12-04-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 30-11-2009 মধুবন


"বাবা এবং সকলের প্রিয় হতে হলে সন্তুষ্টমণি হয়ে সকল পরিস্থিতির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকো"


আজ চারিদিকের সন্তুষ্ট আত্মাদেরকে দেখছি। সন্তুষ্টমণিরা চতুর্দিকে নিজেদের মণির দীপ্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। সবথেকে বড়'র থেকেও বড় স্থিতি হলোই সন্তুষ্টতার স্থিতি । যারা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকে, তারা সকলের কাছেই প্রিয় হয়, বাবার কাছেও তো প্রিয় বটেই। সর্বদা সন্তুষ্ট তারাই থাকতে পারে যাদের কাছে সর্ব প্রাপ্তি আছে। প্রাপ্তির আধার হলো সন্তুষ্টতা, সেইজন্য এমন আত্মারা সকল ব্রাহ্মণ আত্মাদের কাছেও প্রিয়। সর্ব প্রাপ্তি অর্থাৎ সদা সন্তুষ্ট। সন্তুষ্ট আত্মার প্রভাব বায়ুমন্ডলের ওপরেও পড়ে এবং সর্ব প্রাপ্তি হলো পরমাত্মার দান । পরমাত্মা বাবার কাছ থেকে প্রাপ্ত সর্ব শক্তি, সর্ব গুণ, সর্ব সম্পদ (খাজানা) যার আছে, সেই আত্মা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকে। সন্তুষ্ট আত্মার স্থিতি সর্বদা প্রগতিশীল থাকে । পরিস্থিতি সন্তুষ্ট আত্মার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে না, কারণ যেখানে সন্তুষ্টতা আছে, সেখানে সর্ব শক্তি, সর্ব গুণ স্বভাবতঃই চলে আসে। এক সন্তুষ্টতাই বহু গুণকে নিজের মধ্যে ধারণ করে নেয়। তাই প্রত্যেকে নিজেকে প্রশ্ন করো যে, আমি কি সদা সন্তুষ্ট আত্মা হিসেবে থাকি? সন্তুষ্ট আত্মা সর্বদা সবার এবং বাবার কাছে সমীপ ও সমান স্থিতিতে থাকে। কিন্তু এই স্থিতিতে থাকতে হলে অনেক বেশি সাক্ষীদ্রষ্টা অবস্থার প্রয়োজন এবং ত্রিকালদর্শী অবস্থার। প্রতিটি কর্ম ত্রিকালদর্শী অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ের তিন কালকে বিচার (পরখ) করে তারপর কর্ম করে যে। এর জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত আবশ্যক - সম্বন্ধ এবং সম্পত্তি ।সম্বন্ধও অবিনাশী, সম্পত্তিও অবিনাশী।যা প্রাপ্ত অবিনাশী বাবার কাছ থেকে। যখন অবিনাশী সম্পদ এবং সম্বন্ধ প্রাপ্ত হয়ে যায়, তখন আত্মা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকে এবং বাবা ও সকল আত্মার কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠে। কোনো পরিস্থিতি যদি মায়ার রূপে আসে, তখন ঘাবড়ে যায় না। এমন মনে করে যেন অসীম জগতের পর্দায় মিকি মাউসের খেলা চলছে। তারা উদ্বিগ্ন হয় না, মিকি মাউসের খেলা দেখে মনোরঞ্জিত হয় । মায়ার ভিন্ন ভিন্ন রূপকে ভিন্ন ভিন্ন মিকি মাউসের রূপ হিসেবে অনুভব করে। এইরূপ স্থিতির অনুভব বাবার দ্বারা সকলকে করতেই হবে এবং করেছোও তোমরা।

