13.05.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - বাবার দ্বারা তোমরা যে সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান পেয়েছো, সেই জ্ঞান তোমরা তোমাদের বুদ্ধিতে ধারণ করেছো, এই জন্য তোমরা হলে স্বদর্শন চক্রধারী”

প্রশ্নঃ -
আত্মাকে পবিত্র বানানোর জন্য আত্মিক বাবা কি এমন ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করেন?

উত্তরঃ  
মন্মনা ভব-র। এই ইঞ্জেকশন আত্মিক বাবা ছাড়া কেউই প্রয়োগ করতে পারেনা। বাবা বলেন, মিষ্টি বাচ্চারা! তোমরা আমাকে স্মরণ করো। ব্যস্। স্মরণের দ্বারাই আত্মা পবিত্র হয়ে যাবে। এতে সংস্কৃত ইত্যাদি পড়ারও প্রয়োজন নেই। বাবা তো হিন্দিতে সহজ শব্দে শোনাচ্ছেন। আত্মার যখন এই নিশ্চয় হয়ে যায় যে আত্মিক বাবা আমাকে পবিত্র বানানোর যুক্তি বলে দিচ্ছেন, তাহলে বিকারগুলিকে ত্যাগ করতে হবে।

ওম্ শান্তি ।
ওম্ শান্তি-র অর্থ তো বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়েছে। আত্মা নিজের পরিচয় দেয়। আমার স্বরূপ হলো শান্ত আর আমার থাকার স্থান হলো শান্তিধাম, যাকে পরমধাম, নির্বাণধামও বলা যায়। বাবাও বলেন, দেহ-অভিমান ছেড়ে দেহী-অভিমানী হও, বাবাকে স্মরণ করো। তিনি হলেন পতিত-পাবন। এটা কেউ জানেনা যে আমি হলাম আত্মা। এখানে এসেছি পার্ট প্লে করার জন্য। এখন ড্রামা সম্পূর্ণ হয়েছে, ঘরে ফিরে যেতে হবে, এইজন্য বলেন যে, আমাকে স্মরণ করো তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে। একেই সংস্কৃতে বলা হয়, মন্মনা ভব। বাবা কোনও সংস্কৃত ভাষাতে বলছেন না। বাবা তো এই হিন্দি ভাষাতেই বোঝাচ্ছেন। যেরকম গভর্মেন্ট বলে যে, একটাই হিন্দি ভাষা হওয়া চাই। বাবাও বাস্তবে হিন্দিতেই বোঝাচ্ছেন। কিন্তু এই সময় অনেক ধর্ম, অনেক মঠ, অনেক পথ হওয়ার কারণে ভাষাও অনেক প্রকারের করে দিয়েছে। সত্যযুগে এত ভাষা হয় না, যত এখানে আছে। গুজরাতে যারা থাকে তাদের ভাষা আলাদা। যে, যে গ্রামে থাকে, সে সেখানকার ভাষা জানে। অনেক মানুষ আছে, অনেক ভাষা আছে। সত্যযুগে তো একটাই ধর্ম, একটাই ভাষা ছিল। এখন বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান আছে, এই জ্ঞান কোনও শাস্ত্রে নেই। এইরকম কোনও শাস্ত্র নেই যেখানে এই জ্ঞান থাকবে। না কল্পের আয়ু সম্বন্ধে লেখা আছে, না এই বিষয়ে কারোর জানা আছে। সৃষ্টি তো একটাই। সৃষ্টি চক্র আবর্তিত হতে থাকে। নতুন থেকে পুরানো, পুরানো থেকে পুনরায় নতুন হয়, একেই বলা যায় স্বদর্শন চক্র। যার মধ্যে এই চক্রের জ্ঞান আছে, তাকে বলা যায় - স্বদর্শন চক্রধারী। আত্মার মধ্যে এই জ্ঞান থাকে, এই সৃষ্টি চক্রের কিভাবে রিপিট হয়, তারা তো আবার কৃষ্ণকে, বিষ্ণুকে স্বদর্শন চক্র দিয়ে দিয়েছে। এখন বাবা বোঝাচ্ছেন যে, তাদের মধ্যে তো এই জ্ঞান ছিল না। সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান বাবা-ই প্রদান করেন। এটাই হলো স্বদর্শন চক্র। এছাড়া কোনও হিংসার কথা নেই, যার দ্বারা গলা কাটা যায়। এসব মিথ্যা লিখে দিয়েছে। এই জ্ঞান বাবা ছাড়া কোনও মানুষ মাত্র দিতে পারবে না। মানুষকে কখনও ভগবান বলা যায় না, যেখানে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শংকরকেও দেবতা বলা হয়। যেটা বাবার মহিমা, সেটা দেবতাদের জন্য নয়। বাবা তো রাজযোগ শেখাচ্ছেন। এমন বলবেন না যে, বাচ্চাদেরও