02.05.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
এই ড্রামার ভিতরে অবশ্যম্ভাবী ভাবে বিনাশ স্থিরীকৃত রয়েছে, বিনাশের পূর্বে তোমাদের
কর্মাতীত হতে হবে"
প্রশ্নঃ -
বাবার কোন্
শব্দের আকর্ষণ সম্মুখে থাকলে খুব বেশি রকম অনেক হয়?
উত্তরঃ
বাবা যখন বলেন
- তোমরা আমার বাচ্চা, তখন এই শব্দের আকর্ষণ সম্মুখে অনেক বেশি মাত্রায় হয় । সম্মুখে
শুনলে খুব ভালো লাগে । মধুবন সব বাচ্চাদের আকর্ষণ করে, কেননা এ হলো ঈশ্বরীয় পরিবার
। এখানে ব্রাহ্মণদের সংগঠন । ব্রাহ্মণরা নিজেদের মধ্যে জ্ঞানের আদানপ্রদান করে ।
গীতঃ-
আমাদের তীর্থ
অনুপম...
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা জানে
যে, আমরা অবিনাশী যাত্রা অথবা আধ্যাত্মিক যাত্রায় যাচ্ছি, যেই যাত্রা থেকে আমরা
মৃত্যুলোকে ফিরে আসবো না । মানুষ তো এ'কথা জানেই না যে, এমন যাত্রাও কখনো হয়, যেখান
থেকে কখনো ফিরে আসতে হয় না । তোমরা লাকি স্টাররা এখন জানতে পেরেছো । একথা দৃঢ়ভাবে
স্মরণ করতে হবে । আমরা আত্মারা পার্ট প্লে করি । ওই নাটকে এমন কখনোই বলবে না যে, আমি
আত্মা এই বস্ত্র পরিধান করে অভিনয় করেছি, এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে । ওরা তো নিজেদের
শরীরই মনে করে । বাচ্চারা, এখানে তোমাদের এই জ্ঞান আছে যে - আমরা হলাম আত্মা, এই
শরীর রূপী বস্ত্র ত্যাগ করে অন্য বস্ত্র পরিধান করবো । এ হলো ৮৪ জন্মের পুরানো কাপড়,
এই কাপড় ত্যাগ করে নতুন দুনিয়ায় নতুন বস্ত্র পরিধান করবো । এখানে তো মানুষ বলে থাকে
- আমি নির্গুণ, আমার মধ্যে কোনো গুণ নেই । বাবাই আবার আমাদের এমন গুণবান বানান ।
বাবা বলেন - আমারও পার্ট আছে, আমি এসে তোমাদের নির্বিকারী বানাই । এখানে এ হলো
জীবনবন্ধ ধাম, রাবণরাজ্য । একথা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, আমরা পতিত থেকে পবিত্র,
আবার পবিত্র থেকে পতিত কিভাবে হই । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে - কলিযুগ হলো অন্ধকারের
। এ হলো রাবণ রাজ্যের অন্তিম সময়, আর রামরাজ্যের আদি হতে হবে। এখন হলো সঙ্গম ।
কল্পের এই সঙ্গম যুগে বাবাকেই আসতে হয় । দুনিয়ার মানুষও এখন এই কথা বুঝতে পারছে,
এখন হলো বিনাশের সময়, আর স্থাপনার কারণে ভগবান কোথাও গুপ্ত বেশে রয়েছেন এখন গুপ্ত
বেশে তো তোমরা আত্মারাও আছো । আত্মা পৃথক আর শরীরও পৃথক । এই মনুষ্য দেহ রূপী
বস্ত্র হলো গুপ্ত বেশ । বাবাকেও এতে প্রবেশ করতে হয় । তোমাদের শরীরের তো নাম হয়,
তাঁর তো কোনো শরীরই নেই । তোমরাও আত্মা, আর তিনিও আত্মা । আত্মার, আত্মার উপরে এখন
মোহের বন্ধন তৈরী হয়েছে । এমন গাওয়াও হয় যে - অন্যদের সঙ্গ ত্যাগ করে তোমার সঙ্গে
জুড়বো । তোমরা যেমন মোহজিৎ, আমরাও তেমনই হবো । বাবা হলেন একেবারেই মোহজিৎ । কতো
বাচ্চা আছে, যারা কাম চিতায় বসে ভস্ম হয়ে গেছে । পরমপিতা পরমাত্মা আসেনই - পুরানো
