09.05.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা এখানে এসেছো সেল্ফ রিয়ালাইজ করার জন্য, তোমরা নিজেদেরকে আত্মা নিশ্চয় করে
পরমাত্মা পিতার কাছে জ্ঞান অর্জন করো, দেহী-অভিমানী থাকার প্র্যাক্টিস করো”
প্রশ্নঃ -
বাচ্চাদেরকে
অনেক সময়ই অনেকে জিজ্ঞাসা করে তোমরা আত্মার সাক্ষাৎকার করেছো, তখন তোমরা তাদের কি
উত্তর দেবে?
উত্তরঃ
বলো হ্যাঁ,
আমরা আত্মার সাক্ষাৎকার করেছি। আত্মা হলো জ্যোতির্বিন্দু। আত্মার মধ্যেই ভালো বা
খারাপ সংস্কার থাকে। আত্মার সম্পূর্ণ জ্ঞান এখন আমরা প্রাপ্ত করেছি। যতক্ষণ আত্মার
সাক্ষাৎকার হয়নি ততক্ষণ দেহ-অভিমানী ছিলাম। এখন আমাদের পরমাত্মার দ্বারা গড
রিয়ালাইজেশন এবং সেল্ফ রিয়ালাইজেশন হয়েছে।
গীতঃ-
না সে আমাদের
থেকে পৃথক হবে.....
ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি -
মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা এই গান শুনলো। আত্মা রূপী বাচ্চারা শরীরের দ্বারা কথা
বলে। এমন কেউ কখনও বলবে না যে আমরা আত্ম বলিদান দেবো সাধু সন্ন্যাসীদের উপরে।
বাচ্চারা জানে - আমাদের তো তাঁর সঙ্গে যেতে হবে, এই শরীর ত্যাগ করতে হবে। তাই বলে,
এই শরীর ত্যাগ করে আমরা চলে যাবো বাবার সঙ্গে। বাবা এসেছেন সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
এই কথাটি খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। বাচ্চারা আহবান করে, আমরা পতিত এসে আমাদের পবিত্র
করো, তখন কি করি। এখানে ছেড়ে তো যাবো না। এই সম্পূর্ণ দুনিয়া হল পতিত - সে কথা তোমরা
জানো। তোমরা কাউকে বিকারগ্রস্ত, পতিত বললে তো তারা রেগে যাবে। মানুষকে খুব যুক্তি
দিয়ে বোঝাতে হবে। মহিমা বর্ণনা করতে হবে একমাত্র বাবার। এখন বাচ্চারা তোমরা জ্ঞান
প্রাপ্ত করেছো, খুব বুঝে শুনে কথা বলতে হবে। যদি কোথাও দেখো যে সওয়াল - জবাব চলছে
তখন বলো আমরা এখন নতুন, সিনিয়র দিদি এসে রেসপন্স করবেন ।
তোমরা বলো, শিববাবা
বোঝান, ভগবানুবাচ - মানুষ হল সবাই পতিত। পতিত তো ভগবান হতে পারেন না। পতিত-পাবনকে
আহ্বান করে, কারণ পতিত হয়েছে। দেহধারীদের ভগবান বলা হবে না। ভগবান নিরাকার শিবকে বলা
হয়, শিবের মন্দিরও অনেক আছে। সর্ব প্রথমে একটি কথা বুঝতে হবে তবে স্থির হতে পারবে।
সবচেয়ে প্রথমে বলো যে শিব ভগবানুবাচ - শিববাবা বলেন মামেকম্ স্মরণ করো। তাঁর নিজস্ব
শরীর নেই। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্করকেও নিজস্ব সূক্ষ্ম শরীর আছে। দেখতে পাওয়া যায়। তাঁকে
তো দেখা যায় না। তাঁকেই বলা হয় - পরমপিতা পরমাত্মা। তোমরাও বলবে আমরা আত্মারা এক
শরীর ত্যাগ করে দ্বিতীয় ধারণ করি। তোমরা নিজেদের আত্মার সাক্ষাৎকার করেছো। ভক্তি
