02-08-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
17-02-2011 মধুবন
"মন্সা সেবার দ্বারা আত্মাদের আঁচলা ভরে দেওয়ার সেবা
ক'রে বহুকালের তীব্র পুরুষার্থের মাধ্যমে এভাররেডি থাকলে মালার দানা হয়ে যাবে"
আজ স্নেহের সাগর নিজের স্নেহী বাচ্চাদের সাথে মিলিত হতে এসেছেন। বাচ্চারা স্মরণ
করেছে আমার বাবা এসো, তো বাবা বলেন - আমার স্নেহী বাচ্চারা স্নেহতে এমন আকৃষ্ট যে
সব বাচ্চা বাবাকে নিজেই বানিয়েছে আর বাবা সব বাচ্চাকে আমার বাচ্চা ব'লে নিজের মধ্যে
সমাহিত করেছেন। চমৎকার হয়েছে বাচ্চারা বলেছে আমার বাবা, তো আমার শব্দে এত স্নেহ ভরা
আছে যে বাবাও বলেছেন আমার বাচ্চারা স্নেহ কী থেকে কী বানিয়ে দেয়! সব বাচ্চার
ললাটভাগে আজ স্নেহের তরঙ্গ দুলছে, এটা দেখে বাপদাদা উৎফুল্ল হচ্ছেন। স্নেহই হৃদয়কে
আপন বানানোর সাধন। তো প্রত্যেক বাচ্চার ভিতরে আজ স্নেহের তরঙ্গ অনবরত দুলছে দেখে
বাপদাদাও খুশি হচ্ছেন।
এই মুহূর্তে ৫ মিনিটের জন্য একটা ড্রিল বাপদাদা সবাইকে করাচ্ছেন। নিজের মন্সা শক্তি
দ্বারা সৃষ্টিতে যারা তোমাদের ভক্ত বা অনেক দুঃখী অশান্ত আত্মারা তোমাদের স্মরণ করছে
- হে আমাদের পূর্বজ! নিজের মন্সা শক্তি দ্বারা অল্প সময়ের জন্য হলেও আমাদের শান্তি
দাও, সামান্য সুখের ছোঁয়া দাও, আমাদের বাঁচাও - এমন আত্মাদের এখানে ব'সে ইমার্জ করো;
আওয়াজ শুনতে পাচ্ছ! বাঁচাও বাঁচাও বলছে তো এমন আত্মাদের নিজের মন্সা শক্তি দ্বারা
সুখ শান্তির কিরণ পৌঁছে দাও। এই মন্সা সেবা সারাদিনে বারবার করতে থাকো কেননা, বাবার
সাথে তোমরা বাচ্চারাও বিশ্ব সেবক। সারাদিন বাণী দ্বারা যেমন সেবার নিমিত্ত হও তেমনই
মাঝে মাঝে মন্সা সেবারও অভ্যাস ক'রে যাও। এতে তোমাদের নিজেদেরও লাভ কেননা, যদি
তোমাদের মন সদা সেবাতে বিজি থাকে তবে তোমাদের কাছে মাঝে মধ্যে মায়া যে অনর্থক
সঙ্কল্প বা ব্যর্থ সঙ্কল্প নিয়ে আসে তার থেকে তোমরা বেঁচে যাবে। পরিশ্রম করতে হবে
না। এখন বাপদাদা জিজ্ঞাসা করছেন কেমন আছ? তো কী জবাব দাও? পুরুষার্থ চলছে কিন্তু
কখনো কখনো ...! সদা সময়ের পুরুষার্থ হচ্ছে না। তো বাপদাদা এখন সব বাচ্চার এই রেকর্ড
দেখতে চান - কখনো কখনো এই শব্দ যেন সমাপ্ত হয়ে যায়! এটা কি হতে পারে কখনো কখনো
সমাপ্ত হয়ে যাবে! সময়কালে তৈরি হয়ে যাবে? হচ্ছি, হতেই হবে ... এর পরিবর্তে এখন
এভাররেডি হতে পারো? কেন? এভাররেডি থাকার অভ্যাস মায়াজিত মনজিত জগৎ জিত হওয়ার এই
সংস্কারও বহু সময় ধরে বানাবে, তবে অন্ত সময়ও বহুকালের এই অভ্যাস বিজয়ী বানিয়ে
তোমাদের বিশেষ মালার দানা বানাবে। তোমরা পাস উইথ অনার হবে। শুধু পাস নয় পাস উইথ
অনার। তো বলো এই মনোবল আছে তো না! পাস উইথ অনার তো হতে হবে, হবে না? তোমরা দ্বাপর
থেকে এখনো পর্যন্ত যে পূজ্য হও অর্থাৎ মালার দানা হও, তো নিজেকে মালার দানা বানানোর
শুদ্ধ সঙ্কল্প আছে তো না!
