12.01.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমাদেরকে পবিত্র দুনিয়াতে যেতে হবে, সেইজন্য কাম মহাশত্রুর উপরে বিজয় প্রাপ্ত
করতে হবে, কামজিৎ জগতজিৎ হতে হবে”
প্রশ্নঃ -
প্রত্যেকে
নিজের অ্যাক্টিভিটির দ্বারা সবাইকে কিসের সাক্ষাৎকার করাতে পারো?
উত্তরঃ
আমি হংস নাকি
বক? এটা প্রত্যেকে নিজের অ্যাক্টিভিটির দ্বারা সবাইকে সাক্ষাৎকার করাতে পারে কেননা
হংস কখনও কাউকে দুঃখ দেয় না। বক দুঃখ দেয়, সে হল বিকারী। বাচ্চারা তোমরা এখন বক
থেকে হংস হয়েছ। তোমাদের, পরশবুদ্ধির বাচ্চাদের কর্তব্য হলো সবাইকে পরশবুদ্ধি বানানো।
ওম্ শান্তি ।
যখন ওম্ শান্তি
বলা হয় তখন নিজের স্বধর্ম মনে পড়ে যায়। ঘরের কথা স্মরণে আসে। কিন্তু ঘরে তো বসে
থাকাও ঠিক নয়। বাবার বাচ্চা হয়েছে তাে অবশ্যই নিজের স্বর্গকেও মনে করতে হয়। তাই ওম্
শান্তি বলার সাথে সাথে এই সমস্ত জ্ঞান বুদ্ধিতে এসে যায়। আমি হলাম শান্ত স্বরূপ
আত্মা, শান্তির সাগর বাবার বাচ্চা। যে বাবা স্বর্গ স্থাপন করছেন সেই বাবা-ই আমাদেরকে
পবিত্র শান্ত স্বরূপ বানাচ্ছেন। মুখ্য কথাই হল পবিত্রতার। দুনিয়াই পবিত্র আর
অপবিত্র হয়ে থাকে। পবিত্র দুনিয়ায় একটিও বিকারী থাকে না। অপবিত্র দুনিয়াতে ৫
বিকার আছে, এইজন্য বলা যায় বিকারী দুনিয়া। সেটা হল নির্বিকারী দুনিয়া। নির্বিকারী
দুনিয়ার থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে পুনরায় নিচে বিকারী দুনিয়াতে আসে। সেটা
হলো পবিত্র দুনিয়া, আর এটা হল পতিত দুনিয়া। সেটা হল দিন, সুখ। এটা হলো উদ্ভ্রান্ত
হওয়ার রাত। এমনিতে তো রাত্রে কেউ উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় না। কিন্তু ভক্তিকে
‘দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ানো’ বলা যায়।
বাচ্চারা তোমরা এখন
এখানে এসেছো সদ্গতি প্রাপ্ত করার জন্য। তোমাদের এই আত্মার মধ্যে সমস্ত পাপ ছিল, ৫
বিকার ছিল। তাদের মধ্যেও মুখ্য হলো কাম বিকার। যার দ্বারাই মানুষ পাপ আত্মা হয়। এটা
তো প্রত্যেকেই জানে যে, আমরা হলাম পতিত আর পাপাত্মাও। এক কাম বিকারে কারণে সব
কোয়ালিফিকেশন নষ্ট হয়ে যায়, এইজন্য বাবা বলছেন যে কামকে জয় করো, তাহলেই তোমরা
