিববাবা) হলেন ফ্রী। কখনো এখানে, কখনো ওখানে চলে যান। বাচ্চাদেরও ফিল হয় যে এই শিববাবা মুরলী চালাচ্ছেন। তোমরা বাচ্চারা বোঝো আমরা বাবাকে সাহায্য করার জন্য এই গডলী সার্ভিসের উপর দাঁড়িয়ে আছি। বাবা বলেন আমিও নিজের সুইট্ হোম ছেড়ে এসেছি। পরমধাম অর্থাৎ ঊর্ধ্ব থেকেও ঊর্ধ্বে হলো মূলবতন। যদিও খেলা সমস্ত সৃষ্টির উপরে চলে। তোমরা জানো এটা হলো ওয়ান্ডারফুল খেলা। দুনিয়া তো হলো এই একটাই ।

এই দুনিয়ায় লোকেরা চাঁদে যাওয়ার প্রচেষ্টা করে, এটা তো হলো সায়েন্সের বল। সাইলেন্সের বলের দ্বারা আমরা যখন সায়েন্সের উপরে বিজয় প্রাপ্ত করি তখন সায়েন্সও সুখদায়ী হয়ে যায়। এখানে সায়েন্স সুখও দেয় আবার দুঃখও দেয়। ওখানে তো হলো সুখ আর সুখ। দুঃখের নামই নেই। এইরকম চিন্তা সারাদিন বুদ্ধিতে থাকতে হবে। বাবার কতো ভাবনা থাকে। বন্ধনযুক্তরা (বান্ধেলীরা) বিষের জন্য কত মার খায়। কেউ আবার মোহের বশে আটকে পড়ে। নিশ্চয়বুদ্ধি সম্পন্নরি তৎক্ষণাৎ বলবে আমাকে অমৃত পান করতে হবে, এর জন্য নষ্টমোহ হতে হবে । পুরানো দুনিয়ার থেকে মন সরিয়ে নিতে হবে। এইরকম সার্ভিসেবেল আত্মারাই বাবার হৃদয়ে স্থান পেতে পারে। বাবা তাদের শরণ দেন। কন্যা পতির আশ্রয়ে যায়, তারা বিষ ছাড়া রাখে না। আবার বাবার আশ্রয় নিতে হয়। এখানে কিন্তু একদম নির্মোহী (নষ্টমোহ) হতে হবে। আমরা পতিরও পতিকে পেয়েছি, এখন তাঁর সাথে আমরা বুদ্ধিযোগের দ্বারাই যুক্ত হতে পারি। ব্যস্, আমার তো এক বাবা দ্বিতীয় কেউ নেই। যেমন কন্যার তার স্বামীর সাথে প্রীতি এসে যায়, এটা হল আত্মার প্রীতি পরমাত্মার সাথে। লৌকিক পতির থেকে দুঃখ মেলে, এঁনার (শিববাবার) থেকে সুখ মেলে। এটা হলো সঙ্গম, একে কেউ জানে না। তোমাদের কত খুশী হওয়া উচিত । আমরা পাটনী বা বাগানের মালিককে পেয়েছি, যিনি আমাদের ফুলের বাগানে নিয়ে যান। এই সময় সব মানুষ কাঁটার মতো হয়ে গেছে। সব থেকে বড় কাঁটা হল কামনার। প্রথমে তোমরা নির্বিকারী ফুল ছিলে, ধীরে-ধীরে কলা কম হয়ে গেছে, এখন তো বড় কাঁটা হয়ে গেছে। বাবাকে বাবুলনাথও বলা হয়। তোমরা জানো আসল নাম হল শিব। কাঁটাকে ফুল বানায় বলে বাবুলনাথ নাম রাখা হয়েছে। ভক্তি মার্গে অনেক নাম রেখেছে। বাস্তবে একটিই নাম হল শিব। রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ বা শিব জ্ঞান যজ্ঞ একই কথা হল। রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ দ্বারা বিনাশ জ্বালা নির্গত হয় আর শ্রীকৃষ্ণপুরী অথবা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা হয়। তোমরা এই যজ্ঞ দ্বারা মানুষ থেকে দেবতা হও। তারা সব অদ্ভুত অদ্ভুত চিত্রও তৈরী করে। বিষ্ণুর নাভি থেকে ব্রহ্মার নির্গমন। এই সব বিষয়ে তোমরা জানো যে, ব্রহ্মা সরস্বতীই লক্ষ্মী-নারায়ণ হয়। তোমাদের এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে । লক্ষ্মী-নারায়ণই ৮৪ জন্ম পরে ব্রহ্মা সরস্বতী হন। মানুষ তো এরকম কথা শুনে বিস্মিত হতে থাকে। জানার পরে আবার খুশীও হয় । কিন্তু মায়া কিছু কম নয়। কাম হল মহাশত্রু। মায়া নাম রূপে ফাঁসিয়ে নীচে ফেলে দেয়। বাবাকে স্মরণ করতে দেয় না। আবার সেই খুশী কম হয়ে যায়। এতে খুশী হতে নেই যে আমি অনেককে বোঝাচ্ছি, প্রথমে দেখতে হবে বাবাকে কতোটা স্মরণ করছি। রাত্রে বাবাকে স্মরণ করে ঘুমাই নাকি ভুলে যাই। কোনো কোনো বাচ্চা তো নিয়মে বেশ পাকা ।

