04.03.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের ধান্ধা হলো মানুষকে সজাগ করা, রাস্তা বলে দেওয়া, যত তোমরা দেহী-অভিমানী হয়ে বাবার পরিচয় শোনাবে ততই কল্যাণ হবে"

প্রশ্নঃ -
গরীব বাচ্চারা নিজেদের কোন্ বৈশিষ্ট্যের আধারে বিত্তশালীদের থেকে এগিয়ে যায়?

উত্তরঃ  
গরীবদের মধ্যে দান-পুণ্যের বিষয়ে বেশ শ্রদ্ধা থাকে। গরীব ভক্তও মনের টানে তা করে। সাক্ষাৎকারও গরীবদের হয়। বিত্তশালীদের নিজেদের ঐশ্বর্যের নেশা থাকে। তাদের দ্বারা পাপ বেশী হয়, সেইজন্য গরীব বাচ্চারা এগিয়ে যায়।

গীতঃ-
ওম্ নমঃ শিবায়...

ওম্ শান্তি ।
তুমি মাতা-পিতা আমরা বালক তোমার.... এ তো নিশ্চয়ই পরমপিতা পরমাত্মার মহিমা গাওয়া হয়েছে। এইটা তো হলো ক্লীয়ার মহিমা কারণ তিনি হলেন রচয়িতা। লৌকিক বাবা - মা'ও বাচ্চাদের রচয়িতা। পারলৌকিক বাবাকেও রচয়িতা বলা হয়। বন্ধু, সহায়ক.... অনেক মহিমা গায়। লৌকিক বাবার এতো মহিমা নেই। পরমপিতা পরমাত্মার মহিমাই হলো আলাদা। বাচ্চারাও মহিমার করে - তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, নলেজফুল। ওনার মধ্যে সমগ্র জ্ঞান নিহিত আছে। এই নলেজ কোনো শরীর নির্বাহ করার পঠন-পাঠন নয় । ওনাকে জ্ঞানের সাগর নলেজফুল বলা হয়। তো অবশ্যই ওনার কাছে জ্ঞান আছে - কিন্তু কোন্ জ্ঞান? এই সৃষ্টি চক্র কীভাবে আবর্তিত হয় তার জ্ঞান। তাই তিনিই হলেন জ্ঞানের সাগর পতিত-পাবন। কৃষ্ণকেও জ্ঞানের সাগর বা পতিত-পাবন বলা যাবে না। ওনার মহিমা একদম আলাদা। দু'জনই হলেন ভারতবাসী। শিববাবারও মহিমা ভারতে। শিব জয়ন্তীও ভারতে পালন করা হয়। কৃষ্ণের জয়ন্তীও পালন করা হয়। গীতারও জয়ন্তী পালন করা হয়। ৩ জয়ন্তী হলো মুখ্য। এখন প্রশ্ন ওঠে প্রথমে কার জয়ন্তী হবে? শিবের না কৃষ্ণের? মানুষ তো বাবাকে একদমই ভুলে গিয়েছে। কৃষ্ণের জয়ন্তী খুবই ধুমধাম করে করে, ভালোবেসে পালন করা হয়। শিব জয়ন্তীর ব্যাপারে কারোর এতো জানা নেই, না প্রচার আছে যে শিব এসে কি করেছেন? ওনার বায়োগ্রাফি কারোর জানা নেই। কৃষ্ণের ব্যাপারে তো অনেক কথা লিখে দিয়েছে। গোপীরা তার বাঁশীর টানে বাইরে ছুটেছে, এই ঐ করেছে। কৃষ্ণের চরিত্রের উপর বিশেষ একটি ম্যাগাজিনও বের করে। শিবের চরিত্র ইত্যাদির বিষয়ে কিছু নেই । কৃষ্ণের জয়ন্তী কবে হয়েছে তারপর গীতার জয়ন্তী কবে হয়েছে? কৃষ্ণ যখন বড় হবে তখন তো জ্ঞান শোনাবে। কৃষ্ণের বাল্যকালকে তো দেখানো হয়, ঝুড়িতে করে অন্য পারে নিয়ে গিয়েছিলো। বড় অবস্থায় দেখানো হয়, রথের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। চক্র চালাচ্ছেন। ১৬--১৭ বছরের হবে। আর সব চিত্র ছোটোবেলার দেখানো হয়েছে। এখন গীতা কখন শুনিয়ে ছিলেন? সেই সময় তো শোনাতে পারেন না। যখন লেখে অমুককে অপহরণ করেছেন, এই করেছেন। ঐ সময় তো জ্ঞান শোনানো শোভাও পায় না। যখন বৃদ্ধ হবে তখন তো জ্ঞান শোনাবে। গীতাও কিছু সময় পরে শুনিয়েছিলেন। এখন শিব কি করেছিলেন কিছু জানা নেই। অজ্ঞান নিদ্রাতে নিদ্রিত হয়ে আছে। বাবা বলেন আমার বায়োগ্রাফি কারোর জানা নেই। আমি কি করেছি? আমাকে তো পতিত-পাবন বলে। আমি যখন আসি তখন সাথে গীতা রয়েছে । আমি সাধারণ বৃদ্ধ অনুভাবী দেহে আসি। শিব জয়ন্তী তোমরা ভারতেই পালন করো। কৃষ্ণ জয়ন্তী, গীতা জয়ন্তী এই তিন হলো মুখ্য। রামের জয়ন্তী তো পরে হবে। এই