12.02.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা- তোমাদের মোহের তার এখন ছিন্ন হয়ে যাওয়া চাই, কারণ এই সমগ্র দুনিয়ার বিনাশ হয়ে যাবে, এই পুরানো দুনিয়ার কোনো জিনিসেই যেন রুচি না থাকে"

প্রশ্নঃ -
যে বাচ্চারা আধ্যাত্মিক (রুহানী) নেশায় আপ্লুত থাকে, তাদের টাইটেল কি হবে? কোন্ বাচ্চাদের এই নেশা চড়ে?

উত্তরঃ  
আধ্যাত্মিক নেশায় থাকা বাচ্চাদের বলা হয় - 'মস্ত কলন্দর' (রুহানী নেশায় মত্ত ফকির), সে-ই ময়ুর মুকুটধারী (কলংঙ্গীধর) হয়ে যায় । আধ্যাত্মিক নেশায় বুঁদ তারাই থাকবে, যারা রুদ্র মালায় গাঁথা পড়বে। নেশা সেই বাচ্চাদেরই থাকবে, যাদের দৃঢ় বিশ্বাস থাকবে যে এখন আমাদের প্রকৃত গৃহে ফিরতে হবে। তারপর আবার নতুন দুনিয়াতে আসতে হবে।

ওম্ শান্তি ।
আত্মাদের (রুহানী) পিতা আত্মা রূপী (রুহানী) বাচ্চাদের সাথে অন্তরঙ্গ বার্তালাপ করছেন। একে বলা হয়ে থাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান আত্মাদের প্রতি । আত্মা হলো জ্ঞানের সাগর। মানুষ কখনো জ্ঞানের সাগর হতে পারে না। মানুষ হলো ভক্তির সাগর। মানুষ তো সবাই । যে ব্রহ্মা বৎস ব্রাহ্মণ হয়, সে জ্ঞান-সাগরের থেকে জ্ঞান নিয়ে মাষ্টার জ্ঞান সাগর হয়ে যায়। তারপর দেবতাদের না ভক্তি থাকে, না জ্ঞান থাকে। দেবতারা এই জ্ঞান জানে না। জ্ঞানের সাগর হলেন একজনই - পরমপিতা পরমাত্মা, সেইজন্য ওঁনাকেই হীরের মতো বলা হবে। উনিই এসে কড়ির থেকে হীরা, পাথর সম বুদ্ধি থেকে দৈবী বুদ্ধির(পারস বুদ্ধি) বানান । মানুষের কিছুই জানা নেই। দেবতারাই আবার এসে মানুষে পরিণত হয়। দেবতা হয় শ্রীমতের দ্বারা। অর্ধ-কল্প সেখানে (সত্যযুগে) কারোরই মত এর দরকার নেই। এখানে তো অনেক গুরুর মত নিতে থাকে। এখন বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন যে তোমরা সদ্গুরুর থেকে শ্রীমৎ প্রাপ্ত করো। শিখরা বলে সদ্গুরু অকাল বা মৃত্যুঞ্জয়। এর অর্থও জানে না। ডাকও দেয়, সদ্গুরু অকালমূর্ত অর্থাৎ সদ্গতি করেন যিনি, তিনি অকালমূর্তি (কাল বা মৃত্যু যাকে নিতে পারে না)। অকালমূর্ত পরমপিতা পরমাত্মাকেই বলা হয়। সদ্গুরু আর গুরুর মধ্যেও রাত দিনের পার্থক্য। তাই একে ব্রহ্মার দিন আর রাত বলে দেয়। ব্রহ্মার দিন, ব্রহ্মার রাত, তো অবশ্যই বলা হবে, ব্রহ্মা পুনর্জন্ম নেন। যিনি ব্রহ্মা তিনিই বিষ্ণু হন। তোমরা শিববাবার মহিমা করো। ওঁনার হীরে তুল্য জন্ম।

