06.05.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
যখন তোমরা সম্পূর্ণ পবিত্র হবে তখন বাবা তোমাদের সমর্পণ ভাব স্বীকার করবেন, নিজেকে
জিজ্ঞাসা করো আমরা কতখানি পবিত্র হয়েছি”
প্রশ্নঃ -
তোমরা বাচ্চারা
এখন স্বেচ্ছায় খুশী মনে বাবার কাছে সমর্পিত হও - কেন?
উত্তরঃ
কারণ তোমরা
জানো, এখন আমরা সমর্পিত হই তো বাবাও ২১ জন্মের জন্য সমর্পিত হয়ে থাকেন। তোমরা
বাচ্চারা এই কথাও জানো যে এখন এই অবিনাশী রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞে সব মানুষ মাত্রকে স্বাহা
হতেই হবে, তাই তোমরা আগে থেকেই খুশী মনে নিজের তন-মন-ধন সব কিছু অর্পণ করে সফল করে
নাও।
গীতঃ-
নিজের চেহারা
দেখে নে রে প্রাণী মন রূপী দর্পণে....
ওম্ শান্তি ।
শিব ভগবানুবাচ।
নিশ্চয়ই নিজের আত্মা রূপী বাচ্চাদেরই নলেজ দেন বা শ্রীমৎ প্রদান করেন - হে বাচ্চারা
বা হে প্রাণী। শরীর থেকে প্রাণ বেরিয়ে যায় বা আত্মা বেরিয়ে যায়, একই কথা। হে প্রাণী
অথবা হে বাচ্চারা, তোমরা দেখেছো যে নিজের জীবনে কত পাপ ছিল এবং কত পুণ্য ছিল! হিসেব
তো বলে দিয়েছি - তোমাদের জীবনে অর্ধকল্প পুণ্য, অর্ধকল্প পাপ থাকে। পুণ্যের
উত্তরাধিকার বাবার কাছে প্রাপ্ত হয়, যাকে রাম বলা হয়। রাম, নিরাকারকে বলা হয়, সীতার
রামকে নয়। অতএব এখন তোমরা যে বাচ্চারা এসে ব্রহ্মা মুখবংশী ব্রাহ্মণ হয়েছো, তোমাদের
বুদ্ধিতে এসেছে যথাযথভাবে অর্ধকল্প আমরা পুণ্য-আত্মাই ছিলাম পরে অর্ধকল্প পাপ-আত্মা
হই। এখন পুণ্য-আত্মা হতে হবে। কতখানি পুণ্য আত্মা হয়েছি, সে কথা প্রত্যেকে নিজেকে
জিজ্ঞাসা করো। পাপ-আত্মা থেকে পুণ্য-আত্মা কিভাবে হবো.... সে কথাও বাবা বুঝিয়েছেন।
যজ্ঞ, তপ ইত্যাদির দ্বারা তোমরা পুণ্য-আত্মা হবে না, ওটা হল ভক্তি-মার্গ, যার দ্বারা
কোনো মানুষ পুণ্য-আত্মায় পরিণত হয় না। এখন তোমরা বাচ্চারা বুঝেছো, আমরা
পুণ্য-আত্মায় পরিণত হচ্ছি। আসুরিক মতানুসারে পাপ-আত্মায় পরিবর্তিত হয়ে সিঁড়ি বেয়ে
নীচে নেমেছি। কত সময় আমরা পুণ্য আত্মা থাকি বা সুখের উত্তরাধিকার নিয়ে থাকি - সে কথা
কেউ জানেনা। পিতাকে স্মরণ তো সবাই করে, তাঁকেই পরমপিতা পরমাত্মা বলে।
ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্করকে পরমাত্মা বলবে না এবং অন্য কাউকে পরমাত্মা বলবে না। যদিও এই
সময় তোমরা প্রজাপিতা ব্রহ্মা বলো কিন্তু প্রজাপিতাকে ভক্তিমার্গে কেউ স্মরণ করে না।
স্মরণ তবুও সবাই নিরাকার পিতাকেই করে - ও গড ফাদার, ও ভগবান বলে। একের স্মরণেই থাকে।
মানুষ নিজেকে গড ফাদার বলতে পারেনা। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্করও নিজেকে গড ফাদার বলতে
পারেন না। তাদের শরীরের নাম তো আছে তাইনা। গড ফাদার একজনই আছে, তাঁর নিজস্ব শরীর
