21-06-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 15-11-2010 মধুবন


‘‘স্ব-পরিবর্তনের গতি তীব্র ক'রে সংস্কার-স্বভাবের সমাপ্তি সমারোহ উদযাপন করো, সব সঙ্কল্প বোল আর কর্মে ব্রহ্মা বাবাকে কপি করো"


আজ বাপদাদা সবার ললাটে ভাগ্যের ঝলমলে তিন লক্ষণ দেখছেন। এক হলো বাবা দ্বারা পালনার ভাগ্য, দুই) শিক্ষক রূপে শিক্ষার ভাগ্য, তিন) সদ্গুরু দ্বারা বরদানের ভাগ্য। তিন ভাগ্য উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত দেখতে পাচ্ছেন। প্রত্যেকের ললাটভাগ তিন ভাগ্য দ্বারা জ্বলজ্বল করছে। এমন ভাগ্য আর কারও ললাটভাগে উজ্জ্বলরূপে দৃশ্যমান নয়। কিন্তু তোমাদের সকলের ললাটভাগ ভাগ্য দ্বারা উদ্ভাসিত। তোমরাও সবাই নিজেদের ভাগ্য দেখতে পাচ্ছ তো না! বাপদাদা দেখেছেন ভাগ্য তো সবার প্রাপ্ত হয়েছে কিন্তু ভাগ্যের দীপ্তি সবার একরকম নয়। কারও দীপ্তি অনেক তীব্র, কারও দীপ্তি কিছু কম প্রতীয়মান হয়। বাস্তবিকপক্ষে, বাপদাদা সবাইকে একসাথে একই রকম ভাগ্য দিয়েছেন। সবাইকে একই পড়া পড়িয়ে থাকেন। একরকম পালনা দিয়েছেন। আদি রত্ন বা পরে যারা এসেছে সবার একই মুরলী দ্বারা পালনা প্রাপ্ত হয়, পঠন-পাঠন প্রাপ্ত হয়। সবার একই বরদান প্রাপ্ত হয়। আদি রত্নদের মুরলী আলাদা হয় না, একই হয়। অথচ, ভাগ্যের উজ্জ্বলতা নম্বরক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছে। বাবার ভালোবাসার পালনা সবার একরকম প্রাপ্ত হচ্ছে। প্রত্যেকের মুখ থেকে এটাই বের হচ্ছে "আমার বাবা।" হয় তারা কেউ আগে এসেছে অথবা কেউ পরে এসেছে, কিন্তু প্রত্যেকে নিজের অধিকার থেকে বলে আমার বাবা। যে কোনো কাউকে যদি জিজ্ঞাসাও করো বাবার থেকে ভালোবাসা প্রাপ্ত হয়েছে? তো অধ্যাত্ম নেশার সাথে তারা বলে বাবার ভালোবাসা সবচাইতে বেশি প্রাপ্ত হয়েছে আমার। এই যে আমার বাবা যারা বলছ তারা আধ্যাত্ম নেশার সাথে হৃদয় থেকে বলো যে আমার ভালোবাসা সবচাইতে বেশি? বাবার ভালোবাসা আগে আমার প্রতি কেননা, ভালোবাসাই বাবার পালনা। আমার বাবা - এটা স্বীকৃত হওয়ায় তোমরা বাবার হয়ে গেছো আর বাবা তোমার হয়ে গেছেন।

