22.06.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
বাবা এসেছেন বাচ্চারা তোমাদের সেবা করতে, তোমরাও বাবা সম হয়ে সকলের সেবা করো"
প্রশ্নঃ -
ব্রহ্মা বাবার
এমন কোন্ চিন্তন চলে, যার জন্য শিববাবা বলেন ওয়েট অ্যান্ড সি, চিন্তা ক'রো না।
উত্তরঃ
বাবার চিন্তন
চলে, সময় খুবই কমে যেতে থাকছে, বাচ্চাদের অবিনাশী জ্ঞান-রত্ন নিতে বাবার কাছে আসতেই
হবে, এতো সংখ্যক বাচ্চা কোথায় এসে থাকবে? কতো বাড়ী তৈরী করতে হবে। শিববাবা বলেন
ওয়েট অ্যান্ড সি। পূর্ব কল্পে যেমন এসে থাকতো সেইরকমই থাকবে। তোমরা চিন্তা ক'রো
না, তোমরা পড়াশুনা করতে থাকো, মন্মনাভব। তোমাদের কর্মাতীত হওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে।
গীতঃ-
তোমায় পেয়ে
পেয়েছি যে সারা জগৎ, জগতই বা বলি কেন করতলে যে আকাশও....
*"তুমহে পাকে হামনে জঁহা পা লিয়া---*
ওম্ শান্তি ।
বাবাও বলেন
বাচ্চারা ওম্ শান্তি । আর কি বলবেন! বাচ্চাদের বলেন -ওম্ শান্তি, তৎত্বম্। হে
বাচ্চারা তোমরাও হলে শান্ত স্বরূপ। তোমরাও হলে মাস্টার পতিত-পাবন। এইরকম আর কেউ বলতে
পারবে না। বলা হয় - যেমন কাক তার তেমন বাচ্চা। বাচ্চারা, তোমরাও জানো যে যেমন বাবা
তেমনই আমরা। বাবা বলেন আমি হলাম জ্ঞানের সাগর। বাচ্চারা, তোমরাও মনে করো আমরা হলাম
মাস্টার জ্ঞান সাগর, যদি নদীও হয়। সাগরের বাচ্চা-কাচ্চাও তো হয় ! বড়-বড় অনেক নদীও
আছে। বড়-বড় পুকুর সরোবরও আছে। সেই সব হল জড়, তোমরা হলে চৈতন্য। সাগর থেকেই
নির্গত হও। কোনো কোনো বাচ্চা আবার এ'কথাটাও বোঝে না, কারণ অনেক কন্যা তো লেখাপড়াও
জানে না। বাবা একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন-- চিনি কিসের থেকে তৈরী হয়? গুড় কিসের থেকে
তৈরী হয়? তখন বলেছিলো লাল আখ থেকে গুড় হয়, সাদা আখ থেকে চিনি তৈরী হয়। বেচারী তো
পড়াশুনা করা না। এখন তোমাদের কতো বড় ব্যাপার বোঝানো হয়। জলের সাগর থেকে জলেরই নদী
বের হয়। মানুষের জনসংখ্যা তো ক্রমশ বাড়তেই থাকছে, তাই জলও অনেক চাই । কতো ক্যানেলস্
(খাল) ইত্যাদি তৈরী করতে থাকে। তাই বাচ্চারা, তোমাদের উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে এই
ভাবনা রাখতে হবে যে আমরা এই পতিত দুনিয়াকে পবিত্র বানাই। গানেও বলা হয় বাবা আমরা
আপনার থেকে বিশ্বের বাদশাহীর উত্তরাধিকার গ্রহণ করি। এ আমাদের থেকে কেউ কেড়ে নিতে
পারবে না। ২১ জন্ম এই রাজত্ব স্থির থাকবে। অসীম জগতের পিতা এসে অসীম জগতের
রাজ্য-ভাগ্য প্রদান করেন। রাজ্য-ভাগ্য চালানোর যোগ্য করে তোলেন, পবিত্র করেন। ডাকেও
হে পতিত-পাবন এসো। এইরকম কোনো কৃষ্ণকে ডাকে না। নিরাকার ভগবানকে ডাকে। যখন বলে, হে
পতিত-পাবন, তখন কৃষ্ণ বুদ্ধিতে স্মরণ হয় না, পরমাত্মাকে স্মরণ হয়। বাবা এসে
প্রতিটি কথা বোঝান। বাচ্চারা, তোমরা এখন সম্মুখে বসে আছো। ইনি কোনো সাধু-সন্ত নন।
