04-01-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 30-11-2008 মধুবন


"ফুলস্টপ লাগিয়ে সম্পূর্ণ পবিত্রতার ধারণা ক'রে, মন্সা সকাশ দ্বারা সুখ শান্তির কণিকা দেওয়ার সেবা করো"


আজ বাপদাদা চতুর্দিকে তাঁর মহান বাচ্চাদের দেখছেন। তারা কী মহত্ত্ব দেখিয়েছে? দুনিয়া যেটা অসম্ভব বলে সেটাকে সহজে সম্ভব করে দেখিয়েছে, সেটা হলো পবিত্রতার ব্রত। তোমরা সবাই পবিত্রতার ব্রত ধারণ করেছ তো না! বাপদাদার থেকে পরিবর্তনের দৃঢ় সঙ্কল্পের ব্রত নিয়েছ। ব্রত করা অর্থাৎ বৃত্তি দ্বারা পরিবর্তন করা। কী বৃত্তি পরিবর্তন করেছ? সঙ্কল্প করেছো আমরা সবাই ভাই ভাই, এই বৃত্তি পরিবর্তন দ্বারা কত বিষয়ে ভক্তিতেও ব্রত নেয়, কিন্তু তোমরা সবাই বাবার কাছে দৃঢ় সঙ্কল্প করেছ কেননা, ব্রাহ্মণ জীবনের ফাউন্ডেশন হলো পবিত্রতা আর পবিত্রতার দ্বারাই পরমাত্ম ভালোবাসা আর পরমাত্ম সর্বপ্রাপ্তি হচ্ছে। মহাত্মা যেটা কঠিন মনে করে অসম্ভব মনে করে, তোমরা সেই পবিত্রতাকে স্বধর্ম মনে করো। বাপদাদা দেখছেন, কিছু বাচ্চা যারা ভালো ভালো সঙ্কল্প করেছে। তারা দৃঢ় সঙ্কল্পের দ্বারা প্র্যাকটিক্যালি পরিবর্তন করে দেখাচ্ছে। চতুর্দিকের এমন মহান বাচ্চাদের বাপদাদা হৃদয়ের অনেক অনেক শুভাশিস দিচ্ছেন।

