03-05-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 18-01-2010 মধুবন


‘‘ব্রহ্মা বাবা সমান নষ্টমোহ স্মৃতি স্বরূপ হওয়ার জন্য, মনের টাইমটেবল বানিয়ে কর্ম করতে করতে কর্মযোগী অশরীরী হওয়ার অভ্যাস করো"


আজ চতুর্দিকের বাচ্চাদের মধ্যে বিশেষ স্নেহ সমাহিত হয়ে আছে। আজকের দিনকে বলাই হয় স্মৃতি দিবস। অমৃতবেলা থেকে বাপদাদা দেখেছেন, দেশে হোক বা বিদেশে সব বাচ্চার হৃদয়ে বাবার স্নেহের ছবি দৃশ্যমান। আর বাবার হৃদয়েও প্রত্যেক বাচ্চার স্নেহের ছবি সমাহিত হয়ে আছে। আজকের দিনকে বিশেষ স্নেহের, স্মৃতির দিবস বলে থাকো তোমরা। বাপদাদা অমৃতবেলার আগে থেকেই বাচ্চাদের তরফে অনেক স্নেহের মোতির মালা দেখেছেন। প্রত্যেক বাচ্চার হৃদয়ে অটোমেটিক্যালি এই গীত বাজছে - আমার বাবা, ব্রহ্মা বাবা, মিষ্টি বাবা। আর বাপদাদার হৃদয়ে এই গীত বাজছে মিষ্টি বাচ্চারা, প্রিয় বাচ্চারা। আজ প্রত্যেকের ভিতরে অন্য শক্তি কম হলেও স্নেহের শক্তি বেশি সমাহিত হয়ে আছে। এই পরমাত্ম স্নেহ, ঈশ্বরীয় স্নেহ শুধু সঙ্গম যুগেই অনুভূত হয়। এই পরমাত্ম স্নেহ অনুভাবী মাত্রই জানে, যা প্রত্যেক বাচ্চাকে সহজ যোগী বানিয়ে দেয়। বাপদাদা দেখেছেন, সব বাচ্চার মধ্যে অনেক অনেক স্নেহের অনুভব সমাহিত হয়ে আছে। তোমাদের সবার জন্মের আধার স্নেহ। এমন কোনও বাচ্চা দৃশ্যমান হয় না... তাছাড়া শক্তি যদি কমও হয় তবুও বাবার স্নেহ কিংবা নিমিত্ত হওয়া বিশেষ আত্মাদের স্নেহের অনুভব মেজরিটিতে সবার হৃদয়ে, মুখমণ্ডলে প্রতীয়মান হয়। আজ বিশেষভাবে কে তোমাদের এখানে পৌঁছে দিয়েছে? কোন বিমানে এসেছো? ট্রেনে এসেছ, নাকি বিমানে এসেছো? সবার চেহারাতে প্রতীয়মান হচ্ছে তোমরা স্নেহের বিমানে পৌঁছেছ। যে কোনো কিছুই করতে হোক না কেন তবু তোমরা স্নেহের বিমানেই পৌঁছে গেছো। আজকের দিনকে তাজপোষীর (রাজ্যাভিষেক) দিনও বলা হয়। কেননা, আজকের দিনে বাপদাদা বিশেষভাবে ব্রহ্মাবাবা নিমিত্ত হওয়া মহাবীর বাচ্চাদের বিশ্ব সেবার মুকুট পরিয়েছেন।

