17.01.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
যখন এই ভারত স্বর্গ ছিল তখন তোমরা উজ্জ্বল আলোয় ছিলে, এখন হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন,
পুনরায় আলোর জগতে চলো”
প্রশ্নঃ -
বাবা নিজের
সন্তানদের কোন্ একটি কাহিনী শোনাতে এসেছেন?
উত্তরঃ
বাবা বলেন
মিষ্টি বাচ্চারা - আমি তোমাদের ৮৪ জন্মের কাহিনী শোনাই। তোমরা যখন প্রথম জন্মেছিলে
তখন একটি দৈবী ধর্ম ছিল পরে তোমরাই দুটি যুগের পরে বিশাল মন্দির বানিয়েছো। ভক্তি
শুরু করেছো। এখন এটা হল তোমাদের অন্তেরও অন্তিম জন্ম। তোমরা ডেকেছিলে দুঃখ হর্তা
সুখ কর্তা এসো... এখন আমি এসেছি।
গীতঃ-
আজ অন্ধকারে
আছে মানুষ...
ওম্ শান্তি ।
তোমরা জানো
এখন এটা হলো কলিযুগী দুনিয়া, সব এখন অন্ধকারে রয়েছে । প্রথমে আলোর জগতে ছিলে, যখন
ভারত স্বর্গ ছিল। এই ভারতবাসী যারা এখন নিজেদেরকে হিন্দু বলে পরিচয় দেয় তারা আসলে
দেবী-দেবতা ছিলো। ভারতে স্বর্গবাসীরা ছিলো যখন অন্য কোনো ধর্ম ছিল না। একটিই ধর্ম
ছিল। স্বর্গ, বৈকুণ্ঠ, বহিস্ত, হেভেন - এইসব ভারতেরই নাম ছিল। ভারত পবিত্র ও
প্রাচীন বিত্তবান ছিল। এখন তো ভারত কাঙাল হয়েছে, কারণ এখন হল কলিযুগ। তোমরা জানো
আমরা অন্ধকারে আছি। যখন স্বর্গে ছিলাম তখন আলোর জগতে ছিলাম। স্বর্গের রাজ-রাজেশ্বর,
রাজ-রাজেশ্বরী শ্রী লক্ষ্মী-নারায়ণ ছিলেন। তাকেই সুখধাম বলা হয়। বাবার কাছেই
তোমাদের স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে, যাকে জীবনমুক্তি বলা হয়। এখন তো
সবাই জীবন-বন্ধনে আছে। এখন বিশেষভাবে ভারত এবং সাধারণ দুনিয়া রাবণের কারাগারে, শোক
বাটিকায় আছে। এমন নয় রাবণ শুধু শ্রীলঙ্কায় ছিল আর রাম ছিল ভারতে, রাবণ এসে সীতাকে
হরণ করেছে। এইসবই হলো পৌরাণিক কাহিনী। গীতা হল মুখ্য, সর্ব শাস্ত্রময়ী শিরোমণি
শ্রীমৎ অর্থাৎ ভগবান প্রদত্ত, এই ভারতে। মানুষ তো কারো সদগতি করতে পারে না। সত্য
যুগে ছিল জীবনমুক্ত দেবী-দেবতা, যারা এই উত্তরাধিকার কলিযুগের অন্তে প্রাপ্ত করেছিল।
ভারতবাসীরা এই কথা জানেনা, আর না আছে কোনো শাস্ত্রে। শাস্ত্রে আছে ভক্তি মার্গের
জ্ঞান। সদগতি মার্গের জ্ঞান মানুষ মাত্রের একটুও নেই। সবাই ভক্তিই শেখায়। তারা বলবে
শাস্ত্র পাঠ করো, দান - পুণ্য করো। এই ভক্তি দ্বাপর থেকে আরম্ভ হয়। সত্যযুগ ও
ত্রেতায় থাকে জ্ঞানের প্রালব্ধ। এমন নয় যে সেখানেও এই জ্ঞান প্রচলিত থাকে। এই যে
উত্তরাধিকার ভারতের ছিল যা বাবার কাছে সঙ্গম যুগে প্রাপ্ত হয়েছিল সেসব এখন পুনরায়
তোমরা প্রাপ্ত করছো। ভারতবাসী যখন নরকবাসী হয়ে অসীম দুঃখে থাকে তখন আহ্বান করে - হে
পতিত-পাবন দুঃখ হর্তা সুখ কর্তা। কাদের? সর্ব জনের, কারণ বিশেষভাবে ভারত এবং সাধারণ
