09.02.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - শিব-জয়ন্তীতে তোমরা সকলকে অত্যন্ত আড়ম্বর (ধুমধাম করে) সহকারে নিরাকার বাবার বায়োগ্রাফী (জীবনী) শোনাও, এই শিব-জয়ন্তী হলো হীরে তুল্য"

প্রশ্নঃ -
তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের সত্যিকারের দীপাবলী কখন এবং কিভাবে হয়?

উত্তরঃ  
বাস্তবে শিব-জয়ন্তীই হলো তোমাদের সত্যিকারের দীপাবলী, কারণ শিববাবা এসে তোমাদের আত্মা-রূপী প্রদীপ জাগ্রত করেন । প্রত্যেকের ঘরের প্রদীপ জ্বলে ওঠে অর্থাৎ আত্মার জ্যোতি জাগরিত হয়। ওরা স্থূল প্রদীপ জ্বালায় কিন্তু তোমাদের সত্যিকারের প্রদীপ শিববাবা এলেই জাগ্রত হয় তাই তোমরা অত্যন্ত ধুমধাম করে শিব-জয়ন্তী পালন করো।

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা শিবের জয়ন্তী পালন করে আর ভারতেই শিব-জয়ন্তী পালিত হয়। জয়ন্তী তো একজনেরই পালন করা হয়। আবার তাঁকে সর্বব্যাপীও বলে দেয়। এখন সকলের তো জয়ন্তী পালন হতে পারে না। জয়ন্তী কখন পালন করা হয়? যখন গর্ভ থেকে জন্ম নিয়ে বাইরে আসে। শিব-জয়ন্তী তো অবশ্যই পালন করা হয়। আর্য সমাজের অনুগামীরাও পালন করে। এখন তোমরা (২০২৪-এ) ৮৮-তম জয়ন্তী পালন করবে, অর্থাৎ ৮৮-তম বর্ষ হবে এই জয়ন্তীর। জন্মদিন তো সকলেরই স্মরণে থাকে, অমুক দিন এ গর্ভ থেকে বেরিয়েছে (জন্ম নিয়েছে)। এবারে তোমরা শিববাবার ৮৮-তম জয়ন্তী পালন করবে। তিনি হলেন নিরাকার, তাঁর জয়ন্তী কিভাবে হতে পারে? এত বড় বড় (গণ্যমান্য) মানুষের কাছে নিমন্ত্রণ পত্র যায়। কারও তো জিজ্ঞাসা করা উচিত -- তাঁর জন্মদিন কিভাবে পালন করবে? তিনি কবে আর কিভাবে জন্ম নিয়েছেন? তাঁর শরীরের নাম কি? কিন্তু এমন প্রস্তরবুদ্ধি সম্পন্ন যে কখনও কেউ জিজ্ঞাসাই করে না। তোমরা তাদের বলতে পারো যে -- তিনি হলেন নিরাকার, ওঁনার নাম শিব। বাচ্চারা, তোমরা হলে শালগ্রাম। তোমরা জানো যে এই শরীরে শালগ্রাম(আত্মা) রয়েছে। নাম তো শরীরের রাখা হয়। তিনি হলেন পরমাত্মা শিব। তোমরা কত ধুমধাম করে প্রোগ্রাম করো। দিন দিন তোমরা ধুমধাম করে বোঝাও যে যখন ব্রহ্মার শরীরে শিববাবা প্রবেশ করেন, তখনই স্মরণ করা হয় তাঁর জয়ন্তীকে। তাঁর জয়ন্তীর কোনো তিথি, তারিখ নেই। তিনি বলেন, আমি সাধারণ শরীরে প্রবেশ করি। কিন্তু কবে, কোন্ সময়ে তা বলি না। তিথি-তারিখ, দিন ইত্যাদি যদি বলি তবে বলতে হবে যে অমুক তারিখ। তাঁর জন্মপত্রিকা তো হয় না। বাস্তবে জন্মপত্রিকা তো সর্বাপেক্ষা উচ্চ একমাত্র তাঁরই। ওঁনার কর্তব্যই সর্বাপেক্ষা উচ্চ। বলাও