এখন তোমরা বাচ্চারা গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পবিত্র হও।তোমাদের পবিত্র হয়ে আবার এই জ্ঞান ধারণ করতে হবে। কুমারীদের তো কোনো বন্ধন নেই। ওদের শুধুমাত্র মা-বাবা বা ভাই-বোনের স্মৃতি থাকে। আবার শ্বশুরবাড়ী গেলে দুটো পরিবার হয়ে যায়। এখন বাবা তোমাদের বলেন অশরীরী হয়ে যাও। এখন তোমাদের সবাইকে ফিরে যেতে হবে। তোমাদের পবিত্র হওয়ার যুক্তিও বলছি। একমাত্র আমিই হলাম পতিত-পাবন। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি যে তোমরা আমাকে স্মরণ করলে এই যোগ অগ্নির দ্বারা তোমাদের জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ভস্ম হয়ে যাবে। যেমন পুরানো সোনা আগুণে ফেললে তার থেকে খাদ বের হয়ে যায় আর সত্যিকারের সোনা থেকে যায়। এটাও হলো যোগ অগ্নি। এই সঙ্গমেই বাবা এখানে রাজযোগ শেখান, সেইজন্য ওঁনার অনেক মহিমা। রাজযোগ যা ভগবান শিখিয়েছিলেন সেটাই সবাই শিখতে চাইছে। বিদেশ থেকেও সন্ন্যাসীরা অনেককে নিয়ে আসে। ওরা ভাবে এরা সন্ন্যাস নিয়েছে। এখন তো তোমরাও সন্ন্যাসী। কিন্তু অসীম জগতের সন্ন্যাসকে কেউই জানে না। অসীম জগতের সন্ন্যাস তো একমাত্র বাবা-ই শেখান। তোমরা জানো এই পুরানো দুনিয়া শেষ হতে চলেছে। এই দুনিয়ার কোনো জিনিসের প্রতি আমাদের রুচি থাকে না। অমুকে শরীর ছেড়েছে, গিয়ে দ্বিতীয় শরীর নেয় ভূমিকা পালন করার জন্য, আমরা তবে কাঁদবো কেন ! মোহের তার ছিন্ন হয়ে যায়। আমাদের এখন নতুন দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। এইরকম বাচ্চারাই মস্ত কলঙ্গীধর (ময়ুর মুকুটধারী) হয়। তোমাদের মধ্যে রাজা হওয়ার নেশা রয়েছে। ব্রহ্মা বাবার মধ্যেও তো নেশা রয়েছে যে আমি সত্যযুগে গিয়ে ময়ুর মুকুটধারী (কলঙ্গীধর) হবো, ভিখারী থেকে ধনবান হবো। ভিতরে ভিতরে এই নেশা চড়তে থাকে। সেইজন্যই তো মস্ত কলন্দর (মস্ত ফকির/আধ্যাত্মিক নেশায় যিনি মত্ত) বলে। ব্রহ্মা বাবার তো সাক্ষাৎকারও হয়। যেমন ওনার নেশা চড়ে থাকে, তোমাদেরও তেমন নেশা চড়া চাই। তোমরাও রুদ্র মালাতে গাঁথা পড়বে । যাদের দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে যায়, তাদের নেশা চড়বে । আমাদের, অর্থাৎ আত্মাদের এখন ফিরতে হবে নিজ নিকেতনে । আবার নতুন দুনিয়াতে আসবো। এই দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে যারা ব্রহ্মা বাবাকে দেখবে, তারা শিশু কৃষ্ণকে দেখতে পাবে । কত সুন্দর সে । কৃষ্ণ তো এখানে থাকেই না। তাকে দর্শন করবার জন্য মানুষ কত উদ্বেল হতে থাকে । দোলনা বানায়, তাকে দুধ পান করায়। ওটা তো জড় চিত্র আর এ তো রিয়েল তাই না! এনারও এই অটল বিশ্বাস আছে যে আমি বালক হবো। তোমরা বাচ্চারাও দিব্য দৃষ্টিতে ছোট বাচ্চা দেখো। এই চোখে তো দেখতে পাবে না। আত্মার যখন দিব্য দৃষ্টি প্রাপ্ত হয় তখন শরীরের বোধ থাকে না। ঐ সময় নিজেকে মহারানী আর ওনাকে(কৃষ্ণকে) বাচ্চা মনে হবে। এই সাক্ষাৎকারও এই সময়ে অনেকেরই হয়ে থাকে। অনেকের সাদা পোশাক পরিহিতরও সাক্ষাৎকার হয়। তাকে আবার বলে তুমি এদের কাছে যাও, জ্ঞান নাও তবে এইরকম প্রিন্স হবে। এ তো যাদু হয়ে গেল, তাই না ! সওদাও তো খুব ভালো করেন তাই না! কড়ি নিয়ে হীরা-মুক্তো দেন। তোমরা হীরের মতো হও। তোমাদের শিববাবা হীরের মতো তৈরী করেন, সেইজন্য তিনি মহান। মানুষ না বোঝার জন্য যাদু- যাদু বলে দেয়। যারা আশ্চর্যবৎ ভাগন্তি হয়ে যায়, তারা গিয়ে উল্টো পাল্টা কথা বলতে থাকে । এইরকম ভাবে অনেকে ট্রেটর (বিশ্বাসঘাতক) হয়ে যায়। এইরকম ট্রেটর হলে উঁচু পদ পেতে পারে না। তাদের বিষয়েই বলা হয় গুরুর নিন্দক কোথাও স্থান পায় না। এখানে তো সত্যিকারের বাবা আছেন। এটাও তোমরা এখন বোঝো। মানুষ তো বলে দেয় তিনি যুগে-যুগে আসেন । আচ্ছা, যুগ হলো চারটি, তাহলে ২৪ অবতার কি ভাবে বলা যায়? আবার বলে, নুড়ি-পাথর, প্রতিটি কণায়- কণায় পরমাত্মা আছেন, তবে তো সবাই পরমাত্মা হয়ে গেল ! বাবা বলেন আমি কড়ি থেকে হীরে বানিয়ে থাকি, আমাকেই তারা নুড়ি-পাথরে ঠুকে দিয়েছে । সর্বব্যাপী হয়ে গেলে, সব কিছুতে থাকলে তবে তো কোনো ভ্যালু থাকল না। আমার কিরকম অপকার করে। বাবা বলেন এটাও ড্রামাতে স্থির হয়ে আছে। যখন এইরকম হয়ে যায় তখন বাবা আবার এসে উপকার করেন অর্থাৎ মানুষকে দেবতা বানান।