তোমরাও সবাই মন-বচন-কর্ম, বৃত্তি দৃষ্টি দ্বারা পবিত্রতার অনুভব করছ তো না! পবিত্রতার বৃত্তি অর্থাৎ প্রত্যেক আত্মার প্রতি শুভ ভাবনা শুভ কামনা রাখা। দৃষ্টি প্রত্যেক আত্মাকে আত্মিক স্বরূপে দেখবে, নিজেকেও সহজভাবে সদা আত্মিক স্থিতিতে অনুভব করবে। ব্রাহ্মণ জীবনের মহত্ত্ব হলো মন বচন কর্মের পবিত্রতা। যদি পবিত্রতা না থাকে, তাহলে ব্রাহ্মণ জীবনের যে মহিমা রয়েছে সদা পবিত্রতার বল দ্বারা নিজেকে আশীর্বাদ দেওয়ার, তখন কী আশীর্বাদ দিতে পারবে? তোমরা পবিত্রতার দ্বারা সদা নিজেকেও খুশি অনুভব করো আর অন্যদেরও তোমরা খুশি দাও। পবিত্র আত্মার তিন বিশেষ বরদান প্রাপ্ত হয় - নিজেকে নিজে বরদান দেয়, যার ফলে সহজে বাবার প্রিয় হয়ে যায়। দুই- বরদাতা বাবার নিয়ারেস্ট আর ডিয়ারেস্ট বাচ্চা হয়ে যায়, সেইজন্য বাবার আশীর্বাদ আপনা থেকেই প্রাপ্ত হয় এবং সদা প্রাপ্ত হয়। তিন - যে ব্রাহ্মণ পরিবারের তোমরা বিশেষ নিমিত্ত হয়েছ তাদের দ্বারাও আশীর্বাদ প্রাপ্ত হতে থাকে। তিন আশীর্বাদ দ্বারা সদা উড়তে থাকো আর উড়াতে থাকো। তো তোমরাও সবাই নিজেকে জিজ্ঞাসা করো নিজেকে চেক করো, পবিত্রতার বল আর পবিত্রতার ফল সদা অনুভব করো কিনা! সদা আধ্যাত্মিক নেশা শীর্ষে থাকে? কখনো কখনো কোনো কোনো বাচ্চা যখন অমৃতবেলাতে মিলন উদযাপন করে, আত্মিক বার্তালাপ করে তখন কী বলে জানো তোমরা? পবিত্রতার দ্বারা অতীন্দ্রিয় সুখের যে ফল প্রাপ্ত হয় তা' সদা থাকে না। কখনো থাকে, কখনো থাকে না। কেননা, পবিত্রতার ফলই অতীন্দ্রিয় সুখ। তো নিজেকে জিজ্ঞাসা করো আমি কে? অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভূতিতে থাকো, নাকি কখনো কখনো? নিজেদের কী বলে থাকো? সবাই নিজের নাম লেখার সময় কী লেখ? বি.কে. অমুক... বি.কে. অমুক। আর নিজেকে বলো মাস্টার সর্বশক্তিমান। সবাই তো না! মাস্টার সর্বশক্তিমান? যে মনে করে আমি মাস্টার সর্বশক্তিমান, সদা, কখনো কখনো নয়, সে হাত উঠাও। সদা? দেখো, এ' ব্যাপারে ভাবতে হবে সদা কিনা! ডবল ফরেনার্স হাত তুলছে না। টিচার্স তোলো, সদা হয়? অযথা তুলো না, যারা সদা হও, সেই সদা হওয়া তোমরা হাত তোলো। খুব কম আছে। পাণ্ডব হাত তোলো, পিছনের সারিতে খুব কম আছে। সমগ্র সভা হাত তুলছে না। আচ্ছা তোমরা মাস্টার সর্বশক্তিমান, তাহলে সেই সময় শক্তি কোথায় চলে যায়? মাস্টার এর অর্থই হলো মাস্টার বাবার থেকেও উঁচু। তো চেক করো - অবশ্যই পিওরিটির ফাউন্ডেশনে কিছু খামতি থেকে থাকবে। কী খামতি আছে? মনে অর্থাৎ সঙ্কল্পে দুর্বলতা আছে, নাকি বোলে দুর্বলতা আছে, নাকি কর্মে দুর্বলতা আছে, নাকি স্বপ্নে দুর্বলতা আছে! কেননা, পবিত্র আত্মার মন-বচন-কর্ম, সম্বন্ধ-সম্পর্ক, স্বপ্ন আপনা থেকেই শক্তিশালী হয়। যখন ব্রত নিয়েই নিয়েছ বৃত্তি পরিবর্তন করার তখন কখনো কখনো কেন? সময়কে দেখছ, সময়ের ডাক, ভক্তদের চিৎকার, আত্মাদের আকুলতা শুনছ, তাছাড়া, আকস্মিকতার পাঠ তো সবার পাকা হয়েছে। সুতরাং ফাউন্ডেশনে দুর্বলতা অর্থায় পবিত্রতার দুর্বলতা। যদি বোলেও শুভ ভাবনা শুভ কামনা না থাকে, পবিত্রতার বিপরীত হয় তখনও সম্পূর্ণ পবিত্রতার যে সুখ আছে, তার অতীন্দ্রিয় সুখ অনুভব হতে পারে না। কেননা, ব্রাহ্মণ জীবনের লক্ষ্যই হলো অসম্ভবকে সম্ভব করা। এতে যত আর ততো শব্দ আসে না। যতটা ততটা নেই। তো কাল অমৃতবেলায় প্রত্যেকে বিশেষভাবে নিজেকে, অন্যের ব্যাপারে ভেবো না, অন্যকে দেখো না বরং নিজেকে নিজে চেক করো - কত পার্সেন্টেজে পবিত্রতার ব্রত পালন করছো! চার বিষয়ে চেক করো - এক বৃত্তি, দুই - সম্বন্ধ-সম্পর্কে শুভ ভাবনা শুভ কামনা, এ' তো এরকমই! না। বরং সেই আত্মার প্রতিও শুভ ভাবনা রাখতে হবে। যখন তোমরা সবাই নিজেকে বিশ্ব পরিবর্তক মেনেছ। সবাই নিজেকে মনে করো আমি বিশ্ব পরিবর্তক? হাত তোলো। এক্ষেত্রে উঠিয়ে থাকো, এতে তো অনেক অনেক হাত তুলেছো, এতেও অভিনন্দন তোমাদের। কিন্তু তোমাদের সবার কাছে বাপদাদার একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা আছে, জিজ্ঞাসা করবেন প্রশ্ন? জিজ্ঞাসা করবেন? তোমরা যখন বিশ্ব পরিবর্তক হয়েছে তো বিশ্ব পরিবর্তনে প্রকৃতির এই পাঁচ তত্ত্বও এসে যায়। তাদের পরিবর্তন করতে পারো আর নিজেকে বা সাথীদের, পরিবারকে পরিবর্তন করতে পারো না? বিশ্ব পরিবর্তক অর্থাৎ আত্মাদের প্রকৃতিকে সব কিছু পরিবর্তন করতে হবে। তো নিজেদের প্রতিজ্ঞা স্মরণ করো, বাবার কাছে সবাই প্রতিজ্ঞা করেছ, অনেক বার। কিন্তু বাপদাদা এটাই দেখছেন যে সময় অনেক ফাস্ট আসছে, সবার আর্ত চিৎকার অনেক বাড়ছে। সুতরাং যারা চিৎকার শুনছে আর পরিবর্তন করছে সেই উপকারী আত্মারা কে? তোমরাই তো না!

