21.08.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
মিষ্টি বাচ্চারা -
বাবা হলেন মিষ্টি থেকে মিষ্টি স্যাকারিন, সেইজন্য অন্য সব বিষয় ছেড়ে এক বাবাকেই
স্মরণ করলে তোমরাও মিষ্টি স্যাকারিন হতে পারবে"
প্রশ্নঃ -
তোমরা বাবার
কাছ থেকে শ্রীমৎ নিয়ে নিজেদের ভিতরে কোন্ সংস্কার ভরছো?
উত্তরঃ
ভবিষ্যতে
পরামর্শদাতা ছাড়াই (উজির) সম্পূর্ণ বিশ্বে রাজত্ব করার। তোমরা এখানে এসেইছ ভবিষ্যতে
রাজধানী পরিচালনা করার জন্য শ্রীমৎ নিতে। বাবা তোমাদের এমনই শ্রীমৎ দিয়ে থাকেন যাতে
অর্ধকল্প তোমাদের আর কারো পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না। পরামর্শ তাদেরই নিতে হয়
যাদের বুদ্ধি দুর্বল হয়।
গীতঃ-
তুমিই মাতা....
ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি
আত্মিক বাচ্চারা এই গান শুনেছে। এই কথা কে বলেন মিষ্টি-মিষ্টি আত্মিক বাচ্চারা?
নিশ্চয়ই আত্মিক পিতাই এই কথা বলতে পারেন। মিষ্টি-মিষ্টি আত্মিক বাচ্চারা এখন সামনে
বসে আছে আর অত্যন্ত স্নেহের সাথে বাবা বোঝাচ্ছেন। এখন তোমরা জেনেছো যে, সবাইকে সুখ
শান্তি প্রদানকারী সবাইকে দুঃখ থেকে মুক্তি দাতা এক আত্মিক পিতা ছাড়া দুনিয়াতে আর
কেউ নেই, সেইজন্যই দুঃখে সবাই বাবাকেই স্মরণ করে থাকে। তোমরা বাচ্চারা বাবার সামনে
বসে আছো। তোমরা জানো বাবা আমাদের সুখধামের উপযোগী করে তুলছেন। সুখধামের মালিক বানান
যে বাবা, তাঁর কাছে এসেছো। এখন বুঝতে পেরেছো সামনে বসে শোনা আর দূরে থেকে শোনার
মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। মধুবনে তোমরা সামনে এসে শোনো, মধুবন হলো প্রসিদ্ধ। মধুবন,
বৃন্দাবনে ওরা (ভক্তি মার্গে) কৃষ্ণের চিত্র দেখিয়েছে। কিন্তু কৃষ্ণ তো নেই। এখানে
নিরাকার বাবা তোমাদের সাথে মিলিত হন। তোমাদের প্রতি মুহূর্তে নিজেদের আত্মা নিশ্চিত
করতে হবে। আমি আত্মা বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি। সম্পূর্ণ কল্পে
এই একটাই সময়। এই কল্প মাধুর্যময় সঙ্গম যুগ। এর নাম রাখা হয়েছে - পুরুষোত্তম। এটাই
হলো সেই সঙ্গম যুগ, যখন মানুষ মাত্রই উত্তম হয়ে ওঠে। এখন তো সমস্ত মানুষের আত্মাই
তমোপ্রধান যা পুনরায় সতোপ্রধান হয়ে ওঠে। সতোপ্রধান মানুষ উত্তম হয়। তমোপ্রধান হলে
মানুষ নীচে নেমে যায়। সুতরাং আত্মাদের পিতা সামনে বসে বোঝান। সম্পূর্ণ পার্ট আত্মাই
প্লে করে থাকে, শরীর নয় । আত্মা আর শরীর দুই-এর মেলবন্ধন ঘটলে রোল প্লে হয়ে থাকে।
তোমাদের বুদ্ধিতে এসেছে যে আমরা আত্মারা প্রকৃতপক্ষে নিরাকার দুনিয়া বা শান্তিধামের
নিবাসী, এটা কারো জানা নেই। না নিজেরা বোঝে, না কাউকে বোঝাতে পারে। তোমাদের বুদ্ধির
তালা এখন খুলে গেছে, তোমরা বুঝেছো প্রকৃতপক্ষে আত্মারা পরমধামে থাকে। ওটা হলো
নিরাকার দুনিয়া। এখানে সাকারী দুনিয়া। এখানে আমরা সব আত্মারা কুশীলব নিজেদের পার্ট
