16.07.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - এ হল পুরুষোত্তম হওয়ার সঙ্গম যুগ, এই যুগে কোনও রকমের পাপ কর্ম করা উচিত নয়”

প্রশ্নঃ -
এই সঙ্গম যুগে বাচ্চারা তোমরা সব থেকে বড় পুণ্য কি করে থাকো?

উত্তরঃ  
নিজেকে বাবার কাছে সঁপে দেওয়া অর্থাৎ সম্পূর্ণ স্বাহা হয়ে যাওয়া, এটাই হলো সবথেকে বড় পুণ্য। এখন তোমরা আসক্তিকে সমাপ্ত করছো। সন্তান-সন্ততি, ঘর-বাড়ির সবাইকে ভুলে যাচ্ছো, এটাই হলো তোমাদের ব্রত। তুমি মরে গেলে সমগ্র দুনিয়া তোমার কাছে মৃত হয়ে যাবে। এখন তোমরা বিকারী সম্বন্ধের থেকে মুক্ত হচ্ছো।

গীতঃ-
কেন জ্বলবে না বহ্নি পতঙ্গ...

ওম্ শান্তি ।
এইসব প্রার্থনার দ্বারা ভক্তি মার্গে বাবার মহিমা করে থাকে। এই প্রার্থনা হলো বহ্নি পতঙ্গদের, বহ্নি শিখার প্রতি মহিমা, যখন বাবা এসেই গেছেন তখন কেনই না বেঁচে থেকেও তাঁর হয়ে যাই। বেঁচে থেকেও মৃত হয়ে যাওয়া - তাদেরকেই বলা যায় যারা আশ্রিত হয়। প্রথমে তোমরা আসুরিক পরিবারের ছিলে, এখন তোমরা ঈশ্বরীয় পরিবারের হয়েছ। ঈশ্বর এসে জীবিত অবস্থাতে তোমাদেরকে দত্তক নিয়েছেন, যাকে পুনরায় শরণাগতি বলা যায়। মানুষ কীর্তন করে - প্রভু তোমার শরণে এলাম...। এখন প্রভুর শরণে তখন আসে, যখন তিনি আসেন, নিজের শক্তি প্রদর্শন করেন, ঐশ্বর্য দেখান। তিনিই হলেন সর্বশক্তিমান, তাই না? অবশ্যই তাঁর প্রতি আকর্ষণও তো থাকে তাই না। তিনি সবকিছুর থেকে মুক্তি দেন। বরাবর যারা বাবার বাচ্চা আর বাচ্চি হয় তারা আসুরিক সম্প্রদায়ের সম্বন্ধ থেকে দুঃখী হয়ে যায়। বলে যে - বাবা কবে এই সম্বন্ধ থেকে মুক্তি পাবো। এখানে এই পুরানো সম্বন্ধকে ভুলতে হয়। আত্মা যখন দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায় তখন বন্ধন মুক্ত হয়ে যায়। এই সময়ে তোমরা জানো যে সকলেরই মৃত্যু হবে আর এই যে বন্ধন আছে এইসব হল বিকারী। এখন বাচ্চারা নির্বিকারী সম্বন্ধ চায়। নির্বিকারী সম্বন্ধে ছিল, পুনরায় বিকারী সম্বন্ধ হয়ে যায়, পুনরায় আমাদের নির্বিকারী সম্বন্ধ হবে। এই কথা আর কারোর বুদ্ধিতেই নেই। বাচ্চারা জানে যে আমরা আসুরিক বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছি। এক বাবার সাথে যোগ রাখা যায়। ওইদিকে আছে এক রাবণ, এইদিকে আছে এক রাম। এই কথা দুনিয়ার কেউই জানে না। বলেও যে রাম রাজ্য চাই, কিন্তু সমগ্র দুনিয়াই যে রাবণ রাজ্যে আছে, এটা কেউ বুঝতে পারে না। রামরাজ্যতে তো পবিত্রতা, সুখ, শান্তি ছিল। সেসব এখন নেই। কিন্তু যেটা বলে সেটা অনুভব করে না। গাওয়াও হয়ে থাকে যে এই আত্মারা সবাই হলো সীতা। একজন সীতার কথা নয়। না এক অর্জুনের, না এক দ্রৌপদীর কথা। এসব হলো অনেকের কথা। কিন্তু উদাহরণ একজনেরই দেওয়া হয়। তোমাদেরকেও বলা যায় যে তোমরা সব হলে অর্জুন। তোমরা বলবে যে অর্জুন তো এই ভাগীরথ হয়ে গেছে । বাবা বলেন - আমি সাধারণ বৃদ্ধ শরীরের রথ নিই। মানুষ আবার চিত্রতে ঘোড়ার গাড়ি দেখিয়ে দিয়েছে, একেই অজ্ঞানতা বলা যায়। বাচ্চারা বুঝতে পারে যে এই শাস্ত্র ইত্যাদি যা কিছু আছে সবই হলো ভক্তি মার্গের জন্য। যতক্ষণ সাত দিনের কোর্স না করবে, এই কথা কেউই বুঝতে পারবে না। ভক্তি হলো আলাদা। জ্ঞান, ভক্তি আর বৈরাগ্য বলে থাকে। বাস্তবে সন্ন্যাসীদের সত্যিকারের বৈরাগ্য হয় না, তারা তো জঙ্গলে গিয়ে পুনরায় শহরে এসে বসবাস করে বড় বড় মহল ইত্যাদি তৈরি করে। কেবল বলে যে আমরা ঘর-বাড়ি ত্যাগ করেছি। তোমাদের হলো সমগ্র পুরানো দুনিয়ার থেকে বৈরাগ্য। যথার্থ কথা হল এটাই। ওদের হল লৌকিক জগতের কথা, এই জন্য তাদেরকে হঠযোগ, লৌকিকের বৈরাগ্য বলা যায়।

