16-03-2025 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
05-03-2004 মধুবন
"দুর্বল সংস্কার গুলির সংস্করণ করে প্রকৃত হোলি
উদযাপন করো তবেই সংসার পরিবর্তন হবে"
আজ বাপদাদা চতুর্দিকে নিজের অত্যন্ত প্রিয় বাচ্চাদের দেখছেন। এই পরমাত্ম স্নেহাদর
কোটির মধ্যে তোমরা কিছু শ্রেষ্ঠ আত্মাদেরই প্রাপ্ত হয়। প্রত্যেক বাচ্চার তিনটে রাজ
সিংহাসন দেখছেন। এই তিন সিংহাসন সমগ্র কল্পে এই সঙ্গমেই তোমরা সব বাচ্চারা প্রাপ্ত
করো। তিন সিংহাসন দেখা যাচ্ছে? এক তো এই ভ্রুকুটি রূপী সিংহাসন, যেখানে আত্মা ঝলমল
করছে। দ্বিতীয় সিংহাসন - পরমাত্ম হৃদয় সিংহাসন। তোমরা হৃদয় সিংহাসনাসীন তো না!
আর তৃতীয় হলো - ভবিষ্যৎ বিশ্বের সিংহাসন। সর্বাধিক ভাগ্যবান হয়েছ হৃদয়
সিংহাসনাসীন হওয়ায়। এই পরমাত্মার হৃদয় সিংহাসন তোমরা সৌভাগ্যবান বাচ্চাদেরই
প্রাপ্ত হয়। ভবিষ্যত বিশ্বের রাজ্য সিংহাসন তো প্রাপ্ত হতেই হবে। কিন্তু অধিকারী
কী হয়? যে এই সময় স্বরাজ্য অধিকারী হয়। স্বরাজ্য যদি না থাকে তবে বিশ্বের রাজ্যও
থাকবে না। কেননা, এই সময়ের স্ব রাজ্য অধিকার দ্বারাই বিশ্ব রাজ্য প্রাপ্ত হয়।
বিশ্বের রাজত্বের সব সংস্কার এখানে তৈরি হয়। তো প্রত্যেকে তোমরা নিজেকে সদা
স্বরাজ্য অধিকারী অনুভব করো? যে ভবিষ্যত রাজ্যের গায়ন আছে তা' তোমরা জানো তো না!
এক ধর্ম, এক রাজ্য, ল' অ্যান্ড অর্ডার, সুখ শান্তি, সম্পত্তিতে পরিপূর্ণ রাজ্য,
স্মরণে আসে তোমাদের - কতবার স্ব রাজত্ব আর বিশ্ব রাজত্ব করেছ? স্মরণে আসে, কতবার?
ক্লিয়ারলি স্মরণে আসে? নাকি স্মরণ করলে তবে স্মরণে আসে? কাল রাজত্ব করেছিলাম আর
কাল রাজত্ব করতে হবে - এরকম স্পষ্ট স্মৃতি আছে তোমাদের? এই স্পষ্ট স্মৃতি সেই
আত্মাদের থাকবে যারা এখন সদা স্বরাজ্য অধিকারী হবে। তাহলে, তোমরা স্বরাজ্য অধিকারী
তো? সদা নাকি কখনো কখনো? কী বলবে? সদা স্বরাজ্য অধিকারী তোমরা? ডবল ফরেনার্সের
টার্ন, তাই না! তোমরা সদা স্বরাজ্য অধিকারী? পান্ডব তোমরা সদা? সদা শব্দ বাবা
জিজ্ঞাসা করছেন, কেন? যখন এই এক জন্মে, ছোট একটা তো জন্ম, তো এই ছোট জন্মে যদি সদা
স্বরাজ্য অধিকারই না থাকে তবে ২১ জন্মের রাজ্য অধিকারী হতে হবে নাকি কখনো কখনো হবে?
