12-07-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 31-12-2010 মধুবন


‘‘পুরানো বছরকে বিদায় দেওয়ার সাথে পুরানো সংস্কারের বিদায় দিয়ে নির্বিঘ্ন থাকার দৃঢ় সঙ্কল্প নাও আর মাস্টার সহৃদয় দাতা হয়ে মন্সা সেবা দ্বারা দুঃখী অশান্ত আত্মাদের সহায়তা করো"


আজ, বাপদাদা চতুর্দিকের বাচ্চাদের নতুন বছর আর নতুন দুনিয়ার অভিনন্দন জ্ঞাপন করতে সূক্ষ্ম বতন থেকে স্থূল বতনে এসেছেন। বাচ্চারাও সবাই স্নেহ আর ভালোবাসায় নিজের মধুবন ঘরে পৌঁছে গেছে। দুনিয়ার লোকে তো শুধু নিউ বর্ষ পালন করে, যা একদিনের জন্য হয়। তোমরা নতুন দুনিয়ার সঙ্গমে সদা উদযাপন করতে থাকো। তোমাদের সামনে নতুন দুনিয়া নয়নে সদা সমাহিত হয়ে আছে। স্মরণ করো আর পৌঁছে যাও। নয়নে তোমরা সমাহিত হয়ে আছ তো না! তোমাদের অনুভব হয় তোমরা এই মুহূর্তে সঙ্গমে আছ, আজ সঙ্গমে আছ আর কাল নিজের রাজ্যে পৌঁছে গেছো প্রায়! নয়নে এমনই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। দুনিয়ার লোকে তো পরস্পরকে এক দিনের অভিনন্দন জ্ঞাপন করে। কিন্তু বাপদাদা গিফ্ট হিসেবে গোল্ডেন ওয়ার্ল্ড দিয়েছেন। যা পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত চলে। তোমাদের নয়নে এমনভাবে সমাহিত হয়ে আছে যাতে এক সেকেন্ডে পৌঁছাতে পারো। সবার সামনে নিজের গোল্ডেন দুনিয়া নয়নে সমাহিত হয়ে আছে। এক সেকেন্ডে পৌঁছাতে পারো তো না! আজ সঙ্গমে আছ কাল রাজ্য অধিকারী হয়ে রাজত্ব করবে।

এখন সময় অনুসারে তোমরা জানো যে তোমরা সব পূর্বজের ভক্তরা দুঃখী আর অশান্ত হওয়ার কারণে তোমরা সব পূর্বজ আত্মাদের কত কাতর স্বরে ডাকছে। আওয়াজ শুনতে পাও তোমরা কীভাবে দুঃখ অশান্তিতে আর্তনাদ করছে! আমাদের শান্তি দাও, সুখ দাও, খুশি দাও। আওয়াজ শুনতে পাও? দাও দাও... তো এখন তোমরা সব আত্মাকে করুণাময় কল্যাণকারী দাতার বাচ্চা রূপে আত্মাদের মন্সা সেবা দ্বারা দেওয়ার কার্য করতে হবে। বাপদাদার তো এই দুঃখী অশান্ত আত্মাদের প্রতি বড়ই করুণার উদ্রেক হয়। তোমাদেরও করুণা হয় তো না! (কাশি হচ্ছে) আজ ব্রহ্মা বাবার কাশি হচ্ছিল। তো তোমাদেরও আত্মাদের জন্য করুণা হচ্ছে, তাই না! এখন এই বছরে, যেহেতু আজকে নতুন দিন নতুন বছর আসছে আর পুরানো বছর চলেও যাচ্ছে - তো যে বছর চলে যাচ্ছে সেই বছরে তোমরা কী প্ল্যান বানিয়েছো? বছর তো চলে যাবে কিন্তু তোমরা সবাই নিজের জন্য বছরের সাথে কী বিদায় দেবে? বর্ষ যেমন বিদায় নেবে তেমন তোমাদের নিজের জীবনে কী বিদায় দেবে? আর নতুন কী ভরবে? সদা সময়ের জন্য বিদায় দেবে নাকি অল্প সময়ের জন্য? কেননা, বাপদাদা ইশারা দিয়েছেন যে এখনো পর্যন্ত যে পুরানো সংস্কার ছিল সেই সংস্কার মনের মধ্যে দেখে তাকে জেনে সমাপ্ত করতেই হবে। এই পুরানো সংস্কার পুরুষার্থে বাপদাদার কাছে বিঘ্ন রূপে দেখা দেয়। বাচ্চারা একদিকে বলে বাবাই আমার সংসার, তাহলে পুরানো সংস্কার আসে কোথা থেকে? সংসারই বাবা তো এই পুরানো সংস্কার যা পুরুষার্থে বিঘ্ন উৎপন্ন করে তা' শেষ হয়ে যাওয়া উচিৎ তো, তাই না! অমৃতবেলায় যখন সবাই আধ্যাত্মিক বার্তালাপ করে তখন বাবা দেখেছেন সবাই নিজের পোতামেল দেয়, তো এখনো পর্যন্ত পুরানো সংস্কারই পুরুষার্থ শিথিল করে দেয়।

