22-03-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 07-04-2009 মধুবন


‘‘কারণ শব্দ থেকে মুক্ত হয়ে আচরণ আর মুখমণ্ডল দ্বারা মুক্তি দিয়ে মুক্তিদাতা হও, সেবার উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সদা অসীম বৈরাগ্য বৃত্তিতে থাকো"


আজ বাপদাদা চতুর্দিকের বাচ্চারা যারা ডবল মালিক সেই প্রত্যেক বাচ্চাকে দেখছেন। এক তো বাবার সর্ব ভাণ্ডারের মালিক, আরেক স্বরাজ্যের মালিক। উভয় মালিকভাবই বাবার থেকে সব বাচ্চার প্রাপ্ত হয়েছে। তোমরা বালকও আর মালিকও। আমার বাবা বলেছ আর বাবাও বলেছেন আমার বাচ্চা। তো বালক আর মালিক দুই অনুভবই আছে তোমাদের।

আজ অনেক অনেক বাচ্চা এসেছে, এটা এই বছরের লাস্ট টার্ন। তো আজ বাপদাদা প্রত্যেকের পুরুষার্থ চেক করেছেন। তাহলে বলো তিনি কী দেখে থাকবেন? প্রত্যেকের নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে আমার পুরুষার্থ কী! বাপদাদা সব বাচ্চাকে দেখে খুশিও হয়েছেন কিন্তু বাবার একটা আশা তিনি বলেছেন সেটা কী! বাবার আশা পূরণ করবে তো না! তাঁর একটাই আশা ছিল, বলবেন! হাত তোলো যারা আশা পূরণ করবে। খুব ভালো। ছোট আশা, সেটা হলো আজ থেকে একটা শব্দ পরিবর্তন করো, কোন শব্দ? যে শব্দ বারবার নিচে নিয়ে আসে সেই শব্দ হলো "কারণ।" এই কারণ শব্দের পরিবর্তন ক'রে নিবারণ শব্দ সদা ধারণ করো। কেননা, এখন তোমাদের সেবা কোনটা? বিশ্বের আত্মাদের সকলের সমস্যার কারণ নিবারণ করা এবং নিবারণ করার সাথে সাথেই নির্বাণ ধামে নিয়ে যেতে হবে। কেননা, তোমরা সবাই মুক্তিদাতা। তো যখন অন্যদেরও তোমরা মুক্তি প্রাপ্ত করাতে চলেছ তখন নিজেও কারণকে নিবারণ করবে তবেই অন্যদের মুক্তি প্রাপ্ত করাতে পারবে। নির্বাণে পাঠাতে পারবে। তো এই এক শব্দের দূরীকরণ করা কঠিন নাকি সহজ? ভাবো।

আজ যারাই এখানে এসেছে বা নিজের নিজের স্থান থেকে দেখছে, শুনছে তাদের সবার থেকে এক শব্দের পরিবর্তন চান বাপদাদা। কেননা, কারণ নিচে নিয়ে আসে। কারণে তো অর্ধেক কল্প থেকেছ, এখন নিবারণ করার সময়। নিবারণ আর নির্বাণ মুক্তি। তো সাহস আছে তোমাদের আজ বাবাকে দেওয়ার? লাস্ট টার্ন তো না! সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে এসেছো আর বাপদাদা প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। শোয়ার, খাবার খাওয়ার অসুবিধা থাকলেও সবাই সস্নেহে স্নেহের প্লেনে তোমরা পৌঁছে গেছো। বাপদাদা প্রত্যেকের স্নেহ দেখে প্রত্যেককে হৃদয়ের পদমগুন স্নেহ দিচ্ছেন। কিন্তু স্নেহে তোমরা কী ক'রে থাকো? যার প্রতি স্নেহ থাকে, তাকে স্নেহে উপহারও দেওয়া হয়। তো আজ বাপদাদা উপহার হিসেবে এই কারণ শব্দ নিতে চান। বাপদাদার এই আশা পূর্ণ করতে হবে তো না! আবার হাত উঠাও, এখানেই ছেড়ে যেতে হবে। এখানে গেট থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে কারণ শব্দ সমাপ্ত হয়ে যাওয়া উচিত। ভুল ক'রে যদি এসেও যায় তবে সে জিনিস তো বাবাকে দেওয়া আমানত। আমানতের সাথে কী করা যায়? ফিরিয়ে নেওয়া হয়? তো সবাই দৃঢ় সঙ্কল্প করেছ? করেছ? করেছ? আবার হাত উঠাও। যারা পিছনে আছ তারা হাত নাড়াও! আচ্ছা। খুব ভালো। কারণ, এখন সময় অনুসারে তোমাদের সামনে ক্যু লাগবে। কিসের জন্য ক্যু লাগবে? হে মুক্তিদাতা মুক্তি দাও। তো দানকারী মুক্তিদাতা তোমরা- আগে এই শব্দ থেকে মুক্ত হবে তবে তো মুক্তি দিতে পারবে।