তোমরা জানো নিরাকার শিববাবা এই ব্রহ্মা তনে প্রবেশ করে আমাদের পড়ান। গায়নও আছে-
পরমপিতা পরমাত্মা, ব্রহ্মা তনের দ্বারা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা করেন।
বিনাশ, স্থাপনার পরেই হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে পুরানো দুনিয়াতে তিনি আসেন।
ব্রহ্মার দ্বারা
স্থাপনা নূতন দুনিয়ার, শঙ্করের দ্বারা অনেক ধর্মের বিনাশ করান। সত্যযুগে এক ধর্ম
ছিলো, এখন তো অনেক ধর্ম আছে। এক ধর্মের দেবী-দেবতাদের নিদর্শন হলো চক্র ইত্যাদি। এই
লক্ষ্মী-নারায়ণকে বলা হয় বিশ্বের মালিক। স্বর্গের মালিক যে সে-ই হয়ে যায় বিশ্বের
মালিক । বাচ্চারা, এই কথা এখন তোমাদের বুদ্ধিতে বসেছে। বাবা বলেন- বাচ্চারা,
মন্মনাভব। এই বাচ্চাদের ক্ষণে-ক্ষণে সতর্কতা প্রাপ্ত হয়। বাবাকে আর উত্তরাধিকারকে
স্মরণ করো। এইটা ভুলো না। অন্য পয়েন্টস ভুলে গেলেও, এইটা কিন্তু মুখ্য । একমাত্র
বাবা হলেন পতিত-পাবন। এই যুক্তি বলেন পবিত্র হওয়ার। বাবা বলেন, তোমরা সতোপ্রধান ছিলে।
এখন তমোপ্রধান পতিত হয়ে গিয়েছো। ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ রূপে গ্রহণ করেছো। এখন তোমাদের
আবার সতোপ্রধান হতে হবে। সতোপ্রধান হলে তবেই তোমরা পবিত্র দুনিয়াতে যেতে পারবে।
নিরাকারী দুনিয়াও হলো পবিত্র, সাকারী দুনিয়াও হলো পবিত্র। অপবিত্র পতিত দুনিয়া হলো
এইটা। আত্মাও তমোপ্রধান তো শরীরও হলো তমোপ্রধান। এ তো হলো সৃষ্টি রূপী নাটক, এর
মধ্যে ব্রহ্মান্ড আর সৃষ্টির নাটকও এসে যায়। সৃষ্টি চক্র এখানে আবর্তিত হয়। সত্যযুগ
- ত্রেতা হলো এইখানে। এইটা কোনো সূক্ষ্মবতন বা মূলবতনে হয় না। এইটা এইখানেই। একে
মনুষ্য সৃষ্টি বলা হয় । সেটা হলো আত্মাদের নিরাকারী দুনিয়া। সেটা হল ব্রহ্মা,
বিষ্ণু, শঙ্করের আকারী দুনিয়া। এই সাকারী সৃষ্টি হলো কতো বড়। সত্যযুগে সৃষ্টি কতো
ছোটো হয়। সেখানে হলোই এক ধর্ম। এছাড়া মানুষ যে বলে ওখানেও দৈন্য ইত্যাদি ছিলো, এই
সব হলো মিথ্যা। তোমরা বুঝতে পারো যে নতুন দুনিয়ার স্থাপনা, পুরানো দুনিয়ার বিনাশ
গাওয়া হয়েছে। সকলের বিনাশ হবে আর সত্যযুগ হেভেনের স্থাপনা হবে। তোমরাও বাবার সাথে
সেবা করছো। বাবাও এসে থাকেন বাচ্চাদের সেবা করতে। ইনি হলেন অসীম জগতের বাবা। দেখেন
যে আমার বাচ্চারা খুবই দুঃখী, তখন অবশ্যই করুণা হয়। তিনি হলেনই করুণাময় পিতা। এখন
তো সমগ্র দুনিয়াতে হলো অশান্তি। এক বাবা ব্যাতীত আর কেউ শান্তি দিতে পারবে না।
হঠযোগীও অসংখ্য আছে। আত্মার বিষয়ে বলে দেয় আত্মা হল নির্লিপ্ত। মানুষকে উল্টো কথা
শুনিয়ে থাকে । বাস্তবে আত্মার শুদ্ধিকরণ দরকার। আত্মাতেই খাদ পড়েছে এটা কারোরই জানা
নেই। এদিকে বলেও এ হলো পাপ আত্মা। অনেক পাপ করে। ইনি হলেন মহাত্মা, পুণ্যাত্মা।
সন্ন্যাসীদের জন্য বলবে পবিত্র আত্মা- কারণ সন্ন্যাস করেছে। এখন বাবা বোঝান- আত্মাকে