নেই। ভক্তিমার্গে শিবের পুজো অনেক হয়। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো - শিববাবা এই শরীর
দ্বারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেন - হে বাচ্চারা, কতখানি ভালোবাসা সহকারে বলেন বোঝেন,
আমি সর্বজনের পতিত-পাবন, সদগতি দাতা। মানুষ বাবার মহিমা গীত গায় কিন্তু তারা এ'কথা
জানেনা যে তিনি ৫ হাজার পরে আসেন। অবশ্যই যখন কলিযুগের অন্তিমকাল হবে তখনই তো আসবেন।
এখন কলিযুগের অন্তিম সময়, তাই এখন এসেছেন। তোমাদেরকে কৃষ্ণ পড়ান না। শ্রীমৎ প্রাপ্ত
হয়, শ্রীমৎ কৃষ্ণের নয়। কৃষ্ণের আত্মাও শ্রীমৎ দ্বারা দেবতা স্বরূপে পরিণত হয়েছিলেন
পুনরায় ৮৪ জন্ম নিয়ে এখন তোমরা আসুরিক মতানুযায়ী হয়েছো। বাবা বলেন - আমি আসি তখন
যখন তোমাদের চক্র পূর্ণ হয়। তোমরা যারা প্রথমে এসেছিলে তারা এখন জর্জরিভূত অবস্থায়
আছো। বৃক্ষটি যখন পুরানো জর্জরিভূত অবস্থা হয় তখন সম্পূর্ণ বৃক্ষের এমন অবস্থা হয়ে
যায়। বাবা বোঝান - তোমাদের তমোপ্রধান অবস্থা হওয়ার জন্য সবাই তমোপ্রধান হয়েছে। এ হল
মনুষ্য সৃষ্টির, ভ্যারাইটি ধর্মের বৃক্ষ, যাকে উল্টো বৃক্ষ বলা হয়, এই বৃক্ষের বীজ
উপরে অবস্থিত। সেই বীজ থেকেই সম্পূর্ণ বৃক্ষ বৃদ্ধি পায়। মানুষ বলেও থাকে "গড ফাদার"।
আত্মা বলে, আত্মার নামই হল আত্মা। আত্মা শরীরে আসে তখন শরীরের নাম রাখা হয়, খেলা
চলতে থাকে। আত্মাদের দুনিয়ায় খেলা নেই। খেলার স্থান হল এইখানে। নাটকে লাইট ইত্যাদি
সবই থাকে। যদিও আত্মারা যেখানে থাকে, সেখানে সূর্য, চাঁদ নেই, ড্রামার খেলা চলে না।
রাত-দিন এখানেই হয়। সূক্ষ্মবতনে বা মূলবতনে রাত-দিন হয় না, এটা হলো কর্মক্ষেত্র।
এইখানে মানুষ ভালো কর্মও করে, খারাপ কর্মও করে। সত্যযুগ-ত্রেতায় ভালো কর্ম হয় কারণ
সেখানে ৫ বিকার রূপী রাবণের রাজ্য থাকে না।বাবা বসে কর্ম, অকর্ম, বিকর্মের রহস্য বলে
দেন। কর্ম তো করতেই হবে, এটা হলো কর্মক্ষেত্র। সত্যযুগে মানুষ যে কর্ম করে সেসব
অকর্ম হয়ে যায়। সেখানে রাবণ রাজ্য নেই, তার নাম হল হেভেন, স্বর্গ। এই সময় স্বর্গ
নেই। সত্যযুগে একমাত্র ভারত ছিল অন্য কোনো খন্ড ছিল না। হেভেনলি গড ফাদার বলা হয়
সুতরাং বাবা নিশ্চয়ই স্বর্গ রচনা করবেন। এই কথা সব দেশবাসী জানে যে ভারত হল প্রাচীন
দেশ। সর্ব প্রথমে শুধুমাত্র ভারতই ছিল, এই কথা কেউ জানেনা। এখন তো নেই তাইনা। এ হল
৫ হাজার বছরের কথা। তারা বলেও থাকে খ্রীষ্টের থেকে ৩ হাজার বছর পূর্বে ভারত হেভেন
ছিল। রচয়িতা নিশ্চয়ই রচনা করবেন। তমোপ্রধান বুদ্ধি হওয়ার জন্য এই কথাও বুঝতে পারে
না। ভারত হলো সবচেয়ে উঁচু খন্ড। প্রথম বংশ মনুষ্য সৃষ্টির। এও ড্রামাতে নির্ধারিত
রয়েছে । ধনী মানুষ গরিবদের সাহায্য করে, এও প্রচলিত আছে। ভক্তি মার্গেও ধনী ব্যক্তি
গরিবকে দান করে। কিন্তু এই দুনিয়া হল পতিত। তাই যা কিছু দান পুণ্য করা হয়, পতিতই করে,
