10.02.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - আত্ম - অভিমানী হওয়ার অভ্যাস করো, তাহলে দৈবীগুণ সক্রিয় হতে থাকবে, ক্রিমিনাল চিন্তা ভাবনা সমাপ্ত হয়ে যাবে, অপার খুশী থাকবে"

প্রশ্নঃ -
নিজের আচার-আচরণকে সংশোধন করতে বা অপার খুশীতে থাকার জন্য কোন্ কথাটি সদা স্মৃতিতে রাখতে হবে?

উত্তরঃ  
সদা স্মৃতিতে যেন থাকে যে আমরা দৈবী স্বরাজ্য স্থাপন করছি, আমরা মৃত্যু লোক ত্যাগ করে অমরলোকে যাচ্ছি - যার ফলে অনেক খুশী থাকবে, চলনও ঠিক হতে থাকবে, কারণ অমরলোক, নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার জন্য দৈবী গুণ অবশ্যই চাই। স্বরাজ্যের জন্য অনেকের কল্যাণও করতে হবে, সবাইকে পথ বলে দিতে হবে ।

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চাদের নিজেকে এখানকার বাসিন্দা ভাবা উচিত নয়। তোমরা জেনেছো আমাদের যে রাজ্য ছিল যাকে রামরাজ্য বা সূর্যবংশী রাজ্য বলা হত সেখানে কতইনা সুখ-শান্তি ছিল। এখন আমরা আবার দেবতায় পরিণত হচ্ছি। আগেও দেবতা হয়েছিলাম। আমরা-ই সর্ব গুণ সম্পন্ন .... দৈব গুণ যুক্ত ছিলাম। আমরা নিজেদের রাজ্যে ছিলাম। এখন রাবণ রাজ্যে আছি। আমরা নিজেদের রাজ্যে খুব সুখে ছিলাম। অতএব মনে অনেক খুশীও নিশ্চয় থাকা উচিত কারণ তোমরা পুনরায় নিজেদের রাজধানীতে যাচ্ছো। রাবণ তোমাদের রাজত্ব কেড়ে নিয়েছে। তোমরা জানো আমাদের নিজস্ব সূর্যবংশী রাজ্য ছিল। আমরা রামরাজ্যের বাসিন্দা ছিলাম, আমরা-ই দৈবী গুণ যুক্ত ছিলাম, আমরা-ই অনেক সুখী ছিলাম তারপরে রাবণ এসে আমাদের রাজ্য-ভাগ্য কেড়ে নিয়েছে। এখন বাবা এসে নিজের ও অপরের রাজ্যের রহস্য বোঝাচ্ছেন। অর্ধকল্প আমরা রামরাজ্যে ছিলাম এবং অর্ধকল্প আমরা রাবণ রাজ্যে থেকেছি। বাচ্চাদের সব কথায় যদি নিশ্চয় থাকে তাহলে খুশীতে থাকতে পারে এবং চলনও শোধরাবে। এখন অপরের রাজ্যে আমরা অনেক দুঃখে আছি। হিন্দু ভারতবাসীরা বোঝে আমরা অন্যের বা বিদেশী রাজ্যে দুঃখে ছিলাম, এখন সুখে আছি নিজের রাজ্যে। কিন্তু এ হল অল্পকাল কাক বিষ্ঠা সম সুখ। তোমরা বাচ্চারা এখন সদাকালের সুখের দুনিয়ায় যাচ্ছ। তাই বাচ্চারা তোমাদের মনে অনেক খুশী থাকা উচিত। জ্ঞান নেই অর্থাৎ পাথরবুদ্ধি । তোমরা বাচ্চারা জান আমরা অবশ্যই নিজের রাজ্য নেব, এতে কষ্টের কথা নেই। রাজ্য নিয়ে অর্ধকল্প রাজত্ব করি তারপরে রাবণ আমাদের কাঞ্চন কায়া (সুচরিত্রকে) নষ্ট করে দেয়। কোনো সু-সন্তানের চালচলন খারাপ হলে বলা হয় তোমার কলা কায়া (সৎ চরিত্র) নষ্ট হয়ে গেছে নাকি? এ হলো অসীম জগতের কথা। বোঝা উচিত মায়া আমাদের চরিত্র নষ্ট করেছে। আমাদের পতন হয়েছে। এখন অসীম জগতের পিতা দৈবী গুণ ধারণ করার শিক্ষা দেন। তোমাদের খুশীর পারদ ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। টিচার নলেজ দিলে স্টুডেন্ট খুশী হয়। এ হলো অসীম জগতের