বাপদাদা আগেও বলেছেন পরোপকারী বা বিশ্ব উপকারী হওয়ার জন্য তিন শব্দ শেষ করে দিতে হবে। তোমরা তো এটা জানো। জানার ব্যাপারে তো তোমরা চতুর, বাপদাদা জানেন সবাই তোমরা চতুর। প্রথম একটা শব্দ পরচিন্তন, দুই পরদর্শন আর তিন পরমত। এই তিন শব্দকে শেষ করে পরোপকারী হতে হবে। যা বিঘ্নরূপ হয় তা' এই তিন শব্দ, মনে আছে তো না! নতুন বিষয় নয়। তো কাল চেক ক'রো। অমৃতবেলায় বাপদাদাও পরিভ্রমণ করেন, তিনি দেখবেন কী করছো! কেননা, এখন আবশ্যক সময় অনুসারে আকুলতা অনুযায়ী প্রত্যেক দুঃখী আত্মাকে মন্সা সকাশ দ্বারা সুখ শান্তির কণিকা দাও। কারণ কী? বাপদাদা কখনো কখনো বাচ্চাদের হঠাৎ ক'রে দেখেন তারা কী করছে! কেননা, বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসা আছে তো না! তাছাড়া, বাচ্চাদের সাথে যেতে হবে একলা তো যাবেন না। তোমরা সাথে যাবে তো না! যাবে! যাবে তোমরা! সাথে যাবে? সামনের সারিতে তোমরা উঠাচ্ছ না? যাবে না? যাবে তো না! বাচ্চাদের কারণে বাপদাদা, অ্যাডভান্স পার্টি, তোমাদের দাদিরা, তোমাদের বিশেষ পাণ্ডব তোমাদের সকলের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁরাও হৃদয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছেন যে আমরা সবাই একসাথে যাবো। কিছু সংখ্যক নয়, সবার সবাই সাথে যাবে। তো কাল অমৃতবেলায় নিজেকে চেক ক'রো কোন বিষয়ে খামতি আছে। মন্সাতে, বাণীতে অথবা কর্মণাতে আসতে কিনা! বাপদাদা একবারই সব সেন্টারে পরিভ্রমণ করেছেন। বাবা বলবেন কী দেখেছেন? কোন বিষয়ে খামতি আছে? তো এটাই দেখা গেছে যে এক সেকেন্ডে পরিবর্তন ক'রে ফুলস্টপ লাগানোর ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণতা রয়েছে। যতক্ষণে ফুলস্টপ লাগাও ততক্ষণে না জানি কি কি ঘটে যায়! বাপদাদা বলেছেন লাস্ট টাইমের লাস্ট একটা মুহূর্ত হবে যাতে ফুলস্টপ লাগাতে হবে। কিন্তু কী দেখেছেন? লাগাতে হবে ফুলস্টপ কিন্তু লেগে যায় কমা। তোমরা অন্যের বিষয়ে স্মরণ করো - এটা কেন হয়েছে! এটা কী হয়েছে! - এতে বিস্ময়সূচক চিহ্ন লেগে যায়, ফুলস্টপ লাগে না। কিন্তু কমা আশ্চর্যের লক্ষণ আর কিউ কোশ্চেনের, এসবের ক্যু লেগে যায়। তো এটা চেক করতে হবে। যদি ফুলস্টপ লাগানোর অভ্যাস না হয় তবে অন্ত মতির গতিপ্রাপ্তি শ্রেষ্ঠ হবে না। উঁচু হবে না। সেইজন্য বাপদাদা হোম ওয়ার্ক দিচ্ছেন যে কাল অমৃতবেলায় বিশেষ চেক করবে আর চেঞ্জ করতে হবে। এক সপ্তাহ সেকেন্ডে ফুলস্টপ লাগানোর বারবার অভ্যাস করো এবং ১৮-ই জানুয়ারিতে, জানুয়ারি মাসে সকলের বাবা সমান হওয়ার উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগে, তো ১৮-ই জানুয়ারি সবাইকে নিজের চিরকুট লিখে বাক্সে রাখতে হবে যে, ১৮ তারিখ পর্যন্ত কী রেজাল্ট ছিল! ফুলস্টপ লেগেছে, নাকি অন্য আরও মাত্রা লেগে গেছে? পছন্দ হয়েছে? পছন্দ তোমাদের? কাঁধ নাড়াও । কেননা, বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার অনেক ভালোবাসা আছে, একলা যেতে চান না তো কী করবেন? এখন ফাস্ট তীব্র পুরুষার্থ করো। এখন শিথিলভাবে পুরুষার্থ সফলতা দিতে পারবে না।

