02.01.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা নিজেদের মধ্যে খুবই আত্মিক স্নেহে থাকবে, কখনও মতভেদে আসবে না”
প্রশ্নঃ -
প্রত্যেক
ব্রাহ্মণ বাচ্চাকে নিজেই নিজেকে অন্তর থেকে কোন্ কথা জিজ্ঞেস করতে হবে?
উত্তরঃ
নিজের মনকে
প্রশ্ন করো - ১) আমি ঈশ্বরের হৃদয়ে স্থান লাভ করতে পেরেছি! ২) আমার মধ্যে
দিব্যগুণের ধারণা কতখানি হয়েছে? ৩) আমি ব্রাহ্মণ ঈশ্বরীয় সার্ভিসে বাঁধা প্রদান করছি
না তো! ৪) সদা ক্ষীরখন্ড হয়ে থাকি! আমাদের নিজেদের মধ্যে মতৈক্য আছে? ৫) আমি সদা
শ্রীমৎ পালন করি?
গীতঃ-
ভোলানাথের থেকে
অনুপম আর কেউ নেই...
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা তোমরা
হলে ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়। আগে ছিলে আসুরী সম্প্রদায়। আসুরী সম্প্রদায়দের এটা জানা নেই
যে ভোলানাথ কাকে বলা হয়। এটাও জানে না যে শিব-শংকর হল আলাদা-আলাদা। শংকর হল দেবতা,
শিব হলেন বাবা। কিছুই জানেনা। এখন তোমরা হলে ঈশ্বরীয় সম্প্রদায় অথবা ঈশ্বরীয়
ফ্যামিলী। সেটা হল রাবণের আসুরী ফ্যামিলী। কত পার্থক্য আছে। এখন তোমরা ঈশ্বরীয়
ফ্যামিলীতে ঈশ্বর কর্তৃক শিখছো যে একে-অপরের মধ্যে আত্মিক ভালোবাসা কিরকম হওয়া উচিত
। একে-অপরের মধ্যে ব্রাহ্মণ কুলে এই আত্মিক ভালোবাসা এখান থেকে ভরতে হবে। যার মধ্যে
সম্পূর্ণ ভালোবাসা থাকবে না, সে সম্পূর্ণ পদও প্রাপ্ত করবে না। সেখানে তো হলই এক
ধর্ম, এক রাজ্য। সেখানে নিজেদের মধ্যে কখনও ঝগড়া হবে না। এখানে তো রাজত্ব নেই।
ব্রাহ্মণদের মধ্যেও দেহ-অভিমান থাকার কারণে তারা মতভেদে এসে যায়। এইরকম মতভেদে যারা
আসে তারা শাস্তি খেয়ে তারপর পাস করবে। তারপর তারা এক ধর্মে থাকবে, তো সেখানে শান্তি
বিরাজ করে। এখন ওই দিকে আছে আসুরী সম্প্রদায় বা আসুরী ফ্যামিলী টাইপ। এখানে হল
ঈশ্বরীয় ফ্যামিলী টাইপ। ভবিষ্যতের জন্য দিব্যগুণ ধারণ করছে। বাবা সর্বগুণ সম্পন্ন
বানাচ্ছেন। সবাই তো সর্বগুণ সম্পন্ন হবে না। যারা শ্রীমতে চলে তারাই বিজয় মালার দানা
হয়। যারা হবে না তারা প্রজাতে চলে আসবে। সেখানে তো হল ডিটি গভর্নমেন্ট। ১০০
পার্সেন্ট পিওরিটি, পিস, প্রস্পারিটি থাকে। এই ব্রাহ্মণ কুলে এখন দিব্যগুণ ধারণ করতে
হবে। কেউ তো ভালো ভাবে দিব্যগুণ ধারণ করে, অন্যদেরকেও করাতে থাকে। ঈশ্বরীয় কুলে
নিজেদের মধ্যে আত্মিক স্নেহও তখন হবে, যখন দেহী-অভিমানী হবে, এইজন্য পুরুষার্থ করতে
