22.07.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - দেহী-অভিমানী হও, তাহলে শীতল হয়ে যাবে, বিকারের দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে, তোমরা অন্তর্মুখী হয়ে গেলে, ফুলে পরিণত হবে"

প্রশ্নঃ -
বাপদাদা সকল বাচ্চাদেরকে কোন্ দুই বরদান দেন? তাকে স্বরূপে আনার বিধি কি?

উত্তরঃ  
বাবা সকল বাচ্চাদেরকে শান্তি আর সুখের বরদান দেন । বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা শান্তিতে থাকার অভ্যাস করো । কেউ যদি উল্টোপাল্টা কিছু বলে, তাহলে তোমরা উত্তর দিও না । তোমাদের শান্ত থাকতে হবে । অপ্রয়োজনীয় পরনিন্দা পরচর্চা করো না । কাউকেই দুঃখ দেবে না । মুখে শান্তির চুষিকাঠি রাখো, তাহলেই এই দুই বরদান স্বরূপে এসে যাবে ।

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা কখনো সামনে থাকে, কখনো আবার দূরে চলে যায় । সামনে তারাই থাকে যারা স্মরণ করে, কেননা স্মরণের এই যাত্রাতেই সবকিছু নিহিত আছে । এমন বলাও হয় - দৃষ্টি দিয়ে ভরপুর করে । আত্মার নজর যায় পরমপিতার প্রতি তখন আর কিছুই তার ভালো লাগে না । তাঁকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হয় । তাই নিজের প্রতি কতো সাবধানতা রাখা প্রয়োজন । স্মরণ না করলে মায়া বুঝতে পারে - এর যোগ ছিন্ন হয়েছে, তখন মায়া নিজের দিকে আকর্ষণ করে । কিছু না কিছু ভুল কাজ করিয়ে দেয় । এমনভাবেই তারা বাবার নিন্দা করায় । ভক্তি মার্গে গাওয়া হয় - বাবা, আমার তো এক তুমিই দ্বিতীয় আর কেউই নেই । বাবা তখন বলেন - বাচ্চা, তোমাদের লক্ষ্য অনেক উঁচু । কাজ করতে করতে বাবাকে স্মরণ করা - এ হলো উঁচুর থেকেও উঁচু লক্ষ্য । এতে খুব ভালো অভ্যাসের প্রয়োজন । নাহলে যারা উল্টো কাজ করে তারা নিন্দুক হয়ে যায় । তোমরা মনে করো, কারো মধ্যে ক্রোধ এলো, নিজেদের মধ্যে লড়াই - ঝগড়া করলো, তাহলেও তো তারা নিন্দা করালো, এতে অনেক সাবধানতা রাখতে হবে । গৃহস্থ জীবনে থেকেও বুদ্ধি বাবার সঙ্গেই যুক্ত করতে হবে । এমন নয় যে, সবাই সম্পূর্ণ হয়ে গেছে । তা নয় । প্রয়াস করা উচিত - আমরা যেন দেহী-অভিমানী হতে পারি । দেহ ভাবে এলে কিছু না কিছু ভুল কাজ করে ফেলে, তাই বাবার নিন্দা করিয়ে দেয় । বাবা বলেন, এমন সদ্গুরুর যারা নিন্দা করায়, তারা লক্ষ্মী-নারায়ণ হওয়ার যোগ্য হয় না, তাই সম্পূর্ণ পুরুষার্থ করতে থাকো, এতে তোমরা খুবই শান্ত - শীতল হয়ে যাবে । পাঁচ বিকার সব দূর হয়ে যাবে । তোমরা বাবার থেকে অনেক শক্তি পাবে । তোমাদের কাজ - কারবারও করতে হবে । বাবা এমন বলেন না যে, কর্ম কোরো না । ওখানে তো তোমাদের কর্ম, অকর্ম হয়ে যাবে । কলিযুগে যে কর্ম হয় তা বিকর্ম হয়ে যায় । এখন সঙ্গম যুগে তোমাদের শিখতে হয় । ওখানে শেখার কোনো ব্যাপার নেই । এখানকার শিক্ষাই ওখানে সাথে চলবে । বাবা বাচ্চাদের বোঝান যে বাহির্মুখিতা ভালো নয় । তোমরা অন্তর্মুখী ভব । এমন সময়ও আসবে যখন বাচ্চারা, তোমরা অন্তর্মুখী হয়ে যাবে । বাবা ছাড়া আর কিছুই তোমাদের স্মরণে আসবে না । তোমরা যখন এসেছিলে তখন তোমাদের কারোর কথাই স্মরণে ছিলো না । গর্ভ থেকে যখন বাইরে এলে তখন জানতে পারলে - এই আমাদের মা - বাবা, ইনি অমুক । তাই এখন এমনভাবেই যেতে হবে । আমরা এক বাবারই, বাবা ছাড়া আর কেউই যেন বুদ্ধিতে না আসে । যদিও সময় আছে, তবুও পুরুষার্থ তো সম্পূর্ণ রীতিতে করতে হবে । এই শরীরের উপর তো কোনো ভরসা নেই । ঘরেও যেন খুব শান্তি থাকে, ক্লেশ যেন না থাকে, এমন চেষ্টাই তোমাদের করতে হবে । নাহলে সবাই বলবে, এদের মধ্যে কতো অশান্তি । বাচ্চারা, তোমাদের তো সম্পূর্ণ শান্ত থাকতে হবে । তোমরা তো শান্তির অবিনাশী উত্তরাধিকার নিচ্ছো, তাই না । এখন তোমরা কাঁটার মধ্যে আছো । তোমরা এখন ফুলের মধ্যে নেই । এই কাঁটার মধ্যে থেকেই তোমাদের ফুলে পরিণত হতে হবে । তোমরা নিজেদের আরো বেশী কাঁটাতে পরিণত করো না । তোমরা যত বাবাকে স্মরণ করবে ততই শান্ত থাকবে । কেউ যদি উল্টোপাল্টা কিছু বলে, তোমরা শান্তিতে থাকো । আত্মা তো শান্তই । আত্মার স্বধর্ম হলো শান্ত । তোমরা জানো যে, এখন তোমাদের ওই ঘরে ফিরে যেতে হবে । বাবাও হলেন শান্তির সাগর । তিনি বলেন - তোমাদেরও শান্তির সাগর হতে হবে । তোমরা ফালতু পরনিন্দা পরচর্চায় অনেক ক্ষতি করে ফেলো । বাবা নির্দেশ দেন - এমন কথা বলা উচিত নয়, এতে তোমরা বাবার নিন্দা করানো হয় । শান্তিতে থাকলে কোনো নিন্দা বা বিকর্ম হয় না । বাবাকে স্মরণ করতে থাকলে আরো বিকর্ম বিনাশ হবে । তোমরা নিজেরাও অশান্ত হয়ো না আর অন্যদেরও অশান্ত কোরো না । কাউকে দুঃখ দিলে আত্মা অখুশি হয় । অনেকেই আছে যারা লেখে যে - বাবা, এ বাড়ীতে এলে তুমুল অশান্তি করে । বাবা লেখেন - তোমরা তোমাদের স্বধর্ম, শান্তিতে থাকো । হাতমতাই-এর কাহিনী আছে না ! ওদের বলেছিলো, তোমরা মুখে চুষিকাঠি দিয়ে দাও, তাহলে আওয়াজ বের হবে না । তোমরা কিছু বলতে পারবে না তখন ।