বাপদাদা এটাই চান যে এখন এই বছরের হোমওয়ার্ক যেন এটা থাকে - আমাকে মুক্ত হয়ে মুক্তি প্রাপ্ত করাতে হবে। কেননা, সমস্যা দিনদিন বাড়বে। এই সমস্যা সমাধান রূপে যেন বদলে যায়। পরিশ্রম আর সময় যেন সমস্যা মিটাতে ব্যয় না হয়। তোমরা কি নিজের ভক্তদের আর সময়ের ডাক শুনতে পাও না? তো এখন সময় অনুসারে কী পরিবর্তন করা আবশ্যক? কেননা, এক. প্রত্যেককে অনুভাবী মূর্ত হয়ে কোনো না কোনো অনুভব করানোর আবশ্যকতা আছে। তো বাবা এখন স্পষ্টতই স্পষ্টতই চাইছেন যে তোমাদের সকলের মুখমণ্ডল আর আচরণ এমন স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হোক - এরা মুক্তিদাতার বাচ্চা মুক্তি দেবে। তোমাদের ললাটভাগে ঝলমলে নক্ষত্রের অনুভব হবে। শুধু শোনানোয় নয়, বরং মুখমণ্ডল দ্বারাই অনুভূত হোক। কেননা, অনুভব কাছে নিয়ে আসে। তো এই অনুভব মুখ আর আচরণ দ্বারা দেখাও। যেমন দেখ, এখন সায়েন্সের সাধন অনুভব করায় - গরমের সিজন তো গরমের, আর ঠাণ্ডার সিজনে ঠাণ্ডার অনুভব করায়, তাই না! যখন সায়েন্সের সাধন অনুভাবী বানায় তখন কি সাইলেন্সের পাওয়ার শক্তির অনুভব করাতে পারে না! তো বাপদাদা এখন বাচ্চাদের থেকে এটাই চান যে, অনুভবের স্থিতিতে স্থিত থেকে নয়ন দ্বারা ললাটভাগ দ্বারা কোনো না কোনো শক্তির অনুভব করাও। শোনা কথা শোনার সময় ভালো লাগে, কিন্তু যদি সমস্যা আসে তো ভুলেও যাও তোমরা। কিন্তু অনুভব জীবনভর ভোলে না।