বাচ্চারা তোমরা জানো যে, এই পুরানো দুনিয়া এখন সমাপ্ত হয়ে যাবে, এই জন্য অবশ্যই এর থেকে বৈরাগ্য আনতে হবে। বুদ্ধিও বলে যে নতুন ঘর তৈরী হলে পুরোনোকে ভেঙে ফেলা হয়। তোমরা জানো যে এখন তারই প্রস্তুতিকরণ চলছে। কলিযুগের পর পুনরায় সত্যযুগ অবশ্যই আসবে। এখন এ হলো পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগ। পুরুষোত্তম মাসও হয়ে থাকে। তোমাদের এটা হল পুরুষোত্তম যুগ। পুরুষোত্তম মাসে দান পুণ্য ইত্যাদি করে। তোমরা এই পুরুষোত্তম যুগে সর্বস্ব স্বাহা করে দাও। তোমরা জানো যে - এই সমগ্র দুনিয়াই এখন স্বাহা হয়ে যাবে। তাই সমগ্র দুনিয়ার সর্বস্ব স্বাহা হওয়ার পূর্বে আমরা নিজেদেরকে বাবার কাছে কেনই না স্বাহা করে দিই। এর দ্বারা তোমাদের অনেক পূণ্য অর্জন হবে। তাদের তো হলো লৌকিকের পুরুষোত্তম মাস। এটা হল অসীম জগতের কথা। পুরুষোত্তম মাসে অনেক কথকথা শোনায়, ব্রত নিয়ম রাখে। তোমাদের তো অনেক বড় এবং কঠোর ব্রত। তোমাদের যদিও সন্তান-সন্ততি ঘরবাড়ি ইত্যাদি সবই আছে, কিন্তু হৃদয় থেকে আসক্তি সমাপ্ত হয়ে গেছে। তোমরা মরে গেছো তাই তোমাদের কাছে দুনিয়াও মৃত হয়ে গেছে। তোমরা জানো যে এইসব সমাপ্ত হয়ে যাবে। আমরা বাবার হয়েছি - পুরুষোত্তম হওয়ার জন্য। সকল পুরুষের মধ্যে অর্থাৎ মানুষের মধ্যে উত্তম পুরুষ হলেন এই লক্ষ্মী-নারায়ণ সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এঁনাদের থেকে উত্তম কোনও মানুষ হতে পারে না। লক্ষ্মী-নারায়ণ বিশ্বের মালিক ছিলেন। তোমরা এসেছ এইরকম পুরুষোত্তম হওয়ার জন্য। সকল মানুষ মাত্রই সদ্গতি প্রাপ্ত করে। মানুষের আত্মা পুরুষোত্তম হয়ে যায় তো তাদের থাকার স্থানও এইরকম উত্তম হওয়া চাই। যেরকম প্রেসিডেন্ট সবথেকে উঁচু পদে থাকেন তো তার থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি ভবন প্রাপ্ত হয়। কত বড় মহল, বাগান ইত্যাদি আছে। এসব হলো এখানকার কথা। রামরাজ্যকে তো তোমরা জানো। তোমরা সত্যযুগে পুরুষোত্তম তৈরি হও তখন এই কলিযুগী পুরুষোত্তম থাকবে না। তোমরা সত্যযুগী পুরুষোত্তম হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো। তোমরা জানো যে আমাদের মহল কিভাবে তৈরি হবে। কাল রামরাজ্য হবে। তোমরা রামরাজ্যে পুরুষোত্তম হবে। তোমরা চ্যালেঞ্জ করো যে আমরা রাবণ রাজ্যকে পরিবর্তন করে রাম রাজ্য স্থাপন করব। এখন চ্যালেঞ্জ করেছো তাই একে-অপরকে