ওয়ার্ল্ড এর হিস্ট্রি- জিওগ্রাফি আবার রিপিট হয়। সত্যযুগে আবার এই লক্ষ্মী-নারায়ণই আসবে। ওখানে শুধু ভারতই থাকে। শুরুতে খুবই কম দেবতারা থাকে আবার ক্রমশঃ বৃদ্ধি পেতে পেতে পাঁচ হাজার বছরে কতো হয়ে গেল। এখন এই জ্ঞান আর কারোর বুদ্ধিতে নেই। বাকীটা হলো ভক্তি। দেবতাদের চিত্র দেখে দেবতাদের মহিমা গায় । এটা বুঝতে পারে না যে এরা চৈতন্য রূপে ছিল, কোথায় গেল তারা? চিত্রকে পূজা করে কিন্তু তারা গেল কোথায়? এই দেবতাদেরকেও তমোপ্রধান হয়ে আবার সতোপ্রধান হতে হবে। এটা কারও বুদ্ধিতেই দেয় না। এইরকম তমোপ্রধান বুদ্ধিকে আবার সতোপ্রধান করে তোলা বাবার-ই কাজ। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ পাস্টে হয়ে গেছে, সেইজন্য এদের মহিমা হয়। উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ হলো একমাত্র ভগবান। বাকী সবাই তো পুনর্জন্ম নিতে থাকে। উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ বাবা-ই সবাইকে মুক্তি-জীবনমুক্তি দিয়ে থাকেন। তিনি না এলে তো আরও-ই ওয়ার্থ নট এ পেনী (মূল্যহীন), তমোপ্রধান হয়ে যেত। যখন এরা রাজত্ব করত তখন ওয়ার্থ পাউন্ড (অতি মূল্যবান) ছিল। ওখানে (সত্যযুগে) কোনো পূজা ইত্যাদি করা হত না। পূজ্য দেবী-দেবতারাই পূজারী হয়ে গেছে, বাম মার্গে গিয়ে বিকারী হয়ে গেছে। এটা কারোরই জানা নেই যে এরাই একদিন সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিল। তোমাদের ব্রাহ্মণদের মধ্যেও এই কথা নম্বর ক্রম অনুযায়ী বুঝতে পারে। নিজেই সম্পূর্ণ বুঝতে পারে না তো অপরকে কি বোঝাবে? নাম হলো ব্রহ্মাকুমার - কুমারী, বোঝাতে না পারলে তো ক্ষতি হয়ে যাবে। এই জন্য বলা উচিত আমি বড় দিদিকে ডাকছি, তিনি আপনাকে বোঝাবেন। ভারতই হীরের মতো ছিল, এখন কড়ির মতো। বেগর (ভিখারী) ভারতকে মুকুটধারী কে বানাবে? লক্ষ্মী-নারায়ণ এখন কোথায়, হিসেব দাও? বলতে পারবে না। তারা হলো ভক্তির সাগর, সেই নেশাতেই মত্ত। তোমরা হলে জ্ঞান সাগর। ওরা তো শাস্ত্রকেই জ্ঞান মনে করে। বাবা বলেন শাস্ত্রতে আছে ভক্তির নিয়ম কানুন। তোমাদের মধ্যে যত জ্ঞানের শক্তি বাড়তে থাকবে, তোমরা ততই চুম্বকে পরিণত হবে। তখন সবাই আকৃষ্ট হবে, এখন হচ্ছে না । তবুও যার যতটা যোগ, যতটা শক্তি, সেই অনুসারেই বাবাকে স্মরণ করে । এমন নয় যে, সব সময়ই বাবাকে স্মরণ করছে । তবে তো এই শরীরও থাকবে না (কর্মাতীত হয়ে যাবে) । এখন তো অনেকেই ঈশ্বরীয় বার্তা দিতে হবে, পয়গম্বর (বার্তা বাহক) হতে হবে। তোমরা বাচ্চারাই পয়গম্বর হয়ে থাকো আর কেউ হয় না। খ্রাইস্ট প্রমুখরা এসে ধর্ম স্থাপন করে, ওদের পয়গম্বর বলা যায় না। সে শুধু খ্রীশ্চান ধর্ম স্থাপন করেছে আর কিছু করেনি। সে কারো শরীরে এসে ধর্ম স্থাপন করে, তারপর তার অনুসরণকারীরা আসে । এখন তো এই রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। পরবর্তী কালে তোমাদের সবকিছুর সাক্ষাৎকার হবে - আমরা কে কি হবো, এই এই বিকর্ম আমরা করেছি। সাক্ষাৎকার হতে দেরী হয় না। কাশী কলবট খেতো। একদম দাঁড়ানো অবস্থায় কুয়োতে ঝাঁপ দিত। এখন তো সরকার সেই কুঁয়ো বন্ধ করে দিয়েছে। তারা ভাবতো আমরা মুক্তি পাবো। বাবা বলেন মুক্তি তো কেউ পেতে পারে না। অল্প সময়ে যেমন সমস্ত জন্মের শাস্তি পেয়ে যাওয়া যায় আবার নতুন করে হিসাব নিকাশ শুরু হয়। ফিরে কেউই যেতে পারে না। কোথায় গিয়ে থাকবে? আত্মাদের বৃক্ষের শ্রেণীই নষ্ট হয়ে যাবে। আত্মারা নম্বর অনুযায়ী আসবে আবার যাবে। বাচ্চাদের সাক্ষাৎকার হলে তখন এই কল্প বৃক্ষের চিত্র ইত্যাদি তৈরী করে। ৮৪ জন্মের সমস্ত সৃষ্টি-চক্রের আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান তোমরা প্রাপ্ত করেছো। আবার তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুযায়ী জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। কেউ অনেক মার্কস পেয়ে পাশ করে কেউ কম। একশ' মার্কস তো কারোরই হয় না। ১০০ হয়ই বাবার। সেটা তো কেউ হতে পারে না। অল্প-অল্প পার্থক্য হয়ে যায়। একরকমও কেউ হতে পারে না। কত শত মানুষ, সবার ফিচার্স যার-যার নিজের মতো। আত্মারা সবাই হলো কতো ছোট বিন্দু। মানুষ কতো বড় বড়, কিন্তু আকৃতি একের সাথে অপরের মেলে না। যত আত্মারা আছে, ততটাই আবার হবে, তবে তো ওখানে (পরমধামে) ঘরে থাকবে। এও ড্রামাতে নিহিত রয়েছে । এতে সামান্যতমও ফারাক হতে পারে না। এক বার যে শুটিং হয়েছিল সেটাই আবার দেখতে পাওয়া যাবে । তোমরা বলবে ৫ হাজার বছর পূর্বেও আমরা এইরকম মিলিত হয়েছিলাম। এক সেকেন্ডও কম বেশী হতে পারে না, ড্রামা যে! যাদের এই রচয়িতা আর রচনার জ্ঞান বুদ্ধিতে আছে তাদের বলা হয় স্বদর্শন চক্রধারী। বাবার থেকেই এই নলেজ পাওয়া যায়। মানুষ, মানুষকে এই জ্ঞান দিতে পারে না। ভক্তি শেখায় মানুষ, জ্ঞান শেখায় একমাত্র বাবা। জ্ঞানের সাগর তো হলো একমাত্র বাবা। জ্ঞান সাগরের থেকে, জ্ঞান নদীর মাধ্যমে মুক্তি, জীবন-মুক্তি পাওয়া যায়। সে সব তো হল জলের নদী। জল তো সর্বত্র আছেই। জ্ঞান পাওয়াই যায় সঙ্গমে। জলের নদী সমূহ তো ভারতে বইতেই থাকে, বাকী তো এতো সব শহর সব শেষ হয়ে যাবে। কোনো খন্ডও পড়ে থাকবে না। বৃষ্টি তো পড়তে থাকবে । জল, সাগরের জলে গিয়ে পড়বে। কেবল এই ভারতই থাকবে।