বাপদাদা দেখছেন - নির্ভয়, একাগ্রবুদ্ধি হয়ে বিজয়ী আত্মারা কোনও পরিস্থিতিতে অস্থির হয় না। যেটা বাবার প্রত্যেক বাচ্চার মধ্যে এই শুভ আশা আছে যে প্রত্যেক বাচ্চা সদা বিজয়ী হয়ে বাবাকে নিজের বিজয়ের স্বরূপ দেখাবে। তো প্রত্যেকে নিজেকে জিজ্ঞেস করো, আমি কে? বাপদাদা প্রথমেই শুনিয়েছেন যে ‘কখনও-কখনও’ শব্দও সময় অনুসারে এখন ব্রাহ্মণ ডিক্শেনারি থেকে সমাপ্ত করে দাও। যখন বাবার থেকে সদা-র উত্তরাধিকার নিতে হবে তো প্রত্যেক প্রাপ্তি সদা প্রাপ্তি হবে কেননা প্রত্যেক বাচ্চা হল বাবার হৃদয়ের আশাগুলিকে পূরণকারী আশার দীপক। তাদের সংকল্পেও কখনও কখনও শব্দ আসতে পারে না, কেন? কারণ তারা সদা বাবার সাথে থাকে আর বাবার সাথী হয়ে থাকে। যারা সাথে থাকে তারাও সাথী হয়ে বিশ্ব পরিবর্তনের কার্য করে।

তো বলো, এই সদা-র বরদান বাপদাদা দ্বারা প্রাপ্ত করেছো তাই না! এটা তো বাচ্চাদের জন্মানোর সাথে সাথেই বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে সদা এই বরদান দিয়ে থাকেন, সদা যোগী ভব, পবিত্র ভব। সেই বরদান দ্বারা যাকিছু প্রাপ্তি হয় সেগুলি সবসময়ের জন্যই হয়। কখনও কখনও-র জন্য হয় না। তো সকল বাচ্চারা সবসময়ের জন্য অধিকারী কেননা বাবার প্রত্যেক বাচ্চার সাথে, সে যদি লাস্ট বাচ্চাও হয়, তথাপি প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি বাবার হৃদয়ের ভালোবাসা আছে কেননা যারা খুব উচ্চবৃত্ত হয়, তাদেরকে খুব বুঝদার মনে করা হয় কিন্তু তারাও বাবাকে চিনতে পারেনি, কিন্তু বাপদাদার লাস্ট বাচ্চা বাবাকে চিনে নিয়েছে। হৃদয় থেকে বলে - আমার বাবা এইজন্য বাবার প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি অবিনাশী ভালোবাসা আছে এইজন্য প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি বাবার বরদান আছে। বাচ্চারা যদিও নম্বরের ক্রমানুসারে আছে কিন্তু বাপদাদা প্রতিদিন একই সময়ে, একই বরদান সকল বাচ্চাদেরকে একত্রে দেন। প্রতিদিন বাপদাদার প্রত্যেক বাচ্চা, নম্বরের ক্রমানুসারে যদিও আছে, তথাপি আমার বাবা বলে তো বরদানের অধিকারী হয়ে গেছে। প্রত্যেক বাচ্চাকে, সে যেখানেই থাকুক, ইন্ডিয়াতে থাকে বা ফরেনে থাকে কিন্তু বরদান এক বাপদাদারই প্রাপ্ত হয় আর বরদান প্রাপ্ত করে খুশীও হয় কিন্তু দুই প্রকারের বাচ্চা আছে।একধরণের বাচ্চারা বরদানকে দেখে খুশী অবশ্যই হয় কিন্তু প্রথম নম্বর সে-ই নেয়, যে কেবল বরদানকে দেখে খুশী হয় না, বর্ণনা করে না যে এটা হল আমার জন্য বরদান, সে বরদানকে ফলীভূতও করে। বরদানের লাভ নিয়ে বরদানের ফল বের করে। বীজ আছে কিন্তু বীজকে ফলীভূত না করলে, ফল না বের হলে শুধু খুশী হয়, বরদান থেকে ফল বের করার জন্য যেরকম বীজ হোক, তার ফল বের করার জন্য জল আর রৌদ্র চাই তবে ফল বের হবে। তো এখানেও প্রত্যেক বাচ্চার যখন বরদানের ফল বের করার হয়, যার দ্বারা বিস্তার হয়, নিজেরই মনে বরদানের ফল দ্বারা বৃদ্ধি হতে থাকবে, তো এখানেও বাবা বলছেন যে বরদানের ফল বের করার জন্য বারংবার বরদানকে স্মৃতিতে নিয়ে এসো। স্মৃতি স্বরূপের স্থিতিতে স্থিত থাকো। বারংবার চিন্তন নয় কিন্তু স্মৃতি, এটা হল জল দেওয়া আর স্বরূপে স্থিত হওয়া এটা হল রৌদ্রের তাপ। তো এটা ফলীভূত হওয়ার পর নিজের মধ্যেও অনেক শক্তি ভরে আর অন্যদেরকেও সেই ফল দ্বারা শক্তির অনুভব করাতে পারে।

