11-01-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 20-10-2008 মধুবন


"সন্তুষ্টমণি হয়ে বিশ্বে সন্তুষ্টির লাইট ছড়িয়ে দাও, সন্তুষ্ট থাকো আর সবাইকে সন্তুষ্ট করো"


আজ বাপদাদা সদা সন্তুষ্ট থাকা নিজের সন্তুষ্টমনিদের দেখছেন। প্রত্যেক সন্তুষ্টমনির দ্যুতিতে চতুর্দিক কত সুন্দর! ঝলমল ঝলমল করছে! প্রত্যেক সন্তুষ্টমনি বাবার কত প্রিয়, প্রত্যেকের প্রিয়, নিজেরও প্রিয়। সন্তুষ্টি সকলের প্রিয়। সন্তুষ্টি সদা সর্বপ্রাপ্তি সম্পন্ন, কেননা যেখানে সন্তুষ্টি থাকে সেখানে অপ্রাপ্ত কোনো বস্তু নেই। সন্তুষ্ট আত্মার মধ্যে সন্তুষ্টির ন্যাচারাল নেচার রয়েছে। সন্তুষ্টতার শক্তি আপনা থেকেই সহজভাবে চতুর্দিকের বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে যায়। তাদের মুখ, তাদের নয়ন বায়ুমণ্ডলেও সন্তুষ্টির তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। যেখানে সন্তুষ্টতা আছে সেখানে অন্য বিশেষত্ব আপনা থেকেই এসে যায়। সন্তুষ্টি সঙ্গমে দেওয়া বাবার বিশেষ দান। সন্তুষ্টির স্থিতি পরিস্থিতির উপরে সদা বিজয়ী। পরিস্থিতি বদলাতে থাকে, কিন্তু সন্তুষ্টির শক্তি সদা নিরন্তর প্রগতি প্রাপ্ত করে। যত পরিস্থিতিই আসুক কিন্তু সন্তুষ্টমনির সামনে সব সময় প্রকৃতি এক পাপেট শো এর মতো প্রতীয়মান হয়। মায়া আর প্রকৃতির পাপেট শো। সেইজন্য সন্তুষ্ট আত্মা কখনো বিভ্রান্ত হয় না। পরিস্থিতির শো মনোরঞ্জন হিসেবে অনুভূত হয়। এই মনোরঞ্জন অনুভব করার জন্য নিজের স্থিতির সিট সদা সাক্ষীদ্রষ্টা স্থিতিতে স্থিত থাকে এবং যারা এই স্থিতিতে স্থিত তারা মনোরঞ্জন অনুভব করে। দৃশ্য যতই বদলাক কিন্তু সাক্ষীদ্রষ্টার সিটে স্থিত থাকা সন্তুষ্ট আত্মা সাক্ষী হয়ে সব পরিস্থিতিকে স্ব স্থিতির দ্বারা বদলে দেয়। তো প্রত্যেকে নিজেকে চেক করো আমি সদা সন্তুষ্ট? সদা? সদা, নাকি কখনো কখনো?

