14.05.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
বাবা যেমন প্রেমের সাগর, তাঁর মতো দুনিয়ার আর কেউ ভালোবাসতে পারে না, বাচ্চারা
তোমরাও বাবার সমতুল্য হও, কাউকে অখুশী করো না"
প্রশ্নঃ -
কি রকম বিচার
চলতে থাকলে খুশির মাত্রা ঊর্ধ্বগামী থাকবে?
উত্তরঃ
আমরা এখন
জ্ঞান রত্নের দ্বারা নিজেদের ঝুলি পরিপূর্ণ করছি এবং তারপর সেই সমস্ত খনিগুলি
পরিপূর্ণ হবে। সত্যযুগে আমরা স্বর্ণমহল বানাবো । ২- আমাদের এই ব্রাহ্মণ কুল উত্তম
কুল, আমরা প্রকৃতপক্ষেই সত্য নারায়ণের কথা, অমরকথা শুনি এবং শোনাই....এমনই সব বিচার
চলতে থাকলে খুশির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে ।
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা
বাবার স্মরণে বসেছে, এখানে শ্রীমৎ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ মত পাওয়া যায়।
স্মরণের যাত্রা অতি মধুর। বাচ্চারা নম্বরানুসারে পুরুষার্থ অনুযায়ী জানে যত বাবাকে
স্মরণ করব ততই বাবাকে মিষ্টি লাগবে । স্যাকারিন, তাই না ! এক বাবাই স্নেহ করেন
বাদবাকিরা তো সবাই কষ্ট দেয় । দুনিয়াতে সবাই একে অপরকে প্রত্যাখ্যান করে। বাবা
তোমাদের কত স্নেহ করেন, তাঁকে শুধু তোমরা বাচ্চারাই জেনেছো । বাবা বলেন - আমি যেই
হই, যেমনই হই, আমি মহান । আমাকে বল - তোমাদের বাবা কত বড়? তোমরা বলো আমাদের বাবা
বিন্দু আর কেউ জানেনা। বাচ্চারাও মুহূর্তে ভুলে যায়। বলে থাকে ভক্তি মার্গে তো
বড়-বড় চিত্রকে পূজা করতাম, এখন বিন্দুকে কিভাবে স্মরণ করবো? বিন্দু, বিন্দুকেই তো
স্মরণ করবে তাইনা! আত্মা জানে আমি বিন্দু, আমাদের বাবাও বিন্দু। আত্মাই প্রেসিডেন্ট
হয়, আত্মাই চাকর হয়। আত্মাই পার্ট প্লে করে থাকে। বাবা হলেন সবচেয়ে মিষ্টি। সবাই
বাবাকে স্মরণ করে বলে হে পতিত-পাবন, দুঃখ হরণকারী, সুখ প্রদানকারী এসো। বাচ্চারা
তোমাদের এখন দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে আমরা যাকে বিন্দু বলি, তা অতি সূক্ষ্ম কিন্তু
মহিমা উচ্চতর। যদিও মহিমা করে বলে থাকে জ্ঞানের সাগর, শান্তির সাগর, কিন্তু জানা
নেই যে উনি এসে কিভাবে সুখ দিয়ে থাকেন। মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা প্রত্যেকে বুঝতে পারে
- কে কতটা শ্রীমৎ অনুসারে চলে । শ্রীমৎ পাওয়া যায় সার্ভিস করার জন্য। অনেক মানুষ আছে
যারা অসুস্থ রুগি, আবার অনেকেই হেল্দী । ভারতবাসীরা জানে সত্যযুগে আয়ু অনেক দীর্ঘ
প্রায় ১২৫-১৫০ বছর। প্রত্যকেই নিজের আয়ু সম্পূর্ণ করে । এখানে সম্পূর্ণ ছিঃছিঃ
দুনিয়া যা অল্প সময় বাকি আছে। মানুষ বড়-বড় ধর্মশালা ইত্যাদি এখনও নির্মাণ করে চলেছে।