বাপদাদা একটা কারণ দেখেছেন। রেজাল্টও দেখেছেন, একটা রেজাল্ট দেখে অনেক অনেক অভিনন্দন জানিয়েছেন। কোন রেজাল্ট? আজ পর্যন্ত সেবার উৎসাহ উদ্দীপনা ভালো। তো বাপদাদা অভিনন্দন জানাচ্ছেন, তোমরা সেবার বৃদ্ধিও করো আর ভালো প্ল্যানও বানাও। রেজাল্টও যথাশক্তি লাভ হয়, কিন্তু একটা বিষয় অনুভব করানোর জন্য নিজের প্রতি অ্যাটেনশন দিতে হবে। যেমন, তোমাদের সেবা এখন প্রসিদ্ধি লাভ করছে। তারা খুশিও হতে থাকে আর আজকাল তাদের ইন্টারেস্টও বেড়ে চলেছে। এখন অনুভব করানোর বিধি কী? তা' হলো উৎসাহ উদ্দীপনা সহ যত উদ্যম সময় অনুসারে ততই অসীম বৈরাগ্য বৃত্তি প্রয়োজন এখন। পুরুষার্থে যদি কেউ সমস্যা রূপ হয় তো তার কারণ অসীম বৈরাগ্য বৃত্তিতে কমতি। এখন অসীম বৈরাগ্য বৃত্তি প্রয়োজন। অসীম বৈরাগ্য সদাকাল চলে। যদি সময় অনুসারে হয় তাহলে সময় নম্বর ওয়ান হয়ে যায় আর তোমরা নম্বর টু -তে হয়ে যাও, সময় তোমাদের বৈরাগ্য এনে দিয়েছে। অসীম বৈরাগ্য সদাকালের হয়। একদিকে উৎসাহ-উদ্দীপনা, খুশি এবং আরেকদিকে অসীম বৈরাগ্য। অসীম বৈরাগ্য সদা না থাকার কারণ কী? বাপদাদা দেখেছেন এর কারণ হলো দেহ অভিমান। সব ব্যাপারে দেহ শব্দ আসে - যেমন, দেহের সম্বন্ধ, দেহের পদার্থ, দেহের সংস্কার। দেহ শব্দ সবেতে আসে। আর বিশেষভাবে দেহ অভিমান কোন বিষয়ে আসে? দেহী অভিমান থেকে দেহ অভিমানে নিয়েই আসে। বাপদাদা চেক করেছেন যে এখনো পর্যন্ত তার মূল কারণ পুরানো সংস্কার নিচে নিয়ে আসে। সংস্কার মিটিয়ে দিয়েছে কিন্তু কোনো না কোনো সংস্কার নেচার রূপে এখনও কাজ করে। যেভাবে দেহ অভিমানের নেচার ন্যাচারাল হয়ে গেছে, সেভাবে দেহী অভিমানের নেচার ন্যাচারাল হয়নি। তোমরা বলে থাকো আমরা শেষ ক'রে দিয়েছি কিন্তু বীজকে একেবারে ভস্ম করনি। সেইজন্য সময় আসন্ন হলে পুনরায় সেই দেহ বোধের সংস্কার ইমার্জ হয়ে যায়। তো এখন আবশ্যকতা রয়েছে এই দেহ বোধের নেচার দেহী অভিমানের পাওয়ারফুল শক্তি দ্বারা বংশ সমেত নাশ করার। কেননা, বাচ্চারা বলে - চাইনি কিন্তু কখনো কখনো বেরিয়ে আসে। সুতরাং এখন আবশ্যকতা রয়েছে শক্তি স্বরূপ হওয়ার, এর আধার হলো নিজেকে নিজে চেক করা যে, কোনও স্বরূপে দেহ বোধের সংস্কার অংশমাত্র থেকে যায়নি তো! আর সেটার নাশ হবে অসীম বৈরাগ্য বৃত্তি দ্বারা। সার্ভিস দেখেশুনে বাপদাদা খুশি। কিন্তু এখন বাবার এটাই চাওয়া যে সার্ভিসের ঝলকানি যেমন এখন লোকে দেখতে পায়, অনুভব হয়, তেমনই সেবাতে যেন অসীম বৈরাগ্য বৃত্তির প্রভাব থাকে। কেননা, আজকাল সেবা দ্বারা তোমাদের প্রশংসা বাড়বে, প্রকৃতি তোমাদের দাসী হবে। তোমাদের অনুভব করবে, সাধন বাড়বে। কিন্তু অসীম বৈরাগ্য বৃত্তি দ্বারা সাধন আর সাধনার ব্যালেন্স থাকবে। যারা প্রবৃত্তিতে থাকে তাদের সামনে যেমন তোমরা দৃষ্টান্ত তুলে ধরো যে সবকিছু ক'রে কর্মযোগী হয়ে কমল পুষ্প সমান থাকার, তেমনই তোমরাও সবাই সেবা করার সময় সাধন পেলেও সাধনা আর সাধনের মধ্যে ব্যালেন্স থাকবে। তো আজকাল সেবার সাথে অ্যাডিশন হিসেবে অসীম বৈরাগ্য বৃত্তিও আবশ্যক। চলতে ফিরতেও যেন অন্যদের অনুভূত হয় এরা বিশেষ আত্মা। শুধু যোগে বসার টাইমে নয়, ভাষণ করার টাইমে নয়, বরং চলতে ফিরতে তোমাদের ললাটভাগ থেকে যেন শান্তি শক্তি খুশির অনুভব হয়। কেননা, সময় সময়তে এখন সময় নিরন্তর বদলাবে।