পবিত্র করতে পারেন একমাত্র পরমাত্মা পিতা, তিনি ছাড়া আর কেউ হতে পারে না। এখন
স্যাপলিং লাগছে। ধীরে-ধীরে বৃদ্ধি হতে থাকবে। এখানে তো ছোটো- ছোটো মঠ, পথ, ধর্ম
সম্প্রদায় ইত্যাদি শাখা-প্রশাখা আছে। এতে কি আর কোনো পরিশ্রম লাগে? সেখানে অনেক
ধরনের মন্ত্র দেয়। তোমাদের এটাও হলো বশীকরণ মন্ত্র, যার দ্বারা তোমরা ৫ বিকারের
উপর বিজয় প্রাপ্ত করো। রাম-রাম মন্ত্র জপ করে, এতে তো লাভ কিছু নেই। এখানে তো বাবা
বলেন আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের পাপা বিনাশ হয়ে যাবে। তোমরা পবিত্র আত্মা হয়ে যাবে।
স্মরণকেই যোগ বলা হয়। ভারতের প্রাচীন যোগ খুবই সুখ্যাত। এই যোগের দ্বারাই তোমরা
বিশ্বের উপর বিজয় প্রাপ্ত করো। ভারতের রাজযোগের খুবই নাম। কিন্তু সেই রাজযোগ বাবা
ব্যাতীত আর কেউ শেখাতে পারে না। তোমরা হলে ব্রহ্মা কুমার-কুমারীর। বি.কে তো এখানেই
হবে, তাইনা! প্রজাপিতা ব্রহ্মার বাচ্চারা তো অবশ্যই ব্রহ্মার সাথে থাকবে। ব্রাহ্মণ
কুলও অবশ্যই দরকার। একে বলা হয়-- সর্বোত্তম, উচ্চ থেকেও উচ্চতম ব্রাহ্মণ কুল। এখন
তোমরা হলে ব্রাহ্মণ, এরপর পরিবর্তিত হবে। ডিগবাজি খায় যে না। শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ
হয়েছো, এরপর দেবতা, ক্ষত্রিয়.... তাই এখন বাবা বোঝান হে মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা -
খুবই স্বল্প কথা, বাবার স্মরণে থাকো। এটাও তো বুদ্ধিতে আছে যে - বাবা আমাদের ৮৪
জন্মের রহস্য বলছেন। ৮৪ লক্ষ অথবা ৮৪ জন্মের হিসাব তো চাই যে না। কারোর তো জানা নেই।
৮৪ লক্ষের তো হিসাব কেউ বলতে পারে না। মানুষ ৮৪ জন্মের চক্র আবর্তন করে। আত্মারা
উপর থেকে আসে পার্ট প্লে করতে। সত্যযুগ থেকে শুরু করে কলিযুগের শেষ পর্যন্ত আসতেই
থাকে। প্রত্যেকে নিজের নিজের পার্ট প্লে করতে থাকে। এই কথা মানুষ মাত্রই জানে না।
একমাত্র বাবা জানতে পারেন। মানুষকে কখনো পরমপিতা, গড ফাদার বলা যায় না। গড ফাদার
বললে আবার নিরাকার শিবের দিকে বুদ্ধি যায়। জীব আত্মার বাবা তো থাকবে, তাই না! আত্মা
এক শরীর ত্যাগ করে দ্বিতীয় শরীর গ্রহণ করে। নিরাকার বাবার নাম হলো শিব। তোমাদেরও হলো
একটিই নাম, আত্মা। আবার শরীরের আলাদা-আলাদা নাম হয়। পরমপিতা পরমাত্মাও শরীরে এসে
জ্ঞান শোনায়। শরীর ব্যাতীত কি আর শোনাবে! তাই বাবা বোঝান যে এনার তো নিজের নাম আছে,
আমার শরীরের কোনো নাম নেই, আমি পুনর্জন্মে আসি না। আমি এঁনার মধ্যে প্রবেশ করি,
ইনিও জানতে পারেন না। কোনো তিথি তারিখ নেই। হ্যাঁ আমি কল্পের শেষে অর্থাৎ রাত্রে আসি।
এখন রাত হলো না! এইটা হলোই পতিতাদের দুনিয়া। আমি আসি পবিত্র দুনিয়া অর্থাৎ দিন তৈরী
করতে। এইটাও জানে না যে বাবা কখন প্রবেশ করলো। হ্যাঁ বিনাশ সাক্ষাৎকার হয়েছিলো।
অনেক ধ্যানে যেতেন, সেইটার কোনো তিথি তারিখ বেলা বের করা যাবে না। কৃষ্ণকেও পূজা