প্লে করে চলেছি। সর্বপ্রথম পার্ট আমরাই প্লে করতে আসি। তারপর ক্রমানুসারে অন্যান্যরা
আসে। সমস্ত কুশীলবরা একত্রে আসা যাওয়া করে না। নানান ধরনের কুশীলবেরা আসা যাওয়া করে।
সবাই একত্রিত তখনই হয় যখন নাটক সম্পূর্ণ হয়। এখন তোমরা আত্মার পরিচিতি লাভ করেছ যে
আসলে আত্মারা শান্তিধামের নিবাসী - এখানে আসি পার্ট প্লে করতে। বাবা সম্পূর্ণ সময়
ধরে পার্ট প্লে করতে আসেন না। আমরাই পার্ট প্লে করতে-করতে তমোপ্রধান হয়ে পড়ি। এখন
বাচ্চারা তোমাদের সামনে বসে শুনতে খুব মজা লাগছে। এতো মজা তো মুরলী পড়লেও হয়না।
এখানে (মধুবন) তোমরা সামনে বসে আছো না ! সুতরাং সর্বপ্রথম সত্যযুগের আদি সনাতন
দেবী-দেবতা ধর্মাবলম্বীরাই এসে থাকে। তোমরা জানো যে, ভারত দেবী-দেবতাদের রাজ্য ছিল,
এখন আর নেই। চিত্র দেখে থাক যখন তখন অবশ্যই ছিল। প্রথমে আমরাই দেবী-দেবতা ছিলাম,
নিজেদের ভূমিকা স্মরণ করবে নাকি ভুলে যাবে? বাবা মনে করিয়ে দেন - তোমরা এই পার্ট
প্লে করে ছিলে, এটাই ড্রামা। নতুন দুনিয়া যা পরে পুরানো হয়ে যায়। সর্বপ্রথম উপর থেকে
যে আত্মারা আসে তারা গোল্ডেন এজে আসে। এ'সব বিষয় এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে।
সত্যযুগের আদিতে তোমরাই পার্ট প্লে করতে এসেছিলে। তোমরা বিশ্বের মালিক
মহারাজা-মহারানী ছিলে। তোমাদের রাজধানী ছিল। এখন আর নেই। এখন তোমরা শিখছো কিভাবে
রাজত্ব চালাবে, ওখানে উজির থাকে না। পরামর্শদাতার প্রয়োজনই পড়ে না। তারা (ব্রাহ্মণ
বাচ্চারা) শ্রীমৎ এর দ্বারা শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠে তারপর সত্যযুগে তাদের
অন্য কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার দরকার পড়ে না। যদি কারো কাছে পরামর্শ নেয় তবে
বোঝা যাবে তার বুদ্ধি কমজোর। এখন যে শ্রীমৎ পাপ্ত করছো সত্যযুগেও তা বহাল থাকে। এখন
তোমাদের আত্মা ফ্রেশ হচ্ছে। এখন বাচ্চারা তোমাদের দেহী-অভিমানী হতে হবে। শান্তিধাম
থেকে এসে তোমরা এখানে কথা বলছো। কথা ছাড়া কর্ম হতে পারে না। এটাই হলো বোঝার বিষয়।
যেমন বাবার মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে, তেমনই তোমরা আত্মাদের মধ্যেও এখন জ্ঞান আছে।
আত্মা বলে আমরা এক শরীর ত্যাগ করে, সংস্কার অনুযায়ী অন্য শরীর ধারণ করি। পুনর্জন্ম
অবশ্যই হয়। আত্মা যে পার্ট প্লে করার সুযোগ পেয়ে থাকে, সেটাই প্লে করে থাকে আর সেই
সংস্কার অনুযায়ী দ্বিতীয় জন্ম গ্রহণ করে থাকে।
বারংবার জন্ম নিয়ে
পার্ট প্লে করতে-করতে আত্মার পবিত্রতা একটু-একটু করে হ্রাস পেতে থাকে। পতিত শব্দটি
দ্বাপরের পর থেকেই কর্মে আসে কিছু পার্থক্য অবশ্যই থাকে। তোমরা নতুন বাড়ি তৈরি করার
এক মাস পরে দেখবে কিছু পার্থক্য অবশ্যই হবে।
এখন তোমরা বুঝেছো বাবা
আমাদের উত্তরাধিকার দিয়ে থাকেন। বাবা বলেন - আমি এসেছি তোমাদের উত্তরাধিকার প্রদান