পুরুষোত্তম বানাতে হবে - ভবিষ্যতের ২১ জন্মের জন্য। দেবতাদের মহিমা গাওয়া হয়ে থাকে - সর্বগুণসম্পন্ন... অহিংসা পরম দেবী-দেবতা ধর্ম। তোমরাই জানো, আর কোনও মানুষ এসব জানে না। তোমরা পরের জন্মে পুরুষোত্তম হবে তখন এই রাবণ রাজ্যের কেউই আর থাকবেনা। এখন তোমাদের মধ্যে সমস্ত জ্ঞান আছে। এখন রাবণ রাজ্যই সমাপ্ত হয়ে যাবে। আজকাল তো সময়েরও কোনও ভরসা নেই, অকালে মৃত্যু হয়ে যায় অথবা কারো সাথে শত্রুতা হলে তো তাকে শেষ করে দেয়। তোমাদেরকে তো কেউ শেষ করতে পারবে না। তোমরা হলে অবিনাশী পুরুষোত্তম, এরা হলো বিনাশী তাও আবার রাবণ রাজ্যে। এদের, তোমাদের দৈবী রাজ্যের সম্বন্ধে কিছুই জানা নেই। তোমরা জানো যে আমরা শ্রীমতে চলে নিজেদের দৈবী স্বরাজ্য স্থাপন করছি। যাদের পূজা হয় তাঁরা অবশ্যই ভালো কর্তব্য করে গেছেন। এসব তোমরা জানো। দেখো জগদম্বার কতো পূজা হয়। এখন ইনি হলেন জ্ঞান-জ্ঞানেশ্বরী। তোমরা হলে জগদম্বার কন্যা জ্ঞান-জ্ঞানেশ্বরী আর রাজ-রাজেশ্বরী। এই দুই এর মধ্যে উত্তম কে? জ্ঞান-জ্ঞানেশ্বরীর কাছে গিয়ে অনেক প্রকারের মনোকামনা শোনায়। অনেক জিনিস প্রার্থনা করে। জগদম্বার মন্দির আর লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে অনেক পার্থক্য আছে। জগদম্বার মন্দির অনেক ছোট হয়। ছোট জায়গাতে ভীড় মানুষ পছন্দ করে। শ্রীনাথের মন্দিরেও অনেক ভিড় হয়, সেখানে কাপড়ের লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে - এগিয়ে যাওয়ার জন্য। কলকাতাতে কালীর মন্দির কত ছোট, ভিতরে অনেক তেল আর জল থাকে। ভিতরে খুব সাবধানে যেতে হয়। অনেক ভিড় থাকে। লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির অনেক বড় হয়। জগদম্বার মন্দির ছোট কেন হয়? গরিব তাইনা। তাই মন্দিরও গরিবের হয়। তাঁরা হলেন ধনী, তাই মন্দিরে কখনো মেলা ইত্যাদি লাগেনা। জগদম্বার মন্দিরে অনেক মেলা লাগে। বাইরে থেকে অনেক লোক আসে। মহালক্ষ্মীরও মন্দির আছে, এটাও তোমরা জানো যে এখানে লক্ষ্মীও আছেন আবার নারায়ণও আছেন। তাঁদের থেকে কেবল ধন প্রার্থনা করে কেননা তাঁরা ধনবান হয়েছেন তাই না। এখানে তো হলো অবিনাশী জ্ঞান রত্ন। ধনের জন্য লক্ষ্মীর কাছে যায়, আর অনেক আশা রেখে জগদম্বার কাছে যায়। তোমরা হলে জগদম্বার সন্তান । সকলের মনোকামনা ২১ জন্মের জন্য তোমরা পূরণ করে দাও। একটাই মহামন্ত্রের দ্বারা সকলের মনোকামনা ২১ জন্মের জন্য পূর্ণ হচ্ছে। অন্যরা যা কিছু মন্ত্র ইত্যাদি দিয়ে থাকে তার অর্থ কিছুই নেই। বাবা বোঝাচ্ছেন যে এই মন্ত্র তোমাদেরকে কেন দিই? কেননা তোমরা পতিত হয়ে গেছ তাইনা! মামেকম্ স্মরণ করো তাহলেই পবিত্র হবে। এটা এক বাবা ছাড়া আত্মাদেরকে আর কেউই বলতে পারে না। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এই সহজ রাজযোগ এক বাবা-ই শেখান। তিনি মন্ত্রও দেন। ৫ হাজার বছর পূর্বেও মন্ত্র দিয়েছিলেন। এইটা স্মৃতিতে এসেছে। এখন তোমরা সম্মুখে বসে আছো। যীশু খ্রীষ্ট কিছু করে গেছেন, তাই তার বাইবেল সবাই পড়তে থাকে। তিনি কি করে গেছেন? ধর্ম স্থাপন করে গেছেন। তোমরা জানো যে শিব বাবা কি করে গেছেন? কৃষ্ণ কি করে গেছেন? কৃষ্ণ তো সত্যযুগের রাজকুমার ছিলেন, যিনিই পুনরায় নারায়ন হন, তারপর পুনর্জন্ম নিতে থাকেন। শিব বাবাও কিছু করে গেছেন তবেই তো তাঁর এতো পূজা ইত্যাদি হয়। এখন তোমরা জানো যে রাজযোগ শিখিয়ে গেছেন, ভারতকে স্বর্গ বানিয়ে গেছেন, যে স্বর্গের প্রথম নম্বর মালিক নিজে হননি, শ্রীকৃষ্ণ হয়েছেন। অবশ্যই কৃষ্ণের আত্মাকেও পড়িয়েছেন, তোমরা বুঝে গেছো। কৃষ্ণের বংশাবলী তোমরা বসে আছো। রাজা রানীকে মাতা-পিতা অন্নদাতা বলা হয়। রাজস্থানেও রাজাকে অন্নদাতা বলা হয়। রাজাদের অনেক সম্মান হয়ে থাকে। আগে সমস্ত নালিশ রাজার কাছে আসতো, রাজ-দরবার লাগতো। কেউ ভুল করলে তাকে অনেক অনুতাপ করতে হত। আজকাল তো জেল বার্ডস্ (birds) অনেক আছে। বারে বারে জেলে যায়। এখন বাচ্চারা তোমাদেরকে গর্ভ জেলে যেতে হবে না। তোমরা তো গর্ভ মহলে আসবে। এই জন্য বাবাকে স্মরণ করো তাহলে বিকর্ম বিনাশ হবে। পুনরায় তোমরা কখনো গর্ভ জেলে যাবে না। সেখানে পাপ হয়না। সকলেই গর্ভ মহলে থাকে, কেবল কম পুরুষার্থের কারণে কম পদ প্রাপ্ত হয়। উচ্চপদস্থরা অনেক সুখে থাকে। এখানে তো কেবল পাঁচ বছরের জন্য সরকার, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। তোমরা বোঝাতে পারো যে ভারতই দৈবী রাজস্থান হবে। এখন তো না রাজস্থান আছে আর না রাজা রানী আছে। আগে কেউ সরকারকে টাকা পয়সা দিলে তো মহারাজা মহারানীর উপাধি পেয়ে যেত। এখানে তোমাদের তো হলো পড়াশোনা। রাজা-রানী কখনো পড়াশোনা করে হওয়া যায় না। এটা হলো তোমাদের এইম অবজেক্ট, এই পড়াশোনা করে তোমরা বিশ্বের মহারাজা মহারানী তৈরি হও। রাজা-রানীও নয়। রাজা রানীর উপাধি ত্রেতা থেকে শুরু হয়।