মঞ্জুর? সদা হতে হবে? সদা? কাঁধ তো নাড়াও। আচ্ছা, ২১ জন্মই রাজ্য অধিকারী হতে হবে?
রাজ্য অধিকারী অর্থাৎ রয়্যাল ফ্যামিলিতেও রাজ্য অধিকারী। সিংহাসনে তো অল্পসংখ্যকই
অধিষ্ঠান করবে তো না! কিন্তু ওখানে সিংহাসন অধিকারীদের যত স্বমান আছে, ততটাই
রয়্যাল ফ্যামিলিরও আছে। তাদেরও রাজ্য অধিকারী বলা হবে। কিন্তু হিসেব এখনের
কানেকশনের সাথে রয়েছে। এখনও যদি কখনো কখনো, তো ওখানেও কখনো কখনো। এখন যদি সদা, তবে
ওখানেও সদা। সুতরাং বাপদাদার থেকে সম্পূর্ণ অধিকার নেওয়া অর্থাৎ বর্তমান এবং
ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ ২১ জন্ম রাজ্য অধিকারী হওয়া। তো ডবল ফরেনার্স তোমরা সম্পূর্ণ
অধিকার নিয়েছো, নাকি অর্ধেক, নাকি অল্প? কী? সম্পূর্ণ অধিকার নিতে হবে? পুরোপুরি।
এক জন্মও কম নয়। সুতরাং কী করতে হবে?
বাপদাদা তো প্রত্যেক বাচ্চাকে সম্পূর্ণ অধিকারী বানান। হয়েছো তো না? পাক্কা? হবে
নাকি হবে না কোশ্চেন রয়েছে? কখনো কখনো কোশ্চেন ওঠে - জানি না হবো কি হবো না? হতেই
হবে। পাক্কা? যে মনে করছে- হতেই হবে, সে হাত উঠাও। হতেই হবে? আচ্ছা, এরা সব কোন
মালার দানা হবে? ১০৮- এর? এখানে তো কত এসেছে! সবাইকে ১০৮- এ আসতে হবে? এখানে তো
১৮০০ আছে। তাহলে, ১০৮- এর মালা বাড়িয়ে দেবো? আচ্ছা। ১৬ হাজার তো ভালো লাগে না। ১৬
হাজারে যাবে কি? যাবে না তো না! এই নিশ্চয় এবং এটা নিশ্চিত, এমন অনুভব যেন হয়।
আমরা হবো না তো কে হবে! আছে এই নেশা? তোমরা না হবে তো আর কেউ হবে না, তাই না।
তোমরাই এমন হবে তো না! বলো, তোমরাই হবে তো না! পান্ডব তোমরাই হবে। আচ্ছা। নিজের
দর্পণে সাক্ষাৎকার করেছ? বাপদাদা তো বাচ্চাদের নিশ্চয় দেখে নিজেকে উৎসর্গ করেন।
বাহ্ বাহ্! প্রত্যেক বাচ্চা বাহ্! বাহ্ বাহ্ তথা চমৎকার তোমরা করো তো না! বাঃ বাঃ!
নাকি হোয়াই, হোয়াই, এটা নয় তো? কখনো কখনো হোয়াই হয়ে যায়? নাকি আছে হোয়াই আর
হায়, এবং তৃতীয়ত ক্রাই? তোমরা তো তারাই, যারা বাঃ বাঃ করে, তাই না!