বাপদাদাও রোজ অমৃতবেলায় নিজের মালার সব দানাকে দেখেন এবং বিশেষ মিলন উদযাপন করেন।
তো তোমরা সবাই নিজেকে মালার দানাতে মনে করো। বাস্তবিকপক্ষে, আরেক মালাও আছে ১৬
হাজারের, কিন্তু তবুও সেটা দ্বিতীয় মালা হয়ে গেল। বিশেষ যে মালা যা গায়ন যোগ্য এবং
পূজন যোগ্য সেটা প্রথম মালা। তো আজ বাপদাদা সেই সমূহ দানা দেখছিলেন। কেননা,
ব্রহ্মাবাবার সাথে বিশেষ রাজ্য অধিকারী সাথি তারাই হয়। তো আজ ব্রহ্মাবাবা নিজের
এখনকার তীব্র পুরুষার্থী এবং ভবিষ্যৎ রাজ্য অধিকারী বাচ্চাদের দেখছিলেন, অবশ্যই
দ্বৈত রূপে সিংহাসনে বসবে, কিন্তু যারা রাজ্যের সাথি তাদের প্রথম মালা। তো নিজেকে
চেক করেছো? বাপদাদার সাথে তো যাবে কেননা, এখন তোমাদের সবার রিটার্ন জার্নি। যেহেতু
তোমাদের ফিরে যেতেই হবে তখন বাবার সাথে যাও, একলা নয়। তো সাথে যাওয়ার জন্য কাছের
দানা কে হবে? যারা বহুকালের তীব্র পুরুষার্থী হবে। কখনো কখনোর পুরুষার্থী নয়।
বহুকাল ধরে যারা বাবা সমান তারাই রাজ্য অধিকারী হবে। তো তোমরা কী ভাবছো? তোমরা
তীব্র পুরুষার্থ করছো? যারা মনে করছো আমি পুরুষার্থীর লাইনে আছি তারা হাত তুলবে।
যারা তীব্র পুরুষার্থী তারা লম্বা ক'রে হাত তোলো, তোমরা ছোট ক'রে হাত তুলছো। আচ্ছা
অনেকে তুলছে। আবার লম্বা হাত তোলো এইরকম (ছোট) নয়। আচ্ছা।
বাপদাদা তো রোজ বাচ্চাদের চার্ট দেখেন। মেজরিটিতে তীব্র পুরুষার্থীও আছে, কিন্তু
কখনো কখনো শব্দও ব্যবহার করে। কিন্তু বাবা কেন বলছেন? অ্যাটেনশন প্লিজ! সূক্ষ্ম
সঙ্কল্পেও চাঞ্চল্য হবে না। অটল অনড় শুদ্ধ সঙ্কল্প ধারী বহু সময় থেকে হতেই হবে। কিছু
বাচ্চা মিষ্টি মিষ্টি অনেক অধ্যাত্ম বার্তালাপ করে, বলে বাবা আমি অবশ্যই তৈরি হয়ে
যাবো। কেননা, সময় যত কাছাকাছি আসবে আগামী দিনে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত
অস্থির, সংকটময় এবং উত্তাল হয়ে উঠবে, সুতরাং বৈরাগ্য তো অটোমেটিক্যালি এসে যাবে।
কিন্তু তোমাদের টিচার কে? সময় নাকি বাবা? সময় তো তোমাদের রচনা। তো বাবা এখন ইশারা
দিচ্ছেন যে, দীর্ঘ সময়ের তীব্র পুরুষার্থ অন্তে পাস উইথ অনার বানাবে। পাস তো সবাই
হবে কিন্তু যারা পাস উইথ অনার হবে তাদের দীর্ঘ সময়ের লাগাতার পুরুষার্থ আবশ্যক।
সেইজন্য আজকের তারিখ নোট ক'রে নাও, যদি এখনো কখনো কখনো, সামথিং হয়ে যায়, করেই নেবো
- এইসব শব্দ আগামীতেও চলতে থাকে... বাবার ভালোবাসা তো সদাই আছে। লাস্ট দানার প্রতিও