এখন তোমাদের সব নলেজ প্রাপ্ত হয়েছে। এ হলো জ্ঞান, বাকী সব ভক্তি। হীরের মতো এক শিববাবাই আছেন, যার জন্ম জয়ন্তী পালিত হয়। লোকেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে শিববাবা কি করেছেন? উনি তো এসে পতিতকে পাবন করেন, আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান শোনান। তখন গাওয়া হয় জ্ঞান সূর্য প্রকাশিত হলো...। জ্ঞানের দ্বারা দিন, ভক্তির দ্বারা রাত হয়। এখন তোমরা জানো আমরা ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ করেছি।এখন বাবাকে স্মরণ করলে পবিত্র হবো। আবার শরীরও পবিত্র প্রাপ্ত হবে। তোমরা সবাই নম্বর ক্রম অনুযায়ী পবিত্র হও। কত সহজ কথা। মুখ্য কথা হলো স্মরণের। অনেকেই আছে যাদের নিজেকে আত্মা মনে করে বাবার স্মরণও আসে না। তবুও বাচ্চা হয়েছে যখন তখন স্বর্গে অবশ্যই যাবে। এই সময়ের পুরুষার্থ অনুসারেই রাজ্য স্থাপন হয়। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সর্বদা এই নেশাতে থাকতে হবে যে আমরা হলাম মাষ্টার জ্ঞান সাগর, নিজেদের মধ্যে জ্ঞানের শক্তি ভরে চুম্বক হতে হবে, ঈশ্বরীয় বার্তা বাহক হতে হবে।

