15-03-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 24-03-2009 মধুবন


‘‘বাপদাদা দ্বারা প্রাপ্ত ভাণ্ডার নিজের মধ্যে সমাহিত ক'রে কার্যে লাগাও, অনুভবের অথরিটি হও"


আজ, বাপদাদা চতুর্দিকের সমুদয় ভাণ্ডার সঞ্চয়কারী সম্পন্ন বাচ্চাদের দেখছেন। সেইসঙ্গে প্রত্যেক বাচ্চা কতখানি সর্ব ভাণ্ডার জমা করেছে তার রেজাল্ট দেখছিলেন। বাপদাদা দ্বারা অবিনাশী ভাণ্ডার তো অনেক প্রাপ্ত হয়েছে। সবচাইতে আগে বড় থেকে বড় ভাণ্ডার হলো জ্ঞান ধন, যার দ্বারা মুক্তি আর জীবনমুক্তির প্রাপ্তি হয়েছে। পুরানো দেহ আর পুরানো দুনিয়া থেকে মুক্ত ও জীবনমুক্ত স্থিতি আর মুক্তিধামে যাওয়া সব বাচ্চার প্রাপ্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে এক জ্ঞান ভাণ্ডার নয় বরং যোগেরও ভাণ্ডার আছে যার দ্বারা সর্বশক্তির প্রাপ্তি হয়। সাথে সাথে ধারণা করার ভাণ্ডার যার দ্বারা সর্ব গুণের প্রাপ্তি হয়। সেইসঙ্গে সেবার ভাণ্ডার যার দ্বারা কল্যাণময় আশীর্বাদের ভাণ্ডার খুশির ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়। সাথে সবচাইতে বড় থেকে বড় ভাণ্ডার বর্তমানের সঙ্গমযুগ-সময়ের। কেননা, সমগ্র কল্পে সঙ্গমের এই সময় অমূল্য ভাণ্ডার।

এই সঙ্গমের সময়ের একেকটা সঙ্কল্প কিংবা একেকটা মুহূর্ত খুব অমূল্য। কেননা, সঙ্গম সময়েই বাপদাদা আর বাচ্চাদের মিলন হয়। অন্য কোনও যুগে পরমাত্ম বাবা আর পরমাত্ম বাচ্চাদের মিলন হয় না। সেইসঙ্গে সঙ্গম সময়ই আছে যে সময়ে বাপদাদা দ্বারা সর্ব ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়। ভাণ্ডার জমা হওয়ার সময় সঙ্গমযুগ, আর কোনও যুগে সঞ্চয়ের খাতা জমা করার ব্যাঙ্কই থাকে না। শুধু এক সঙ্গমযুগ যেখানে যত চাও ততো ভাণ্ডার জমা করতে পারো এবং এই সঙ্গম সময়ের যে মহত্ত্ব রয়েছে সেটা হলো এটাই যে, এক জন্মে অনেক জন্মের জন্য ভাণ্ডার জমা করতে পারো। সেইজন্য এই ছোট যুগের অনেক মাহাত্ম্য আছে এবং বাপদাদা দ্বারা ভাণ্ডারও সব বাচ্চার প্রাপ্ত হয়। বাবা সবাইকে দেন, কিন্তু ভাণ্ডার জমা করার ব্যাপারে প্রত্যেক বাচ্চা নিজের পুরুষার্থ অনুসারে জমা করে। প্রদাতা বাবাও এক এবং তিনি সবাইকে দেনও একরকম, একই সময়ে দেন। কিন্তু ধারণ করার ব্যাপারে প্রত্যেকের নিজের নিজের পুরুষার্থ ছিল। কেননা, ভাণ্ডার ধারণ করার জন্য তো এক নিজের পুরুষার্থ দ্বারা প্রালব্ধ তৈরি করতে পারো, দুই, সদা স্বয়ং সন্তুষ্ট থাকতে হবে আর সবাইকে সন্তুষ্ট করতে হবে। সন্তুষ্টতার বিশেষত্ব দ্বারা ভাণ্ডার জমা করতে পারো এবং তিন, সেবা দ্বারা, সেবা দ্বারা সর্ব আত্মার খুশির প্রাপ্তি হয়, তো খুশির ভাণ্ডার প্রাপ্ত করতে পারো। নিজের পুরুষার্থ এবং সবাইকে সন্তুষ্ট করার পুরুষার্থ এবং তিন সেবার পুরুষার্থ। এই তিন প্রকারে ভাণ্ডার জমা করবে পারো। ভাণ্ডার জমা করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সম্বন্ধ-সম্পর্কে এসে মুখ্যত নিমিত্ত ভাব নির্মান ভাব নিঃস্বার্থ ভাব, সব আত্মার প্রতি শুভ ভাবনা এবং শুভ কামনা রাখার আবশ্যকতা আছে। যদি সেবাতে বা সম্বন্ধ-সম্পর্কে এই সবকিছু থাকে তবে পুণ্যের খাতা আর কল্যাণময় আশীর্বাদের খাতা খুব সহজে জমা করতে পারো।