তো আজকের দিনে বর্ষ বিদায় দেওয়ার কালে এই সমূহ সংস্কারও বিদায় দিতে পারো? দিতে পারো? হাত তোলো। দিতে হবে তোমাদের। হাত তোলা তো খুব সহজ। কিন্তু মনের হাত তুলতে হবে। তুলছো। পুরানো সংস্কারের সদাসর্বদা বিদায়ের জন্য হাত তুলছো। আবার তোলো। আচ্ছা। মেজরিটি বাচ্চারা হাত তুলে বাপদাদাকে খুশি ক'রে দিয়েছে। বাপদাদার খুশি এটাই যে সবাই সাহসী বাচ্চা। যেখানে সাহস আছে সেখানে বাপদাদার সদা সহযোগ আছে। তো এখন যখন হাত তুলেছো তখন বাবার ছোট বড় সব স্থান সদা সময়ের জন্য নির্বিঘ্ন হয়ে গেল তো না! কেননা, বাপদাদার কাছে যে রেজাল্ট আসে তার কারণ পুরানো সংস্কার। তো আজ সঙ্কল্প দ্বারা সংস্কার সমাপ্ত করেছো অর্থাৎ নির্বিঘ্ন ভব-র বরদান নিয়েছো। নিয়েছো? বরদান নিয়েছো? সাহসের ফল প্রাপ্ত হয় তো না! আর বাপদাদার এই বরদান তোমাদের এইজন্য প্রাপ্ত হয়েছে যে এক কদম বাচ্চাদের সাহসের আর অনেক কদম বাবার সহায়তা আছেই আছে ব'লে। তো এই সঙ্কল্প আজ থেকে স্মরণে রেখো তোমরা পুরানো সংস্কার দিয়ে দিয়েছো। মনে করো, যদি সেগুলো তোমাদের কাছে ফিরে আসে তবে কী করবে? কী করবে? হস্তান্তরিত জিনিস নিজের কাছে রাখা যায় না। কেননা, দিয়ে দিয়েছ অর্থাৎ আমার নয়। তো যখন আমার নয় তখন নিজের কাছে কীভাবে রাখতে পারো? বাবাকে তো দিয়ে দিয়েছো তাহলে বাবাকেই তো আবার ফিরিয়ে দেবে তো না! পাক্কা তো না! দিয়ে দিয়েছ তাইনা! পাক্কা? এখন দু' হাত উঠাও। পাক্কা। পিছনের ওরাও হাত তুলছে।