থাকে। অন্তিম সময়েও সকলের অবস্থা একরস, একই রকম তো থাকবে না। পুনরায় শাস্তি ভোগ করে
পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে। কম পদ প্রাপ্ত করবে। ব্রাহ্মণদের মধ্যেও যদি কেউ নিজেদের মধ্যে
ক্ষীরখন্ড হয়ে না থাকে, নিজেদের মধ্যে লবণাক্ত জল হয়ে থাকে, দিব্যগুণ ধারণ না করে
তাহলে উঁচু পদ কিভাবে প্রাপ্ত করবে। লবণাক্ত জল হওয়ার কারণে কোথাও ঈশ্বরীয়
সার্ভিসেও বাঁধা প্রদান করে। তাদের পরিণতি কিরকম হবে! তারা এত উঁচুপদ প্রাপ্ত করতে
পারবে না। এক দিকে ক্ষীরখন্ড হয়ে থাকার পুরুষার্থ করছে, অন্যদিকে মায়া লবণাক্ত জল
বানিয়ে দিচ্ছে, যার কারণে সার্ভিসের পরিবর্তে ডিসসার্ভিস করছে। বাবা বসে বোঝাচ্ছেন
তোমরা হলে ঈশ্বরীয় ফ্যামিলী। ঈশ্বরের সাথে থাকোও। কেউ সাথে থাকে, কেউ অন্য অন্য
গ্রামে থাকে কিন্তু সবাই তো এক হয়ে থাকো তাই না। বাবাও ভারতে আসেন। সাধারণ মানুষ
এটা জানে না যে, শিববাবা কবে আসেন, এসে কি করেন? বাবার দ্বারাই এখন তোমরা তাঁর
পরিচয় পেয়েছো। রচয়িতার আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তকে এখন তোমরাই জানো। দুনিয়ার মানুষ এটা
জানে না যে এই চক্র কিভাবে রিপিট হয়, এখন কোন্ সময় চলছে, একদমই ঘোর অন্ধকারে আছে।
বাচ্চারা তোমাদেরকে
রচয়িতা বাবা এসে সমস্ত সমাচার শুনিয়েছেন। তার সাথে এটাও বুঝিয়েছেন যে হে শালগ্রাম,
আমাকে স্মরণ করো। এটা শিববাবা নিজের বাচ্চাদেরকে বলছেন। তোমরা পবিত্র হতে চাও তাই
না। অনেক ডেকেছো। এখন আমি এসে গেছি। শিববাবা আসেনই - ভারতকে পুনরায় শিবালয় বানাতে,
রাবণ বেশ্যালয় বানিয়ে দিয়েছে। নিজেরাই গাইতে থাকে - আমি পতিত বিকারী। ভারত সত্যযুগে
সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিল। নির্বিকারী দেবতাদের বিকারী মানুষ পূজা করে। পুনরায়
নির্বিকারীরাই বিকারী হয়। এটা কারোর জানা নেই। পূজ্য তো নির্বিকারী ছিল পুনরায়
পূজারী বিকারী হয়ে গেছে তাই তো আহ্বান করে - হে পতিত-পাবন এসো, এসে আমাদের
নির্বিকারী বানাও। বাবা বলছেন এই অন্তিম জন্মে তোমরা পবিত্র হও। মামেকম্ স্মরণ করো
তাহলে তোমাদের পাপ কেটে যাবে আর তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান দেবতা হয়ে যাবে,
পুনরায় চন্দ্রবংশীয় ক্ষত্রিয় ফ্যামিলী-টাইপে আসবে। এই সময় হল ঈশ্বরীয় ফ্যামিলী টাইপ,
পুনরায় দৈবী ফ্যামিলীতে ২১ জন্ম থাকবে। এই ঈশ্বরীয় ফ্যামিলীতে তোমরা অন্তিম জন্ম