বাবার ভালোবাসা আছে। কেন? হৃদয় থেকে আমার বাবা তো বলেছো, আজকের বড়-বড়ো আত্মারা আমার
বাবা বলে না, কিন্তু তিনি আমার বাবা সেটা মানে সেইজন্য বাবার ভালোবাসা তো তাদের
প্রতিও আছে। বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসা তো বাবার সদাই রয়েছে শেষ পর্যন্ত আছে লাস্টের
জন্যও আছে। স্নেহই তোমাদেরকে বাবার বানিয়েছে। বাপদাদা এটাও বলেছেন যে মেজরিটি
বাচ্চার স্নেহ রয়েছে আর থাকবে কিন্তু শুধু স্নেহ নয় শক্তিও প্রয়োজন। তীব্র
পুরুষার্থও প্রয়োজন।
বাপদাদার তো বাচ্চাদের প্রতি ফেথ আছে, তাইনা! তো এখন থেকেই তেমন বাচ্চাদেরকে পদম
পদমগুন অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। বাহ্ বাচ্চারা বাঃ! সাহসী তোমরা। তোমাদের সাহস আর
বাবার সহায়তা তো আছেই। এখন একটা কাজ করো যা মনকে বিজি রাখতে পারে। যেমন, বাবা পূর্বে
বলেছেন সেকেন্ডে স্টপ করতে, আমি বিন্দু, বিন্দু লাগাও এবং সবাইকে বিন্দুরূপে দেখ।
যখন তোমরা সবাইকে দেখবেই বিন্দু তখন আর কোনও সঙ্কল্প চলবে না। মন্সা সেবায়
অ্যাটেনশন রাখো। কত দুঃখী আত্মারা আর্তনাদ করছে! এদেরকে কিরণ দেওয়ার সেবাতেও
এক্সট্রা মন লাগাও। মন্সা সেবা খুব শ্রেষ্ঠ সেবা। দুঃখীদেরও লাভ আর তোমাদের
নিজেদেরও লাভ। ডবল লাভ। তোমরা যেমন বাচা দ্বারা সেবা করো, আর সেবা বৃদ্ধিও পাচ্ছে,
হৃদয় থেকে ক'রে থাকো তোমরা, সংখ্যাও বাড়ছে সেন্টারও বাড়ছে। মেজরিটির বাচা সেবা ঠিক
আছে। সবার নয় মেজরিটির। এভাবে এখন মন দ্বারা বিশেষভাবে আত্মাদের সামান্যতম দেওয়ার
সেবা করতে থাকো। মনকে ফ্রী ছেড়ো না। কোনো না কোনো সেবাতে মন দ্বারা শক্তি দেওয়ার,
মুখ দ্বারা বাণী সেবা, কর্মের মাধ্যমে গুণের সেবা সম্বন্ধ-সম্পর্কে খুশি দেওয়ার সেবা
- এই ভিন্ন ভিন্ন সেবাতে মনকে বিজি রাখো। কেননা, সারা বিশ্বে রিচেস্ট আত্মা কা'রা?
তোমরাই তো না! কত ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়েছে তোমাদের? তো সব ভাণ্ডার দ্বারা সেবা করো।
ভাণ্ডার সেবাতে যত লাগাবে ভাণ্ডার ততই বাড়তে থাকবে। সেইজন্য এখন যেমন স্ব প্রতি
অ্যাটেনশন দিচ্ছ তেমন নিজের ভক্ত দুঃখী আত্মাদের মন্সা দ্বারা কিরণ দেওয়ার সেবাও
সারাদিন অ্যাটেনশন দিয়ে করো। তীব্র চিৎকার করছে, সেই আওয়াজ কী শুনতে পাও না! তাদের
মেজরিটির গৃহে কোনো না কোনো দুঃখের কারণ আছে। এমন দুঃখীদের সুখ দেয় কে? বলো কে?
