14.01.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - কদম - কদমে বাবার শ্রীমতানুসারে চলতে থাকো, একমাত্র বাবার কাছ থেকেই শোনো তাহলে মায়ার আঘাত হবে না"

প্রশ্নঃ -
উচ্চপদ প্রাপ্ত করার আধার কি?

উত্তরঃ  
চ্চপদ প্রাপ্ত করার জন্য বাবার প্রতিটি ডায়রেক্শন অনুযায়ী চলতে থাকো। বাবার ডায়রেক্শন পেয়েছে আর বাচ্চারা তা মেনে চলেছে। দ্বিতীয় কোনো সঙ্কল্পও যেন না আসে। ২) এই আধ্যাত্মিক সার্ভিসে তৎপর হয়ে যাও। তোমাদের আর কারো স্মরণ আসা উচিত নয়। তুমি মরলে তোমার কাছে দুনিয়াও মৃত - তবেই উচ্চপদ প্রাপ্ত হবে।

গীতঃ-
তোমায় পেয়ে আমরা সারা জগৎ পেয়ে গেছি....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা-রূপী বাচ্চারা এই গান শুনেছে। এ'গান ভক্তিমার্গে গাওয়া হয়েছে। এইসময় বাবা এর রহস্য বোঝান। বাচ্চারাও বোঝে - এখন আমরা বাবার কাছ থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। আমাদের সেই রাজ্য কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। ভারতের রাজত্ব অনেকেই ছিনিয়ে নিয়েছিল, তাই না! মুসলমানরা ছিনিয়ে নিয়েছিল, ইংরেজরা ছিনিয়ে নিয়েছিল। বাস্তবে তো প্রথমে রাবণ ছিনিয়ে নিয়েছে, আসুরিক মত অনুসারে। এই যে বাঁদরের চিত্র বানানো হয়েছে - ইয়ার নো ইভিল, সী নো ইভিল..... এরও কোনো রহস্য রয়েছে, তাই না! বাবা বোঝান যে, একদিকে হলো রাবণের আসুরিক সম্প্রদায়, যারা বাবাকে জানে না। অপরদিকে হলো তোমরা বাচ্চারা। তোমরাও প্রথমে জানতে না। বাবা এনার উদ্দেশ্যেও বলেন যে, ইনি অনেক ভক্তি করেছেন, এনার এ হলো অনেক জন্মেরও অন্তিম জন্ম। ইনিই পূর্বে পবিত্র ছিলেন, এখন পতিত হয়ে গেছেন। এনাকে আমি জানি। এখন তোমরা আর কারোর কথা শুনো না। বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বলি। হ্যাঁ, কখনো কেউ আত্মীয়-পরিজনদের নিয়ে আসে তাহলে একটু বার্তালাপ করি। প্রথম কথা হলো পবিত্র হওয়া তবেই বুদ্ধিতে ধারণ করতে পারবে। এখানকার নিয়ম অত্যন্ত কড়া। পূর্বে বলা হতো যে, ৭ দিনের ভাট্টীতে থাকতে হবে, আর কারোর স্মরণ যেন না আসে, না পত্রাদি লিখবে। যেখানেই থাকো না কেন, সারাদিন কিন্তু ভাট্টীতে থাকতে হবে। এখন তোমরা ভাট্টীতে পড়ে পুনরায় বাইরে বেরোও। কেউ-কেউ তো আশ্চর্যবৎ শুনন্তি (শোনে), কহন্তি(বলে), অহো! মায়ার কবলে পড়ে ভাগন্তি (চলে যায়) হয়ে গেছে। এ হলো অতি উঁচু লক্ষ্য। বাবার কথা মান্য করে না। বাবা বলেন - তোমরা হলে বাণপ্রস্থী। তোমরা কেন শুধু-শুধুই আটকে রয়েছো। তোমরা এই আধ্যাত্মিক সেবায় মগ্ন হয়ে যাও। তোমাদের আর কারোর চিন্তা বুদ্ধিতে আসা উচিত নয়। তোমাদের মৃত্যুর সঙ্গে-সঙ্গেই এই দুনিয়াও তোমাদের কাছে মৃত অর্থাৎ মরজীবা হলেই তোমরা উচ্চপদ প্রাপ্ত করতে পারবে। তোমাদের পুরুষার্থই হলো - নর থেকে নারায়ণ হওয়া। প্রতি পদক্ষেপে বাবার ডায়রেক্শন অনুসারে চলতে হবে। কিন্তু এরজন্য সাহস চাই। এ শুধু কথার কথা নয়। মোহ-র জালও কম নয়, নষ্টোমোহ হতে হবে। আমার হলো একমাত্র শিববাবা, অন্য আর কেউ নয়। আমরা তো বাবার শরণাপন্ন হই। আমরা কখনো বিষ প্রদান করবো না। তোমরা যখন ঈশ্বরের দিকে আসো তখন মায়াও তোমাদের ছাড়ে না, সজোড়ে আছার দেয়। যেমন বৈদ্যরা বলে - এই ওষুধে প্রথমে সব রোগ বাইরে বেরিয়ে আসবে (বেড়ে যাবে), ভয় পাবে না। এও সেরকমই। মায়া অত্যন্ত বিরক্ত করবে, বাণপ্রস্থ অবস্থাতেও বিকারের সঙ্কল্প নিয়ে আসবে। মোহ উৎপন্ন হয়ে যাবে। বাবা প্রথম থেকেই বলে দেন যে, এ'সব হবে। যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন মায়ার এই বক্সিং চলতে থাকবে। মায়াও পালোয়ান হয়ে তোমাদের ছাড়বে না। এও ড্রামায় নির্ধারণ করা রয়েছে। আমি কি মায়াকে বলবো নাকি যে, বিকল্প (বিকারী,ব্যর্থ সঙ্কল্প) এনো না, না তা বলবো না। অনেকেই বলে বাবা কৃপা করো। আমি কি কারোর উপর কৃপা করবো, না তা করবো না। এখানে তোমাদের শ্রীমতে চলতে হবে। কৃপা