পাস করো। এতে তোমাদেরকে পুরুষার্থ করে পুনরায় সর্বগুণ সম্পন্ন হতে হবে। তোমরা পূজ্য
ছিলে - তখন রাজত্ব করতে, এখন পূজারী হয়ে গেছো। এটা বোঝাতে হবে যে ভগবান হলেন বাবা।
আমরা হলাম তাঁর বাচ্চা তো এটা ফ্যামিলী হয়ে গেল তাই না। গাইতেও থাকে তুমি মাতা পিতা
আমি বালক তোমার... তো ফ্যামিলী হল তাই না। এখন বাবার থেকে অসীম সুখ প্রাপ্ত হচ্ছে।
বাবা বলছেন তোমরা নিশ্চিতরূপে আমাদের ফ্যামিলীতে ছিলে কিন্তু ড্রামা প্ল্যান অনুসারে
রাবণ রাজ্যে আসার পর তোমরা দুঃখী হয়ে পড়েছিলে তাই আমাকে আহ্বান করেছিলে। এইসময় তোমরা
অ্যাকুরেট ফ্যামিলী আছো। পুনরায় তোমাদেরকে ভবিষ্যতের ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার
প্রদান করি। এই উত্তরাধিকার পুনরায় দৈবী ফ্যামিলীতে ২১ জন্ম বজায় থাকবে। দৈবী
ফ্যামিলী সত্যযুগ ত্রেতা পর্যন্ত চলে। পুনরায় রাবণ রাজ্য হওয়ার কারণে ভুলে যাও যে
আমরা দৈবী ফ্যামিলীর ছিলাম। বাম মার্গে যাওয়ার কারণে আসুরী ফ্যামিলী হয়ে যাও। ৬৩
জন্ম সিঁড়ি নেমে এসেছো। এই সমগ্র নোলেজ তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। যে কাউকে তোমরা বোঝাতে
পারো। আসলে তোমরা হলে দেবী দেবতা ধর্মের। সত্যযুগের আগে ছিল কলিযুগ। সঙ্গমে
তোমাদেরকে মানুষ থেকে দেবতা বানানো হয়ে থাকে। মাঝখানে হল এই সঙ্গম। তোমাদেরকে
ব্রাহ্মণ ধর্ম থেকে পুনরায় দৈবী ধর্মে নিয়ে আসা হয়। বোঝানো হয় লক্ষ্মী-নারায়ণ এই
রাজ্য কিভাবে নিয়েছিলেন। তাঁদের পূর্বে আসুরী রাজ্য ছিল, পুনরায় দৈবী রাজ্য কবে আর
কিভাবে হল। বাবা বলছেন প্রত্যেক কল্পের সঙ্গমে এসে তোমাদেরকে ব্রাহ্মণ দেবতা
ক্ষত্রিয় ধর্মে নিয়ে আসি। এটা হল ভগবানের ফ্যামিলী। সবাই বলে গড্ ফাদার। কিন্তু
বাবাকে না জানার কারণে ধনহীন হয়ে গেছে এইজন্য বাবা এসেছেন ঘোর অন্ধকারকে প্রকাশ করতে।
এখন স্বর্গ স্থাপন হচ্ছে। বাচ্চারা তোমরা পড়ছো, দৈবীগুণ ধারণ করছো। এটাও জানা দরকার
- শিব জয়ন্তী পালন করা হয়, শিব জয়ন্তীর পর কি হবে? অবশ্যই দৈবী রাজ্যের জয়ন্তী হবে
তাই না। হেভেনলি গড ফাদার হেভেনের স্থাপন করতে হেভেনে তো আসবেন না। বলেন যে আমি হেল
আর হেভেনের মাঝে সঙ্গমে আসি। শিবরাত্রী বলে তাই না। তো আমি রাতে আসি। এটা তোমরা
বাচ্চারাই বুঝতে পারো। যারা বুঝতে পারে তারা অন্যদেরকেও ধারণ করায়। বাবার হৃদয়ে
তারাই স্থান পায় যারা মন-বচন-কর্মের দ্বারা সার্ভিসে তৎপর থাকে। যত-যত সার্ভিস করবে,