সময় যা কিছু হয় পরে সেইটা পালন করা হয়। সত্যযুগ ত্রেতাতে জয়ন্তী ইত্যাদি হয় না। সূর্যবংশী থেকে চন্দ্রবংশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করে আর কারোর মহিমাই নেই। শুধু রাজাদের করোনেশন বা অভিষেক পালিত হয়। আজকাল তো সব বার্থ-ডে পালন করে। সে সব তো হলো কমন ব্যাপার। কৃষ্ণ জন্ম নিলেন, বড় হয়ে রাজধানী পরিচালনা করলেন, এর মধ্যে তো মহিমার কোনো ব্যাপারই নেই। সত্যযুগ - ত্রেতাতে সুখের রাজ্য চলে এসেছে। সেই রাজ্য কখন - কীভাবে স্থাপন হয়েছিল ! এ'সব বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি প্রতি কল্পে, কল্পের সঙ্গমযুগে আসি। কলিযুগের অন্ত হলো পতিত দুনিয়া। সত্যযুগ ইত্যাদি পবিত্র দুনিয়া। আমি বাবাও। আমি বাচ্চাদের অবিনাশী উত্তরাধিকারও প্রদান করবো। পূর্ব কল্পেও তোমাদের উত্তরাধিকার দিয়েছিলাম, সেইজন্য তোমরা উৎসব পালন করে আসছো। কিন্তু নাম ভুলে যাওয়ার কারণে কৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছো। শিব অনেক বড়, তাই না! প্রথমে তো যখন ওনার জয়ন্তী হবে তখন তারপর সাকার মানুষের হবে। আত্মারা তো বাস্তবে উপর থেকে নামতে থাকে। আমারও অবতরণ হয়। কৃষ্ণ মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছেন, লালিত পালিত হয়েছিল । সবাইকে পুর্নজন্মে আসতেই হবে। শিববাবা পুর্নজন্ম গ্রহণ করেন না। কিন্তু তিনি আসেন ! তাই বাবা বসে এই সব বোঝান। ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্কর ত্রিমূর্তি দেখানো হয় । ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা, কারণ শিবের তো নিজের শরীরই নেই। নিজে বসে বলতে থাকেন আমি এঁনার বৃদ্ধ দেহে আসি। ইনি নিজের জন্মকে জানেন না। এঁনার অনেক জন্মের শেষে এই জন্ম। তাই সর্বপ্রথম বোঝাতে হবে। শিব জয়ন্তী বড় নাকি শ্রীকৃষ্ণ জয়ন্তী বড়? যদি কৃষ্ণ গীতা শুনিয়ে থাকেন তবে গীতা জয়ন্তী তো শ্রীকৃষ্ণের অনেক বছর পরে হতে পারে, যখন কৃষ্ণ বড় হয়। এই সব বোঝার ব্যাপার আছে যে না! কিন্তু বাস্তবে শিব জয়ন্তীর একদম পরেই হয় গীতা জয়ন্তী। এই পয়েন্টসও বুদ্ধিতে রাখতে হবে। নোট (লিখে) করে না রাখলে মনে থাকবে না। বাবা এতো কাছে আছেন, ওনার রথ আছে, তিনিও বলেন সব পয়েন্টস ঠিক সময়ে মনে এসে যাওয়া, কঠিন হয়। বাবা বুঝিয়েছেন সবাইকে দুই বাবার রহস্য বোঝাও। শিববাবার জয়ন্তী পালন করে, তিনি অবশ্যই আসেন। যেমন ক্রাইস্ট, বুদ্ধ ইত্যাদি এসে নিজের ধর্ম স্থাপন করেন। সেই আত্মাও এসে প্রবেশ করে ধর্ম স্থাপন করে। তিনি হলেন হেভেনলী গড ফাদার, সৃষ্টির রচয়িতা। তাই অবশ্যই নূতন সৃষ্টি রচনা করবেন। নূতন সৃষ্টিকে স্বর্গ বলা হয়, এখন হলো নরক। বাবা বলেন আমি প্রতি কল্পের সঙ্গমে এসে বাচ্চারা তোমাদের রাজযোগের জ্ঞান প্রদান করি। এ হলো ভারতের প্রাচীনতম যোগ। কে শিখিয়েছেন? শিববাবার নাম তো লুপ্ত করে দিয়েছে। এক তো বলে গীতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আর বিষ্ণু ইত্যাদির নাম দিয়ে দেয়। শিববাবা রাজযোগ শিখিয়েছেন। কারোর জানা নেই। শিব জয়ন্তী নিরাকারের জয়ন্তীই দেখানো হয়। তিনি কীভাবে এসেছিলেন, এসে কি করেছিলেন? তিনি তো হলেন সকলের সদ্গতি দাতা, লিবারেটর, গাইড। এখন সব আত্মাদের গাইড চাই। পরমাত্মা, তিনিও হলেন আত্মা। যেমন মানুষের গাইডও মানুষ হয়, সেইরকম