07.04.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
যখনই সময় পাবে তখনই একান্তে বসে সত্যিকারের প্রিয়তমকে স্মরণ করো, কারণ স্মরণের
দ্বারাই স্বর্গের রাজত্ব প্রাপ্ত হবে"
প্রশ্নঃ -
বাবাকে পেয়েছো
সেই কারণে কোন্ অমনোযোগিতা সমাপ্ত হয়ে যাওয়া উচিত?
উত্তরঃ
অনেক বাচ্চারা
অমনোযোগী হয়ে বলে দেয় যে আমি তো বাবারই। স্মরণের জন্য পরিশ্রম করে না। প্রতিমুহূর্তে
স্মরণ করতে ভুলে যায়। এটাই হলো অমনোযোগ। বাবা বলেন - বাচ্চা, যদি স্মরণে থাকো তবে
অন্তরে খুশী স্থায়ী-রূপে থাকবে। কোনপ্রকারের বিভ্রান্তি আসবে না। যেমন বন্ধনে আবদ্ধ
আত্মারা (বাঁধেলিয়া) স্মরণের জন্য ছটফট (ব্যাকুল হয়) করে, দিন-রাত স্মরণ করে, তেমনই
তোমাদেরও নিরন্তর স্মরণে থাকা উচিত।*
গীতঃ-
সৌভাগ্য
জাগরিত করে এসেছি.....
ওম্ শান্তি ।
বাবা
বাচ্চাদের বুঝিয়েছেন - তোমরাও বলো ওম্ শান্তি। বাবাও বলেন - ওম্ শান্তি অর্থাৎ
আত্মা-রূপে তোমরা হলে শান্ত-স্বরূপ। বাবাও শান্ত-স্বরূপ, আত্মার স্বধর্মও শান্ত।
পরমাত্মার স্বধর্মও শান্ত। তোমরাও শান্তিধামের বাসিন্দা। বাবা বলেন - আমিও ওখানকারই
নিবাসী। বাচ্চারা, তোমরা পুনর্জন্মে আসো, আমি আসি না। আমি এই রথে প্রবেশ করি। ইনি
আমার রথ। শঙ্করকে যদি জিজ্ঞাসা করো, জিজ্ঞাসা তো করতে পারবে না কিন্তু কেউ যদি
সূক্ষ্মলোকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে তবে তিনি বলবেন যে, এ হলো আমার সূক্ষ্ম শরীর। শিববাবা
বলেন যে, এটা আমার শরীর নয়। এটা আমি ধার করেছি কারণ আমারও তো কর্মেন্দ্রিয়ের আধার
চাই। সর্বপ্রথমে মুখ্য কথা বোঝাতে হবে যে পতিত-পাবন, জ্ঞানের সাগর শ্রীকৃষ্ণ নয়।
শ্রীকৃষ্ণ সকল আত্মাদের পতিত থেকে পবিত্র করেন না, তিনি এসে পবিত্র দুনিয়ায় রাজত্ব
করেন। প্রথমে যুবরাজ হন, তারপর মহারাজ হন। ওঁনার মধ্যেও এই জ্ঞান নেই। রচনার জ্ঞান
তো রচয়িতার মধ্যেই থাকবে, তাই না! শ্রীকৃষ্ণকে রচনা বলা হয়। রচয়িতা বাবা এসেই জ্ঞান
প্রদান করেন। এখনও বাবা রচনা করছেন, তিনি বলেন -- তোমরা আমার সন্তান। তোমরাও বলো,
আমরা তোমার। বলাও হয় ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণদের স্থাপনা। তা নাহলে ব্রাহ্মণ কোথা
থেকে আসবে। সূক্ষ্মলোকের ব্রহ্মা অন্য কেউ নয়। উপরের যিনি-তিনিই নীচের তথা পুনরায়
তিনিই উপরের। তিনি একজনই। আচ্ছা, বিষ্ণু আর লক্ষ্মী-নারায়ণের কথাও তো এক। তারা
কোথাকার? ব্রহ্মা থেকেই বিষ্ণু হয়। ব্রহ্মা-সরস্বতীই লক্ষ্মী-নারায়ণ, তারাই সমগ্র
কল্পের ৮৪ জন্ম পরে এসে সঙ্গমে পুনরায় ব্রহ্মা-সরস্বতী হয়। লক্ষ্মী-নারায়ণও মানুষ,
ওনাদের হলো দেবী-দেবতা ধর্ম। বিষ্ণুকেও ৪ ভূজ দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রবৃত্তিমার্গ