ততই হৃদয়ে স্থান পায়। কেউ কেউ আবার অলরাউন্ডার ওয়ার্কার্স হয়। সব কাজ শিখতে হবে।
খাবার তৈরী করা, রুটি তৈরী করা, বাসন মাজা... এটাও হল সার্ভিস, তাই না। বাবার স্মরণ
হলো ফার্স্ট। তাঁর স্মরণে থাকলেই বিকর্ম বিনাশ হয়। এখানকার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত
হয়েছে। সেখানে সর্বগুণ সম্পন্ন থাকে। যথা রাজারাণী তথা প্রজা। দুঃখের কথা হয় না। এই
সময় সবাই হল নরকবাসী। সবারই হল অবনতি কলা। পুনরায় এখন উন্নতি কলা হবে। বাবা সবাইকে
দুঃখ থেকে মুক্ত করে সুখে নিয়ে যাচ্ছেন এইজন্য বাবাকে লিবারেটার বলা হয়ে থাকে। এখানে
তোমাদের নেশা থাকে যে আমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিচ্ছি, যোগ্য হচ্ছি। যোগ্য তো
তাকে বলা হবে যে অন্যদেরকেও রাজপদ পাওয়ার যোগ্য বানাবে। এটাও বাবা বুঝিয়েছেন যে
পড়ার জন্য তো অনেকেই আসবে। এমন নয় যে সবাই ৮৪ জন্ম নেবে। যে অল্প পড়বে সে দেরী করে
আসবে, তো জন্মও কম হবে। কেউ ৮০, কেউ ৮২, কেউ তাড়াতাড়ি আসবে, কেউ শেষদিকে আসবে...
এসবকিছুই পড়ার উপর নির্ভর করছে। সাধারণ প্রজা শেষে আসবে। তাদের ৮৪ জন্ম হবে না।
শেষের দিকে আসতে থাকবে। যে একদম লাস্টে থাকবে সে ত্রেতার অন্তে এসে জন্ম নেবে।
পুনরায় বামমার্গে চলে যাবে। অবনতি শুরু হয়ে যায়। ভারতবাসীরা কিভাবে ৮৪ জন্ম নেয়, এটা
হল তার সিঁড়ি। এই গোলা হল ড্রামার রূপে। যারা পাবন ছিল তারাই এখন পতিত হয়ে গেছে,
পুনরায় পাবন দেবতা হবে। বাবা যখন আসেন তখন সকলের কল্যাণ হয়, এইজন্য একে অসপিশিয়াস
যুগ বলা হয়ে থাকে। সবকিছুরই মূল হলেন বাবা, যিনি সকলের কল্যাণ করেন। সত্যযুগে
সকলেরই কল্যাণ ছিল, কোনও দুঃখ ছিল না, এটা তো বোঝাতে হবে যে আমরা হলাম ঈশ্বরীয়
ফ্যামিলী টাইপ। ঈশ্বর হলেন সকলের বাবা। এখানেই তোমরা তাঁর উদ্দেশ্যে মাতাপিতা বলে
গান করতে থাকো। সেখানে তো কেবল ফাদার বলা হয়। এখানে বাচ্চারা তোমাদের মা বাবা
প্রাপ্ত হয়। এখানে বাচ্চারা তোমাদের অ্যাডাপ্ট করা হয়। ফাদার হলেন ক্রিয়েটার তো
মাদারও থাকবেন। না হলে ক্রিয়েশন কিকরে হবে। হেভেনলি গড ফাদার কিভাবে হেভেন স্থাপন
করেন, এটা না ভারতবাসীরা জানে আর না বিদেশীরা জানে। এখন তোমরা জেনেছো নতুন দুনিয়ার
স্থাপনা আর পুরানো দুনিয়ার বিনাশ, তো অবশ্যই সঙ্গমেই হবে। এখন তোমরা সঙ্গমে আছো।
এখন বাবা বোঝাচ্ছেন মামেকম্ স্মরণ করো। আত্মা পরমপিতা পরমাত্মাকে স্মরণ করবে। আত্মা