তো বাপদাদা সময় সময়তে ইশারা তো দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আজ বাপদাদা বিশেষভাবে এক তো অসীম বৈরাগ্যের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তার জন্য এখন নিজেকে চেক ক'রে দেহী অভিমানী হওয়ার ক্ষেত্রে দেহ অভিমানের যে বিঘ্ন আছে, সেই অনেক প্রকারের দেহ অভিমানের পরিবর্তন করো। আর দ্বিতীয় বিষয় - বহু সময় ধরে নিজের ভাবা। বহু সময়ের অভ্যাস প্রয়োজন। বহু সময়ের পুরুষার্থ বহু সময়ের প্রালব্ধ। যদি এখন বহুকালের প্রতি অ্যাটেনশন কম দেবে তাহলে অন্তিমকালে বহুকালের জন্য জমা করতে পারবে না। টু লেট-এর বোর্ড লেগে যাবে, সেইজন্য বাপদাদা আজ পরের বছরের জন্য হোমওয়ার্ক দিচ্ছেন। এই দেহ অভিমান সব সমস্যার কারণ হয়। বাচ্চারা মনোহারী তো না! তারা আবার বাবাকে আশ্বস্ত করে, সময়কালে আমরা ঠিক হয়ে যাবো। বাপদাদা বলেন, সময় কি তোমাদের টিচার? সময়কালে যদি ঠিক হয়ে যাবে তবে তোমাদের টিচার কে হলো? তোমাদের ক্রিয়েশন সময় তোমাদের টিচার হবে সেটা ভালো লাগবে? সেইজন্য সময়কে তোমাদের নিকটে নিয়ে আসতে হবে। তোমরাই সময়কে নিকটে নিয়ে আসো। সময়ের ওপরে তোমরা নির্ভরশীল নও। সময়কে টিচার বানিও না।

তো বাপদাদা আজ বারবার এই ইঙ্গিতই দিচ্ছেন, নিজেকে চেক করো বারবার চেক করো আর পরিবর্তন করো। বহুকালের পরিবর্তন বহুকালের প্রালব্ধের অধিকারী বানায়। এমনকি যদি এখনো তোমরা ধীর গতির হও তবুও কিন্তু লাস্ট নম্বরের বাচ্চাদের প্রতিও বাবার স্নেহ আছে। স্নেহ আছে তবে তো বাবার হয়েছ, বাবাকে চিনেছ। তোমরা বলো আমার বাবা, সেইজন্য সময়ের ওপরে ছেড়ে দিও না। সময় আসবে না, সম্পূর্ণতার জন্য আমাদের সময়কে নিয়ে আসতে হবে। বাপদাদার বিশ্ব পরিবর্তনের কার্যে তোমরা সবাই সাথি। বাবা একলা কার্য করতে পারেন না। বাচ্চাদের সাথ প্রয়োজন। বাবা তো বলেন, প্রথমে বাচ্চারা, সামনে বাচ্চারা। তো এখন যদি পরের বছরে আসতেই হয় তবে এই হোমওয়ার্ক করে রাখবে। করবে? হ্যাঁ তো হাত তোলো। আচ্ছা। পিছনে যারা তারাও হাত তুলছে।

