10-05-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
30-01-2010 মধুবন
‘‘চার সাবজেক্টেই স্বমানের অনুভাবী স্বরূপ হয়ে অনুভবী
অথরিটি কার্যে প্রয়োগ করো"
আজ, ব্রাহ্মণ সংসারের রচয়িতা বাপদাদা নিজের চতুর্দিকের ব্রাহ্মণ সংসার দেখছেন।
প্রত্যেক ব্রাহ্মণ সমগ্র সংসারে বিশেষ আত্মা। কোটি কোটির মধ্যে কিছুসংখ্যক কেননা,
সাধারণ তনে আসা বাবাকে তারা চিনে নিয়েছে। হৃদয়ে যারা সমাহিত করেছে বাপদাদাও তাদেরকে
হৃদয়ের আন্তরিক ভালোবাসা দিচ্ছেন। প্রত্যেক বাচ্চা নিজেকে এমন বাবার প্রিয় অনুভব করে
এবং বাবা তার হৃদয়ে সমাহিত হয়ে আছেন অনুভূত হয়। বাবার জন্য প্রত্যেক বাচ্চা অতি
প্রিয়, সকলের প্রিয়। তোমরা সব বাচ্চার সকল আত্মার প্রতি চ্যালেঞ্জ রয়েছে যে তোমাদের
জীবন যোগী জীবন। জীবন দু' চার ঘণ্টার হয় না। জীবন সদাকালের জন্য। তো যারা চলতে ফিরতে
কর্ম করতে করতে যোগী জীবন যাপন করে তারা নিরন্তর যোগী। যোগে ব'সে হোক বা যেকোনো
কর্মই করুক তারা কর্মযোগী। জীবনের লক্ষ্যই হলো সদা যোগীর। এরকম নিজের যোগী জীবন,
ন্যাচারাল জীবন অনুভব করো? বাপদাদা সব বাচ্চার ললাটভাগে ঝলমলে ভাগ্য দেখেন। কী
দেখেন? আমার সব বাচ্চা স্বমানধারী, স্বরাজ্য অধিকারী। কেন? যেখানে স্বমান আছে সেখানে
দেহবোধ আসতে পারে না। আদি থেকে অন্ত এখনো পর্যন্ত, বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে ভিন্ন
ভিন্ন স্বমান দিয়েছেন। যদি এখনো স্বমান স্মরণ করো আর একেকটা স্বমানের মালা ঘোরাতে
থাকো তবে অনেক স্বমান স্বরূপ হয়ে, স্বমানে লাভলীন হয়ে যাবে। কিন্তু বাচ্চাদের একটা
বিষয় এখনো পর্যন্ত বাপদাদার পছন্দ হয় না। জানো তোমরা সেটা কোনটা? যখন কোনও বাচ্চা
বলে যে স্বমানে স্থিত হতে কখনো কখনো আমার পরিশ্রম লাগে, চাই কিন্তু কখনো কখনো
পরিশ্রম লাগে, তো বাবা সর্বশক্তিমান বাচ্চাদের পরিশ্রম দেখতে পারেন না । কেননা,
যেখানে ভালোবাসা থাকে সেখানে পরিশ্রম হয় না। যেখানে পরিশ্রম সেখানে ভালোবাসায় কমতি
আছে।
তো আজ অমৃতবেলায় বাপদাদা কি দেশের কি বিদেশের চতুর্দিকের ব্রাহ্মণদের কাছে
চক্রভ্রমণ করেছেন, তো কী দেখেছেন তিনি? কোনো কোনো বাচ্চা স্বমানে ব'সে আছে, ভাবছে
আমি বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন, ভাবছেও, স্বমানে স্থিত হওয়ার পুরুষার্থও করছে।
কিন্তু কী ত্রুটি দেখেছেন? স্বমান হলো স্মরণ, সেখানে ভাবছে, কিন্তু স্বমান স্বরূপ
হয়ে, অনুভাবী মূর্ত হয়ে অনুভবের অথরিটি স্বরূপ হওয়ার ব্যাপারে কমতি দেখা গেছে। কেননা,
অথরিটি তো অনেক আছে কিন্তু সবচেয়ে বড় অথরিটি অনুভবের অথরিটি এবং এই স্বমানের