আর পরমাত্মা আলাদা ছিল বহুকাল... সুন্দর মেলা কোথায় হবে! সুন্দর মেলা অবশ্যই এখানেই
হবে। পরমাত্মা বাবা এখানে আসেন, একে বলা হয় কল্যাণকারী সুন্দর মেলা। জীবন্মু্ক্তির
উত্তরাধিকার সবাইকে প্রদান করেন। জীবন বন্ধ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। শান্তিধাম তো সবাই
যাবে - পুনরায় যখন আসে তখন সতোপ্রধান থাকে। ধর্ম স্থাপনের জন্য আসে। নিচে যখন তার
জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় তখন রাজত্ব করার জন্য পুরুষার্থ করে, ততক্ষণ কোনও ঝগড়া ইত্যাদি
হয় না। সতোপ্রধান থেকে রজঃতে যখন আসে তখন লড়াই ঝগড়া শুরু করে। প্রথমে সুখ তারপর
দুঃখ। এখন একদমই দুর্গতি প্রাপ্ত করেছে। এই কলিযুগী দুনিয়ার বিনাশ তারপর পুনরায়
সত্যযুগী দুনিয়ার স্থাপনা হবে। ব্রহ্মা দ্বারা বিষ্ণুপুরীর স্থাপনা করছেন। যে যেরকম
পুরুষার্থ করে সেই অনুসারে বিষ্ণুপুরীতে এসে প্রালব্ধ পায়। এসব হল বোঝার জন্য খুব
ভালো ভালো কথা। এই সময় বাচ্চারা তোমাদের অনেক খুশী হওয়া উচিৎ যে আমরা ঈশ্বরের থেকে
ভবিষ্যতের ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। যতটা পুরুষার্থ করে নিজেকে
অ্যাকুরেট বানাবে... তোমাদেরকে অ্যাকুরেট হতে হবে। ঘড়িও লিভার আর সিলেন্ডার হয় তাই
না। লিভার খুবই অ্যাকুরেট হয়। বাচ্চাদের মধ্যে কেউ অ্যাকুরেট হয়ে যায়। কেউ
আনঅ্যাকুরেট হয়ে যায়, তো কম পদ হয়ে যায়। পুরুষার্থ করে অ্যাকুরেট হতে হবে। এখন কেউই
অ্যাকুরেট চলছে না। পুরুষার্থ করানোর জন্য তো এক বাবা-ই আছেন। ভাগ্য বানানোর
পুরুষার্থে ঘাটতি আছে এইজন্য কম পদ পায়। শ্রীমতে না চলার কারণে, আসুরী গুণ না ছাড়ার
কারণে, যোগে না থাকার কারণে এই সব হয়। যোগ না করলে তাকে পন্ডিত বলা হবে। যোগ কম করে
এইজন্য শিববাবার প্রতি লভ থাকেনা। ধারণাও কম হয়, সে খুশীতে থাকে না। মুখমন্ডলও যেন
মৃত ব্যক্তির মতো থাকে। তোমাদের ফিচার্স তো সর্বদাই হাসিখুশী থাকা চাই। যেরকম
দেবতাদের হয়। বাবা তেমাদেরকে কতো উত্তরাধিকার দিচ্ছেন। কোনও গরীবের বাচ্চা ধনীর কাছে
গেলে তার অনেক খুশী হয়। তোমরা অনেক গরীব ছিলে। এখন বাবা এডাপ্ট করেছেন তাই খুশীতে
থাকতে হবে। আমরা ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়ের হয়েছি। কিন্তু ভাগ্যে না থাকলে কি করা যাবে।
পদ ভ্রষ্ট হয়ে যায়। পাটরাণী হতে পারবে না। বাবা আসেনই পাটরাণী বানানোর জন্য।