সেই মহিমা-ই হয়, যেটা বাবার জন্য হয়ে থাকে। বাচ্চারা পুনরায় পুনর্জন্ম নিতে থাকে, বাবা তো পুনর্জন্মে আসেন না। বাচ্চারা, বাবাকে স্মরণ করে। উচ্চ থেকে উচ্চতর হলেন ভগবান, তিনি সর্বদাই পবিত্র। বাচ্চারা পবিত্র হয়ে পুনরায় পতিত হয়ে যায়। বাবা তো হলেনই পবিত্র। বাবার থেকে বাচ্চাদের উত্তরাধিকারও অবশ্যই চাই। এক তো মুক্তি চাই, দ্বিতীয়তঃ জীবন মুক্তিও চাই। শান্তিধামকে মুক্তি, সুখধামকে জীবনমুক্তি বলা যায়। মুক্তি তো সকলেরই প্রাপ্ত হয়। কিন্তু জীবন্মুক্তি, যে পড়বে সেই প্রাপ্ত করবে। ভারতে বরাবর জীবনমুক্তি ছিল, বাকি সব আত্মা মুক্তিধামে ছিল। সত্যযুগে কেবল একটাই ভারত খন্ড ছিল। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। বাবা বুঝিয়েছেন যে, লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির সবথেকে বেশি তৈরি করে। বিড়লা প্রভৃতি যারা মন্দির তৈরী করেন, তারা এটা জানেন না যে লক্ষ্মী-নারায়ণের এই রাজত্ব কোথা থেকে প্রাপ্ত হয়েছে, তাঁরা কতটা সময় এই রাজ্য করেছিলেন। পুনরায় কোথায় চলে গেলেন, কিছুই জানে না। তো যে রকম মাটির পুতুলের পূজা করে, একেই বলা যায় ভক্তি। নিজেই পূজ্য আবার নিজেই পূজারী হয়ে যায়। পূজ্য আর পূজারীর মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। তারও অর্থ থাকবে, তাই না। পতিত তাকেই বলা যায় যে হল বিকারী। ক্রোধীকে পতিত বলা যায়না, যে বিকারে যায় তাকে পতিত বলা যায়। এই সময় তোমাদের জ্ঞান অমৃত প্রাপ্ত হচ্ছে। জ্ঞানের সাগর হলেনই এক বাবা। বাবা বুঝিয়েছেন যে, এই ভারতই সতোপ্রধান, উচ্চ থেকেও উচ্চতর ছিল, এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে। এটাই তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। এখানে কোনও রাজত্ব তো নেই। এখানে হলোই প্রজার উপর প্রজার রাজ্য। সত্যযুগে খুব অল্প সংখ্যক জনসংখ্যা থাকবে, এখন তো দেখো কত হয়ে গেছে! বিনাশের প্রস্তুতিও চলছে। দিল্লিকে পরিস্থান তো হতেই হবে। কিন্তু এটা কেউ জানে না। তারা তো মনে করে যে এটাই হলো নিউ দিল্লি। পুরানো দুনিয়াকে পরিবর্তন করবেন কে! এ বিষয়ে কারোরই কিছু জানা নেই। এক বাবা-ই বুঝিয়ে বলছেন। এখন বাচ্চারা তোমরা নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছো। কড়ি থেকে হিরের মতো তৈরী হচ্ছো। ভারত কতোই না সম্মৃদ্ধ ছিলো, দ্বিতীয় কোনও ধর্ম ছিলনা। এখন তো অনেক ধর্ম হয়ে গেছে। এখন করুণাময় বাবাকে স্মরণ করো। ভারত সুখধাম ছিল, এটা ভুলে গেছে। এখন তো দেখো ভারতের কি অবস্থা হয়ে গেছে। না হলে তো ভারত স্বর্গ ছিল। এই ভারত হল বাবার জন্মস্থান তাই না! তাই ড্রামা অনুসারে তিনি কৃপা করেন। ভারত হলো প্রাচীন দেশ। বলে যে, বরাবর যীশুখ্রীষ্টের থেকে তিন হাজার বছর পূর্বে ভারত স্বর্গ ছিল, তখন অন্য কোনও ধর্ম ছিল না। এখন এই ভারত একদমই নিচে এসে পড়েছে। গাইতে তো থাকে - আমাদের দেশ ভারত সব থেকে উঁচু ছিল। নামটাই ছিল হেভেন, স্বর্গ। ভারতের মহিমাও কারো জানা নেই। বাবা-ই এসে ভারতের কাহিনী বোঝাচ্ছেন। ভারতের কাহিনী মানে দুনিয়ার কাহিনী, একে সত্যনারায়ণের কাহিনীও বলা যায়। বাবা-ই বসে বোঝাচ্ছেন - পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ভারতে লক্ষ্মী নারায়ণের রাজ্য ছিল, এখনও যাঁদের চিত্র আছে। কিন্তু তাঁদের এই রাজ্য কিভাবে