আত্মাদের গাইডও আত্মাই চাই। তাঁকে তো সুপ্রীম আত্মাই বলা হবে। সব মানুষই তো পুর্নজন্ম নিয়ে অপবিত্র হয়। আবার পবিত্র করে কে ফিরিয়ে নিয়ে যান? বাবা বলেন আমিই এসে পবিত্র হওয়ার যুক্তি বলে দিই। তোমরা আমাকে স্মরণ করো। কৃষ্ণ তো বলতে পারেন না যে দেহের সম্বন্ধ ত্যাগ করো। তিনি তো ৮৪ জন্ম গ্রহণ করেন। সকল সম্বন্ধে আসেন। বাবার (শিব) নিজের শরীর নেই। তোমাদের এই আত্মিক যাত্রা বাবা শেখান। এইটা হলো আত্মাদের পিতার আত্মা রূপী বাচ্চাদের প্রতি আত্মিক নলেজ। কৃষ্ণ কি কারোর আত্মিক পিতা কখনো হতে পারে ! সকলের আত্মিক পিতা হলাম আমি। আমিই গাইড হতে পারি। লিবারেটর, গাইড, ব্লিসফুল, পীসফুল, এভার-পিওর সব আমার উদ্দেশ্যেই বলে। এখন তিনি তোমাদের অর্থাৎ আত্মাদের নলেজ দিচ্ছেন। বাবা বলেন, আমি এই ব্রহ্মার শরীর দ্বারা তোমাদের দিচ্ছি। তোমরাও শরীর দ্বারা নলেজ গ্রহণ করছো। তিনি হলেন গড ফাদার। ওনার রূপ কেমন সেও বলা হয়েছে। আত্মা যেমন বিন্দু সেইরকম পরমাত্মাও হলেন বিন্দু। এটা তো প্রাকৃতিক না! বাস্তবে তো এইটা হলো ভীষণ রকম প্রাকৃতিক। এতো ছোটো স্টারের ৮৪ জন্মের পার্ট আছে। এই হলো প্রকৃতির নিয়ম। বাবার পার্টও ড্রামাতে আছে। ভক্তি মার্গে তোমাদের সার্ভিস করেন । তোমাদের আত্মাতে ৮৪ জন্মের পার্ট অবিনাশী, একে বলা হয় প্রাকৃতিক, এর বর্ণনা করবে কীভাবে। আত্মা হলো এতো ছোটো। এই কথা শুনেই অবাক হয়ে যায় । আত্মা হলও স্টারের মতো। ৮৪ জন্ম অ্যাকুরেট ভোগ করে। সুখও সে অ্যাকুরেট ভোগ করবে। এটাই হলো প্রকৃতির নিয়ম। বাবাও হলেন আত্মা, পরম আত্মা। ওঁনার মধ্যে সমগ্র নলেজ সমাহিত, যা বাচ্চাদের বোঝান। এ হলো নতুন ব্যাপার, নতুন মানুষ শুনে বলবে এঁনার জ্ঞান কোনো শাস্ত্র ইত্যাদিতে তো নেই। তবুও যারা পূর্ব কল্পে শুনেছে, উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করেছে, তারাই বৃদ্ধি পেতে থাকে। টাইম লাগে। অনেক প্রজা হয়। ওটা তো সহজ। রাজা হতে গেলে পরিশ্রম আছে। যে সব মানুষেরা অনেক ধন দান করে তারা রাজ- পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে। গরীবরাও যারা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী যা কিছু দান করতে থাকে তারাও রাজা হয়। যারা সম্পূর্ণ ভক্ত হয় তারা দান-পুণ্যও করে। বিত্তশালীদের দ্বারা পাপ বেশী হয়। গরীবদের মধ্যে অনেক শ্রদ্ধা থাকে। তারা খুবই ভালোবাসার সাথে সামান্য যা কিছু দান করে তো অনেক প্রাপ্তি হয়। গরীব ভক্তিও অনেক করে। দর্শন দাও না হলে আমি নিজের গলা কেটে ফেলব । বিত্তশালী যারা তারা এমন বলবে না। সাক্ষাৎকারও গরীবদের হয়। তারাই দান - পূণ্য করে, রাজাও তারাই হয়। পয়সাওয়ালাদের অহঙ্কার থাকে। এখানেও গরীবদের ২১ জন্মের সুখ প্রাপ্ত হয়। গরীব বেশী আছে। বিত্তশালীরা পরে আসে। ভারত এত উচ্চ ছিল তবে এতো গরীব কি করে হলো, তোমরা বুঝতে পারো। আর্থকোয়েক ইত্যাদিতে সব প্রাসাদ ইত্যাদি নষ্ট হয়ে গেলে তো গরীব হয়ে যাবেই। রাবণ রাজ্য হওয়ার ফলে হাহাকার হয়ে যায়, তাই তারপর আর এইসব জিনিস থাকতে পারে না। প্রতিটি জিনিসেরই তো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, তাই না! সেখানে যেমন মানুষের আয়ু দীর্ঘ হয় তেমনই গৃহেরও আয়ু দীর্ঘ হয়। সোনার, মার্বেলের বড়-বড় অট্টালিকা তৈরী হতে থাকে। সোনার তো আরোই মজবুত হবে। নাটকেও