দেখ, আজ সংখ্যা বেড়ে গেছে তো বাপদাদা বাচ্চিকে (গুলজার দাদি) ইশারা দিয়েছেন, চক্কর লাগিয়ে দেখে এসো, কোথায় কোথায় শুয়ে আছে, কীভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে খায়! লম্বা লাইন। কিন্তু সবার মুখে খুশি রয়েছে। মধুবনে আছে তো! কিন্তু এই খুশি মধুবনেই ছেড়ে যেও না, সাথে নিয়ে যেও। বাপদাদা বতনে বসে তোমাদের সকলের শোয়ার, খাবার খাওয়ার ক্যু-র দৃশ্য দেখেছেন। বাপদাদার এমন সঙ্কল্প আসে যে এখন এখনই অনেক লেপ, তোষকের বর্ষা হতে হবে। কিন্তু এও আনন্দের মেলা। তাছাড়া, বাপদাদা দেখেছেন যেখানে পেয়েছে, যেমনই পেয়েছে মেজরিটি ভালোভাবে পাশ হয়েছে। তালি বাজাও। কিন্তু এই হোমওয়ার্ক ভুলে যেও না। এক্ষেত্রে কেউ তালি বাজায় না! বাপদাদা এবং বিশেষভাবে ব্রহ্মা বাবা প্রায়শ বাচ্চাদেরকে মধুবনের ভূষণ বলেন। তো তোমরা সবাই মধুবনে এসেছ, বাপদাদাও সাকার রূপে এত বড় পরিবার দেখে খুশি। সহন করতে হয়েছে কিন্তু এই সহন সদাসর্বদার জন্য সহন শক্তি বাড়াবে। সবাই তোমরা খুশি তো না! অসুবিধা হয়নি তো! তাছাড়া, দেখ এত বড় পরিবারে তবুও তো জল পেয়ে যাচ্ছ। সবাই জল ইউজ করেছে তো, তাই না! সামান্য কম আছে, সুতরাং খেয়াল রাখতে হবে। এমনকি, আজকাল গ্রামেও খাওয়ার জল পাওয়া যায় না। এখানে তো তোমাদের কাপড় ধোওয়ারও জল পেয়েছ। আর এত বড় পরিবার দেখে খুশিও হয়। বাপদাদার এই গর্ব হয় রে সমগ্র কল্পে এত বড় পরিবার কারও নেই। আচ্ছা।

আজ বাপদাদা টিচারদের এক বিশেষ সেবা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যে হোমওয়ার্ক করতে হবে। টিচারদের জন্য হোমওয়ার্ক হলো তারা নিজেদেরকে সদা বাপদাদার প্রকৃত সাথী, সমীপ-সাথি হওয়ার উপলব্ধি করবে! নিজেদের দ্বারা বাবাকে প্রত্যক্ষ করাবে। যে কেউই তোমাদের দেখলে যেন বিস্মিত হয় এদের কে বানিয়েছেন! এদের বাবা শিক্ষক সদ্গুরু কে! তারা যেন তোমাদের না দেখতে পায়, বরং বাবাকে দেখে। এই স্বমানে তোমরা ৬-৭ মাস যা পাবে তারপরে বাপদাদা তোমাদের হোমওয়ার্ক সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করবেন। প্রত্যেকে তোমরা কত পার্সেন্টে করেছ? বাবা বেশি সমাচার জিজ্ঞাসা করবেন না, কিন্তু জিজ্ঞাসা করবেন এই হোমওয়ার্ক কত পার্সেন্ট তোমরা করেছ? তোমরা দৃশ্যমান হওয়া উচিত নয়, বাবা যেন প্রতীয়মান হয়। এতে সব ধারণা এসে যায়। মধুবনের তোমাদেরকে বাপদাদা স্মরণ-স্নেহ দিচ্ছেন। কিন্তু মধুবনের আশপাশের সবাই এবং যারা মধুবনের তারা প্রত্যেকে যেন এটা বোঝে যে মধুবনের একেক রত্ন বাবাকে বিশেষভাবে প্রত্যক্ষ করানোর নিমিত্ত। তো সবসময়, যারা মধুবনের তারা মন্সা সেবা কর্মণা সেবার মাধ্যমে সবাইকে বাবা সমান হওয়ার এমন এক্সাম্পল হয়ে দেখাও। মধুবনের তোমাদের এই রেজাল্ট দিতে হবে — আমি কি নিজের মধ্যে বাবা সমান হওয়ার মূর্তরূপ দেখিয়েছি? প্রত্যেকের মুখ থেকে বের হওয়া উচিত বাঃ বাবার বাচ্চা বাঃ! আর তোমরা সবাই কী করবে? তোমরা সবাই নম্বরক্রম নয় বরং নম্বর ওয়ান হওয়ার এক্সাম্পল হয়ে দেখাও। নম্বরক্রমিক হওয়ায় মজা নেই, যদি কিছু হতে হয় তো নম্বর ওয়ান হও। নম্বরক্রম হওয়া কী এমন বড় ব্যাপার ! তো সবাই তোমরা উইন আর ওয়ান হওয়ার এই রেজাল্ট শোনাও।