তো বাপদাদা সবার পোতামেল দেখছিলেন, তো তিনি কী দেখেছেন? চতুর্দিকের বাচ্চাদের নম্বরক্রমে দেখেছেন। বাবা এক, একই সময়ে দিয়ে থাকেন কিন্তু জমা করার ক্ষেত্রে তিন প্রকারের বাচ্চা দেখেছেন - প্রথম বাচ্চারা তো জমা হওয়া ভাণ্ডার খেয়েছে, তারা জমাও করে আর খেয়ে শেষও করে দেয়। দ্বিতীয়রা খেয়েছে, জমা করেছে এবং জমা করার বিষয়ে অ্যাটেনশন দিয়ে বাড়িয়েছেও। ভাণ্ডার বাড়ানোর সাধন কি? বাড়ানোর সাধন হলো যে ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়েছে তা' সময় সময়তে যখন পরিস্থিতি আসার সেই পরিস্থিতি অনুসারে কার্যে প্রয়োগ করা। যারা কার্যে প্রয়োগ করে তারা স্থিতি দ্বারা পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে, এটাই জমা হয়। যারা কার্যে প্রয়োগ করে না তাদের জমা হয় না। তো প্রত্যেকে নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করো যে সময়মতো নিজের জন্য বা অন্যের জন্য কার্যে প্রয়োগ করো কিনা! কার্যে যত প্রয়োগ করবেে ততো বাড়তে থাকবে। কেননা, কার্যে প্রয়োগ করাতে অনুভব হয়ে যায়। তো অনুভবের অথরিটি অ্যাড হয়ে থাকে। তো চেক করো, নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করো - এই সমুদয় ভাণ্ডার জমা হয়েছে? আর বাড়ানোর সাধন সময়মতো কার্যে প্রয়োগ করো? অনুভবের অথরিটি ক্রমাগত বাড়ে? কেননা, অথরিটিতে অনুভবের অথরিটি সর্বাধিক গাওয়া হয়ে থাকে। সুতরাং প্রত্যেককে নিজের খাতা বাড়াতে হবে। চেক করতে হবে। কেননা, এই সময় চেক ক'রে এখনও ভাণ্ডার বৃদ্ধি করতে পারো। এখনো চান্স আছে তারপর চান্সও শেষ হয়ে যাবে। চাইবে ভাণ্ডারের বৃদ্ধি করতে কিন্তু বৃদ্ধি করতে পারবে না।