অনুভূতি অলমাইটি অথরিটি দিয়েছেন। তো পরিশ্রম করছে কিন্তু অনুভব স্বরূপ হয়নি। তো
বাপদাদা এটা দেখেছেন যে তোমরা বসো, ভাবোও কিন্তু অনুভব স্বরূপে কেউ কেউ রয়েছ।
অনুভবে কোনোপ্রকারের দেহ অভিমান সামান্যও নিজের দিকে আকর্ষণ করতে পারে না। তো অনুভব
স্বরূপ হওয়া, কর্ম করতে করতে কর্মযোগীর অনুভব স্বরূপে হারিয়ে যাওয়া, এটার এখন আরও
আবশ্যকতা আছে। স্বরূপ হতে হবে। সব ব্যাপারে, সব সাবজেক্টে অনুভব স্বরূপ হওয়া, সেটা
জ্ঞান, যোগ, ধারণা আর সেবা, চার সাবজেক্টেই অনুভব স্বরূপ হতে হবে। অনুভাবীকে মায়াও
নড়াতে পারে না। সেইজন্য বাপদাদা আজ সব বাচ্চাকে অনুভাবী স্বরূপে দেখতে চান। শোনা আর
ভাবনার মধ্যে ফারাক আছে। কিন্তু অনুভাবী স্বরূপ হওয়া মানে যা ভেবেছ, যে স্বমানে
স্থিত থাকতে চাও তার অনুভব স্বরূপে স্থিত হয়ে যাওয়া। অনুভব কেউ টলাতে পারে না।
কেননা, স্বমান আর দেহবোধ; যেখানে স্বমান স্বরূপে থাকে, স্বমানের অনুভবে স্থিত সেখানে
দেহবোধ আসতে পারে না। যেমন দেখ, অন্ধকার আছে কিন্তু তোমরা সুইচ অন করো তো আলোতে
অন্ধকার অটোমেটিক্যালি গায়েব হয়ে যাবে। অন্ধকার ঘুচিয়ে দিতে, অন্ধকার সরাতে পরিশ্রম
করতে হয় না। এভাবেই যখন স্বমানের সিটে অনুভবের সুইচ অন হয় তখন কোনও প্রকারের দেহ
বোধ থাকতে পারে না। ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের দেহ বোধ আছে আর ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের
স্বমানও দিয়েছেন বাবা। স্বমান তোমরা জানো, পুরুষার্থও করো কিন্তু অনুভবের পুরুষার্থ
করা আর অনুভাবী স্বরূপ হওয়া তা'তে প্রভেদ আছে। সেইজন্য পরিশ্রম করতে হয়। তো এখন সময়
অনুসারে বাবা সমান হওয়ার লক্ষ্য সম্পন্ন করার সময় এই পরিশ্রম করা। বাপদাদার ভালো
লাগে না। প্রত্যেকে নিজেকে চেক করো যে তুমি কর্মযোগী জীবন যাপনকারী কিনা! জীবন
ন্যাচারাল আর সদাকালের হয়, কখনো কখনোর নয়। এমন অনুভাবী স্বরূপ বানাও যে লক্ষ্যই
থাকবে যোগী জীবনের। যে লক্ষ্য অনুভাবী মূর্ত হওয়ার, সেই লক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে? সদা
ললাটভাগ থেকে ঝলমলে লাইট নিজেরও অনুভব হবে, নিজেই সেই স্বরূপে স্থিত হবে, স্মৃতি
স্বরূপ হবে, স্মরণকারী নয় স্মৃতি স্বরূপ হবে আর স্মৃতি স্বরূপ হয়েছ কি হওনি, তার
প্রমাণ হলো এটা - যেখানে স্মৃতির অনুভাবী স্বরূপ আছে সেখানে সব কার্য করার সময়
নিজের মধ্যে শক্তি অনুভূত হবে। কার্য ভিন্ন ভিন্ন হবে কিন্তু অনুভব স্বরূপের স্থিতি
যেন ভিন্ন ভিন্ন না হয়।
তো আজ বাপদাদা দেখেছেন যে পরিশ্রম কেন করতে হয়? অনুভব স্বরূপ হওয়ার পুরুষার্থ