তোমরাই তো। তো এই মন্সা সেবা সারাদিনে চেক করো কত সময় দিয়েছ! স্ব প্রতি যেমন দিয়ে
থাকো তেমন মন্সা সেবার
প্রতি কত সময় দিয়েছ! তোমরা হৃদয়বান তো না! তো দুঃখীদের প্রতি দয়া করো। তোমাদের গীতও
আছে, তাইনা! ও মা-বাবা দুঃখীদের প্রতি করুণা করো। বাপদাদাকে অনেক আওয়াজ শুনতে হয়।
তোমরা এই আওয়াজ কম শুনতে পাচ্ছ, কিন্তু এখন শোনো। কোথায় যাবে তারা! তোমাদেরই তো
ভাইবোন তারা। তো নিজেরও সুবিধা করো, মনকে বিজি রাখো আর দুঃখিদের দুঃখ হরণ করো। তারা
আর্তনাদ করছে, হৃদয়বিদারক চিৎকার! বাপদাদা তো শোনেন, তাইতো বাচ্চাদের স্মরণ করেন, ও
আমার অতি প্রিয় বাচ্চারা হারানিধি বাচ্চারা এখন হৃদয়বান রূপ ধারণ করো। নিজেদের
ব্রাহ্মণদের মধ্যেও একে অপরের সহযোগী হও। যে কোনো সংস্কারই থাকুক না কেন কিন্তু
তোমাদের কাজ কী? সংস্কার দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হওয়া, নাকি তাদেরকেও সংস্কারের আঘাত
থেকে রেহাই দেওয়া। তোমাদেরও টাইটেল আছেনা দুঃখ হর্তা সুখ কর্তা! বাবার সাথি তোমরা
তাইনা! বাবার সাথী কী সঙ্কল্প করেছে? এই বিশ্বে দুঃখ অশান্তি বদলে সুখ শান্তি
স্থাপন করতেই হবে। করতে হবে তো না! হাত তোলো। করতে হবে? নাকি শুধু দেখতে হবে এটা
হচ্ছে, কিন্তু এখন সেটা বদলাতেই হবে। এমনকি যদি ব্রাহ্মণ আত্মাও হয় তো শুধু দেখতে
থেকো না যে এ' করছে, বরং তাদেরও বাণী আর মন্সা সঙ্কল্প দ্বারা পরিবর্তন করো, করা কী
উচিত নয়? বাপদাদা অবিরত শুনে যাচ্ছেন, বাপদাদার কাছে ভার দিয়ে দিয়েছ, যখন ভার অর্পণ
করেই দিয়েছ তখন নিজে বাবার ডায়রেকশনে চলো, দায়িত্ব বাপদাদার। তাঁর সমাদৃত সাথি
বাচ্চারা নিমিত্ত হয়েছে। তো সদা নিজের মনকে ব্যর্থ সঙ্কল্পের পরিবর্তে এখন দুঃখী
আত্মাদের, তারা ব্রাহ্মণ হোক বা যে কোনো ডিস্টার্বড আত্মা তাদেরকে সহযোগ দাও। সহযোগী
হও। আচ্ছা।
নতুন নতুন বাচ্চারা যারা প্রথমবার এসেছ এক সেকেন্ডে তাদের ১০ মিনিটের কাজ করতে হবে।
অ্যাটেনশন দাও। নিজের পুরুষার্থ তীব্র ক'রে যত অগ্রচালিত হতে চাও ততো এগোতে পারো।
এটা তোমাদের সবাইকে সব ব্রাহ্মণের তরফে বাবার তরফে শুভ ভাবনা শুভ কামনা। আচ্ছা।
মধুবনের এরা যদি না থাকতো তবে তোমাদের আতিথেয়তা কে করতো! আরামে আসছ, ভোজনপান করছ,
রিফ্রেশ হচ্ছ তো মধুবনের যারা তাদের জন্য তালি বাজাও। বাপদাদা জানেন, জায়গা কম
হওয়ার কারণে মধুবনের তোমাদের সামান্য দূরে বসে শুনতে হয়। এটাও সেবা, মধুবনবাসীদের