বাপদাদার ডবল ফরেনারদের জন্য বিশেষ গর্ব হয়। কেন? ভারতবাসী বাবাকে ভারতে ডেকে
নিয়েছে। কিন্তু ডবল ফরেনারদের উপর গর্ব এইজন্য হয় যে ডবল ফরেনাররা বাপদাদাকে
নিজেদের সত্য ভালোবাসার বন্ধনে বেঁধে ফেলেছে। মেজরিটি সত্যিকারের ভালোবাসে। কেউ কেউ
গুপ্তও রাখে কিন্তু মেজরিটি নিজেদের দুর্বলতা, সত্যতার সাথে বাবার সামনে রাখে। তাে
বাবার সবথেকে প্রিয় জিনিস হলো - সত্যতা। এইজন্য ভক্তিতেও বলে যে গড্ ইজ ট্রুথ।
সবথেকে প্রিয় জিনিস হল সত্যতা কেননা যার মধ্যে সত্যতা থাকে তারমধ্যে স্বচ্ছতাও থাকে।
ক্লিন আর ক্লিয়ার থাকে। এইজন্য বাপদাদাকে ডবল ফরেনারদের সত্য প্রেমের রসি আকর্ষণ করে।
কারো কারো মধ্যে অল্প একটু মিক্স তো থাকে। কিন্তু ডবল ফরেনার্স নিজেদের এই সত্যতার
বিশেষত্ব কখনও ত্যাগ করে না। সত্যতার শক্তি একটা লিফ্টের কাজ করে। সকলেরই সত্যতা
ভালো লাগে তাই না! পান্ডব, ভালো লাগে? সেভাবে তো মধুবনবাসীদেরও ভালো লাগে।
চারিদিকের সকল মধুবনবাসীরা হাত ওঠাও। দাদী বলেন না, যে তোমরা সবাই হলে বাহু। তো
মধুবন, শান্তিবন সবাই হাত ওঠাও। বড় করে হাত ওঠাও। মধুবনবাসীদের, সত্যতা ভালো লাগে?
যার মধ্যে সত্যতা থাকবে, তার কাছে বাবাকে স্মরণ করা খুব সহজ হয়ে যাবে। কেন? বাবাও
হলেন সত্য, তাই না! তো সত্য বাবার স্মরণে যে সত্য থাকে তার বুদ্ধিতে বাবা তাড়াতাড়ি
স্মরণে আসে। পরিশ্রম করতে হয় না। যদি এখনও স্মরণ করতে পরিশ্রম লাগে তাহলে বুঝবে
কোনও না কোনও সূক্ষ্ম সংকল্প মাত্র, স্বপ্ন মাত্র কোনও সত্যতা কম আছে। যেখানে সত্যতা
থাকে সেখানে সংকল্প করবে বাবা, হুজুর হাজির হয়ে যাবেন। এইজন্য বাপদাদার সত্যতা খুব
প্রিয়।
তো বাপদাদা সকল বাচ্চাদেরকে এই ঈশারা দিচ্ছেন যে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার ২১ জন্ম নিতে
হবে তো এখন স্বরাজ্যকে চেক করো। এখন স্বরাজ্য অধিকারী হওয়া, যতটা যেরকম তৈরী হবে
ততটাই অধিকার প্রাপ্ত হবে। তো চেক করো - যেরকম গায়ন আছে এক রাজ্য..., একটাই রাজ্য
হবে, দুটো নয়। তো বর্তমান স্বরাজ্যের স্থিতিতে সদা এক রাজ্য আছে? স্বরাজ্য আছে নাকি
কখনও কখনও পর-রাজ্যও হয়ে যায়? কখনও মায়ার রাজ্য যদি হয় তো পর-রাজ্য বলবে নাকি
স্বরাজ্য বলবে? তো সদা এক রাজ্য আছে, পর-অধীন তো হয়ে যাও না? কখনও মায়ার, কখনও
স্ব-এর? এর দ্বারা বুঝতে পারবে যে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার এখনই প্রাপ্ত হচ্ছে, হয়নি,
হচ্ছে। তো চেক করো সদা এক রাজ্য আছে? এক ধর্ম - ধর্ম অর্থাৎ ধারণা। তো বিশেষ ধারণা
কোনটি? পবিত্রতার। তো এক ধর্ম আছে অর্থাৎ সংকল্প, স্বপ্নেও পবিত্রতা আছে? সংকল্পেও,
স্বপ্নেও যদি অপবিত্রতার ছায়া থাকে তাহলে কি বলবে? এক ধর্ম আছে? সম্পূর্ণ পবিত্রতা
আছে? তো চেক করো, কেন? সময় ফাস্ট যাচ্ছে। তো সময় ফাস্ট যাচ্ছে আর নিজে যদি স্লো হও
তাহলে সঠিক সময়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না! এইজন্য বার বার চেক করো। এক রাজ্য আছে?