পিওরিটিকে পার্সোন্যালিটি, রিয়ালিটি, রয়্যালটি বলা হয়ে থাকে। তো নিজের রয়্যালটি স্মরণ করো। অনাদি রূপেও তোমরা আত্মারা বাবার সাথে নিজের দেশে বিশেষ আত্মা। যেমন, আকাশে বিশেষ নক্ষত্র ঝকমক করে, তেমনই অনাদি রূপে তোমরা বিশেষ নক্ষত্ররা ঝকমক করো। তো আদিকালের নিজের রয়্যালটি স্মরণ করো। তার পর যখন সত্যযুগে আসো তখনকার দেবতা রূপের রয়্যালটি স্মরণ করো। সবার মাথার ওপরে রয়্যালটির লাইটের মুকুট আছে। অনাদি আদি কত রয়্যাল! এরপর দ্বাপরে এসো, তখনও তোমাদের চিত্রের মতো রয়্যালটি অন্য কারও নেই। নেতাদের, অভিনেতাদের, ধর্ম আত্মাদের চিত্র তৈরি হয়, কিন্তু তোমাদের চিত্রের পূজা আর তোমাদের চিত্রের বিশেষত্ব কত রয়্যাল! চিত্র দেখেই সবাই খুশি হয়ে যায়। চিত্র দ্বারাও তারা কত আশিস নিয়ে থাকে। তো এই সব রয়্যালটি পবিত্রতার। পবিত্রতা ব্রাহ্মণ জীবনের জন্মসিদ্ধ অধিকার। পবিত্রতার অভাব সমাপ্ত হওয়া দরকার। এমনি এমনিই হয়ে যাবে না, সেই সময় বৈরাগ্য এসে যাবে তো হয়ে যাবে। খুব ভালো ভালো কথা বলে। বাবা আপনি চিন্তা করবেন না, হয়ে যাবে। কিন্তু বাপদাদাকে এই জানুয়ারি মাসে স্পেশালি পবিত্রতায় প্রত্যেককে সম্পন্ন করতে হবে। পবিত্রতা শুধু ব্রহ্মচর্য নয়। ব্যর্থ সঙ্কল্পও অপবিত্রতা। ব্যর্থ বোল, ব্যর্থ বোলের রূপ যাকে বলা হয়ে থাকে ক্রোধের অংশ - কর্তৃত্বপরায়ণতা। সংস্কার এমন বানাও যাতে দূর থেকে তোমাদের দেখেই পবিত্রতার ভাইব্রেশন নিতে পারে। কেননা, রেজাল্ট হিসাবে তোমাদের প্রাপ্ত বিষয় পবিত্রতা যাতে আত্মাও পবিত্র শরীরও পবিত্র। তোমরা ডবল পবিত্রতা প্রাপ্ত করেছ।