করলে সকলেই তো মহারাজা হয়ে যাবে। নাটকে এরকমকিছু নেই। সকল ধর্মাবলম্বীরাই আসে। যারা অন্যান্য ধর্মে ট্রান্সফার হয়ে গেছে তারা বেরিয়ে আসবে। এখানে চারাগাছ রোপন করা হচ্ছে, এতে অত্যন্ত পরিশ্রম আছে। নতুন যারা আসে তাদের শুধু বলো যে, বাবাকে স্মরণ করতে হবে। শিব ভগবানুবাচ। কৃষ্ণ কোনো ভগবান নয়। তিনি তো ৮৪ জন্মে (চক্রতে) আসেন। অনেক মত, অনেক কথা। এ'সব বুদ্ধিতে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে হবে। আমরা অপবিত্র ছিলাম। এখন বাবা বলেন - তোমরা পবিত্র কিভাবে হবে? কল্প-পূর্বেও বলেছিলাম - মামেকম্ স্মরণ করো। নিজেকে আত্মা মনে করে দেহের সর্ব সম্বন্ধ পরিত্যাগ করে জীবিত থেকেও মৃতবৎ হয়ে যাও অর্থাৎ মরজীবা হও। আমাকে অর্থাৎ একমাত্র বাবাকেই স্মরণ করো। আমি সকলের সদ্গতি করতে এসেছি। ভারতবাসীরাই উচ্চ হয়, পুনরায় ৮৪-বার জন্ম গ্রহণ করে তাদের পতন ঘটে। বলো যে, তোমরা ভারতবাসীরাই এই দেবী-দেবতাদের পূজা করো। ইনি কে? ইনি স্বর্গের মালিক ছিলেন, তাই না! এখন তিনি কোথায়? ৮৪ জন্ম কে নেয়? সত্যযুগে তো এনারাই দেবী-দেবতা ছিলেন। পুনরায় এখন মহাভারতের যুদ্ধের মাধ্যমে সকলের বিনাশ হবে। এখন সকলেই পতিত, তমোপ্রধান। আমিও এঁনার অনেক জন্মের অন্তিমেই এসে প্রবেশ করি। ইনি সম্পূর্ণরূপে ভক্ত ছিলেন। নারায়ণের পূজা করতেন। এনার মধ্যেই প্রবেশ করে এনাকে নারায়ণে পরিনত করি। এখন তোমাদেরও পুরুষার্থ করতে হবে। এখন দৈবী রাজধানী স্থাপিত হচ্ছে। মালা তো তৈরী হয়, তাই না! উপরে হলো ফুল, তারপর মেরু-যুগল। এনারা শিববাবার একদম নীচে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। জগৎপিতা ব্রহ্মা এবং জগদম্বা সরস্বতী। এখন তোমরা এই পুরুষার্থের মাধ্যমে বিষ্ণুপুরীর মালিক হয়ে যাও। প্রজারাও তো বলে, তাই না! - ভারত আমাদের। তোমরাও জানো যে, আমরা বিশ্বের মালিক। আমরা রাজত্ব করবো, আর কোনো ধর্ম তখন থাকবেই না। এরকম বলবে না - এ হলো আমাদের রাজত্ব, আর কোনো রাজত্ব থাকে না। এখানে অনেক (রাজত্ব) রয়েছে তাই আমার-তোমার (রেষারেষি) চলতেই থাকে। ওখানে এরকম কথাই নেই। তাই এখন বাবা বোঝান - বাচ্চারা, আর সবকিছু কথা ছেড়ে মামেকম্ স্মরণ করো তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে। এভাবে কেউই সম্মুখে বসে নেষ্ঠা (যোগ) করানো, দৃষ্টিদান করেন না। বাবা তো বলেন, চলতে-ফিরতে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। নিজের চার্ট রাখো - সারাদিনে কতসময় স্মরণ করেছো? সকালে উঠে কতখানি সময় বাবার সঙ্গে বার্তালাপ করেছো? আজ বাবার স্মরণে বসেছো কী? এমনভাবে নিজের থেকেই পরিশ্রম করতে হবে। নলেজ তো বুদ্ধিতে রয়েছে, পরে অন্যান্যদেরও বোঝাতে হবে। একথা কারোর বুদ্ধিতে আসে না যে কাম মহাশত্রু। ২-৪ বছর থাকার পর সজোরে মায়ার থাপ্পড় খেয়ে অধঃপতনে যায়। পরে লেখে, বাবা আমরা মুখ কালো করে ফেলেছি। বাবাও লিখে দেন যে, মুখ কালো যারা করেছো তাদের ১২ মাস এখানে আসার প্রয়োজন নেই। তোমরা বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করে পুনরায় বিকারে গেছো, আমার কাছে আর কখনও এসো না। লক্ষ্য অতি উচ্চ। বাবা এসেছেই পতিত থেকে পবিত্র করতে। অনেক বাচ্চারা বিবাহ করেও পবিত্র থাকে। হ্যাঁ, কোনো কন্যাকে যখন মারধোর করা হয় তখন তাকে রক্ষা করার জন্য গন্ধর্ব বিবাহ করে পবিত্র থাকে। তার মধ্যেও কোন-কোনজনের মায়া নাক ধরে ফেলে। পরাজিত হয়। স্ত্রীরাও অনেকে পরাজিত হয়। বাবা বলেন - তোমরা তো সূর্পনখা, এইসমস্ত নাম এইসময়কারই। এখানে তো বাবা কোনো বিকারীকে বসতেও দেবে না। কদম কদমে বাবার রায় নিতে হবে। সারেন্ডার হয়ে গেলে তখন বাবা বলেন, এখন ট্রাস্টী হও। পরামর্শ অনুসারে চলতে থাকো। পোতামেল বলবে তবে তো রায় দেবেন। এ হলো অত্যন্ত ভালো ভাবে বোঝার মতন বিষয়। তোমরা যদিও ভোগ দাও কিন্তু আমি খাই না। আমি তো দাতা। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