এক ধর্ম আছে? ল' আর অর্ডার আছে? না কি মায়া নিজের অর্ডার চালাচ্ছে? পরমাত্মার
বাচ্চারা শ্রীমতের ল' আর অর্ডারে চালিত হয়। মায়ার ল' এন্ড অর্ডারে নয়। তো চেক করো -
সকল ভবিষ্যতের সংস্কার এখন দেখা যাবে কেননা এখনই সংস্কার ধারণ করতে হবে। সেখানে
ধারণ করা যাবে না, এখানেই ধারণ করতে হবে। সুখ আছে? শান্তি আছে? সম্পত্তিবান আছো?
সুখ এখনও সাধনের আধারে তো নেই? অতীন্দ্রিয় সুখ আছে? সাধন হল ইন্দ্রিয়ের আধার।
অতীন্দ্রিয় সুখ সাধনে আধারে হয় না। অখন্ড শান্তি আছে? খন্ডিত তো হয় না? কেননা
সত্যযুগের রাজ্যের মহিমা কি? অখন্ড শান্তি, অটল শান্তি। সম্পন্নতা আছে? সম্পত্তির
দ্বারা কি হয়? সম্পন্নতা হয়। সর্ব সম্পত্তি আছে? গুণ, শক্তি, জ্ঞান এইসব হল সম্পত্তি।
তার লক্ষণ কেমন হবে? যদি আমি সম্পত্তিতে সম্পন্ন থাকি - তো তার লক্ষণ কেমন হবে?
সন্তুষ্টতা। সর্ব প্রাপ্তির আধার হলো সন্তুষ্টতা, অসন্তুষ্টতা হলো অপ্রাপ্তির সাধন।
তো চেক করো - একটা বিশেষ গুণ কম যেন না থাকে। তো নিজেকে এতটা চেক করো? সমগ্র সংসার,
তোমরা এখনকার সংস্কারের দ্বারা নির্মাণ করছো। এখনকার সংস্কার অনুসারে ভবিষ্যতের
সংসার রচিত হবে। তো তোমরা সবাই কি বলছো? তোমরা কে? বিশ্ব পরিবর্তক, তাই না! বিশ্ব
পরিবর্তক হয়েছো? তো বিশ্ব পরিবর্তকের পূর্বে স্ব-পরিবর্তক। তো এইসকল সংস্কার নিজের
মধ্যে চেক করো। এরদ্বারা বুঝে যাও যে আমি ১০৮ এর মালাতে আছি নাকি আগে পিছে আছি? এই
চেকিং হল এক দর্পণ, এই দর্পণে নিজের বর্তমান আর ভবিষ্যতকে দেখো। দেখতে পারো?
এখন তো হোলি মানাতে এসেছো তাই না! হোলি মানাতে এসেছো, আচ্ছা। হোলির অর্থকে বর্ণনা
করেছো তাই না! তো বাপদাদা আজ বিশেষ ডবল ফরেনারদের বলছেন, মধুবনবাসীরাও সাথে আছে,
এটা খুবই ভালো। মধুবনবাসীদেরও বলছেন। যারা এসেছো, যদি বম্বে থেকে এসেছো, বা যদি
দিল্লী থেকে এসেছো কিন্তু এই সময় তো তোমরা হলে মধুবন নিবাসী। ডবল ফরেনার্সও এইসময়
কোথাকার? মধুবন নিবাসী তাই না! মধুবন নিবাসী হওয়া ভালো, তাই না! তো সকল বাচ্চাদেরকে,
যদি এখানে সামনে বসে আছো বা চারিদিকে নিজের নিজের স্থানে বসে আছো, বাপদাদা একটা
পরিবর্তন চাইছেন - যদি সাহস থাকে তো বাপদাদা বলবে। সাহস আছে? সাহস আছে? সাহস আছে?