বাপদাদা প্রায়শঃ বাচ্চাদের বলে থাকেন যে সব শক্তির জন্য, খুশির জন্য, ডবল লাইট হয়ে ওড়ার জন্য 'সদা' শব্দ সদা স্মরণে রাখো। কখনো কখনো শব্দ ব্রাহ্মণ জীবনের ডিকশনারিতেই নেই। কেননা, সন্তুষ্টির অর্থই হলো সর্বপ্রাপ্তি। যেখানে সর্বপ্রাপ্তি থাকে সেখানে কখনো কখনো শব্দ থাকবেই না। তো সদা অনুভব করো তোমরা, নাকি পুরুষার্থ করছ? প্রত্যেকে নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করেছ চেক করেছ কি না! কেননা, তোমরা সবাই বাবার বিশেষ স্নেহী সহযোগী আদরের মিষ্টি মিষ্টি স্ব পরিবর্তক বাচ্চা। তোমরা এ'রকমই তো, তাই না? এরকমই তো তোমরা? বাবা তোমাদের যেভাবে দেখেন তোমরা সেভাবেই নিজেদের অনুভব করো? হাত উঠাও যারা সদা'র, কখনো কখনো নয়, সদা সন্তুষ্ট থাকো। সদা শব্দ স্মরণে আছে তো না! খুব ধীরে ধীরে উঠাচ্ছ! ভালো। খুব ভালো। অল্প অল্প উঠছো আর ভেবে ভেবে উঠছো। কিন্তু বাপদাদা বারবার অ্যাটেনশন দেওয়াচ্ছেন যে এখন সময় আর স্বয়ং উভয়কে দেখ। সময়ের গতি আর নিজের গতি দুটোই চেক করো। পাস উইথ অনার তো হতেই হবে তো না! প্রত্যেকে ভাবো যে আমি বাবার প্রিয় রাজকুমারি বা রাজকুমার। নিজেকে রাজকুমার মনে করো তো না! রোজদিন বাপদাদা স্মরণের স্নেহ-সুমন তোমাদের কী দিয়ে থাকেন? সবচাইতে প্রিয়, তো সবচেয়ে প্রিয় পাত্র কে? সর্বাধিক প্রিয় সেই হয় যে ফলো ফাদার করে আর ফলো করা অনেক অনেক অনেক সহজ হয়, কোনো কঠিন নয়। একটা বিষয়কেই যদি ফলো করো তবে সহজে সব বিষয়ে ফলো হয়েই যাবে। একটা লাইনই আছে যা বাবা প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেন। সেটা স্মরণে আছে তো না? নিজেকে আত্মা মনে ক'রে আমি-বাবাকে স্মরণ করো। একটাই লাইন, তাই না! তাছাড়া, যে আত্মা নিরন্তর স্মরণ করে, যার বাবার ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়েছে সে সেবা ব্যতীত থাকতেই পারে না। কেননা, অক্ষয় ভাণ্ডার, অগাধ প্রাপ্তি। দাতার বাচ্চা! তারা দেওয়া ছাড়া থাকতে পারে না। আর তোমাদের মেজরিটির সকলের কী টাইটেল প্রাপ্ত হয়েছে? ডবল ফরেনার্স। তো টাইটেলই ডবল। বাপদাদাও তোমাদের সবাইকে দেখে খুশি হন আর অটোমেটিক্যালি সদা গীত গাইতে থাকেন বাহ্! আমার বাচ্চারা বাঃ! এটা ভালো, ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে এসেছো, কোন বিমানে এসেছো? স্থূলভাবে তো যে কোনো বিমানে এসেছ কিন্তু বাপদাদা কোন বিমান দেখছেন? অতি স্নেহের বিমানে ক'রে নিজের ভালোবাসার ঘরে পৌঁছে গেছো। বাপদাদা সব বাচ্চাকে আজ বিশেষভাবে এই বরদান দিচ্ছেন - হে পরম আদরের প্রিয় বাচ্চারা সদা সন্তুষ্টমনি হয়ে বিশ্বে সন্তুষ্টির লাইট ছড়িয়ে দাও। সন্তুষ্টি থাকো আর সন্তুষ্ট করো। অনেক বাচ্চা বলে সন্তুষ্ট থাকা তো সহজ কিন্তু সন্তুষ্ট করা সেটা একটু কঠিন লাগে। বাপদাদা জানেন, যদি প্রত্যেক আত্মাকে সন্তুষ্ট করতে হয় তবে তার বিধি খুবই সহজে উপায়। যদি কেউ তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় কিংবা অসন্তুষ্ট থাকে তবে সেও অসন্তুষ্ট, কিন্তু তার অসন্তুষ্টির প্রভাব তোমার উপরেও কিছু তো পড়ে, তাই না! ব্যর্থ সঙ্কল্প চলে তো না! বাপদাদা শুভ ভাবনা শুভ কামনার যে মন্ত্র দিয়েছেন, যদি সেই মন্ত্রে তোমরা নিজেদের স্মৃতি স্বরূপ বজায় রাখো তবে তোমাদের ব্যর্থ সঙ্কল্প চলবে না। এ' এরকম, এ' ওরকম জানা সত্ত্বেও নিজেকে সদা স্বতন্ত্র, তার ভাইব্রেশন থেকে স্বতন্ত্র এবং বাবার প্রিয় অনুভব করবে। তো তোমাদের স্বাতন্ত্র্য এবং বাবার স্নেহপূর্ণ ভাবের শ্রেষ্ঠ স্থিতির ভাইব্রেশন সেই আত্মার কাছে যদি নাও পৌঁছায় তবে বায়ুমণ্ডলে অবশ্যই ছড়িয়ে যাবে। যদি কোনো পরিবর্তন না হয় আর তোমার ভিতরেও সেই আত্মার প্রভাব পড়তে থাকে ব্যর্থ সঙ্কল্প রূপে তবে বায়ুমণ্ডলে সবার সঙ্কল্প ছড়িয়ে যায়। সেইজন্য তোমরা স্বতন্ত্র হয়ে বাবার প্রিয় হয়ে সেই আত্মারও অকল্যাণের জন্য শুভ ভাবনা শুভ কামনা রাখো। অনেকবার বাচ্চারা বলে যে সে ভুল করেছে তো না, তো আমাকেও ফোর্স এর সাথে বলতে হয়। নিজের স্বভাবও মুখও ফোর্সিং হয়ে যায়। তো সে ভুল করেছে কিন্তু তুমি যে ফোর্স দেখিয়েছো সেটা কি ভুল নয়? সে আরও ভুল করলো, তুমি নিজেই মুখ থেকে ফোর্সের সাথে যা বলেছো যাকে ক্রোধের অংশ বলা হয় তাহলে কি সেটা রাইট? ভুল কী ভুলকে ঠিক করতে পারে? আজকালকার সময় অনুসারে নিজের বোল ফোর্সফুল বানাতে হবে এটা বিশেষভাবে অ্যাটেনশনে রাখো, কেননা, জোরের সাথে বলা কিংবা বিরক্ত হয়ে বলা - সে তো বদলায় না, কিন্তু এটাও দু' নম্বরের বিকারের অংশ। বলা হয়ে থাকে - মুখনিঃসৃত বোল এমনভাবে যেন বের হয় যেন ফুলের বর্ষা হচ্ছে। মিষ্টি বোল, সুস্মিত মুখ, মিষ্টি বৃত্তি, মিষ্টি দৃষ্টি, মিষ্টি সম্বন্ধ-সম্পর্ক - এটাও সার্ভিসের সাধন। সেইজন্য রেজাল্ট দেখ, ধরো, যদি কেউ ভুল করে সেটা ভুল, আরও তোমাদের বোঝানোর লক্ষ্যে অন্য কোনো লক্ষ্য নেই, তোমাদের লক্ষ্য খুব ভালো যে তাকে শিক্ষা দিচ্ছ, বোঝাচ্ছ, কিন্তু রেজাল্টে কী দেখা যায়? তার পরিবর্তন হয়? ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে ভয় পায়। সুতরাং তোমরা যে লক্ষ্য রেখেছ সেটা তো হয় না! সেইজন্য নিজের মন্সা, সঙ্কল্প আর বাণী অর্থাৎ বোল আর সম্বন্ধ-সম্পর্ক সদা মিষ্টি মধুর অর্থাৎ মহান বানাও। কেননা, বর্তমান সময়ে লোকে প্র্যাকটিক্যাল লাইফ দেখতে চায়। যদি বাণী দ্বারা সেবা করো তো বাণী সেবা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাছে তো আসে, এটা তো লাভ। কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল মাধুর্য, মহত্ত্ব, শ্রেষ্ঠ ভাবনা, আচরণ আর মুখ দেখে নিজেও পরিবর্তন হওয়ার জন্য প্রেরণা নিয়ে নেয়। এছাড়া, পরবর্তীতে যেভাবে সময়ের অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার আছে, তখন সেই সময় তোমাদের সবার মুখ আর আচরণ দ্বারা বেশি সেবা করতে হবে। সেইজন্য তোমরা নিজেদের চেক করো - আত্মাদের প্রতি তোমাদের শুভ ভাবনা শুভ কামনার বৃত্তি আর দৃষ্টির সংস্কারযুক্ত নেচার ন্যাচারাল?

বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে মালার দানা রূপে, বিজয়ী মালার দানা রূপে দেখতে চান। তো তোমরাও সবাই নিজেকে মনে করো যে, আমি মালার দানা হতে চলেছি। অনেক বাচ্চা মনে করে যে ১০৮-এর মালায় তো নিমিত্ত হওয়া যে বাচ্চারা আছে তারাই আসবে, কিন্তু বাপদাদা আগেই বলেছেন, ১০৮-এর এই গায়ন ভক্তির মালার কিন্তু যদি তোমরা প্রত্যেকে বিজয়ী দানা হও তবে বাপদাদা মালার ভিতরে অনেক নরী লাগিয়ে দেবেন। বাবার হৃদয়ের মালায় তোমরা প্রত্যেক বিজয়ী বাচ্চার স্থান রয়েছে, এটা বাবার গ্যারান্টি। শুধু নিজেকে মন্সা-বাচা-কর্মণায় এবং আচরণ ও মুখমণ্ডলে বিজয়ী বানাও। পছন্দ হয়েছে, হবে এইরকম? বাপদাদার গ্যারান্টি রয়েছে বিজয় মালার দানা বানাবেন তোমাদের। কে হবে? আচ্ছা, তাহলে বাপদাদা মালার ভিতরে মালা বানাতে শুরু ক'রে দেবেন। ডবল ফরেনারদের পছন্দ হয়েছে তো না! বিজয়ী মালায় নিয়ে আসা বাবার কাজ। কিন্তু তোমাদের কাজ বিজয়ী হওয়া। সহজ তো না! নাকি কঠিন? কঠিন লাগে? যাদের কঠিন লাগে তারা হাত উঠাও। লাগে কঠিন? অল্প অল্প কেউ কেউ আছে। বাপদাদা বলেন - যখন বাপদাদা বলছ তো বাবা