যখনই কোনও আত্মা প্রথম এখানে আসে তখন বাবার কোন বরদান তার প্রাপ্ত হয়? স্মরণে আছে? পবিত্র ভব যোগী ভব। তো দুটো জিনিস ধারণ করো। এক পবিত্রতা, আর দুই ফুলস্টপ যোগী। পছন্দ হয়েছে তোমাদের? বাপদাদা অমৃতবেলায় পরিক্রমণ করবেন, সেন্টারেরও পরিক্রমণ করবেন। বাপদাদা তো এক সেকেন্ডে চতুর্দিকে চক্কর লাগাতে পারেন।

তো জানুয়ারির এই অব্যক্ত মাসের কোনো নতুন প্ল্যান বানাও। মন্সা সেবা, মন্সা স্থিতি আর অব্যক্ত কর্ম এবং বোল এগুলো বাড়াও। তো ১৮-ই জানুয়ারি বাপদাদা সবার রেজাল্ট দেখবেন। ভালোবাসা রয়েছে যে না! ১৮-ই জানুয়ারি অমৃতবেলা থেকে ভালোবাসারই বার্তালাপ ক'রে থাকো। সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করে - কেন বাবা অব্যক্ত হয়েছেন? তো বাবাও অনুযোগ করেন, সাকার রূপে থাকা অবস্থায় তোমরা কবে বাবা সমান হবে?

তো বাবা আজ একটু বিশেষ অ্যাটেনশন দেওয়াচ্ছেন। ভালোবাসাও দিচ্ছেন, শুধু অ্যাটেনশন দেওয়াচ্ছেন না। কেননা, বাবা এটাই চান যে আমার এক বাচ্চাও যেন থেকে না যায়। সব কর্মের শ্রীমত চেক করো। অমৃতবেলা থেকে রাত পর্যন্ত সব কর্মের যে শ্রীমতই প্রাপ্ত হয়েছে তা' চেক করো। তোমরা মজবুত তো না! সাথে যেতে হবে তো না! সাথে যাবে তো হাত তোলো, যাবে সাথে? আচ্ছা। টিচার্স? আচ্ছা। যারা পেছনে আছ তারা হাত উঠাও। যারা চেয়ারে বসে আছ তারা হাত তোলো, পাণ্ডব হাত তোলো। তোমরা সমান হবে তবে তো হাতে হাত রেখে যাবে, তাই না! করতেই হবে, হতেই হবে - এই দৃঢ় সঙ্কল্প করো। ১৫-২০ দিন এই দৃঢ়তা থাকে তারপর আবার ধীরে ধীরে সামান্য গড়িমসি ভাব এসে যায়। তো গড়িমসি ভাব শেষ করো। দেখা যায় যে বড়জোর বেশি হ'লে একমাসের পর একটু একটু আসাবধানতা শুরু হয়ে যায়। তো এখন এই বছর সমাপ্ত হবে, সুতরাং তোমরা কী সমাপ্ত করবে? বর্ষ সমাপ্ত করবে নাকি বর্ষের সাথে তোমাদের যে সঙ্কল্পে, যে ধারণাতে দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো সমাপ্ত করবে? করবে তো না! হাত উঠাচ্ছ না। অটোমেটিক্যালি হৃদয়ে এই রেকর্ড বাজা উচিত এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে। শুধু যেতে হবে তাই নয়, বরং রাজ্যতেও আসতে হবে। আচ্ছা যারা প্রথমবার এসেছো বাপদাদার সাথে মিলন উদযাপন করতে তারা হাত তোলো। উঠে দাঁড়াও।

তো যারা প্রথমবার এসেছ তাদেরকে বাপদাদা বিশেষ অভিনন্দন জানাচ্ছেন। লেট এসেছ, টু লেট-এ আসনি। কিন্তু তীব্র পুরুষার্থের বরদান সদা স্মরণে রেখো, তীব্র পুরুষার্থ করতেই হবে। করবো, বো বো ক'রো না। করতেই হবে। লাস্ট সো ফাস্ট এবং ফার্স্ট আসতে হবে। এখন কী করতে হবে? আচ্ছা।