হয় যে, প্রভু তোমার মহিমা অপরম অপার। তাহলে অবশ্যই কিছু করে থাকেন। মহিমা তো অনেকেরই গায়ন করা হয়। নেহেরু, গান্ধী ইত্যাদি সকলেরই মহিমা কীর্তিত হয়। কিন্তু এঁনার মহিমা কেউ-ই বলতে পারে না। তোমরা বোঝাও যে তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, শান্তির সাগর। তিনি হলেন অদ্বিতীয়(এক), তাই না। তবে তাঁকে আবার সর্বব্যাপী কিভাবে বলা যেতে পারে। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না। আর তোমরা পালন কর কিন্তু কেউ জিজ্ঞাসা করার সাহসও করতে পারে না। তা নাহলে তো জিজ্ঞাসা করা উচিত যে শিব-জয়ন্তী পালন করা হয়, মহিমা কীর্তন করা হয় তাহলে তো অবশ্যই কেউ এসে আবার চলে গেছেন। ভক্ত তো অনেক। যদি গভর্নমেন্ট না মানতো (বিশ্বাস করা) তবে তো ভক্তদের, সাধুদের, গুরুদের স্ট্যাম্প বানাত না। যেমন সরকার তেমনই প্রজা। বাচ্চারা, তোমরা তো এখন বাবার বায়োগ্রাফিও ভালোভাবে জেনে গেছো। তোমরা যতটা গর্ববোধ (ফকুর) করো ততটা আর কারও হতে পারে না। তোমরাই বলো যে শিব-জয়ন্তী হলো হীরে-তুল্য। বাকী আর সব জয়ন্তী হলো কড়ি-তুল্য। বাবা-ই এসে কড়ি থেকে হীরে-তুল্য বানান। শ্রীকৃষ্ণও বাবার দ্বারাই এতো উচ্চাসনে বসেছেন, তাই তাঁর হীরে-তুল্য জন্মের গায়ন করা হয়। প্রথমে কড়ি-তুল্য ছিল পরে বাবা এসে হীরে-তুল্য বানান। মানুষ একথা জানে না। কৃষ্ণকে এমন পৃথিবীর (সত্যযুগী দুনিয়া) প্রিন্স কে বানিয়েছেন? তাহলে এ কথাও বোঝান উচিত যে -- কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা হয়। শিশু তো মাতৃ-গর্ভ থেকে জন্মলাভ করেছে। তাঁকে আবার ঝুড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন কথা হল, কৃষ্ণ তো বিশ্বের প্রিন্স, তাঁর আবার ভয় কিসের? ওখানে কংস ইত্যাদি কোথা থেকে আসবে? এই সমস্ত কথা শাস্ত্রে লেখা রয়েছে। এখন তোমাদের ভালো করে বোঝাতে হবে। অত্যন্ত ভালোভাবে বোঝানোর মতো যুক্তি চাই। সবাই একই রকমভাবে পড়াতে পারে না। যুক্তিযুক্তভাবে বোঝাতে না পারলে আরও ডিস্-সার্ভিস হয়ে যায়।

এখন শিব-জয়ন্তী যখন পালন করা হয় তখন শিবের মহিমাই করা হবে। গান্ধী-জয়ন্তীতে গান্ধীর মহিমা করা হবে। এছাড়া আর কিছু বুদ্ধিতে আসবে না। এখন শিব-জয়ন্তী যখন তোমরা পালন করো তাহলে অবশ্যই তাঁর মহিমা, তাঁর বায়োগ্রাফি বা জীবন-চরিতও থাকবে। তোমরা সেইদিন ওঁনার জীবন-চরিতই বসে শোনাও। যেমন বাবা বলেন, লোকে তো জিজ্ঞাসাও করে না যে শিবরাত্রি কিভাবে শুরু হয়েছে। এর কোনো বর্ণনাও নেই। ওঁনার মহিমা তো অসীম, এর গায়নও