বাচ্চারা, তোমাদের শান্তিতে থাকতে হবে । মানুষ শান্তির জন্য অনেক ধাক্কা খায় । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, আমাদের মিষ্টি বাবা হলেন শান্তির সাগর । শান্তি করাতে করাতে তিনি তিনি এই বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেন । তোমরা তোমাদের ভবিষ্যতের পদকেও স্মরণ করো । ওখানে থাকেই এক ধর্ম, দ্বিতীয় কোনো ধর্ম ওখানে থাকে না । সেই অবস্থাকেই বিশ্বের শান্তি বলা হয় । এরপর যখন অন্যান্য ধর্ম আসে তখন হাঙ্গামা শুরু হয়ে যায় । এখন কতটুকু শান্তি আছে? তোমরা বুঝতে পারো যে, আমাদের ঘর হলো ওটাই । আমাদের স্বধর্ম হলো শান্ত । এমন তো বলা হবে না যে, শরীরের স্বধর্ম হলো শান্ত । শরীর হলো বিনাশী আর আত্মা অবিনাশী । যত সময় আত্মা ওখানে থাকে, তো কতো শান্ত থাকে । এখানে তো সম্পূর্ণ দুনিয়াতেই অশান্তি, তাই মানুষ শান্তি চাইতে থাকে কিন্তু কেউ চাইলেই সদা শান্তিতে থাকবে এমন তো হতে পারে না । যদিও ৬৩ জন্ম এখানেই থাকে তবুও তো অবশ্যই আবারও আসতে হয় । নিজের সুখ - দুঃখের অভিনয় করে আবার চলে যাবে । এই নাটককে সম্পূর্ণ ভাবে বুদ্ধিতে রাখতে হবে ।