করতে। যে যত পুরুষার্থ করবে ততই উচ্চ পদ পাবে। বাবা কোনও পার্থক্য রাখেন না। বাবা
জানেন আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের তিনি পড়াচ্ছেন। প্রত্যেক আত্মাই নিজের জন্য পুরুষার্থ
করে থাকে। এখানে মেল ফিমেল দৃষ্টি বলে কিছু নেই। তোমরা সব বাচ্চারা অসীম জগতের
পিতার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করছ। সব আত্মারা ভাই-ভাই যাদের বাবা এসে
শিক্ষা প্রদান করেন, উত্তরাধিকার দিয়ে থাকেন। বাবাই তাঁর আত্মিক বাচ্চাদের সাথে কথা
বলেন তিনি বলেন আমার হারিয়ে যাওয়া মিষ্টি বাচ্চারা তোমরা দীর্ঘ সময় পার্ট প্লে
করতে-করতে এখন আবার এসে মিলিত হয়েছো, নিজেদের উত্তরাধিকার গ্রহণ করার জন্য। এটাই
ড্রামায় নির্ধারিত। প্রথম থেকেই তোমাদের পার্ট নির্ধারিত হয়ে আছে। তোমরা কুশীলবরা
নিজেদের পার্ট প্লে করে চলেছো। আত্মা অবিনাশী, এর মধ্যেই অবিনাশী পার্ট সঞ্চিত হয়ে
আছে। শরীর তো পরিবর্তন হতেই থাকে। বাকি আত্মারা পবিত্র থেকে অপবিত্র হয়ে যায়।
সত্যযুগ পবিত্র দুনিয়া। আরেকটিকে বলে পতিত দুনিয়া। এখন সুখধাম স্থাপনা হচ্ছে। বাকি
আত্মারা সবাই মুক্তিধামে থাকবে। এই অনন্ত নাটক এখন সম্পূর্ণ হতে চলেছে। সব আত্মারা
মশার মত ঝাঁকে ঝাঁকে যাবে। এই সময় কোনো আত্মা এলে এই পতিত দুনিয়াতে তার কি মূল্য!
বাস্তবে মূল্য তো তার হবে যে প্রথমে নতুন দুনিয়াতে আসবে। নতুন দুনিয়া ছিল যা এখন
পুরানো হয়ে গেছে। নতুন দুনিয়াতে দেবতারা ছিল, সেখানে দুঃখের কোনো চিহ্ন ছিল না।
এখানে তো শুধুই দুঃখ। বাবা এসে দুঃখের দুনিয়া থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। এই পুরানো
দুনিয়া অবশ্যই পরিবর্তিত হবে। ঠিক যেমন দিনের পরে রাত,রাতের পর আবার দিনের শুরু হয়।
তোমরা জেনেছ আমরাই সত্যযুগের মালিক হব, সুতরাং কেন নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে
স্মরণ করব না! কিছু তো পরিশ্রম করতেই হবে। রাজত্ব কি এতোই সহজে পাওয়া যায়, বাবাকে
স্মরণ করতে হবে। মায়াও চমৎকারিত্বও কম নয় যা তোমাদের প্রতি মুহূর্তে ভুল করিয়ে দিয়ে
থাকে। এর জন্য উপায় বের করতে হবে। এমনটা নয় যে আমার হয়েছো বলেই স্মরণ দীর্ঘস্থায়ী
হবে। পুরুষার্থ করতে হবে না। তা কিন্তু নয়, যতক্ষণ জীবন থাকবে পুরুষার্থ করতে হবে।
জ্ঞানের অমৃত পান করতে হবে। তোমরা জানো এটাই আমাদের অন্তিম জন্ম। এই শরীরের বোধ ছেড়ে
দেহী-অভিমানী হতে হবে। গৃহস্থ পরিবারেও থাকতে হবে, পুরুষার্থও করতে হবে। শুধুই
নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। তুমিই মাতা, তুমিই পিতা... এ'সবই হলো
ভক্তি মার্গের মহিমা। তোমাদের শুধুমাত্র ঈশ্বরকে স্মরণ করতে হবে। একমাত্র স্যাকারিন
আমি, তোমরাও সব বিষয় ছেড়ে মিষ্টি স্যাকারিন হয়ে ওঠো। এখন তোমাদের আত্মা তমোপ্রধান
