23.03.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
চুপ থাকাও অনেক বড় গুণ, তোমরা চুপ থেকে বাবাকে স্মরণ করতে থাকো, তাহলে অনেক উপার্জন
জমা করতে পারবে"
প্রশ্নঃ -
কোন্ বাণী (কথা)
কর্ম সন্ন্যাসকে সিদ্ধ করে, যে বাণী তোমরা বলতে পারো না?
উত্তরঃ
ড্রামাতে থাকলে
করে নেবো - বাবা বলেন, এ তো কর্ম সন্ন্যাস হয়ে গেলো । তোমাদের তো অবশ্যই কর্ম করতে
হবে । বিনা পরিশ্রমে (পুরুষার্থ) জল পাওয়াও সম্ভব নয়, তাই ড্রামা বলে ছেড়ে দেওয়া
যাবে না । নতুন রাজধানীতে উঁচু পদ প্রাপ্ত করতে হলে খুব পুরুষার্থ করো ।
ওম্ শান্তি ।
সবার প্রথমে
বাচ্চাদের সাবধান করা হয় যে, বাবাকে স্মরণ করো আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো । "মন্মনাভব"।
এই শব্দও ব্যাস (ব্যাসদেব) লিখেছিলেন । বাবা তো সংস্কৃততে বোঝাননি । বাবা তো
হিন্দীতেই বোঝান । তিনি বাচ্চাদের বলেন যে, বাবাকে আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো । এ
হলো নতুন কথা । এ হলো সহজ শব্দ যে - হে বাচ্চারা, তোমরা তোমাদের বাবাকে স্মরণ করো ।
লৌকিক বাবা এমন বলবেন না যে, হে বাচ্চারা, তোমরা আমাকে স্মরণ করো । এ হলো নতুন কথা
। বাবা বলেন - হে বাচ্চারা, তোমরা তোমাদের নিরাকার বাবাকে স্মরণ করো । বাচ্চারা এও
বুঝতে পারে যে, আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলেন । প্রতি
মুহূর্তে বাচ্চাদের বলা যে, বাবাকে স্মরণ করো, এ শোভা দেয় না, যেহেতু বাচ্চারা জানে
যে, আমাদের দায়িত্ব হলো আত্মিক বাবাকে স্মরণ করা, তাহলেই আমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে ।
বাচ্চাদের নিরন্তর এই স্মরণ করার প্রয়াস করা উচিত । এই সময় কেউই নিরন্তর স্মরণ
করতে পারে না, এতে সময় লাগে । এই বাবা বলেন, আমিও নিরন্তর স্মরণ করতে পারি না । ওই
অবস্থা পরের দিকে হবে । বাচ্চারা তোমাদের প্রথম পুরুষার্থ হিসাবে বাবাকেই স্মরণ করতে
হবে । শিববাবার থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যায় । এ হলো ভারতবাসীদের কথা । এই দৈবী
রাজধানীর স্থাপনা হয়, আর যারা ধর্ম স্থাপন করে, তাতে কোনো অসুবিধা হয় না, এর পিছনে
পিছনে আসতে থাকে । এখানে যারা দেবী - দেবতা ধর্মের, তাঁদের জ্ঞানের দ্বারা উত্থান
করাতে হয় । এতে পরিশ্রম লাগে । গীতা, ভাগবত শাস্ত্রে একথা নেই যে, বাবা সঙ্গম যুগে
এসে রাজধানী স্থাপন করেন । গীতাতে লেখা আছে যে, পাণ্ডবরা পাহাড়ে চলে গিয়েছিলো,
প্রলয় হয়েছিলো... ইত্যাদি ইত্যাদি । বাস্তবে এমন কিছুই তো হয়নি তোমরা এখন ২১