রয়েছে। শিববাবাকে ভোলানাথ বলে, তাঁর অনেক মহিমা করে। তিনি হলেন ভোলা ভান্ডারী। ওরা তো শিব আর শঙ্করকে এক বলে দেয়। আর তাই শঙ্করকে ভোলানাথ মনে করে। বাস্তবে ভোলানাথকে শঙ্কর তো মনে হয় না। তার উদ্দেশ্যেই একথা বলা হয় যে তিনি চোখ খুললেই বিনাশ শুরু হয়, ধুতরা ফল খায়, তবে তাকে ভোলানাথ কী করে বলা যেতে পারে। মহিমা তো একজনেরই হয়। তোমাদের শিবের মন্দিরে গিয়ে বোঝানো উচিত । সেখানে অনেক লোক আসে তাই সেখানে শিবের জীবন চরিত্র শোনাতে হবে। বলাও হয় যে, ভোলা-ভান্ডারী শিববাবা। এখন শিব ও শঙ্করের প্রভেদও তোমরাই সকলকে জানিয়েছো। শিবের আরাধনা হয় শিব মন্দিরে, তাই সেখানে গিয়ে তোমাদের শিবের জীবন কাহিনীর বর্ননা করতে হবে। জীবন-কাহিনী -- এই শব্দটি শুনে কারোর তো মাথাও ঘুরে যাবে যে শিবের জীবন কাহিনী কিভাবে শোনাবে? তাই ওয়ান্ডারফুল কথা মনে করে অনেক মানুষই আসবে। তাদের বলো, নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যারা আসবে তাদের আমরা নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মার জীবন-কাহিনী শোনাবো। গান্ধী প্রমুখদের বায়োগ্রাফীও তো শোনো, তাই না। তোমরা এখন যখন শিবের মহিমা করবে তখন মানুষের বুদ্ধি থেকে সর্বব্যাপীর বিষয়টি চলে(উড়ে) যাবে। একের মহিমা অন্যের সাথে মিলতে পারে না। এই যে মন্ডপ বানানো হয় বা প্রদর্শনী করা হয়, সেগুলি তো কোনো শিবের মন্দির নয়। তোমরা জানো যে, বাস্তবে শিবের মন্দির হলো এখানেই, যেখানে রচয়িতা স্বয়ং বসে রচয়িতা এবং রচনার আদি, মধ্য, অন্তের রহস্য বোঝান। তোমরা লিখতে পারো যে রচয়িতার জীবন-কাহিনী আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য অথবা হিস্ট্রি শোনাবো। হিন্দী-ইংরেজি দুটোতেই লেখো। বড়-বড় মানুষদের (গন্যমান্য) কাছে গেলে তারা আশ্চর্য হয়ে যাবে যে এরা কারা, যারা পরমপিতা পরমাত্মার বায়োগ্রাফি বলে দেয়। শুধু যদি রচনার কথা তোমরা বলো তাহলে তারা এটাই বুঝবে যে প্রলয় হয়েছিল তারপর আবার নতুন দুনিয়া রচিত হয়েছে। কিন্তু না, তোমাদের তো বোঝাতে হবে যে বাবা পতিতদের এসে পবিত্র বানান তবেই তো মানুষ অবাক হয়ে যাবে। শিবের মন্দিরেও অনেকে আসবে। হল্ বা মন্ডপ বড় হওয়া চাই। তোমরা যদি প্রভাত ফেরী বের করো, তারমধ্যেও কিন্তু এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য কে স্থাপন করেছেন, তা বোঝাতে হবে। নিরাকার শিববাবা যিনি সকল আত্মাদের পিতা, তিনিই এসে রাজযোগ শেখান। এই সমস্ত বিষয়েই বিচার সাগর মন্থন করা উচিত যে কিভাবে শিবের মন্দিরে গিয়ে আমাদের