আজকের দিনকে স্মৃতি দিবস বলা হয়ে থাকে। কিন্তু স্মৃতি দিবসের সাথে সাথে সমর্থী দিবসও বলা হয়। আজকের দিনকে রাজ্যাভিষেকের (তাজপোষীর/রাজমুকুট পরানোর) দিনও বলা হয়। কেননা, আজকের দিনে বাপদাদা বিশেষভাবে ব্রহ্মাবাবা নিমিত্ত হওয়া মহাবীর বাচ্চাদের বিশ্ব সেবার মুকুট পরিয়েছেন। বাবা, ব্রহ্মা বাবা নিজে আননোন হয়েছেন আর বাচ্চাদেরকে বিশ্ব সেবার স্মৃতির তিলক দিয়েছেন। বাচ্চাদের করণহার বানিয়েছেন আর স্বয়ং করাবনহার হয়েছেন। নিজ সমান ফরিস্তা রূপের বরদান দিয়ে লাইটের মুকুট পরিয়েছেন এবং বাপদাদা যে মুকুট ও তিলকের বরদান দিয়েছেন সেই অনুসারে বাচ্চাদের কর্তব্য দেখে তিনি খুশি হয়েছেন। বাচ্চারা সেবার বরদান কার্যে পরিণত করেছে, এটা দেখে বাপদাদা খুশি। এখনো পর্যন্ত তোমরা যে পার্ট প্লে করেছ তা' পরে ভবিষ্যতেও প্লে করতে হবে, ব্রহ্মা বাবা বিশেষভাবে তার পদম গুন অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বাহ্ বাচ্চারা বাহ্! তিনি বিদেশেও চক্রভ্রমণ করেছেন, তো কী দেখেছেন? সব বাচ্চা স্নেহে সমাহিত হয়ে আছে, যে শক্তি বাপদাদা দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছে। কেননা, এই দিন বিশেষ স্নেহে সমর্থীদের বরদান প্রাপ্ত করার দিন। বাপদাদা দেখেছেন, কোনো কোনো বাচ্চা খুব নিষ্ঠার সাথে স্মরণে, সেবাতে নিয়োজিত রয়েছে। অমৃতবেলা খুব ভালোভাবে অনুভব করে। অশরীরী হওয়ারও অনুভব করে। কিন্তু যখন কর্মযোগী হওয়ার সময় আসে তখন যোগী হওয়ার আর কর্ম করার এই দুটো কাজ একত্রে করার ক্ষেত্রে পার্থক্য হয়ে যায়। কর্ম আর যোগের যাতে ব্যালেন্স থাকে তার পুরুষার্থ করে তারা। কিন্তু অমৃতবেলায় শক্তিশালী অবস্থার অনুভব করা সত্ত্বেও তাদের কর্মে প্রভেদ হয়ে যায়। পরিশ্রম করতে হয় এবং বাপদাদা সব বাচ্চাকে ব'লে দিয়েছেন যে বিশ্বের বিনাশ আচম্বিতে হওয়ার আছে, সারাদিন অ্যাটেনশন না দেওয়ার কারণে কোনও ধারণার কমতির ফলে কর্মযোগী হওয়ার স্টেজে পার্থক্য এসে যায়। তো বাপদাদা বিনাশের ডেট তো অ্যানাউন্স করবেন না! তোমাদের নিজেদের জীবনকাল কবে সমাপ্ত হবে সেটা জানা আছে তোমাদের? কারও জানা আছে কি যে আমার মৃত্যু অমুক ডেটে হবে! আছে জানা? তারা হাত উঠাও। হঠাৎ যে কোনো কিছু হতে পারে, প্রকৃতির কোনো কারণে যখন কোনো কিছু হয় তখন কতজনের মৃত্যু একসাথে হয়ে যায়! সুতরাং বিশ্বের ডেটের সঙ্কল্প দ্বারা অসতর্ক হওয়া উচিত নয়। তোমাদের জগদম্বার স্লোগান ছিল - কখনও কখন ব'লো না, 'এখন'। কাল যা কিছুই হয়ে যাক কিন্তু আমাকে এভাররেডি থাকতেই হবে। তো এতটা প্রস্তুতি! সবার অ্যাটেনশন আছে? নিজের কর্মের হিসেব চুকিয়ে দিয়েছ? চার সাবজেক্টেই জ্ঞান, যোগ, সেবা আর ধারণা, চার উপায়ে, চারটেতেই এমন প্রস্তুতি আছে? অসীম জগতের সম্পূর্ণ বৈরাগ্যের অনুভব চেক করেছ? নিজের হৃদয়ে এটা চেক করেছ এভাররেডি হয়েছ কিনা! নষ্টমোহ স্মৃতি স্বরূপ হয়েছ! কেননা, ব্রহ্মা বাবাও পুরুষার্থ ক'রে নিজেকে এমন বানিয়েছেন যা অনুভাবী বাচ্চারা দেখেছে, তাঁর হিসেবনিকেশের বাতাবরণ একেবারেই ছিল না। কেননা, অশরীরী হওয়ার বারংবারের অভ্যাস তাঁকে হঠাৎ অশরীরী ক'রে তোলে, একদিন তিনি উড়ে চলে গেছেন। কেউ কী বুঝতে পেরেছিল যে ব্রহ্মা বাবা চলে যাচ্ছেন! তিনি নষ্টমোহ, বাচ্চাদের হাতে হাত থাকা অবস্থায় কোথাও কোনো আকর্ষণ ছিল? ফরিস্তা হয়ে গেছেন। বাচ্চাদের ফরিস্তা হওয়ার তিলক দিয়ে গেছেন। এর কারণ বহু সময়ের অশরীরী হওয়ার অভ্যাস। অনেক অনুভাবী বাচ্চারা যারা সাথে ছিল তারা অনুভব করেছে, কর্ম করতে করতে তিনি অশরীরী হয়ে যেতেন। তো এই যে কর্মযোগে পার্থক্য হয়ে যায়, তার কারণ কর্ম করার সময় এটা স্মৃতিতে ইমার্জ হয় না - আমি আত্মা, এটা তো সবাই জানেই আমি আত্মা কিন্তু কোন আত্মা আমি? আমি করাবনহার আত্মা আর এই সব কর্মেন্দ্রিয় করণহার। করাবনহারের এই স্বমান কর্ম করার সময় স্মৃতি স্বরূপে থাকতে হবে, কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কর্ম করাতে হবে, কিন্তু আমি করাবনহার, আমি মালিক এই সিটে যদি সেট থাকো তবে যে কোনো কর্মেন্দ্রিয় অর্ডারে থাকবে। বিনা সিটে সেট হ'লে কেউ কাউকে মানে না। তো করাবনহার আত্মা আমি, এই কর্মেন্দ্রিয় করণহার, করাবনহার নয়।