যাকে দান করা হয় তারাও হয় পতিত। পতিত, পতিতকে দান করবে, তার কি ফল প্রাপ্ত করবে।
যতই দান পুণ্য করেছে, তবু নীচেই নেমেছে। ভারতের মতন দানী খন্ড অন্য একটিও নেই। এই
সময় তোমাদের যা তন মন ধন আছে, সব এতেই অর্পণ কর, একেই বলে রাজস্ব অশ্বমেধ অবিনাশী
জ্ঞান যজ্ঞ। আত্মা বলে - এই পুরানো শরীরও এখানেই স্বাহা অর্থাৎ ভস্মীভূত করতে হবে
কারণ তোমরা জানো - সম্পূর্ণ দুনিয়ার মানুষ-মাত্র এতেই ভস্মীভূত হয়, তাই আমরা খুশী
মনে বাবার কাছে সমর্পণ করি। আত্মা জানে - আমরা বাবাকে স্মরণ করি। তারা বলেছে, বাবা
তুমি যখন আসবে তখন আমরা তোমার কাছে সমর্পণ করবো কারণ এখন আমরা সমর্পিত হলে তুমি ২১
জন্মের জন্য আমাদের কাছে সমর্পণ হয়ে থাকবে । এ হলো সওদা অর্থাৎ লেন দেন। আমরা তোমার
কাছে সমর্পণ করি তো তুমিও ২১ বার সমর্পণ হয়ে থাকো। বাবা বলেন - যতক্ষণ তোমাদের আত্মা
পবিত্র না হচ্ছে ততক্ষণ আমি তোমাদের সমর্পণ স্বীকার করি না।
বাবা বলেন - মামেকম্
স্মরণ করো তাহলে আত্মা পবিত্র হয়ে যাবে। বাবাকে ভুলে তোমরা অনেক পতিত দুঃখী হয়েছো।
মানুষ দুঃখী হয় তারপরে শরণাপন্ন হয়। এখন তোমরা ৬৩ জন্ম রাবণের কাছে থেকে অনেক দুঃখী
হয়েছো। একজন সীতার কথা নয়, মানুষ মাত্র সবাই হল সীতা । রামায়ণে কাহিনী লিখে দিয়েছে।
সীতাকে রাবণ শোক বাটীকায় রেখেছে। বাস্তবে কথাটি সম্পূর্ণ ভাবে এই সময়ের। সবাই রাবণ
অর্থাৎ ৫ বিকারের কারাগারে আছে তাই দুঃখী হয়ে ডাকে - এর হাত থেকে আমাদের মুক্ত করো।
একজনের কথা নয়। বাবা বোঝান সম্পূর্ণ দুনিয়া রাবণের কারাগারে রয়েছে। রাবণের রাজত্ব
তাইনা। বলেও সবাই - রামরাজ্য চাই। গান্ধীজীও বলেছেন, সন্ন্যাসীরা এমন বলবে না যে
রামরাজ্য চাই। ভারতবাসীরাই বলবে। এই সময় আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম নেই অন্য
শাখাগুলি আছে, সত্যযুগ ছিল। একটিই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম ছিল। এখন সেই নাম
পরিবর্তিত হয়েছে। নিজের ধর্ম ভুলে অন্য ধর্মে কনভার্ট হয়েছে। মুসলমান এসে অনেক
হিন্দুদের নিজের ধর্মে কনভার্ট করেছে। খ্রিষ্টান ধর্মেও অনেকে কনভার্ট হয়েছে, তাই
ভারতবাসীদের সংখ্যা কম হয়ে গেছে। তা নাহলে ভারতবাসীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী হওয়া
উচিত। অনেক ধর্মে কনভার্ট হয়েছে। বাবা বলেন - তোমাদের যে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম,
সেই ধর্মটিই সবচেয়ে উঁচু ধর্ম। সতোপ্রধান ছিলে, এখন তা বদল হয়ে তমোপ্রধান হয়েছে।
এখন তোমরা বাচ্চারা বুঝেছো- জ্ঞান সাগর, পতিত-পাবন যাঁকে আহবান করা হয়, তিনিই
সম্মুখে পড়াচ্ছেন। তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, প্রেমের সাগর। খ্রীষ্টের এমন মহিমা করা