দুনিয়ায় সবার মধ্যেই ৫ টি বিকার আছে। বাবা হলেন পতিত-পাবন। বাবা বলেন - আমি
কল্প-কল্প, কল্পের সঙ্গমে আসি। সকলের সদগতি দাতা আমি। অহল্যা, গণিকা এবং যারা গুরু
ইত্যাদি আছে তাদের সকলের উদ্ধার আমাকেই করতে হয়। কারণ এ হল-ই পতিত দুনিয়া। পবিত্র
দুনিয়া সত্যযুগকে বলা হয়। ভারতে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। ভারতবাসী এই কথা
জানেনা যে লক্ষ্মী-নারায়ণ স্বর্গের মালিক ছিল। পতিত খন্ড অর্থাৎ মিথ্যা খন্ড,
পবিত্র খন্ড অর্থাৎ সত্যখন্ড। ভারত পবিত্র খন্ড ছিল, এই ভারত হল অবিনাশী খন্ড, যার
কখনও বিনাশ হয় না। যখন লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল তখন অন্য কোনো খন্ড ছিল না।
সেসব পরে আসে। মানুষ তো কল্পের অবধি লক্ষ বছর লিখে দিয়েছে। বাবা বলেন কল্পের আয়ু হল
৫ হাজার বছর। তারা যদিও বলে মানুষ ৮৪ লক্ষ জন্ম নেয়। মানুষকে কুকুর, বেড়াল, গাধা
ইত্যাদি সব বানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কুকুর, বেড়ালের জন্ম আলাদা, ৮৪ লক্ষ ভ্যারাইটি আছে।
মানুষের ভ্যারাইটি কেবল এক। তাদেরই ৮৪ জন্ম হয়। বাবা বলেন ভারতবাসী নিজেদের ধর্মকে
ড্রামা প্ল্যান অনুসারে ভুলে গেছে। কলিযুগের শেষে একেবারে পতিত হয়েছে। তারপর বাবা
সঙ্গমে এসে পবিত্র করেন, একেই বলা হয় দুঃখধাম পরে ভারত সুখধাম হবে। বাবা বলেন - হে
বাচ্চারা, তোমরা ভারতবাসী, স্বর্গবাসী ছিলে তারপরে তোমরা ৮৪ জন্মের সিঁড়ি বেয়ে নীচে
নেমে আসো। সতো থেকে রজো তমো-তে নিশ্চয়ই আসতে হয়। তোমরা-ই দেবতা, তোমাদের মতন
বিত্তবান, এভারহ্যাপি, এভারহেলদী, ওয়েলদি আর কেউ হয় না। ভারত খুব বিত্তশালী ছিল,
হীরে জহরত তো পাথরের মতন ছিল। দুই যুগ পরে ভক্তিমার্গে বিশাল মন্দির নির্মাণ করে।
তাও খুবই বহুমূল্য মন্দির তৈরি করে। সোমনাথের মন্দির সবচেয়ে বিশাল ছিল। শুধুমাত্র
একটি মন্দির নয়, তাইনা। অন্য রাজাদেরও মন্দির ছিল। কত মন্দির লুট করে নিয়ে গেছে।
বাচ্চারা, বাবা তোমাদের স্মরণ করাচ্ছেন। তোমাদের বিত্তবান বানিয়েছিলাম। তোমরা সর্ব
গুণ সম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ণ ছিলে, যথা মহারাজা - মহারানী । তাদেরকে ভগবান-ভগবতীও
বলা যায়। কিন্তু বাবা বুঝিয়েছেন - ভগবান হলেন এক, তিনি হলেন পিতা। শুধু ঈশ্বর বা
প্রভু বললে এই কথাটি স্মরণে আসে না যে তিনি হলেন সর্ব আত্মাদের পিতা। বাবা বসে
কাহিনী শোনান। এখন তোমাদের অনেক জন্মের অন্তিম জন্ম । একজনের কথা নয়, না কোনো
যুদ্ধের ময়দান ইত্যাদি আছে। ভারতবাসী এই কথা ভুলে গেছে যে তাদের রাজত্ব ছিল।
সত্যযুগের আয়ু বৃদ্ধি করে বহুদূরে নিয়ে গেছে। বাবা এসে বোঝান - মানুষকে ভগবান বলা
হবে না। মানুষ কারো সদগতি করতে পারে না। কথায় আছে - সর্বের সদগতি দাতা, পতিতদের