বাপদাদা এখন কি চাইছেন? কেননা বাপদাদা অনেকদিন থেকেই সময়ের ওয়ার্ণিং দিয়ে আসছেন, প্রত্যেক বাচ্চার পড়াশোনার রেজাল্টের সময় হঠাৎ করে আসবে, এরজন্য সদা এভারেডি থাকো। সাথে সাথে বাপদাদা এও ঈশারা দিচ্ছেন যে এখন সময় হল উড়ন্ত কলার, তীব্র পুরুষার্থের। চলছি নয়, উড়ছি। সাধারণ রীতিতে নিজের দিনচর্যা ব্যতীত করা, এখন সেই কমন পুরুষার্থের সময় চলে গেছে এইজন্য বাপদাদা ঈশারা দিচ্ছেন, প্রতি সেকেন্ড, প্রত্যেক সংকল্প চেক করো। মনে করো, নিজে তীব্র পুরুষার্থ না করে, এক ঘন্টা সাধারণ পুরুষার্থে থাকো তো এই সময়ের মধ্যে যদি হঠাৎ করে ফাইনাল পেপারের টাইম এসে যায় তো অন্তিম মৎ অনুসারে গতি প্রাপ্ত হবে, সেই এক ঘন্টার সাধারণ পুরুষার্থ কতইনা ক্ষতি করে দেবে! এইজন্য বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে, প্রত্যেক সংকল্প, প্রত্যেক সেকেন্ড সময়ের মহত্বকে, সময় প্রতি সময় ঈশারা দিচ্ছেন। দোলাচলের সময় অচল থাকার পুরুষার্থ, তীব্র পুরুষার্থীই করতে পারে। সাধারণ পুরুষার্থী এভারেডি হওয়াতে সময় লাগিয়ে দেবে আর বাপদাদা বলেছেন যে সেকেন্ডে বিন্দু অর্থাৎ ফুলস্টপ, যদি তীব্র পুরুষার্থ না হত তাহল কি হত? অনুভবী তো আছো। ফুলস্টপের পরিবর্তে কোশ্চেন মার্ক তো হয়ে যাবে না? বিন্দু কত সহজ আর কোশ্চেন মার্ক কত ট্যাঁরা বাঁকা। ফুলস্টপ তো ফুল স্টপ হয়ে যাবে। ক’মা-র মাত্রাও যেন না হয়, আশ্চর্যের মাত্রাও যেন না হয়। কি করবো! এটা চিন্তা করারও সময় পাবে না। তো কোনও বাচ্চা এটা চিন্তা করতে পারবে না যে ফাস্ট পুরুষার্থ করাই হল পরীক্ষায় পাস হওয়া।

