11-02-2024 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 24-02-98 মধুবন


বাবার সাথে, সেবার সাথে আর পরিবারের সাথে ভালোবাসা রাখো তাহলে পরিশ্রম করা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে


আজ চারিদিকের বাচ্চারা নিজেদের বাবার জয়ন্তী পালন করতে এসেছে। কেউ সম্মুখে বসে আছে, আবার কেউ আকারী রূপে বাবার সামনে আছে। বাবা সকল বাচ্চাদেরকে দেখছেন - একদিকে মিলন মানানোর খুশী, অন্যদিকে সেবার উৎসাহ- উদ্দীপনা এটাই যে, যত শীঘ্র সম্ভব বাপদাদাকে প্রত্যক্ষ করাবো। বাপদাদা চারিদিকের বাচ্চাদেরকে দেখে অসংখ্য কোটি কোটি (অরব-খরব) গুণ অভিনন্দন জানাচ্ছেন। যেরকম বাচ্চারা বাবার জয়ন্তী পালন করার জন্য পৃথিবীর নানান প্রান্ত থেকে, দূর-দূর থেকে এসেছে, বাপদাদাও বাচ্চাদের জন্মদিন পালন করতে এসেছেন। সবথেকে দূরদেশবাসী কে? বাবা নাকি তোমরা? তোমরা বলবে - আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি কিন্তু বাবা বলছেন আমি তোমাদের থেকেও দূর দেশ থেকে এসেছি। কিন্তু তোমাদের সময় লাগে, বাবার আসতে সময় লাগে না। তোমাদের সবাইকে প্লেন বা ট্রেন নিতে হয়, বাবাকে কেবল রথ নিতে হয়। তো এমন নয় যে কেবল তোমরা বাবার জয়ন্তী পালন করতে এসেছো, বাবাও আদি সাথী ব্রাহ্মণ আত্মাদের, জন্মের সাথী বাচ্চাদের বার্থ ডে পালন করতে এসেছেন কেননা বাবা একা অবতীর্ণ হন না, ব্রহ্মা ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের সাথে দিব্য জন্ম নেন অর্থাৎ অবতীর্ণ হন। ব্রাহ্মণ ছাড়া যজ্ঞের রচনা একা বাবা করতে পারবেন না। তো প্রথমে যজ্ঞ রচনা করেন, ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণ রচনা করেন তারপর তোমাদের জন্ম হয়। তো কেউ দুই বছরের বা কেউ দুই মাসের কিন্তু তোমাদের সকলকেই দিব্য ব্রাহ্মণ জন্মের অভিনন্দন জানাই। তোমাদের এই দিব্য জন্ম কতোই না শ্রেষ্ঠ। বাবাও প্রত্যেক দিব্য জন্মধারী ব্রাহ্মণ আত্মাদের ভাগ্যের নক্ষত্র ঝলমল করতে দেখে প্রফুল্লিত হচ্ছেন। আর সর্বদা এই গীত গাইতে থাকেন - বাঃ হিরে তুল্য জীবন যাপনকারী ব্রাহ্মণ বাচ্চা বাঃ। তোমরা বাঃ বাঃ বাচ্চা, তাই না? বাবা তোমাদেরকে বাঃ বাঃ বাচ্চা বানিয়ে দিয়েছেন। এই অলৌকিক জন্ম বাবারও পৃথক তো বাচ্চারা, তোমাদের কাছেও পৃথক এবং প্রিয়। ইনিই একমাত্র বাবা যাঁর এইরকম জন্ম বা জয়ন্তী হয়, এইরকম জন্মদিন না কারোর হয়েছে আর না কারো হবে। নিরাকার, আবার তাঁর দিব্য জন্ম; অন্যান্য সকল আত্মাদের জন্ম নিজের নিজের সাকার শরীরে হয় কিন্তু নিরাকার বাবার জন্ম পরকায়ায় প্রবেশের দ্বারা হয়। সমগ্র কল্পে এইরকম এই বিধিতে কারোর জন্ম হয়েছে? এক বাবারই এইরকম পৃথক জন্মদিন হয় যাকে শিব জয়ন্তী রূপে ভক্ত আত্মারাও পালন করে। এইজন্য এই দিব্য জন্মের মহত্বকে তোমরা জানো, ভক্তরাও জানে না কিন্তু যাকিছু শুনেছে সেই অনুসারে উঁচুর থেকেও উঁচু মনে করে পালন করে এসেছে। তোমরা বাচ্চারা কেবল পালন-ই করো না, পালন করার সাথে সাথে নিজেকেও বাবার সমান তৈরী করো। অলৌকিক দিব্য জন্মের মহত্বকে জেনে গেছো। আর কোনও বাবার সাথে বাচ্চাদের একসাথে জন্ম হয় না কিন্তু শিব জয়ন্তী অর্থাৎ বাবার দিব্য জন্মের সাথে বাচ্চাদেরও জন্ম হয়, এইজন্য ডায়মন্ড জুবিলী পালন করেছো তাই না। তাহলে বাবার সাথে বাচ্চাদেরও দিব্য জন্ম হয়। কেবল এই জয়ন্তীকেই হিরেতুল্য জয়ন্তী বলে থাকো কিন্তু হিরেতুল্য জয়ন্তী পালন করতে করতে নিজেরাও হিরে তুল্য জীবনে এসে যাও। এই রহস্যকে সকল বাচ্চারা ভালো ভাবে জানেও এবং অন্যদেরকেও শোনাতে থাকে। বাপদাদা সমাচার শুনতে থাকেন, দেখতেও থাকেন যে বাচ্চারা বাবার দিব্য জন্মের মহত্বকে কতটা উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পালন করছে। বাপদাদা চারিদিকের সেবাধারী বাচ্চাদেরকে সাহসের রিটার্নে সহায়তা করতে থাকেন। বাচ্চাদের সাহস আর বাবার সহায়তা।