করতেন, তার রাত্রিকে জন্ম দেখানো হয়। কোন সময়, কতো মিনিট ইত্যাদি সমস্ত বের হয়েছে।
বাবা বলেন- আমি তো হলামই নিরাকার। যেমন আর মানুষ জন্ম নেয় সেইরকম আমার কি আর জন্ম
হয়! আমার তো হলো দিব্য অলৌকিক জন্ম। আমি এঁনার মধ্যে প্রবেশ করি আবার চলে যাই।
সারাদিন কি আর ষাঁড়ের উপর আরোহী হই! আমাকে যখনই বাচ্চারা স্মরণ করে, আমি হাজির হই।
বাবা এসে বাচ্চাদের সাথে মিলিত হন, গুডমর্ণিং করেন। মানুষ যেমন একে অপরের সাথে
মিলিত হয়, রাম-রাম বা নমস্তে বলে। এটা তো রুহানী অসীম জগতের বাবা বোঝান। আমি
তোমাদের অর্থাৎ সমস্ত বাচ্চাদের বাবা আমি। তাই শিববাবার সন্তান তোমরা, তোমরা সমস্ত
আত্মারা হলে ভাই-ভাই। এই কথায় খুশীর পারা উপরে ওঠা উচিত। অসীম জগতের বাবা এসেছেন,
আমাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রদান করছেন। বাচ্চাদের দেখে বাবাও খুশী হন, প্রচুর
বাচ্চা আছে। বাচ্চারা জানে যে আমাদের বাবা স্বর্গের মালিক করছেন, রাজত্ব দেন।
প্রজাও বলবে আমাদের রাজ্য। ভারতবাসী যেমন বলে এইটা হলো আমাদের ভারত দেশ। রাজা প্রজা
দুইই বলে আমাদের দেশ। বাচ্চারা, তোমরা হলে নরকবাসী- আবার স্বর্গবাসী হবে। বাবাকে আর
উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে আর কোনো কষ্ট বাবা দেন না। থাকতেও হবে গার্হস্থ্য
জীবনে। এখানে এসে কি আর থাকতে হবে! সবাই এখানে পালিয়ে এলে এতো সবাইকে বাবা কোথায়
রাখতে পারবেন। এতো প্রচুর সংখ্যক বাচ্চা একই বার কি করে এক সাথে হতে পারে। সব
সেন্টারের বাচ্চারা এক বারেই কি করে একসাথে মিলিত হতে পারে। কোথায় এসে দাঁড়াবে !
বেশ কঠিন। দিনে-দিনে ক্রমাগত বাচ্চারা বৃদ্ধি পেতে থাকছে, এরও কিছু যুক্তি রচনা করতে
হবে। এই সব আশে-পাশে লোকেদের বাড়ী নিতে হবে। বাড়ীওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করবে, কতো
চাইছেন? সময় হলে তো নিতে হবে, তাই না! টাকা পয়সার বিষয়ে তো কোনো অসুবিধা নেই। সময়
খুবই ক্ষীণ হয়ে আসছে । বাবা আর বাচ্চা দুইজনেই হলে অবিনাশী। অবিনাশী ধন-ভান্ডার
বাচ্চাদের তিনি প্রদান করেন। অনেক সংখ্যক বাচ্চাদের আসতে হবে। ব্রহ্মা বাবার চিন্তন
চলে, এতো সংখ্যক বাচ্চারা কোথায় এসে থাকবে। শিববাবা বলেন, তুমি চিন্তা কেনো করো- "ওয়েট
এন্ড সী" তুমি পড়াশুনা করতে থাকো, মন্মনাভব। বাচ্চারা, তোমাদের এই ভাবনা রাখতে হবে
যে এখন আমাদের কর্মাতীত অবস্থাতে যেতে হবে, সতোপ্রধান হতে হবে। স্মরণের দ্বারাই
পবিত্র হবে। বাবা কথা তো খুব সহজ বলেন। খুবই সহজ, শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হবে।
দেখো গরুর বাছুরদের যখন মা এর কথা মনে আসে তখন চিৎকার করে আওয়াজ করে, তাই না! সে
তো হলো জানোয়ার। বাচ্চারা তোমরাও তো ঘ্যান-ঘ্যান করো । ক্রমশঃ অনেক অনেক চিৎকার