দেখানো হয় না! যুদ্ধ হলো, বাড়ী ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। আবার তৈরী হয়ে যায়। ওইসব সেইভাবেই তৈরী হয়। এই যে স্বর্গের প্রাসাদ ইত্যাদি তৈরী করবে, এরকম তো দেখাবে না যে মিস্ত্রীরা কি করে প্রাসাদ তৈরী করে। হ্যাঁ বোঝা যায় সেই প্রাসাদই হবে। যত দিন যাবে তোমাদের সাক্ষাৎকার হবে। বিবেক এই রকম বলে। এই সবের সাথে বাচ্চাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বাচ্চাদের তো পড়াশোনা করতে হবে। স্বর্গের মালিক হতে হবে। স্বর্গ আর নরক অনেক বার পাস হলো (অতিক্রম হলো) । এখন দুটোই অতিক্রান্ত হয়ে গেছে । এখন হল সঙ্গম। সত্যযুগে এই নলেজ থাকবে না। এই সময় বাচ্চারা, তোমাদের সম্পূর্ণ নলেজ আছে লক্ষ্মী-নারায়ণকে এই রাজ্য কে দিয়েছিলেন? বাচ্চারা, এখন তোমাদের জানা আছে এরা এই উত্তরাধিকার কার থেকে প্রাপ্ত করলো। এখানে পড়াশোনা করে স্বর্গের মালিক হয়। তারপর সেখানে গিয়ে প্রাসাদ ইত্যাদি তৈরী করে। সার্জেন কী করে? বড় বড় হসপিটাল তৈরী করে না ! বাচ্চারা, বাবা তোমাদের প্রতিদিন ক্রমাগত ভালো ভালো পয়েন্টস শোনাচ্ছেন। তোমাদের ধান্ধাই হলো মানুষকে সজাগ করা, রাস্তা বলে দেওয়া। যেমন বাবা বসে কতো ভালোবেসে বোঝান। দেহ - অভিমানের প্রয়োজন নেই। বাবার কখনো দেহ - অভিমান হতে পারে না। দেহী - অভিমানী হওয়ার জন্য তোমাদের সমস্ত পরিশ্রম করতে হয়। যারা দেহী - অভিমানী হয়ে বসে বাবার পরিচয় দেয়, অর্থাৎ তারা অনেকের কল্যাণ করে। প্রথমে দেহ - অভিমান আসে তার জন্য আবার অন্যান্য বিকার আসে। লড়াই করা, ঝগড়া করা, নবাবী চালে চলা - এই সব দেহ- অভিমান। যদিও আমাদের রাজযোগ আছে, সেই কারণে তারা খুবই সাধারণ থাকে। কিন্তু সামান্য ব্যাপারে অহঙ্কার এসে যায়। ফ্যাসানেবেল ঘড়ি দেখলে মন হয় সেইটা পড়ার। মনের মধ্যে ইচ্ছা হতে থাকে। একে দেহ - অভিমান বলা হয়। ভালো ধরনের জিনিস হলে সামলে সাবধানে রাখতে হয়। হারিয়ে গেলে সেটার বিষয়েই ভাবতে থাকবে । শেষ সময় অন্য কোনো কিছু স্মরণে এলেই পদভ্রষ্ট হয়ে যাবে। এ হল দেহ-অভিমানের অভ্যাস। তারপর অবশ্যই সার্ভিসের পরিবর্তে অবশ্যই ডিস্-সার্ভিস করবে। রাবণ তোমাদের দেহ-অভিমানী বানিয়ে দিয়েছে । বাবাকে দেখো তো কতো সাধারণ ভাবে থাকেন। প্রত্যেকের সার্ভিস দেখা হয়। মহারথী বাচ্চাদের নিজেদের (বাবাকে প্রত্যক্ষ করাবার) শো করাতে হয়। মহারথীদেরই লেখা হয় তুমি অমুক জায়গায় এসে ভাষণ দাও। দুয়েকজনকে ডাকা হয়। কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে দেহ-অভিমান অনেক থাকে। যদিও বক্তৃতা দিতে পারে ভালো কিন্তু নিজেদের মধ্যে আত্মিক স্নেহ নেই। দেহ-অভিমান লবণাক্ত করে দেয়। কোনো কথায় সাথে সাথে বিগড়ে যাওয়া, এটাও হওয়া উচিত নয়, সেইজন্য বাবা বলেন কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে হলে বাবাকে এসে জিজ্ঞাসা করো। কেউ বলে বাবা আপনার কতো জন বাচ্চা আছে? সেক্ষেত্রে তো বলবো বাচ্চা তো অগণিত আছে, কিন্তু কেউ কুপুত্র কেউ কেউ আবার সুপুত্র ভালো-ভালো বাচ্চাও আছে। এইরকম বাবার আজ্ঞাকারী (ফরমানবরদার) বিশ্বস্ত হওয়া উচিত, তাই না! আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) দেহ-অভিমানে এসে কোনো ধরনের ফ্যাশান করবে না । কোনো কিছুর বেশী শখ রাখবে না । খুবই সাধারণ ভাবে চলতে হবে।