জগতজিৎ অর্থাৎ নতুন বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে। তাই তোমাদের মধ্যে এতটাই খুশি থাকা
চাই। মানুষ পতিত হয়ে যায় তাই কিছুই বুঝতে পারে না। বাবা বোঝাচ্ছেন যে কোনও বিকার
যেন না থাকে। মুখ্য হল কাম বিকার, এর উপরই অনেক হাঙ্গামা হয়ে থাকে। ঘরে ঘরে কত
অশান্তি, হাহাকার হয়ে যায়। এই সময় দুনিয়াতে এত হাহাকার কেন? কেননা পাপাত্মারা
আছে। বিকারের কারণেই অসুর বলা হয়। এখন তোমরা বুঝতে পেরেছো যে এই সময় দুনিয়াতে
কোনও কাজের জিনিস নেই। শুকনো জিনিসে আগুন লাগবে। যা-কিছু এই চোখ দিয়ে দেখা যায়
সবকিছুতেই আগুন লেগে যাবে। আত্মাতে তো আগুন লাগতে পারে না। আত্মা তো সর্বদাই যেন
ইনসিওর আছে। সর্বদাই জীবিত থাকে। আত্মাকে কখনও ইনসিওর করাতে হয় কি? শরীরের ইনসিওর
করানো হয়। কিন্তু আত্মা হল অবিনাশী। বাচ্চাদেরকে বোঝানো বোঝানো হয়েছে যে - এটাই
হলো খেলা। আত্মা তো উপরে থাকে, পাঁচ তত্ত্বের থেকে একদম আলাদা। পাঁচ তত্ত্বের থেকে
সমগ্র দুনিয়ার সামগ্রী তৈরি হয়। কিন্তু আত্মা তৈরি হয় না। আত্মা সর্বত্র
বিরাজমান। কেবলমাত্র পূণ্য আত্মা পাপাত্মা হয়ে থাকে। আত্মার উপরেই নাম দেওয়া হয়
- পূণ্য আত্মা পাপ আত্মা। পাঁচ বিকারের কারণে সবাই কত নোংরা হয়ে গেছে। এখন বাবা
এসেছেন পাপ থেকে মুক্ত করতে। বিকারই সমগ্র ক্যারেক্টার নষ্ট করে দেয়। ক্যারেক্টার
কাকে বলা যায়, এটাও বোঝেনা। এটাই হল উঁচুর থেকেও উঁচু আধ্যাত্মিক গভর্মেন্ট।
পান্ডব গভর্মেন্ট না বলে তোমরা ঈশ্বরীয় গভর্মেন্ট বলতে পারো। তোমরা বুঝতে পারো যে
আমরা হলাম ঈশ্বরীয় গভর্মেন্ট। ঈশ্বরীয় গভর্মেন্ট কি করে? আত্মাদেরকে পবিত্র বানিয়ে
দেবতার তৈরী করে। না হলে তো দেবতা কোথা থেকে আসবে? এটা তো কেউই জানে না, এরাও তো
মানুষ, কিন্তু দেবতা কিভাবে হয়েছিলেন, কে বানিয়ে ছিলেন? দেবতা তো হয়েই থাকে
স্বর্গতে। তো তাদেরকে স্বর্গবাসী কে বানিয়েছেন? স্বর্গবাসী পুনরায় অবশ্যই নরক বাসী
হয়, পুনরায় স্বর্গবাসী। এটাও তোমরা জানতে না তো অন্যরা কিভাবে জানবে! এখন তোমরা
বুঝেছ যে ড্রামা তৈরি হয়েই আছে, এত সবাই হলো অভিনেতা অভিনেত্রী। এসমস্ত কথা
বুদ্ধিতে থাকা চাই। পড়া তো বুদ্ধিতে থাকতেই হবে, তাইনা! আর পবিত্রও অবশ্যই হতে হবে।