তোমরা এখন জ্ঞান-জ্ঞানেশ্বরী তৈরি হচ্ছ পুনরায় রাজ-রাজেশ্বরী হবে। কে বানাবেন? ঈশ্বর। কিভাবে? রাজযোগ আর জ্ঞানের দ্বারা। রাজত্বের জন্য বাবাকে স্মরণ করতে হবে। বাবা তোমাদেরকে স্বর্গের মালিক তৈরি করছেন, এটা তো অনেক সহজ তাইনা। স্বর্গের স্থাপন কর্তা হলেনই গডফাদার। স্বর্গে তো স্বর্গের স্থাপনা করবেন না। অবশ্যই সঙ্গমে তাঁর এই পদ প্রাপ্ত হয়। এই জন্য একে শ্রেষ্ঠ কল্যাণকারী সঙ্গম যুগ বলা যায়। বাবা কতই না বাচ্চাদের কল্যান করেন, যিনি স্বর্গের মালিক তৈরি করছেন। তারা বলে যে পরমপিতা পরমাত্মা নতুন দুনিয়া রচনা করেন। কিন্তু তাতে কে রাজত্ব করবে এটা কারো জানা নেই। তোমরা বুঝতে পারো যে রাম রাজ্য কাকে বলা যায়। তারা তো রামরাজ্যকে লক্ষ বছর দিয়ে দিয়েছে। কলিযুগকে ৪০ হাজার বছর দিয়ে দিয়েছে। বাবা বলেন যে - আমি আসিই সঙ্গম যুগে। এসে ব্রহ্মার দ্বারা বিষ্ণুপুরীর স্থাপনা করি। সত্যনারায়ণের কথাও হল এটা। সত্যযুগে তোমরা লক্ষ্মী-নারায়ণ সর্ব্বগুণসম্পন্ন তৈরি হও। পুনরায় কলা কম হতে থাকে। নতুন বৃক্ষের ঝাড় তখন বলা যায় কেননা তখন স্থাপনা হয়। নতুন মহল তৈরি হয় তো নতুন বলবে। তোমরাও সত্যযুগে আসবে তো নতুন রাজধানী হবে পুনরায় কলা কম হতে থাকবে। স্থাপনা এখানেই হয়। এইসব আশ্চর্য পূর্ণ কথা কারোরই বুদ্ধিতে নেই। তাই বাবা বুঝিয়েছেন যে সকল আত্মাদের জন্য এই যুগ হলো পুরুষোত্তম হওয়ার যুগ। জীবন্মুক্তিকে পুরুষোত্তম বলা যায়। জীবনবন্ধকে পুরুষোত্তম বলা যায় না। এই সময়ে সবাই জীবনবন্ধে আছে। বাবা এসে সবাইকে জীবন্মুক্ত বানাচ্ছেন। তোমরা অর্ধেক কল্প জীবন্মুক্ত হবে, পুনরায় জীবনবন্ধ। এটা তোমরা বুঝতে পারো। তোমাদের ব্রত নিয়ম কি? বাবা এসে ব্রত রাখা শিখিয়েছেন, যে খাদ্য পানীয়ের কথা নয়। সবকিছু করো কেবল এক তো বাবাকে স্মরণ করো আর পবিত্র হও। পুরুষোত্তম মাসে অনেকেই পবিত্র থাকে। বাস্তবে এই পুরুষোত্তম যুগের সম্মান আছে, তাই তোমাদের অনেক খুশি, অনেক নেশা হওয়া উচিত। এখন তোমাদের দ্বারা কোনও পাপ কর্ম যেন না হয় কেননা তোমরা পুরুষোত্তম তৈরি হচ্ছ। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এই পুরুষোত্তম যুগে জীবন্মুক্ত হওয়ার জন্য পুণ্যকর্ম করতে হবে। পবিত্র অবশ্যই থাকতে হবে। ঘর বাড়ি ইত্যাদি সকলের থেকে মন থেকে আসক্তি সমাপ্ত করে দিতে হবে।