চতুর্দিকের মহান পবিত্র আত্মাদের বাপদাদার হৃদয়ের বিশেষ শুভাশিস, হৃদয়ের ভালোবাসা আর হৃদয়ে সমাহিত করার অভিনন্দন। বাপদাদা জানেন যে যখনই প্রবেশ (পদার্পণ) ঘটে, তখন ইমেল কিংবা পত্র ভিন্ন ভিন্ন সাধন দ্বারা চতুর্দিকের বাচ্চারা স্মরণের স্নেহ-সুমন পাঠিয়ে থাকে এবং বাপদাদাকে শোনানোর আগে কেউ দেবে, তার আগেই সবার স্মরণ-স্নেহ পৌঁছে যায় কেননা, এভাবে স্মরণ করে যে হারানিধি বাচ্চারা রয়েছে তাদের কানেকশন খুব ফাস্ট পৌঁছায়। তোমরা তিন চারদিন পর সমুখে মিলিত হও, কিন্তু প্রকৃত যোগ্য যে আত্মারা আছে তাদের স্মরণ-স্নেহ সেই মুহূর্তে বাপদাদার কাছে পৌঁছে যায়। যারাই হৃদয়ে স্মরণ করেছে, সাধন পায়নি, তাদেরও স্মরণ-স্নেহ পৌঁছেছে, আর বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে পদম পদম পদম গুন স্মরণ-স্নেহের রেসপন্স দিচ্ছেন।

চতুর্দিকে এখন দুটো কথায় গুরুত্ব দাও - সম্পূর্ণ পবিত্রতা সমগ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে ছড়িয়ে দিতে হবে। যে দুর্বল তাকে সহযোগ দিয়ে তৈরি করতে হবে। এটা বড়ই পুণ্যের। ছেড়ে দিও না, এ' তো এমনি, এ' তো বদলাবেই না, এই অভিশাপ দিয়ে দিও না, পুণ্যের কাজ করো। বদল ক'রে দেখাবো, বদলাতেই হবে। তাদের উৎসাহ বাড়াও, যে পড়ে আছে তাকে ফেলে দিও না, সহায়তা করো, শক্তি দাও। তো চতুর্দিকে সৌভাগ্যশালী, প্রসন্নচিত্ত, খুশি বিতরণকারী বাচ্চাদের অনেক অনেক স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার।

বরদান:-
চেকিং করার বিশেষত্বকে নিজস্ব সংস্কার বানিয়ে মহান আত্মা ভব

যে সঙ্কল্পই করো, বোল বলো, কর্ম করো বা সম্বন্ধ-সম্পর্কে থাকো, শুধু এটা চেক করো যে এ' বাবা সমান, আগে এক ক'রে দাও, তারপরে প্র্যাকটিক্যালি আনো। যেমন, জাগতিক স্তরেও অনেক আত্মার সংস্কার থাকে আগে চেক করবে তার পরে স্বীকার করবে। তেমন তোমরা মহান পবিত্র আত্মা, সুতরাং চেক করার মেশিনারি মজবুত করো। এর দ্বারা নিজস্ব সংস্কার বানাও - এটাই সর্বাপেক্ষা বড় মহত্ত্ব।

স্লোগান:-
সম্পূর্ণ পবিত্র আর যোগী হওয়াই স্নেহের রিটার্ন দেওয়া।

অব্যক্ত ইশারা :- এই অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবনমুক্ত স্থিতির অনুভব করো এখন যে পরিস্থিতিই আসছে বা আসবে, প্রকৃতির পাঁচ তত্ত্বই খুব ভালো ক'রে ঝাঁকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু জীবনমুক্ত বিদেহী অবস্থার অভ্যাসী আত্মা অটল-অনড় পাস উইথ অনার হয়ে সব পরিস্থিতি সহজে পাস ক'রে নেবে, সেইজন্য নিরন্তর কর্মযোগী, নিরন্তর সহজ যোগী, নিরন্তর মুক্ত আত্মার সংস্কার এখন থেকে অনুভবে আনতে হবে।