যেমন, ব্রহ্মা বাবার অনুভব তোমরা শুনেছো যে ব্রহ্মা বাবা শুরুতে এই অভ্যাস করেছেন, প্রতিদিন সমাপ্তির সময় এই কর্মেন্দ্রিয়ের রাজ দরবার লাগাতেন। পুরানো বাচ্চারা সেই ডায়রি দেখে থাকবে... রোজ তিনি রাজ দরবার লাগাতেন আর করাবনহার মালিক হয়ে সব কর্মেন্দ্রিয়ের সমাচার নিতেন, দিতেন। এত অ্যাটেনশন শুরুতে ব্রহ্মা বাবাও দিয়েছেন তো তোমরাও নিজেদের করাবনহার মনে করো, কেননা, আত্মা রাজা আর এই কর্মেন্দ্রিয় সাথি। সুতরাং এটা চেক করা প্রয়োজন যে আজকের দিনে বিশেষভাবে মন বুদ্ধি সংস্কার, স্বভাব বলো বা সংস্কার বলো এদের কী দশা ছিল? তাৎক্ষণিকভাবে চেক করার জন্য কর্মেন্দ্রিয়ের অ্যাটেনশন থাকতো যে আমার রাজা আমার হালহকিকত জিজ্ঞাসা করবেন, তো আত্মা রাজা করণহার কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা করাবনহার হয়ে চেক করো। নয়তো, দেখা যায় যে অনেক বাচ্চা বলে যে আমরা আমাদের কর্মেন্দ্রিয়কে অর্ডার করি কিন্তু তারা বদলে যায়। আমরা পুরুষার্থ করি কিন্তু কোনো কোনো সংস্কার বা স্বভাব অর্ডারে থাকে না। তার কারণ নিজের এই স্বমানের সিটে সেট থাকো না। বিনা সিটে ব'সে যতই অর্ডার করো, যারা অর্ডার মানার তারা মানবে না। তো কর্ম করতে করত নিজে করাবনহার, মালিক - এই ভাবের সিটে সেট থাকো। কিছু বাচ্চা বাপদাদার সাথে এটাও আত্মিক কথোপকথন করে, বলে বাবা আপনি আমাদের সর্ব শক্তিমান বানিয়েছেন, শুধু শক্তিমান নয়, ব্রাহ্মণ জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই প্রত্যেক বাচ্চাকে সর্বশক্তিমান হওয়ার বরদান দিয়েছেন, স্মরণে আছে নিজের জন্মের বরদান! প্রত্যেক বাচ্চাকে বাবা মাস্টার সর্বশক্তিমান ভব'র বরদান দিয়েছেন। কে বরদান দিয়েছেন? অলমাইটি অথরিটি। কিন্তু তোমরা কমপ্লেন করো যে, যে সময় যে শক্তি প্রয়োজন তা' আসে না। অর্ডার মানে না। সেটা কেন? যখন অলমাইটি অথরিটির বরদান রয়েছে, তার থেকে বড় কিছু নেই তখন বরদানের স্থিতিতে স্থিত থেকে যদি অর্ডার করো তবে এটা হতে পারে না তুমি অর্ডার করবে আর শক্তি মানবে না। এক তো আত্মা মালিক, সর্বশক্তিমানের বরদান প্রাপ্ত হয়েছে, সেই স্বরূপে স্থিত হয়ে আমি মালিক, বরদান রয়েছে, দুই স্বরূপের স্থিতিতে থেকে অর্ডার করো। শক্তি তোমার অর্ডার মানবে না, অসম্ভব। কেননা, বরদান আর বাবার প্রপার্টির অধিকার আছে তোমাদের। সঙ্গমযুগে তোমাদের সকলের সর্বশক্তিমানের টাইটেল প্রাপ্ত হয়েছে। শুধু এই স্থিতিতে তোমরা স্থিত থাকো না। সদা স্থিত থাকো না। এতে কখনো কখনো এসে যায়। এই 'কখনো' শব্দ তোমাদের ব্রাহ্মণ ডিকশনারি থেকে বের ক'রে দাও। এখন-এ মনোযোগ দাও। তোমরা বলোনা বাবা আমরা আপনাকে স্মরণ করি তো আপনি হাজির হয়ে যান। এই অনুভব আছে তোমাদের? হাত উঠাও। অনুভব আছে? এখন দেখ, হাত তো উঠাচ্ছ, বাবা হাজির হয়ে যান। হুজুর হাজির হন, তো এই শক্তি কী? এই শক্তিও তোমাদের বাবার প্রপার্টি হিসেবে প্রাপ্ত হয়েছে। সুতরাং মালিক হয়ে অর্ডার করো। তোমরা মালিক হয়ে অর্ডার করো না, ফলে শক্তি হারিয়ে যায় তো না! তো এই স্থিতিতে অর্ডার করছ, মালিকই নেই তাহলে অর্ডার কেন মানবে?