আজকাল বাপদাদার কাছে সকল বাচ্চাদের একটাই স্নেহের সংকল্প বারংবার আসছে যে এখন যত শীঘ্র সম্ভব বাবার সমান হতেই হবে। বাবাও বলছেন মিষ্টি বাচ্চারা হতেই হবে। প্রত্যেকের এই দৃঢ় সংকল্প আছে তা সত্ত্বেও আন্ডার লাইন করে দাও যে আমরা হবো না তো আর কে হবে! আমরাই ছিলাম, আমরাই আছি আর আমরাই প্রত্যেক কল্পে হতে থাকবো। এটা পাক্কা নিশ্চয় আছে তাই না?

ডবল বিদেশীরাও শিব জয়ন্তী পালন করতে এসেছে? খুব ভালো, হাত তোলো ডবল বিদেশী। বাপদাদা দেখছেন যে ডবল বিদেশীদের মধ্যেও সবথেকে বেশী এই উৎসাহ উদ্দীপনা আছে যে বিশ্বের কোনও কোণা যেন বঞ্চিত না থেকে যায়। ভারতের তো অনেক বেশী সময় সেবার জন্য প্রাপ্ত হয়েছে আর ভারতও গ্রামে গ্রামে সন্দেশ পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু ডবল বিদেশীদেরকে ভারতের তুলনায় সেবার সময় কম প্রাপ্ত হয়েছে। তথাপি উৎসাহ উদ্দীপনার কারণে বাপদাদার সামনে সেবার প্রমাণ খুব ভালো নিয়ে এসেছে আর ভবিষ্যতেও নিয়ে আসবে। ভারতে বর্তমান সময়ে যে বর্গীকরণের সেবা আরম্ভ হয়েছে, তার কারণেও সকল বর্গে সন্দেশ প্রাপ্ত হওয়া সহজ হয়ে গেছে কেননা প্রত্যেক বর্গ নিজের বর্গে এগিয়ে যেতে চায় তো এই বর্গীকরণের ইন্ভেনশন (আবিষ্কার) খুব ভালো হয়েছে। এর দ্বারা ভারতের সেবাতেও বিশেষ আত্মাদের আসা ভালো শোভনীয় লাগে। ভালো লাগে তাই না! বর্গীকরণের সেবা ভালো লাগে? বিদেশীরাও নিজেদের ভালো ভালো গ্রুপ নিয়ে আসে, রিট্রিট করায়, পদ্ধতি খুব ভালো করেছো। যেরকম বর্গীকরণের সেবাতে চান্স প্রাপ্ত হয়েছে, সেইরকমই এদের এই বিধিও খুব ভালো। বাপদাদার দুইদিকের সেবাই খুব পছন্দ হয়েছে, ভালো হয়েছে।

