05-04-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 15-11-2009 মধুবন


‘‘স্বরাজ্যের রেজাল্ট চেক ক'রে স্বয়ংকে চেঞ্জ করো আর অখণ্ড রাজ্যের অধিকারী হও"


আজ দিলরাম বাবা নিজের অতি প্রিয় রাজকুমার বাচ্চাদের সাথে মিলিত হতে এসেছেন। তোমরা অতি প্রিয় কেন? তোমরা জানো যে তোমরা প্রত্যেক বাচ্চা তিন সিংহাসনের মালিক। এক- স্বরাজ্যের, দুই- বাপদাদার হৃদয়ের সিংহাসন আর তিন- ভবিষ্যতের সিংহাসন। তিন সিংহাসনের অধিকারী। নিজের ভবিষ্যৎ সিংহাসনেরও অভ্যাস এখানেই করছ। ভবিষ্যতের প্রস্তুতি কিংবা পুরুষার্থ এখন করছ। এখনের পুরুষার্থ অনেক জন্মের রাজ্যভাগ্য প্রাপ্ত করায়। এই সময়েই নিজের রাজ্যভাগ্যের সংস্কার ধারণ করছ। কেননা, এখনের পুরুষার্থ ভবিষ্যৎ রাজ্যের অধিকারী বানায়। সুতরাং চেক করো আমার এক রাজ্য মনের মধ্যে চলে? পুরুষার্থে এক রাজ্য রয়েছে? নাকি মায়া রাজত্বে বিঘ্ন উৎপন্ন করে? এক রাজ্যের পরিবর্তে মায়ার প্রভাব পড়ে না তো? দুই রাজ্য থাকে না তো? ভবিষ্যতের বিশেষত্বই হলো এক রাজ্যের। তো এখনের অভ্যাস ভবিষ্যতে চলে। সুতরাং চেক করো যে এখন স্বরাজ্য আছে, স্বরাজ্যে মায়া কোথাও দখল ক'রে নিচ্ছে না তো? দুটো রাজ্য তো নেই? যদি দুটো রাজ্য চলে তো এক রাজ্যের সংস্কার কবে ভরবে? ভবিষ্যতের বিশেষত্বই হলো এক রাজ্য আর এক ধর্ম। ধর্ম কোনটা? তোমাদের বিশেষ ধারণা কোনটা? সম্পূর্ণ পবিত্রতা। তো চেক করো, এক ধর্ম আছে? মাঝখানে অপবিত্রতার কোনো ধর্ম দখলদারি করে না তো? সেইসঙ্গে এটাও চেক করো, ল' অ্যান্ড অর্ডার একের রয়েছে, নাকি মায়াও মাঝখানে দখল ক'রে নেয়? একের রাজ্য নির্বিঘ্ন চলে? আরেকটা ব্যাপার, সেই রাজ্যে তোমাদের সদা সুখ শান্তি ন্যাচারালি থাকে। তো এখন দেখ নিজের রাজ্যে সুখ শান্তি আছে? কোনও কিছু দখল হয়ে যায় না তো! স্বরাজ্যে মায়া নিজে দখল নিয়ে অশান্তি ছড়ায় না তো! স্বরাজ্যে কোনো স্যালভেশন, কোনো প্রশংসার প্রভাব মায়া রচনা করে না তো! সদা সুখ শান্তি আনন্দ প্রেম, অতীন্দ্রিয় সুখ কায়েম থাকে? কেননা, তোমরা জানো যে ভবিষ্যৎ রাজ্যে সর্বপ্রাপ্তি আছে, সম্পন্নতা আছে, এই কারণে সন্তুষ্টিও থাকে। তো এখনও তোমরা স্বরাজ্য সম্পন্ন থাকো, নাকি কোনো খামতি থাকে? কেননা, এখনের পুরুষার্থে যদি খামতি থেকে যায় তবে ভবিষ্যৎ অখণ্ড রাজ্যের অধিকারী কীভাবে হবে! এখনের পুরুষার্থের আধারে সবকিছু নির্ভর করছে। এখনের কোনও কমতি যদি থেকে যায় তবে ভবিষ্যতের রাজ্যের সম্পূর্ণ অধিকারী হতে পারবে না। বহুকালের স্বরাজ্যের এই অভ্যাস ভবিষ্যৎ রাজ্যের অধিকারী বানায়। তো নিজের এই চেকিং সদা করতে হবে। কেননা, এখন যদি বহুকালের পুরুষার্থ না হয় তবে প্রালব্ধও কম প্রাপ্ত হয়। সেইজন্য বাপদাদা সময় সময়তে এই অ্যাটেনশন আকর্ষণ করছেন, তার জন্য এখন নিজেকে সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ বানাও। যদি এখন মাঝে মাঝে তোমরা এটা বলো পুরুষার্থ চলছে, তাহলে পুরুষার্থের মাঝে তো-তো তো আসেনা! এটা তো হয়ে যাবে, এটা তো করে নেবো, এই সংস্কার অবিনাশী ২১ জন্মের, অখণ্ড রাজ্যের অধিকারী বানাবে না।