তোমরা বাচ্চারা খুবই লাকী। বাবার উপরে তো অনেক দায়িত্বের বোঝা। কিন্তু তবুও রথ বলে কিছুটা রেহাই পান । জ্ঞান আর যোগও আছে। জ্ঞান আর যোগ ছাড়া লক্ষ্মী-নারায়ণ পদ কি ভাবে পাবে। খুশী তো থাকে, আমি একাই বাবার বাচ্চা এরপর আবার আমার প্রচুর বাচ্চা, এই নেশাও থাকে, তখন মায়া বিঘ্নও নিয়ে আসে। বাচ্চাদেরও মায়ার বিঘ্ন আসতে থাকে। অনেক দূর এগোলেই তবেই কর্মাতীত অবস্থা আসে। এখানে বাপদাদা দুজনে একত্রিত ভাবে আছেন। বলেন মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা...বাবা তো প্রেমের সাগর। এনার আত্মা একসাথে আছে। ইনিও (ব্রহ্মা বাবা) ভালোবাসেন। বোঝান যে রকম কর্ম আমি করব, আমাকে দেখে আরো সবাই করবে। ভীষণ মধুর থাকতে হবে। বাচ্চাদের অনেক বিচক্ষণ হতে হবে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের মধ্যে দেখ কতো বিচক্ষণতা রয়েছে । বিচক্ষণতার দ্বারা বিশ্বের রাজ্য নিয়েছে। প্রদর্শনীর দ্বারা প্রজা তো অনেক হয়। ভারত অনেক বড়, এতো সার্ভিস করতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্মরণে থেকে বিকর্মও বিনাশ করতে হবে। এটাই প্রধান চিন্তা হতে হবে যে, কীভাবে আমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হবো? এতে পরিশ্রম আছে। সার্ভিসের চান্স অনেক। ট্রেনে ব্যাজ পড়ে সার্ভিস করতে পারো। এই হলেন বাবা আর এই হলো অবিনাশী উত্তরাধিকার। অবশ্যই ৫ হাজার বছর আগে ভারত স্বর্গ ছিল। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। অবশ্যই এদের রাজ্যত্ব আবার আসা চাই। আমরা বাবার স্মরণে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হচ্ছি। ট্রেনে অনেক সার্ভিস হতে পারে। এক কামরাতে সার্ভিস করে আবার দ্বিতীয়টায় যেতে হবে। এরকম সার্ভিস করে যারা, তারাই আসীন হয় হৃদয় সিংহাসনে। তাদের বলো, আমরা তোমাদের খুশীর খবর শোনাচ্ছি। তোমরা পূজ্য দেবতা ছিলে, আবার ৮৪ জন্ম নিয়ে পূজারী হয়েছ। এখন আবার পূজ্য হও। সিঁড়ির চিত্র বেশ ভালো, এর দ্বারাই সতো রজো তমো স্টেজ প্রমাণ করতে হবে। স্কুলে পরীক্ষা নিকটে এলে দ্রুত এগোনোর প্রচেষ্টা থাকে। এখন এখানেও বোঝানো হয় যে, যারা সময় নষ্ট করেছে, তাদের দ্রুত গতিতে চলে সার্ভিসে যুক্ত হয়ে যাওয়া উচিত। সার্ভিসের নম্বর তোলার সুযোগ অনেক। সার্ভিসেবেল কন্যা অনেক উদ্ভূত হওয়া চাই, যাদেরকে বাবা যে কোনো জায়গায় পাঠাবেন। মন্দিরে সার্ভিস ভালো হবে। দেবতা ধর্মের যারা শীঘ্রই বুঝে যাবে। গঙ্গা স্নানের উপরেও তোমরা বোঝাতে পারো, এতে অবশ্যই মনে ধরবে। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সদা উৎফুল্ল থাকার জন্য আধ্যাত্মিক সার্ভিস করতে হবে। নিজের আর অপরের কল্যাণ করতে হবে। ট্রেনেও ব্যাজ পড়ে সার্ভিস করতে হবে।

২ ) পুরানো দুনিয়ার থেকে মন সরিয়ে নিতে হবে। নষ্টমোহ হতে হবে, এক বাবার সাথে সত্যিকারের প্রীতি রাখতে হবে।

বরদান:-
সঙ্গম যুগের মহত্বকে জেনে সবসময় বিশেষ অ্যাটেনশনে থাকা হিরো পার্টধারী ভব

সকল কর্ম করেও সর্বদা এই বরদান যেন স্মরণে থাকে যে আমি হলাম হিরো পার্টধারী, তাই আমার প্রতিটি কর্ম বিশেষ হবে, প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সংকল্প শ্রেষ্ঠ হবে। এরকম বলতে পারো না যে আমি তো কেবল ৫ মিনিট সাধারণ ছিলাম। সঙ্গম যুগের ৫ মিনিটও অনেক মহত্ত্বপূর্ণ। ৫ মিনিট ৫ সালের থেকেও বেশী সময়। সেইজন্য প্রত্যেক সময় এতটাই যেন অ্যাটেনশন থাকে। সদাকালের জন্য রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত করতে হলে সদাকালের অ্যাটেনশন চাই।

স্লোগান:-
যার সংকল্পে দৃঢ়তার শক্তি আছে, তার পক্ষে সব কাজই সম্ভব।