আজ তোমরা সবাই এসেছো, তো ভালোবাসার প্লেনে এসেছো। ভালোবাসা সবাইকে টেনে নিয়ে এসেছে এখানে। সবাই ভালোবাসার সাথে আরামে পৌঁছে গেছে। এই পরমাত্ম ভালোবাসা শুধু এখন সঙ্গমে প্রাপ্ত হয়। দেব আত্মাদের ভালোবাসা প্রাপ্ত হয় কিন্তু পরমাত্ম ভালোবাসা এই এক জন্মে প্রাপ্ত হয়। তো বাপদাদাও এমন যোগ্য আত্মাদের দেখে কী বলেন? বাঃ! বাচ্চারা বাঃ! তোমরাই কোটির মধ্যে কতিপয় যোগ্য হয়েছো আর প্রতি কল্প তোমরাই যোগ্য হবে। চলতে ফিরতে এমন নেশা তোমাদের থাকে তো না! তোমাদের হৃদয়ও এই গীত গায় বাঃ আমার ভাগ্য! এই গীত নিরন্তর গাও তো না! বাবাও খুশি হন যে এই সব বাচ্চা অধিকারী। পরমাত্ম ভালোবাসায় নিজেকে কোনওভাবে কম মনে ক'রো না। ভালোবাসায় সবাই পাশ। বাপদাদা জিজ্ঞাসা করেন, সবচাইতে কা'র ভালোবাসা বেশি? তো কে বলবে? সবাই জানে যে আমার ভালোবাসা কম নয়, বাবাও বলেন যে ভালোবাসার সাবজেক্টে সবাই পাশ, তবেই আমার বাবা বলো তোমরা! কত ভালোবাসা রয়েছে তা' প্রত্যেকে জানে। তো বাপদাদা দেখেছেন যে ভালোবাসায় তো সবাই পাশ, কিন্তু এখন সময় অনুসারে স্ব-পরিবর্তনেরও আবশ্যকতা আছে। শুধু স্ব পরিবর্তনের ব্যাপারে তোমাদের বিশেষভাবে বলাও হয়েছিল যে এই সময় স্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশেষ সংস্কার পরিবর্তন ও স্বভাব পরিবর্তনের আবশ্যকতা আছে।