দুনিয়ার বিনাশ করাতে, তাহলে কিভাবে মোহ হবে । পতিতদের যখন বিনাশ হবে, তখনই তো
শান্তির রাজ্য হবে । এই সময় কেউই তো সুখী নেই । সকলেই তমোপ্রধান, দুঃখী হয়ে আছে ।
এ হলো পতিত দুনিয়া । শিব বাবা এসেই স্বর্গের স্থাপনা করেন, যার নাম হয় শিবালয় । শিব
বাবা দেবতাদের রাজধানী স্থাপন করেছিলেন । সে হলো চৈতন্য শিবালয়, আর ওই শিবালয়, যাতে
শিবের চিত্র আছে, সে তো জড় হয়ে গেলো । এখন তোমরা বুঝতে পেরে গেছো বরাবর লক্ষ্মী -
নারায়ণ এই স্বর্গের মালিক ছিলো । তাঁরা পূজ্য ছিলো, আবার তাঁরা পূজ্য তৈরী হচ্ছে ।
তোমাদের এখন জ্ঞান হয়েছে । তোমরা আর লক্ষ্মী - নারায়ণের মন্দিরে গিয়ে তাঁদের সামনে
মাথা নত করো না । তোমরা তো চৈতন্য অবস্থায় তাঁদের রাজধানীতে যাও । তোমরা জানো যে,
আমরা দেবতা ছিলাম, এখন আর তেমন নেই । যাঁরা অতীতে হয়ে গেছেন, তাঁদেরই চিত্র বানানো
হয় । লক্ষ্মী - নারায়ণের মন্দির সবথেকে বিশেষ কেউ তৈরী করে । তাই তাদেরও সেবা করা
উচিত । তাদের বলো - তোমরা এই যে লক্ষ্মী - নারায়ণের মন্দির তৈরী করো, আমরা তোমাদের
এদের ৮৪ জন্মের কাহিনী শোনাচ্ছি । যুক্তির সঙ্গে এই উপহার দেওয়া উচিত । বাবা তো
সেবার যুক্তিও বলে দেন । মাতারা গিয়ে বলো - তোমরা তো এনাদের মন্দির তৈরী করো, কিন্তু
এঁদের জীবন কাহিনী জানো না । আমরা জানি আর তোমাদের বোঝাতেও পারি । যে বোঝাবে, তার
বাণী খুব সুন্দর হওয়া চাই । বাবাও বসে বোঝান, তাই না । বাবা বলেন - যদি ছুটি না পাও,
তাহলে ঘরে বসে স্মরণ করো । এ তো জানো যে, আমরা শিব বাবার সন্তান । মুরলী তো তোমরা
পেয়েই যাও । এমন নয় যে, এখানে আসলে তোমাদের স্মরণের যাত্রা সুন্দর হবে, আর ঘরে
বসলে স্মরণের যাত্রা কম হয়ে যাবে । রিফ্রেশ করার জন্যই বাদল আসে । তোমরাও আসো
রিফ্রেশ হতে । বাবার কাছে সম্মুখে যায় । আত্মার জ্ঞান আছে যে, সম্মুখে শুনলে ভালো
লাগে । কথা তো ওই, দেখো - শিববাবা, বাচ্চাদের কিভাবে বসে বোঝান । ''বাচ্চারা, তোমরা
হলে আমার ।'' তোমরা ৮৪ জন্মের পার্ট প্লে করেছো । তোমরা জন্ম - মরণে আসো, আমি আসি
না । আমি পুনর্জন্ম গ্রহণ করি না । অজন্মাও নই । আমি আসি, কিন্তু বৃদ্ধ শরীরে
প্রবেশ করি । তোমরা আত্মারা ছোটো বাচ্চাদের শরীরে প্রবেশ করো, আমি পরমধাম থেকে নীচে
আসি পার্ট প্লে করতে । আমি বিকারী গর্ভে আসি না । তোমরা আমাকে বলো -- ত্বমেব
মাতাশ্চ পিতা... আমার কোনো মা - বাবা নেই । আমি কেবল শরীরের আধার নিয়ে অভিনয় করি ।
তোমরা আমাকে ডাকো দুঃখ হরণ করে সুখ প্রদান করার জন্য । এখন আমি সম্মুখে এসেছি,
আত্মাদের সঙ্গে কথা বলছি । এখানে তো সকলেই ব্রাহ্মণ । তোমরা বাইরে গেলেই হংস আর বক
হয়ে যাও, এখানে ( মধুবনে ) তোমরা ব্রাহ্মণদের সঙ্গই করো । নিজেদের মধ্যে জ্ঞান
নিয়েই আলোচনা করবে । আমরা আমাদের রাজধানী স্থাপন করছি । বাবা এসেছেন, তাই একে অপরকে
