08.01.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
কখনও মিথ্যা অহংকারের বশ হবে না, এই রথের সম্পূর্ণ সম্মান রাখবে”
প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা,
তোমাদের মধ্যে পদ্মগুণ ভাগ্যশালী কে এবং দুর্ভাগ্যশালী কে?
উত্তরঃ
যাদের আচরণ
দেবতাদের মতন, যারা সবাইকে সুখ প্রদান করে তারা হলো পদ্মগুণ ভাগ্যশালী এবং যারা ফেল
হয় তাদের বলা হবে দুর্ভাগ্যশালী। কেউ কেউ মহান দুর্ভাগ্যশালী হয়ে যায়, তারা সবাইকে
দুঃখ দিতেই থাকে। সুখ দেওয়া কি তারা জানে না। বাবা বলেন বাচ্চারা, নিজের গুড কেয়ার
নিতে হবে । সবাইকে সুখ প্রদান করো, উপযুক্ত হও।
ওম্ শান্তি ।
আত্মিক পিতা
বসে আত্মারূপী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন। তোমরা এই পাঠশালায় বসে উঁচু পদ মর্যাদা প্রাপ্ত
করো। তোমরা বুঝেছো যে আমরা উঁচু থেকে উঁচু স্বর্গে পদ প্রাপ্ত করি। এমন বাচ্চাদের
তো খুশী হওয়া উচিত। যদি সবার দৃঢ় নিশ্চয় থাকে তবু সবাই তো একরকম হতে পারে না।
ফার্স্ট থেকে লাস্ট নম্বর পর্যন্ত তো থাকেই। পেপারেও ফার্স্ট থেকে লাস্ট নম্বর
পর্যন্ত ক্রম সংখ্যা তো থাকে। কেউ ফেল হয়, তো কেউ পাস হয়। অতএব প্রত্যেকে নিজেকে
জিজ্ঞাসা করো - বাবা যে আমাদের এমন উঁচু স্থান প্রদান করেন, আমি কতখানি উপযুক্ত
হয়েছি? অমুকের চেয়ে ভালো না খারাপ? এটা হল পড়াশোনা, তাইনা। এমন দেখা যায়, কেউ কোনো
বিষয়ে দুর্বল হলে নীচে নেমে যায়। যদিও সে মনিটর হবে তবুও কোনও বিষয়ে দুর্বল হলে নীচে
নেমে যাবে। খুব কমই স্কলারশিপ প্রাপ্ত করে। এও হল স্কুল। তোমরা জানো যে আমরা সবাই
পড়াশোনা করছি, এতে সর্ব প্রথম কথা হল পবিত্রতার। বাবাকে আহবান করেছো না - পবিত্র
করার জন্য। যদি ক্রিমিনাল আই বা কুদৃষ্টি থাকবে তো নিজেরই অনুভব হবে। বাবাকে লিখে
দেয়, বাবা আমরা এই সাবজেক্টে দুর্বল। স্টুডেন্টের বুদ্ধিতে নিশ্চয়ই থাকে - আমরা
অমুক সাবজেক্টে খুবই দুর্বল। কেউ এমনও বুঝতে পারে আমরা ফেল করবো। এতে প্রথম নম্বরের
সাবজেক্ট হল - পবিত্রতা। অনেকে লেখে - বাবা আমরা হেরে গিয়েছি, তাদের কি বলা হবে?