এখন নতুন বছর শুরু হয়েছে, তো স্ব পরিবর্তনের গতি ফাস্ট হওয়া প্রয়োজন। তোমরা করেও থাকো, অ্যাটেনশনও রাখো কিন্তু গতি এখন ফাস্ট হওয়া চাই। বাপদাদার স্মরণ আছে আগেও তোমরা প্রতিজ্ঞা করেছ যে নতুন বছরে স্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংস্কার পরিবর্তন করতেই হবে। কিন্তু বাপদাদা দেখেছেন যে সংস্কার পরিবর্তনে যতটা ফাস্ট পুরুষার্থ প্রয়োজন তার গতি আরও ফাস্ট দরকার। তোমরা কী ভাবছ, সময় অনুসারে যত ফাস্ট গতি দরকার সেই অনুসারে প্রত্যেকের তীব্র পুরুষার্থ হয়েছে, নাকি আরও হওয়া উচিত? কেননা, সময় অনুসারে সময়ের পরিবর্তন ফাস্ট হচ্ছে, তো তোমাদেরও তীব্র পরিবর্তন তখনই হবে যখন সঙ্কল করার সাথে সাথে কার্যে পরিণত হবে। অযথার্থ সঙ্কল্প এমনভাবে সমাপ্ত হওয়া উচিত যেন কোনো কাগজে বিন্দু লাগানো। কত সময় লাগবে? অযথার্থ অর্থাৎ ফালতু সঙ্কল্প। বিন্দু লাগানোর মতো ফাস্ট পরিবর্তন হওয়া চাই। তাহলে কী, এমন গতি যা বাপদাদা চান সেটা করতে পারো? মনোবল আছে? যারা মনে করো যে এখন থেকে এতটাই গতিতে বিন্দু লাগাতে পারবে, সাহসী বাচ্চা, বাবার সহায়তা লাভকারী তারা হাত উঠাও। বাপদাদা বাচ্চাদের দৃঢ় সঙ্কল্প দেখে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বাপদাদা আগেও বলেছেন যে দৃঢ় সঙ্কল্পের সঙ্কল্প হলো - করতেই হবে। তো আজকের সভায় সকলে দৃঢ় সঙ্কল্প করেছ তো না! তোমরা দাদিরা দেখেছো মেজরিটি হাত তুলেছে। দেখেছো! তো কাল থেকে স্বভাব সংস্কার সমাপ্তির সেরিমনি উদযাপন করা চাই। উদযাপন করবে? যারা হাত তুলেছো তারা হাত তোলো সেরিমনি উদযাপন করবে? এটার সেরিমনি তো খুব ধুমধামের সাথে উদযাপন ক'রো। যেমন লক্ষ্যে মনোবল বজায় রেখেছো তেমনই যদি লক্ষণেও মনোবল বজায় থাকে তবে কোনো বড় ব্যাপার নয়। যখন লক্ষ্যই আছে বাবা সমান হওয়ার তখন লক্ষ্য আর লক্ষণ এক করতে হবে এখন। ফলো ব্রহ্মা বাবা। যে সঙ্কল্প বোল কর্ম করো না কেন আগে ব্রহ্মা বাবার সাথে মিলিয়ে নাও। কপি করো। দুনিয়াতে কপি করা বারণ কিন্তু বাপদাদা বলেন ব্রহ্মা বাবাকে কপিই করো। নিরাকার বাবার জন্য তো বলবে তাঁর দেহ নেই তো দেহবোধ কি হবে! কিন্তু ব্রহ্মাবাবা দেহধারী। বাস্তবে দেখো, তোমরা সারেন্ডার করেছো, যারা সারেন্ডার করেছ তারা হাত তোলো, যারা সারেন্ডার্ড তারা হাত তোলো। সারেন্ডার যখন করেছোই তো কী সঙ্কল্প করেছো? তন মন ধন সবকিছু বাবা আপনার। এরকম করেছোনা! করেছো? করেছিলে? এ' ব্যাপারে হাত তোলো। তো এখন সারেন্ডার করেছো - আমার নয়, তনও আমার নয়, ধনও আমার নয়। যেমন ব্রহ্মা বাবা বাবা-সেবার্থে শরীর দিয়ে দিয়েছেন। তো ব্রহ্মা বাবা জানতেন যে এই শরীর আমায় নয়, এই শরীর সেবার্থে। তো যখন নিজের তন মন ধন তিনই অর্পণ করেছ তো তোমার শরীর বাবা সেবার্থের নিমিত্ত। যেমন ব্রহ্মা বাবার শরীর সেবা অর্থে ছিল, তো তোমাদের শরীর তোমাদের নয় সেবার্থে রয়েছে। তো এই দেহ-অভিমান বা দেহ বোধের যে সংস্কার - এটা হওয়া উচিত? এটা স্মৃতিতে রাখো যে এই তন বিশ্ব সেবার্থে, আমার নয়, বাবা তোমাকে দিয়েছেন সেবা অর্থে। তো দেহবোধ ও দেহ-অভিমানের মধ্যে দেহ-অভিমান বেশি ক্ষতি