নলেজ। নিজেকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে - আমার মধ্যে কোনও আসুরীক গুণ নেই তো ? সম্পূর্ণ না হলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। কিন্তু আমরা শাস্তি কেন ভোগ করব ? তাই বাবাকে অর্থাৎ যাঁর কাছ থেকে রাজ্য প্রাপ্ত হয়, তাঁকে স্মরণ করতে হবে। দৈবী গুণ যা আমাদের ছিল সেসব এখন ধারণ করতে হবে। সেখানে যথা রাজা-রানী তথা প্রজা সবাই দৈবীগুণধারী ছিলেন। দৈবী গুণের অর্থ তো বোঝো তোমরা, তাইনা। যদি কেউ না বোঝে তবে ধারণ করবে কিভাবে ? গীতও গায় - সর্বগুণ সম্পন্ন ..... তো পুরুষার্থ করে এমন হতে হবে। এমন স্বরূপ ধারণ করাতেই পরিশ্রম লাগে। ক্রিমিনাল দৃষ্টি হয়ে যায়। বাবা বলেন নিজেকে আত্মা ভাবো তাহলে ক্রিমিনাল চিন্তা ভাবনা সমাপ্ত হবে। অনেক যুক্তি দিয়ে বাবা বোঝান, যার মধ্যে দৈবী গুণ আছে, তাকে দেবতা বলা হয়, যার নেই তাকে মানুষ বলা হয়। যদিও দুই-ই হল মানুষ। কিন্তু দেবতাদের পূজা করা হয় কেন? কারণ তাঁদের দৈবীগুণ আছে এবং মানুষের কাজকর্ম হলো বানর সম। নিজেদের মধ্যে কত ঝগড়া লড়াই করে। সত্যযুগে এমনটা থাকেই না। এখানে তো আছে। নিশ্চয়ই নিজের ভুল হয় তবেই তো সহ্য করতে হয়।আত্ম-অভিমানী নয় তাই সহ্য করতে হয়। তোমরা যত আত্ম-অভিমানী হতে থাকবে তত দৈবী গুণ ধারণ হবে। নিজের পরীক্ষা করতে হবে আমাদের মধ্যে কতখানি দৈবী গুণ আছে? বাবা হলেন সুখদাতা, তাই বাচ্চাদের কাজ হলো সবাইকে সুখ দেওয়া। নিজের মনকে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে আমরা কাউকে দুঃখ দিই না তো? কিন্তু অনেকের স্বভাব থাকে তারা দুঃখ না দিয়ে থাকতে পারে না। একেবারে শোধরায় না, এমন যেন জেল বার্ড। তারা জেলের মধ্যে থেকেই নিজেকে সুখী ভাবে। বাবা বলেন সেখানে তো জেল ইত্যাদি হয়ই না, পাপ কর্ম বলে কিছু হয় না যে জেল যেতে হবে। এখানে জেলে সাজা ভোগ করতে হয়। এখন তোমরা বুঝতে পার যখন নিজের রাজ্যে ছিলাম তখন বিত্তবান ছিলাম, যখন ব্রাহ্মণ কুলে আসব, তখন এমন বুঝবে যে আমরা নিজের রাজ্য স্থাপন করছি। সেই একটি রাজ্য আমাদের ছিল, যাকে দেবতাদের রাজ্য বলা হয়। আত্মা যখন জ্ঞান প্রাপ্ত করে তখন খুশী অনুভব করে। জীব আত্মা অবশ্যই বলতে হবে। আমরা জীব-আত্মারা যখন দেবী-দেবতা ধর্মের ছিলাম, তখন সম্পূর্ণ বিশ্বে আমাদের রাজত্ব ছিল। এই নলেজ হল তোমাদের জন্যে। ভারতবাসীরা কি বোঝে নাকি যে আমাদের রাজত্ব ছিল, আমরাও সতোপ্রধান ছিলাম। তোমরাই এই সম্পূর্ণ নলেজ বুঝতে পারো। আমরাই দেবতা ছিলাম এবং আমাদেরই আবার দেবতা হতে হবে। যদিও বিঘ্ন ইত্যাদি আসে কিন্তু দিন দিন উন্নতি হতে থাকবে। তোমাদের নাম বিখ্যাত হতে থাকবে। সবাই বুঝবে এই সংস্থাটি ভালো, ভালো কাজ করছে। সহজ পথও বলে দিচ্ছে। বলে তোমরাই সতোপ্রধান ছিলে, দেবতা ছিলে, নিজের রাজধানীতে ছিলে। এখন তমোপ্রধান হয়েছ, আর কেউ তো নিজেকে রাবণ রাজ্যে ভাবে না।