হবে না। কৃষ্ণকে জ্ঞানের সাগর, পতিত-পাবন বলা হয় না। সাগর এক। চারিদিকে অলরাউন্ড
সাগরই সাগর আছে। সাগর দুটি নয়। এ হল মনুষ্য সৃষ্টির নাটক, এতে সকলের আলাদা-আলাদা
পার্ট রয়েছে। বাবা বলেন আমার কর্তব্য সবচেয়ে আলাদা, আমি হলাম জ্ঞানের সাগর। তোমরা
আমাকেই ডাকো হে পতিত-পাবন, তারপরে বলো লিব্রেটর (উদ্ধারকর্তা) । কিসের থেকে লিবারেট
করেন? সে কথা কেউ জানেনা। তোমরা জানো, আমরা সত্যযুগ ত্রেতায় অনেক সুখী ছিলাম, তার
নামই হল স্বর্গ। এখন তো নরক তাই প্রার্থনা করে - দুঃখ থেকে লিবারেট করে সুখধামে নিয়ে
চলো। সন্ন্যাসীরা কখনো বলবে না অমুকে স্বর্গে গেছে, তারা বলে পারনির্বাণে গেছে।
বিদেশেও বলে লেফট ফর হেভেনলি অবোড। তারা ভাবে, গড ফাদারের কাছে গেছে। হেভেনলি গড
ফাদার বলা হয়, যথাযথভাবে স্বর্গ ছিল। এখন নেই। নরকের পরে স্বর্গ চাই। গড ফাদারকে
এখানে এসে স্বর্গ স্থাপন করতে হয়। সূক্ষ্মবতন, মূলবতনে কোনো স্বর্গ নেই। বাবাকে
নিশ্চয়ই আসতে হয়।
বাবা বলেন - আমি এসে
প্রকৃতির আধার নিয়ে থাকি, আমার জন্ম মানুষের মতন নয়। আমি গর্ভে আসি না, তোমরা সবাই
গর্ভে আসো। সত্য যুগে গর্ভমহল থাকে কারণ সেখানে কোনো বিকর্ম হয় না যে দন্ড ভোগ করতে
হয় তাই তাকে গর্ভ মহল বলা হয়। এখানে বিকর্ম করে, যার দন্ড ভোগ করতে হয়, তাই গর্ভ
জেল বলা হয়। এখানে রাবণ রাজ্যে মানুষ পাপ করতেই থাকে। এই দুনিয়া হল পাপ আত্মাদের
দুনিয়া। ওটা হলো পুণ্য আত্মাদের দুনিয়া - স্বর্গ, তাই বলা হয় অশ্বত্থ পাতায় কৃষ্ণের
আগমন হয়েছে। এই রূপ কৃষ্ণের মহিমা দেখানো হয়েছে। সত্যযুগের গর্ভে দুঃখ থাকে না। বাবা
কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতি বোঝান, যার দ্বারা পরে গীতা শাস্ত্র তৈরি হয়। কিন্তু তাতে
শিব ভগবানুবাচ না লিখে কৃষ্ণের নাম লিখে দিয়েছে। এখন তোমরা জানো, আমরা অসীম জগতের
পিতার কাছ থেকে অসীমের সুখের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। এখন ভারত রাবণের দ্বারা
অভিশপ্ত তাই দুর্গতি হয়েছে। এইরূপ বিরাট অভিশাপও ড্রামায় নির্দিষ্ট আছে। বাবা এসে
বরদান দিচ্ছেন - আয়ুষ্মান ভব, পুত্রবান ভব, সম্পত্তিবান ভব.... সর্ব সুখের
উত্তরাধিকার দেন। বাবা এসে তোমাদেরকে পড়ান, যার দ্বারা তোমরা দেবতা হয়ে যাও। এইরূপ
নতুন রচনা করা হচ্ছে। ব্রহ্মার দ্বারা বাবা তোমাদের আপন করেন। গায়নও আছে প্রজাপিতা
ব্রহ্মা। তোমরা ব্রহ্মার সন্তান ব্রহ্মাকুমার-কুমারী হয়েছো। দাদুর সম্পত্তির
উত্তরাধিকার পিতার দ্বারা প্রাপ্ত করছো। পূর্বেও এইভাবে নিয়েছিলে। এখন বাবা পুনরায়
এসেছেন। বাবার সন্তান বাবার কাছেই যাওয়া উচিত। কিন্তু গায়ন আছে, প্রজাপিতা ব্রহ্মার
দ্বারা মনুষ্য সৃষ্টি স্থাপন হয়। সুতরাং এখানেই হবে, তাইনা। আত্মার সম্বন্ধে বলা হবে