দেখানো হয়েছে। ভারতে প্রথম থেকেই প্রবৃত্তি মার্গের প্রচলন রয়েছে, সেইজন্য বিষ্ণুকে
৪টি ভূজ দেওয়া হয়েছে। এখানে হলো ব্রহ্মা-সরস্বতী, এই সরস্বতী হলো দত্তক নেওয়া কন্যা।
এঁনার প্রকৃত নাম ছিল লখীরাজ, পরে তাঁর নাম রাখা হয়েছে ব্রহ্মা। শিববাবা এঁনার মধ্যে
প্রবেশ করেছেন এবং রাধেকে আপন করে নিয়েছেন, নাম রেখেছেন সরস্বতী। ব্রহ্মা সরস্বতীর
কোনো লৌকিক পিতা নন। এই দুজনেরই আপন-আপন লৌকিক পিতা ছিল। এখন তারা নেই। এই শিববাবা
ব্রহ্মার দ্বারাই অ্যাডপ্ট করেছেন। তোমরা হলে অ্যাডপ্টেড চিল্ড্রেন। ব্রহ্মাও
শিববাবার সন্তান। ব্রহ্মার মুখ-কমল দ্বারা রচনা করেন সেইজন্য ব্রহ্মাকে মাতাও বলা
হয়। তুমি মাতা-পিতা আমি বালক তোমার, তোমারই কৃপায় সুখ প্রগাঢ়..... গাওয়াও হয়, তাই
না! তোমরা ব্রাহ্মণেরা এসে বালক হয়েছো। এ'সমস্ত বোঝার জন্য অতি তীক্ষ্ণ বুদ্ধি চাই।
বাচ্চারা, তোমরা শিববাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করো। ব্রহ্মা কোনো স্বর্গের
রচয়িতা বা জ্ঞানসাগর নন। জ্ঞানের সাগর হলেন অদ্বিতীয় পিতাই। আত্মার পিতাই জ্ঞানের
সাগর। আত্মাও জ্ঞানের সাগর হয় কিন্তু তাদের জ্ঞানসাগর বলা যাবে না কারণ সাগর একজনই।
তোমরা সকলে হলে নদী। সাগরের (বাবা) আপন শরীর নেই। নদীদের আছে। তোমরা হলে জ্ঞান নদী।
কলকাতায় ব্রহ্মপুত্র নদী অনেক বড়, কারণ তার সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সেখানে
তাদের (সঙ্গমে) অনেক বড় মেলা হয়। এখানেও মেলা হয়। সাগর এবং ব্রহ্মপুত্র দুজনে এখানে
কম্বাইন্ড। এটা হলো চৈতন্য, ওটা হলো জড়। এ'কথা বাবা বোঝান। শাস্ত্রতে নেই। শাস্ত্র
হলো ভক্তিমার্গের ডিপার্টমেন্ট (শাখা)। এটা হলো জ্ঞানমার্গ, ওটা হলো ভক্তিমার্গ।
অর্ধেককল্প ধরে চলে ভক্তিমার্গের শাখা। সেখানে জ্ঞানসাগরই নেই। পরমপিতা পরমাত্মা,
জ্ঞানের সাগর বাবা সঙ্গমে এসে জ্ঞান-স্নানের মাধ্যমে সকলের সদ্গতি করেন। তোমরা জানো
যে, আমরা অসীম জগতের পিতার থেকে স্বর্গ-সুখের সৌভাগ্য রচনা করছি। বরাবর আমরা
সত্যযুগ, ত্রেতায় পূজ্য দেবী-দেবতা ছিলাম। এখন আমরা পূজারী মানুষ। পুনরায় মানুষ
থেকে তোমরা দেবতায় পরিনত হও। ব্রাহ্মণ তথা দেবতা ধর্মে এসেছো পুনরায় ক্ষত্রিয়,
বৈশ্য, শূদ্র হয়েছো। ৮৪ জন্ম নিতে-নিতে নীচে নামতে হয়েছে। এও তোমাদের বাবা-ই বলেছেন।
তোমরা নিজেদের জন্মকে জানতে না। ৮৪ জন্মও তোমরাই নাও। যারা সর্বপ্রথমে আসে, তারাই
সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নেয়। যোগের দ্বারাই খাদ নিষ্কাশিত হয়ে যায়, যোগেই পরিশ্রম। যদিও
অনেক বাচ্চারাই জ্ঞানে তীক্ষ্ণ কিন্তু যোগে কাঁচা। বন্ধনে আবদ্ধ আত্মারা(বাঁধেলিয়া)