২ ) এমন কোনো কাজ করবে না, যাতে সদ্গুরু বাবার নাম বদনাম হয়। যা কিছুই ঘটুক না কেন, কখনো কাঁদবে না।

বরদান:-
সত্যতার ফাউন্ডেশনের দ্বারা চলন আর চেহারার দ্বারা দিব্যতার অনুভূতি করানো সত্যবাদী ভব

দুনিয়াতে অনেক আত্মারা নিজেকে সত্যবাদী বলে থাকে বা মনে করে, কিন্তু সম্পূর্ণ সত্যতা পবিত্রতার আধারেই হয়। পবিত্রতা নেই তো সদা সত্য থাকতে পারবে না। সত্যতার ফাউন্ডেশন হলো পবিত্রতা আর সত্যতার প্র্যাক্টিক্যাল প্রমাণ হলো চেহারা আর চলনে দিব্যতা থাকবে। পবিত্রতার আধারের উপর সত্যতার স্বরূপ স্বতঃ আর সহজ হয়ে থাকে। যখন আত্মা আর শরীর দুটোই পবিত্র হবে তখন বলবে সম্পূর্ণ সত্যবাদী অর্থাৎ দিব্যতা সম্পন্ন দেবতা।

স্লোগান:-
অসীম জগতের সেবাতে ব্যস্ত থাকো তাহলে অসীম জগতের বৈরাগ্য স্বতঃই এসে যাবে।