জগদীশ বাচ্চাও ভালো ইন্ভেনশন বের করেছে আর বিদেশে এই রিট্রীট, ডায়লগ কে শুরু করেছে? (সবাই মিলেমিশে করেছে) ভারতেও মিলেমিশেই সবাই করেছে তথাপি (জগদীশ বাচ্চা) নিমিত্ত ছিল। ভালো হয়েছে প্রত্যেককে নিজেদের সমবয়সীদের সংগঠনে ভালো লাগে। তো দুই রকমের সেবাতে অনেক আত্মাদেরকে সম্মুখে নিয়ে আসার চান্স প্রাপ্ত হয়। রেজাল্ট ভালো লাগে তাই না? রিট্রীটের রেজাল্ট ভালো হয়েছে? আর বর্গীকরণের রেজাল্ট ভালো হয়েছে, দেশ-বিদেশের কোনো না কোনাে নতুন ইন্ভেনশন করে চলেছে আর করতেও থাকবে। ভারত হোক বা বিদেশ, সেবার উৎসাহ খুব ভালো। বাপদাদা দেখছেন যারা সত্যিকারের হৃদয় থেকে নিঃস্বার্থ সেবাতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের খাতাতে পুণ্যের খাতা খুব ভালো জমা হচ্ছে। কোনো কোনো বাচ্চাদের এক হলো নিজের পুরুষার্থের প্রালব্ধের খাতা, দ্বিতীয় হলো সন্তুষ্ট থেকে অন্যদেরকেও সন্তুষ্ট করার দ্বারা প্রাপ্ত হওয়া আশীর্বাদের খাতা আর তৃতীয় হলো যথার্থ যোগযুক্ত, যুক্তিযুক্ত সেবার রিটার্নে পুণ্যের খাতা জমা হওয়া। এই তিনপ্রকারের খাতা বাপদাদা প্রত্যেকেরই দেখছিলেন। যদি কারো তিনটি খাতাই জমা হয় তো তার লক্ষণ হল - সে সর্বদা সহজ পুরুষার্থী নিজেও অনুভব করে আর অন্যদেরকেও সেই আত্মার দ্বারা সহজ পুরুষার্থের স্বতঃই প্রেরণা প্রাপ্ত হয়। সেটা হল সহজ পুরুষার্থের সিম্বল্। পরিশ্রম করতে হয় না, বাবার সাথে, সেবার সাথে আর সমগ্র পরিবারের সাথে ভালোবাসা থাকলে এই তিন প্রকারের ভালোবাসা পরিশ্রম করা থেকে মুক্ত করে দেয়।