প্রাপ্ত হয়েছে? সত্য যুগের আগে কি ছিল? সঙ্গম যুগের আগে কি ছিল? কলিযুগ। এটা হল সঙ্গম যুগ। যেখানে বাবাকে আসতেই হয় কেননা যখন পুরানো দুনিয়াকে নতুন বানাতে হয় তখনই আমাকে আসতে হয় - পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করতে। আমার জন্য আবার বলে দিয়েছে, সর্বব্যাপী। যুগে যুগে আসেন, তাই মানুষ ভুলে গেছে। সঙ্গম যুগকে কেবল তোমরাই জানো। তোমরা কে? - বোর্ডের উপর লেখা আছে, প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার - ব্রহ্মাকুমারী। ব্রহ্মা বাবা কে? শিব হলেন উচ্চ থেকে উচ্চতর। তারপরে আছেন ব্রহ্মা, পুনরায় ব্রহ্মার দ্বারা রচনা হয়। প্রজাপিতা তো অবশ্যই ব্রহ্মাকেই বলা যায়। শিবকে প্রজাপিতা বলা যায়না। শিব হলেন সকল আত্মাদের নিরাকার বাবা। পুনরায় এখানে এসে প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা দত্তক নেন। বাবা বোঝাচ্ছেন যে আমি এনার মধ্যে প্রবেশ করেছি। এনার দ্বারাই তোমরা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ হয়েছো। ব্রহ্মার দ্বারাই তোমাদেরকে ব্রাহ্মণ তৈরি করে পুনরায় দেবতা তৈরী করি। এখন তোমরা ব্রহ্মার বাচ্চা হয়েছ। ব্রহ্মা কার বাচ্চা? ব্রহ্মার বাবার কি নাম? তিনি হলেন শিব, নিরাকার বাবা। তিনি এসে এনার মধ্যে প্রবেশ করে অ্যাডপ্ট করেন, মুখ বংশাবলী তৈরি করেন। বাবা বলেন যে - আমি এনার অনেক জন্মের অন্তিম জন্মের অন্তিম শরীরে এসে প্রবেশ করি। ইনি আমার হয়ে যান, সন্ন্যাস ধারণ করেন। কিসের সন্ন্যাস? ৫ বিকারের। ঘর-বাড়ি ছাড়ার দরকার নেই। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পবিত্র থাকতে হবে। মামেকম্ স্মরণ করো তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে। এটাই হলো যোগ, যার দ্বারা খাদ বেরিয়ে যায় আর তোমরা সতোপ্রধান হয়ে যাও। ভক্তিতে তো যদিও অনেকেই গঙ্গা স্নান করে, জপ্ তপ্ ইত্যাদি করে, তথাপি নিচের দিকেই নামতে থাকে। সতোপ্রধান ছিল, এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে পুনরায় সতোপ্রধান কিভাবে হবে? সেটাও এক বাবা ছাড়া কেউ সেই রাস্তা বলে দিতে পারে না। বাবা তো একদমই সহজ ভাবে বলে দিচ্ছেন - আমাকে স্মরণ করো। বাবা আত্মাদের সাথে এইসব কথা বলছেন। কোনও গুজরাতি বা সিন্ধির সাথে কথা বলছেন না, এটা হলই আধ্যাত্মিক জ্ঞান। শাস্ত্রে আছে শারীরিক জ্ঞান। আত্মার জন্যই জ্ঞান চাই, আত্মাই পতিত হয়ে গেছে, আত্মারই এখন আধ্যাত্মিক ইঞ্জেকশনের প্রয়োজন। বাবাকে বলা যায়, আধ্যাত্মিক অবিনাশী সার্জেন্ট। তিনি এসে নিজের পরিচয় দেন যে - আমি হলাম তোমাদের আধ্যাত্মিক সার্জেন্ট। তোমাদের আত্মা পতিত হওয়ার কারণে শরীরও রোগী হয়ে গেছে। এই সময়ে ভারতবাসী তথা সমগ্র দুনিয়া নরক বাসী হয়ে গেছে, পুনরায় স্বর্গবাসী কিভাবে হতে পারে, সেটা বাবা বোঝাচ্ছেন। বাবা বলছেন যে - আমিই এসে সকল বাচ্চাদেরকে স্বর্গবাসী তৈরী করি। তোমরাও বুঝতে পারো যে বরাবর আমরা নরকবাসী ছিলাম। কলিযুগকে নরক বলা যায়। এখন নরকেরও অন্তিম সময় এসে গেছে। ভারতবাসী এই সময় নরকের গভীরে পড়ে আছে, একে শ্রেষ্ঠত্ব বলা যায়না। লড়াই-ঝগড়া করতে থাকে। এখন বাবা স্বর্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত তৈরি করছেন, তাই তাঁর কথা মানতে হবে। নিজেদের ধর্ম শাস্ত্রকেও জানেনা, বাবাকেই জানে না।