জন্মের জন্য পড়ছো । অন্যান্য স্কুলে এখানকার জন্যই পড়ানো হয় । সাধু - সন্ত ইত্যাদি
যারাই আছে, তারা ভবিষ্যতের জন্যই পড়ায়, কেননা তারা মনে করেন, আমরা শরীর ত্যাগ করে
মুক্তিধামে চলে যাবো, ব্রহ্মতে লীন হয়ে যাবো আত্মা পরমাত্মার সাথে মিশে যাবে ।
তাহলে সেও হলো ভবিষ্যতের জন্য, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য পড়ান একমাত্র এই আধ্যাত্মিক
পিতা । দ্বিতীয় আর কেউই নয় । এমন মহিমাও আছে যে, সকলের সদগতিদাতা একজনই । ওদের
সে'গুলো অযথার্থ হয়ে যায় । এই বাবাই এসে বোঝান । তারাও সাধনা করে, কিন্তু ব্রহ্মতে
লীন হওয়ার সাধনা হলো অযথার্থ । কেউই তো লীন হবে না । ব্রহ্ম হলো মহাতত্ত্ব, কোনো
ভগবান নয় । এ সবই হলো ভুল । মিথ্যাখণ্ডে সব মিথ্যাবাদীরা থাকে । সত্যখণ্ডে থাকে
সত্যবাদীরা । তোমরা জানো যে, ভারতেই সত্যখণ্ড ছিলো, এখন তা মিথ্যাখণ্ড । বাবাও
ভারতেই আসেন । মানুষ শিব জয়ন্তী পালন করে, কিন্তু এ কথা জানেই না যে, শিব এসেই
ভারতকে সত্যখণ্ড বানিয়েছিলেন । ওরা মনে করে তিনি আসেনই না । তিনি নাম - রূপ থেকে
পৃথক । কেবল মহিমা গাওয়া হয় পতিত পাবন, জ্ঞানের সাগর । তাই এমনিই তোতারপাখির মতো
বলে দেয় । বাবা এসেই বোঝান । মানুষ কৃষ্ণ জয়ন্তী পালন করে । গীতা জয়ন্তীও পালন করে
। বলা হয়, কৃষ্ণ এসে গীতা শুনিয়েছিলেন । শিব জয়ন্তী সম্বন্ধে কেউই জানে না যে, শিব
এসে কি করেছিলেন । আসবেনই বা কিভাবে? যখন বলা হয়, তিনি নাম - রূপ থেকে পৃথক । বাবা
বলেন, আমিও বসে বাচ্চাদের বোঝাই, তারপর এই জ্ঞান প্রায় লোপ হয়ে যায় । বাবা নিজেই
বলেন যে, আমি এসে ভারতকে আবারও স্বর্গ বানাই । কেউ তো পতিত পাবন হবেন, তাই না ।
মুখ্য হলো ভারতের কথা । ভারতই পতিত । ভারতেই পতিত পাবনকে ডাকা হয় । মানুষ নিজেই বলে
- বিশ্বে শয়তানের রাজত্ব চলছে । মানুষ বম্ব ইত্যাদি বানাতে থাকে । এতে বিনাশ হয় ।
মানুষ এ'সব তৈরী করছে, যেন তারা রাবণের থেকে প্রেরণা পেয়েছে । রাবণের রাজ্য কবে
শেষ হবে? ভারতবাসী বলবে, যখন কৃষ্ণ আসবেন । তোমরা বোঝাও যে, এখন শিববাবা এসেছেন ।
তিনিই হলেন সকলের সদগতিদাতা । বাবা বলেন, আমাকে স্মরণ করো । এই শব্দ দ্বিতীয় আর
কেউই বলতে পারে না । বাবাই বলেন, আমাকে স্মরণ করলে খাদ দূর হবে । তোমরা সতোপ্রধান
ছিলে । এখন তোমাদের আত্মায় খাদ জমা হয়েছে । এই খাদ স্মরণের দ্বারাই দূর হবে, একে
স্মরণের যাত্রা বলা হয় । আমিই হলাম পতিত পাবন । আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম
বিনাশ হবে । একে যোগ অগ্নি বলা হয় । সোনাকে আগুনে দিয়ে তার থেকে খাদ বের করা হয় ।
আবার সোনাতে খাদ মেশানোর জন্যও তা আবার আগুনে দিতে হয় । বাবা বলেন, সেটা হলো কাম
চিতা । আর এ হলো জ্ঞান চিতা । এই যোগ অগ্নির দ্বারা খাদ দূর হবে আর তোমরা
কৃষ্ণপুরীতে যাওয়ার উপযুক্ত হয়ে যাবে । কৃষ্ণ জয়ন্তীতে কৃষ্ণের আরাধনা করা হয় ।
তোমরা জানো যে, কৃষ্ণও বাবার থেকে উত্তরাধিকার পায় । কৃষ্ণ স্বর্গের মালিক ছিলেন ।
বাবা কৃষ্ণকে এই পদ প্রাপ্ত করিয়েছেন । রাধা - কৃষ্ণই আবার লক্ষ্মী - নারায়ণ হয় ।
রাধা - কৃষ্ণের জন্মদিন পালন করা হয় । লক্ষ্মী - নারায়ণের কথা কেউই জানে না ।
মানুষ সম্পূর্ণ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে গেছে । বাচ্চারা, তোমরা এখন বুঝতে পারো, তাই
তোমাদের অন্যদেরও বোঝাতে হবে । প্রথম-প্রথম জিজ্ঞেস করতে হবে যে, গীতাতে যা বলা আছে
- মামেকম্ স্মরণ করো, এই কথা কে বলেছেন? ওরা মনে করে কৃষ্ণ বলেছেন । তোমরা জানো যে,
ভগবান নিরাকার । তাঁর থেকেই উচ্চ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মত পাওয়া যায় । উঁচুর থেকে উঁচু
হলেন পরমপিতা পরমাত্মাই । তাঁর মতই অবশ্যই শ্রেষ্ঠর থেকেও শ্রেষ্ঠ হবে । সেই একের
শ্রীমতেই সকলেরই সদগতি হয় । ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্করকেও গীতার ভগবান বলা যাবে না
। ওরা আবার শরীরধারী শ্রীকৃষ্ণকেই ভগবান বলে দেয় । এতে সিদ্ধ হয় যে, কোথাও অবশ্যই
ভুল আছে । তোমরা বুঝতে পারো, মানুষের এ অনেক বড় ভুল । রাজযোগ তো বাবাই শিখিয়েছেন,
তিনিই হলেন পতিত - পাবন । যতো বড় - বড় ভ্রান্তি আছে, তার উপর জোর দিতে হবে । এক তো
ঈশ্বরকে সর্বব্যাপী বলা, দ্বিতীয় আবার, কৃষ্ণকে গীতার ভগবান বলা, কল্প লাখ বছরের
বলে দেওয়া - এ অনেক বড় ভুল । কল্প লাখ বছরের হাতেই পারে না । পরমাত্মা সর্বব্যাপী
হতে পারেন না । বলা হয়, তিনি অনুপ্রেরণার দ্বারা সবকিছু করেন, কিন্তু তা নয় ।
অনুপ্রেরণার দ্বারা তো পবিত্র করতেই পারবেন না । সে তো বাবা সম্মুখে বসে বোঝান যে,
মামেকম্ স্মরণ করো । অনুপ্রেরণা শব্দ হলো ভুল । যদিও বলা হয় শঙ্করের প্রেরণায়
বোম্ব ইত্যাদি তৈরী হয়, কিন্তু এটা ড্রামাতেই সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ আছে । এই যজ্ঞ
থেকেই বিনাশ জ্বালা প্রজ্জ্বলিত হয়েছিলো । প্রেরণা দেওয়া হয়নি । ওসব তো বিনাশের
কারণে নিমিত্ত হয়েছে । সবই ড্রামাতে নির্ধারিত রয়েছে । এ হলো সম্পূর্ণ শিববাবার
পার্ট । এর পরে আবার পার্ট আছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্করের । ব্রহ্মা ব্রাহ্মণের