করতে হবে। এমন নয় যে হাত তুলে দিলে আর হয়ে গেলো, এমন নয়। হাত তোলা তো খুব ভালো
কিন্তু মনের হাত ওঠাও। আজ কেবল এই হাত তুলবে না, মনের হাত তুলবে।
ডবল ফরেনার্স কাছেই বসে আছে তাই না, তো কাছে থাকে যারা, তাদের হৃদয়ের কথা শোনা যায়।
মেজরিটি দেখা যায় যে সকলেরই বাপদাদার সাথে, সেবার সাথে অনেক ভালোবাসা আছে। বাবার
ভালোবাসা ছাড়াও থাকতে পারবে না আর সেবা ছাড়াও থাকতে পারবে না। মেজরিটির এই
সার্টিফিকেট ঠিক আছে। বাপদাদা চারিদিকে দেখছেন কিন্তু..., ‘কিন্তু’ এসে গেলো।
মেজরিটির এই আওয়াজ আসে যে কোনও না কোনও এমন সংস্কার, পুরানো, যেটা চাইছি না কিন্তু
পুরানো সংস্কার এখনও পর্যন্ত আকর্ষণ করে। তো যখন হোলি উদযাপন এসেছো তো হোলির অর্থ
হলো - অতীতকে বিন্দু লাগানো। হো লী, হয়ে গেছি। তো অল্প একটুও কোনও সংস্কার ৫ শতাংশ
হোক, ১০ শতাংশ হোক, ৫০ শতাংশও হোক, যতটাই হোক। অন্ততপক্ষে ৫ শতাংশও হলেও আজ
সংস্কারের হোলী জ্বালাও। যে সংস্কারটা মাঝে মাঝে তোমাদের ডিস্টার্ব করে মনে করছো,
প্রত্যেকেই সেটা বুঝতে পারো। বুঝতে পারো, তাই না? তো একদিকে হোলি জ্বালানাে হয়,
অন্যদিকে রাঙানো হয়। দুই প্রকারের হোলী হয়। আর হোলীর অর্থও হল অতীতকে বিন্দু লাগানো।
তো বাপদাদা চাইছেন যে, যা কিছু সংস্কার এখনও রয়ে গেছে, যার কারণ সংসার পরিবর্তন
হচ্ছে না, তো আজ সেই দুর্বল সংস্কারকে জ্বালাও অর্থাৎ অন্তিম সংস্কার করে দাও।
জ্বালানোকেও সংস্কার বলে, তাই না। যখন মানুষ মারা যায় তখন লোকেরা বলে সংস্কার করতে
হবে অর্থাৎ চিরদিনের জন্য সমাপ্ত করতে হবে। তাহলে কি আজ সংস্কারেরও সংস্কার করতে
পারবে? তোমরা বলে থাকো যে আমরা তো চাই না যে সংস্কার আসুক, কিন্তু এসে যায়, কি করবো?