বলাতে কি বাবার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে না! সবাই উত্তরাধিকারের অধিকারী তোমরা! আর কত সহজে বাবা উত্তরাধিকার দিয়েছেন, সেকেন্ডের ব্যাপার! তোমরা মেনেছো, জেনেছো আমার বাবা আর বাবা কী বলেছেন? আমার বাচ্চা। তো বাচ্চা তো আপনা থেকেই উত্তরাধিকারের অধিকারী। বাবা বলো তো না! সবাই একটা শব্দই বলো আমার বাবা। হয় এইরকম? আমার বাবা? এতে হাত তোলো। আমার বাবা, তাহলে আমার উত্তরাধিকার নয়? যখন আমার বাবা আছেন তখন আমার উত্তরাধিকারও বাঁধা হয়ে আছে, তাছাড়া উত্তরাধিকার কী? বাবা সমান হওয়া। বিজয়ী হওয়া। বাপদাদা দেখেছেন যে ফরেনারদের মধ্যে মেজরিটি হাতে হাত দিয়ে চলে। হাতে হাত দিয়ে ঘোরাফেরা এটা ফ্যাশন। তো এখন বাবা বলেন, বাবা শিববাবার হাত কী? এনার হাত তো নেই, তবে শিববাবার হাত ধরেছো তাহলে হাত কোনটা? শ্রীমৎ বাবার হাত। তো স্থূলভাবে যেমন হাতে হাত দিয়ে চলা তোমাদের পছন্দ, তেমনই শ্রীমতের হাতে হাত দিয়ে চলা - এটা কি কঠিন! ব্রহ্মা বাবাকে দেখেছ, প্র্যাকটিক্যাল প্রমাণ দেখেছ যে, প্রতি কদম শ্রীমৎ অনুসারে চলায় সম্পূর্ণ ফরিস্তা ভাবের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন, তাই না! অব্যক্ত ফরিস্তা হয়ে গেছেন! তো প্রতিটা শ্রীমতে ফলো ফাদার। ওঠা থেকে শুরু ক'রে রাত পর্যন্ত প্রতি কদমের শ্রীমৎ বাপদাদা বলে দিয়েছেন। উঠবে, কীভাবে চলবে, কেমন কর্ম কীভাবে করবে, মনে সঙ্কল্প কী কী করবে এবং সময়কে কীভাবে শ্রেষ্ঠ রূপে যাপন করবে। রাতে ঘুমানো পর্যন্ত শ্রীমত প্রাপ্ত হয়েছে। ভাবারও দরকার নেই - এটা করবো নাকি করবো না! ফলো ব্রহ্মা বাবা। তো বাপদাদার গভীর ভালোবাসা আছে। একটা বাচ্চাও বিজয়ী হয়নি, রাজা হয়নি বাপদাদা এটা দেখতে চান না। প্রত্যেক বাচ্চা রাজা বাচ্চা। স্বরাজ্য অধিকারী। সেইজন্য নিজের স্বরাজ্য ভুলে যেও না। বুঝেছ।