পাবনকর্তা হলেন একজন। একজনই সত্য পিতা, তিনি সত্যখণ্ডের স্থাপনা করেন। সবাই পূজা করে
কিন্তু তোমরা ভক্তি মার্গে যাঁর পূজা করেছো, তাদের কারো জীবন কাহিনী তো জানতে না,
তাই বাবা বোঝান, তোমরা শিবজয়ন্তী উৎসব তো পালন করো, তাইনা। বাবা হলেন নতুন দুনিয়ার
রচয়িতা, হেভেনলী গড ফাদার। অসীম সুখ প্রদানকারী। সত্যযুগে অনেক সুখ ছিল। সত্যযুগের
স্থাপনা কীভাবে এবং কে করেন? এই কথা বাবা বসে বোঝান। নরকবাসীকে এসে স্বর্গবাসীতে
পরিণত করা অথবা ভ্রষ্টাচারীদের শ্রেষ্ঠাচারী দেবতা বানানো, এই কাজটি তো একমাত্র
বাবার-ই কাজ। বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদের পবিত্র করি। তোমরা স্বর্গের মালিক
হও। তোমাদের পতিত কে বানায়? রাবণ। মানুষ তো বলে দুঃখও ঈশ্বর-ই দেয় । বাবা বলেন -
আমি তো সবাইকে এতো সুখ প্রদান করি যে অর্ধকল্প তোমরা বাবাকে স্মরণ-ই করবে না। তারপরে
যখন রাবণ রাজ্য হয় তখন সবাই পূজা অর্চনা করা আরম্ভ করে। এটা হলো তোমাদের বহু জন্মের
শেষ জন্ম। বাচ্চারা বলে বাবা আমরা কতগুলি জন্ম নিয়েছি? বাবা বলেন - মিষ্টি- মিষ্টি
ভারতবাসী, হে আত্মারা, এখন তোমাদের অসীমের উত্তরাধিকার প্রদান করি। বাচ্চারা, তোমরা
৮৪ জন্ম নিয়েছো। এখন তোমরা ২১ জন্মের জন্য বাবার কাছে উত্তরাধিকার নিতে এসেছো। সবাই
তো একসাথে আসবে না। তোমরাই সত্যযুগের সূর্যবংশী পদমর্যাদা পুনরায় প্রাপ্ত করো অর্থাৎ
প্রকৃত সত্য বাবার কাছে সত্য নর থেকে নারায়ণে পরিণত হওয়ার জ্ঞান প্রাপ্ত করো। এ হলো
জ্ঞান, ওটা হলো ভক্তি। শাস্ত্র ইত্যাদি সব হলো ভক্তি মার্গের জন্য। সেসব জ্ঞান
মার্গের নয়। এ হলো স্পিরিচুয়াল আধ্যাত্মিক (রূহানী) আত্ম জ্ঞান। সুপ্রিম আত্মা বসে
নলেজ প্রদান করেন। বাচ্চাদেরকে দেহী-অভিমানী হতে হয়। নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে
মামেকম্ স্মরণ করো। বাবা বোঝান - আত্মাতেই সুসংস্কার বা কুসংস্কার ভরা থাকে, সেই
অনুযায়ী মানুষের ভালো বা খারাপ জন্ম হয়। বাবা বসে বোঝান ইনি (ব্রহ্মা বাবা) পবিত্র
ছিলেন, অন্তিম জন্মে পতিত হয়েছেন, তৎত্বম্ (তুমিও তাই) । আমি পিতা , আমাকে এই পুরানো
রাবণের দুনিয়ায়, পতিত দুনিয়ায় আসতে হয়। সেই দেহে আসতে হয় যে প্রথম নম্বরে যাবে।
সূর্যবংশীরাই সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নেয়। এই হল ব্রহ্মা এবং ব্রহ্মা বংশী ব্রাহ্মণ। বাবা
তো রোজ বোঝান। পাথরবুদ্ধি থেকে স্পর্শবুদ্ধি হওয়া মাসির বাড়ি যাওয়ার মতন সহজ নয়। হে
আত্মারা, এখন দেহী-অভিমানী হও। হে আত্মারা, এক পিতাকে স্মরণ করো এবং রাজত্বের কথা
স্মরণ করো। দেহের সম্বন্ধ ত্যাগ করো। মৃত্যু তো সকলের অবধারিত। সবার-ই এখন