জানে না যে এটা কত সময়ের জন্য থাকবে। লক্ষ টাকা খরচ করে মন্দির ইত্যাদি তৈরি করে ।
তার আয়ু কত? তোমরা জানো এটা তো ভাঙবেই ভাঙবে। বাবা তোমাদের বাড়ি তৈরি করার জন্য
কখনোই বারণ করেন না। তোমরা জানো বাড়ির একটা রুমে হসপিটাল বা ইউনিভার্সিটি বানাবো ।
বিনা খরচে ২১ জন্মের জন্য হেল্থ, ওয়েল্থ, সুখ প্রাপ্ত করতেই হবে, এই ঈশ্বরীয় নলেজ
দ্বারা। তোমাদের বোঝান হয়েছে - তোমরা অধিক সুখ প্রাপ্ত করে থাকো, কিন্তু যখন
তমোপ্রধান হয়ে যাও তখন দুঃখ পেয়ে থাকো। যেমন-যেমন তমোপ্রধান হবে ততই দুনিয়াতে
দুঃখ-অশান্তি বৃদ্ধি পাবে। মানুষ অধিক পরিমাণে দুখী হবে। তারপরই হবে জয়-জয়কার ।
বাচ্চারা তোমরা যে বিনাশ দিব্য দৃষ্টি দ্বারা দেখেছো পুনরায় সেটা প্র্যাকটিক্যালি
দেখতে পাবে। স্থাপনার সাক্ষাৎকারও অনেকেই করেছে। ছোট বাচ্চারা বেশি সাক্ষাৎকার করতো,
জ্ঞান কিন্তু কিছুই ছিল না। পুরানো দুনিয়ার বিনাশ অবশ্যই হবে। তোমরা বাচ্চারা জানো
- বাবাই এসে স্বর্গের উত্তরাধিকার দেন। কিন্তু বাচ্চাদের পুরুষার্থ করতে হবে উচ্চ
পদ প্রাপ্ত করার জন্য। বাবা বসে সব তোমাদের বুঝিয়ে থাকেন। ওরা তো জানেই না অল্প সময়
বাকী আছে। বাবা বলেন - আমি দাতা, আমি তোমাদের দিতে এসেছি। মানুষ বলে থাকে -
পতিত-পাবন এসো, এসে আমাদের পবিত্র করে তোলো।
বাবা বলেন ‐ প্রথমে তোমরা কত বিচক্ষণ ছিলে, সতোপ্রধান ছিলে। এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছো।
তোমাদের বুদ্ধিতেও এখন এসেছে। আগে তো জানতেই না যে আমরাই বিশ্বে রাজত্ব করেছি। তোমরা
বিশ্বের মালিক ছিলে পুনরায় হবে। হিস্ট্রি-জিয়োগ্রাফি রিপিট হবেই। বাবা বুঝিয়েছেন -
৫০ হাজার বছর আগে আমি এসেছিলাম, তোমাদের স্বর্গের মালিক করেছিলাম। তারপর তোমরা ৮৪
জন্মেরসিঁড়ি ধরে নীচে নেমে এসেছো। এই বর্ণনা কোনও শাস্ত্রে নেই। শিববাবা কি কোনও
শাস্ত্র ইত্যাদি পড়েছেন? তাঁকে জ্ঞানের অথরিটি বলা হয়। লৌকিক জগতের মানুষও গেয়ে বলে
‐ পতিত-পাবন এসো, গঙ্গা স্নানেও যায়। বাস্তবে ভক্তি হলো গৃহস্থদের জন্য। বাবা বোঝান
‐ ওদেরও জানা নেই যে সদ্গতি দাতা কে? বাবা বলেন - তোমরা আমাকে আহ্বান করে বলো, হে
পতিত-পাবন এসো। আমি এসে তোমাদের পবিত্র করে তুলি। আমি তোমাদের ঈশ্বরীয় জ্ঞান প্রদান
করতে আসি, এমন নয় যে আমার প্রতি কৃপা করো । আমি তো টিচার, তোমরা কৃপা প্রার্থনা কেন
করো? আশীর্বাদ তো অনেক জন্ম ধরেই নিয়ে এসেছো । এখন মা, বাবার সম্পত্তির মালিক হও
আশীর্বাদ কি করবে ! বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে-সাথে বাবার সম্পত্তির মালিক হয়।
লৌকিক পিতাকে বলে থাকে কৃপা করো। এখানে কৃপা করার কোনও প্রশ্নই নেই। শুধুমাত্র