নম্বরক্রমানুসারে দেখেছেন। তো বাপদাদার প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি অন্তরের গভীর
ভালোবাসা রয়েছে, তাইতো ভালোবাসার পাত্রদের পরিশ্রম দেখা যায় না। যে কোনো সাবজেক্টে
তোমাদের পরিশ্রম করতে হয়, কখনো কখনো শব্দ ইউজ করতে হয়, এর কারণ হলো অনুভাবী স্বরূপ
হওয়ার কমতি। পুরুষার্থী কিন্তু তোমরা স্বরূপ হওনি। এক সেকেন্ডে চার সাবজেক্টেই
নিজের স্বমানে অনুভাবী স্বরূপ অনুভূত হওয়া দরকার, যাতে দেহ অভিমান কাছে না আসতে পারে।
যেমন, আলোর সামনে অন্ধকার টিকতে পারে না। বের ক'রে দিতে হয় না, ন্যাচারালি যেখানে
অন্ধকার সেখানে আলো কম কিংবা নেই। অনুভব সর্বাধিক বড় অথরিটি হিসেবে গাওয়া হয়েছে।
অনুভব হাজার হাজার লোক যদি বদলানোর চেষ্টা করে, বদলাতে পারে না। যেমন, তোমরা চিনির
অনুভব ক'রে দেখেছ যে চিনি মিষ্টি, যদি হাজারো লোক তোমাকে বদলাতে চায়, তুমি বদলাতে
পারবে? তো যে সাবজেক্টই আছে, তা' জ্ঞানের হোক বা যোগের হোক, কিংবা ধারণার অথবা
সেবার এই চারের একটাতেও যদি পরিশ্রম লাগে, সমাপ্ত করার, সেবাতে সফলতার, ধারণায়
স্বভাব পরিবর্তনের, যোগে অটল থাকার, যোগী জীবনের অনুভূতি করার - যেখানেই পরিশ্রম
লাগে কিংবা 'কখনো কখনো' বলো, তাহলে এর অর্থ হলো সেই সাবজেক্টে তুমি অনুভাবী মূর্ত
হওনি। অনুভব কখনো কখনো হয় না, ন্যাচারাল নেচার হয়। তো এখন শুনেছ পরিশ্রম করার কারণ
কী? যে সময়ে তোমাদের অনুভব হয়, অনুভবের সিটে যখন সেট থাকো, কোনও বরদানের স্বরূপে
অনুভাবী হয়ে অনুভব করো তো সেই সময় পরিশ্রম করতে হয়? ন্যাচারাল অনুভূতি হয়। সেইজন্য
এখন সময় অনুসারে সব অকস্মাৎ হওয়ার আছে। ব'লে হবে না। এখন যেমন প্রকৃতির 'হঠাৎ'
পরিস্থিতির খেলা চলছে, আরম্ভ হয়েছে এখন। নতুন নতুন পরিস্থিতি, হঠাৎ আর্থক্যুয়েক
হয়েছে, অল্প সময়ে লক্ষ লক্ষ আত্মা চলে গেছে, তারা কী জানতো যে কাল আমরা থাকব কী
থাকবো না? এরকম অনেক অ্যাক্সিডেন্ট, ভিন্ন ভিন্ন স্থানে 'আকস্মিক হওয়া' আরম্ভ হয়ে
গেছে। এক সময়ে একসাথে অনেকের টিকিট কাটছে, তো এমন সময়ের জন্য তোমরা এভাররেডি আছ? এটা
বলবে না তো পুরুষার্থ করছি? এভাররেডি অর্থাৎ কোনও বরদান কিংবা স্বমানের সঙ্কল্প
করার সাথে সাথে স্বরূপ হওয়া, সেইজন্য বাপদাদা আজ এই বিষয়ে অ্যাটেনশন দেওয়াচ্ছেন যে
তোমরা কোনও বরদান সফল ক'রে বরদান কিংবা স্বমানের স্বরূপের অনুভাবী হতে পারো? হতেই
হবে। চেষ্টা করছি, যদি চেষ্টাও করতে হয় তবে এখন থেকে, কেননা, বহুসময়ের অভ্যাস সময়মতো
সহায়তা দেবে। পুরুষার্থী নয়, অনুভাবী! কেননা, অলমাইটি অথরিটি তোমাদের সবাইকে