করে। এর থেকে দেহবোধ হালকা, কিন্তু দুটোই যখন দিয়ে দিয়েছ... ফর্ম পূরণ করো তো না! কী লেখ? টিচার্স, ফর্ম পূরণ করাও তো, তাই না? আমার এই জীবন এখন সেবার জন্য। সবাই, যারাই ব্রাহ্মণ হয়েছ তাদের সকলেরই বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা রয়েছে তন মন ধন বাবার, আমার নয়। তো দেহবোধ কিংবা দেহ অভিমানে সংস্কার উৎপন্ন হয়, সেইজন্য তোমরা আজও প্রতিজ্ঞা করেছ সংস্কার সমাপ্তির। কারণ এগুলোই বাবাকে প্রত্যক্ষ করানোর পথে বিঘ্ন উৎপন্ন করে। তোমাদের সকলেরই এই উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে। বাপদাদা শুনতে থাকেন, তোমরাও বলতে থাকো - বাবাকে প্রত্যক্ষ করাতে হবে। এখনো পর্যন্ত ব্রহ্মাকুমারী ব্রহ্মাকুমার প্রত্যক্ষ হয়েছে। ভগবান বাবা এসে গেছেন - বাবার এই প্রত্যক্ষতা এখনো গুপ্ত আছে। তোমরা এর জন্য পুরুষার্থ করছ কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে এই আওয়াজ এখন ছড়িয়ে পড়া উচিত - 'আমাদের বাবা এসে গেছেন।' এটা ভগবানুবাচ, এ' কথন ব্রহ্মাকুমারীদের নয়। এখন প্রত্যক্ষতা হতেই হবে। স্বভাব- সংস্কার পরিবর্তন হতে হবে, তোমাদের প্রত্যেকের মুখ এবং আচরণ দ্বারা প্রত্যক্ষতা হবে। বাবাকে প্রত্যক্ষ করাতেই হবে তোমাদের, সেটা তোমরা করছও। কিন্তু এখন সকলের কানে এই আওয়াজ গুঞ্জিত হওয়া উচিত যে ভগবান এসে গেছেন বাবা এসে গেছেন। এটা হতে হবে তো না! হাত তোলো হতে হবে, হতে হবে? হাত তো খুব ভালোই তুলেছো। বাপদাদা খুশি যে তোমাদের সকলের মনে নিষ্ঠা আছে এটা হতেই হবে। এর জন্য তোমরা যেমন কাল থেকে সংস্কার-স্বভাবের পরিবর্তন করবে তেমন তার সাধন হবে প্রত্যেকে যারা ব্রাহ্মণ, সেই সব ব্রাহ্মণকে নিজের পার্টে শুভ ভাবনা শুভ কামনার বিশেষ অ্যাটেনশন রাখা। যেমন, দুনিয়ার লোককে তোমরা কাজ দিয়েছ কত সময় তারা শুভ ভাবনা শুভ কামনা রাখতে পারে, তাদেরকে রাখতে পারার কথা বলেছ আর তোমরা তো রাখতেই পারো। যে কোনো সময় কারও স্বভাব- সংস্কারের সম্মুখীন তখনই হও যখন সেই আত্মার প্রতি সেই সময় তোমাদের শুভ ভাবনা শুভ কামনা থাকে না। তো তোমরাও যদি অমৃতবেলা থেকে এই সঙ্কল্প করো যে সব আত্মার প্রতি শুভ ভাবনা শুভ কামনা রাখতেই হবে, তবেই যে সঙ্কল্প করেছো পরিবর্তন করতেই হবে সেটা সম্পূর্ণ করতে পারবে। পরিস্থিতি আসবে, পরিস্থিতির কাজই হলো আসা। মায়া আছেনা! আর তোমাদের কাজ হলো বিজয় প্রাপ্ত করা। তো কাল নিজেদের মধ্যে গ্রুপ বানিয়ে যারা নিমিত্ত তাদের সাথে আত্মিক কথোপকথন করো, তোমাদের যে সঙ্কল্প আছে তা' ভবিষ্যতে প্র্যাকটিক্যালি কীভাবে নিয়ে আসা যায়! ফিনিশ বিন্দু লাগিয়ে দাও। হাত তো উঠিয়েছ, তাই না! যারা সামনে ব'সে তারা হাত উঠিয়েছে। তো তোমাদের নিমিত্ত হতে হবে। যেমন ব্রহ্মা বাবার সামনে প্রথম প্রথম কতরকম সংস্কারের সব এসেছে! আদিতে ব্রহ্মা বাবা কত সংস্কারের খেলা দেখেছেন! কিন্তু বাবার সহযোগে অগ্রচালিত হয়ে অন্যদেরও অগ্রচালিত করেছেন, যার রেজাল্ট রূপে আজ কত সংখ্যক হয়ে গেছে। চঞ্চল পরিস্থিতি এলেও তিনি অনড় থেকেছেন। তার পরিণাম স্বরূপ কত সেন্টার খুলে গেছে, কত প্রোগ্রাম হচ্ছে!