তো বাপদাদা এখন কী চান? জানো তো না! বাবা এখন এটাই চান যে, তাঁর একেক বাচ্চা কর্ম করার সময়তেও স্বরাজ্য অধিকারী হয়ে রাজা বাচ্চা হওয়ার স্বরাজ্যের সিট যেন না ছাড়ে। সেইজন্য তো রাজা সারাদিন রাজাই থাকে, তাই না! নাকি কখনো রাজা হয় কখনো হয় না। সিংহাসনে বসা অথবা না বসা সেটা আলাদা বিষয়, কিন্তু ঘরে থেকেও আমি রাজা, এটা তো ভুলে যাও না! তো কর্মযোগী এবং অমৃতবেলার যথার্থ যোগের শক্তিশালী স্থিতি এই দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য হওয়া উচিত নয়। ডবল কাজ, কিন্তু তোমরা কে? তোমরা তো বিশ্বের পরিবর্তক, বিশ্ব কল্যাণকারী। সেইজন্য বাবা এটাই চান যে চলতে ফিরতে রাজভাব ভুলো না। সিট ছেড়ো না। বিনা সিটে কেউ অর্ডার মানে না। আজকাল দেখ, তারা সিটের পিছনে কত কিছু করে! নিজের অধিকার নেওয়ার জন্য কত চেষ্টা করে! নিজের অধিকার কেউ ছাড়তে চায় না। তো তোমাদের পরমাত্ম অধিকারে পূর্ণ দাবি থাকা উচিৎ "আমি কে"! সবসময় যে কাজ করছ সেটা করতে করতেও নিজের মনের টাইমটেবল বানিয়ে রাখো। এই কাজ করার সময় মনের স্বমান কী থাকবে? আজকের দিনে কী লক্ষ্য রাখবো আমি! তোমাদের সব কাজের জন্য টাইম যেটাই থাকুক, নিজেদের স্বমানের লিস্ট থেকে ভিন্ন ভিন্ন টাইমটেবল বানাও - যেমন স্থূল কর্মের টাইমটেবল ফিক্স করো তেমনই মনের টাইমটেবল ফিক্স করো। জানা তো আছে এই সময় এই কাজ করতে হবে, তার সাথে স্বমান কী রাখতে হবে? মালিকভাবের অধিকার কোন স্বমানের রূপে রাখতে হবে, মনের এই টাইমটেবল বানাও। টাইমটেবল বানাতে জানো তো না! মাতারা জানে? মাতারা নিজেরাই নিজেদের প্রোগ্রাম বানাও। ভালো খাবার বানাতে হবে, তো সেই সময় কোন স্বমান নিজের বুদ্ধিতে ইমার্জ রাখতে হবে। স্বমানের অনেক মালা আছে। এত বড় মালা আছে যে স্বমান গুনতি ক'রে যাও আর মালায় সমাহিত হও। তো এখন বহুকালের অনেক বাচ্চাও বলে, এখন পর্যন্ত তো বিনাশের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এখন তো ডেট ফিক্স হয়নি, ক'রে নেবো, হয়ে যাবে, এটা অসাবধানতা। বার্তা দেওয়াতেও তোমরা বিশ্ব কল্যাণকারী, তো কিছু বাচ্চা মনে করে এখন সময় বাকি আছে, পরে ভবিষ্যতে বার্তা দিয়ে দেব, কিন্তু না। যাদেরকে পরে বার্তা দেবে তারা তোমাদের অভিযোগ করবে, কী অভিযোগ করবে? তোমরা আগে কেন আমাদের বলোনি, তাহলে তো আমরাও কিছু ক'রে নিতাম, এখন লাস্টে তোমরা বলছ। আমরা তো শুধু তাঁকে চিনে অহো প্রভু! তোমার লীলা অপার, এটাই বলতে পারব। পদ তো পাবো না। কেন? বহু সময়েরও সহযোগ প্রয়োজন। তোমরা সব উত্তরাধিকারী ব'সে আছ তো না! যে নিজেকে মনে করো আমি উত্তরাধিকারী, সে হাত উঠাও, উত্তরাধিকার আছে তোমাদের? আচ্ছা, তোমরা যখন উত্তরাধিকারী তখন ফুল (full) উত্তরাধিকার চাই, নাকি কিছু? সবাই বলবে ফুল উত্তরাধিকার পেতে হবে। তো ফুল উত্তরাধিকার হলো সম্পূর্ণ ২১ জন্ম আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত রয়্যাল প্রজা নয়, রয়্যাল ফ্যামিলিতে আসা। রাজ্য ফ্যামিলিতে আসা। সিংহাসনে একজনই বসবে তো না! যুগল বসবে। কিন্তু ওখানের সভা যখনই হয় তখন রয়্যাল ফ্যামিলির যারা বিশেষ নিমিত্ত আত্মা তারা মুকুটধারী হয়ে বসে। বিনা মুকুটে বসে না। আর এমন নয় যে, সব কার্যে যে পরামর্শ, অভিমত পোষণ করে সেই শুধু রাজত্ব করবে, সকলের পরামর্শ নিয়েই সেখানে সবকিছু করা হয়। সেইজন্য সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নিতে চাইলে প্রথম জন্ম থেকে অন্ত পর্যন্ত পুরো ২১ জন্ম, অর্ধেকও নয়, তোমরা মাঝপথে তো যাচ্ছ না, ওখানে অকাল মৃত্যু তো হওয়ার নেই! তাহলে তোমরা সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নিতে চাও, নাকি অল্পতেই খুশি হবে? বাপদাদা যে শ্রীমত দিতেন তা' মন্সা হোক বা বাচা অথবা কর্মণার জন্য যে শ্রীমতই দিতেন তোমাদের মাতেশ্বরী জগৎ অম্বা সদা এই লক্ষ্যই রাখতেন আমাকে করতেই হবে। যারা সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেবে তারা এই লক্ষ্য বুদ্ধিতে রাখো। 'আকস্মিক (অচানক) এভাররেডি আর বহুসময়' - সেইসঙ্গে এই তিন শব্দ স্মরণে রাখো। সেইজন্য বাপদাদার সব আশার দীপক বাচ্চাদের প্রতি এই বরদান রয়েছে যে, সদা এই তিন শব্দ স্মরণে রেখে সবাই আশার দীপক হওয়ার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখাও। আচ্ছা।