মার্গে সাক্ষাৎকারের জন্য কঠিন ভক্তি বা নবধা ভক্তি করে। কিন্তু যারা ভক্তি করেছে
তারা কখনও সাক্ষাৎকার করেনি। আত্মা কি জিনিস, সে কথা জানে না। শুধু বলে - সে
নিরাকার। কথা বলে আত্মা। সংস্কারও আত্মায় ভরা থাকে। আত্মা বেরিয়ে গেলে আত্মা ও শরীর
দুইই কথা বলতে পারে না। আত্মা ব্যতীত শরীর কিছু করতে পারে না। প্রথমে তো আত্মাকে
জানতে হবে এবং বাবার দ্বারাই বাবাকে জানবে। পরমপিতা পরমাত্মার সাক্ষাৎকার আত্মা করবে
কীভাবে - যখন নিজেকে জানেনা, দেখেনি। যদিও বলে "আজব নক্ষত্র জ্বলজ্বল করছে", কিন্তু
এই কথা কেউ জানেনা যে আত্মায় ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে। মানুষ একেবারে দেহ-অভিমানী
হয়ে থাকে। এখন বাবা বলেন দেহী-অভিমানী হও। নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে আমার দ্বারা
জ্ঞান প্রাপ্ত করো। জ্ঞান শোনে তো আত্মা, আত্মাকে জ্ঞান শোনানোর জন্য পরমাত্মার
প্রয়োজন হয়। মানুষকে বোঝানোর জন্য মানুষ থাকবে। আত্মার এই জ্ঞান কারো কাছে নেই তাই
বলা হয় প্রথমে আত্মাকে জানো। সেল্ফ রিয়ালাইজ করো। আত্মা নিজেই বলে - আত্মাকে আমরা
কীভাবে রিয়ালাইজ করবো। সেকথা কেউ জানেনা, আমাদের আত্মায় কীভাবে সম্পূর্ণ পার্ট ভরা
আছে। সাধু-সন্ন্যাসী ইত্যাদি কেউ বলতে পারে না। বাবাকেই এসে বাচ্চাদেরকে সেল্ফ
রিয়ালাইজ করাতে হয়। বাবা বলেন - নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে আমি নিরাকার পরমপিতা
পরমাত্মার কাছে জ্ঞান শ্রবণ করো। আত্মা ও পরমাত্মা যখন মিলিত হয় তখন এই সব কথা হয়।
দুনিয়া তো এই কথা জানেনা যে পরমপিতা পরমাত্মা কবে আসবেন। কীভাবে এসে বোঝাবেন? না
জানার দরুন মত বিভেদ হয়ে গেছে। তাদের সব কিছু নির্ভর করে শাস্ত্রের উপরে। বাবা বলেন
- সেসবের দ্বারা তোমরা আমাকে এবং নিজেকে রিয়ালাইজ করতে পারবে না। তারা তো বলে দেয়
আত্মাই হলো পরমাত্মা। এমন কথা বললে কি হয়। আমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র কে করবে?
ত্রিকালদর্শী কে বানাবে? অন্য কেউ আত্মা ও পরমাত্মার জ্ঞান তো দিতে পারবে না তাই
তোমরা বলো যে আত্মারা নিজের পিতাকে জানেনা, তারা হলো ঈশ্বরে অবিশ্বাসী। তারা বলে
যারা ভক্তি করে না তারা ঈশ্বরে অবিশ্বাসী। এখন তোমরা বাচ্চারা তো ভক্তি করো না।
তোমাদের কাছে ভালো চিত্র আছে। চিত্রের উপরেই বোঝানো হয়। কেউ যদি বিশ্বের মানচিত্র
না দেখে থাকে তবে কীভাবে জানবে - লন্ডন কোথায়? আমেরিকা কোথায়? যখন টিচার বসে ম্যাপ
দেখিয়ে বোঝাবে, তাই তোমরাও এই চিত্র গুলি বানিয়েছো কিন্তু ডিটেলে কেউ বুঝতে পারে
না। সূর্যবংশীরা এই রাজধানী কীভাবে নিয়েছে? তারপরে চন্দ্রবংশীরা কীভাবে নিয়েছে?