বাড়বে, অনেক স্মরণ করবে। বাচ্চারা তোমরা তো এখন জানো যে না- বাবা এসেছেন, বিনাশ তো
হবেই। ন্যাচারাল ক্যালামিটিস আসে। সব নিজেদের মধ্যে লড়াই-ঝগড়া করতে থাকে। কতো খরচা
করে বোমা তৈরী করে, অনেক পয়সা চলে যায়। খরচা তো হয়, তাই না। এতো খরচ কোথা থেকে
যোগাবে। ভয়ও পায় - মৃত্যুকে। তবুও বোমা তৈরী করা তো বন্ধ করে না। বোমার লড়াই চলবে।
এখন তৈরীই করে এইরকম-- যেন বোম পড়ে আর মানুষ মরে যায়। জিনিস তৈরী করতে সময় লেগে
যায়- তারপর তো মিনিটমোটর (নিমেষে কাজ)। তাড়াতাড়ি তৈরী করে। বোমাও কখনো অল্প তৈরী
হয় কি? বাচ্চারা, তোমরা জানো এই পুরানো সৃষ্টির বিনাশ হতে হবে। এখন অসীম জগতের
পিতার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে।
গীতা হলো তোমাদের
অর্থাৎ ভারতবাসীদের, দেবী-দেবতা ধর্মের শাস্ত্র। এছাড়া তো হলো ছোটো- ছোটো, ওসবের
কোনো গায়ন বা প্রচার নেই। ব্রাহ্মণ ধর্ম হলো সবচেয়ে উঁচু। ব্রাহ্মণ ধর্মের কাজ হলো
কথা শোনানো। তোমরা বলতে পারো আমরা ব্রহ্মা কুমার-কুমারীরা হলাম ব্রহ্মার সন্তান,
আমাদের পিতামহের থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হচ্ছে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
ড্রামার সব রহস্যকে জেনেও কোনো ব্যাপারে চিন্তা করতে নেই। পড়াশুনা করে যেতে হবে।
মন্মনাভব হয়ে (নিজের মন বাবার প্রতি মনোনিবেশ করে) কর্মাতীত হওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে
হবে। নিজেকে সতোপ্রধান করে তুলতে হবে।
২ ) আমরা আত্মারা
হলাম শিববাবার সন্তান নিজেদের মধ্যে ভাই-ভাই। শিববাবার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি।
এই খুশীতে থাকতে হবে।
বরদান:-
অন্তর
স্বরূপে স্থিত থেকে নিজের বা বাবার গুপ্ত রূপকে প্রত্যক্ষকারী সত্যিকারের স্নেহী ভব
যে বাচ্চারা সদা
অন্তরের স্থিতিতে অথবা অন্তর স্বরূপে স্থিত থেকে অন্তর্মুখী থাকে, তারা কখনও কোনও
কথাতে লিপ্ত হতে পারে না। পুরানো দুনিয়া, সম্বন্ধ, সম্পত্তি, পদার্থ যাকিছু অল্পকাল
আর দেখানোর জন্য আছে, সেগুলি থেকে ধোঁকা খায় না। অন্তর স্বরূপে স্থিত থাকার কারণে
নিজের মধ্যে যে শক্তি স্বরূপগুলি গুপ্ত ছিল সেগুলি প্রত্যক্ষ হয়ে যায় আর এই
স্বরূপের দ্বারা বাবার প্রত্যক্ষতা হয়। তো এইরকম শ্রেষ্ঠ কর্তব্য করা আত্মাই
সত্যিকারের স্নেহী হয়।
স্লোগান:-
নিশ্চয়
আর জন্মসিদ্ধ অধিকারের নেশাতে থাকো তাহলে হয়রান (পরেশান) হবে না।
অব্যক্ত ঈশারা :- সদা
হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচারকে সরল বানাও, সহনশীল হও।
স্বচ্ছতাও হল সরলতার
লক্ষণ। যতটা সরলতা ততই স্বচ্ছতা হবে এইজন্য সবাইকে নিজের প্রতি আকর্ষিত করবে। সত্যতা
আর স্বচ্ছতাও তখন হবে যখন নিজের স্বভাবকে সরল বানাবে। সরল স্বভাবী বহুরূপীও হতে পারে।
এইরকম সরল স্বভাবী সদা হাসিখুশী থাকে আর সবাইকে আকর্ষিত করতে থাকে।