বাপদাদা দেখছেন, এখনও কারণে-অকারণে কেন, কী, কিভাবে, এই ভাবে... এইগুলো কিছু কিছু বাচ্চার প্রতিদিনের চার্টে দেখা যায়। অনেকেরই চার্টে বাপদাদা দেখেছেন যে ওয়েস্ট থটস্ এর ঢেউ অনেক সময় অপচয় করে দেয় আর ওয়েস্টের তেজ এমন তীব্র হয় যে সাধারণ সংকল্পের এক ঘন্টা আর ফাস্ট সংকল্পের এক মিনিট। এইজন্য আজ এটা দেখছিলেন যে - সকলের প্রিয়, বাপদাদার প্রিয় সন্তুষ্ট আত্মারা কারা? সন্তুষ্ট আত্মার সংকল্পেও এই কেন-কীর ভাষা স্বপ্নেও আসবে না কেননা সেই আত্মার বিশেষ তিন কথা, তিন বিন্দু স্মরণে থাকে - আত্মা, পরমাত্মা আর ড্রামা, তিন সময়ে কাজে লাগাতে পারে, কেননা এইসময়ে সর্বশক্তির খাজানা আবশ্যক আর মাস্টার সর্বশক্তিমান হল তারা, যারা যে সময়ে যে শক্তিকে অর্ডার করবে সেটা হাজির হয়ে যাবে। চাই সহ্যশক্তি, আর এসে যাবে মোকাবিলা করার শক্তি, আছে তো শক্তিই, কিন্তু সেই সময় কাজের নয়। তো সর্ব খাজানার চাবি হল তিন বিন্দু - তুমি, বাবা আর ড্রামা।

বাপদাদার একটি সংকল্প রয়েছে, বলবো? করতে হবে। যারা করার জন্য তৈরী আছো, তারা হাত তোলো। আচ্ছা সবাই হাত তুলছো। মনের হাত তুলছো নাকি শরীরের হাত তুলছো? মনের হাত পাক্কা হয়। বাপদাদা সময় অনুসারে প্রত্যেক বাচ্চার কাছে এই শুভ আশা রাখছেন যে ১৫ দিন পর পুনরায় বাবা মিলন করবেন, তো এই যে ১৫ দিন আছে, এইসময় বিশেষ অভ্যাস করো ট্রায়াল করার জন্য, থাকতে তো হবে সদা, কিন্তু ১৫ দিনের ট্রায়াল করো আর নিজ-নিজ কানেকশনের সেন্টারকেও করাও, চক্র লাগিয়ে ফোন করে তাদেরকেও স্মরণ করাও যে হোমওয়ার্ক করছো? হোমওয়ার্ক টা কী? খুব ইজি, প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন সারকামস্ট্যান্স পরিস্থিতি গুলিকে ক্রস তো করেই থাকে কিন্তু এই ১৫ দিন প্রত্যেকে সংকল্প, বাণী আর কর্মে ন্যুনতম ৮০ শতাংশ মার্কস নিতেই হবে। তথাপি বাপদাদা ২০ শতাংশ মুকুব করে দিচ্ছেন। রাজি আছো? আছো রাজি? দেবো? এই কাজ দেবো? আচ্ছা, ১৫ দিন, মায়াও শুনছে। পরিস্থিতি তো আসবেই, পরিস্থিতি গুলিকে দেখবে না, পাস হতে হবে, এটা স্মরণে রাখো। ১৫ দিন কোনও বড় কথা নয়, কিন্তু প্রত্যেক বাচ্চা সত্য হৃদয়, স্বচ্ছ হৃদয় থেকে স্বপ্নেও সংকল্প, বাণী আর কর্মে পাশ হয়ে দেখাও। হওয়া সম্ভব? হওয়া সম্ভব? টিচার্স বলো হওয়া সম্ভব? ১৫ দিন তো কিছুই নয় কিন্তু বাপদাদা ট্রায়ালের জন্য বলছেন যে সংকল্পও ওয়েস্ট নয়, যুদ্ধ নয়, বিজয়ী। ১৫ দিনের ফুল বিজয়ী। কঠিন নাকি ইজি? ইজি? হাত ওঠাও। ইজি? তো বাপদাদা এই ১৫ দিনের রেজাল্ট দেখবেন। তারপর আরও সামনের দিকে নিয়ে যাবেন। ১৫ দিন তো যেকেউ করতে পারে তাই না! করতে পারে তাই না! মধুবন নিবাসী, মধুবন নিবাসী হাত ওঠাও। সামনের দিকে মধুবন নিবাসীরা বসে আছে। খুব ভালো। ফরেনার্স বা ইন্ডিয়ান, সবাইকেই করতে হবে। গ্রামবাসী বা বড় শহরবাসী, সবাইকে ১৫দিনের রেকর্ড রাখতে হবে। কি, কেন প্রশ্ন যেন না ওঠে, কি করবো, পরিস্থিতিই এমন ছিল- এরকম বলবে না। ৮০ শতাংশ নিতেই হবে। তথাপি বাপদাদা হালকা করছেন, ২০ শতাংশ মুকুব করে দিয়েছেন। কেননা বাপদাদা দেখছেন যে কোথাও কোথাও চলতে চলতে মায়া অবহেলা আর অলসতায় নিয়ে আসে। রয়্যাল আলস্যতা এটা ছিল, এটা ছিল, এটা রয়্যাল আলস্য, অবহেলা - এই সব কথা তীব্র পুরুষার্থকে দুর্বল করে দেয় কেননা এখন বাপদাদা প্রত্যেক স্টুডেন্টকে প্রথমে এই ১৫ দিন রিহার্সাল করিয়ে কিছু সময় এইরকমই অভ্যাস করাতে চাইছেন, যদি বাবা হাত ওঠাতে বলেন - এভারেডি আছো? তো সবাই হাত ওঠাবে? এরজন্য অনেক সময়ের অভ্যাস চাই। এইজন্য এখন এই অল্প অল্প অভ্যাস করাচ্ছেন। আচ্ছা।