অনুভবের অথরিটি দিয়েছেন। যেমন, তোমরা দেহবোধের অনুভাবী, দেহবোধ অনুভব করতে হয় কি যে
আমি অমুক! মনে করো তোমাদের দেহের নাম দেওয়া হয়েছে, তাহলে দেহবোধ হয়ে গেল তো না আমি
অমুক, যদি হাজারো লোকেও তোমাকে বলে যে তুমি অমুক নও, তুমি তমুক, নাম বদল ক'রে বলে
তবে তুমি সেটা মানবে? ভুলে যাবে নিজের নাম! জন্ম নিতেই যে নাম হয় সেই দেহবোধ কত
পাক্কা আর ন্যাচারাল থাকে। কেউ যদি তোমার নামে অন্যকেও ডাকে, তোমাকে ডাকতে নয়,
কিন্তু তোমার নামধারীকে ডাকছে, নাম শুনতে ই তোমার কানের অ্যাটেনশন যাবে আমাকে ডাকছে।
তো দেহবোধ এত পাক্কা হয়ে গেছে। এভাবে দেহি- অভিমানী, স্বমানধারী, স্বরাজ্য অধিকারী
হওয়ায় এতটা পাক্কা হতে হবে। তোমরা বলো তো না, আমাদের জীবন পরিবর্তিত, তো কী
পরিবর্তন করেছ? দেহবোধ থেকে স্বমান, স্বরাজ্য অধিকারী হয়েছ! তো চেক করো জ্ঞান
স্বরূপ হয়েছ কিনা! জ্ঞান অর্থাৎ নলেজ, নলেজের প্র্যাকটিক্যাল রূপ আছে, নলেজকে বলা
হয় নলেজ ইজ লাইট, নলেজ ইজ মাইট, সুতরাং জ্ঞান স্বরূপ হয়ে অর্থাৎ যে কর্মই করবে তা'
লাইট আর মাইটের হতে হবে। যথার্থ হতে হবে। একে বলা হয়ে থাকে জ্ঞান স্বরূপ হওয়া।
জ্ঞান শোনাতে নয়, জ্ঞান স্বরূপ হওয়া। জ্ঞান স্বরূপের অর্থ হলো কর্মেন্দ্রিয়জিত হওয়া।
সব কর্মেন্দ্রিয়ের ওপরে স্বরাজ্যধারী। একে বলা হয়ে থাকে যোগ অর্থাৎ যুক্তিযুক্ত
জীবন। এভাবে যদি জ্ঞান যোগের স্বরূপ হও তবে সব গুণের ধারণা অটোমেটিক্যালি হবে। সেবা
সবসময় অটোমেটিক হবে। সময় অনুসারে মন্সা সেবা করো বা বাচা সেবা, কিংবা কর্মণা অথবা
সম্বন্ধে স্নেহ করো, সেবা সবসময় অখণ্ড চলতে থাকবে। সম্বন্ধ-সম্পর্কেও সেবা হয়ে থাকে।
মনে করো, তোমার ভাই বা বোন ব্রাহ্মণ পরিবারে সামান্য নিরাশ হয়ে আছে, পুরুষার্থে
সামান্য ডাল (নিস্তেজ), কোনো সংস্কার বশে আছে, এমন সম্পর্কের আত্মাকে নিজের
উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়েছ, সহযোগ দিয়েছ, স্নেহ করেছ, এই সব সেবার পুণ্য জমা হয়। যারা
নিচে পড়ে আছে তাদের উন্নতি সাধন করা - এটা পুণ্য গাওয়া হয়ে থাকে। তো সম্বন্ধ আর
সম্পর্কে সেবা করাও প্রকৃত সেবাধারীর কর্তব্য। তোমরা সেবার সুযোগ পেয়েছ বা তোমাদের
যদি সেবা দেওয়া হয় তবেই সেটা সেবা, সেরকম নয়। সেবা নিজের মতো হতে দাও অটোমেটিক্যালি,
তোমাদের মন্সা, বাচা, কর্মণা, সম্বন্ধ-সম্পর্কের দ্বারা। অনেকবার বাপদাদা দেখেছেন
যে সম্পর্কে কোনো কোনো বাচ্চা দেখে 'এর স্বভাব- সংস্কার যেমন হওয়া উচিৎ সেরকম নয়।'
কিন্তু এ' তো এরকমই, সে কখনই বদলাবে না, এর সেবা করা টাইম ওয়েস্ট হওয়া। এরকম