হয়ে গেছে, তাকে সতোপ্রধান করে তোলার জন্য স্মরণের যাত্রায় থাকো। সবাইকে বলো বাবার
কাছ থেকে সুখের উত্তরাধিকার গ্রহণ করার জন্য। সুখ হয় সত্যযুগে। সুখধাম স্থাপনা করেন
বাবা, ওনাকে স্মরণ করা অতি সহজ, কিন্তু মায়ার প্রখরতা প্রবল, সেইজন্য চেষ্টা করে (মায়ার
বিরুদ্ধে গিয়ে) আমাকে স্মরণ করলে খাদ বেরিয়ে যাবে। সেকেন্ডে জীবন মুক্তি গাওয়াও হয়ে
থাকে।
এই ড্রামায় প্রত্যেককে
নিজের পার্ট রিপিট করতে হবে। এই ড্রামার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পার্ট হলো আমাদের ।
সবচেয়ে বেশি সুখও আমরাই পাবো। বাবা বলেন - তোমাদের দেবী-দেবতা ধর্ম অতীব সুখ দেবে।
বাকিরা সবাই শান্তিধামে চলে যাবে - হিসাব নিকাশ মিটিয়ে। বেশি বিস্তারে আমরা কেন যাবো।
বাবা আসেন সবাইকে নিয়ে যেতে। মশার ঝাঁকের মতো সবাইকে নিয়ে যাবেন। শরীর শেষ হয়ে যাবে।
আত্মা যা অবিনাশী সেই হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে চলে যাবে। এমনটা নয় যে আত্মা আগুনে পড়ে
পবিত্র হবে। আত্মাকে স্মরণের যোগ দ্বারাই পবিত্র হতে হবে। এটাই হলো যোগ-অগ্নি। ওরা
বসে নাটক তৈরি করেছে - সীতা অগ্নি পার করেছে। অগ্নি কি একজনকেই পার হতে হবে! বাবা
বুঝিয়েছেন - তোমরা সব সীতারা এই সময় পতিত হয়ে গেছো, কেননা রাবণ রাজ্য। এখন এক বাবার
স্মরণেই তোমাদের পবিত্র হতে হবে। রাম একজনই। অগ্নি শব্দটি শুনে মনে করে, আগুন পার
করেছে। বলা হয়েছে যোগ-অগ্নি আর কি ওরা কি বলেছে! আত্মা পরমাত্মার সাথে যোগযুক্ত হলে
পতিত থেকে পাবন হতে পারবে। রাত-দিনের পার্থক্য। আত্মারা সবাই সীতা। রাবণের জেল শোক
বাটিকায় বন্দি। এখানে সুখকে কাক বিষ্ঠার দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। স্বর্গে অগাধ সুখ।
সুতরাং বাচ্চারা জ্ঞান রত্ন দ্বারা তোমাদের ঝুলি ভরপুর করা উচিত। কোনো সংশয় আসা
উচিত নয়। দেহ-অভিমান এলেই অনেক প্রশ্ন উঠে আসে। তারপর বাবা যেমন বলেন সেটা আর করেনা।
মূল বিষয়ই হলো আমাদের পতিত থেকে পাবন হতে হবে। দ্বিতীয় কোনো সংকল্প করার প্রয়োজন
নেই। এটা হলো পতিত দুনিয়া, সত্যযুগ পবিত্র দুনিয়া।
মূল বিষয় হলো পবিত্র
হতে হবে। কে পবিত্র করে তোলেন, ওরা কিছুই জানে না। ওদের যদি বলো যে তোমরা পতিত হয়ে
গেছো, তাহলে তারা রুষ্ট হয়ে যাবে। নিজেকে বিকারগ্রস্ত কেউ-ই মনে করেনা। তারা বলবে
গৃহস্থী তো সবাই ছিল - রাম-সীতা, লক্ষ্মী-নারায়ণেরও তো সন্তানদি ছিল! ওখানেও তো
বাচ্চা জন্ম গ্রহণ করে থাকে! এটাই ভুলে গেছে যে সত্যযুগকে নির্বিকারী দুনিয়া বলা হয়।
ওটা হলো শিবালয়। বাবা তোমাদের কত রকম যুক্তি দিয়ে বোঝান। ইনি হলেন বাবা, টিচার এবং
সদ্গুরু, যিনি সবাইকে সদ্গতি দিয়ে থাকেন। তারা তো একজন গুরু শরীর ত্যাগ করলে তার