প্রথমবার যারা এসেছো তারা ওঠো :- ভালো, বাপদাদার সামনে আসার এই দিনটার জন্য তোমাদেরকে অনেক অনেক অভিনন্দন, অভিনন্দন। বাবার নজর বাচ্চাদের উপর পড়েছে আর বাচ্চাদের নজর বাবার উপর পড়েছে। তো অনেক অনেক অভিনন্দন। আচ্ছা। আর কেক তো নেই কিন্তু খুশীর কেক খেয়ে নাও। ভালো, তবে অনেক দেরী করে এসেছো, কিন্তু ফাস্ট গিয়ে সামনের দিকে নম্বর নিতে পারো এইজন্য বাপদাদার তরফ থেকে আর তোমাদের সাথী ভাই ও বোনের তরফ থেকে সকলের জন্য অভিনন্দন, অভিনন্দন। এমন উদাহরণস্বরূপ হও যে লাস্টে যারা আসবে তারাও ফাস্ট গিয়ে ফার্স্ট লাইনে আসতে পারে। আচ্ছা।

চারিদিকের বাপদাদার আশাপূরণকারী আশার দীপক, কি-কেন র ভাষা থেকে পৃথক থাকা সদা একরস, সদা একবাবা, দ্বিতীয় কেউ নেই, বাবার মধ্যেই বিশেষ জীবনের তিন সম্বন্ধ, বাবা, শিক্ষক, সদ্গুরুর অনুভব করা, বাবার থেকে উত্তরাধিকার, টিচারের থেকে পড়ার উত্তরাধিকার আর সদ্গুরুর থেকে বরদানের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করা পদমগুণ ভাগ্যবান প্রত্যেক বাচ্চাকে বাপদাদার স্মরণের স্নেহ সুমন আর নমস্কার।

দাদীদের প্রতি :- (এইবার চারিদিকের সেবার প্রোগ্রাম খুব ভালো হয়েছে) সবাই, সবাইকে সাহায্যও খুব ভালো করেছে। কাউকে এটা চিন্তা করতে হয়নি যে কিকরে করবো, করতেই হবে। একে-অপরকে সহায়তার দ্বারা সকল প্রোগ্রাম খুব ভালোভাবে হয়েছে। আওয়াজ তো ছড়িয়ে গেছে। সন্দেশ তো পেয়েছে, এখন এগিয়ে চলো। (যোগে সবাই খুব ভালো অনুভূতি করেছে) কেননা টপিকই ছিল যে বরদান নিতে হবে। তো যোগের প্রোগ্রামের দ্বারা অনুভব করেছে।