বাপদাদা সকল বাচ্চাদের থেকে এই শ্রেষ্ঠ আশা রাখেন যে সকল বাচ্চারা যেন সদা সহজ পুরুষার্থী থাকে। ৬৩ জন্ম ভক্তিতে, নানান বিভ্রান্তির মধ্যে উদ্ভ্রান্ত হওয়ার পরিশ্রম করেছো, এখন এই একটাই জন্ম হলো পরিশ্রম থেকে মুক্ত হওয়ার জন্ম। যদি অনেক সময় ধরে পরিশ্রম করে থাকো তাহলে এই সঙ্গমযুগের বরদান - ভালোবাসার দ্বারা সহজ পুরুষার্থী - কবে নেবে? যুগ সমাপ্ত, বরদানও সমাপ্ত। তো এই বরদানকে যত শীঘ্র সম্ভব নিয়ে নাও। যত বড়ই কাজ হোক, যত বড়ই সমস্যা আসুক কিন্তু প্রত্যেক কাজ, প্রত্যেক সমস্যা এমন ভাবে অতিক্রম হবে যেরকম তোমরা বলে থাকো মাখন থেকে চুল টেনে বের করার মতো সহজেই হয়ে গেলো। বাপদাদা কোনও কোনও বাচ্চার একটু আধটু খেলা দেখেন, প্রফুল্লিতও হন আবার বাচ্চাদেরকে দেখে করুণাও আসে। যখন কোনও সমস্যা বা কোনও বড় কাজ সামনে আসে তখন কোনও কোনও বাচ্চাদের চেহারার উপরে একটু আধটু সমস্যা বা কাজের ঢেউ দেখা যায়। একটুখানি হলেও চেহারায় পরিবর্তন দেখা যায়। তারপর যদি কেউ জিজ্ঞেস করে যে কি হয়েছে? তখন বলে - অনেক বড় কাজ তাই না! বিঘ্ন বিনাশকের সামনে বিঘ্নই যদি না আসে তাহলে বিঘ্ন বিনাশকের টাইটেল কিভাবে গাওয়া হবে? একটুখানিও যেন চেহারার উপর ক্লান্তি বা মুড পরিবর্তনের চিহ্ন না আসে। কেন? তোমাদের যে জড় চিত্র অর্ধেক কল্প ধরে পূজিত হয় তাতে কখনও একটুখানিও ক্লান্তি বা মুড পরিবর্তনের চিহ্ন দেখা যায় কী? যখন তোমাদের জড় চিত্র সদা হাসিমুখে থাকে তো সেটা কার চিত্র?তোমাদেরই তো না? তো চৈতন্যদেরই স্মরণিক চিত্র এইজন্য একটুখানিও ক্লান্তি বা যাকে বলা হয় বিরক্তভাব, সেটা যেন না আসে। সর্বদা হাসি খুশী চেহারা বাপদাদার আর সকলের পছন্দ হয়। যদি কেউ বিরক্ত হয় তাহলে কি তার কাছে তোমরা যাবে? চিন্তা করবে - এখন বলবো কি বলবো না। তো তোমাদের জড় চিত্রের সামনে তো ভক্তবৃন্দ অনেক উৎসাহের সাথে আসে আর চৈতন্যে কেউ ভারী হয়ে যায় তো ভালো লাগবে? এখন বাপদাদা সকল বাচ্চাদের চেহারার উপর সদা ফরিস্তা রূপ, বরদানী রূপ, দাতারূপ, করুণাময়, অক্লান্ত, সহজযোগী বা সহজ পুরুষার্থীর রূপ দেখতে চাইছেন। এমন বলবে না যে পরিস্থিতিই এরকম ছিল, না। যেরকমই পরিস্থিতি হোক কিন্তু তোমাদের রূপে - হাসিমুখ, শীতল, গম্ভীর আর রমণীয়তার ব্যালেন্স থাকবে। যদি কেউ হঠাৎ করে চলে আসে আর তোমরা সমস্যার কারণে সহজ পুরুষার্থী রূপে না থাকো তাহলে সে কি দেখবে? তোমাদের চিত্র তো তারাই নিয়ে যাবে। যেকোনো সময়, যদি কেউ তোমাদের কারোর, যদি এক মাসের হোক বা দুই মাসের, হঠাৎ করেই তোমাদের ফেস এর চিত্র ক্যামেরাবন্দী করে তাহলে এমনই চিত্র যেন হয় যেটা শুনিয়েছি। দাতা হও। গ্রহীতা নয়, দাতা। কেউ যা কিছু দিক, ভালো জিনিস বা খারাপও যদি দেয় কিন্তু তোমরা বড় থেকে বড় বাবার বাচ্চারা বড় হৃদয়বান, যদি কেউ খারাপও দেয় তো বৃহৎ হৃদয়বান হয়ে খারাপকে নিজের মধ্যে স্বীকার না করে দাতা হয়ে তোমরা তাকে সহযোগ দাও, স্নেহ দাও, শক্তি দাও। তোমাদের স্থিতির দ্বারা কোনো না কোনো গুণ তাদেরকে গিফ্ট করো। এত বড় হৃদয়বান বড়'র থেকেও বড় বাবার বাচ্চা তোমরা। দয়া করো। হৃদয় থেকে সেই আত্মাদের প্রতি আরও এক্সট্রা স্নেহ ইমার্জ করো। যে স্নেহের শক্তির দ্বারা সে নিজেই পরিবর্তন হয়ে যায়। এইরকম বড় হৃদয়বান হয়েছো নাকি ছোট হৃদয়? অন্তর্লীন করার শক্তি আছে? নিজের অন্তরে লীন (সমাহিত) করে নাও। সাগরে কতো নোংরা আবর্জনা পরিত্যাগ করে কিন্তু যারা ফেলছে সাগর কখনো তাদেরকে আবর্জনার পরিবর্তে আবর্জনা দেয় না। তোমরা তো হলে জ্ঞানের সাগর, শক্তির সাগরের সন্তান, মাস্টার।