২ ) শ্রীমতে নিজের তন-মন-ধন দিয়ে দৈবী রাজ্য স্থাপন করতে হবে। পুরুষোত্তম বানানোর সেবা করতে হবে।

বরদান:-
সহযোগের দ্বারা নিজেকে সহজ যোগী বানিয়ে নিরন্তর যোগী ভব

সঙ্গম যুগে বাবার সহযোগী হয়ে যাওয়া - এই হলো সহজ যোগী হওয়ার বিধি । যার প্রতিটি সঙ্কল্প, শব্দ আর কর্ম বাবার বা নিজের রাজ্য স্থাপনার কর্তব্যে সহযোগী থাকার হয়, তাকে জ্ঞানী, যোগী তু আত্মা, নিরন্তর প্রকৃত সেবাধারী বলা হয় । মনের দ্বারা না হলে তনের দ্বারা, তনের দ্বারা না হলে ধনের দ্বারা, ধনের দ্বারাও যদি না হয় তাহলে যাতে সহযোগী হতে পারো, তাতেই সহযোগী হয়ে যাও, এও যোগ । যখন তোমরা বাবারই, তখন বাবা আর তোমরা - তৃতীয় আর কেউই থাকবে না, এতেই নিরন্তর যোগী হয়ে যাবে ।

স্লোগান:-
সঙ্গম যুগে সহ্য করা অর্থাৎ জীবন্মৃত হয়ে যাওয়া, এটাই হলো স্বর্গ রাজ্য প্রাপ্তি করা।

অব্যক্ত ঈশারা :- জ্বালা স্বরূপ স্থিতিতে থেকে শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো

সময় অনুযায়ী মনের যা কিছুই রয়ে গেছে, সম্বন্ধ - সম্পর্কের হিসেব - নিকেশ, তা জ্বালা স্বরূপ স্মরণে ভস্ম করো । একাগ্রতা, এ বাপদাদাও পাস করেন, এখন এই একাগ্রতাকে অগ্নি রূপে নিয়ে এসো । বিশ্বের চারিদিকে যে ভ্রষ্টাচার, অত্যাচারের অগ্নি জ্বলছে, তা তোমাদের মতো বাচ্চাদের যোগ অগ্নির দ্বারা, জ্বালা রূপ স্মরণে সমাপ্ত হয়ে যাবে ।