তোমরাই জানো আমরা কতখানি স্বচ্ছ ছিলাম, এখন তুচ্ছ হয়েছি। পুনর্জন্ম নিতে নিতে পারসবুদ্ধি থেকে পাথরবুদ্ধি হয়েছি। এখন আমরা নিজেদের রাজ্য স্থাপন করছি তো তোমাদের কতটা লাফ দিয়ে পুরুষার্থ করা উচিত। যারা কল্প পূর্বে পুরুষার্থ করেছে তারাই এখনও করবে নিশ্চয়ই। ক্রম অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে আমরা নিজেদের দৈব রাজ্য স্থাপন করছি। এই কথাও তোমরা ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাও। তা নাহলে ভিতরে অনেক খুশী থাকা উচিত। একে অপরকে একটি কথা স্মরণ করাও যে "মনমনাভব" । বাবাকে স্মরণ করো, যার দ্বারা তোমরা এখন রাজত্ব প্রাপ্ত করছ। এই কথাটি নতুন কথা নয়। কল্প-কল্প বাবা আমাদের শ্রীমৎ প্রদান করেন, যার ফলে আমরা দৈবী গুণ ধারণ করি। নাহলে শাস্তি ভোগ করে আমরা কম পদ মর্যাদা প্রাপ্ত করব। এ হল খুব বিশাল প্রাপ্তির লটারি। এখন পুরুষার্থ করে উঁচু পদের অধিকারী হলে কল্প-কল্পান্তর অধিকার প্রাপ্ত করবে। বাবা কত সহজ করে বোঝান। প্রদর্শনীতেও এই কথা বোঝাও যে তোমরা ভারতবাসীরা দেবতাদের রাজধানীতে ছিলে তারপরে পুনর্জন্ম নিতে-নিতে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এমন হয়েছ। কত সহজ করে বোঝান। তিনি হলেন সুপ্রিম পিতা, সুপ্রিম টিচার, সুপ্রিম গুরু, তাইনা। তোমরা হলে অসংখ্য স্টুডেন্ট, রেস করছ। বাবাও লিস্ট আনাতে থাকেন বাচ্চারা কতখানি নির্বিকারী পবিত্র হয়েছে?

বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে যে ভ্রুকুটির মাঝখানে আত্মা জ্বলজ্বল করে। বাবা বলেন আমিও এখানে এসে বসি। নিজের পার্ট প্লে করি। আমার পার্ট হল পতিতদের পবিত্র করা। আমি হলাম জ্ঞানের সাগর। আত্মা রূপী সন্তান জন্ম নেয়, কেউ ভালো কেউ খারাপও হয়। আশ্চর্যবৎ (জ্ঞান) শোনে, অন্যকেও শোনায়, তারপরে ভাগন্তি হয়ে যায়। অহো মায়া, তুমি কতই না প্রবল। তবুও বাবা বলেন পালিয়ে কোথায় যাবে? এই এক বাবা-ই হলেন উদ্ধারকারী । একমাত্র বাবা-ই হলেন সদগতি দাতা, বাকি এই জ্ঞান তো আর কেউ জানে না। যারা কল্প পূর্বে মেনেছে, তারাই মানবে। এই জ্ঞানে নিজের চালচলন শোধরাতে হয়, সার্ভিস করতে হয়। অনেকের কল্যাণ করতে হয়। অনেককে পথ বলে দিতে হয়। খুব মিষ্টি মধুর ভাবে বোঝাতে হয় যে তোমরা ভারতবাসীরা বিশ্বের মালিক ছিলে। এখন আবার তোমরা এইভাবে নিজের রাজ্য প্রাপ্ত করতে পারো। এই কথা তো তোমরা বোঝো বাবা যেরকম বোঝান, সেরকম আর কেউ বোঝাতে পারেনা, তারপরেও চলতে চলতে মায়ার কাছে পরাজিত হয়। বাবা নিজে বলেন বিকার গুলি জয় করলে তোমরা জগৎজিত হবে। এই দেবতারা জগৎজিত হয়েছেন। তাঁরা অবশ্যই এমন কর্ম করেছেন। বাবা কর্মের গতি বলে দিয়েছেন। রাবণের রাজ্যে কর্ম বিকর্ম-ই হয়, রাম রাজ্যে কর্ম অকর্ম হয়। মুখ্য কথা হল কাম বিকারকে জয় করে জগৎজিত হওয়ার। বাবাকে স্মরণ করো, এখন ফিরে যেতে হবে। আমাদের হানড্রেট পার্সেন্ট নিশ্চয় আছে যে আমরা নিজের রাজ্য প্রাপ্ত করবই। কিন্তু এখানে রাজত্ব করব না। এখানে রাজ্য প্রাপ্ত করব। রাজত্ব করব অমরলোকে গিয়ে । এখন আমরা মৃত্যুলোক এবং অমরলোকের মধ্য-স্থলে আছি, এই কথাও বিস্মৃত হয় তাই ক্ষণে ক্ষণে বাবা মনে করিয়ে দেন। এখন আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, আমরা রাজধানীতে যাব। এই পুরানো রাজধানী অবশ্যই শেষ হবে। এখন নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার জন্যে দৈবী গুণ অবশ্যই ধারণ করতে হবে। নিজের সঙ্গে কথা বলতে হবে। নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে, কারণ এখন আমাদের ফিরে যেতে হবে। অতএব এখনই নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে অন্য কোনো সময়ে ফিরে যেতে হবেনা যে এই জ্ঞান প্রাপ্ত হবে। সেখানে ৫ বিকার থাকবে না যে আমাদের যোগ করতে হবে। এই সময় যোগযুক্ত হতে হয় পবিত্র হওয়ার জন্য। সেখানে তো সবাই উত্তম। তারপরে ধীরে ধীরে কলা বা কোয়ালিটি কম হতে থাকে। এই কথা তো খুবই সহজ, ক্রোধ কাউকে তো দুঃখ দেয় তাইনা। মুখ্য হলো দেহ-অভিমান। সেখানে তো দেহ-অভিমান হয়ই না। আত্ম-অভিমান হলে ক্রিমিনাল আই থাকে না। সিভিল আই (পবিত্র দৃষ্টি) হয়। রাবণ রাজ্যে ক্রিমিনাল আই হয়ে যায়। তোমরা জানো আমরা নিজেদের রাজ্যে খুব সুখে থাকি। কাম নেই ক্রোধ নেই, এই বিষয়ে শুরুতে গীতও তৈরি হয়েছে। সেখানে এইসব বিকার থাকে না। অনেক বার আমাদের এই হার ও জিত হয়েছে। সত্যযুগ থেকে কলিযুগ পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে সেসব পুনরায় রিপিট হবে। পিতা বা শিক্ষকের কাছে যে জ্ঞান আছে সেসব তোমাদের প্রদান করেন। এই আধ্যাত্মিক টিচার হলেন ওয়ান্ডারফুল। সর্বোচ্চ হলেন ভগবান, তিনি হলেন সর্বোচ্চ শিক্ষক এবং আমাদেরও উঁচু থেকে উঁচু দেবতায় পরিণত করেন। তোমরা নিজেরাই দেখছ - বাবা কিভাবে দৈবী রাজ্য স্থাপন করছেন। তোমরা নিজেরা দেবতায় পরিণত হচ্ছ। এখন তো সবাই নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেয়। তাদেরও বোঝানো হয় যে বাস্তবে হল আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম, অন্য সব ধর্ম এগিয়ে চলতে থাকে। এই একমাত্র দেবী-দেবতা ধর্ম যা প্রায় লুপ্ত হয়ে যায়। এই ধর্ম হল খুব পবিত্র ধর্ম। এর মতন পবিত্র ধর্ম হয় না। পবিত্র না হওয়ার কারণে কেউ নিজেকে দেবতা বলতে পারে না। তোমরা বোঝাতে পারো যে আমরা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের ছিলাম, তাই তো দেবতাদের পূজো করি। খ্রাইস্টকে যারা পূজা করে, তারা হল খ্রিস্টান, বুদ্ধকে যারা পূজা করে তারা হলো বৌদ্ধ, দেবতাদের যারা পূজা করে তারা হল দেবতা। তাহলে নিজেদের হিন্দু বলে কেন ? যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে। কিন্তু যদি বলো হিন্দু ধর্ম কোনও ধর্ম নয়, তাহলে তারা রুষ্ট হবে। বলো, হিন্দু আদি সনাতন ধর্মের ছিল তখন অন্তত এটুকু বুঝবে যে, আদি সনাতন ধর্ম তো কোনো হিন্দু ধর্ম নয়। আদি সনাতন শব্দটি ঠিক। দেবতারা পবিত্র ছিলেন, এরা অপবিত্র, তাই নিজেকে দেবতা বলতে পারে না। কল্প-কল্প এমন হয়েছে, এদের রাজ্যে অনেক বিত্তবান ছিল। এখন তো কাঙাল হয়েছে। তারা পদ্মপতি ছিল। বাবা খুব ভালো যুক্তি দেন। প্রশ্ন করা হয় সত্যযুগে বাস কর নাকি কলিযুগে ? কলিযুগের নিবাসী হলে নিশ্চয়ই নরকে বাস করছ। সত্যযুগের নিবাসী তো স্বর্গবাসী দেবতা হবে। এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে বুঝবে যে প্রশ্নকর্তা নিজে নিশ্চয়ই ট্রান্সফার করে দেবতায় পরিণত করতে পারেন। আর কেউ তো এমন প্রশ্ন করে না। ভক্তিমার্গ হল একেবারেই আলাদা। ভক্তির ফল কি ? ফল হল জ্ঞান। সত্যযুগ - ত্রেতায় ভক্তি হয় না। জ্ঞানের দ্বারা অর্ধকল্প দিন, ভক্তির দ্বারা অর্ধকল্প রাত। যে মানতে রাজি হবে সে মানবে। যে রাজি হবেনা সে জ্ঞান ও ভক্তি দুই-ই মানবে না। শুধু ধন উপার্জন করতে জানবে।