তো বাপদাদা সদাসর্বদার জন্য অ্যাটেনশন দেওয়াচ্ছেন, চেক করো - যদি কোনও বিঘ্ন আসে, তুফান আসে তো তুফান তোহফা হয়ে যায় কিনা। তুফান তুফান নয়, বরং যেন তোহফা হয়ে যায়। যদি মায়ার কোনও প্রহার হয়, অনুভব করায় মায়া, তো সেই অনুভবও এমন অনুভব হবে - অনুভবের সিঁড়ি আমাকে অগ্রচালিত করে। তার জন্য বাপদাদা বলেন সদা নিজের চার্ট নিজেই চেক করো। যে রোজ করে সে হাত উঠাও। যে রোজ করে, কখনো কখনো নয়। রোজ চার্ট চেক করো আর চেঞ্জ করো। কেননা, বাপদাদা অনেক সময় ধরে সময়ের ইশারা দিয়েছেন। সময়কে তোমরা দেখছও, মনুষ্য মনে চিন্তা বাড়ছে আর তোমাদের মনে চিন্তা নেই, বরং রয়েছে প্রভু চিন্তন। প্রভু চিন্তন হওয়ার কারণে তোমরা সদা জানো যে আমরা নিমিত্ত, নিরহংকার, কেননা করানোর মালিক বাবা। এই কারণে তোমাদের মনে চিন্তা নেই, কেননা, করাবনহার করাচ্ছেন, এই স্মৃতি সদা অগ্রচালিত করছে।

এখন প্রত্যেককে বিশেষভাবে এটা চেক করতে হবে যে এই সঙ্গম যুগের একেক সেকেন্ড সময় আর সঙ্কল্প