বাণপ্রস্থ অবস্থা। এক সদগুরু ব্যতীত সর্বের সদগতি দাতা আর কেউ নয়। বাবা বলেন - হে
ভারতবাসী বাচ্চারা, তোমরা সর্ব প্রথমে আমার কাছ থেকে দূরে যাও। গায়ন আছে -
আত্মারা-পরমাত্মা দূরে রয়েছে বহুকাল .... সৃষ্টিতে সর্ব প্রথমে তোমরা ভারতবাসী
দেবী-দেবতা ধর্মীয়জনরাই এসেছো। অন্য ধর্মের মানুষের জন্ম সংখ্যায় কম থাকে। সম্পূর্ণ
চক্র কীভাবে আবর্তিত হয় সেই জ্ঞান বাবা বসে বোঝান। যারা ধারণ করাতে পারে না, তাদের
জন্যও খুব সহজ। আত্মারা ধারণ করে, পুণ্য আত্মা, পাপ আত্মা হয় তাই না। এ হলো তোমাদের
৮৪তম অন্তিম জন্ম। তোমরা সবাই বাণপ্রস্থে আছো। বাণপ্রস্থে অনেকে গুরুর কাছে দীক্ষিত
হয়, মন্ত্র প্রাপ্ত করার জন্য। তোমাদের তো এখন দেহধারী গুরুর কাছে দীক্ষা নেওয়ার
কোনও দরকার নেই। তোমাদের সবার আমি হলাম পিতা, টিচার, গুরু। তোমরা আমাকে সম্বোধন করো
- হে পতিত-পাবন শিববাবা। এখন স্মৃতি এসেছে। সব আত্মাদের পিতা, আত্মা হল সত্য,
চৈতন্য কারণ আত্মা হল অমর। সব আত্মার মধ্যে পার্ট ভরা আছে। বাবাও হলেন সত্য চৈতন্য।
মনুষ্য সৃষ্টির বীজ রূপ হওয়ার কারণে তিনি বলেন - আমি সম্পূর্ণ বৃক্ষের
আদি-মধ্য-অন্তকে জানি, তাই আমাকে নলেজফুল বলা হয়। তোমাদেরও পুরো নলেজ আছে। বীজ থেকে
বৃক্ষ কীভাবে বেরিয়েছে। বৃক্ষের বৃদ্ধি হতে সময় লাগে। বাবা বলেন আমি বীজরূপ, শেষে
সম্পূর্ণ বৃক্ষ জর্জরিত হয়ে যায়। এখন দেখো দেবী-দেবতা ধর্মের ফাউন্ডেশন নেই।
একেবারেই লুপ্ত প্রায়। যখন দেবতা ধর্ম লুপ্ত হয় তখন বাবাকে আসতে হয় - এক ধর্মের
স্থাপনা করে বাকি সব ধর্মের বিনাশ করান। প্রজাপিতা ব্রহ্মা দ্বারা শিববাবা স্থাপনা
করাচ্ছেন, আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের। এইসব ড্রামাতে নির্দিষ্ট আছে। এর কোনো শেষ
নেই। বাবা আসেন অন্ত সময়ে। যখন সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের নলেজ প্রদান করার সময় হয়
অর্থাৎ নিশ্চয়ই সঙ্গমে আসবেন। তোমাদের পিতা একজন ই। আত্মারা সবাই হলো ব্রাদার্স,
মূলবতনবাসী। একমাত্র পিতাকে সবাই স্মরণ করে। দুঃখে স্মরণ সবাই করে... রাবণের রাজ্যে
দুঃখ আছে তাইনা। এখানে স্মরণ করে সুতরাং একমাত্র বাবা হলেন সর্বজনের সদগতি দাতা।
তাঁরই মহিমা। বাবা না এলে ভারতকে স্বর্গে পরিণত করবে কে! ইসলামী ইত্যাদি সবাই এই
সময় তমোপ্রধান। সবাইকে পুনর্জন্ম তো অবশ্যই নিতে হবে। এখন পুনর্জন্ম হয় নরকে। এমন
নয় যে স্বর্গে গমন হয়। যেমন হিন্দুরা বলে স্বর্গবাসী হয়েছে অর্থাৎ নরকে ছিল। এখন
স্বর্গে গেছে। তোমাদের মুখে গোলাপ। স্বর্গবাসী হয়েছে তাহলে নরকের আসুরিক বৈভব তোমরা
তাদের কেন খাওয়াও! বেঙ্গলে মাছ ইত্যাদিও খাওয়ানো হয়। আরে, তাদের এইসব খাবারের কি