বাপদাদার এই খুশি রয়েছে যে কলিযুগে থেকেও যা বাবার থেকে প্রাপ্তি হয়েছে, তার অনুভব এখন তোমরা সঙ্গমে করবে। দুনিয়ার জন্য কলিযুগ, কিন্তু তোমাদের জন্য সঙ্গমযুগ অর্থাৎ সর্বপ্রাপ্তির যুগ। পরমাত্ম প্রাপ্তি সর্বশক্তি সর্ব গুণ সর্ব জ্ঞানের ভাণ্ডার যা প্রাপ্ত হয়েছে তা' প্র্যাকটিক্যালি অনুভব করবে। যারা হাত তুলেছে সেই সব বাচ্চাকে, হয় তারা এখানে সমুখে বসে আছে অথবা দেশে বিদেশে দূরে বসে শুনছে, এই সব বাচ্চাকে আজকের দিনে বাপদাদা গভীর হৃদয় থেকে কী দিচ্ছেন? অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন, কিন্তু অভিনন্দনের সাথে সকলের মস্তকের ওপরে হাত রাখছেন। তোমরাও বাপদাদাও মনে মনে ডান্স করছেন বাঃ বাচ্চারা বাঃ! এমনকি তোমরাও এখন মনে মনে ডান্স করছো। বলো হাঁ জী। টিচার্স, এখন শুধু সতর্ক থেকো। টিচার্স যারা আছ তারা হাত তোলো। ফরনের টিচার্সও তো আছে, তাইনা! প্রত্যেক বাচ্চার এই দৃঢ় সঙ্কল্প শুনে বাপদাদা খুশি, এখন বাপদাদা চান যে, বাবা সমান বাচ্চারা সম্পন্ন সম্পূর্ণ হওয়ার যে লক্ষ্য রেখেছে তা'তে নির্বিঘ্ন হওয়ার এই দৃঢ় সঙ্কল্প সম্পন্ন সময়কে সমীপে আনবে। বাপদাদার এই খুশিও রয়েছে যে, সব বাচ্চা যে সঙ্কল্প করেছে তা' তারা সম্পন্ন করবে। তাছাড়া দুনিয়ার যারা দুঃখী, অশান্ত আত্মাদের মন্সা সেবা করে তাদেরও কিছু না কিছু ভরসা দিতে থাকবে। কেননা, বাচ্চাদের আর্ত চিৎকার বাপদাদার সহন হয় না। যতই হোক, তোমাদেরই তো পরিবার তাইনা! দুঃখ অশান্তি অনেক বাড়ছে, সুতরাং এখন সহৃদয় হও। সাথে এই সঙ্কল্পও করো যে, চলতে ফিরতে এবং অমৃতবেলায় আত্মাদের মন্সা সেবাও অবশ্যই করবো, এই সঙ্কল্প নিতে পারো? যেমন তোমরা এই সঙ্কল্প নিয়েছো - সংস্কারকে সমাপ্ত করবে সদাসর্বদার জন্য, নিয়েছ তো না! অল্প সময়ের জন্য তো নয়! তো যেমন সংস্কার সমাপ্ত ক'রে বাবা সমান হবে তেমনই দাতার বাচ্চা হয়ে মাস্টার দাতা স্বরূপে মন্সা সেবাও করতে হবে । এর জন্য তোমরা প্রস্তুত? মন্সা সেবা করার জন্য প্রস্তুত তোমরা? হাত তোলো, মন্সা সেবাও করবে? সারাদিনে যতটুকু টাইমই পাও তার মধ্যে মন্সা সেবা অবশ্যই করবে। কেননা, তোমরা সব বাচ্চাকে সুখময় সংসার আনতে হবে। বাবা এর জন্যই তোমরা সব বাচ্চাকে রাইট হ্যান্ড বানিয়েছেন। হাত দ্বারাই তো দেওয়া হয় তাই না! তো তোমরা বাবার রাইট হ্যান্ড। তো বাপদাদা তোমরা সব রাইট হ্যান্ড অর্থাৎ হাত দ্বারা সবাইকে এই সেবা প্রাপ্ত করাতে চান - কিছু না কিছু দিতে থাকো। তারা আর্তনাদ করছে দাও দাও আর দুঃখীদের সুখ দিয়ে, উদ্বিগ্নকে কিছু শক্তি দিয়ে তোমরা পুণ্যের কাজ করো। এখন তোমরা বাচ্চারা যে নিজেদেরকে জেনেছ বাবাকে জেনেছ, অবিনাশী উত্তরাধিকারী হয়েছো তো অন্যদেরও বানাও। কেননা, এখন সবাই মুক্তি চায়। সবাইকে মুক্তিতে পাঠিয়ে তোমরা বাবার বরদানে রাজ্য অধিকারী হবে, সেইজন্য বাবা সব বাচ্চাকে এই সঙ্কল্প দিচ্ছেন নির্বিঘ্ন ভব সেবাধারী ভব। তোমরা বাচ্চারা যারা বাবার হয়ে গেছো সেই বাচ্চাদের সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণ জীবনের অধ্যাত্ম আনন্দ অনুভব হচ্ছে আর হতেও থাকবে। যারা নিজেকে, হতে পারে নতুন এসেছ অথবা পুরানোও আছে কিন্তু নিজেকে বাবার উত্তরাধিকারের অধিকারী মনে করে, অতীন্দ্রিয় সুখে দুলতে থাকে এবং ভবিষ্যতেরও যে সঙ্কল্প করেছে - সংস্কার-বিজয়ী হওয়ার সঙ্কল্প নিয়েছে তারা সব আত্মা কোটি কোটির মধ্যে কতিপয় বিশেষ হয়েছো, নাকি সেই কতিপয় বিশেষের মধ্যে থেকে বিশেষ কেউ হয়েছো? জনক বচ্চি তো বলেছেনা, ১০৮-এর মালা আর ১৬ হাজারের মালার বিশেষভাবে মিলন সমারোহ করতে! তো তোমরা যারা মনে করো যে আমি ১৬ হাজার বা ১০৮-এর মালাতে আসছি তারা হাত তোলো।