বাবাকে স্মরণ করার এই যুক্তি বলতে থাকো । ভোজন করার সময়ও একে অপরকে এই ইঙ্গিত দিতে
থাকো যে, বাবাকে স্মরণ করো । এ তো অনেক বড় সংগঠন, তাই না । ওখানে তো বিকারীও সঙ্গে
থাকে, ফলে তাদের আকর্ষণ থাকে । এখানে তো কারোর প্রতি কারোর আকর্ষণ থাকে না । এখানে
তো যোদ্ধা, যোদ্ধার সঙ্গেই থাকে । তোমাদের আত্মীয় এখানেই । বুদ্ধিতে এই কথাই থাকে
যে, যাকেই পাই তাকেই যেন বাবার পরিচয় দিয়ে বলি যে, ভগবানকে স্মরণ করতে থাকো ।
আমাদের তো দুইজন বাবা, তাই না । লৌকিক বাবা থাকা সত্ত্বেও তো ভগবানকে স্মরণ করো,
তাই না । উনি হলেন লৌকিক বাবা । লৌকিক ফাদারকে গড ফাদার বলা হবে না । ইনি হলেন
পারলৌকিক বাবা, অবশ্যই গড ফাদারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যাবে । এইভাবে ভোঁ -
ভোঁ গুঞ্জন করতে থাকো । তোমরা তো ব্রাহ্মণ, তাই না । সন্ন্যাসীরাও তো নাম জপ করে,
তাই না । এই দুনিয়ার সুখ কাক বিষ্ঠার সমান, এখানে কতো দুঃখ । ওরা তো হঠযোগী,
নিবৃত্তি মার্গের । ওদের ধর্মই আলাদা । তোমরা জানো যে - সত্যযুগে আমরা কতো সুখী আর
পবিত্র থাকি । ভারত প্রবৃত্তি মার্গের ছিলো যেখানে দেবী - দেবতার রাজ্য ছিলো । যারা
পবিত্র ছিলো তারাই আবার পতিত হয়ে গেছে । মানুষ ডাকতেও থাকে - হে পতিত পাবন, এসো,
তারপর আবার বলে দেয় যে, পরমাত্মা সর্বব্যাপী । আমরা গিয়ে জ্যোতিতে মিলিয়ে যাবো ।
পুনর্জন্মকেও মানে না । অনেক মত আছে, তাই না । দিনে দিনে তার বৃদ্ধি হতে থাকে ।
তোমাদের এও বলতে হবে যে, সন্ন্যাসীদের কিভাবে হয় । নাগা সন্ন্যাসীদেরও বৃদ্ধি হয়,
যার যে ধর্ম, সেই ধর্মে থাকলেই অন্ত মতি তেমন গতি হয়ে যায় । যে যেমন বেশী অভ্যাস
করে, কেউ যেমন বেশী শাস্ত্র পাঠ করে, তো তার তেমনই অন্ত মতি তেমন গতি হয়ে যায়, তখন
আবার ছোটবেলা থেকেই শাস্ত্র কণ্ঠস্থ হয়ে যায় । বাবা এখন বলেন - আমি অমুক, আমি এই,
এই সব দেহ বোধের কথা ছেড়ে দাও । নিজেকে অশরীরী আত্মা মনে করো আর বাবাকে স্মরণ করো ।
এই শরীরকে দেখেও দেখো না । দেহ সহ দেহের যে সম্বন্ধ ইত্যাদি আছে, সব ত্যাগ করো ।
নিজেকে আত্মা নিশ্চিত করে পরমাত্মাকে স্মরণ করো । এতে অনেক সময় লাগে । মায়া
তোমাদের স্মরণ করতে দেয় না । না হলে বাণপ্রস্থীদের কাছে খুবই সহজ । বাবা নিজেই বলেন
- এখন তোমাদের ছোটো - বড় সকলেরই বানপ্রস্থ অবস্থা । একদিকে বিনাশও হতে থাকবে, আর
একদিকে জন্মও নিতে থাকবে । পুনর্জন্ম নিতে হলে, তোমরা এসে যাবে । বাচ্চাদেরও জন্ম
হবে । তারপর বিনাশও হয়ে যাবে । এ তো তোমরা জানো যে, কেউ গর্ভে থাকবে, কেউ আবার
অন্য কোথাও, সব শেষ হয়ে যাবে । সবাই নিজের হিসাব - নিকাশ পরিশোধ করে ঘরে ফিরে যাবে
। হিসাব - নিকাশ থেকে গেলে খুব বেশী সাজা ভোগ করতে হবে । তখন তারাও হালকা হয়ে যাবে
। এমন নয় যে, যোগেও থাকবে আবার পাপ কর্মও করতে থাকবে । কোনো কোনো বাচ্চা একদিকে