বাবাকে স্মরণ করতে হবে। কারো জানা নেই যে বাবা বিন্দু । বাবা এখন তোমাদের বলেছেন,
সবাই বলে পরমপিতা পরমাত্মা, গড ফাদার, সুপ্রিম সোল। সুতরাং পরম আত্মা সিদ্ধ (প্রমাণ)
হলো না! তিনি হলেন সুপ্রিম। বাদবাকি সবাই আত্মা। সুপ্রিম বাবা এসে তোমাদের তাঁর
সমতুল্য করে তোলেন আর কিছু নয়। কারো বুদ্ধিতে হবে অসীম জগতের পিতা যিনি স্বর্গের
রচয়িতা, তিনিই এসে স্বর্গের মালিক করে তোলেন। তোমরা এখন জানো, কৃষ্ণের হাতে কেন
স্বর্গের গোলক দেখানো হয়েছে। গর্ভ থেকে বাচ্চা বাইরে এলে তখন থেকেই তার আয়ু শুরু হয়।
শ্রী কৃষ্ণ সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম গ্রহণ করে। গর্ভ থেকে যেদিন বাইরে এসেছে, সেদিন থেকেই
৮৪ জন্ম গণনা হবে। লক্ষ্মী-নারায়ণের বড় হতে-হতে তো ৩০-৩৫ বছর সময় লাগে না ! সুতরাং
তাদের ওই ৩০-৩৫ বছর ৫ হাজার থেকে বাদ দিতে হবে। তোমরা শিববাবার জন্য গণনা করতে পারবে
না। শিববাবা যে মুহূর্তে এসেছিলেন তার সময় দেওয়া হয়নি। প্রথম থেকেই দর্শন হয়েছিল।
মুসলমানরাও বাগান ইত্যাদি দেখতে পেত। তীব্র নিষ্ঠা কেউ করেনি। ঘরে বসেই নিজের ইচ্ছা
মত ধ্যানে চলে যেত। অন্যান্যরা কত অন্ধ ভক্তি করতো। বাচ্চারা জানে বাবা কত দূরদেশ
থেকে এসেছেন, ব্রহ্মা শরীরে প্রবেশ করে আমাদের ঈশ্বরীয় জ্ঞান প্রদান করছেন। তোমরা
যখন বাইরে যাও তোমাদের নেশা (ঈশ্বরীয়) হ্রাস পায়। স্মরণে থাকলে খুশির পারদ
ঊর্ধ্বগামী হবে আর কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত হবে, কিন্তু এর জন্য সময় চাই। এখন দেখ,
শ্রী কৃষ্ণের আত্মার অন্তিম জন্মে পূর্ণ জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে তারপর যখন গর্ভ থেকে
বাইরে বেরিয়ে আসবে, সামান্য জ্ঞানও তখন থাকবে না। বাবা বোঝান - কৃষ্ণ কোনও মুরলী (বাঁশি)
বাজায়নি। সে তো জ্ঞান সম্পর্কে কিছুই জানে না। লক্ষ্মী-নারায়ণও জানে না সুতরাং ঋষি,
মুনি, সন্ন্যাসীরা কিভাবে জানবে। বিশ্বের মালিক লক্ষ্মী-নারায়ণ-ই জানতে পারেনি তবে
ঐ সন্ন্যাসীরা কিভাবে জানবে। বলে থাকে সাগর থেকে কৃষ্ণ অশ্বত্থ পাতার উপরে চড়ে এসেছে,
এই করেছে....। এ'সবই কাহিনী, যা বসে লিখেছে। আরও বলে নদীতে পা রাখা মাত্র নদী নিচে
চলে গেলো । বিচার করো - মানুষ কত গল্প বানিয়ে বলতে পারে। বাবা বলেন - কোনও
উল্টো-পাল্টা কথা বিশ্বাস করবে না। শাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে মানুষ অনেক পড়ে থাকে। বাবা
বলেন - পড়েছো যদি সব ভুলে যাও। এই দেহকেও ভুলে যাও। আত্মাই এক শরীর ত্যাগ করে অন্য
শরীর ধারণ করে পার্ট প্লে করে থাকে। ভিন্ন-ভিন্ন নাম, রূপ, দেশের পোশাক পরে পার্ট