পতিত হওয়া খুবই খারাপ কথা। আত্মাই পতিত হয়ে থাকে। এক পরস্পরের থেকে পতিত হয়।
পতিতদেরকে পবিত্র বানানো - এটাই হলো তোমাদের কারবার (ধান্দা) । পবিত্র হও তাহলে
পবিত্র দুনিয়াতে চলে যাবে। এই আত্মা বুঝতে পারে। আত্মা না থাকলে তো শরীরও থাকে না,
কোনো সাড়া পাওয়া যাবে না। আত্মা জানে যে আমরা আসলে পবিত্র দুনিয়ার বাসিন্দা। এখন
বাবা আমাদের বুঝিয়েছেন যে তোমরা একদমই অবুঝ ছিলে, এইজন্য পতিত দুনিয়ার যোগ্য হয়ে
গেছো। বর্তমানে যতক্ষণ না তোমরা পবিত্র হও ততক্ষণ স্বর্গের যোগ্য হতে পারবে না।
স্বর্গের উপহারও সঙ্গমেই দেওয়া হয়। সেখানে থােড়াই স্বর্গের সওগাত দেওয়া যাবে! এই
সঙ্গমযুগেই তোমাদের সমস্ত জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। পবিত্র হওয়ার হাতিয়ার প্রাপ্ত হয়।
একজনকেই বলা যায় - পতিত পাবন বাবা, আমাদেরকে এইরকম পবিত্র বানাও। ইনি স্বর্গের
মালিক ছিলেন তাই না! তোমরা জানো যে, আমরাই স্বর্গের মালিক ছিলাম, পুনরায় ৮৪ জন্ম
নিয়ে পতিত হয়ে গেছি। শ্যাম আর সুন্দর, এঁনার নামও এইরকম রাখা হয়েছে। কৃষ্ণের চিত্র
শ্যাম বানিয়ে দেয়, কিন্তু অর্থ থোড়াই বুঝতে পারে! কৃষ্ণের বিষয়েও তোমরা কত পরিস্কার
ভাবে বুঝতে পারো। এর মধ্যেই দুটি দুনিয়া দেখিয়ে দিয়েছে। বাস্তবে তো দুটো দুনিয়া হয়
না। দুনিয়া তো একটাই। সেটাই নতুন আর পুরানো হয়। প্রথমে ছোটো বাচ্চা নতুন হয়, তারপর
বড় হয়ে ধীরে ধীরে বুড়ো হয়ে যায়। তো তোমরা বোঝানোর জন্য অনেক চিন্তা ভাবনা করতে থাকো,
নিজেদের রাজধানী স্থাপন করছো তাই না। লক্ষ্মী-নারায়ণও বুঝতে পেরেছে তাই না। বোঝার
কারণে কত মিষ্টি হয়ে গেছে। কে বুঝিয়েছেন? ভাগবান। লড়াই ইত্যাদির তো কোনও কথাই নেই।
ভগবান হলেন বোঝদার, নলেজফুল। কত পবিত্র! শিবের চিত্রের সামনে গিয়ে সবাই নমস্কার
জানায় কিন্তু তিনি কে, কি করেন, এসব কেউই জানে না। শিব কাশী বিশ্বনাথ গঙ্গা... ব্যস
কেবল বলতে থাকে। অর্থ কিছুই বোঝানা। বোঝাতে গেলে তারা বলবে, তুমি আর কি আমাদেরকে
বোঝাবে। আমরা তো বেদ-শাস্ত্রাদি সব পড়েছি। কিন্তু রাম রাজ্য কাকে বলা যায়, এটাও কেউ
জানে না। রামরাজ্য সত্যযুগ নতুন দুনিয়াকে বলা যায়। তোমাদের মধ্যেও নম্বরে