রচনা করেন । তাঁরাই আবার বিষ্ণুপুরীর মালিক হয় । তারপর ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ করে
তোমরা এসে ব্রহ্মাবংশী হয়েছো । লক্ষ্মী - নারায়ণ আবার এসে ব্রহ্মা - সরস্বতী তৈরী
হয় । এও বোঝানো হয়েছে যে, এনার দ্বারা দত্তক নেওয়া হয়, তাই এনাকে বড় মাম্মা বলা
হয় । তিনি নিমিত্ত হয়েছিলেন । কলস মাতাদেরই দেওয়া হয় । সবথেকে বড় বীণা সরস্বতীকে
দেওয়া হয়েছে । তিনি সবথেকে তীক্ষ্ণ । বাকি বাজনা ইত্যাদি কিছুই নয় । সরস্বতীর
জ্ঞান মুরলী তীক্ষ্ণ ছিলো । তাঁর সুন্দর মহিমা ছিলো । অনেক নামই তো দেওয়া হয়েছে ।
দেবীদের পূজা করা হয় । তোমরা এখন জানো যে, আমরাই এখানে পূজ্য হই তারপর পূজারী হয়ে
নিজেদেরই পুজো করবো । এখন আমরা ব্রাহ্মণ, এরপর আমরাই পূজ্য দেবী - দেবতা হবো, যথা
রাজা - রানী তথা প্রজা । দেবীদের মধ্যে যাঁরা উচ্চ পদ লাভ করেন, তাঁদের মন্দিরও
অনেক তৈরী হয়, যাঁরা ভালোভাবে পড়ে এবং পড়ায় তাঁদের নামও অনেক উজ্জ্বল হয় । তাই
তোমরা এখন জানো যে, পূজ্য এবং পূজারী আমরাই হই । শিববাবা তো সদাই পূজ্য । যারা
সূর্যবংশী দেবী - দেবতা ছিলেন, তাঁরাই পূজারী তারপর ভক্ত তৈরী হয় । তুমিই পূজ্য এবং
তুমিই পূজারী, এই সিঁড়ি খুব ভালোভাবে বোঝান । চিত্র ছাড়াও তোমরা কাউকে বোঝাতে পারো
। যারা শিখে নেয়, তাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ জ্ঞান থাকে । ৮৪ জন্মের সিঁড়ি
ভারতবাসীরাই উত্তরণ আর অবতরণ করে । ভারতবাসীরই ৮৪ জন্ম । আমরাই পূজ্য ছিলাম আবার
পূজারী হয়েছি । 'আমিই সেই.... সেই আমি'... (সো হম, হম সো) এর অর্থও তোমরা খুব
ভালোভাবে বুঝেছো । আত্মাই পরমাত্মা, এ হতে পারে না । বাবা 'আমিই সেই আর সেই আমি' এর
অর্থ বুঝিয়ে বলেছেন । আমরাই সেই দেবতা থেকে ক্ষত্রিয় হয়েছি । 'আমিই সেই'... এর কোনো
দ্বিতীয় অর্থ নেই । পূজ্য, পূজারী ভারতবাসীরাই হয়, অন্য ধর্মে কেউই পূজ্য পূজারী
হয় না । তোমরাই সূর্যবংশী তারপর চন্দ্রবংশী হও । তোমরা কতো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছো
। আমরাই সেই দেবী - দেবতা ছিলাম । আমরা আত্মারা নির্বাণধামে থাকি । এই চক্র ঘুরতে
থাকে । দুঃখ যখন সামনে আসে তখনই বাবাকে স্মরণ করে । বাবা বলেন, আমি দুঃখের সময় এসে
সৃষ্টিকে পরিবর্তন করি । এমন নয় যে নতুন সৃষ্টি রচনা করি । তা নয়, আমি পুরানোকে
নতুন করতে আসি । বাবা সঙ্গমেই আসেন । এখন নতুন দুনিয়া তৈরী হচ্ছে । পুরানো দুনিয়া