অনুকূলে হয় কিনা। এই সময়ের মাহাত্ম্য জানো - এক সেকেন্ড, সেকেন্ড নয় বরং একেক সেকেন্ডের ভ্যাল্যু আছে এবং গুরুত্ব আছে। কখনো কখনো বাচ্চারা বলে যে তাদের সঙ্কল্প চলে কিন্তু দু' চার সেকেন্ড চলে। যতই হোক, সঙ্গম সময়ের ভ্যাল্যু আছে, এখন এক সেকেন্ড এক ঘণ্টার সমান। এই সময়ের ভ্যাল্যু এতটাই। কেননা, বাপদাদা বলে দিয়েছেন যে আচম্বিতে যে কোনও সময় তোমাদের ফাইনাল পেপার হবে। বাপদাদাও বলবেন না-, সেইজন্য এই সময়ের অ্যাটেনশন সম্পূর্ণ আর সম্পন্ন বানাতে হবে। বাপদাদা যে সমুদয় ভাণ্ডার দিয়েছেন সেই প্রতিটা ভাণ্ডার সময়মতো কার্যে প্রয়োগ করতে হবে। ভাণ্ডারের মালিক তোমরা, মালিকের বিশেষত্ব এটাই, যে সময়ে যে ভাণ্ডার আবশ্যক সেই সময় সেই ভাণ্ডার কার্যে প্রয়োগ হবে। তোমরা অর্ডার করলে অন্তর্লীন করার শক্তি, তো সেই সময়তেই অন্তর্লীন করার শক্তি কার্যে প্রয়োগ হয়? কারণ মালিক তাকেই বলা যায় যে সময়মতো নিজের ভাণ্ডার কার্যে লাগাতে পারে। তো এখন সবাইকে স্ব-এর প্রতি অ্যাটেনশন দিতে হবে। সবার ভেতরে খুশির ভাণ্ডার সদাই যেন তোমাদের মুখমণ্ডলে আর আচরণে দৃশ্যমান হয়। খুশি অবিনাশী বাবার দান। তো অবিনাশী বাবার দান অবিনাশী রাখো। খুশির জন্য বলা হয়ে থাকে - খুশির মতো কোনও পুষ্টি নেই, খুশির মতো কোনও ভাণ্ডার নেই। তো যার ভিতরে সদা খুশি থাকে তার নয়ন দ্বারা, মুখমণ্ডল দ্বারা, আচরণ দ্বারা অটোমেটিক্যালি প্রতীয়মান হয়। বাপদাদার বরদান রয়েছে যে, সদা খুশি থাকো আর সদা খুশি বিতরণ করো কেননা, বিতরণ করলে কম হয় কিন্তু খুশির ভাণ্ডার যত বিতরণ করবে ততই বৃদ্ধি পাবে। তো চেক করো খুশির ভাণ্ডার সদা কায়েম আছে কিনা!

এখন সব বাচ্চাকে তারা দেশের হোক বা বিদেশের, সব বাচ্চাকে বাপদাদা একটা বিষয়ে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কোন বিষয়? যা সবাই দেশে হোক বা বিদেশে নিজেদের উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে আত্মাদেরকে বাবার বার্তা দিয়ে দিয়েছে। সবাই নিজের খুশিতে যে কার্য করেছে সেই কার্যে একরকম প্রোগ্রাম করেছে, সব জায়গায়ই এক প্রোগ্রাম, কিন্তু তার ফল হাজার গুন প্রাপ্ত করেছে। বাপদাদার সঙ্কল্প এটাই যে এখনের সময় অনুসারে যে সরকমস্ট্যান্স রয়েছে তা' পরবর্তী সময়ে সংবেদনশীল হয়ে উঠবে। সেইজন্য গ্ৰাম হোক বা এমন কোনও কোনা যেখানে এরকম অভিযোগ যেন থেকে না যায় যে আমাদের বাবা এসেছেন আর তোমরা আমাদের বার্তা দাওনি। সেইজন্য সবাই যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে কার্য করেছে তা'তে বাপদাদা খুশি আর এভাবেই নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে এমন প্রোগ্রাম বানাতে থাকো। বাপদাদা দেখেছেন যে উৎসাহ-উদ্দীপনা আর সাহস সবাই নিজের নিজের নিয়ম কার্যে প্রয়োগ করেছে। কিন্তু এখন তো সবাই ভালো করেছে, এই লক্ষ্য রাখো ভবিষ্যতেও সময় অনুসারে কোনও কোনা যেন বার্তাবিহীন না থেকে যায়। এতে নিজেরও পুরুষার্থ ভালো চলে আর আত্মাদেরও কল্যাণ হয়। এই প্রোগ্রাম সবার ভালো লেগেছে তো না! ভালো লেগেছে! তো বাপদাদা সব বাচ্চাকে বারবার এটাই বলেন, আত্মাদের প্রতি সদয়চিত্ত হও। আজকাল দুঃখ অশান্তির কারণে সবাই হৃদয় থেকে বলে কৃপা করো, দয়া করো। তো তোমরা বাচ্চারা বাবার সাথি, তাইতো বাবা বাচ্চাদের দ্বারা এখন প্রত্যেক বাচ্চার সহৃদয়তার পার্ট দেখতে চান। তোমাদের আগ্রহ আছে যে দুঃখময় সংসার বদলে সুখময় সংসার আসারই আছে। তো সুখময় সংসার আসার জন্য অবস্থা বদলাচ্ছে। তো বাবার আজকের সন্দেশ স্মরণে রাখো - এখন মন্সা হোক বা বাচা হোক, কিংবা মুখমণ্ডল ও আচরণ দ্বারা সেবার গতি বাড়িয়ে যাও। নিজের রাজ্য সমীপে আনতে থাকো। আচ্ছা।