ক্রমানুসারে আছে, যাদের ধারণা হয়। কেউ তো ভুলেও যায়। কেননা একদমই পাথর বুদ্ধি হয়ে
গেছে। তাই এখন যে পরশবুদ্ধি হয়েছে তার কাজ হল অন্যদেরকেও পরশবুদ্ধি বানানো।
পাথরবুদ্ধিদের কর্ম-ব্যবহার সেরকমই চলতে থাকবে, কেননা হংস আর বক হয়ে গেছে তাই না।
হংস কখনও কাউকে দুঃখ দেয় না। বক দুঃখ দেয়। কেউ কেউ আছে যাদের চাল-চলনই বকের মতো,
তার মধ্যে সব বিকার থাকে। এখানেও এইরকম অনেক বিকারীই এসে যায়, যাদেরকে অসুর বলা যায়।
পরিচয় দেয় না। অনেক সেন্টারেই বিকারী আসে, অজুহাত দেখায়, আমরা হলাম ব্রাহ্মণ, কিন্তু
সবই মিথ্যা। একে বলাই যায় মিথ্যা দুনিয়া। সেই নতুন দুনিয়া হল সত্য দুনিয়া। এখন হল
সঙ্গম। কত পার্থক্য থাকে। যারা মিথ্যা কথা বলে, অসত কাজ করে, তারা থার্ড গ্রেড হয়।
ফার্স্ট গ্রেড, সেকেন্ড গ্রেড তো হয়ে থাকে, তাই না।
বাবা বলছেন যে
পবিত্রতার সম্পূর্ণ প্রমাণ দিতে হবে। কেউ তো বলে যে এরা দুজন একসাথে থেকে পবিত্র
থাকবে এটা অসম্ভব ব্যাপার। তখন বাচ্চাদেরকে বোঝাতে হবে। যোগবল না হওয়ার কারণে এত
সহজ কথাও সম্পূর্ণ বুঝতে পারেনা। তাদেরকে এই কথা কেউ বোঝায় না যে এখানে আমাদেরকে
ভগবান পড়াচ্ছেন। তিনি বলেন যে পবিত্র হলে তোমরা ২১ জন্মের জন্য স্বর্গের মালিক হয়ে
যাবে। সেটা হল পবিত্র দুনিয়া। পবিত্র দুনিয়াতে পতিত কেউ থাকতে পারেনা। ৫ বিকারই
থাকেনা। সেটা হল নির্বিকারী দুনিয়া। এটা হল বিকারী দুনিয়া। এখন আমাদের সত্যযুগের
রাজধানী প্রাপ্ত হচ্ছে তাই আমরা একজন্মের জন্য কেন পবিত্র থাকব না! খুব জোরদার লটারি
প্রাপ্ত হয় আমাদের। তাই খুশি হয়। দেবী-দেবতারা হলেন পবিত্র, তাই না! অপবিত্র থেকে
পবিত্রও বাবা-ই তৈরি করেন। তাই বলতে হবে যে এটা হল আমাদের প্রলোভন। বাবা-ই এই রকম
তৈরি করেন। বাবা ছাড়া তো নতুন দুনিয়া কেউ তৈরি করতে পারে না। মানুষ থেকে দেবতা
বানাতে ভগবানই আসেন, যাকে রাত্রি বলা হয়। এটাও বোঝানো হয়েছে যে জ্ঞান, ভক্তি আর
বৈরাগ্য। জ্ঞান আর ভক্তি অর্ধেক অর্ধেক হয়। ভক্তির পরেই আসে বৈরাগ্য। এখন বাড়ি
ফিরে যেতে হবে, এই শরীর রূপী কাপড় ত্যাগ করতে হবে। এই নোংরা দুনিয়াতে আর থাকা
উচিত নয়। ৮৪ জন্মের চক্র এখন সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন ভায়া শান্তিধাম যেতে হবে।