তারা নিজেরাই বুঝতে পারে - আমরা আর উপরে উঠতে পারবো না। তোমরা পবিত্র দুনিয়া স্থাপন
করো তাইনা। এটাই হলো তোমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। বাবা বলেন - বাচ্চারা, মামেকম্ স্মরণ
করো এবং পবিত্র হও তাহলে লক্ষ্মী-নারায়ণের বংশে যেতে পারবে। টিচার তো বুঝবে এই
স্টুডেন্ট এত উঁচু পদ প্রাপ্ত করতে পারবে কিনা? তিনি হলেন সুপ্রিম টিচার।
ব্রহ্মাবাবাও তো স্কুলে পড়েছেন তাইনা। কোনো কোনো ছেলে এমন খারাপ কাজ করে যে শেষে
মাস্টার শাস্তি দেয় । পূর্বে কঠিন শাস্তি দেওয়া হতো। এখন শাস্তির পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া
হয়েছে, ফলে স্টুডেন্টরা আরো বেশি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আজকাল স্টুডেন্টরা কত ঝামেলা করে।
স্টুডেন্টদের নিউ ব্লাড বলা হয়। তারা কত কি করে! আগুন লাগিয়ে দেয়, নিজের যুবশক্তির
প্রদর্শন করে। এটা হলো আসুরিক দুনিয়া। যুবকরা খুব খারাপ হয়, তাদের কুদৃষ্টি থাকে।
দেখতে খুব ভালো হয়। যেমন বলা হয় - ঈশ্বরের অন্ত নেই, তেমনই তাদেরও অন্ত পাওয়া যায়
না যে তারা কিরকম মানুষ। হ্যাঁ, জ্ঞানের বুদ্ধি দ্বারা জানতে পারা যায়, পড়াশোনায়
কিরকম, তাদের কার্যকলাপ কিরকম। কেউ তো এমন কথা বলে যেন মুখ থেকে ফুল ঝরে পড়ছে , কেউ
এমন কথা বলে যেন মুখ থেকে পাথর পড়ছে। দেখতে ভালো, পয়েন্টস ইত্যাদি ভালো লেখে কিন্তু
পাথরবুদ্ধি। বাইরের শো বেশি। মায়া খুব তীক্ষ্ণ, তাই গায়ন আছে আশ্চর্য হয়ে শুনে,
নিজেকে শিববাবার সন্তান রূপে পরিচয় দিয়ে, অন্যদের জ্ঞান শুনিয়ে, জ্ঞানের কথা বলে
তারপরে পালিয়ে যায় অর্থাৎ ট্রেটর হয়ে যায়। এমন নয় বুদ্ধিমান ট্রেটর হয় না, বরং খুব
বুদ্ধিমানরাও ট্রেটর হয়ে যায়। ওই সেনাবাহিনীতেও এমন হয়। বিমান সহ অন্য দেশে চলে যায়।
এখানেও এমন হয়, স্থাপনা করতে খুব পরিশ্রম লাগে। বাচ্চাদের পড়া করতে পরিশ্রম লাগে,
টিচারদেরও পড়াতে পরিশ্রম হয়। দেখা যায়, যে সবাইকে ডিস্টার্ব করে, পড়াশোনা করে না,
তাদের স্কুলে হান্টার মারা হয়। ইনি তো হলেন পিতা, বাবা কিছু করেন না। বাবার কাছে
এমন নিয়ম নেই, এখানে তো একেবারে শান্ত থাকতে হয়। বাবা তো হলেন সুখদাতা, ভালোবাসার
সাগর। অতএব বাচ্চাদের আচরণ এমন হওয়া উচিত, যেমন দেবতাদের হয়। বাচ্চারা, বাবা
তোমাদের সর্বদা বলেন তোমরা হলে পদ্মগুণ ভাগ্যশালী। কিন্তু পদ্ম গুণ দুর্ভাগ্যশালীও
হয়। যারা ফেল হয় তাদের তো দুর্ভাগ্যশালীই বলা হবে, তাইনা। বাবা জানেন - শেষ পর্যন্ত
এইসব হতেই থাকবে। কেউ তো মহান দুর্ভাগ্যশালী অবশ্যই হয়। আচরণ এমন থাকে যে বোঝা যায়
এখানে স্থির থাকতে পারবে না। এত উঁচু হওয়ার যোগ্যতা নেই, সবাইকে দুঃখ দেয়। সুখ
প্রদান করা জানেই না তাহলে কিরূপ অবস্থা হবে! বাবা সদা বলেন - বাচ্চারা, নিজের
রক্ষণাবেক্ষণ ভালো ভাবে করো, এইসবও ড্রামা অনুসারে হবেই, লোহার চেয়েও নিম্ন স্তরের
হয়ে যায়। ভালো ভালো বাচ্চারাও কখনও চিঠি লেখে না। তাদের কি অবস্থা হবে!