সার্ভিস করা উচিত । শিবের মন্দিরে ভোর বেলায় পূজা হয়, ঘন্টা ইত্যাদিও প্রভাতেই বাজে। শিববাবাও প্রভাতেই আসেন। তিনি মধ্যরাতে আসেন না। সেইসময় তোমরা জ্ঞান শোনাতেও পারবে না কারণ মানুষ তখন ঘুমিয়ে থাকে। রাতে তাও মানুষের অবসর থাকে, লাইটও জ্বলে। আলোকসজ্জাও ভালোভাবে করা উচিত । শিববাবা এসে তোমাদের, অর্থাৎ আত্মাদের জাগান। সত্যিকারের দীপাবলী তো এটাই, প্রত্যেকের ঘরে দীপ জ্বলে অর্থাৎ আত্ম-জ্যোতি জাগান। ওরা(অজ্ঞানী) তো ঘরে স্থূল প্রদীপ জ্বালায়। কিন্তু বাস্তবে দীপাবলীর অর্থ হল এটাই । কারো-কারো দীপ তো একদমই জাগরিত হয় না। একমাত্র তোমরাই জানো যে আমাদের প্রদীপ কিভাবে প্রজ্জ্বলিত হয় ? যখন কেউ মারা যায় তখন প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখে যাতে অন্ধকার না হয়। কিন্তু সর্বাগ্রে আত্ম-দীপ তো জাগ্রত হোক, তবেই তো আর অন্ধকার হবে না। তা নাহলে মানুষ তো এখন ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। আত্মা তো সেকেন্ডে এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর ধারণ করে। এতে অন্ধকার ইত্যাদির তো কোনো ব্যাপার নেই। এ হল ভক্তিমার্গের নিয়ম। ঘৃত নিঃশেষ হলেই প্রদীপ নিভে যায়। অন্ধকারের অর্থও কিছু বুঝতে পারে না। পূর্বপুরুষ ইত্যাদিদের খাওয়ানোরও অর্থ কি, তা বোঝে না। পূর্বে আত্মাদের আহ্বান করা হত, কিছু প্রশ্ন করা হত। এখন এসব করা হয়না। এখানেও আসে, কোনো-কোনো সময় কিছু বলেও দেয়। যদি তাকে বলো যে, তুমি সুখী তো? তাহলে বলে যে, আজ্ঞে হ্যাঁ। এখান থেকে যারা যাবে তারা তো অবশ্যই ভাল ঘরে জন্ম নেবে। জন্ম অবশ্যই অজ্ঞানীর ঘরেই নেবে। জ্ঞানীর ঘরে তো জন্ম নেবে না, কারণ জ্ঞানী ব্রাহ্মণ তো বিকারে যেতে পারে না। সে তো পবিত্র। তবে হ্যাঁ, ভালো সুখী পরিবারে গিয়ে জন্ম নেবে। যুক্তি হলো এটাই যে -- যেমন অবস্থা তেমন জন্ম। সেখানে গিয়েও আবার নিজের স্পার্ক ছড়ায়। যদিও শরীর ছোট তাই বলতে পারে না। একটু বড় হওয়ার পর অবশ্যই জ্ঞানের স্পার্ক ছড়াবে। যেমন কেউ-কেউ শাস্ত্রের সংস্কার নিয়ে যায় আর ছোট থেকে তাতেই ব্যস্ত হয়ে যায়, এখান থেকেও নলেজ নিয়ে গেলে তাদের মহিমা প্রচারিত হবেই।