বাপদাদা দেখেছেন ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়, খুশির সাথে নিজের মধ্যে অন্তর্লীন করার চেষ্টাও করে কিন্তু ভাণ্ডার যখন প্রাপ্ত হয় তা' মুরলী দ্বারাই প্রাপ্ত হয়। তো দু' প্রকারের বাচ্চা আছে - এক শ্রোতা আরেক যারা সমাহিত করে। অনেক বাচ্চা শুনে খুশি হয়, কিন্তু শোনা আর সমাহিত করা এই দু'য়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। যারা সমাহিত করে তারা প্রতিনিয়ত অনুভাবী হয়। কারণ, তারা যা কিছু সমাহিত করে তা' সময়মতো কার্যে প্রয়োগ ক'রে ভাণ্ডার নিরন্তর বাড়ায়। যারা শোনে তারা কেবল বর্ণন করে, খুব ভালো শুনিয়েছেন, খুব ভালো বিষয়ে বলেছেন বাবা, কিন্তু সমাহিত করা ব্যতীত সময়মতো কাজে প্রয়োগ করতে পারে না। অতএব, তোমরা সবাই চেক করো আমি কী সম্পূর্ণভাবে সমাহিত করেছি! এমনকি, যদি সামান্যও কমতি হয়, পরিপূর্ণ না হয় তবে অস্থিরতা হবে। কিন্তু যে সমাহিত হবে সে ফুল (পরিপূর্ণ) হবে, তবে অস্থিরতা হবে না। সেইজন্য আজ বাপদাদা সবার ভাণ্ডার চেক করেছেন। তোমাদের বলা হয়েছে তো না যে তিন প্রকারের বাচ্চা আছে - এখন নিজেকে নিজে চেক করো আমি কে! ভাণ্ডারের বৃদ্ধি করা অর্থাৎ সঠিক সময়ে কার্যে লাগানো। কার্যে যত লাগাও ভাণ্ডার ততোই বাড়তে থাকে। কেননা, যে ভাণ্ডারই আছে সেই ভাণ্ডারের মালিক ভাণ্ডারকে কার্য-প্রয়োগে আনে। ভাণ্ডার নিজেকে কার্যে প্রয়োগ করে না। তো তোমাদের সবাইকে বাবা সমুদয় ভাণ্ডার উত্তরাধিকার রূপে দিয়েছেন। তো বাবার ভাণ্ডারকে নিজের ভাণ্ডার বানানো এতে প্রত্যেককে নিজের অ্যাটেনশন দিতে হবে। কেননা, ভাণ্ডার যত পরিপূর্ণ হবে ততোই পরিপূর্ণ অবস্থায় অটল, অনড় হবে।

বাপদাদা এটাই চান যে প্রত্যেক বাচ্চা সম্পন্ন হবে কম যেন না হয়। কেননা, বাবা দ্বারা অবিনাশী খাতা জমা হওয়ার এই চান্স এটা শুধু এখনই হতে পারে। সেইজন্য বলাও হয়ে থাকে এখন নয় তো কখনো নয়। এই সঙ্গম সময়ের জন্যই গায়ন আছে। ভবিষ্যতের জন্য যা জমা করেছ তার ফল তোমরা প্রাপ্ত করবে কিন্তু সেই প্রাপ্তির সময় শুধু এখন। তো প্রত্যেককে নিজের খাতা দেখতে হবে। যার যতটা ভাণ্ডার পরিপূর্ণ হয় তার নয়ন দ্বারা আচরণ দ্বারা মুখমণ্ডল দ্বারা বোধগম্য হয়। তার আচার আচরণ আর মুখ এমন প্রতীয়মান হবে যেনক্সক প্রস্ফুটিত গোলাপ পুষ্প। বাপদাদা প্রত্যেকের আচরণ আর মুখের মাধ্যমে দেখতে থাকেন যে তোমরা কত প্রফুল্ল আর প্রসন্নচিত্ত থাকো! নয়নে আধ্যাত্মিকতা, মুখের হাস্যোজ্জ্বলতা এবং কর্ম দ্বারা প্রতিটা গুণ সকলের অনুভূত হয়। তো প্রত্যেকে নিজেকে নিজে চেক করো।