নতুন নতুনরাও হাত তুলছে। অভিনন্দন। যারা নিশ্চয়বুদ্ধি তারা বিজয়ী হয়। বাপদাদাও জানেন, যে নিশ্চয়বুদ্ধি সে সামনে যেতে পারে, যাবে। আচ্ছা। হাত তোলো যারা প্রথমবার এসেছো। সবার পক্ষ থেকে বাপদাদা তোমাদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। যা নিশ্চয় করেছনা তা' অমৃতবেলায় সদা রিভাইস করতে থাকো। আচ্ছা। বাচ্চাদের দেখে বাপদাদা খুশি হন। টু লেট-এর সময়ের আগে নিজের অবিনাশী উত্তরাধিকারের অধিকারী হয়ে গেছো তোমরা। সেইজন্য এখানে আগত সমস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এবং নিজের নিজের সেন্টারে থাকা সব বাচ্চার তরফেও বাপদাদা তোমাদের সবাইকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। এখন তোমরা একটা চমৎকার করো। এই সাহস আছে তোমাদের? বলো, সাহস আছে? তোমরা আগে থাকতেই নির্বিঘ্ন থাকো। নিশ্চয় আর নেশার সাথে নম্বর ওয়ানে যেতে হবে। বাপদাদা খুশি হন যে পুরানো পুরানোরা তো আছেই কিন্তু নতুনরা অল্প সময়ে চমৎকারিত্ব দেখাবে। আচ্ছা।