তোমরা যারা ফরেন থেকে তারাও মন্সা সেবাতে সহযোগী তো না! বাপদাদা দেখেছেন যে সব ধর্মের বৃদ্ধি হচ্ছে। এক ধর্ম নয়, শুধু হিন্দু নয় বরং মুসলিম, বুধিস্ট, ক্রিশ্চিয়ন, সব ধর্ম ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিকতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। দেখ, আগে ব্রহ্মাকুমারী নাম শুনে লোকে ভয় পেতো, বিনাশ বিনাশ কী বলে! আর এখন কী বলে? এখন বলে বলো বিনাশ কবে হবে, কীভাবে হবে আর কী করবো? হবে তো অবশ্যই, এটা তো গ্যারান্টেড। তোমাদের সবার গ্যারান্টি আছে তো না! বিদেশের হও বা ভারতের, তোমাদের সবার গ্যারান্টি তো আছে তাই না! তোমাদের সহযোগ আছেই। হওয়ারই আছে। তালি বাজাও। সবারই ভালো উদ্যম আছে। আর নিমিত্ত হওয়া আত্মারা তারা পাণ্ডব হোক বা শক্তি উভয় পক্ষেই উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে। এখন শুধু বাপদাদা ইশারা দিয়েছেন তীব্র পুরুষার্থ করো। পুরুষার্থ নয়, পুরুষার্থের সময় চলে গেছে, এখন তীব্র পুরুষার্থের সময়। আর কখনো কখনোতে থেমো না, এখন। এখন করতে হবে, এখন হতে হবে। তো হতেই হবে। আচ্ছা।