বাপদাদার প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি এই শুভ ভাবনা আছে যে প্রত্যেক বাচ্চা অনেক আত্মাকে এমন ভাণ্ডারে সম্পন্ন বানাবে। আজ বিশ্বের আত্মারা সবাই এটাই চায় যে কিছু না কিছু আধ্যাত্মিক শক্তি যেন প্রাপ্ত হয়। আর আধ্যাত্মিক শক্তিদাতা তোমরা ব্রাহ্মণ আত্মারাই। কেননা, তোমরা আত্মারাই হোলিয়েস্ট, হাইয়েস্ট এবং রিচেস্ট। সব আত্মার মধ্যে সর্বাধিক হোলিয়েস্ট তোমরাই। তোমরা সব আত্মার পূজা যেরকম বিধিপূর্বক হয় সেরকম আর কারও হয় না। এখন লাস্ট জন্মেও তোমরা সব আত্মার পূজার মতো অন্য কোনও ধর্মপিতা বা মহান আত্মারা যারা নিমিত্ত হয়েছে তাদেরও হয় না। যদিও বা স্মারক বানায়, কিন্তু বিধিপূর্বক পূজা হয় না। আর তোমাদের মতো ভাণ্ডার রিচেস্ট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড - তোমরা সব ব্রাহ্মণ আত্মার এক জন্মের ভাণ্ডার গ্যারান্টিসহ ২১ জন্ম চলবেই। কেননা, বাবা দ্বারা বাবার উত্তরাধিকার তোমাদের প্রাপ্ত হয়েছে। তো যেমন বাবা অবিনাশী তেমনই বাবার থেকে প্রাপ্ত ভাণ্ডারও অবিনাশী হয়ে যায়। সেইজন্য রিচেস্ট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড, হোলিয়েস্ট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড।

তো সবাই তোমরা নিজেদের এমন বিশেষ সেবাধারী মনে করো তো না! আজকের সময় অনুসারে বিশ্বের আত্মাদের কোন জিনিসের আবশ্যকতা রয়েছে তোমরা জানো তো না! আজ বিশ্বের স্নেহ খুশি আর স্নেহের আবশ্যকতা রয়েছে। আত্মিক স্নেহ চায়, কিন্তু এখন সময় অনুসারে তোমরা ব্রাহ্মণ আত্মারা দাতা হও। মন্সা দ্বারা শক্তি দাও বাচা দ্বারা জ্ঞান দাও আর কর্মণা দ্বারা গুণদান দাও। ব্রহ্মা বাবা অন্তে তিন শব্দ সব বাচ্চাকে উপহার স্বরূপ দিয়েছেন, স্মরণে আছে তো না! এই তিন শব্দ যদি সেবাতে লাগাও তবে অনেক আত্মাকে সন্তুষ্ট করতে পারো। সেই তিন শব্দ - নিরাকারী, নিরহংকারী এবং নির্বিকারী। তো মন্সা দ্বারা নিরাকারী, বাচা দ্বারা নিরহংকারী এবং কর্মণা দ্বারা নির্বিকারী, এই তিন শব্দ সেবাতে লাগাও। এখন বিশ্বের সবাই নিরাশ, তোমাদের শক্তি দ্বারা হৃদয়ের আনন্দ, সুখের একটু প্রাপ্তি হওয়া দরকার আর বাপদাদা সব বাচ্চাকে বাবার আশার নক্ষত্র রূপে দেখেন। শুধু আশার দীপক নয় বরং আশা পূরণকারী আশার নক্ষত্র তোমরা।