আমরা হলাম ভাই-ভাই। প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান হলে তোমরা ভাই-বোন হয়ে যাও। এই সময়
তোমরা সবাই হলে ভাই-বোন, তোমরা বাবার কাছে স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করেছিলে।
এখনও বাবার কাছে উত্তরাধিকার নিচ্ছো। শিববাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করো। তোমরা আত্মা,
তোমাদের শিববাবাকে স্মরণ করতে হবে। স্মরণের দ্বারাই তোমরা পবিত্র হবে অন্য কোনো
উপায় নেই। পবিত্র না হলে তোমরা মুক্তিধামে (আত্মাদের নিবাস স্থান) যেতেও পারবে না।
জীবনমুক্তিধামে সর্ব প্রথম আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম ছিল তারপর নম্বর অনুসারে অন্য
ধর্ম গুলি এসেছে। বাবা শেষ কালে এসে সবাইকে দুঃখ থেকে মুক্ত করেন। তাঁকে বলা হয়
লিবারেটর অর্থাৎ উদ্ধারকর্তা। বাবা বলেন - তোমরা শুধু আমাকে স্মরণ করো তাহলে
তোমাদের পাপ ভস্ম হয়ে যাবে। তোমরা আহবানও করো - আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করুন।
টিচার তো পড়ান, তিনি কী তোমার চরিত্র নির্মাণ করতে পারেন ? এও হল পড়াশোনা। বাবা
জ্ঞান সাগর এসে জ্ঞান প্রদান করেন। আচ্ছা !
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
কর্ম, অকর্ম, বিকর্মের গতির জ্ঞান লাভ করে এখন আর কোনও বিকর্ম করবে না। কর্মক্ষেত্রে
কর্ম করতে করতে বিকারের ত্যাগ করাই হলো বিকর্মের থেকে সুরক্ষিত থাকা।
২ ) এমন পবিত্র হতে
হবে যে আমাদের সমর্পণ বাবা যেন স্বীকার করে নেন। পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ায় যেতে হবে।
তন-মন-ধন এই যজ্ঞে অর্পণ করে সফল করতে হবে।
বরদান:-
নলেজের
লাইট মাইটের দ্বারা বিঘ্ন-বিনাশক হওয়া মাস্টার নলেজফুল ভব
ভক্তি মার্গে গণেশকে
বিঘ্ন-বিনাশক বলে পূজা করা হয়, সেই সাথে তাকে মাস্টার নলেজফুল অর্থাৎ বিদ্যাপতি
বলেও মানা হয়। সুতরাং যে বাচ্চারা মাস্টার নলেজফুল হয় তারা কখনও বিঘ্নের কাছে হেরে
যেতে পারে না কেননা নলেজকে লাইট-মাইট বলা হয়, যার মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ হয়ে
যায়। এরকমই যে বিঘ্ন-বিনাশক, বাবার সাথে সদা কম্বাইন্ড থেকে নলেজকে স্মরণ করতে থাকে
সে কখনও বিঘ্ন হার হতে পারে না।
স্লোগান:-
ভিতরে-বাইরে যা কিছু খারাপ আছে তাকে সম্পূর্ণ উইল করে দিলেই উইল-পাওয়ার এসে যাবে।
অব্যক্ত ইশারা :- সদা
অবিচল, অটল, একরস স্থিতির অনুভব করো
এখন অনুভবী হয়ে
অন্যদেরও অচল, অবিটল করে তোলা, অনুভব করানোর সময়। এখন খেলা করার সময় সমাপ্ত হয়েছে।
এখন সদা সমর্থ হয়ে নির্বল আত্মাদের সমর্থ করতে থাকো। তোমাদের মধ্যে নির্বলতার
সংস্কার থাকলে অন্যদেরও নির্বল করে তুলবে। জ্ঞানের প্রতিটি পয়েন্টের অনুভবী হওয়ার
জন্য একান্তপ্রিয় হও, একাগ্রতার অভ্যাস বৃদ্ধি করো।