প্লে করে। বাবা বলেন - এই বস্ত্র (শরীর) ছিঃ ছিঃ হয়ে গেছে। আত্মা আর শরীর দুই-ই
পতিত হয়ে গেছে। আত্মাকেই শ্যাম এবং সুন্দর বলা হয়। আত্মা যখন পবিত্র ছিল সুন্দর ছিল
তারপর কাম চিতায় বসে কুৎসিত হয়ে গেছে। এখন বাবা জ্ঞানের চিতায় বসাচ্ছেন। পতিত-পাবন
বাবা বলেন ‐ আমাকে স্মরণ করলে খাদ বেরিয়ে যাবে। আত্মার মধ্যেই খাদ পড়ে । কলিযুগের
অন্তিমে এসে তোমরা গরিব হয়ে গেছো। সত্যযুগে তোমরা আবার সোনার মহল তৈরি করবে। কত
চমকপ্রদ, এখানে হীরার যে কত মূল্য তা অবাক করার মতো। সেখানে তারা পাথরের মতো। তোমরা
এখন বাবার কাছ থেকে জ্ঞানের রত্ন দ্বারা নিজেদের ঝুলি পরিপূর্ণ করছ। লিখিত আছে সাগর
থেকে রত্ন ভর্তি থালা নিয়ে আসার কথা। সাগর থেকে যত পার রত্ন নিয়ে নাও । তোমাদের
সাক্ষাত্কার হয়েছিল। ওরা জিন, মায়া সম্পর্কে নাটক দেখায়। কেউ সোনার ইট পড়ে থাকতে
দেখেছিল আর ভেবেছিল সঙ্গে করে নিয়ে যাই। নিচে নেমে দেখেছিল কিছুই নেই। তোমরা তো
সত্যযুগে সোনার ইঁটের মহল তৈরি করবে। এমনই সব ভাবনা আসা উচিত তবেই খুশির মাত্রা
বৃদ্ধি পাবে। সবাইকে বাবার পরিচয় দিতে হবে। শিববাবা ৫ হাজার বছর পূর্বেও এসে আমাদের
রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। কল্পে-কল্পে তোমাদেরই শেখাবেন। যারা এসে ব্রাহ্মণ হবে তারাই
আবার দেবতা হবে। বিরাট রূপের চিত্রও বানিয়ে থাকে। তার মধ্যে ব্রাহ্মণদের চোটি গুপ্ত
রেখেছে। ব্রাহ্মণ কুল অতি উত্তম গাওয়াও হয়ে থাকে। লৌকিকের ওরা শরীরধারী, তোমরা হলে
আত্মিক। তোমরাই প্রকৃত সত্য কথা শুনিয়ে থাকো । এটাই সত্য নারায়ণের কথা, অমরকথা। বাবা
অমরকথা শুনিয়ে আমাদের অমর করছেন। এই মৃত্যুলোক শেষ হয়ে যাবে। বাবা বলেন - আমি
তোমাদের নিতে এসেছি। কত অসংখ্য আত্মা। আত্মা ঘরে ফিরে যাওয়ার সময় কোনও আওয়াজ হয়না।
মৌমাছির ঝাঁক যখন উড়ে যায় তখন কত আওয়াজ হয়। রানীর পিছনে সমস্ত মৌমাছি উড়ে যায়। ওদের
নিজেদের মধ্যে কত একতা। গুঞ্জন যুক্ত মথের দৃষ্টান্তও আছে। তোমরা মানুষকে দেব-দেবীতে
পরিণত করছো। পতিতদের তোমরা জ্ঞানের ভূ-ভূ দ্বারা পবিত্র করে বিশ্বের মালিক করে তোল।
তোমাদের হলো প্রবৃত্তি মার্গ, এখানে অধিকাংশ মাতারা আছেন সেইজন্যই বন্দে মাতরম্ বলা
হয়। একজন ব্রহ্মাকুমারী তিনি, যিনি অন্যদের পিতার কাছ থেকে ২১ জন্মের জন্য
উত্তরাধিকারী করে তোলেন। বাবা সবসময়ই সুখের উত্তরাধিকার দিয়ে থাকেন। যে সার্ভিস করবে,
লিখবে, পড়বে সেই নবাব....রাজা হওয়া ভালো না কি চাকর হওয়া ভালো। শেষে গিয়ে তোমরা
বুঝতে পারবে আমি কি হতে চলেছি? তখন অনুশোচনা হবে এই ভেবে যে আমি শ্রীমত অনুসারে কেন