বাচ্চারা তোমাদেরও যেন খেয়াল থাকে যে, বাবা আমাদের বরদান দেন - সুখ আর শান্তির। ব্রহ্মার আত্মাও সবকিছুই শোনে । সবথেকে কাছে তো এনার কান শোনে । এনার মুখ কানের কাছে । তোমাদের তো তাও কতো দূরে । ইনি তৎক্ষণাৎ শুনতে পান । সমস্ত কথাই ইনি বুঝতে পারেন । বাবা বলেন - মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা! মিষ্টি - মিষ্টি তো তিনি সবাইকেই বলেন, কারণ সকলেই তো বাচ্চা । যে সব জীবাত্মারা আছে তারা সবাই বাবার অবিনাশী সন্তান । এই শরীর তো বিনাশী । বাবা হলেন অবিনাশী । আত্মা বাচ্চারাও অবিনাশী । বাবা বাচ্চাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন - একে বলা হয় আধ্যাত্মিক জ্ঞান । সুপ্রীম আত্মা বসে আত্মাদের বোঝান । বাবার ভালোবাসা তো আছেই । যত সব আত্মা আছে, সব তমোপ্রধান । এরা যখন ঘরে ছিলো সব সতোপ্রধান ছিলো । আমি কল্পে - কল্পে এসে সবাইকে শান্তির পথ বলে দিই । এখানে বর দেওয়ার কোনো ব্যাপার নেই । এমন বলবেন না যে, ধনবান ভব, আয়ুষ্মান ভব । তা নয় । সত্যযুগে তোমরা এমনই ছিলে কিন্তু আশীর্বাদ দেন না । তোমরা কৃপা বা আশীর্বাদ চাইবে না । বাবা হলেন বাবাও আবার টিচারও - এই কথা তোমাদের স্মরণ করতে হবে । আহা! শিববাবা আমাদের বাবাও, টিচারও, তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর । বাবা বসেই আমাদের নিজের আর রচনার আদি, মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান শোনান, যাতে তোমরা চক্রবর্তী মহারাজা হয়ে যাও । এ তো সম্পূর্ণ অলরাউন্ড চক্র । বাবা বোঝান যে, এই সময় সম্পূর্ণ দুনিয়া রাবণ রাজ্যে আছে । রাবণ কেবলমাত্র লঙ্কাতে নেই । এ হলো বেহদের লঙ্কা । চারিদিকেই জল । সম্পূর্ণ লঙ্কা রাবণের ছিলো । এখন আবার রামের হচ্ছে । লঙ্কা তো সোনার ছিলো । ওখানে সোনা অনেক থাকে । এর উদাহরণও দেওয়া হয়, ধ্যানে গিয়ে সেখানে একটি সোনার ইঁট দেখেছিলো । এখানে যেমন মাটির ইট, ওখানে তা সোনার হবে । তাই মনে করে ওখানে সোনা নিয়ে যাবে । কেমন সব নাটক বানানো হয়েছে । ভারত তো অনেক নামিদামী, অন্য কোনো খণ্ডে এতো হীরে - জহরত থাকে না । বাবা বলেন যে, আমি গাইড হয়ে সবাইকেই ফিরিয়ে নিয়ে যাই । চলো বাচ্চারা, এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে । আত্মা হলো পতিত, পবিত্র হওয়া ব্যতীত ঘরে ফিরে যেতে পারে না । পতিতকে পবিত্র করেন একমাত্র বাবাই, তাই সকলেই এখন এখানে । একা ঘরে ফিরে কেউই যেতে পারে না । নিয়ম তা বলে না । বাবা বলেন যে - বাচ্চারা, মায়া তোমাদের আরো বেশী করে দেহ - অভিমানে আনবে । বাবাকে স্মরণ করতেই দেবে না । তোমাদের কিন্তু সাবধান থাকতে হবে । এ হলো মায়ার উপরেই যুদ্ধ । চোখ অনেক ধোঁকা দিয়ে দেয় । এই দৃষ্টিকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে । দেখা যায় যে, ভাই - বোনেও দৃষ্টি ঠিক থাকে না, তাই এখন বোঝানো হয়, নিজেদের ভাই - ভাই মনে করো । এমনিতে সবাই বলে যে, আমরা ভাই - ভাই কিন্তু এর অর্থ কিছুই বোঝে না । ব্যাঙের ডাকের মতো কর্কশ ভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে, কিছুই অর্থ বোঝে না । এখন তোমরা প্রত্যেকটি কথার যথার্থ অর্থ বুঝেও গেছো ।