তো শুনেছো বাপদাদা কি দেখতে চাইছেন? মেজরিটি বাচ্চারা লক্ষ্য রেখেছে যে এই বছরে পরিবর্তন করতেই হবে। করবো, শুধু ভাববো না, করতেই হবে। করতেই হবে নাকি সেখানে গিয়ে চিন্তা করবে? যারা মনে করছো - করতেই হবে তারা এক হাত দিয়ে তালি বাজাও। (সবাই হাত নাড়ায়) খুব ভালো। কেবল এই হাত তুলো না, মন থেকে দৃঢ় সংকল্পের হাত তোলো। এই হাত তোলা তো সহজ। মন থেকে দৃঢ় সংকল্পের হাত সর্বদা সফলতা স্বরূপ বানায়। যেটা চিন্তা করেছো সেটা হবেই হবে। পজিটিভ চিন্তা করবে। নেগেটিভ তো চিন্তাই করবে না। নেগেটিভ চিন্তা করার রাস্তা সদাকালের জন্য বন্ধ করে দাও । বন্ধ করতে জানো নাকি খুলে যায়? যেরকম এখন তুফান এলো আর দরজা নিজে থেকেই খুলে গেলো, এইরকম তো হয় না? তোমরা মনে করছো বন্ধ করে এসেছি আর তুফান খুলে দিল, এইরকম আলগা ভাবে বন্ধ করবে না। আচ্ছা।

ডবল বিদেশীদের উৎসব ভালো হয়েছে তাই না! (১০ বছরের থেকে অধিক সময় জ্ঞানে চলা প্রায় ৪০০ জন ডবল বিদেশী ভাই বোন-দের সম্মান-সমারোহ পালন করা হয়েছে) ভালো লেগেছে? যারা পালন করেছো আর ভালো লেগেছে তারা হাত তোলো। পান্ডবও আছে। এর মহত্ব কী? পালন করার মহত্ব কী? পালন করা অর্থাৎ সেইরূপ হওয়া। সদা এইরকম মুকুটধারী, স্ব পুরুষার্থ আর সেবার দায়িত্ব কি বলা যায়, আনন্দই বলা যায়, সেবা করার আনন্দ উৎযাপনের মুকুট সর্বদাই পরে থাকবে। আর গোল্ডেন ওড়না-ও সকলে পরেছিলে! তো গোল্ডেন ওড়না কি জন্য পরানো হয়েছিল? সদা গোল্ডেন এজেড্ স্থিতি, সিল্ভার নয়, গোল্ডেন। আবার দু-দুটো হারও পরেছিলে। তো কিসের প্রতীক হিসেবে দুই হার পরবে? এক তো হলো সদা বাবার গলার হার। সদা কখনও গলা থেকে খুলে ফেলবে না, গলাতেই পরে থাকবে আর দ্বিতীয় হলো সদা সেবার দ্বারা অন্যদেরকেও বাবার গলার হার বানানো, এটাই হলো ডবল হার। তো খুব ভালো লাগলো - যারা পালন করেছিল আর যারা সেজেছিল দুজনকেই। তো এই উৎসব পালন করার, সদাকালের জন্য এই উৎসবের রহস্য বাবা বলেছেন। আর সাথে সাথে এটাও পালন করা অর্থাৎ উৎসাহ উদ্দীপনা বৃদ্ধি করা। সকলের অনুভব তো বাপদাদা দেখে নিয়েছেন। ভালো অনুভব হয়েছে। আর নেশা সকলের চেহারাতে প্রদর্শিত হচ্ছিল। ব্যস্ এইরকমই নিজের শক্তিশালী, হর্ষিতমুখ রমণীয় আর গম্ভীর স্বরূপ সদা ইমার্জ করে রাখো। কেননা বর্তমান সময়ের অবস্থা অনুসারে বেশী শোনার বা বোঝার লোক কম, দেখে অনুভব করার লোক বেশী। তোমাদের মুখমন্ডলে বাবার পরিচয়, শোনানোর পরিবর্তে দেখা যাবে। তো ভালো করেছো। বাপদাদাও দেখে দেখে প্রফুল্লিত হচ্ছেন। এই বর্ষকে বা এই সিজনকে বিশেষ উৎসবে সিজন্ হিসেবে পালন করেছো। সব সময় একইরকম হয় না।