বন্ধনহীন আত্মাদের(ছুটেলিয়া) থেকে ভালো। তারা তো শিববাবার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য
রাত-দিন ছটফট (ব্যাকুল হয়) করে। তোমরা মিলিত হয়েছো। তোমাদের বলা হয় স্মরণ করো, আর
তোমরা প্রতিমুহূর্তে ভুলে যাও। ঝড়-ঝঞ্ঝা তোমাদের কাছে অনেক আসে। ওরা স্মরণের জন্য
ছটফট করে। তোমরা ছটফট করো না। তাদের ঘরে বসেও উচ্চপদ লাভ হয়ে যায়। বাচ্চারা, তোমরা
জানো - বাবার স্মরণে থাকলে আমরা স্বর্গের রাজত্ব পাবো। যেমন বাচ্চারা গর্ভ থেকে
বেরোনোর সময় ছটফট করে, তেমনই বন্ধনে আবদ্ধ আত্মারাও ব্যাকুল হয়ে ডাকে, শিববাবা এই
বন্ধন থেকে মুক্ত করো। দিন-রাত্রি স্মরণ করে। তোমরা বাবাকে পেয়েছো আর তোমরা অমনোযোগী
হয়ে পড়েছো। আমরা বাবার সন্তান। আমরা এই শরীর পরিত্যাগ করে গিয়ে প্রিন্স হবো, অন্তরে
এমন খুশী স্থায়ীভাবে থাকা উচিত। কিন্তু মায়া স্মরণে রাখতে দেয় না। স্মরণের দ্বারাই
অত্যন্ত খুশীতে থাকবে। স্মরণ না করলে বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। অর্ধেককল্প তোমরা
রাবণ-রাজ্যে দুঃখ দেখেছো। অকালমৃত্যু হয়ে এসেছে। দুঃখ তো রয়েছেই। যত ধনবানই হও না
কেন, দুঃখ তো হয়ই। অকালে মৃত্যু হয়। সত্যযুগে অকালে মৃত্যু হয় না, কখনো রোগ হবে না।
সময় এলে বসে-বসে নিজে-নিজেই এক শরীর পরিত্যাগ করে অন্য(শরীর) ধারণ করে নেয়। তার
নামই হলো - সুখধাম। মানুষ তো স্বর্গের কথাকে কল্পনা মনে করে। তারা বলে - স্বর্গ কোথা
থেকে আসবে! তোমরা জানো যে, আমরা স্বর্গে থাকব তারপর ৮৪ জন্ম নেব। সমগ্র এই খেলা
ভারতের উপরেই তৈরী হয়েছে। তোমরা জানো, আমরা ২১ জন্ম পবিত্র দেবতা ছিলাম, তারপর আমরা
ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র হয়েছি। এখন পুনরায় ব্রাহ্মণ হয়েছি। এই স্বদর্শন-চক্র অতি
সহজ। এ'কথা শিববাবা বসে বোঝান। তোমরা জানো যে, শিববাবা ব্রহ্মার রথে(শরীরে) এসেছেন,
যিনি ব্রহ্মা তিনিই সত্যযুগের আদিতে কৃষ্ণ ছিলেন। ৮৪-বার জন্মগ্রহণ করে পতিত হয়েছেন,
পুনরায় বাবা এঁনার মধ্যে প্রবেশ করে এঁনাকে অ্যাডপ্ট করেছেন। তিনি স্বয়ং বলেন, আমি
এই শরীরের আধার নিয়ে তোমাদের আপন করে নিয়েছি। পুনরায় তোমাদের স্বর্গের রাজধানীর
সুযোগ্য করে তুলি, যারা সুযোগ্য হবে তারাই রাজত্ব করবে। এতে ম্যানার্সও ভাল হওয়া
উচিত। মুখ্য হলো পবিত্রতা। এতেই অবলাদের উপর অত্যাচার হয়ে থাকে। কোথাও-কোথাও
পুরুষদের উপরেও অত্যাচার হয়। বিকারের জন্য একে-অপরকে বিরক্ত করে থাকে। এখানে মাতারা
অধিকসংখ্যক হওয়ার কারণে শক্তিসেনা নামটি গাওয়া হয়, বন্দে মাতরম্। এখন তোমরা কাম-চিতা
থেকে নেমে জ্ঞান-চিতায় বসেছো সুন্দর(গৌরবর্ণ) হওয়ার জন্য। দ্বাপর থেকে কাম-চিতায় বসে