চার্টও লিখতে থাকে, আর তারপর বলে, মায়া মুখ কালো করে দিয়েছে । মায়া যদি হারিয়ে দেয়,
তাহলে তো কাঁচা থেকে যাবে, তাই না । বাবা তাই বোঝান যে, তোমরা এমন মনে করো যে, আমরা
অল্প দিন এখানে আছি, এরপর চলে যাবো । এই সবকিছুর বিনাশ হয়ে যাচ্ছে । বাবা বলেন -
আমাকে স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, নিজের চার্ট দেখতে থাকো - আমি
কতজনকে পথ বলে দিচ্ছি আর পুরুষার্থ করাচ্ছি । তন - মন এবং ধনের দ্বারা এই
আধ্যাত্মিক সেবাতে সাহায্যকারী হতে হবে । বলা হয়, মনকে অমন করতে পারবে না । আত্মা
তো হলোই শান্ত । আমরা আত্মারা পরমধামে গিয়ে বসবো । দুনিয়ার কোনো সঙ্কল্পই সেখানে
আসবে না । এমন নয় যে, চোখ বন্ধ করে অচেতন হতে হবে । এমনও অনেকেই শেখে । ১০ - ১৫
দিন অচেতন হয়ে থাকে । এমন অভ্যাস করে যে, এতো সময় পরে আবার জেগে যাবো । টাইম
বোম্ব যেমন হয়, তারও তো সময় ঠিক থাকে যে, এ এতো ঘণ্টা পরে ফাটবে ।
তোমরা বাচ্চারা জানো
যে - আমরা যোগ লাগাচ্ছি । যখন তমোপ্রধান আবর্জনা বের হয়ে যাবে, তখন আমরা সতোপ্রধান
হয়ে যাবো, তখন এই শরীরকে ত্যাগ করবো । আমরা এখন যোগ যাত্রায় আছি । আমরা সময় পেয়েছি,
এরপর এই শরীর ত্যাগ করতেই হবে তখন সবই শেষ হয়ে যাবে । সময় তো নির্ধারিত আছে,
তারপর পরের দিকে মশার ঝাঁকের মতো শরীর ত্যাগ করবে। বিনাশ তখনই হবে, যখন তোমরা
কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত করবে, তারপর বিনাশ শুরু হয়ে যাবে । বিনাশের সীন অনেক বড়
এবং ভারী । এটা এই ড্রামাতে অবশ্যম্ভাবী রূপে নির্ধারিত রয়েছে । তোমরা জানো যে -
আমাদের অবস্থা তখন একরস থাকবে । তোমরা খুশীতে সর্বদা হর্ষিত থাকবে । এই দুনিয়া তো
শেষ হতেই হবে । তোমরা জানো যে, কল্প - কল্পের যখন সঙ্গম যুগ হয়, তখনই বিনাশ হয় ।
কেবলমাত্র বোম্ব নয়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও এতে সাহায্য করে । বাচ্চাদের তাই এই কথা
বুদ্ধিতে থাকা উচিত - এখন আমাদের ফিরে যেতে হবে । বাবাকে যত স্মরণ করবে, ততই বিকর্ম
বিনাশ হবে, আর তোমরা উঁচু পদ প্রাপ্ত করবে । চ্যারিটি বিগিন্স এট হোম । তোমাদের
চেষ্টা করতে হবে । উপযুক্ত কন্যা সে-ই, যে শ্বশুরালয় এবং পিত্রালয়কে উদ্ধার করে ।
তাহলে চ্যারিটি বিগিন্স অ্যাট হোম হলো তাই না? তোমাদের সেবাতে লেগে থাকা উচিত, বলো
- শিব বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করলে তোমরা উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবে । এ হলো সহজ কথা
। আমি অল্ফ অর্থাৎ আল্লাহ, তোমরা যদি আমাকে স্মরণ করো তাহলে স্বর্গের উত্তরাধিকার
তোমাদের । তোমরাই বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে । এখন যদি উত্তরাধিকার লাভ করতে হয় তাহলে
আমাকে স্মরণ করো বাচ্চাদের দায়িত্ব হলো সবাইকে এই খবর দেওয়া । পূর্বেও তোমরা