চতুর্দিকে, বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন এবং ভ্রুকুটি সিংহাসনাসীন এবং ভবিষ্যতেরও রাজ্য সিংহাসনাসীন এমন হারানিধি পদম পদমগুন ভাগ্যশালী বাচ্চাদের, সদা নিজের নয়ন দ্বারা যারা আধ্যাত্মিকতার অনুভব করায় এবং মুখ দ্বারা সদা সৌভাগ্যবান, যাদের মন সদা খুশিতে নাচতে থাকে, সামনে যে কেউই আসুক তারা অনুভব করবে এইরকম খুশি আর কোথাও নেই এবং পাঠের শিক্ষা নিয়েই যাবে। বাবার সব বাচ্চা তাদের মুখ দ্বারা বাবার পরিচয় দেয়, নয়ন এবং চেহারা দ্বারা বাবার সাক্ষাৎকার করায়, চতুর্দিকের বাচ্চারা যারা পত্র পাঠিয়েছে, ই-মেল করেছে সব বাপদাদার কাছে পৌঁছেছে, তোমাদের করার সাথে সাথে সেই সময়ই বাবার কাছে পৌঁছে গেছে, যারা সামনে বসে আছে তাদের থেকেও আগে, তোমরা যে সময় করেছো সেই সময়েই পৌঁছে গেছে। সেইজন্য তোমাদের অনেক অনেক অভিনন্দন। দেশ বিদেশের সব বাচ্চাকে বাবা হৃদয়ের স্নেহের রেসপন্স দিচ্ছেন। তো চতুর্দিকের বাচ্চাদের বাপদাদা হৃদয়ের পদমগুন স্নেহাদর, হৃদয়ের ভালোবাসা দিচ্ছেন এবং সবাইকে নমস্কার বলছেন।

বরদান:-
কর্ম করাকালীন কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে সহজ যোগী স্বতঃ যোগী ভব

যারা মহাবীর বাচ্চা তাদেরকে সাকার দুনিয়ার কোনও আকর্ষণ নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে না। তারা এক সেকেন্ডে নিজেদের স্বতন্ত্র এবং বাবার প্রিয় বানাতে পারে। ডিরেকশন পাওয়ার সাথে সাথেই শরীরের ঊর্ধ্বে অশরীরী, আত্ম- অভিমানী, বন্ধন্মুক্ত, যোগযুক্ত স্থিতির অনুভবকারীই সহজ যোগী, স্বতঃ যোগী, সদা যোগী, কর্মযোগী এবং শ্রেষ্ঠ যোগী। তারা যখনই চায়, যতটা সময় চায় নিজের সঙ্কল্প, শ্বাস এক প্রাণেশ্বর বাবার স্মরণে স্থিত করতে পারে।

স্লোগান:-
একরস স্থিতির শ্রেষ্ঠ আসনে বিরাজমান থাকা - এটাই তপস্বী আত্মার লক্ষণ।

অব্যক্ত ইশারাঃ :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশন মজবুত করে সদা নির্ভীক আর নিশ্চিন্ত থাকো" এই নিশ্চয় আর স্মৃতি এবং শক্তি রাখো যে অনেকবার বাবার হয়েছি আর মায়াজিৎ হয়েছি, সুতরাং এখন হওয়া কী কঠিন! এই স্মৃতি কী তোমাদের স্পষ্ট নয় যে আমি আত্মা বিজয়ী হওয়ার পার্ট অনেকবার প্লে করেছি? আর স্মৃতি যদি স্পষ্ট না হয় তবে এটাই প্রমাণ হয় বাবার সামনে নিজেকে স্পষ্ট করনি।