চলিনি ! বাবা বলেন - ফলো করো।
এমন নয় যে তোমরা এমন কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে একটা ঘর নিলে সেন্টার খোলার জন্য, আর
সেইসাথে নিজে মাংস ইত্যাদি খাওয়াও চালিয়ে গেলে । এই ক্ষেত্রে একজন হবে দানশীল আত্মা,
অপর জন পাপ আত্মা। সুতরাং সেই জায়গা কখনও আশ্রমে পরিণত হতে পারে না। যদি নিজের ঘরে
স্বর্গ তৈরি করতে চাও তবে নিজেকেও স্বর্গে থাকতে হবে না! শুধু আশীর্বাদের উপর
নির্ভর করবে না। বাবাকে স্মরণ কর। উনি পবিত্র করেই সঙ্গে নিয়ে যাবেন। তোমাদের কত
খুশি হওয়া উচিত, কত বড় লটারি পেয়েছো। যত বাবাকে স্মরণ করবে ততই বিকর্ম বিনাশ হবে।
বাবার মতো ভালোবাসা, দুনিয়ার কেউ দিতে পারে না। তাঁকে বলাই হয় - প্রেমের সাগর।
তোমরাও এমন হও। যদি কাউকে দুঃখ দিয়েছো হতাশ করেছো তবে হতাশা নিয়েই মরবে। বাবা কোনো
অভিশাপ দেন না, বোঝান । সুখ দিলে সুখি হবে, সবাইকে ভালবাসো । বাবাও প্রেমের সাগর।
আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর
সুপ্রভাত। রূহানী পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
কোনও উল্টো-পাল্টা কথায় বিশ্বাস করা উচিত নয়। যা কিছু উল্টো পড়েছো তাকে ভুলে অশরীরী
হওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
২ ) শুধুমাত্র আশীর্বাদের উপর নির্ভর করে চলা উচিত নয়। নিজেকে পবিত্র করে তুলতে হবে।
বাবার প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হবে, কাউকে দুঃখ দেওয়া উচিত নয়, হতাশাগ্রস্ত করে
তোলা উচিত নয়।
বরদান:-
সত্যতার একাগ্রতার আধারে অন্য সব সঙ্গ ত্যাগ করে একের সঙ্গে জুড়ে সম্পূর্ণ বিশ্বাসী
ভব
সম্পূর্ণ বিশ্বাসী
তাকেই বলা হয় যার সঙ্কল্প বা স্বপ্নেও বাবা ছাড়া আর বাবার কর্তব্য এবং মহিমা,
বাবার জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই যেন দেখা না যায় । এক বাবা, দ্বিতীয় আর কেউই নয়,
বুদ্ধির একাগ্রতা যেন এক বাবার সঙ্গে থাকে, তাহলে অনেক সঙ্গের রং লাগতে পারবে না,
তাই প্রথম প্রতিজ্ঞা হলো অন্য সঙ্গ ত্যাগ করে এক সঙ্গে জুড়ে থাকো - এই প্রতিজ্ঞা
পালন করা অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিশ্বাসী হওয়া ।
স্লোগান:-
সত্যতার স্ব - স্থিতি পরিস্থিতিতেও তোমাকে সম্পূর্ণ বানিয়ে দেবে ।
অব্যক্ত ইঙ্গিত :- সদা
অবিচল, অটল, একরস স্থিতির অনুভব করো
আমরা উচ্চ থেকে উচ্চ
বাবার সন্তান, এই স্মরণ থাকলে একরস অবস্থা থাকবে । যখন একের সঙ্গে সম্বন্ধ থাকে,
তখন অবস্থাও একরস থাকে । যদি অন্য কোথাও সম্বন্ধ হয়ে যায় তাহলে একরস অবস্থা থাকবে
না । তাই একরস অবস্থা তৈরী করার জন্য এক ছাড়া অন্যকিছু দেখেও দেখো না