২ ) নিজেদের মধ্যে খুবই আত্মিক স্নেহ রেখে চলতে হবে, কখনোই লবণাক্ত হতে নেই। বাবার সুপুত্র হতে হবে। কখনো অহঙ্কারে আসবে না।

বরদান:-
নিজের ভাগ্য এবং ভাগ্যবিধাতার গুণগান করা সদা প্রসন্নচিত্ত ভব

সকল ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের জন্ম থেকেই মুকুট, সিংহাসন এবং তিলক জন্ম সিদ্ধ অধিকারের রূপে প্রাপ্ত হয়। ভাগ্যের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে নিজের ভাগ্য এবং ভাগ্যবিধাতার গুণগান গাইতে থাকো তাহলেই গুণ সম্পন্ন হয়ে উঠবে। নিজের দুর্বলতার কথা শোনাবে না, ভাগ্যের গুণগান করো। প্রশ্ন থেকে দূরে থাকো, তবেই সদা প্রসন্ন থাকার বরদান প্রাপ্ত হবে। তখন অন্যদেরও সহজে প্রসন্ন করতে পারবে।

স্লোগান:-
একনামী এবং ইকোনমি দ্বারা চলাই ব্রাহ্মণ জীবনে সফলতার আধার ।

অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভয় এবং নিশ্চিন্ত থাকো"

নিশ্চয় সদা নিশ্চিত করে তোলে এবং যে নিশ্চিত স্থিতিতে থেকে যে কোনো কাজ করে সেটাতে সে অবশ্যই সফল হয় কেননা নিশ্চিত স্থিতিতে বুদ্ধি সঠিক জজমেন্ট করতে সক্ষম হয়। যথার্থ নির্ণয়ের আধার হলো - নিশ্চয় বুদ্ধি, নিশ্চিত স্থিতি, সেখানে ভাবারও আবশ্যকতা নেই।