এইরকম চিন্তা করো? আচ্ছা। ভুল করে এসে যায়। যদি কাউকে দেওয়া জিনিস ভুল করে তোমাদের
কাছে চলে আসে তখন তোমরা কি করো? যত্ন করে আলমারীতে রেখে দাও? রেখে দেবে? তো যদি
এসেও যায় তো হৃদয়ে রেখো না কেননা হৃদয়ে বাবা বসে আছেন তাই ! তো বাবার সাথে যদি সেই
সংস্কারকেও রাখো তাহলে ভালো লাগবে? ভালো লাগবে না তাই না। এইজন্য যদি ভুল করে চলেও
আসে, তখন হৃদয় থেকে বলবে বাবা, বাবা, বাবা, ব্যস। সমাপ্ত। বিন্দু লেগে যাবে। বাবা
কিরকম? বিন্দু। তো বিন্দু লেগে যাবে। হৃদয় থেকে বলবে তো? আর যদি স্বার্থ নিয়ে স্মরণ
করো - বাবা নিয়ে নাও না, নিয়ে নাও না, রাখে নিজের কাছেই আর বলে - নিয়ে নাও না, নিয়ে
নাও না। তো কিভাবে নেবেন? তোমার জিনিস বাবা কিভাবে নেবেন? প্রথমে তোমরা নিজের জিনিস
মনে করবে না, তাহলে বাবা নেবেন। এমন থোড়াই কারোর জিনিস বাবা নিয়ে নেবেন! তো কি করবে?
হোলী পালন করবে? হো লী, হো লী। আচ্ছা, যারা দৃঢ় সংকল্প করছো তারা হাত তোলো। তোমরা
বারংবার বের করে দিলে সে বেরিয়ে যাবে। অন্দরে রেখে দেবে না। কি করবো, কিভাবে করবো,
বেরিয়ে যায় না। এমন নয়, বের করতেই হবে। তো দৃঢ় সংকল্প করবে? যারা করবে তারা মন থেকে
হাত তোলো, বাইরে থেকে তুলতে হবে না। মন থেকে। (কেউ কেউ তুলছে না) এরা ওঠাচ্ছে না। (সবাই
উঠিয়েছে) খুব ভালো, অভিনন্দন, অভিনন্দন। এইরকম হয়েছে যে একদিকে অ্যাডভান্স পার্টি
বাপদাদাকে বারংবার বলছে - আর কতদিন, আর কতদিন, আর কতদিন? অন্যদিকে প্রকৃতিও বাবাকে
আর্জি করছে, এখন পরিবর্তন করো। ব্রহ্মা বাবাও বলছেন যে কবে পরমধামের দরজা খুলবেন?
সাথে যেতে হবে, এখানে তো থাকবে না! সাথে যাবে তাই না! একসাথে গেট খুলবে! যদিও চাবি
ব্রহ্মা বাবা লাগাবে কিন্তু সাথে তো থাকবে তাই না! তো এখন এই পরিবর্তন করো। ব্যস্,
নিয়েই আসবে না। আমার জিনিসই নয়, অন্যের জিনিস, রাবণের জিনিস কেন নিজের কাছে রাখবে!
অন্যের জিনিস নিজের কাছে রাখা যায় কী? রাখবে? রাখবে না তাই না, পাক্কা? আচ্ছা। তো
রঙের হোলী যদিও পালন করো কিন্তু প্রথমে এই হোলী উদযাপন করো। তোমরা দেখো যে -
তোমাদের গায়ন হলো মার্সিফুল। তোমরা হলে মার্সিফুল দেবী দেবতা। তো করুণা হয় না?
তোমাদের ভাই বোন এত দুঃখী, তাদের দুঃখ দেখে করুণা হয় না? করুণা হয়? তো সংস্কার
পরিবর্তন করো, তাহলে সংসার বদলে যাবে। যতক্ষণ সংস্কার না বদলায়, ততক্ষণ সংসারও
বদলাবে না। তো কি করবে?