বাবা মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চাদের বসে বোঝান যে, তোমরা ভক্তি মার্গেও প্রেমিক ছিলে, প্রিয়তমকে স্মরণ করতে । দুঃখের সময় সবার আগে তাঁকেই স্মরণ করে - হায় রাম ! হে ভগবান দয়া করো । স্বর্গে তো এমন কথা কখনোই বলবে না । সেখানে তো রাবণ রাজ্যই থাকে না । বাবা তোমাদের রামরাজ্যে নিয়ে যান, তাই তাঁর মতে চলা উচিত । এখন তোমরা ঈশ্বরীয় মত পাচ্ছো এরপর দৈবী মত পাবে । এই কল্যাণকারী সঙ্গম যুগকে কেউই জানে না, কেননা সবাইকেই বলা হয়েছে, কলিযুগ এখনো ছোটো বাচ্চা । এখনো লাখ বছর বাকি আছে । বাবা বলেন, এ হলো ভক্তির ঘোর অন্ধকার । জ্ঞান হলো প্রভাত । ড্রামা অনুসারে ভক্তির কথাও গাঁথা আছে, এ আবারও হবে । এখন তোমরা বুঝতে পারো, ভগবানকে পেয়ে গিয়েছি তাই বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবার দরকার নেই । তোমরা বলো যে, আমরা বাবার কাছে যাই অথবা বাপদাদার কাছে যাই । এই কথা তো অন্য মানুষরা বুঝতে পারবে না । তোমাদের মধ্যেও সম্পূর্ণ নিশ্চিত যারা না থাকে, মায়া তাদের একদম গিলে ফেলে । বড় কুমীর গোটা হাতিকে একদম খপ্ করে গিলে ফেলে । আশ্চর্য হয়ে শুনন্তি, কথন্তি, তারপর ভাগন্তি হয়ে যায় । পুরানোরা তো চলে গেছে, সেই বিষয়েও গায়নও আছে, খুব ভালো ভালো মহারথীদেরও মায়া হারিয়ে দেয় । তারা বাবাকে লেখে - বাবা, তুমি তোমার মায়াকে পাঠিও না । আরে, এই মায়া আমারই নয় । রাবণ তার নিজের রাজত্ব কায়েম করে, আমি এখন আমার রাজ্য স্থাপন করছি । এ পরম্পরা ধরে চলে আসছে । রাবণই হলো তোমাদের সবথেকে বড় শত্রু । ওরা জানে যে, রাবণ হলো শত্রু, তাই প্রতি বছর তাকে জ্বালানো হয় । মহীশূরে দশহারা খুব বড় করে পালন করা হয়, কিন্তু মানুষ কিছুই বোঝে না । তোমাদের নাম হলো শিবশক্তি সেনা । ওরা আবার বানর সেনা নাম রেখে দিয়েছে । তোমরা জানো যে, বরাবর আমরা বানরের মতো ছিলাম, এখন রাবণের উপর জয়লাভের জন্য আমরা শিববাবার থেকে শক্তি গ্রহণ করছি । বাবা এসেই আমাদের রাজযোগ শেখান । এর উপর অনেক কথা বানানো হয়েছে । একে অমরকথাও বলা হয় । তোমরা জানো যে, বাবা আমাদের অমরকথা শোনান । বাকি কোনো পাহাড় ইত্যাদির উপর বসে শোনান না । বলা হয়, শঙ্কর পার্বতীকে অমরকথা শুনিয়েছিলেন । শিব শঙ্করের চিত্রও রাখা হয় । মানুষ এই দুইকে মিলিয়ে দিয়েছে । এ সবই হলো ভক্তি মার্গের । দিনে - দিনে সবাই তমোপ্রধান হয়ে গেছে । সতোপ্রধান থেকে সতো হয়ে গেলে দুই কলা কম হয়ে যায় । বাস্তবে ত্রেতাকেও স্বর্গ বলা যায় না । বাচ্চারা, বাবা আসেন তোমাদের স্বর্গবাসী বানাতে । বাবা জানেন যে, ব্রাহ্মণ কুল আর সুর্যবংশী - চন্দ্রবংশী কুল এই দুইই স্থাপন হচ্ছে । রামচন্দ্রকে ক্ষত্রিয়ের নিদর্শন হিসাবে দেখানো হয়েছে । তোমরা সকলেই তো ক্ষত্রিয়, যারা মায়াকে জয় করো । কম নম্বরে যারা পাস করে, তাদের চন্দ্রবংশী বলা হয়, এই কারণেই রামকে বাণ ইত্যাদি দিয়ে দেওয়া হয়েছে । হিংসা তো ত্রেতাতেও থাকে না । এমন মহিমাও আছে - রাম রাজা, রাম প্রজা... কিন্তু এই ক্ষত্রিয় ভাবের নিদর্শন দিয়ে দিয়েছে তাই মানুষ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায় । এই হাতিয়ার ইত্যাদি থাকেই না । শক্তির জন্য কাটারি ইত্যাদি দেখানো হয় । মানুষ এইসব কিছুই বোঝে না । বাচ্চারা, তোমরা এখন বুঝতে পেরেছো, বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, তাই বাবাই আমাদের আদি - মধ্য এবং অন্তের রহস্য বুঝিয়ে বলেন । অসীম জগতের বাবার তাঁর বাচ্চাদের প্রতি যে ভালবাসা আছে, তা এই পৃথিবীর লৌকিক পিতার হওয়া সম্ভব নয় । তিনি ২১ জন্মের জন্য বাচ্চাদের সুখদায়ী করে দেন । তাহলে তো তিনি অতি প্রিয় বাবা হলেন, তাই না । কতো প্রিয় বাবা, যিনি তোমাদের সব দুঃখ দূর করে দেন । তোমরা সুখের অবিনাশী উত্তরাধিকার পাও । ওখানে দুঃখের চিহ্নমাত্র থাকে না । এখন এই কথা বুদ্ধিতে তো থাকা চাই । এই কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয় । এ কতো সহজ, কেবল মুরলী পড়ে শোনাতে হবে, তবুও বলে ব্রহ্মাণী প্রয়োজন । ব্রাহ্মাণী ছাড়া ধারণা হয় না । আরে, সত্যনারায়ণের কথা তো ছোটো বাচ্চারাও মনে করে শোনাতে পারে । আমি তোমাদের রোজই বোঝাই, তোমরা অল্ফ-কে (প্রথম অক্ষরকে স্মরণ করো (অ), যা হলো আল্লাহ বা বাবা) স্মরণ করো । এই জ্ঞান তো ৭ দিনে বুদ্ধিতে বসে যাওয়া উচিত। কিন্তু বাচ্চারা তো ভুলে যায়, বাবা তো আশ্চর্য হয়ে যান । আচ্ছা ।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) বাবার থেকে আশীর্বাদ বা কৃপা চাইবে না । বাবা, টিচার এবং গুরুকে স্মরণ করে নিজের উপর নিজেকেই কৃপা করতে হবে । মায়ার থেকে সাবধান থাকতে হবে, চোখ (দৃষ্টি) ধোঁকা দেয়, একে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।