রয়েছো। পরস্পরকে বিষ(বিকার) প্রদানের জন্য বিকারী ব্রাহ্মণেরা হস্তবন্ধন করে। তোমরা
হলে নির্বিকারী ব্রাহ্মণ। তোমরা তা ক্যান্সেল করিয়ে জ্ঞান-চিতায় বসিয়ে দাও।
কাম-চিতায় কালো হয়েছো, জ্ঞান-চিতায় সুন্দর(গৌরবর্ণ) হয়ে যাবে। বাবা বলেন, অবশ্যই
একত্রে থাকো কিন্তু প্রতিজ্ঞা করো যে আমরা বিকারে যাব না, সেইজন্য বাবা আংটিও পড়ান।
শিববাবা পিতাও, প্রিয়তমও। সমস্ত সীতাদের রাম। তিনি পতিত-পাবন। এছাড়া রঘুপতি রাঘব
রাজারামের কোনো কথা নেই। তিনিও সঙ্গমেই এই প্রালব্ধ পেয়েছিলেন। তাকে হিংসক
অস্ত্র-শস্ত্রে (তীর-ধনুক) সুসজ্জিত দেখানো ভুল। চিত্রতেও দেখানো উচিত নয়। কেবল
লেখা উচিত চন্দ্রবংশীয়। বাচ্চাদের বোঝানো উচিত যে, শিববাবা এঁনার মাধ্যমে চক্রের
এই রহস্য আমাদের বোঝাচ্ছেন। সত্য-নারায়ণের কথা পাঠ হয়, তাই না! তা হলো মানুষের তৈরী
করা (ব্রত) কথা। নর থেকে নারায়ণ তো কেউ হয় না। সত্য-নারায়ণের কথা অর্থই হলো নর থেকে
নারায়ণ হওয়া। অমরকথাও শোনায়, কিন্তু অমরপুরীতে তো কেউ যায় না। মৃত্যুলোক ২৫০০ বছর
চলে। তিজরীর কথা মাতারা শোনে। বাস্তবে এ হলো তৃতীয় জ্ঞান-নেত্র দেওয়ার কথা। এখন
আত্মারা জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র পেয়েছে সেইজন্য আত্ম-অভিমানী হতে হবে। আমি এই শরীরের
দ্বারা এখন দেবতা হতে চলেছি। আমার মধ্যেই সংস্কার রয়েছে। সকল মানুষই দেহ-অভিমানী।
বাবা এসে দেহী-অভিমানী করেন। লোকে আবার বলে, আত্মা পরমাত্মা এক। পরমাত্মা এ'সকল রূপ
ধারণ করেছে। বাবা বলেন, এ'সবই ভুল, একে মিথ্যা অভিমান, মিথ্যা জ্ঞান বলা হয়। বাবা
বলেন, আমি বিন্দু-সদৃশ। তোমরাও জানতে না, ইনিও জানতেন না। এখন বাবা বোঝান - এতে
সংশয় আসা উচিত নয়। নিশ্চয় হওয়া উচিত। বাবা অবশ্যই সত্য বলেন, সংশয়বুদ্ধি বিনশন্তী।
তারা সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে পারে না। আত্ম-অভিমানী হওয়াতেই পরিশ্রম।
খাবার প্রস্তুত করার সময়েও বুদ্ধি যেন বাবার দিকে থাকে। প্রতিটি বিষয়েই এই অভ্যাস
করা উচিত। রুটি বেলতে-বেলতেও নিজের প্রিয়তমকে স্মরণ করতে থাকবে - এই অভ্যাস প্রতিটি
বিষয়েই থাকা উচিত। যতখানি সময় অবসর পাবে স্মরণ করতে হবে। স্মরণের দ্বারাই তোমরা
সতোপ্রধান হবে। ৮ ঘন্টা কাজকর্মের জন্য ছুটি। মাঝে-মাঝে কিন্তু একান্তে গিয়ে বসা
উচিত। তোমাদের সকলকে বাবার পরিচয় শোনাতে হবে। আজ না শুনলে কাল শুনবে। বাবা স্বর্গ
স্থাপন করেন, আমরা স্বর্গে ছিলাম তারপর এখন নরকবাসী হয়েছি। এখন আবার বাবার কাছ থেকে
উত্তরাধিকার পাওয়া উচিত। ভারতবাসীদেরই বোঝান হয়। বাবা আসেনও ভারতেই। দেখো, তোমাদের