এই বারে যারা প্রথমবার এসেছো বাপদাদার সাথে মিলনের জন্য, তারা হাত উঠাও। আচ্ছা অনেক আছ! একটু ওঠো। অভিনন্দন। যদিও সমাপ্তির আগে পৌঁছে গেছ। নতুন জন্ম নিয়ে নিয়েছ। এর জন্য সবার তরফ থেকে বাপদাদা এবং চতুর্দিকের বাচ্চাদের দ্বারা আগত বাচ্চাদের অভিনন্দন, অভিনন্দন। ব্রাহ্মণ পরিবার দেখে খুশি হয় তো না! কিন্তু যারা এখন এসেছ তাদেরকে বাপদাদা এটাই বলেন, এখন অনেক সময় চলে গেছে, খুব অল্প আছে সেইজন্য তীব্র পুরুষার্থ করতে হবে। তীব্র পুরুষার্থী সামনে এগিয়ে যাবে, হেঁটে নয় উড়তে হবে। উড়তি কলার পুরুষার্থ যদি করো তাহলে দেরি ক'রে আসা সত্ত্বেও বাবার উত্তরাধিকারের নিজস্ব অধিকার পুরোপুরিভাবে নিতে পারো। প্রতি সেকেন্ড খুশি থাকো, আর সবাইকে সমাচার দাও, বার্তা দাও। আচ্ছা।

তো আজ বাপদাদা বলেছেন যে স্বরাজ্য অধিকারী হয়ে স্বরাজ্যের রেজাল্ট চেক করো, সেটা চেক করলে বহু সময়ের কোনও ত্রুটি থাকলে তা' চেঞ্জ করো। কেননা, বহু সময় অখণ্ড রাজত্ব চলার আবশ্যকতা আছে। বহু সময়ের পুরুষার্থ, বহু সময়ের প্রালব্ধের অধিকারী আপনা থেকেই হয়, সেইজন্য আন্ডারলাইন করো বহু সময়ের পুরুষার্থ। চেকিং হয়। চেঞ্জ হয়?

চতুর্দিকে, বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন প্রত্যেক বাচ্চাকে বাপদাদা রোজ অমৃত বেলায় বিশেষ শক্তি বিলিয়ে দেন। অমৃত বেলায় বিশেষ বরদান শক্তি' বিতরণ করেন। যারা অমৃত বেলার শক্তি বিশেষ বরদান স্বীকার করে তারা বিশেষ তীব্র পুরুষার্থী হয়। অমৃত বেলার মাহাত্ম্য বজায় রাখা অর্থাৎ সদা বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন হওয়া। তো কিছু বাচ্চার অ্যাটেনশন থাকে আর বাপদাদা রোজ তাদের বিশেষ সার্টিফিকেট দেন - বাহ্ বাচ্চা বাঃ!

তো চতুর্দিকের তীব্র পুরুষার্থী, সবসময় বাপদাদাকে নিজের সাথি বানিয়ে যারা কম্বাইন্ড থাকে এমন অভ্যাসী বাচ্চাদের বাপদাদা বিশেষ বরদান দিচ্ছেন - সদা উড়ে চলো আর অন্যদেরও ওড়ার সহযোগ দিয়ে উড়িয়ে যাও। সবাই বিজয়ী এবং বিজয়ের ফল হিসেবে সবসময় বাপদাদার কল্যাণময় আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। তো অমর হয়ে সবাইকে অমৃত পান করাতে থাকো। চতুর্দিকের বাচ্চারা বাপদাদার সামনে। সব বাচ্চার প্রতি বাপদাদার হৃদয়ের ভালোবাসা আছে। কেননা, সব বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো বিশেষত্ব আছে। এখন সমূহ বিশেষত্বে নিজেকে বিশেষ আত্মা বানিয়ে অগ্রচালিত হও। বাপদাদার প্রত্যেক বাচ্চার পার্সোনালি পদমগুন স্মরণ-স্নেহ স্বীকৃত হোক। আচ্ছা - এখন তো আমরা সরাসরি মিলিত হতে থাকবো। নমস্কার।