তোমরা শিব-জয়ন্তী পালন করো। ওরা (অজ্ঞানী ব্যক্তি) এর অর্থ কিছুই বুঝতে পারে না। জিজ্ঞাসা করা উচিত -- যদি তিনি সর্বব্যাপী হন তবে তাঁর জয়ন্তী কিভাবে পালন করবে? বাচ্চারা, এখন তোমরা পড়াশোনা করছো। তোমরা জানো যে, তিনি পিতাও, শিক্ষকও আবার সদ্গুরুও। বাবা বুঝিয়েছেন যে শিখ ধর্মাবলম্বীরাও বলে যে, সত্য শ্রী হলেন অকালমূর্ত (সৎ শ্রী অকাল)। বাস্তবে অকালমূর্তি তো সর্ব আত্মাই। কিন্তু এক শরীর ছেড়ে অন্য ধারণ করে তাই একেই জন্ম-মৃত্যু বলে। আত্মা তো সেই একই থাকে, আত্মা ৮৪ জন্ম নেয়। কল্প যখন সম্পূর্ণ হয় তখন পরমাত্মা স্বয়ং এসে বলেন যে, আমি কে? আমি কিভাবে এঁনার মধ্যে প্রবেশ করি? যা তোমরা নিজে-নিজেই বুঝে যাও। প্রথমে বুঝতে না। হ্যাঁ, পরমাত্মা প্রবেশ করেছেন, কিন্তু কিভাবে, কখন, কিছু কি বুঝতে পারতে? না পারতে না। প্রতিদিন শুনতে শুনতে তোমাদের বুদ্ধিতে এই কথা আসতে থাকে। নতুন-নতুন কথা তোমরা শুনতে থাকো। পূর্বে দুই পিতার রহস্যকে কি তোমরা বোঝাতে? না বোঝাতে না। পূর্বে তো তোমরা যেন বেবী ছিলে। এখনও অনেকে বলে -- বাবা, আমি তো তোমার দুই দিনের বাচ্চা। আমরা এত দিনের বাচ্চা। মনে করে যে, যা কিছুই হয় তা কল্প-পূর্বের মতোই। এ হলো অনেক বড় জ্ঞান। বুঝতেও সময় লাগে। জন্ম (অলৌকিক) নিয়ে আবার মৃত্যুও হয়ে যায়। দুই মাস, ৮ মাসের হয়ে মরেও যায় (ছেড়ে চলে যায়) । তোমাদের নিকটে এসে বলেও যে এটাই সঠিক। উনি হলেন আমাদের পিতা আর আমরা হলাম ওঁনার সন্তান। তারা হ্যাঁ-হ্যাঁ (ঠিক-ঠিক) বলে। বাচ্চারা বলেও যে -- তারা অনেক প্রভাবিত হয়ে যায় । কিন্তু বাইরে বেরিয়ে সব শেষ, মৃত্যু । আর আসেই না। তাহলে কি হবে? হয় পরে এসে রিফ্রেশ হবে অথবা প্রজাকুলে আসবে। এইসব কথা বোঝাতে হবে। আমরা শিব-জয়ন্তী কিভাবে পালন করি? শিববাবা কিভাবে সদ্গতি করেন? শিববাবা স্বর্গের উপহার নিয়ে আসেন। স্বয়ং বলেন যে, আমি তোমাদের রাজযোগ শেখাই। বিশ্বের মালিক বানাই। বাবা-ই হলেন হেভেনের রচয়িতা, তাহলে তিনি অবশ্যই আমাদের হেভেনের মালিক বানাবেন। আমরা ওঁনার বায়োগ্রাফি বলি। কিভাবে স্বর্গের স্থাপনা করেন, কিভাবে রাজযোগ শেখান, তোমরা এসে শেখো। যেভাবে বাবা বোঝান, সেভাবে কি বাচ্চারা বোঝাতে পারে না? এরজন্য অত্যন্ত সুদক্ষ বাচ্চা চাই। শিবমন্দিরে খুব ভালোভাবে উৎসব পালিত হয়, তোমাদের সেখানে গিয়ে বোঝান উচিত । লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে গিয়ে যদি শিবের জীবন কাহিনী শোনাও তবে কারও তা যুক্তি-যুক্ত মনে হবে না। কেউ মনোযোগ সহকারে শুনবেও না। তখন আবার তাদের বুদ্ধিতে ভাল করে তা বসাতে হবে। লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে অনেকে আসে। তাদেরকে লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাধা-কৃষ্ণের রহস্য বোঝাতে পারো। ওঁনাদের আলাদা -আলাদা মন্দির হওয়া উচিৎ নয়। কৃষ্ণ-জয়ন্তীতে তোমরা কৃষ্ণের