(ড্রিল) সকলের মধ্যে রুলিং পাওয়ার আছে? কর্মেন্দ্রিয়ের উপরে যখন চাও তখন রুল করতে পারো? স্ব-রাজ্য অধিকারী হয়েছো? যে স্বরাজ্য অধিকারী থাকবে সে-ই বিশ্বের রাজ্য অধিকারী হবে। যখন চাও, যেরকমই বাতাবরণ হোক কিন্তু যদি মন বুদ্ধিকে অর্ডার দাও স্টপ্, তো হতে পারে নাকি টাইম লাগে? এই অভ্যাস প্রত্যেককে সারাদিনে মাঝে-মধ্যে করা অত্যন্ত আবশ্যক। আর চেষ্টা করবে যে সময় মন-বুদ্ধি খুব ব্যস্ত, এইরকম সময় যদি এক সেকেন্ডের জন্য স্টপ্ করতে চাও তো হতে পারে? তো চিন্তা করছো স্টপ আর স্টপ হতে ৩ মিনিট, ৫ মিনিট লেগে গেলো। এই অভ্যাস অন্তিম সময়ে খুব কাজে আসবে। এর আধারেই পাশ উইথ অনার হতে পারবে। আচ্ছা।

সদা হৃদয়ের উৎসাহ উদ্দীপনার উৎসব পালনকারী স্নেহী আত্মারা, সদা হিরে তুল্য জীবনের অনুভাবী, অনুভবের অথরিটি যুক্ত বিশেষ আত্মারা, সদা নিজের মুখ-মন্ডলের দ্বারা বাবার পরিচয় দিয়ে বাবাকে প্রত্যক্ষ করানো সেবাধারী আত্মারা, সদা গম্ভীর আর রমণীয় দুটোরই একসাথে সমতা বজায় রাখা সকলের ব্লেসিং-এর অধিকারী আত্মারা, এইরকম চারিদিকের দেশ-বিদেশের বাচ্চাদেরকে শিবরাত্রীর অভিনন্দন, অভিনন্দন। তার সাথে-সাথে বাপদাদার দিলারামের হৃদরের অন্তরের গভীর থেকে গভীরের প্রেম তথা স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার।

বরদান:-
নিজের রাজ্য অধিকারী বা পূজ্য স্বরূপের স্মৃতির দ্বারা দাতা হয়ে প্রদানকারী সর্ব খাজানাতে সম্পন্ন ভব

সদা এই স্মৃতিতে থাকো যে আমি হলাম পূজ্য আত্মা অন্যদেরকে প্রদানকারী দাতা, গ্রহীতা নই, দেবতা। যেরকম বাবা তোমাদের সবাইকে নিজে থেকেই দিয়েছেন সেইরকম তোমরাও মাস্টার দাতা হয়ে দিতে থাকো, কিছু চাইবে না। নিজের রাজ্য অধিকারী বা পূজ্য স্বরূপের স্মৃতিতে থাকো। আজ পর্যন্ত তোমাদের জড় চিত্রের সামনে গিয়ে তারা প্রার্থণা করে, বলে যে আমাদেরকে বাঁচাও। তো তোমরা হলে রক্ষাকর্তা, বাঁচাও-বাঁচাও বলা আত্মা নও। কিন্তু দাতা হওয়ার জন্য স্মরণের দ্বারা, সেবার দ্বারা, শুভ ভাবনা, শুভ কামনার দ্বারা সর্ব খাজানাতে সম্পন্ন হও।

স্লোগান:-
চলন আর চেহারার প্রসন্নতাই হলো আত্মিক পার্সোনালিটির লক্ষণ।