প্রয়োজন! বলে অমুক পার নির্বাণ গেছে, বাবা বলেন এইসবই হল গপ্পো। ফিরে তো কেউ যেতেই
পারে না। যদিও প্রথম নম্বরে যারা তাদেরকে ৮৪ জন্ম নিতে হয়।
বাবা বোঝান এতে কোনো
কষ্ট নেই। ভক্তি মার্গে অনেক কষ্ট। রাম নাম জপ করতে করতে শিহরণ অনুভব করে। সেসবই হল
ভক্তি মার্গ। এই সূর্য-চন্দ্র তোমরা জানো আলো প্রদান করে। এরা দেবতা নয়। বাস্তবে
জ্ঞান সূর্য, জ্ঞান চন্দ্র এবং জ্ঞান তারা হয়। তাদেরই মহিমা বর্ণনা হয়। তারা বলে
দেয় সূর্য দেবতায় নমঃ। তাকে দেবতা মনে করে জল অর্পণ করে। অতএব বাবা বোঝান এই সব হল
ভক্তি মার্গ, যা হবেই। প্রথমে হয় অব্যভিচারী ভক্তি এক শিববাবার, তারপরে দেবতাদের,
তারপর নামতে নামতে এখন দেখো তিন রাস্তার মোড়ে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে, তাতে তেল
ইত্যাদি ঢেলে তার পূজা করে। তত্ত্বের পূজাও করে। মানুষের চিত্র বানিয়ে পূজো করে।
এখন এর থেকে প্রাপ্তি তো কিছুই নেই, এই কথা গুলি তোমরা বাচ্চারাই বোঝো। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
আত্মায় নিহিত কু-সংস্কার গুলি দূর করার জন্য দেহী-অভিমানী থাকার প্র্যাক্টিস করতে
হবে। এ হলো ৮৪তম অন্তিম জন্ম, বাণপ্রস্থ অবস্থা তাই পুণ্য আত্মা হওয়ার পরিশ্রম করতে
হবে।
২ ) দেহের সর্ব
সম্বন্ধ ত্যাগ করে একমাত্র বাবাকে এবং রাজত্বকে স্মরণ করতে হবে, বীজ এবং বৃক্ষের
জ্ঞান স্মরণ করে সদা প্রফুল্লিত থাকতে হবে।
বরদান:-
উপরাম
আর এভারেডি হয়ে বুদ্ধি দ্বারা অশরীরী ভাবের অভ্যাসকারী সর্ব কলাতে সম্পন্ন ভব
যেরকম সার্কাসে
কলকৌশল দেখানো কলাকারের প্রত্যেক কর্মই কলাকৌশল হয়ে যায়। সেই কলাকারেরা শরীরের
যেকোনও অঙ্গকে যেরকম চায়, যেখানে চায়, যতটা সময় চায় মোল্ড করতে পারে, এটাই হলো কলা।
তোমরা বাচ্চারা বুদ্ধিকে যখন চাও, যতটা সময় যেখানে স্থিত করতে চাও সেখানে স্থির করে
নাও - এটাই হলো সবথেকে বড় কলা। এই একটা কলার দ্বারা ১৬ কলা সম্পন্ন হয়ে যাবে।
এরজন্য এমন ঊর্ধ্বমুখী আর এভারেডি হও যে অর্ডার অনুসারে এক সেকেন্ডে অশরীরী হয়ে যেতে
পারো। যুদ্ধে সময় যাবে না।
স্লোগান:-
সরলতা
আর সহনশীলতার গুণকে ধারণকারীই সত্যিকারের স্নেহী আর সহযোগী হওয়া।
অব্যক্ত ঈশারা :- এই
অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো
যে বাচ্চারা পরমাত্ম
জ্ঞানী হয়, তাদের জ্ঞানের ফল স্বরূপ মুক্তি আর জীবন্মুক্তির উত্তরাধিকার সঙ্গমেই
প্রাপ্ত হয়ে যায়। জ্ঞান অর্থাৎ বোধ। বুঝদার আত্মা প্রত্যেক কর্ম করেও সদা নিজেকে
বন্ধনমুক্ত, সকল আকর্ষণ থেকে মুক্ত বানানোর বোধ রাখে। তাদের প্রত্যেক সংকল্প, বাণী,
কর্ম, সম্বন্ধ আর সম্পর্কে মুক্তি-জীবন্মুক্তির স্টেজ থাকে, যাকে পৃথক এবং প্রিয় বলা
হয়ে থাকে।