রাত্রি ক্লাস : ১৫-০৬-৬৮

যা পাস্টকে হয়ে গেছে সেসব রিভাইজ করলে যাদের হৃদয় দুর্বল তাদের হৃদয়ের দুর্বলতাও রিভাইজ হয়ে যায়। তাই বাচ্চাদেরকে ড্রামার গতিপথের উপরে দাঁড় করানো হয়েছে। মুখ্য লাভ হলো স্মরণেই। স্মরণের দ্বারাই আয়ুও দীর্ঘ হবে। ড্রামাকে বাচ্চারা যে কবে বুঝতে পেরে যায় তার খেয়াল থাকে না। এইসময় ড্রামায় জ্ঞান শেখা আর শেখানোর পার্ট চলছে। পরে এই পার্টও বন্ধ হয়ে যাবে। না বাবার, না আমাদের পার্ট থাকবে। না ওনার দেওয়ার পার্ট, না আমাদের নেওয়ার পার্ট থাকবে। তাহলে পরস্পর একই হয়ে যাবো, তাই না! আমাদের পার্ট হবে নতুন দুনিয়ায়। আর বাবার পার্ট শান্তিধামে থাকবে। পার্টের রীল তো ভরা রয়েছে, তাই না! আমাদের প্রালব্ধের(কর্মফল ভোগের) পার্ট, বাবার শান্তিধামের পার্ট। লেন-দেনের পার্ট এখন সম্পূর্ণ হয়েছে, ড্রামাই সম্পূর্ণ হয়েছে। পুনরায় আমরা রাজ্য করতে আসবো, সেই পার্টও চেঞ্জ হয়ে যাবে। জ্ঞান সমাপ্ত হয়ে যাবে, আমরা তেমন হয়ে যাবো। পার্টই যখন সম্পূর্ণ তখন আর বাকি ফারাক তো কিছু থাকবে না। বাচ্চা আর বাবার পার্টও থাকবে না। এও জ্ঞানকে সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করে। ওনার কাছেও কিছুই থাকে না। না দাতার কাছে থাকে, না গ্রহীতার কাছে কম কিছু রয়েছে ! তাহলে দু'জনেই পরস্পরের সমান হয়ে গেল। এ'বিষয়ে বিচারসাগর মন্থন করার মতন বুদ্ধি চাই। মুখ্য পুরুষার্থ হলো স্মরণের যাত্রার। বাবা বসে বোঝান। শোনানোর সময় তো স্থূল রূপ হয়ে যায়, কিন্তু বুদ্ধিতে সূক্ষ্মভাবে থাকে, তাই না! অন্তরে তো জানাই থাকে যে, শিববাবার রূপ কেমন? বোঝানোর সময় স্থূলরূপ হয়ে যায়। ভক্তিমার্গে সুবিশাল লিঙ্গ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু আত্মা তো অতি ক্ষুদ্র, তাই না! এ হলো প্রকৃতি। কোথায় এর অন্ত পাবে? পরে আবার অনন্ত বলে দেয়। বাবা বুঝিয়েছেন যে, সমগ্র পার্ট আত্মার মধ্যেই ভরা রয়েছে। এ হলো প্রাকৃতিক। এর অন্ত পাওয়া যেতে পারে না। সৃষ্টি-চক্রের অন্ত তো পাওয়া যায়। রচনার আদি-মধ্য-অন্তকে তোমরাই জানো। বাবা নলেজফুল। তারপর আমরাও ফুল হয়ে যাব। পাওয়ার জন্য কিছুই থাকবে না। বাবা এনার মধ্যে প্রবেশ করে পড়ান। তিনি হলেন বিন্দু। আত্মার বা পরমাত্মার সাক্ষাৎকার হলে খুশী কি হয়, না তা হয় না। পরিশ্রম করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে। বাবা বলেন - যদি আমার জ্ঞান (প্রদান করা) বন্ধ হয়ে যায় তবে তোমাদের জ্ঞানও বন্ধ হয়ে যাবে। জ্ঞান গ্রহণ করে উচ্চ (মর্যাদাসম্পন্ন) হয়ে