বাবা বলেন - আমি এসেছি
সর্বজনের কল্যাণ করতে। আজ সকলের সদগতি করি, আগামীকাল আবার দুর্গতি হয়ে যায়। তোমরা
বলবে আমরা গতকাল বিশ্বের মালিক ছিলাম, আজ গোলাম হয়েছি। এখন সম্পূর্ণ বৃক্ষটি
বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। এ হল ওয়ান্ডারফুল বৃক্ষ। মানুষ সেই কথা জানেনা। এখন
তোমরা জানো কল্প অর্থাৎ পুরো ৫ হাজার বছরের সঠিক বৃক্ষ। এক সেকেন্ডের তফাৎ হতে
পারেনা। এই অসীম জগতের বৃক্ষের নলেজ তোমরা বাচ্চারা এখন প্রাপ্ত করছো। নলেজ প্রদান
করেছেন বৃক্ষপতি। বীজ হয় ছোট, ফল দেখো কত বড় মাপের হয়। এ হলো ওয়ান্ডারফুল বৃক্ষ, এই
বৃক্ষের বীজও হল সূক্ষ্ম। আত্মাও হয় সূক্ষ্ম। বাবাও সূক্ষ্ম, এই চোখ দিয়ে দেখা যায়
না। যদিও বিবেকানন্দের বিষয়ে বলা হয় - উনি বলেছেন জ্যোতিপুঞ্জ ওনার থেকে বেরিয়ে
আমার মধ্যে এসে ঢুকে গেল। এমন কোনো জ্যোতি বেরিয়ে অন্যের মধ্যে মিলিয়ে যেতে পারে
না। কি বেরিয়েছে? সে বিষয়ে বোধ নেই। এমন এমন সাক্ষাৎকার তো অনেক হয়, কিন্তু তারা
অনেক সম্মান দেয়, মহিমা বর্ণনা করে। ভগবানুবাচ - কোনও মানুষের মহিমা নয়। মহিমা
বর্ণনা কেবল দেবতাদের করা হয় এবং যে এমন দেবতায় পরিণত করেন তাঁর মহিমা করা হয়। বাবা
কার্ড খুব ভালো বানিয়েছিলেন। জয়ন্তী পালন করো একমাত্র শিববাবার। এই
লক্ষ্মী-নারায়ণকেও তো এমন স্বরূপ শিববাবাই প্রদান করেন, তাইনা। শুধুমাত্র এক এরই
মহিমা আছে, একের স্মরণেই থাকো। ব্রহ্মাবাবা নিজে বলেন উঁচু থেকে উঁচু স্বরূপে পরিণত
হই পরে নীচেও নেমে আসি। এই কথা কেউ জানেনা - উঁচু থেকে উঁচু লক্ষ্মী-নারায়ণ পুনরায়
৮৪ জন্ম পরে নীচে নেমে আসেন, তৎত্বম্। তোমরাই বিশ্বের মালিক ছিলে, পরে কি অবস্থা
হয়েছে! সত্যযুগে কে ছিলে? তোমরা সবাই ছিলে, নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে।
রাজা-রানীও ছিলে, সূর্যবংশী - চন্দ্রবংশী বংশের ছিলে। বাবা কত ভালো ভাবে বোঝান। এই
সৃষ্টি চক্রের জ্ঞান বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে চলতে-ফিরতে থাকা উচিত। তোমরা হলে
চৈতন্য লাইট-হাউস। সম্পূর্ণ পড়াশোনা বুদ্ধিতে থাকা উচিত। কিন্তু সেই অবস্থা তো এখনও
হয়নি, হবে। যারা পাস উইথ অনার হবে তাদের এমন অবস্থা হবে। সম্পূর্ণ জ্ঞান বুদ্ধিতে
থাকবে। বাবার প্রিয়, লাভলী বাচ্চা তখনই বলা হবে। এমন বাচ্চাদেরকে বাবা স্বর্গের
রাজত্ব উপহার দেন। বাবা বলেন আমি রাজত্ব করি না, তোমাদের প্রদান করি, একেই নিষ্কাম
সেবা বলা হয়। বাচ্চারা জানে বাবা আমাদের মাথার উপরে বসিয়ে দেন, তো এমন বাবাকে কতখানি
স্মরণ করা উচিত। এই ড্রামা এমনই ভাবে পূর্ব নির্দিষ্ট আছে। বাবা সঙ্গমে এসে সবাইকে
সদগতি দেন, নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। এক নম্বরে হাইয়েস্ট সম্পূর্ণ পবিত্র,