দাদিদের প্রতি - সবাই খুব চক্রভ্রমণ করেছো। আজকাল অশান্তি বেড়েই চলেছে, তো সারাদিন তারা উদ্বিগ্ন থাকে। আর শান্তির ভাইব্রেশন শান্তি প্রাপ্ত করায় তখন তারা খুশি হয়ে যায়। যেমন, কেউ হয়তো ক্লান্ত, সে যদি আরামের জন্য আধ ঘণ্টাও পায় তো খুশি হয়ে যায়। ভালো করেছ তোমরা। সব জায়গায় ছোট হোক বা বড় হোক সবাই ভালো করেছ। যেখানে উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে সেখানে খরচের কোনো ব্যাপারই নেই। এত আত্মা বার্তা তো পেয়ে গেছে। তোমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল তা' শেষ হয়েছে। এটা ভালো। এরকম মাঝে মাঝে প্রোগ্রামস বানাতে থাকো। প্রতিটা শহর নিজস্ব অনুযায়ী যেমনই করুক সেটা ঠিক।

ডবল বিদেশি বড় বোনেদের প্রতি - গ্রুপে গ্রুপে ডেকে তাদের রিফ্রেশ করা, এটা বাপদাদার ভালো লাগে। কেননা, ওখানে অনেক দূরে দূরে থাকে। কাছাকাছি আসায় পরস্পরের গুণ দৃশ্যমান হয়। দূরে দূরে থাকলে জানা যায় না। তাছাড়া, একে অপরকে দেখে উৎসাহ- উদ্দীপনাও আসে। তো আবুতে এই প্রোগ্রাম ভালো লাগে এবং পরস্পরের মধ্যে উৎসাহ ভরে সংগঠন মজবুত বানাও এটা ভালো। ঠিক আছে। ঠিক আছে তো না! একে অপরকে সহযোগ দিয়ে তার দ্বারা অগ্রচালিত হয়ে থাকো। সময় দাও তো না! নিজের সেবা ছেড়ে হৃদয় থেকে সময় দাও। নিজের কার্য সম্পূর্ণ করেছ, সফলতা হয়েছে, এখন তোমরা যেতে পারো। সবাই ভালো সহায়তা করেছে। ফরেনেরও করেছে, ইন্ডিয়ারও করেছে।

ইউ. পি.র সেবাধারীদের প্রতি – এখন বাপদাদা সব জোনকে বলেন যে প্রত্যেকে নিজের জোনে এমন এক গ্রুপ বানাও যে গ্রুপে সব বর্গের সদস্য থাকবে। সেবার জন্য তোমাদের যে বর্গ হয়েছে, প্রতিটা জোন নিজের এরিয়াতে সব বর্গের সেবা করছ, ক'রেও যাবে। কিন্তু সব জোনে এমন সার্ভিস গ্রুপ হতে হবে যেখানে সব বর্গ থেকে একজন সদস্য থাকবে। আর যেখানেই প্রোগ্রাম করো সেখানে সেই গ্ৰুপ নিজের নিজের বর্গকে বিশেষভাবে যেন নিমন্ত্রণ দেয়। কোনও বর্গ যেন অভিযোগ না করতে পারে যে তারা বার্তা পায়নি। আরেকটা যে ভ্যারাইটি গ্রুপ হয়েছে তারা যেন নিজের বর্গের সেবাও বাড়ায় এবং সেইসঙ্গে নিজের নিজের অনুভব শোনানো উচিত - এই নলেজ থেকে আমার কী প্রাপ্ত হয়েছে আর এখন আমি কী অনুভব করছি। তো সব জোনে এমন সেবার গ্রুপ তৈরি করো। এমনকি যদি ভাষণ দেওয়ার তেমন সময় নাও পায়, ফাংশনের শেষে তাদের একটা লাইনে বসিয়ে স্টেজ সেক্রেটারি যেন তাদের পরিচয় দেয়। এক-দু' জনের অনুভবও শোনাতে পারে আর পরিবারে থেকে নিজের কার্য করার সময় তারা কীভাবে জীবন যাপন করেছে এবং কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে, যদি টাইম হয় চান্স নিয়ে সেই অনুভব যেন শোনায়। তো এরকম মাইক প্রস্তুত করো যে গ্রুপ সেবা করতে থাকবে।