বাচ্চারা তোমরা যে কাউকে বোঝাতে পারো যে ব্রহ্মা বিষ্ণু শংকর তিনজনই হল শিবের
সন্তান। শিববাবা ব্রহ্মার দ্বারা ভারতকে পুণরায় স্বর্গ বানাচ্ছেন। শংকর দ্বারা
পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হয়। ভারতেই অল্প একটু থেকে যায়। প্রলয় তো হয় না, কিন্তু
অনেকটাই বিনাশ হয়ে যায়, যেন প্রলয় হয়ে যায়। রাতদিনের পার্থক্য হয়ে যায়। তারা সবাই
মুক্তিধামে চলে যায়। এটা হল পতিত-পাবন বাবারই কাজ। বাবা বলছেন দেহী-অভিমানী হও।
নাহলে তো পুরানো সম্বন্ধী স্মরণে আসতে থাকবে। সম্বন্ধীদেরকে ত্যাগ করলেও বুদ্ধি চলে
যেতে থাকে। নষ্টমোহ হয় নি, একে ব্যভিচারী স্মরণ বলা হয়ে থাকে। সদ্গতি পেতে পারবে না
কেননা দুর্গতি প্রাপ্তকারী আত্মাদেরকে স্মরণ করতে থাকে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১)
বাপদাদার হৃদয়ে স্থান লাভের জন্য মন-বচন-কর্ম দ্বারা সেবা করতে হবে। অ্যাক্যুরেট আর
অলরাউন্ডার হতে হবে।
২) এমন দেহী-অভিমানী
হতে হবে যে কোনও পুরানো সম্বন্ধী যেন স্মরণে না আসে। নিজেদের মধ্যে খুবই আত্মিক
স্নেহে থাকতে হবে, লবনাক্ত জল হবে না।
বরদান:-
বিশ্ব
পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ কার্যে নিজের অঙুলি (সহযোগ) প্রদানকারী মহান তথা নির্মাণ ভব
যেরকম কোনও স্থুল
জিনিস বানানো হলে তো তাতে সব জিনিস দেয়, কোনও সাধারণ মিষ্টি বা লবণও যদি কম হয়ে যায়
তো ভালো জিনিসও খাওয়ার যোগ্য হয় না। এইরকমই বিশ্ব পরিবর্তনের এই শ্রেষ্ঠ কার্যের
জন্য প্রত্যেক রত্নের প্রয়োজন আছে। সকলের সহযোগের আঙুল চাই। সবাইকে নিজের নিজের
রীতিতে খুব প্রয়োজন আছে, তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ মহারথী, এইজন্য নিজের কার্যের
শ্রেষ্ঠতার মূল্যকে জানো, তোমরা সবাই হলে মহান আত্মা। কিন্তু যতটা মহান হয়েছো ততটাই
নির্মাণও হও।
স্লোগান:-
নিজের
নেচারকে ইজি (সরল) বানাও, তাহলে সব কার্য ইজি হয়ে যাবে।
অব্যক্ত ঈশারা :- এই
অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো
জীবনে থেকে, সময়,
পরিস্থিতি, সমস্যা, বায়ুমন্ডল - ডবল দূষিত হওয়া স্বত্ত্বেও তার প্রভাব থেকে মুক্ত,
জীবনে থেকে এই সকল ভিন্ন ভিন্ন বন্ধনগুলি থেকে মুক্ত থাকতে হবে। একটাও সূক্ষ্ম
বন্ধন থাকবে না। এইরকম প্রত্যেক ব্রাহ্মণ বাচ্চাকে বন্ধনমুক্ত, জীবন্মুক্ত হতে হবে।
সঙ্গমযুগেই এই জীবন্মুক্ত স্থিতির প্রালব্ধের অনুভব করতে হবে।