বাপদাদা অনেকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সময়ের আকস্মিকতা এবং জটিলতা এগিয়ে আসছে। সেইজন্য এভাররেডি অশরীরী বোধের অনুভব দরকার। যতই বিজি হও কিন্তু বিজি হয়েও এক সেকেন্ড অশরীরী হওয়ার অভ্যাস এখন থেকে করো। দেখ, তোমরা বলবে আমি খুব বিজি থাকি, মনে করো তোমরা খুব বিজি, যদি তোমাদের পিপাসা পায় কী করবে? জল খাবে তো না! কেননা তোমরা বুঝতে পারো পিপাসা পেয়েছে তো জল খাওয়া আবশ্যক। এইরকম মাঝে মাঝে আত্মিক স্থিতিতে স্থিত অশরীরী থাকার অভ্যাসও অত্যন্ত দরকারি। কেননা, যে সময় আসতে চলেছে তা'তে চতুর্দিকের অস্থিরতায় অটল স্থিতির আবশ্যকতা আছে। তো এখন থেকে বহুকালের অভ্যাস যদি না করবে তবে অতি অস্থিরতার সময় অটল কীভাবে থাকবে! সারাদিনে এক দু' মিনিট বের ক'রে চেক করো - সময় অনুসারে আত্মিক স্থিতি দ্বারা অশরীরী হতে পারো কিনা! চেক করো আর চেঞ্জ করো। শুধু চেক ক'রো না, চেঞ্জও করো। তাহলে এই অভ্যাস বারবার চেক করার ফলে রিভাইজ করলে ন্যাচারাল স্থিতি হয়ে যাবে। বাপদাদার প্রতি স্নেহ আছে, এতে তো সবাই হাত উঠায়! আছেনা স্নেহ! ফুল স্নেহ আছে, ফুল নাকি অপূর্ণ? অপূর্ণ তো নয়, তাই না! তো স্নেহ আছে, তাহলে তোমাদরর প্রতিজ্ঞা কী? কী প্রতিজ্ঞা করেছ? সাথে যাবে? অশরীরী হয়ে সাথে যাবে, নাকি পিছনে পিছনে আসবে? সাথে যাবে? আরও কিছু টাইম তাঁর সাথে বতনে থাকবে, অল্প সময়ের জন্য। তারপরে আবার ব্রহ্মা বাবার সাথে ফার্স্ট জন্মে আসবে। আছে এই প্রতিজ্ঞা? আছে না? বাবা তোমাদের হাত উঠাতে বলছেন না। এভাবে মাথা নাড়াও। হাত উঠাতে উঠাতে ক্লান্ত হয়ে যাবে তো না! যখন সাথে যেতেই হবে তখন পিছনে থাকা উচিৎ নয়, তা' নাহলে বাবা কা'কে সঙ্গে নিয়ে যাবেন? যারা বাবা সমান হবে তাদেরকেই তো নিয়ে যাবেন। বাবারও একলা যাওয়া পছন্দ নয়, বাচ্চাদের সাথে নিয়ে যেতে হবে। তো সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তো না! কাঁধ নাড়াও। আছ প্রস্তুত? সবাই যাবে? আচ্ছা সবাই যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। যখন বাবা যাবেন তখন যাবে তো না! এখন যাবে না, এখন তো ফরেনে ফিরে যেতে হবে, তাই না! বাবা অর্ডার করবেন, নষ্টমোহ স্মৃতিলব্ধ-এর বেল বাজাবেন এবং সাথে চলে যেতে হবে। তো প্রস্তুত আছ তো না! স্নেহের লক্ষণ হলো সাথে যাওয়া। আচ্ছা।

বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে দূর থেকেও কাছে অনুভব করছেন। যখন সায়েন্সের সাধন দূরত্বকে কাছে অনুভব করাতে পারে, দেখাতে পারে, বলাতে পারে তো বাপদাদাও দূরে ব'সে বাচ্চাদের সবচাইতে কাছে দেখছেন। তোমরা দূরে নেই হৃদয়ে সমাহিত হয়ে আছ। তো বাপদাদা বিশেষ টার্ন অনুযায়ী আগত বাচ্চাদের নিজের হৃদয়ে, নয়নে সমাহিত হওয়া প্রত্যেককে সাথে চলছে, সাথে থাকছে, সাথে রাজত্ব করছে - এই রূপে দেখছেন। তো আজ থেকে সারাদিনে বারবার কোন ড্রিল করবে? এখন এক সেকেন্ডে নিজের শরীরকে দেখতে দেখতেও আত্ম-অভিমানী অশরীরী স্থিতিতে স্বতন্ত্র আর বাবার প্রিয় অনুভব করতে পারো তো না! তো এক সেকেন্ডে অশরীরী ভব! আচ্ছা। (বাপদাদা ড্রিল করিয়েছেন) এভাবেই মাঝে মাঝে সারাদিনে যেভাবেই হোক এক মিনিট বের ক'রে এই অভ্যাস পাক্কা ক'রে চলো। কেননা, বাপদাদা জানেন ভবিষ্যতে সময় অতি হাহাকারের হবে। তোমাদের সবাইকে সকাশ দিতে হবে। আর সকাশ দেওয়াতেই তোমাদের নিজেদের তীব্র পুরুষার্থ হয়ে যাবে। অল্প সময়ে সকাশ দ্বারা সর্বশক্তি দিতে হবে এবং যে এই সংবেদনশীল সময়ে সকাশ দেবে যত সংখ্যককে দেবে - তা' অনেক হোক বা অল্প হোক, ততো সংখ্যকই তার ভক্ত হবে দ্বাপর আর কলিযুগে। তো সঙ্গমে প্রত্যেকে ভক্তও তৈরি করছে, কেননা যে সুখ আর শান্তি তোমরা দিতে পারবে তা' তাদের হৃদয়ে সমাহিত হয়ে যাবে এবং ভক্তিরূপে তোমাদের রিটার্ন করবে। আচ্ছা।

চতুর্দিকে, বাপদাদার নয়নের আলো বিশ্বের আধার এবং উদ্ধারকারী আত্মারা মাস্টার দুঃখহর্তা সুখ কর্তা বিশ্ব পরিবর্তক বাচ্চাদের হৃদয়ের অনেক অনেক স্নেহ। হৃদয়ের স্মরণের স্নেহ-সুমন আর পদম্ পদম্ বরদান স্বীকার করো। আচ্ছা।

বরদান:-
কম্বাইন্ড স্বরূপের স্মৃতি আর পজিশনের দ্বারা কল্প কল্পের অধিকারী ভব

আমি আর আমার বাবা - এই স্মৃতিতে যদি কম্বাইন্ড থাকো তথা এই শ্রেষ্ঠ পজিশন যেন স্মৃতিতে থাকে আমি আজ ব্রাহ্মণ কাল দেবতা হবো। আমি সেই, সেই আমি এই মন্ত্র যেন সদা স্মরণে থাকে তবে এই নেশা আর খুশিতে পুরানো দুনিয়া সহজে ভুলে যাবে। সদা এই সত্য নেশা থাকবে যে আমিই কল্প কল্পের অধিকারী আত্মা। আমিই ছিলাম, আমিই আছি আর কল্প কল্প আমিই থাকব।

স্লোগান:-
নিজেই নিজের টিচার হ'লে সব দুর্বলতা আপনা থেকেই সমাপ্ত হয়ে যাবে।

অব্যক্ত ইশারা :- এই অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবনমুক্ত স্থিতির অনুভব করো বাস্তবে বন্ধন কারও ভালো লাগে না। কিন্তু যখন তোমরা পরবশ হও তখন বাঁধা হয়েই যাও। তো চেক করো - তুমি পরবশ আত্মা নাকি স্বতন্ত্র? জীবনমুক্ত হওয়ার পরম আনন্দ তো এখনই। ভবিষ্যতে জীবনবন্ধ আর জীবনমুক্তির কন্ট্রাস্ট থাকবে না। এই সময়ের জীবনমুক্ত হওয়ার অনুভব শ্রেষ্ঠ। জীবনে আছ, কিন্তু মুক্ত, বন্ধন নেই।