সূর্যবংশীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল? তোমরা বুঝেছো সবাই এক পিতার কাছে উত্তরাধিকার
প্রাপ্ত করে। সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী তো হল বিশ্বের মালিক। দ্বিতীয় কোনো ধর্মই থাকে
না তো যুদ্ধের কথাই নেই। এখন তোমরা বুঝেছো, আমরা বিশ্বের মালিক হই। এমন নয়
সূর্যবংশীদের সঙ্গে চন্দ্রবংশীদের যুদ্ধ হয়েছিল। না, বংশ বা কুলই আলাদা থাকে।
এখন তোমাদের বুদ্ধিতে
এই চিত্র গুলির সম্পূর্ণ নলেজ আছে। স্কুলে স্টুডেন্ট পড়াশোনা করে তখন বুদ্ধিতে
সম্পূর্ণ নলেজ এসে যায়। ছোট বাচ্চাদের বই খুলে দেখানো হয় - এই ছবিটি হল হাতির,
ইত্যাদি। এখন তোমরা এই ড্রামার কথা জেনেছো। এই সম্পূর্ণ চক্রটি বুদ্ধিতে আছে। এ হল
সম্পূর্ণ নতুন কথা এবং এই কথা গুলো ব্রাহ্মণ কুল-ই কেবল বুঝবে। অন্যরা বসে অযথা
ডিবেট করবে। এমন তো নয় যে সবাইকে একত্রে বোঝানো যাবে। না, আলাদা আলাদা বোঝাতে হয়।
নিয়ম হল প্রথমে পিতাকে, তারপরে আত্মাকে বুঝবে তারপর ক্লাসে বসে বুঝবে, তা নাহলে
বুঝবে না। সংশয় সন্দেহ করতেই থাকবে। তোমাদেরকে বোঝাতে হবে ভগবান হলেন এক - তিনি
হলেন উচ্চ থেকেও উচ্চ । দেবতাদের ভগবান বলা যাবে না। আত্মার জ্ঞানও তোমরা এখন
প্রাপ্ত করছো। কর্মের ফল আত্মাই ভোগ করে। সংস্কার আত্মাতেই থাকে। আত্মা শোনে
কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারা। ভগবান পিতা একজন, স্বর্গের উত্তরাধিকার তাঁর কাছেই প্রাপ্ত
হয়। বাবা বুঝিয়েছেন - তোমরা নিজেদেরকে আত্মা নিশ্চয় করো এবং বাবার সঙ্গে বুদ্ধি
দ্বারা যুক্ত হও। জন্ম-জন্মান্তর ভক্তি করে এসেছো। হনুমানের পূজারী হবে তো হনুমানকে
স্মরণ করবে, কৃষ্ণের পূজারী হবে তো কৃষ্ণকে স্মরণ করবে। এখন তোমাদের বোঝানো হয় -
তোমরা হলে আত্মা। তোমাদের পরমপিতা হলেন পরমাত্মা। তাঁকে স্মরণ করলেই পিতার
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে, পিতা হলেন স্বর্গের রচয়িতা, সুতরাং নিশ্চয়ই আমাদের স্বর্গে
থাকা উচিত। ভারত স্বর্গ ছিল। এখন স্বর্গ তো নেই, যে রাজত্ব করবে। নরকে তো রাবণের
রাজত্ব আছে। আমাদের রাজধানী কীভাবে চলেছে কীভাবে নীচে নেমেছে, সে কথা জানেনা। এখন
তোমরা জানো পুনর্জন্ম নিতে নিতে আমাদেরকে নীচে নামতে হয়। এখন বাবা পুনরায় বলছেন,
আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা পবিত্র হবে। স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে। আমরা
বাবার সন্তান হই তখন বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। কিন্তু যতক্ষণ না
তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হই, যোগের দ্বারা পবিত্র হই ততক্ষণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত
হয় না। বাবা বলেন, আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, বিকর্মজিত হবে, এর