শেষ হয়ে যাবে । এ হলো অসীম জগতের কথা ।
তোমরা তৈরী হয়ে গেলে
সম্পূর্ণ রাজধানীও তৈরী হয়ে যাবে । কল্প - কল্প যারা যেই পদ পেয়েছিলেন, সেই অনুসারে
পুরুষার্থ চলতে থাকে । এমন নয় যে, ড্রামাতে যে পুরুষার্থ করেছিলে, তাই হবে ।
তোমাদের পুরুষার্থ করতে হয়, তারপর বলা হয়, কল্প পূর্বেও এমন পুরুষার্থই করেছিলে ।
সবসময় পুরুষার্থকেই বড় করে রাখা হয় প্রালব্ধকে ধরে বসে যেও না । পুরুষার্থ ছাড়া
প্রালব্ধ লাভ সম্ভব নয় । পুরুষার্থ ছাড়া জল পানও করতে পারবে না । কর্ম সন্ন্যাস
অর্থ হলো ভুল । বাবা বলেন যে, তোমরা গৃহস্থ জীবনেও থাকো । বাবা তো সবাইকে এখানে
বসিয়ে দেবেন না । শরণাগতির গায়ন আছে । ভাট্টি করা হতো কারণ ওদের বিরক্ত করা হতো ।
তখন এসে বাবার কাছে শরণ নিয়েছিলো । শরণ তো দিতে হয়েছিলো, তাই না । শরণ তো এক পরমপিতা
পরমাত্মারই নেওয়া হয় । গুরু আদিদের শরণ নেওয়া যায় না । যখন অনেক দুঃখ হয়, তখনই
দুঃখে জর্জরিত হয়ে এসে শরণ নেয় । গুরুদের কাছে কেউই জর্জরিত হয়ে যায় না । ওখানে
তো এমনিই যায় তোমরা রাবণের দ্বারা অনেক দুঃখ পেয়েছো । এখন রাম এসেছেন তোমাদের
রাবণের থেকে মুক্ত করতে । তিনি তোমাদের শরণে নেন । তোমরা বলো, বাবা আমরা আপনার ।
গৃহস্থ জীবনে থেকেও তোমরা শিববাবার শরণ নিয়েছো । তোমরা বলো, বাবা আমরা আপনার মতেই
চলবো ।
বাবা শ্রীমৎ দান করেন
- তোমরা গৃহস্থ জীবনে থেকে আমাকে স্মরণ করো, আর সকলকে স্মরণ করা ছেড়ে দাও । আমার
স্মরণেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, এখানে শরণ নেওয়ার কোনো কথা নেই । সবকিছুই এই
স্মরণের উপর নির্ভর করে । বাবা ছাড়া আর কেউই এমনভাবে বোঝাতে পারে না । বাচ্চারা
বুঝতে পারে, বাবার কাছে এতো লাখ - লাখ কিভাবে এসে থাকবে । প্রজারা তো নিজের ঘরেই
থাকে, রাজার কাছে তো থাকেই না । তাই তোমাদের কেবল বলা হয়, এককেই স্মরণ করো । বাবা
আমরা আপনার । আপনিই আমাদের এক সেকেণ্ডে সদগতির উত্তরাধিকার দেন । আমাদের রাজযোগ
শিখিয়ে রাজার রাজা করেন । বাবা বলেন, যারা পূর্ব কল্পে বাবার থেকে উত্তরাধিকার
নিয়েছিলো, তারা এসেই আবার নেবে । শেষ পর্যন্ত সবাইকে এসে বাবার থেকে উত্তরাধিকার
নিতে হবে । এখন তোমরা পতিত হওয়ার কারণে নিজেদের দেবতা বলতে পারো না । বাবা সব কথাই
বুঝিয়ে বলেন । তিনি বলেন - আমার নয়নের মণি রত্ন, তোমরা যখন সত্যযুগে আসো, তখন তোমরা
০১ - ০১ - ০১ থেকে রাজত্ব করো । অন্যদের রাজত্ব তো যখন লাখ পরিমাণে বৃদ্ধি পায়,
তখন শুরু হয় । তোমাদের লড়াই - ঝগড়া করার কোনো দরকার নেই । তোমরা যোগবলের দ্বারা
বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করো । তোমরা চুপচাপ থেকে কেবল বাবাকে এবং তাঁর
উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো । এর পরের দিকে তোমরা মৌন হয়ে যাবে তখন এই চিত্র ইত্যাদি
কোনো কাজে আসবে না । তোমরা সচেতন হয়ে যাবে । বাবা বলেন - তোমরা কেবল আমাকে স্মরণ
করো, তাহলেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে । এখন করো বা না করো, তোমাদের ইচ্ছা । কোনো
দেহধারীর নাম - রূপে আটকে যেও না । বাবাকে যদি স্মরণ করো তাহলে তোমাদের অন্ত মতি
তেমন গতি হয়ে যাবে । যারা সম্পূর্ণ পাস করবে তারাই রাজত্ব পাবে । সবকিছুই এই
স্মরণের যাত্রার উপর নির্ভর করে । ভবিষ্যতে অনেক নতুন বাচ্চাও এগিয়ে যাবে । আচ্ছা ।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ - সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
কোনো দেহধারীর নাম - রূপে আটকে যেও না । এক বাবার শ্রীমতে চলে সদ্গতি লাভ করতে হবে
। মৌন থাকতে হবে ।
২ ) ভবিষ্যৎ ২১
জন্মের জন্য নিজে খুব ভালোভাবে পড়তে হবে এবং অন্যদেরও পড়াতে হবে । পড়লে এবং পড়ালেই
নাম উজ্জ্বল হবে ।
বরদান:-
মনমত,
পরমতকে সমাপ্ত করে শ্রীমতের উপর পদমের উপার্জন জমা করে পদ্মাপদম ভাগ্যশালী ভব
শ্রীমতে চলা আত্মা
একটি সংকল্পও মনমত বা পরমতের আধারে করতে পারবে না। স্থিতির স্পিড যদি তেজ না হয় তো
অবশ্যই শ্রীমতের সাথে কিছু না কিছু মনমত বা পরমত মিক্স আছে। মনমত অর্থাৎ অল্পজ্ঞ
আত্মার সংস্কার অনুসারে যে সংকল্প উৎপন্ন হয়, সেই সংকল্প স্থিতিকে দোলাচলে নিয়ে আসে
এইজন্য চেক করো আর করাও, একটা কদমও বিনা শ্রীমতের আধারে যেন না হয়, তবেই পদমের
উপার্জন জমা করে পদ্মাপদম ভাগ্যশালী হতে পারবে।
স্লোগান:-
মনের
মধ্যে সকলের প্রতি কল্যাণের ভাবনা বজায় থাকবে - এটাই হলো বিশ্ব কল্যাণকারী আত্মার
কর্তব্য।
অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের
ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভয় আর নিশ্চিন্ত থাকো"
সারকমস্ট্যান্স (পরিস্থিতি)
যেরকমই হোক কিন্তু নিশ্চয়বুদ্ধি বাচ্চারা সারকমস্ট্যান্সে নিজের স্বস্থিতির শক্তির
দ্বারা সদা বিজয়ী অনুভব করবে। যদিও দুনিয়ার মানুষ বা ব্রাহ্মণ পরিবারের
সম্বন্ধ-সম্পর্কে অন্যরা বোঝে বা বলে যে এরা হেরে গেছে - কিন্তু সেটা হার নয়, জীত।
যেকোনও সেবার, সংগঠনের, প্রকৃতির পরিস্থিতি স্বস্থিতিকে বা শ্রেষ্ঠ স্থিতিকে দোলাচলে
নিয়ে আসে তো এটাও বন্ধনমুক্ত স্থিতি নয়। এই বন্ধন থেকেও মুক্ত হও।