লাস্ট নম্বরে সম্পূর্ণ অপবিত্র। স্নেহ-স্মরণ তো বাবা সবাইকে দেন।
বাবা কত ভালো ভাবে
বোঝান, কখনও মিথ্যা অহংকারের বশীভূত হবে না। বাবা বলেন - সতর্ক থাকতে হবে, এই রথের
সম্মানও রাখতে হবে। এই রথ অর্থাৎ ব্রহ্মাবাবার দেহের দ্বারা তো বাবা জ্ঞান প্রদান
করেন, তাইনা। ইনি (জ্ঞানে আসার পূর্বে) কখনও কুবচন শোনেননি। সবাই খুব ভালোবেসেছে।
এখন তো দেখো কত কু কথা শুনতে হয়। অনেকে ট্রেটর হয়ে পালিয়ে যায় তখন তাদের কিরূপ
অবস্থা হবে, ফেল হবে, তাইনা! বাবা বোঝান মায়া হল এমন, তাই খুব সতর্ক থাকো। মায়া
কাউকে ছাড়ে না। সব রকমের আগুন লাগিয়ে দেয়। বাবা বলেন আমার সব বাচ্চারা কাম চিতায় বসে
কালো কয়লায় পরিণত হয়েছে। সবাই তো একরকম হয় না। না সবার পার্ট একরকম হয়। এর নামই হলো
বেশ্যালয়, অনেক বার কাম চিতায় বসেছে । রাবণ খুব শক্তিশালী, বুদ্ধিকে পতিত বানিয়ে
দেয়। এখানে এসে বাবার কাছে শিক্ষা নিয়েও অনেকে এমন হয়ে যায়। বাবার স্মরণ ব্যতীত
কুদৃষ্টি কখনও ভালো হতে পারে না, তাই সুরদাসের কাহিনী আছে (খারাপ জিনিস দেখবে না বলে
নিজেই অন্ধ হয়ে গেছিল) । যদিও গল্প, দৃষ্টান্ত তো দেওয়া হয়। এখন তোমরা বাচ্চারা
জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত করেছো। অজ্ঞান অর্থাৎ অন্ধকার। বলা হয় তোমরা তো অন্ধ,
অজ্ঞানী। এখন জ্ঞান হল গুপ্ত, এতে কিছু বলার নেই। এক সেকেন্ডে সম্পূর্ণ জ্ঞান এসে
যায়, সবচেয়ে সরল এই জ্ঞান। তবুও শেষ পর্যন্ত মায়ার পরীক্ষা চলতে থাকবে। এই সময় তো
ঝড়ের মধ্যে আছো, পাকা মজবুত হয়ে গেলে এত ঝড় আসবে না, পড়ে যাবে না। তখন দেখবে
তোমাদের বৃক্ষ কত বড় হবে। সুনাম তো হবেই । বৃক্ষ তো বৃদ্ধি পেতে থাকে। একটু বিনাশ
হলে খুব সতর্ক হয়ে যাবে। তখন বাবার স্মরণে স্থির হয়ে যাবে। বুঝবে যে সময় কম। বাবা
তো ভালো করে বোঝান - নিজেদের মধ্যে স্নেহ সহকারে থাকো। চোখ রাঙাবে না। ক্রোধ রূপী
ভূত এলে চেহারা পাল্টে যায়। তোমাদেরকে তো লক্ষ্মী-নারায়ণের মতন চেহারা ধারণ করতে হবে।
মুখ্য উদ্দেশ্যটি সামনে আছে। সাক্ষাৎকার পরে হতে থাকবে, যখন ট্রান্সফার হবে। যেমন
শুরুতে সাক্ষাৎকার হয়েছিল তেমনই শেষ সময়েও অনেক পার্ট দেখবে। তোমরা খুব খুশীতে থাকবে।
মিরুয়া মউত মলুকা শিকার অর্থাৎ শিকার দেখে শিকারীর মনে আনন্দ... শেষ সময়ে অনেক সীন
সীনারী দেখতে হবে তখন অনুতাপ করবে যে আমি এই কাজ করেছি। তখন সেই দন্ড ভোগও কঠিন থাকে।
বাবা এসে পড়ান, তাঁরও সম্মান না রাখলে দন্ড তো প্রাপ্ত হবে। সবচেয়ে কঠিন দন্ড ভোগ
তারা প্রাপ্ত করবে যারা বিকারগ্রস্ত হয় বা শিববাবার অনেক গ্লানি অপমান করানোর
নিমিত্ত হয়। মায়া খুব তীব্র। স্থাপনার কাজে কত কিছু হয়। তোমরা তো এখন দেবতায় পরিণত
হচ্ছো তাইনা। সত্যযুগে অসুর ইত্যাদি হয় না। এই হল সঙ্গমের কথা। এখানে বিকারগ্রস্ত