আজকাল কত প্রোগ্রাম হচ্ছে! হয়েছে তো না! এই সমস্ত রেজাল্ট ব্রহ্মা বাবার সাহস, প্রথমে একা ব্রহ্মা বাবা ছিলেন, তোমরা পরে এসেছ। কিন্তু একা সাহস বজায় রেখে এগিয়ে গেছেন। রেজাল্টে প্র্যাকটিক্যালি প্রমাণিত - তোমরা সবাই সাথি। তো আছেনা সাহস! ব্রহ্মা বাবা একা সাহস রেখেছেন, তোমরা সাথিরা তো অনেক। তো ফলো ফাদার। সবাই তোমরা নিজেকে ব্রহ্মা বাবার বাচ্চা সাথি বাচ্চা মনে করো তো না! সাথে আছ, সাথে যাবে আর ব্রহ্মা বাবার সাথে রাজ্যে যাবে। তো এখনই সময়। যেমন ব্রহ্মা বাবা সাহস রেখেছেন। তোমরা রেজাল্ট দেখতে পাচ্ছ। তো এই সংগঠনে যদি সাহসের পা রাখো তবে কী না হতে পারে! কল্প কল্প হয়েছে, হতেই হবে।

তো এখন বাবা কী চান তা' বলেছেন। শুধু তোমরা সবাই একটা বিষয় নির্দিষ্ট করো, সেই একটা বিষয় হলো সাধারণ পুরুষার্থকে তীব্র পুরুষার্থে পরিবর্তন করো। বাপদাদা দেখেছেন যে কোথাও কোথাও আসাবধানতা হয়ে যাওয়ারই আছে। বিজয় তো আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার - এভাবে জ্ঞানের হিসেবে তোমরা নিশ্চিত। কিন্তু আসাবধানতার ব্যাপারেও এই শব্দ আসে, আমার বিজয় তো হয়েই আছে। কোনো কাজ আটকে নেই, হতেই হবে। এক হলো পুরুষার্থের এই শব্দ, আরেক হলো অসাবধানতারও এই শব্দ। কোনো কাজ আটকে যাওয়ার নেই, হতেই হবে ... তো এ'টা অসাবধানতা, এই সংস্কারও চেক করো। অসাবধানতার লক্ষণ হলো - তার জীবনে ছোট ছোট বিষয়ে ক্লান্তি দৃশ্যমান হবে। চেহারায় সেই খুশির আভা দৃশ্যমান হবে না। সেবা দ্বারা পুণ্য হচ্ছে তো মুখে খুশি থাকা উচিৎ। কোনো না কোনো রকমের ক্লান্তির কারণ কোনো না কোনো বিষয়ের অসাবধানতা। যখন করতেই হবে তখন খুশির সাথে করো। তোমাদের মুখমণ্ডল যেন সেবা করে, তোমাদের আচরণ যেন সেবা করে। তো আজ মেজরিটির সংস্কার সমাপ্তির হাত দেখে বাপদাদা বারবার অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন।

আচ্ছা - এই গ্রুপে যারা প্রথমবার এসেছো তারা উঠে দাঁড়াও। দেখেছো কত! অনেক আছে। হাত নাড়াও। প্রথমবার আগতদের নিজের বাবার সাথে মিলনের অভিনন্দন। তো বিশেষ সময় অনুসারে এখন তোমাদের তীব্র পুরুষার্থ করতে হবে আর বাপদাদার এটাই বলা যে, যারা তীব্র পুরুষার্থ করবে তারা লাস্ট থেকে ফাস্ট আর ফাস্ট থেকে ফার্স্ট হয়ে যাবে। এরকম চমৎকার করতে হবে। চান্স আছে। এমন ভেবো না তুমি লাস্টে আসনি ব'লে ফাস্ট যেতে পারো। তাই সবসময় তীব্র পুরুষার্থ করতেই হবে। বদলাতেই হবে। বো বো ক'রো না - দেখবো ভাববো .. এমন বো বো ক'রো না। এটা ভালো। ঘর দাতা আর নিজের ঘর ভালো লেগেছে তো না! তো সব ভাইবোন তোমাদের স্বাগত জানায়। আচ্ছা।

এখন চতুর্দিকের ব্রাহ্মণ বাচ্চারা বাপদাদার স্নেহ ভরা স্মরণের স্নেহ-সুমন স্বীকার করো। বাপদাদা জানেন দূরে বসেও অনেক বাচ্চা দেখছেও মিলনও উদযাপন করছে। চতুর্দিকের সেই সব বাচ্চাকে বাপদাদা এটাই বলেন ঠিক যেমন এখন সবাই সংস্কার সমাপ্ত করতে মেজরিটিতে হাত উঠিয়েছ, তেমনই এখন তোমরা সবাই মিলে একই সঙ্কল্প রূপী হাত উঠাচ্ছ - এখন আমরা সবাই মিলে সমাপ্তির সময় সমীপে নিয়ে আসার সঙ্কল্প করছি। তারপর যখন চতুর্দিকে সময় সম্পূর্ণ হবে তখন তোমরা ব্রহ্মা বাবা শিব বাবা উভয়কে প্রত্যক্ষ করাবে - আমাদের বাবা এসে গেছেন। প্রত্যেকের মুখ থেকে যেন বাবার প্রত্যক্ষতা হয়। এখন এই বছরে এই দৃঢ় সঙ্কল্প রাখো যে বাবার প্রত্যক্ষতা করতেই হবে। অর্ধেক কাজ তো বাবা করেছেন, বাচ্চাদেরকে বিশ্বের সামনে প্রত্যক্ষ করিয়েছেন, এখন বাচ্চাদের কার্য হলো ভগবান এসে গেছেন এই আওয়াজ বিশ্বের একেক বাচ্চার কাছে পৌঁছানো। তো সবাইকে বাপদাদা দেখে প্রত্যেককে হৃদয়ের স্নেহ হৃদয়ের ভালোবাসা হৃদয়ের উৎসাহ উদ্দীপনা ভরা স্মরণের স্নেহ-সুমন দিচ্ছেন। আচ্ছা।