মন্দিরে গিয়ে বোঝাবে -- কৃষ্ণ-কেই গৌর বর্ণের আবার কৃষ্ণ-কেই শ্যাম বলা হয় কিন্তু কেন? ওরা বলে গ্রামের ছোঁড়া (কিশোর) । গ্রাম্য যখন, তখন নিশ্চয়ই গরু-ছাগল চড়াবে, তাই না। বাবা (ব্রহ্মা) অনুভব করেন যে আমিও গ্রামেরই ছিলাম। না ছিল টুপি, না জুতো। এখন স্মৃতিতে আসে যে আমি কি ছিলাম, পরে কিভাবে বাবা এসে প্রবেশ করেন। তাই, সকলেই বাবার থেকে এই লক্ষ্য (এইম) পেয়েছে যে বাবাকে স্মরণ করো, তিনিই হলেন সকলের সদ্গতি দাতা। তোমরা রামচন্দ্রের জীবন কাহিনীও বলতে পারো। কখন থেকে ওঁনার রাজত্ব শুরু হয়েছে, কত বর্ষ হয়েছে। এমন-এমন বিচার(খেয়াল) আসা উচিত । শিব-মন্দিরে শিবের বায়োগ্রাফী শোনাতে হবে। লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে লক্ষ্মী-নারায়ণের মহিমা করতে হবে। রামের মন্দিরে গেলে রামের জীবন কাহিনী শোনাবে। এখন তোমরা দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করার পুরুষার্থ করছ। হিন্দু ধর্ম তো কেউ স্থাপন করে নি। এছাড়া হিন্দু কোনো ধর্মও নয় -- একথা সরাসরি বললে রুষ্ট হবে। মনে করবে এ কোনো খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বী। তোমরা বল আমরা হলাম আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের, যাকে আজকাল সকলেই হিন্দুধর্ম বলে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) ধুমধাম করে শিব-জয়ন্তী পালন করো। শিববাবার মন্দিরে গিয়ে শিবের আর লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে গিয়ে লক্ষ্মী-নারায়ণের বা রাধা-কৃষ্ণের বায়োগ্রাফী শোনাও, সবাইকে যুক্তিযুক্তভাবে বোঝাও।

২) অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য জ্ঞান ঘৃত দ্বারা আত্মা-রূপী প্রদীপকে সদা প্রজ্জ্বলিত রাখতে হবে। অন্যদেরও অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বের করে আনতে হবে।

বরদান:-
সর্ব খাজানাতে সম্পন্ন হয়ে নিরন্তর সেবা করে অফুরন্ত, অখন্ড মহাদানী ভব

বাপদাদা সঙ্গম যুগে সকল বাচ্চাদেরকে অটড়-অখণ্ড- এর বরদান দিয়েছেন। যে এই বরদানকে জীবনে ধারণ করে অখন্ড মহাদানী অর্থাৎ নিরন্তর সহজ সেবাধারী হয় সে-ই নম্বর ওয়ান হয়ে যায়। দ্বাপর থেকে ভক্ত আত্মারাও দানী হয় কিন্তু অফুরন্ত খাজানার দানী হতে পারে না। বিনাশী খাজানা বা বস্তুর দানী হয়, কিন্তু দাতার বাচ্চারা, যারা সর্ব খাজানাতে সম্পন্ন তোমরা, তারা এক সেকেন্ডও দান না করে থাকতে পারবে না।

স্লোগান:-
ভিতরকার সত্যতা স্বচ্ছতা প্রত্যক্ষ তখন হয় যখন স্বভাবে সরলতা থাকে।