সঙ্কল্প করা কি যথার্থ? তোমরা যখন মানছই যে প্রকৃতিকে তোমরাই সতোপ্রধান বানাও,
প্রকৃতিকে তোমরা পরিবর্তন করবে, কিন্তু সেই এক জন সে তো মনুষ্যাত্মা, নিজেকে
ব্রাহ্মণ বলে থাকে কিন্তু সে সংস্কার বশীভূত। যখন প্রকৃতির সংস্কার পরিবর্তনের
চ্যালেঞ্জ করেছ তাহলে সে তো প্রকৃতিতে (স্বভাবে) পুরুষ, আত্মা। তোমায় সাথে সম্বন্ধে
আছে। তো প্রকৃত সেবাধারী নিজের পুণ্য অর্জনের শুভ ভাবনা অবশ্য রাখবে। এ' তো এরকমই,
এ' বদল হতেই পারে না - এটা শুভ ভাবনা নয়। এটা সূক্ষ্ম ঘৃণার ভাবনা, তবুও তারা
তোমাদের নিজের ভাই বোন, তবুও আমার বাবা তো বলেছেনা! তো প্রকৃত সেবাধারী তাদের
জন্যেও শুভকামনা ক'রে পুণ্য অর্জন করবে, তাদের সেবা ছাড়াই। যারা অধঃপতিত তাদেরকে
ঠেলে দিও না, উন্নতি সাধন করো। সহযোগ দেওয়া - একে বলা হবে প্রকৃত সেবাধারী, পুণ্য
আত্মা। তো এভাবে নিজেকে চেক করো আমার মধ্যে সেবার এত উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে? একে বলা
হয় অনুভবের অথরিটি হওয়া। তো এখন বাপদাদা এটাই চান, অনুভাবী মূর্ত হও, অনুভবের অথরিটি
কার্যে লাগাও।
তো চার সাবজেক্টেই যারা নিজে অনুভাবী স্বরূপ হয়ে অনুভবের অথরিটি কার্যে লাগাবে, যা
খামতি আছে তা' সম্পন্ন করবে, এত অ্যাটেনশন দেবে নিজের প্রতি, তারা হাত উঠাও। মনের
হাত উঠাচ্ছ তো না! শরীরের হাত নয়, মনের হাত তোলো। মনের হাত তুলতে হবে কেননা, বাপদাদা
শিবরাত্রিতে রেজাল্ট দেখবেন। মনে কারও ত্রুটির সংস্কারও যেন নিজের শুভ ভাবনাকে কম
না করে। ওর সংস্কার তো ঢিলে, কিন্তু সেই সংস্কার এতটা পাওয়ারফুল যে তোমার শুভ
ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। ব্রহ্মা বাবা কি দেখেননি! কি করেননি! দায়িত্বশীলতার সাথে তিনি
অন্তে শুভ ভাবনা, শুভ কামনার তিন শব্দ সবাইকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। স্মরণে আছে তো না!
তিন শব্দ তোমাদের স্মরণ আছে, তাই না! তিনি স্বয়ং নিরাকারী, নিরহংকারী, নির্বিকারী
এই স্থিতিতে অব্যক্ত হয়েছেন, কাউকে কর্মভোগের ফিলিং দেননি, কেউ বুঝতে পেরেছিল যে
কর্মভোগ সমাপ্ত হচ্ছে! কী হয়েছে? তিনি অব্যক্ত হয়ে গেছেন। এভাবে ব্রহ্মা বাবা
ফরিস্তা ভব-র বরদান ক'রে দেখিয়েছেন, ফলো ব্রহ্মা বাবা। তোমরা যখন বলো আমার বাবা,
তখন বাবা কী বলেন? আমার বাচ্চা! এমন শুভ ভাবনা পরিবারে নিজেদের মধ্যেও থাকা আবশ্যক।
স্বভাব দেখো না, বাবা জানেন ভাব স্বভাব আছে, কিন্তু ভাব স্বভাব যেন ভালোবাসা শেষ না
করে, সম্বন্ধ শেষ না করে! কার্যে সফলতা কম করবে সেটা রাইট নয়। এটা পরিবার। কোন