প্রথমে প্রথমে আল্ফ-এর (বাবা) কথা যেন ভুলে যেওনা। এটাও বাচ্চারা বুঝে গেছে যে, এই
পুরানা দুনিয়া বিনাশ হয়ে যাবে। বাবা নতুন দুনিয়া স্থাপন করছেন। বাবা অনেকবার
এসেছেন স্বর্গের স্থাপনা করার জন্য। নরকের বিনাশ হয়ে যাবে। নরক অনেক বড় কিন্তু
স্বর্গ হল অনেক ছোট। নতুন দুনিয়াতে একটাই ধর্ম হয়ে থাকে। এখানে তো অনেক ধর্ম। এক
ধর্মের স্থাপন কে করেছেন? ব্রহ্মা তো করেননি। ব্রহ্মাই পতিত থেকে পুনরায় পবিত্র হয়।
আমার জন্য তো বলা হয়না যে পতিত থেকে পবিত্র। পবিত্রতা আছে তাই লক্ষ্মী-নারায়ণ নাম
আছে। ব্রহ্মার দিন, ব্রহ্মার রাত। ইনি হলেন প্রজাপিতা, তাইনা! শিব বাবাকে অনাদি
ক্রিয়েটার বলা যায়। অনাদি অক্ষর বাবার জন্য। বাবা অনাদি তো আত্মারাও হল অনাদি। এই
খেলাও হল অনাদি। পূর্ব-নির্ধারিত ড্রামা। স্ব আত্মার সৃষ্টিচক্রের আদি মধ্য অন্ত এবং
সময় কালের জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। এই জ্ঞান কে দিয়েছেন? বাবা। তোমরা ২১ জন্মের জন্য
ধনবান হয়ে যাও। পুনরায় রাবণের রাজ্যে তোমরা নিধন হয়ে যাও। এখান থেকেই
ক্যারেক্টার খারাপ হতে থাকে, বিকার আছে, তাই না। বাকি দুটো দুনিয়া নেই। মানুষ তো
আবার মনে করে যে নরক আর স্বর্গ সব একসাথেই যায়। এখন বাচ্চারা তোমাদেরকে কত
ক্লিয়ার ভাবে বোঝানো হয়েছে। এখন তোমরা হলে গুপ্ত। শাস্ত্রতে তো কত কিছু লিখে
দিয়েছে। শূদ্ররা অজ্ঞানরূপী অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। বাবা ছাড়া কেউই তাদেরকে
উদ্ধার করতে পারবে না। তারাই আহ্বান করে - আমরা কোনও কাজের নয়, এসে আমাদেরকে পবিত্র
বানিয়ে আমাদের চরিত্রকে শোধরাও। তোমাদের ক্যারেক্টার কত শুধরে যায়। কারোর তো আবার
ক্যারেক্টার শোধরানোর পরিবর্তে আরো খারাপ হয়ে যায়। চাল-চলনের দ্বারা স্পষ্ট বোঝা
যায়। আজ মহারথী হংস বলে পরিচয় দেয় তো কাল বক হয়ে যায়। দেরি লাগেনা। মায়াও হল
গুপ্ত তাই না! ক্রোধকে কি কখনও দেখা যায়! ভুঁ- ভুঁ করতে থাকে, তারপর বাইরে বেরোলেই
তাকে দেখা যায়। তারপর আশ্চর্যবোধ শুনন্তি... কথন্তি ভাগন্তি হয়ে যায়। অনেকেই ভেঙে
পড়ে। একদম পাথর হয়ে যায়। ইন্দ্রপ্রস্থের তো কথা আছে, তাইনা! বোঝা তো সবই যায়!