এটাও সেবা। অন্যকে সুখ দেওয়া - সুখদাতা হয়ে গেছ, তাইনা! তো মধুবনবাসীর কাজ হলো সুখ
দেওয়া আর সুখ নেওয়া। কেননা, যারাই আসে তাদের অনুভব থেকে তোমরা অনুভব শুনিয়ে থাকো,
সেই অনুভব দ্বারা পরস্পরের সুবিধা হয়ে যায়। অনেক সুবিধা হয় কিন্তু টাইম কম হওয়ার
কারণে কম শোনানো হয়। যতই হোক, মধুবনের টাইটেল কী হলো? সুখ দেওয়া আর সুখ নেওয়া। সুখ
দাতার বাচ্চারা ফলো ফাদার করে। আচ্ছা -
এই বারে যারা এসেছে তাদের মধ্যে আছে যারা রেগুলার মুরলী শোনে, কিছু আছে যারা মুরলী
শোনে না তারা হাত তোলো। কেউ নেই। আচ্ছা। যারা পড়ো অথবা শোনো তারা ওঠো। অল্প আছে।
কোনো ব্যাপার নয়, কিন্তু এখন অবশিষ্ট যে সময় পেয়েছ তা'তে বাবার মহাবাক্য মিস ক'রো
না - পরমধাম থেকে বাপদাদা আসেন, সূক্ষ্ম বতন থেকে ব্রহ্মাবাবা আসেন এবং এসে বাবার
মহাবাক্য উচ্চারণ করেন। সেইজন্য মুরলী কখনও একদিনও মিস ক'রো না। বাপদাদার হৃদয়
সিংহাসন যা নিজের তা' হাতছাড়া হয়ে যাবে। সুতরাং যারাই মুরলী মিস করে তারা যেন এটা
বোঝে আমি তিন সিংহাসনের মালিক নই, দুই সিংহাসনের মালিকও তারা যথাশক্তি হবে। সেইজন্য
শুধু মুরলী মুরলী মুরলী। কেননা, মুরলীতে প্রতিদিনের ডায়রেকশন থাকে, চার সাবজেক্টেরই
ডায়রেকশন থাকে। তো রোজের ডায়রেকশন নিতে হবে তো না! সুতরাং কারণে-অকারণে যারাই মিস
করে তারা নিজের প্রোগ্রাম যেন বানিয়ে নেয় কীভাবে মুরলী শুনবে! স্যালভেশনের জন্য কোনো
না কোনো উপায় যেন খুঁজে নেয়। আজকাল সায়েন্সের সাধন তোমাদের জন্য বের হয়েছে। ব্রহ্মা
বাবার মধ্যে প্রবিষ্ট হওয়ার ১০০ বছর আগে এই সায়েন্স বের হয়েছে, তোমাদের কাজেও আসবে।
সেইজন্য সেসব ইউজ করো লাভ নাও। আচ্ছা সামনে যারা বসে আছো কিংবা যে কোনো কোথাও থেকে
যারা শুনছো সেই বাচ্চাদের বাপদাদার সম্পূর্ণ মন, হৃদয় এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে
আন্তরিক টান ও ভালোবাসাসহ নিঃস্বার্থ পবিত্র, ঐশ্বরিক স্মরণের স্নেহ-সুমন আর
নমস্কার।
সেবার টার্ন ইউ. পি. বেনারসের - ইউ.পি.র প্রতি ব্রহ্মা বাবার জগৎ অম্বার খুব
ভালোবাসা রয়েছে। ব্রহ্মা বাবা যেমন ইউ.পি.তে গেছেন তেমন বম্বেতেও গেছেন। তো যে
জায়গায় ব্রহ্মা বাবার পা পড়েছে সেই স্থান কত ভাগ্যবান! লক্ষ্ণৌ আর কানপুর দুইই এই
ভাগ্যের অধিকারী হয়েছে। বম্বেও হয়েছে, কিন্তু এখন ইউ.পি.- র টার্ন। ডিরেক্টলি মা আর
বাবার শিক্ষার ফোঁটা ইউ.পি.তে পড়েছে। পরবর্তী সময়ের জন্য ইউ.পি.কে কী করতে হবে এখন?