আজ খুশীর খবর শুনলাম যে সবাই দৃষ্টি নিতে চায় । ভালো কথা। বাপদাদা তো বাচ্চাদের
আজ্ঞাকারী আছেনই কিন্তু... কিন্তু শুনে হাসছে। যদিও হাসো। দৃষ্টির জন্য বলা হয় -
দৃষ্টির দ্বারা সৃষ্টি পরিবর্তন হবে। তো আজ দৃষ্টির দ্বারা সৃষ্টি পরিবর্তন করতেই
হবে, কেননা সম্পন্নতা বা যা কিছু প্রাপ্তি হয়েছে, তার অনেক সময় ধরে অভ্যাস চাই। এমন
নয় যে সময় এলে হয়ে যাবে, না। অনেক সময়ের জন্য রাজ্য ভাগ্য নিতে হবে, তো সম্পন্নতাও
অনেক সময়ের জন্য চাই। তো ঠিক আছে? ডবল ফরেনার্স খুশী? আচ্ছা।
চারিদিকের তিন সিংহাসনে আসীন সকল বাচ্চাদেরকে, বিশেষ আত্মাদেরকে, সদা স্বরাজ্য
অধিকারী বিশেষ আত্মাদেরকে, সদা করুণাময় হয়ে আত্মাদেরকে সুখ-শান্তির অঞ্জলী দেওয়া
মহাদানী আত্মাদেরকে, সদা দৃঢ়তা আর সফলতার অনুভবকারী বাপসমান আত্মাদেরকে বাপদাদার
স্মরণের স্নেহ-সুমন সুমন আর নমস্কার।
বরদান:-
সংকল্প আর বাণীর বিস্তারকে সারে নিয়ে এসে অন্তর্মুখী
ভব
ব্যর্থ সংকল্পের বিস্তারকে সমাহিত করে সার রূপে
স্থিত হওয়া তথা মুখের আওয়াজের ব্যর্থকে সমাহিত করে সমর্থ অর্থাৎ সার রূপে নিয়ে আসা
- এটাই হল অন্তর্মুখতা। এইরকম অন্তর্মুখী বাচ্চারাই সাইলেন্সের শক্তি দ্বারা
উদ্ভ্রান্ত হওয়া আত্মাদেরকে সঠিক ঠিকানা দেখাতে পারে। এই সাইলেন্সের শক্তি অনেক
আত্মিক রঙ দেখায়। সাইলেন্সের শক্তির দ্বারা প্রত্যেক আত্মার মনের আওয়াজ এতটাই নিকটে
শোনা যায় যে যেন মনে হয় কেউ সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলছে।
স্লোগান:-
স্বভাব, সংস্কার, সম্বন্ধ, সম্পর্কে লাইট থাকা অর্থাৎ
ফরিস্তা হওয়া।
অব্যক্ত ঈশারা :- সত্যতা আর সভ্যতা রূপী কালচারকে
ধারণ করো সত্যিকারের হৃদয়বান সত্যবাদী বাচ্চারা, সত্যতার মহানতার কারণ সেকেন্ডে
বিন্দু হয়ে বিন্দু স্বরূপ বাবাকে স্মরণ করতে পারে। সত্যিকারের হৃদয়বান সত্য সাহেবকে
রাজী করার কারণ, বাবার দ্বারা বিশেষ আশীর্বাদ প্রাপ্তির কারণ সময় অনুসারে বুদ্ধি
যুক্তিযুক্ত, যথার্থ কার্য স্বতঃ করে, কেননা বুদ্ধিমানেরও বুদ্ধিকে (বাবাকে) রাজী
করে থাকে। সূচনাঃ - আজ অন্তর্রাষ্ট্রীয় যোগ দিবস তৃতীয় রবিবার, সন্ধ্যা ৬.৩০ থেকে
৭.৩০ পর্যন্ত সকল ভাই-বোন সংগঠিতরূপে একত্রিত হয়ে যোগ অভ্যাসে সকল আত্মাদের প্রতি
এই শুভভাবনা রাখবে যে - সকল আত্মাদের কল্যাণ হোক, সকল আত্মারা সত্য মার্গে চলে
পরমাত্ম উত্তরাধিকারের অধিকার প্রাপ্ত করে নেয়। আমি হলাম বাবার সমান সকল আত্মাদেরকে
মুক্তি জীবন্মুক্তির বরদান প্রদানকারী আত্মা।