বাবা বলছেন যে - আমি তোমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র বানিয়েছিলাম, নাকি শ্রীকৃষ্ণ বানিয়েছিলেন? শ্রীকৃষ্ণ তো নম্বর-ওয়ান পবিত্র ছিলেন। তাঁকে বলা-ই যায় শ্যাম-সুন্দর। কৃষ্ণের আত্মা পুনর্জন্ম নিতে-নিতে এখন শ্যাম হয়ে গেছে। কাম-চিতার উপর বসে কালো হয়ে গেছে। জগদম্বাকে কালী রূপে কেন দেখানো হয়েছে? এটা কেউ জানে না। যেরকম কৃষ্ণকে কালো দেখানো হয়, সেইরকম জগদম্বাকেও কালো দেখিয়েছে। এখন তোমরা কালো হয়ে গেছো পুনরায় সুন্দর তৈরি হচ্ছো। তোমরা বোঝাতে পারো যে, ভারত খুবই সুন্দর ছিল। যদি সৌন্দর্য দেখতে হয় তাহলে আজমিরে (সোনার দ্বারকা) গিয়ে দেখো। স্বর্গে সোনা হীরের মহল ছিল। এখন তো পাথর, মাটির আছে, সবকিছুই তমোপ্রধান হয়ে গেছে। তাই বাচ্চারা জানে যে - শিব বাবা, ব্রহ্মা দাদা দুইজনে একসাথে আছেন, এইজন্য বলা হয় বাপ-দাদা। উত্তরাধিকার শিব বাবার থেকেই প্রাপ্ত হয়। যদি দাদার থেকে বলো, তাহলে শিবের কাছে কি আছে? উত্তরাধিকার শিব বাবার থেকেই প্রাপ্ত হয়, ব্রহ্মার দ্বারা। ব্রহ্মার দ্বারা বিষ্ণুপুরীর স্থাপনা হয়। এখন তো হল রাবণ রাজ্য, তোমরা ছাড়া সবাই এখন নরকবাসী। তোমরা সবাই এখন সঙ্গমে আছো। এখন পতিত থেকে পবিত্র হচ্ছ, পুনরায় বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে। এখানে কোনও মানুষ পড়ান না। তোমাদেরকে মুরলী কে শোনাচ্ছেন? শিব বাবা। পরমধাম থেকে আসেন, পুরানো দুনিয়ায়, পুরানো শরীরে। কারো যদি নিশ্চয়তা হয়ে যায় তাহলে পুনরায় বাবার সাথে মিলন না করে থাকতে পারবে না। বলবে, প্রথমে অসীম জগতের বাবার সাথে তো মিলন করি, স্থির থাকতে পারবে না। বলবে, অসীম জগতের বাবা যিনি স্বর্গের মালিক তৈরি করছেন, তাঁর কাছে আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে চলো। আগে দেখি তো, শিববাবার রথকে কেমন দেখতে! দুনিয়ার লোক তো ঘোড়াকে সাজায় (শৃঙ্গার করে) । বিশেষ উত্তরীয় দিয়ে সাজিয়ে দেয়। সেই রথ ছিল মহম্মদের, যিনি ধর্ম স্থাপন করেছিলেন। ভারতবাসী আবার ষাঁড়কে তিলক লাগিয়ে মন্দিরে রেখে দেয়। মনে করে যে, এর উপরে শিব সওয়ারী হন। এখন ষাঁড়ের উপরে না শিবের, না শংকরের সওয়ারী হয়। কিছুই বুঝতে পারে না। শিব হলেন নিরাকার, তিনি কিভাবে সওয়ারী করবেন। তারজন্য তো পা চাই, যার দ্বারা ষাঁড়ের উপরে বসতে পারবেন। এইসব হলো অন্ধশ্রদ্ধা। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার থেকে যে জ্ঞান অমৃত প্রাপ্ত হয়, সেই অমৃতকে পান করতেও হবে এবং অন্যদেরকেও পান করাতে হবে। পূজারী থেকে পূজ্য হওয়ার জন্য বিকার গুলিকে ত্যাগ করতে হবে।