কাছে মুসলিমরাও আসে, তারাও সেন্টারের রক্ষণাবেক্ষণ করে। বলে শিববাবাকে স্মরণ করো।
শিখরাও আসে, খ্রীস্টানরাও আসে, ভবিষ্যতে অনেকেই আসবে। এই জ্ঞান সকলের জন্য কারণ এ
হলো বাবার সহজ স্মরণ এবং সহজ উত্তরাধিকার। কিন্তু পবিত্র তো অবশ্যই হতে হবে। দান
করলে গ্রহণ মুক্ত হয়ে যাবে। এখন ভারতের উপর রাহুর দশা (গ্রহণ) রয়েছে পুনরায় ২১
জন্মের জন্য বৃহস্পতির দশা শুরু হবে। প্রথমে হয় বৃহস্পতির দশা, পরে হয় শুক্রের দশা।
সূর্যবংশীয়দের উপর বৃহস্পতির দশা, চন্দ্রবংশীয়দের উপর শুক্রের দশা রয়েছে বলা হবে।
পুনরায় দশা কম হতে থাকে। সর্বাপেক্ষা খারাপ হলো রাহুর দশা। বৃহস্পতি কোনও গুরু নয়।
এই দশা হলো বৃক্ষপতির। বৃক্ষপতি বাবা যখন আসেন তখন বৃহস্পতি এবং শুক্রের দশা হয়।
রাবণ এলে রাহুর দশা বসে। বাচ্চারা, তোমাদের উপর এখন বৃহস্পতির দশা বসে রয়েছে। কেবল
বৃক্ষপতিকে স্মরণ করো আর পবিত্র হও, ব্যস। আচ্ছা।
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মার পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
প্রতিটি কার্য করতে-করতে আত্ম-অভিমানী হওয়ার অভ্যাস করতে হবে। দেহের অহংকার যাতে
সমাপ্ত হয়ে যায় সেইজন্য পরিশ্রম করতে হবে।
২ ) সত্যযুগীয়
রাজত্বের সুযোগ্য হওয়ার জন্য নিজের ব্যবহারকে রয়্যাল করতে হবে। পবিত্রতাই হলো
সর্বাপেক্ষা উচ্চ (ভদ্র) আচার-আচরণ। পবিত্র হলেই পবিত্র দুনিয়ার মালিক হবে।
বরদান:-
করনকরাবনহারের স্মৃতির দ্বারা সহযোগের অনুভবকারী সফলতামূর্তি ভব
কোনও কাজ করার সময় এই
স্মৃতি যেন থাকে যে আমাকে এই কাজের নিমিত্ত বানানো ব্যকবোন কে? বিনা ব্যাকবোন, কোনও
কাজই সফল হবে না, এইজন্য যেকোনও কাজ করার সময় এটা স্মরণে রাখো যে আমি হলাম নিমিত্ত,
করাচ্ছেন স্বয়ং সর্ব সমর্থ বাবা। এটা স্মৃতিতে রেখে কর্ম করো তাহলে সহজেই যোগের
অনুভূতি হতে থাকবে। তারপর এই সহজযোগ সেখানে সহজ রাজ্য করাবে। এখানকার সংস্কার সেখানে
নিয়ে যাবে।
স্লোগান:-
ইচ্ছা
হলো ছায়ার মতো, তোমরা পিঠ করে দাও তাহলে পিছু-পিছু আসবে।
অব্যক্ত ঈশারা :-
মহান হওয়ার জন্য মধুরতা আর নম্রতার গুণ ধারণ করো
মধুরতা হল এমনই এক
বিশেষ ধারণা যা তিক্ত ধরণীকেও মধুর বানিয়ে দাও। তোমাদের সকলের পরিবর্তন হওয়ার আধার
হল বাবার দুটি মধুর বাণী। মিষ্টি বাচ্চারা তোমরা হলে মিষ্টি শুদ্ধ আত্মা। এই দুই
মধুর বাণীই তোমাদেরকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। মিষ্টি দৃষ্টি তোমাদের পরিবর্তন করে
দিয়েছে। এইরকমই মধুরতার দ্বারা তোমরা অন্যদেরকেও মধুর বানাও। এই মুখ মিষ্টি করো। সদা
এই মধুরতার উপহার সাথে রাখো। এর দ্বারাই সদা মিষ্টি থাকবে আর অন্যদেরকেও মিষ্টি
বানাতে পারবে।