পাঞ্জাব জোনের সেবাধারীদের সাথে :- পাঞ্জাবের বাচ্চাদের ড্রামা অনুসারে এই সন্ন্যাসীদেরকে, মহাত্মাদেরকে সেবা করার চান্স খুব ভালো প্রাপ্ত হয়েছে আর করছেও। পাঞ্জাবে স্থাপনার সময় যেভাবে সেবা আরম্ভ হয়েছিল সেইভাবেই সহযোগী আর ওয়ারিস কোয়ালিটির বাচ্চারা নিমিত্ত হয়েছে। যতই হাঙ্গামা করার লোক ছিল ততই শের কোয়ালিটিও (শিবশক্তি) ছিল। এখন পাঞ্জাবকে কি করতে হবে? এই বিশেষত্ব তো আছে, এখন পাঞ্জাবের বাচ্চারা এমন শের (শিবশক্তি) তৈরী করে সুপ্রসিদ্ধ, যে সভাতে মাইক হয়ে নিজের অনুভব শোনাবে। মাইক বড় হবে, ছোটো নয়, যেরকম গভর্ন্মেন্টের ভি.আই.পি তো আলাদা হয় কিন্তু মহাত্মাদের মধ্যেও ভি.আই.পি হয়ে থাকে, এইরকম কোনও বড় মাইক তৈরী করো, যে নিজের অনুভবের দ্বারা অন্যদেরকেও উৎসাহিত করবে। এরকম কাউকে বের করো, তৈরী করো। হতে পারে! কেননা আজকাল সবাই বুঝে গেছে যে সাধু-সন্তের সেবা তো দ্বাপর থেকে শুরু হয়েছে কিন্তু এমন কোনও বড় গুরু, যিনি অন্যদেরকে বা নিজের শিষ্যদেরকে নিজের সমান বানিয়েছে, এইরকম এগ্জাম্পল তাদের মধ্যে দেখা যায় না আর বাপদাদা নিজের থেকেও হুশিয়ার বাচ্চাদেরকে তৈরী করছেন, যারা পাবলিক হয়, এইজন্য পাঞ্জাব কিছু নবীনতা করে দেখাও। ভি.আই.পি তো সব দিক থেকে আসে কিন্তু তোমরা এমন নিয়ে আসো যার কথা শুনে সবাই জেগে উঠবে, সন্দেশ প্রাপ্ত হবে। হতে পারে? দেখবো। অল্প কিছু সময় তো লাগবে কিন্তু এইরকম কাউকে তৈরী করে দেখাও। এছাড়া বৃদ্ধি তো হচ্ছেই। আচ্ছা।

বরদান:-
বাবার হাত আর সাথের স্মৃতির দ্বারা কঠিনকে সহজ বানানো বেফিকর বা নিশ্চিন্ত ভব

যেরকম বড় কারোর হাতে হাত থাকলে স্থিতি বেফিকর বা নিশ্চিন্ত থাকে এইরকম প্রত্যেক কর্মে এটাই বুঝতে হবে যে বাপদাদা আমাদের সাথেও আছেন আর আমাদের এই অলৌকিক জীবনের হাত তাঁর হাতে আছে অর্থাৎ জীবন তাঁর তত্ত্বাবধানে আছে, তো দায়িত্বও তাঁর থাকে। সকল বোঝা বাবার উপর রেখে নিজেকে হাল্কা করে দাও। বোঝ ওঠানো বা কঠিনকে সহজ করার সাধনই হলো - বাবার হাত আর সাথ।

স্লোগান:-
পুরুষার্থে সত্যতা থাকলে বাপদাদার এক্সট্রা সহায়তা অনুভব করবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- মহান হওয়ার জন্য মধুরতা আর নম্রতার গুণ ধারণ করো যদি তোমাদের সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করে তো তোমরা তাকে তোমাদের স্নেহের জল দাও, তোমরা তোমাদের মধুরতা আর নম্রতার গুণ ত্যাগ করবে না। নম্রতার ড্রেস পরে থাকো। এই নম্রতাই হল কবচ, যা সেফ্টির সাধন। সংস্কারের রাস মেলানোর সহজ সাধন হল - স্বয়ং নম্রচিত আর মধুরতা সম্পন্ন হয়ে যাও, অন্যদেরকে শ্রেষ্ঠ সীট দিয়ে দাও।