এইরকমদের তো সভাতে আসা উচিত নয়। অল্প একটু জ্ঞান শুনেছে তো স্বর্গেতে এসেই যায়।
জ্ঞানের বিনাশ হয় না।
এখন বাবা বলছেন -
তোমাদেরকে পুরুষার্থ করে উঁচু পদ প্রাপ্ত করতে হবে। যদি বিকারে যাও তাহলে পদভ্রষ্ট
করে দেবে। সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী হবে তারপর বৈশ্যবংশী, শূদ্র বংশী। এখন তোমরা বুঝে
গেছো যে এই চক্র কিভাবে পুনরাবৃত্তি হয়। তারা তো কলিযুগের আয়ু চল্লিশ হাজার বছর বলে
দিয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে তো নিচে নামতেই হয় তাই না। ৪০ হাজার বছর হলে তো অনেক মানুষ হয়ে
যাবে। ৫ হাজার বছরেই এত মানুষ যে খাবার জন্য কিছু পায় না। তো এত হাজার বছরে কত
বৃদ্ধি হয়ে যাবে। তাই বাবা এসে ধৈর্য ধরতে বলছেন। পতিত মানুষদেরকে তো লড়তেই হবে।
তাদের বুদ্ধি এদিকে আসবেই না। এখন তোমাদের বুদ্ধি দেখো কত পরিবর্তিত হয়ে গেছে তথাপি
মায়া অবশ্যই ধোঁকা দেয়। ইচ্ছা মাত্রম অবিদ্যা। কোনও ইচ্ছা করেছো, তো গেছ। এক পয়সার
মূল্য হয়ে যায়। ভালো ভালো মহারথীদেরকেও মায়া কখনও কখনও কোন না কোন প্রকারে ধোঁকা
দিতে থাকে। পুনরায় সে আর বাবার হৃদয়ে স্থান পায় না। যেরকম মা-বাবার হৃদয়ে স্থান পায়
না। এমনও কিছু বাচ্চা থাকে যারা বাবাকেও শেষ করে দেয়। পরিবারকে শেষ করে দেয়। তারা
হল মহান পাপ আত্মা। রাবণ কি করে দেয়! এটা হল অত্যন্ত নোংরা দুনিয়া। এর সাথে কখনও
বুদ্ধিযোগ লাগিও না। পবিত্র হওয়ার জন্য অনেক সাহস চাই। বিশ্বের বাদশাহীর প্রাইজ
প্রাপ্ত করার জন্য মুখ্য হল পবিত্রতা এজন্য বাবাকে বলে যে এসে পাবন বানাও। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১)
মায়ার ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য ইচ্ছা মাত্রম্ অবিদ্যা হতে হবে। এই নোংরা দুনিয়াতে
বুদ্ধির যোগ লাগিও না।
২) পবিত্রতার
সম্পূর্ণ প্রমাণ দিতে হবে। সবথেকে উঁচু ক্যারেক্টারই হলো পবিত্রতা। নিজেকে শোধরানোর
জন্য পবিত্র অবশ্যই হতে হবে।
বরদান:-
ত্রিকালদর্শী স্থিতিতে স্থিত থেকে সদা অবিচল আর সাক্ষী থাকা নম্বরওয়ান ভাগ্যবান ভব
ত্রিকালদর্শী স্থিতিতে
স্থিত হয়ে প্রত্যেক সংকল্প, প্রত্যেক কর্ম করো আর প্রত্যেক বিষয়কে দেখো, এটা কেন,
এটা কী - এসব কোশ্চেন মার্ক থাকবে না, সদা ফুলস্টপ। নাথিং নিউ। প্রত্যেক আত্মার
পার্টকে ভালো ভাবে জেনে পার্ট অভিনয় করতে আসো। আত্মাদের সম্বন্ধ-সম্পর্কে থেকেও
পৃথক এবং প্রিয় হয়ে থাকার সমতা থাকলে দোলাচল সমাপ্ত হয়ে যাবে। এইরকম সদা অচল আর
সাক্ষী থাকা - এটাই হলো নম্বর ওয়ান ভাগ্যবান আত্মার লক্ষণ।
স্লোগান:-
সহনশীলতার গুণকে ধারণ করো তাহলে কঠোর সংস্কারও শীতল হয়ে যাবে।
অব্যক্ত ঈশারা :- এই
অব্যক্তিমাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো
তোমাদের স্লোগান হলো
- মুক্তি আর জীবন্মুক্তি আমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার। পরমধামে তো এই জ্ঞানই থাকবে না
যে মুক্তি কী, জীবন্মুক্তি কী, এর অনুভব এই ব্রাহ্মণ জীবনে এখনই করতে হবে।