যায়। সর্ব কিছুই নিয়ে নেয়, তবুও বাবা তো বাবা-ই হয়, তাই না! তোমরা আত্মারা আত্মাই থাকবে, বাবা হয়ে তো থাকবে না। এ হলো জ্ঞান। বাবা বাবা-ই হয়, বাচ্চা বাচ্চাই হয়। এসবই হলো বিচারসাগর মন্থন করে গভীরে যাওয়ার মতন বিষয়। এও জানে যে, যেতে তো সকলকেই হবে। সকলেই চলে যাবে। আত্মা রূপেই গিয়ে থাকবে। সমগ্র দুনিয়াই সমাপ্ত হয়ে যাবে। এতে ভয়হীন হতে হবে। নির্ভয় হয়ে থাকার পুরুষার্থ করতে হবে। শরীরাদির কোনো অভিমান যেন না আসে। সেই অবস্থাতে চলে যেতে হবে। বাবা নিজের সমান তৈরী করেন। বাচ্চারা, তোমরাও নিজের সমান তৈরী করতে থাকো। একমাত্র বাবারই স্মরণ যেন থাকে, এমন পুরুষার্থ করতে থাকো। এখনও সময় পড়ে রয়েছে। এই রিহার্সাল তীব্র করতে হবে। অভ্যাস না থাকলে তখন দাঁড়িয়ে পড়বে। পা কাঁপতে থাকবে আর অকস্মাৎ হার্টফেল করে যাবে। তমোপ্রধান শরীরে হার্টফেল হতে সময় লাগে নাকি ! না তা লাগে না। যত অশরীরী হতে থাকবে, বাবাকে স্মরণ করতে থাকবে ততই নিকটে আসতে থাকবে। যোগীরাই ভয়শূণ্য হবে। যোগের দ্বারা শক্তি প্রাপ্ত হয় আর জ্ঞানের দ্বারা ধন প্রাপ্ত হয়। বাচ্চাদের চাই শক্তি। তাই শক্তি প্রাপ্ত করার জন্য বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। বাবা হলেন অবিনাশী সার্জেন, তিনি কখনই পেশেন্ট হতে পারেন না। এখন বাবা বলেন যে, তোমরা নিজেদের অবিনাশী ওষুধ গ্রহণ করতে থাকো। আমি এমন সঞ্জীবনী বুটি দিই যাতে কখনও কেউ আর রোগগ্রস্ত হয়ে না পড়ে। শুধুমাত্র পতিত-পাবন বাবাকে স্মরণ করো তাহলেই পবিত্র হয়ে যাবে। দেবতারা সর্বদাই নিরোগী পবিত্র, তাই না! বাচ্চাদের এই নিশ্চয়তা তো হয়ে গেছে যে, আমরা প্রতি কল্পে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। স্মরণাতীতকাল (অনাদিকাল) ধরে বাবা এসেছেন, যেমনভাবে এখন এসেছেন। বাবা যা শেখান, বোঝান - সেটাই রাজযোগ। এই গীতাদি যা রয়েছে সবই ভক্তিমার্গের। এই জ্ঞানমার্গ বাবা-ই বলে দেন। বাবা-ই এসে নীচে থেকে উপরে উঠিয়ে নিয়ে যান। যারা পাকাপাকিভাবে নিশ্চয়বুদ্ধিসম্পন্ন তারাই মালার দানা হয়। বাচ্চারা বোঝে যে - ভক্তি করতে-করতে আমরা অধঃপতনে গেছি। এখন বাবা এসে সত্যিকারের উপার্জন করান। লৌকিক পিতা এত উপার্জন করাতে পারে না যতটা পারলৌকিক বাবা করান। আচ্ছা! বাচ্চাদেরকে শুভ রাত্রি এবং নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) মায়া পালোয়ান হয়ে সম্মুখে আসবে, এতে ভয় পাবে না। মায়াজীত হতে হবে। প্রতি পদক্ষেপে শ্রীমতানুসারে চলে নিজের উপর নিজেকেই কৃপা করতে হবে।