সন্তানকে গদিতে বসায়। সে কি করে সদ্গতি দেবে ! সবার সদ্গতি দাতা একজনই, তিনি হলেন 'বাবা'
। রাবণ রাজ্যে দুর্গতি, রাম রাজ্যে হয় সদ্গতি। বাবা সবাইকে পবিত্র করে নিয়ে যান
তারপর কেউ চট করে পতিত হয়ে যায় না, ক্রমানুসারে নীচে নেমে আসে। সতোপ্রধান থেকে সতঃ
রজঃ তমঃ...তোমাদের বুদ্ধিতে ৮৪ চক্র বসেছে। তোমরা এখন ঠিক যেন লাইট হাউস। জ্ঞানের
দ্বারা জেনেছো যে, এই চক্র কিভাবে ঘুরতে থাকে। এখন বাচ্চারা তোমাদের সবাইকে রাস্তা
বলে দিতে হবে। তোমরা সবাই হলে সৈনিক। তোমরা হলে পাইলট, পথ প্রদর্শক। সবাইকে বলো -
এখন শান্তিধাম, সুখধামকে স্মরণ করো। কলিযুগ দুঃখধামকে ভুলে যাও। আমরা তোমাদের
সুন্দর পথ বলে দিচ্ছি, পতিত-পাবন একজনই নিরাকার বাবা। তাঁকে স্মরণ করলেই তোমরা
পবিত্র হতে পারবে। তোমাদের আত্মার মধ্যে যে খাদ পড়েছে তা বেরিয়ে যেতে থাকবে।
ভগবানুবাচ মন্মনাভব। শিব ভগবানুবাচ - বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি বিনাশ ঘটায় আর বিনাশ
কালে পরমপিতা পরমাত্মার সাথে প্রীত বুদ্ধি থাকলে বিজয় প্রাপ্ত হয়। তোমাদের যত প্রীত
বুদ্ধি হবে ততই উচ্চ পদ পাবে। দেহ-অভিমান থাকলে এতো উচ্চ পদ পাবে না। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
জ্ঞান রত্নের দ্বারা নিজের ঝুলি পূর্ণ করতে হবে। কোনো রকম সংশয় থাকা উচিত নয়। যতটা
সম্ভব বাবাকে স্মরণ করার পুরুষার্থ করে পবিত্র হতে হবে। বাকি অন্য সব প্রশ্নে যাওয়া
উচিত নয়।
২ ) এক বাবার প্রতিই
প্রকৃত ভালোবাসা রেখে বাবার মতোই মিষ্টি স্যাকারিন হতে হবে।
বরদান:-
সদা
জ্ঞানসূর্যের সম্মুখে থাকা অন্তর্মুখী, স্বমানধারী ভব
সূর্যকে সামনে থেকে
দেখলে যেমন সূর্যের কিরণ অবশ্যই আসে, সেইরকমই যে বাচ্চারা জ্ঞান সূর্য বাবার সদা
সম্মুখে থাকে তারা জ্ঞান সূর্যের সকল গুণের কিরণ নিজের মধ্যে অনুভব করে। তাদের
মুখমন্ডলের উপর অন্তর্মুখতার চমক আর সঙ্গম যুগের বা ভবিষ্যতের সর্ব স্বমানের নেশা (ফলক)
দেখতে পাওয়া যায়। এরজন্য সদা স্মৃতিতে যেন থাকে যে এটাই হলো অন্তিম মুহুর্ত।
যেকোনও মুহুর্তে এই শরীরের বিনাশ হয়ে যেতে পারে এইজন্য সদা প্রীতবুদ্ধি হয়ে জ্ঞান
সূর্যের সম্মুখে থেকে অন্তর্মুখতা বা স্বমানের অনুভূতিতে থাকতে হবে।
স্লোগান:-
সদা
উড়ন্ত কলাতে ওড়াই হলো ঝামেলার পাহাড়কে ক্রস করা।
অব্যক্ত ঈশারা :-
অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) ভব
পবিত্রতাই হলো মহানতা,
এটাই হলো যোগী জীবনের আধার। সংকল্পে যদি কোনও প্রকারের এতটুকুও অপবিত্রতা থাকে তো
যেখানে অপবিত্রতার অংশ থাকবে, সেখানে পবিত্র বাবার স্মরণ যেরকম থাকা দরকার, সেইরকম
থাকবে না। সেইজন্য মন্সাতেও অপবিত্রতার অংশকে সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হও। সদা
এটাই যেন স্মৃতিতে থাকে যে আমি হলাম পূজ্য আত্মা এই শরীররূপী মন্দিরে বিরাজমান রয়েছি।