২) ফালতু পরনিন্দা পরচর্চা অনেক ক্ষতি করে দেয়, তাই যতটা সম্ভব শান্ত থাকতে হবে, মুখে চুষিকাঠি দিয়ে দিতে হবে । কখনোই উল্টোপাল্টা কথা বলবে না । না নিজে অশান্ত হবে আর না অন্যকে অশান্ত করবে ।

বরদান:-
বাবার সহায়তার দ্বারা শূল-কে কাঁটা বানানো সদা নিশ্চিন্ত আর ট্রাস্টি ভব

পুরানো হিসাব হলো শূল কিন্তু বাবার সহায়তায় সেটা কাঁটায় পরিণত হয়। পরিস্থিতি অবশ্যই আসবে, কেননা সবকিছু এখানেই পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু বাবার সহায়তা সেটাকে কাঁটা বানিয়ে দেয়, বড় কথাকে ছোটো বানিয়ে দেয়, কেননা বড় বাবা সাথে আছেন। এই নিশ্চয়ের আধারে সদা নিশ্চিত থাকো আর ট্রাস্টি হয়ে ‘আমার’-কে ‘তোমার’- এ পরিবর্তন করে হাল্কা হয়ে যাও, তাহলে সব বোঝা এক সেকেন্ডে সমাপ্ত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
শুভ ভাবনার স্টক এর দ্বারা নেগেটিভকে পজিটিভে পরিবর্তন করো।