বাণী দ্বারা মেলাতে সেবা তো করো কিন্তু এখনের সময় অনুসারে যা বাপদাদা বলে আসছেন,
আগেও বলেছেন যে উত্তরাধিকারী এবং খ্যাতনামা মাইক প্রস্তুত করো - খ্যাতনামা অর্থ হলো
এটাই যে তাদের বলার প্রভাব যারা শুনবে তাদের ওপরে পড়বে, এমন মাইক প্রস্তুত করো।
বাস্তবে, উত্তরাধিকারীদের গ্রুপ সব সেন্টার থেকে... কত সেন্টার আছে ইউপিতে, অনেক আছে
তো না! তো এত উত্তরাধিকারী তো বের হওয়া উচিত। হিসেব করো কত সেন্টার আছে আর কত
উত্তরাধিকারী হয়েছে। আর যত হওয়া উচিত ততো সংখ্যক হয়েছে, নাকি তৈরি করতে হবে! যদি
তৈরি করতে হয় তবে সময়ের ওপরে কোনো ভরসা নেই। শীঘ্রাতিশীঘ্র উত্তরাধিকারী এবং মাইক
যাদের আওয়াজ দ্বারা অনেক আত্মার ভাগ্যের রেখা উন্মুক্ত হবে। কেননা, তোমরা তো অনেক
সেবা করেছ, যারা পুরানো তারা তো অনেক সেবা করেছে। এখন সেবা করাও। যারা করবে তাদের
তৈরি করো। করতে পারো তো না! হাত তোলো টিচার্স। আচ্ছা। টিচার্সও অনেক আছে। তো এতই
তৈরি করো। প্রতিটি সেন্টার তা' ছোট হোক বা বড় হোক, সেন্টারের লিস্টে রয়েছে তাদের
অবশ্যই নিজের প্রমাণ দিতে হবে। কেননা, সময়ের ওপরে কোনো ভরসা নেই। যে কোনো সময় যা
কিছু হতে পারে। সেইজন্য সবাইকে, যে জোনই আসে, নতুবা আসে না সমূহ জোনকে বাপদাদা এটাই
বলেন যে এখন সামনে এগোও। ক্লাসেজ তো চলতে থাকে, সংখ্যাও বাড়তে থাকে কিন্তু এখন যারা
নিমিত্ত হবে তাদের প্রস্তুত করো আর প্রস্তুত করার জন্য বাপদাদা দেখেছেন প্রতিটি জোনে
এমন আত্মারা আছে যারা নিমিত্ত হতে পারে। তো ইউ.পি. এক তো ভক্তদের কল্যাণ করো, যারা
নিজেদের ভক্ত বলে তারা যদিও সংখ্যায় অল্প কিন্তু তারা ভক্তই। তাদের ভক্তির ফল
প্রাপ্ত করাও। তারা অনেক পরিশ্রম করে। আর তো ঠিক আছে। বাপদাদা দেখেছেন যে প্রতিটি
জোন তাদের পরিশ্রম দ্বারা এগিয়ে চলেছে, কিন্তু এখনও এগিয়ে যাওয়ার মার্জিন আছে। তোমরা
করছো, এমন নয় যে করছো না কিন্তু এখন আরেকটু স্পিড বাড়াও। তোমরা ভালো আর ভালো সেবা
করছো। দাদিরা সবাই তোমাদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করে। পাণ্ডবও কত আসে, পাণ্ডবও কম নয়!
এমন কিছু সেবা আছে যা পাণ্ডবই করতে পারে। সেইজন্য বাপদাদা আর সর্ব মধুবন নিবাসী
পাণ্ডবদেরও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। আচ্ছা।
বরদান:-
বুদ্ধিরূপী পা মর্যাদার রেখার ভিতরে রেখে
সর্বপ্রাপ্তি সম্পন্ন শক্তিশালী ভব
যে বাচ্চারা বুদ্ধিরূপী পা মর্যাদার রেখার বাইরে বের
করে না তারা লাকি আর লভলি হয়ে যায়। তাদের কখনও কোনও বিঘ্ন অথবা তুফান দুশ্চিন্তা
উদাসীনতা আসতে পারে না। যদি আসে তো বোঝা উচিত বুদ্ধিরূপী পা মর্যাদার রেখার বাইরে
বেরিয়েছে। রেখার বাইরে বেরোনো অর্থাৎ ফকির হওয়া সেইজন্য ফকির অর্থাৎ যাচক হয়ো না,
সর্বপ্রাপ্তি সম্পন্ন শক্তিশালী হও।
স্লোগান:-
যে সদা ডিট্যাচ (স্বতন্ত্র) আর বাবার প্রিয় হয় সে
সেফ থাকে।
অব্যক্ত ইশারা :- অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে
সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও দৃঢ়তা হলো সফলতার চাবি। সফলতা তোমরা সব বাচ্চার
জন্মসিদ্ধ অধিকার। সেইজন্য দৃঢ়তাকে ইউজ করো, আসাবধান হয়ো না। হয়ে যাবে, ক'রে নেবো...
এ' সব ভেবো না। দৃঢ় সঙ্কল্পের দ্বারা মনের ব্যর্থ সঙ্কল্প সমাপ্ত ক'রে বিজয়ী হও।