বাপদাদার কাছে বাচ্চাদের স্নেহ সদা পৌঁছে যায়, আর সবচাইতে সহজ পুরুষার্থ কোনটা? ভিন্ন ভিন্ন পুরুষার্থ আছে কিন্তু সবচেয়ে সহজ পুরুষার্থ স্নেহ। স্নেহে পরিশ্রমও ভালোবাসা রূপে বদলে যায়। তো বাবার স্নেহী হওয়া অর্থাৎ সহজভাবে পুরুষার্থ করা। স্নেহে তোমরা সবাই নিজেকে স্নেহী মনে করো, কখনো কখনো নয় সদা স্নেহী। যে নিজেকে সদা স্নেহের সাগরে সমাহিত হওয়া মনে করো, সদা আর স্নেহের সাগরে সমাহিত হওয়া, যারা ডুব দেয় তারা সমাহিত হওয়া নয়। যারা নিজেদের স্নেহের সাগরে সমাহিত হওয়া মনে করে তারা হাত উঠাও। সদা? সদা শব্দকে আন্ডারলাইন করো। হাত উঠাও সদা সদা? হাত তো ভালোই উঠিয়েছে! বাপদাদা হাত দেখে খুশি হন কেননা, তোমরা সাহস বজায় রাখো। যদি কিছু কম হয়ও তবু স্মরণে তো আসবে যে হাত উঠিয়েছে! কেননা, বাপদাদার একেক বাচ্চার প্রতি অতি স্নেহ রয়েছে। কেন? কারণ বাপদাদা জানেন যে এই একেক আত্মা অনেকবার স্নেহী হয়েছে, এখনও হয়েছে আর সব কল্প এই আত্মারাই স্নেহী হবে। নেশা আছে খুশি আছে যে আমরাই প্রতি কল্পের অধিকারী আত্মা?

বাপদাদা এমন অধিকারী আত্মাদের দেখে হৃদয়ের আশীর্বাদ দিচ্ছেন। সদা নিরলস হয়ে উড়তে থাকো। কখনও যদি কোনো পরিস্থিতি আসে তবে স্ব-স্থিতি নিচে ওপরে ক'রো না। স্ব স্থিতির সামনে পরিস্থিতি কিছু করতে পারে না। আচ্ছা। প্রথমবার যারা এসেছ তারা হাত তোলো। অনেক আসে। বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে দেখে গর্বিত হন - বাঃ আমার বাচ্চারা বাঃ! যেমন তোমরা হৃদয়ে গীত গাওনা অটোমেটিক্যালি বাঃ বাবা বাঃ! আমার বাবা বাঃ! ঠিক এভাবেই বাবাও বাচ্চাদের প্রতি এই গীত গেয়ে থাকেন বাহ্ প্রত্যেক বাচ্চা বাহ্! বাবাও কল্পের পরে তোমরা সব বাচ্চাকে খুঁজে পান এবং বিশ্বের সামনে প্রত্যেকে মহান। তো বাবাও গীত গান বাঃ বাচ্চারা বাঃ! তোমরা বাঃ বাঃ তো না! বাঃ বাঃ বাচ্চা তোমরা, তাই না! বাঃ বাঃ বাচ্চারা হাত তোলো।

তো সদা এটাই স্মরণে রাখো আমরা বাঃ বাহ বাচ্চা। হতে পারে তোমরা পুরুষার্থী কিন্তু বাঃ! বাঃ! বাবার বাঃ বাহ্ বাচ্চা! বাবার সাথেই যাবে। থেকে তো যাবে না, তাই না! বাবা তো বলেন প্রত্যেক বাচ্চাকে স্নেহের কোলে ক'রে সাথে নিয়ে যাবেন। তো তৈরি আছ তোমরা? প্রস্তুত? রাস্তায় থেমে যাবে না তো? সাথে যাবে কেননা, প্রতিজ্ঞা রয়েছে তোমাদের, প্রতিজ্ঞা তো পালন করতে হবে।