দিয়েছিলে । তোমাদের বলতে হবে - বিনাশ সামনে উপস্থিত । কলিযুগের পরে সত্যযুগ আসবে ।
বাবা এসেই এই উত্তরাধিকার প্রদান করেন রাবণ তোমাদের নরকবাসী তৈরী করে । বাবা এসেই
তোমাদের স্বর্গবাসী করেন । এই কাহিনী হলো ভারতেরই । ভারতবাসীদেরই তৈরী করতে হবে ।
তোমাদের প্রথমে শিবের মন্দিরে গিয়ে বোঝাতে হবে । এই বাবা নতুন সৃষ্টি রচনা করবেন ।
তিনি বলেন - তোমরা আমাকে স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে । এই নিরাকার
বাবা এখন এসেছেন । তিনি ব্রহ্মার দ্বারা স্বর্গের স্থাপনা করছেন । তোমরা এখন বাবাকে
আর তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো । তোমাদের ৮৪ জন্ম এখন সম্পূর্ণ হয়েছে । এখন আমরা
তোমাদের এই কথাই বলছি । এখন মানো, বা না মানো, তোমাদের মর্জি । কথা তো খুবই সুন্দর
। বাবাই হলেন দুঃখহর্তা এবং সুখকর্তা । অল্প কিছু বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে চলে যাও ।
এ হলো তোমাদের কাজ । এতে তো কোনো পরিশ্রম নেই । কেবল মুখে বলতে হবে - বাবা বলেন,
আমাকে স্মরণ করো । দেহী অভিমানী হও । তোমরা শিবের পূজারীদের কাছে যাও আর লক্ষ্মী -
নারায়ণের পূজারীদের কাছে যাও । তাদেরকে, ওদের নিজেদের জীবন কাহিনী শোনাও । আচ্ছা ।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) তন
- মন এবং ধনের দ্বারা এই আধ্যাত্মিক সেবায় সাহায্যকারী হতে হবে । সবাইকে অল্ফ (আল্লাহ)
অর্থাৎ বাবার পরিচয় দিয়ে উত্তরাধিকারের অধিকারী হতে হবে । বিনাশের পূর্বে কর্মাতীত
হওয়ার জন্য বাবার স্মরণে থাকতে হবে ।
২ ) বাবা সম মোহজিৎ
হতে হবে । আত্মার প্রতি আত্মার যে মোহ হয়ে গেছে বাবার একাগ্রতায় মগ্ন হতে হবে ।
বরদান:-
সর্বশক্তিমানের সাথে এর স্মৃতির দ্বারা সমস্যাগুলিকে দূরে ভাগিয়ে দেওয়া পরমাত্ম
স্নেহী ভব
যে বাচ্চারা পরমাত্ম
স্নেহী হয় তারা স্নেহীকে সদা সাথে রাখে এইজন্য কোনও সমস্যা সামনে আসে না। যার সাথে
স্বয়ং সর্বশক্তিমান বাবা আছেন তার সামনে সমস্যা দাঁড়াতে পারবে না। সমস্যা জন্মানোর
সাথে সাথেই তাকে শেষ করে দাও তাহলে বৃদ্ধি হবে না। এখন সমস্যাগুলির বার্থ কন্ট্রোল
করো। সদা স্মরণে রাখো যে সম্পূর্ণতাকে নিকটে নিয়ে আসতে হবে আর সমস্যাগুলিকে দূরে
ভাগাতে হবে।
স্লোগান:-
প্রিয়
হওয়ার পুরুষার্থ নয়, পৃথক হওয়ার পুরুষার্থ করো তাহলে প্রিয় স্বতঃই হয়ে যাবে।
অব্যক্ত ঈশারা :- সদা
অবিচল, অনড়, একরস স্থিতির অনুভব করো
সময় প্রতি সময়ে অনেক
প্রকারের বিঘ্ন আসে, কোনও ভালো অনন্য স্টুডেন্ট মায়ার বশীভূত হয়ে অ্যান্টি হয়ে যায়
আর সেবাতে ডিস্টার্ব করে। এইরকম সময়ে ঘাবড়ে যাও না তো! এক হলো তার প্রতি কল্যাণের
ভাবনা দ্বারা দয়া করা, কিন্তু তার কারণে দোলাচলে আসা অথবা ব্যর্থ সংকল্প চালানো,
এটাই হল স্থিতি নড়ে যাওয়া। যে প্রত্যেক আত্মার পার্টকে সাক্ষীদ্রষ্টা স্থিতিতে থেকে
দেখে, সে অবিচল অনড় একরস থাকে।