নতুন হোক বা পুরানো, এখন সবাইকে বাপদাদা এক সেকেন্ডের কার্য দেন। সবাই এই মুহূর্তে এক সেকেন্ডে নিজেকে নিজের সমস্ত সঙ্কল্প থেকে দূরে করে বিন্দু রূপে স্থিত করো। করবে? এক সেকেন্ডে আমি বিন্দু, কোনো সঙ্কল্প নেই আমি বিন্দু। যে সেকেন্ডে নিজেকে বিন্দু স্থিতিতে স্থিত করেছ সে হাত উঠাও। তোমরা এক সেকেন্ডে এটা করেছ! আচ্ছা। এখন এই প্র্যাকটিস টানা ১৫ দিন সারাদিনে প্রতি ঘণ্টায় এক সেকেন্ডে বিন্দু রূপ হও। এই প্র্যাকটিস প্রত্যেকে করবে এবং সেখানের বাতাবরণে নিজের কার্যে থেকে চেক করতে হবে, এক সেকেন্ডে বিন্দু রূপে সফলতা পেয়েছো কিনা! কেননা, এখানে তো বায়ুমণ্ডল তৈরিই আছে, কিন্তু নিজের নিজের স্থানে থেকে সেকেন্ডে বিন্দু স্বরূপে স্থিত হওয়ার এই অভ্যাস করতে হবে। কেননা, বাপদাদা বলে দিয়েছেন যত তোমরা সামনে এগোতে থাকবে ততই এই এক সেক্রন্ডে বিন্দু স্থিতিতে স্থিত হওয়ার আবশ্যকতা হবে। সেইজন্য নিজেকেই নিজের চেক করতে হবে আর নিজের নিজের স্থানে রিপোর্ট লিখে টিচারকে দিতে হবে। তারপরে টিচার্স দ্বারা, হয় তারা এখানে আছে নয়তো নেই, সবার ক্লাসেজে এই হোমওয়ার্ক থাকবে, এর রেজাল্ট বাপদাদার কাছে আসবে তখন তিনি দেখে নেবেন - এর থেকে জানা যাবে যে তোমরা ১০৮ নাকি ১৬ হাজারের মালার অধিকারী, প্রতিদিনের সেকেন্ডের দিনচর্যায় কতটা সফল হয়েছো! এতে জানা যাবে তোমরা কোন মালার যোগ্য। কেননা, এখন বাবা তোমাদের হাত তোলার জন্য বলবেন - কে নিজেকে প্র্যাকটিক্যাল ধারণায় মনে করো আমি ১০৮ কিংবা ১৬ হাজারের মালাতে আসবো! তোমরা শুধু রেজাল্ট লিখবে তা' থেকে বাবা বুঝে যাবেন। কেননা, মনে করো দাদিরা নাম দিচ্ছে তো কেউ কেউ ভাববে আমিও তো আসতে পারি, তাইনা! সেইজন্য এই রিপোর্ট থেকে সবকিছু জানা যাবে।

বাপদাদা জিজ্ঞাসা করেন, সদা সেকেন্ডের মধ্যে সদা যে রূপ অনুভব করতে চাও তা' করতে পারো? সেকেন্ডে? ৫ স্বরূপ সম্বন্ধে বাবা যা বলেছিলেন সেটাও যখন চাও তখনই সেকেন্ডে সেই স্বরূপ হতে পারো? এটা প্র্যাকটিস করে নিজের জন্য নিজেই যেন জানতে পারো যে আমি যা চাই সেকেন্ডে সেই স্থিতিতে থাকতে পারি, নাকি টাইম লাগে! আর তো বাপদাদা খুশি যে হাত তোলার ব্যাপারে মেজরিটি হাত উঠায়। এখন তোমরা এই স্থূল হাত তুলেছো, কিন্তু অভ্যাস করতে করতে এটা এমন হয়ে যাবে যেমন দ্বাপর কলিযুগের অভ্যাসে দেহ অভিমানে আসা ন্যাচারাল হয়ে গেছে, তেমনই যে স্বরূপে স্থিত হতে চাও সেই স্বরূপে ইজি হয়ে যেতে পারো। কেননা, সময়ই এমন আসছে যাতে তোমাদের এই অভ্যাসের আবশ্যকতা হবে। তো এই অভ্যাস প্রত্যেকে নিজের নিজের কার্যে থেকে করতে থাকো আর নিমিত্ত টিচারকে নিজের রেজাল্ট দিতে থাকো। তো এই বছরের সমাপ্তিতে এই প্র্যাকটিস নিরন্তর করো। নিজে নিজেই করো, নিজের টিচারও নিজেই হও। কিন্তু রেজাল্ট দেখানোর জন্য নিজের চার্ট যদি দিতে থাকো তবে অ্যাটেনশন থাকবে। এমন অনুভব করো যেমন নিজের হাত যেখানে রাখতে চাও রাখতে পারো ঠিক তেমন ক'রে! এভাবেই মনকে যে স্থিতিতে রাখতে চাও সেই স্থিতিতে যেন থাকে। স্মরণিক হিসেবে মন্মনাভব-র মহামন্ত্রও আছে। মনের ড্রিলের ক্ষেত্রে নিজের কতটা সফলতা হয়েছে নিজেই অনুভব করো। বাপদাদা এটাই চান যে একেক বাচ্চা এখন সঙ্গমযুগের সুখ সঙ্গমযুগের প্রাপ্তির প্রতিটা প্রাপ্তিতে অনুভাবী হও। নিজেকে নিজে চেক করতে হবে, সব প্রাপ্তি সব শক্তি সব জ্ঞানের গূঢ়ার্থ, যোগের সব বিধির ধারণার ক্ষেত্রেও প্রতিটা ধারণায় অনুভাবী হয়েছো কিনা! নিজের সমস্ত চেকিং করতে থাকো আর অবিরত নিজেকে অগ্রচালিত করো। তো আজ বাপদাদা চেকিং আর প্রাপ্তি এটা চেক করার জন্য বলছেন। কোনও প্রাপ্তিতে যদি কম হয়ে যায় তবে ড্রামা অনুসারে সময় অনুসারে পরীক্ষাও সেটাই আসবে, সেইজন্য সব সাবজেক্টে সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ হওয়ার চেকিং করো আর চেঞ্জ করো।