তো বাপদাদা এটাই চান যে নিজেদের ফরিস্তা রূপ ইমার্জ করো। চলতে ফিরতে ফরিস্তা ড্রেসধারী হওয়ার অনুভব করাও। বাপদাদা ড্রিল সম্বন্ধে বলেছেন তো না! বস্ত্র বদল করার অভ্যাস তো আছেনা! তো যেভাবে শরীরের বস্ত্র বদল করো সেভাবেই আত্মার স্বরূপ ফরিস্তা হওয়ার অনুভব বারবার করো। ফরিস্তা ড্রেস তো পছন্দ, তাই না! ব্রহ্মা বাবা যেমন ফরিস্তা রূপে অব্যক্ত বতনে বসে আছেন, ঠিক তেমনই তোমরাও সবাই চলতে ফিরতে বাবা সমান ফরিস্তা রূপ বারবার অনুভব করো। কেননা, যখন ফরিস্তা রূপ হবে তখনই দেবতা হবে। যেভাবে বাবার তিন রূপ স্মরণে থাকে। বাবা, শিক্ষক আর সদ্গুরু এভাবে নিজেদেরও তিন রূপ স্মরণ করো - ব্রাহ্মণ তথা ফরিস্তা এবং ফরিস্তা তথা দেবতা। এই তিন রূপ পাক্কা তো না! কখনো ব্রাহ্মণ ড্রেস পরো, কখনো ফরিস্তার পরো, কখনো দেবতার পরো। এই তিন রূপে আপনা থেকেই ত্রিকালদর্শীর সিটে বসে সাক্ষী হয়ে কার্য করতে থাকবে। তো সবার থেকে বাপদাদা এটাই চান যে সদা বাবার সাথে থাকো, একলা হয়ো না। সাথে থাকবে তবে সাথে যাবে। যদি এখন কখনো কখনোর থাকবে তবে সাথে কীভাবে যাবে! স্নেহী স্নেহীকে কখনো ভুলতে পারে না। সারাদিনে এই অভ্যাস করতে থাকো। এই মুহূর্তে ব্রাহ্মণ এই মুহূর্তে ফরিস্তা এই মুহূর্তে দেবতা। আচ্ছা।

চতুর্দিকের সকল বাচ্চা যারা সদা সম্পন্ন, সদা নিজের আচরণ আর মুখমণ্ডল দ্বারা সেবাধারী কেননা, তোমাদের সকলের প্রতিজ্ঞা রয়েছে যে তোমরা বিশ্ব পরিবর্তক হয়ে বিশ্বের পরিবর্তন করবে। তো সেবাধারী চলতে ফিরতেও সেবায় তৎপর থাকে। এমন বিশ্ব সেবাধারী বিশ্ব পরিবর্তক প্রত্যেককে বাবার ভাণ্ডারে পরিপূর্ণকারী বাপদাদার চতুর্দিকের বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন এবং হৃদয়ের কল্যাণময় আশীর্বাদ আর নমস্কার। আচ্ছা।

বরদান:-
মাস্টার ত্রিকালদর্শী হয়ে সব কর্ম যুক্তিযুক্ত ক'রে কর্মবন্ধন মুক্ত ভব

যে সঙ্কল্প, যে বোল বা যে কর্মই করো, তা' মাস্টার ত্রিকালদর্শী হয়ে করো তবে কোনও কর্ম ব্যর্থ বা অনর্থক হতে পারবে না। ত্রিকালদর্শী অর্থাৎ সাক্ষীভাবের স্থিতিতে স্থিত হয়ে, কর্মের গুহ্য গতিকে জেনে এই কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কর্ম করাও তবে কখনও কর্মের বন্ধনে বেঁধে থাকবে না। সব কর্ম করাকালীন কর্মবন্ধন মুক্ত, কর্মাতীত স্থিতির অনুভব করতে থাকবে।

স্লোগান:-
যার সীমাবদ্ধ দুনিয়ার ইচ্ছার অবিদ্যা হয় সেই মহান সম্পত্তিবান।

অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভীক আর নিশ্চিন্ত থাকো" পাহারাদার চৌকিদার যদি শস্ত্রধারী হয় এবং তার যদি নিশ্চয় থাকে যে আমার শস্ত্র শত্রু তাড়াতে পারে, শত্রুকে পরাজিত করতে পারে তবে সে কত নির্ভীক হয়ে চলতে পারে! তো তোমাদের কাছেও সর্বশক্তি রূপী শস্ত্র সদা সাথে আছে, শুধু আহ্বান করো অর্থাৎ মালিক হয়ে অর্ডার করো তবে তো সফলতা সদা হয়েই আছে।