২) বাবাকে নিজের সত্যিকারের পোতামেল (দিনলিপি) বলতে হবে। ট্রাস্টী হয়ে থাকতে হবে। চলতে-ফিরতে স্মরণের অভ্যাস করতে হবে।

বরদান:-
আত্মিক গোলাপ হয়ে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত আত্মিক সুগন্ধী ছড়িয়ে দেওয়া আত্মিক সেবাধারী ভব

আত্মিক গোলাপ নিজের আত্মিক বৃত্তি দ্বারা আত্মিকতার সুগন্ধী দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়। তাদের দৃষ্টিতে সুপ্রীম সোল সমাহিত হয়ে থাকে। তারা সদা আত্মাকে দেখে, আত্মার সাথে কথা বলে। আমি হলাম আত্মা, সদা সুপ্রীম সোলের ছত্রছায়ার নিচে থাকি, আমি আত্মার করাবনহার হলেন সুপ্রীম সোল, এইরকম প্রত্যেক সেকেন্ডে হুজুরকে হাজির অনুভব করে সদা আত্মিক সুগন্ধিতে অবিনাশী আর একরস থাকে, এটাই হল আত্মিক সেবাধারীর নম্বরওয়ান বিশেষত্ব।

স্লোগান:-
নির্বিঘ্ন হয়ে সেবাতে সামনের দিকে নম্বর নেওয়া অর্থাৎ নম্বর ওয়ান ভাগ্যশালী হওয়া।

অব্যক্ত ঈশারা :- এই অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো

ব্রাহ্মণ জীবনে দেহের বন্ধন, সম্বন্ধের বন্ধন, সাধনার বন্ধন - সব শেষ হয়ে গেছে তাই না! কোনও বন্ধন নেই। বন্ধন নিজের বশীভূত করে আর সম্বন্ধ স্নেহের সহযোগ দেয়। দেহের সম্বন্ধীদের সাথে দেহ সম্পর্কিত সম্বন্ধ নয়, আত্মিক সম্বন্ধ হবে। এইরকম ব্রাহ্মণ অর্থাৎ জীবন্মুক্ত।