তো আজকের দিনে বাপদাদা তোমাদের ভবিষ্যতের রূপ-প্রাপ্তির রূপ তোমাদের সকলের সাধারণ স্বরূপের মধ্যেও দেখছেন। আচ্ছা। বাপদাদার সব তরফের হারানিধি হৃদয় সিংহাসনাসীন অনুগত আজ্ঞাকারী তীব্র পুরুষার্থী বাচ্চাদের বাপদাদার হৃদয়ের অনেক অনেক ভালোবাসা আর সেইসঙ্গে বাপদাদা তোমাদের অভিনন্দন অভিনন্দন অভিনন্দন - এই ব'লে অভিনন্দিত করছেন। বাচ্চাদের দেখে বাপদাদাও খুশি হন। বাঃ বাঃ বাঃ! আমার বাচ্চারা বাঃ!

সমগ্র সাল তোমরা নির্বিঘ্ন আর খোশমেজাজে থাকো। নিজের আচরণ আর মুখমণ্ডল দ্বারা সবাইকে খুশি থাকতে আর হাসতে শেখাও। সদা ওড়ো আর অন্যকে ওড়াও। হেঁটো না ওড়ো। উড়তি কলা সবার প্রিয়। তো উড়তে উড়তে বার্তা দাও। সবাই তোমাদের দেখে যেন খুশির দোলায় দোলে। হ্যাপি হ্যাপি হ্যাপি নিউ ইয়ার।

আচ্ছা, ওম্ শান্তি।

বরদান:-
ঈশ্বরীয় ভাগ্যের লাইটের ক্রাউন প্রাপ্ত ক'রে সর্বপ্রাপ্তি স্বরূপ ভব

দুনিয়াতে ভাগ্যের লক্ষণ রাজত্ব আর রাজত্বের লক্ষণ মুকুট। এমন ঈশ্বরীয় ভাগ্যের লক্ষণ লাইটের ক্রাউন। আর এই ক্রাউন প্রাপ্তির আধার হলো পিওরিটি। সম্পূর্ণ পবিত্র আত্মারা লাইটের মুকুটধারী হওয়ার সাথে সাথে সর্বপ্রাপ্তিতেও সম্পন্ন হয়। যদি কোনও প্রাপ্তির কমতি থাকে তবে লাইটের ক্রাউন স্পষ্টভাবে দেখা যাবে না।

স্লোগান:-
নিজের অধ্যাত্ম স্থিতিতে যারা স্থিত থাকে তারাই মন্সা মহাদানী।

অব্যক্ত ইশারা :- জ্বালাস্বরূপ স্থিতিতে থেকে শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো তারা ভালো ভালো বলছে কিন্তু ভালো হওয়ার সেই প্রেরণা তারা পাচ্ছে না। তার একটাই সাধন - সংগঠিতরূপে জ্বালাস্বরূপ হও। প্রত্যেকে একেকটা লাইট হাউজ হও। তোমরা সেবধারী, স্নেহী, এক বল এক ভরসা যোগ্য - এতো সব ঠিক আছে কিন্তু মাস্টার সর্বশক্তিমানের স্টেজ! এই স্টেজে এসে গেলে তখন সবাই তোমাদের চারপাশে পতঙ্গের মতো আবর্তিত হতে শুরু করবে।