২ ) বাবা, যিনি স্বর্গে যাওয়ার জন্য যোগ্য তৈরি করছেন তাঁর প্রত্যেক কথা মানতে হবে, সম্পূর্ণ নিশ্চয়-বুদ্ধি হতে হবে।

বরদান:-
অনুভবের উইল পাওয়ারের দ্বারা মায়ার পাওয়ারকে মোকাবিলা করা অনুভবীমূর্ত ভব

সবচাইতে পাওয়ারফুল স্টেজ হলো নিজের অনুভব। অনুভবী আত্মা নিজের অনুভবের উইল পাওয়ার দ্বারা মায়ার যে কোনো শক্তিকে, যে কোনো বিষয়কে এবং সব সমস্যাকে সহজেই মোকাবিলা করতে পারে এবং সকল আত্মাকে সন্তুষ্ট করতে পারে। মোকাবিলা করার শক্তি থেকে সকলকে সন্তুষ্ট করার শক্তি অনুভবের উইল পাওয়ার থেকে সহজেই প্রাপ্ত হয়, সেইজন্যই প্রতিটি খাজানাকে অনুভবে এনে অনুভবীমূর্ত হও।

স্লোগান:-
একে অপরকে না দেখে নিজেকে দেখো আর পরিবর্তন করো

অব্যক্ত ইশারা :- সদা অবিচল, অটল, একরস স্থিতির অনুভব করো

নিজেকে চেক করো প্রতিটি শক্তি, প্রতিটি প্রাপ্তি, প্রতিটি গুণের অনুভব কি আছে? যদি অনুভবের অথরিটি থাকে তাহলে কোনো পরিস্থিতিই সেই অনুভবের অথরিটির সামনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। অনুভবী মূর্ত যে কোনো পরিস্থিতিতেই অবিচল অটল থাকে। তারা কখনও অস্থির হয়না কেননা অনুভবের অথরিটিই হলো সবকিছুর চেয়ে বড় অথরিটি। যে সময়ে যে শক্তির প্রয়োজন তাকে আহ্বান করো দেখবে সেকেন্ডের মধ্যে সেই শক্তি সহযোগী হয়ে উঠবে।