গ্যারান্টি আছে। তাই বোঝাতে হয়। কেউ বুঝবে, কেউ তীব্র বুদ্ধিমান হয় তারা তো শোরগোল
করতে আরম্ভ করে। কেউ কেউ বিঘ্ন সৃষ্টিকারী থাকেই সর্বদা। কেউ শোরগোল করলে বলা উচিত
- একান্তে এসে বোঝো। এখানকার নিয়ম হল - ৭ দিন ভাট্টিতে থেকে বুঝতে হবে। কারণ এই
জ্ঞান হল নতুন, তাই মানুষ বিভ্রান্ত হয়। কোথাও নতুন সেন্টার খুললে সেখানে কেউ
বুদ্ধিমান থাকা উচিত যে সবাইকে বোঝাতে পারবে। ভগবান তো সবার এক, সব আত্মারা হল
ভাই-ভাই। পরমাত্মা হলেন সকলের পিতা। সবাই আহবানও করে পতিত-পাবন এসো সুতরাং অবশ্যই
তিনি হলেন পবিত্র, কখনও পতিত হন না। বাবা নিজে এসে পতিতদের পবিত্র করবেন। সত্যযুগে
সবাই থাকে পবিত্র। কলিযুগে সবাই হয় - পতিত। পতিত সংখ্যায় অনেক, পবিত্র কম থাকে।
সত্যযুগে সবাই তো যাবে না। যারা পতিত থেকে পবিত্র হয়, তারাই পবিত্র দুনিয়ায় যায়।
বাকিরা সবাই নির্বাণ দুনিয়ায় চলে যাবে। এই কথাও জানে যে, সম্পূর্ণ দুনিয়া এসে এই মত
গ্রহণ করবে না। এ তো খুবই কঠিন ব্যাপার যে তোমরা সম্পূর্ণ দুনিয়াকে বাবার শ্রীমত
শোনাবে। এখন হল সবার বিনাশের সময়। বিনাশ তো সবার হবেই। বোঝানোর জন্য ভালো যুক্তি
চাই। যাতে শান্তি মনে বসে শুনবে, বিঘ্ন সৃষ্টি করবে না। সর্ব প্রথমে বাবার পরিচয়
দিতে হবে। শিববাবাই হলেন পতিত-পাবন, তিনিই বোঝান। গীতায়ও লেখা আছে । পতিত-পাবন বাবা
বলেন যে আমাকে স্মরণ করো তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। গীতার সঙ্গে এই কথা গুলির
কানেকশন আছে। শিববাবা বলেছেন - আমাকে স্মরণ করো। আমি সর্ব শক্তিমান, আমি পতিত-পাবন।
আমি গীতা জ্ঞান দাতা, আমি জ্ঞানের সাগর । গীতার শব্দ গুলি তো আছে তাইনা। তারা শুধু
বলেছে কৃষ্ণ ভগবানুবাচ, তোমরা বলো শিব ভগবানুবাচ। ভগবান হলেন নিরাকার, তিনি কখনও
পুনর্জন্মে আসেন না, অলৌকিক দিব্য জন্ম নেন। তিনি নিজেই বোঝান - আমি সাধারণ বৃদ্ধ
দেহে আসি, যাকে ভাগীরথী বলা হয়। ব্রহ্মার দ্বারা রচনা করেন। অতএব মানুষের নাম রাখা
হয় ব্রহ্মা। ব্যক্ত ব্রহ্মা থেকে তারপরে পবিত্র অব্যক্ত ফরিস্তা হয়ে যান। বাবা আসেন
কেবল - পতিতদের পবিত্র করতে। সুতরাং নিশ্চয়ই পতিত দুনিয়ায় পতিত শরীরে আসবেন। এইরূপ
ডিটেলে বোঝানো হয়েছে। প্রথমে তো এই কথা বোঝানো উচিত - ভগবান বলেন যে কল্প পূর্বের
মতন আমাকে স্মরণ করো তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, পতিত থেকে পবিত্র হও। মানুষ
গানও করে, হে পতিত-পাবন এসো। গঙ্গা তো আছেই। তোমরা আহবান করো অর্থাৎ নিশ্চয়ই আসবেন
কোনো স্থান থেকে। পতিত-পাবন আসেন পতিত থেকে পবিত্র করার পার্ট প্লে করতে। বাবা বলেন,
তোমরা পবিত্র ছিলে তারপরে তোমাদের মধ্যে খাদ পড়েছে, তা যোগবলের দ্বারাই দূর হবে।
তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে পরে পবিত্র দুনিয়াতেই আসবে। পতিত দুনিয়ার বিনাশ হয়ে যাবে। যা
কিছু বোঝানো হয় সেসব ভালো ভাবে ধারণ করতে হবে। আমরা তো কেবল উঁচু থেকে উঁচু শিব
বাবার মহিমা বর্ণনা করি। অসীম জগতের বাবা বোঝাচ্ছেন তোমরা ৮৪ জন্মের পার্ট প্লে করতে
করতে কতখানি পতিত হয়েছো। প্রথমে পবিত্র ছিলে, এখন পতিত হয়েছো পরে স্মরণের যাত্রায়
থেকে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। ভক্তিমার্গ দ্বারা তোমরা সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমেছো। এই
কথাটি খুব সহজ। বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এই কথাটি থাকা উচিত। সকালে উঠে বিচার সাগর মন্থন
করা উচিত, যে আসবে তাকে বোঝানো উচিত। মুরলীর মুখ্য পয়েন্ট নোট করা উচিত এবং সেগুলি
রিপিট করা উচিত। তাহলে জ্ঞানের পয়েন্ট গুলি পাকা হয়ে যাবে।
সবচেয়ে প্রথম মুখ্য
কথা হল বাবাকে স্মরণ করা। বাবা স্বয়ং বলেন "মন্মনাভব", আমাকে স্মরণ করো তাহলে
বিকর্ম বিনাশ হবে। এবারে স্মরণ করো না করো, তোমাদের ইচ্ছে। বাবার আদেশ তো পেয়েছো।
পবিত্র দুনিয়ায় যেতে হলে পতিত দুনিয়ায় বুদ্ধি যোগযুক্ত হওয়া উচিত নয়। বিকারে যাওয়া
উচিত নয়। অনেক রকম ভাবে বোঝানো হয়। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
সকালে উঠে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে। বাবা যা জ্ঞান প্রদান করেন সেসব নোট করে
রিপিট করতে হবে, অন্যদের শোনাতে হবে। সবাইকে সর্ব প্রথমে বাবার পরিচয় দিতে হবে।
২ ) পবিত্র দুনিয়ায়
যাওয়ার জন্য পতিত দুনিয়া থেকে বুদ্ধিযোগ সরিয়ে দিতে হবে।
বরদান:-
নম্বরওয়ান বিজনেসম্যান হয়ে প্রত্যেক সেকেন্ড বা সংকল্পে উপার্জন জমাকারী পদমপতি ভব
নম্বরওয়ান
বিজনেসম্যান হলো সে যে নিজেকে বিজি রাখার পদ্ধতি জানে। বিজনেসম্যান অর্থাৎ যার এক
সংকল্পও ব্যর্থ যাবে না, প্রত্যেক সংকল্পে উপার্জন হবে। যেরকম পার্থিব জগতের
বিজনেসম্যান এক এক পয়সাকে কাজে লাগিয়ে পদমগুণ বানিয়ে দেয়, এইরকম তোমরাও এক এক
সেকেন্ড বা সংকল্প উপার্জন করে দেখাও, তবেই পদমপতি হতে পারবে। এর দ্বারা বুদ্ধির
উদ্ভ্রান্ত হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে আর ব্যর্থ সংকল্পের কম্প্লেনও সমাপ্ত হয়ে যাবে।
স্লোগান:-
যে
চাইতে থাকে সে খুশীর খাজানার দ্বারা সম্পন্ন হতে পারবে না।
অব্যক্ত ঈশারা :- সদা
অবিচল, অনড় একরস স্থিতির অনুভব করো
যারা সদা মাস্টার
সর্বশক্তিমানের সিটের উপর সেট থাকে তারাই অবিচল অনড় থাকে। বাপদাদা বলছেন বাচ্চারা
শরীরও যদি চলে যায় কিন্তু খুশী যেন না যায়। টাকা-পয়সা তো তার কাছে কিছুই নয়। যার
কাছে খুশীর খাজানা আছে তার সামনে কোনও বড় পরিস্থিতি আসে না আর সদা সহযোগী, সেবাধারী
বাচ্চাদের সাথে বাপদাদা থাকেন এইজন্য ঘাবড়ানোর কোনও কথাই নেই।