তোমরা বাচ্চারা তো যোগবলের দ্বারা এখন রাজত্ব স্থাপন করছ শ্রীমৎ অনুসারে। তারপরে অর্ধকল্প পার করে রাজ্য হারাও। এই চক্র চলতেই থাকে। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) অনেকের কল্যাণ করার জন্য নিজের ভাষা অত্যন্ত মধুর বানাতে হবে। মধুর ভাষী সার্ভিস করতে হবে। সহনশীল হতে হবে।

২ ) কর্মের গুহ্য গতিকে বুঝে বিকারকে পরাজিত করতে হবে। জগৎজিত দেবতা হতে হবে। আত্ম-অভিমানী হয়ে ক্রিমিনাল দৃষ্টিকে সিভিল বানাতে হবে।

বরদান:-
শ্রেষ্ঠ কর্মের দ্বারা দিব্যগুণ রূপী প্রভু প্রসাদ বিতরণকারী ফরিস্তা তথা দেবতা ভব

বর্তমান সময়ে অজ্ঞানী আত্মা হোক অথবা ব্রাহ্মণ আত্মা - সকলকেই গুণদান করার প্রয়োজন আছে। তো এখন এই বিধিকে নিজের মধ্যে বা ব্রাহ্মণ পরিবারে তীব্র বানাও। এই দিব্যগুণ হলো সবথেকে শ্রেষ্ঠ মধুর প্রসাদ, এই প্রসাদ বহুল পরিমাণে বিতরণ করো। যেরকম স্নেহের লক্ষণ হলো একে অপরকে টোলি খাওয়ানো সেইরকম দিব্য গুণের টোলি খাওয়াও, তাহলে এই বিধির দ্বারা ফরিস্তা তথা দেবতা হওয়ার লক্ষ্য সহজেই সকলের মধ্যে প্রত্যক্ষ দেখা যাবে।

স্লোগান:-
যোগরূপী কবচকে পরিধান করে থাকো তাহলে মায়ারূপী শত্রু আক্রমণ করতে পারবে না।