পরিবার? প্রভু পরিবার, পরমাত্ম পরিবার। এই পরিবারে কোনও কারণে ভালোবাসার কমতি হওয়া
উচিৎ নয়। ভালোবাসা অর্থাৎ শুভ ভাবনা। যেমনই হোক, পরমাত্ম পরিবার। কেউ যদি বিশ্বাস
করো আমি প্রভু পরিবারের, তথা হলে জানবে পরিবার অর্থাৎ ভালোবাসা। যদি পরিবারে
ভালোবাসা না থাকে তো সেটা পরিবার নয়। এই পরমাত্ম পরিবার একমাত্র এক সময়েই হয়, এত বড়
পরিবার পরমাত্মা ব্যতীত আর কারও হতে পারে না। তো চেক করো, কেননা, এটাও পুরুষার্থে
বিঘ্ন উৎপন্ন করে। সুতরাং তোমরা বিঘ্ন মুক্ত হবে তবেই অনুভাবী হয়ে অনুভবের অথরিটি
দ্বারা সবাইকে অনুভাবী বানাবে। আচ্ছা।
চতুর্দিকের বাচ্চাদেরকে দেখতে দেখতে বাপদাদা খুশি হয়ে গীত গান বাঃ বাচ্চারা বাঃ! সব
বাচ্চার হৃদয়ে বাবা আর বাবার হৃদয়ে আছে সব বাচ্চা। আর এখানে বিশাল পরিবার, মধুবন
নিবাসীদের দেখেও খুশি হন বাঃ মধুবন বাঃ! সবার আশ্রয় মধুবন সেইজন্য সবাই ছুটতে ছুটতে
মধুবনে এসে যায়। এখন বাবার যে আশা রয়েছে তা' শীঘ্রাতিশীঘ্র পূরণ করতে হবে। চার
সাবজেক্টেই অনুভাবী স্বরূপ হতেই হবে। বাপদাদা দেশ বিদেশের চতুর্দিকের বাচ্চাদের
এখানে বসে দেখছেন। এসব দেখে সবাই পুলকিত হচ্ছে। এই সাধন, এই সায়েন্স এই সময়
প্রগ্রেসের দিকে (উন্নতিতে) যাচ্ছে, নতুন নতুন ইনভেনশন দুনিয়ার কিন্তু তোমাদের
সুবিধার জন্য ভালো ভালো সাধন বের করছে। দূরে থেকেও তোমরা সাথে আছ। তো সায়েন্সের লোক,
তারা সাধন তো বানিয়েছে, তাই তাদেরও অভিনন্দন। আচ্ছা। দেশ বিদেশের সব বাচ্চা হৃদয়ের
অনেক অনেক ভালোবাসা আর স্মরণ স্বীকার করো এবং এমন বিশেষ বাচ্চাদের বিশেষ নমস্কার।
বরদান:-
নলেজের লাইট দ্বারা পুরুষার্থের মার্গ সহজ আর স্পষ্ট
ক'রে ফরিস্তা স্বরূপ ভব
ফরিস্তা ভাবের লাইফে লাইট আর মাইট দুইই স্পষ্ট দেখা
যায়। কিন্তু লাইট আর মাইট রূপ হওয়ার জন্য মনন করার আর সহন করার শক্তি প্রয়োজন।
মন্সার জন্য মননশক্তি আর বাচা, কর্মণার জন্য সহন শক্তি ধারণ করো। তারপর যে শব্দ বলবে,
যে কর্ম করবে তা' সেই অনুসারেই হবে। যদি এই উভয় শক্তি থাকে তবে প্রত্যেকের জন্য
পুরুষার্থের মার্গ সহজ আর স্পষ্ট হয়ে যাবে।
স্লোগান:-
ব্যর্থ বলা অর্থাৎ অনেককে ডিস্টার্ব করা।
অব্যক্ত ইশারা :- সদা অবিচল অনড় একরস স্থিতির অনুভব
করো তোমরা বাচ্চারা মাস্টার প্রকৃতিপতি, প্রকৃতির এই খেলা দেখে উৎফুল্ল হতে থাকো।
প্রকৃতি চাঞ্চল্য দেখাক বা সুন্দর খেলা দেখাক, উভয় ক্ষেত্রেই তোমরা প্রকৃতিপতি
আত্মারা সাক্ষী হয়ে খেলা দেখে থাকো আর আনন্দ নিয়ে থাকো, ঘাবড়ে যাও না তোমরা।
সেইজন্য বাপদাদা তপস্যা দ্বারা সাক্ষী ভাবের স্থিতির আসনে অবিচল অনড় স্থির থাকার
বিশেষ অভ্যাস করাচ্ছেন।