এটা ভালো, ইউ.পি. ব্রহ্মা বাবার বিশেষ পালনা নেওয়ার অধিকার প্রাপ্ত করেছে। ইউ.পি.তে ব্রহ্মার নামে স্মারকচিহ্নও আছে। তো ইউ.পি.র এটা ভাগ্য যে জগৎ অম্বা, ব্রহ্মা বাবার পালনা নিয়েছে। তো এটা পালন- ভূমি। ব্রহ্মা বাবা আর জগৎ অম্বা ইউ. পিকে ভাগ্যের নক্ষত্র হওয়ার বরদান দিয়েছেন। এটা ভালো। বাবা দেখেছেন, যে সেবা স্থান এবং যা উপসেবাকেন্দ্র বা গীতা পাঠশালা আছে তা' আগের তুলনায় এখন দিনেদিনে ভালো বৃদ্ধি হয়েছে, সেইজন্য বাপদাদা অভিনন্দন জানাচ্ছেন - এগিয়ে চলো এবং নম্বর বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে আর বার্তা দেওয়ার ব্যাপারে নম্বর ওয়ান হও। এটা ভালো, বাপদাদা খুশি; আরও বাড়িয়ে যাও। টিচারদের অভিনন্দন। বৃদ্ধি করছ আর এ'ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি করতে থাকো। আচ্ছা।

বরদান:-
সংগঠনে সহযোগের শক্তির দ্বারা বিজয়ী হয়ে সকলের শুভচিন্তক ভব

যদি সংগঠনে প্রত্যেকে একে অপরের সহায়ক, শুভচিন্তক হয়ে থাকো তবে সহযোগের শক্তির বেষ্টনী অনেক চমৎকার করতে পারে। নিজেদের মধ্যে শুভচিন্তক সহযোগী হয়ে থাকো তবে মায়ার সাহস হয় না এই বেষ্টনীর মধ্যে আসার। কিন্তু এই সহযোগের শক্তি তখনই আসবে যখন তোমরা এই দৃঢ় সঙ্কল্প করবে যে পরিস্থিতি যতই সহন করতে হোক না কেন, কিন্তু মোকাবিলা ক'রে দেখাবো, বিজয়ী হয়ে দেখাবো।

স্লোগান:-
কোনও ইচ্ছা ভালো হতে দেবে না, সেইজন্য ইচ্ছা মাত্রম্ অবিদ্যা হও।

অব্যক্ত ইশারা :- মহান হওয়ার জন্য মাধুর্য আর নম্রতার গুণ ধারণ করো যেমন, মিষ্টি খেয়ে এবং খাইয়ে অল্প সময়ের জন্য মুখ মিষ্টি হয়, খুশি হয়। ঠিক তেমনই নিজে মিষ্টি হয়ে যাও তবে মুখে সদা মধুর বোল থাকবে। এরকম মধুর বোল নিজেকেও খুশি রাখবে আর অন্যকেও খুশি করবে। এই বিধি দ্বারা সদা সকলকে খুশি করতে থাকো, সদা মিষ্টি দৃষ্টি, মিষ্টি বোল, মিষ্টি কর্ম হবে।