মানুষ কত দুঃখ দেয়, কন্যাদের উপরে অত্যাচার করে, বিবাহ করতে বাধ্য করে। স্ত্রীকে
বিকারগ্রস্ত হওয়ার জন্য অত্যাচার করে, কত কিছুর সম্মুখীন হতে হয়। তারা বলে
সন্ন্যাসীরাও থাকতে পারেনা এরা কারা যে পবিত্র থেকে দেখায়। ভবিষ্যতে সবই বুঝবে।
পবিত্রতা ব্যতীত দেবতায় পরিণত হওয়া সম্ভব নয়। তোমরা বোঝাও - আমরা এতখানি প্রাপ্ত করি
তবেই ত্যাগ করি। ভগবানুবাচ - কাম বিকারকে জিতলে জগৎজিত হবে। এমন লক্ষ্মী-নারায়ণে
পরিণত হলে পবিত্র তো হবেই। তখন মায়া খুব অস্থির করে। সর্বোচ্চ এই পড়াশোনা তাইনা।
বাবা এসে পড়ান - এই কথা বাচ্চারা ভালো রীতি স্মরণ করেনা তাই মায়া এসে থাপ্পড় মারে।
মায়া অনেক আদেশ অমান্য করিয়ে দেয় তখন তাদের কি অবস্থা হয়। মায়া এমন অমনোযোগী বানিয়ে
দেয়, অহংকারে বশীভূত করে দেয় যে বলার কথা নয়। নম্বর অনুসারে রাজধানী তৈরি হয় সুতরাং
কোনও কারণ তো থাকবে তাইনা। এখন তোমরা পাস্ট, প্রেজেন্ট, ফিউচারের জ্ঞান প্রাপ্ত করো
তাই খুব ভালো ভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত। অহংকার এলেই মৃত্যু। মায়া একদম ওয়ার্থ নট এ
পেনি অর্থাৎ মূল্যহীন বানিয়ে দেয়। বাবার আদেশ অমান্য করলে বাবাকে স্মরণ করতে পারবে
না। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
নিজেদের মধ্যে স্নেহ সহকারে চলতে হবে। কখনও ক্রোধ বশতঃ একে অপরকে চোখ রাঙাবে না।
বাবার আদেশ অমান্য করবে না।
২ ) পাস উইথ অনার
হওয়ার জন্য বুদ্ধিতে পড়াকে রাখতে হবে। চৈতন্য লাইট হাউস হতে হবে। দিন-রাত্রি
বুদ্ধিতে যেন জ্ঞান আবর্তিত হয়।
বরদান:-
অলমাইটি
বাবার অথরিটির দ্বারা প্রতিটি কাজকে সহজ করে সদা অটল নিশ্চয়বুদ্ধি ভব
আমরা সবথেকে শ্রেষ্ঠ
অলমাইটি বাবার অথোরিটির দ্বারা সব কাজ করি - এটা এতটাই অটল নিশ্চয় হবে যেন কেউ টলাতে
না পারে। এর দ্বারা যেকোনও বড় কাজ করার সময় সহজ অনুভব হবে। যেরকম আজকাল সায়েন্স এমন
মেশিনারি তৈরী করেছে যে যেকোনও প্রশ্নের উত্তর সহজেই পাওয়া যায়, বুদ্ধি খাটানোর
প্রয়োজন পরে না। এইরকম অলমাইটি অথোরিটিকে সামনে রাখলে সব প্রশ্নের উত্তর সহজেই পেয়ে
যাবে, আর সহজ মার্গের অনুভূতি হবে।
স্লোগান:-
একাগ্রতার শক্তি পরবশ স্থিতিকেও পরিবর্তন করে দেয়।
অব্যক্ত ঈশারা :- এই
অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো
ব্রাহ্মণ জীবনের মজা
জীবন্মুক্ত স্থিতিতে আছে। পৃথক হওয়া অর্থাৎ মুক্ত হওয়া। সংস্কারের উপরও কোনও আকর্ষণ
থাকবে না। কি করবো, কিভাবে করবো, করতে চাইনি কিন্তু হয়ে গেলো - এটা হলো জীবনবন্ধ
হওয়া। ইচ্ছা ছিলনা কিন্তু ভালো লেগে গেলো, শিক্ষা দেওয়ার ছিল কিন্তু ক্রোধ এসে গেলো
- এটা হল জীবনবন্ধ স্থিতি। ব্রাহ্মণ অর্থাৎ জীবন্মুক্ত। কখনও এইরকম কোনও বন্ধনে
বাঁধতে পারে না।