সেবার টার্ন কর্ণাটক জোনের : সেবার চান্স নেওয়া অর্থাৎ বাবার সমীপে আসার চান্স পাওয়া। দেখ, সেবার কারণে কত লোকে আসার চান্স পায়। তোমরা সব নিমিত্ত টিচারদের সবার আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। কেননা, তোমরা সেবার সাহস রেখেছ আর কত সংখ্যকের চান্স প্রাপ্ত হয়েছে। বাপদাদা দেখেছেন যে যারা নতুন তারা প্রথমবারে অনেক এসেছে। যারা কর্ণাটক থেকে প্রথমবার এসেছ তারা লম্বা ক'রে হাত উঠাও। প্রথমবারেও অনেক এসেছে। এটা ভালো। কর্নাটকের ভালো বৃদ্ধি হয়েছে। এখন,যেরকম বৃদ্ধি হয়েছে সেরকম তীব্র পুরুষার্থের বিধির তরঙ্গ চতুর্দিকে ছড়িয়ে দাও। নম্বর নিয়ে নাও। সংস্কার সমাপ্তির নম্বর নিয়ে নাও। নিতে পারো? যে মনে করো আমি প্রথম নম্বর নিতে পারি সে হাত তোলো। ভালো। এরকম নিজেদের মধ্যে সংগঠন ক'রে প্রোগ্রাম বানাও তোমরা সবাই এক। স্থান ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু আমরা এক। এই চমৎকার ক'রে দেখাও। আছেনা সাহস? সাহস আছে? তো বাপদাদার কাছে সমাচার আসতে থাকে। তো মধুবনে প্রতি মাসে নিজের পরিবর্তনের সমাচার লিখো। লিখবে তো না! প্রতি মাসের। যা হয়ে গেছে তা' অতীত। নম্বর ওয়ান হয়ে দেখাও। এটা ভালো। বাপদাদা দেখেছেন সেবা ভালো হচ্ছে, এখন সংগঠন দেখতে চান। এক্সাম্পল হও। রেডি, রেডি আছ? হাত তোলো। তোমরা দেখো এক মাসের মধ্যে রেজাল্ট আসবে। আচ্ছা। অনেক অনেক বিশেষ স্মরণের স্নেহ-সুমন ।

বরদান:-
সম্পূর্ণ সমর্পণের বিধির দ্বারা আপনবোধের অধিকার সমাপ্ত ক'রে সমান সাথী ভব

তোমাদের যে প্রতিজ্ঞা আছে সাথে থাকবে, সাথে যাবে আর সাথে রাজত্ব করবে - এই প্রতিজ্ঞা তোমরা তখনই পালন করতে পারবে যখন সাথির সমান হবে। সমতা আসবে সমর্পণ থেকে। যখন সবাই সমর্পণ ক'রে দিয়েছো তখন নিজের বা অন্যের অধিকার সমাপ্ত হয়ে যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত কারও অধিকার থাকে ততক্ষণ সর্ব-সমর্পণে কমতি আছে। সেইজন্য সমান হতে পারবে না। তো সাথে থেকে, সাথে ওড়ার জন্য শীঘ্রাতিশীঘ্র সমান হও।

স্লোগান:-
নিজের শ্বাস সময় আর সঙ্কল্প সফল করাই সফলতার আধার।

অব্যক্ত ইশারা :- সদা হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচার সরল বানাও, সহনশীল হও যে সরল স্বভাবের হবে তার মধ্যে অন্তর্লীন করার শক্তি আপনা থেকেই থাকবে। যে সরল স্বভাবের সে সকলের সহযোগী আর স্নেহিও হবে এবং যত সরল স্বভাবের হবে মায়া ততই কম সংঘাত করবে। যারা সরল স্বভাবের তাদের ব্যর্থ সঙ্কল্প চলে না। তাদের সময়ও ব্যর্থ যায় না। তাদের বুদ্ধি বিশাল আর দুরদর্শী হয়। সেইজন্য তাদের সামনে কোনো সমস্যা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। বিশেষ সূচনা : মাসের তৃতীয় রবিবারের যোগ অভ্যাস আজ মাসের তৃতীয় রবিবার সব ভাইবোন সংগঠিত ভাবে একত্রিত হয়ে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট থেকে ৭:৩০ মিনিট পর্যন্ত নিজের ফরিস্তা স্বরূপ দ্বারা লক্ষ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়ানো দুঃখী অশান্ত আত্মাদের সুখ শান্তির পবিত্র কিরণ দিয়ে পরমাত্ম বাবার স্মৃতি জাগিয়ে তোলার সেবা করুন।