চতুর্দিকের বাচ্চাদেরকে বাপদাদা স্মৃতি দিবসের স্মরণ-স্নেহ দিচ্ছেন। বাপদাদার হৃদয়ে সব বাচ্চা সমাহিত হয়ে আছে এবং সব বাচ্চার হৃদয়ে বাবা সমাহিত। বাবার হৃদয়ে বাচ্চারা সমাহিত আছে। তো অভিনন্দন, অভিনন্দন, আর অভিনন্দনের সাথে নমস্কারও।

বরদান:-
পাওয়ারফুল স্থিতির দ্বারা রচনার সমূহ আকর্ষণ হতে দূরে থেকে মাস্টার রচয়িতা ভব

যখন মাস্টার রচয়িতা, মাস্টার নলেজফুলের পাওয়ারফুল স্থিতি বা নেশাতে থাকবে, তখন রচনার সমূহ আকর্ষণের ঊর্ধ্বে মানবে, পারবে। কেননা, এখন রচনা আরও ছলাকলা, ভিন্ন ভিন্ন রূপ রচনা করবে, সেইজন্য শৈশব ভুলে, দীর্ঘসূত্রিতা ভুলে, আলস্য ভুলে, বেপরোয়াভাব ভুলে যা কিছু আছে সেসব ভুলে নিজের পাওয়ারফুল, শক্তিস্বরূপ, শস্ত্রধারী স্বরূপ, সদা জাগ্রত জ্যোতি স্বরূপ প্রত্যক্ষ করো তবে বলা হবে মাস্টার রচয়িতা।

স্লোগান:-
মনের স্থিতিতে এমন হার্ড হও যাতে কোনো পরিস্থিতি গলিয়ে দিতে না পারে।

অব্যক্ত ইশারা :- সদা অবিচল, অনড়, একরস স্থিতির অনুভব করো যে কোনও বাতাবরণ, বায়ুমণ্ডলে থাকো না কেন কিন্তু স্থিতি যেন অবিচল, অনড়, একরস থাকে। নিমিত্ত হওয়া কেউ যদি অভিমত প্রকাশ করে তা'তে কনফিউজ হয়ো না। কেননা, যারা নিমিত্ত হয়েছে তারা অনুভাবী হয়ে গেছে। যদি তাদের কোনো ডিরেকশন স্পষ্ট নাও হয় তবুও চাঞ্চল্যে আসা উচিৎ নয়। ধৈর্যের সঙ্গে বলো এটা বুঝতে চেষ্টা করবো, তখন স্থিতি একরস, অবিচল, অনড় থাকবে।