23.06.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে মহান সৌভাগ্যশালী, কারণ তোমাদেরকে ভগবান সেই পড়া পড়াচ্ছেন যা এখনও পর্যন্ত কোনো ঋষি-মুনিরাও পড়েনি”

প্রশ্নঃ -
ড্রামার কোন্ ভবিতব্যকে তোমরা বাচ্চারা জানো, দুনিয়ার মানুষ জানে না?

উত্তরঃ  
তোমরা জানো এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞের দ্বারা বিনাশ অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হয়েছে। এখন সম্পূর্ণ পুরানো দুনিয়া এতে স্বাহা হয়ে যাবে। এই ভবিতব্যকে কেউ বদলাতে পারবে না। এই অশ্বমেধ অবিনাশী যজ্ঞটি এমনই যাতে সম্পূর্ণ সামগ্রী স্বাহা হবে, তখন আমরা আর এই পতিত দুনিয়ায় আসবো না। একে ঈশ্বরের ভবিতব্য নয়, ড্রামার ভবিতব্য বলা হবে।

গীতঃ-
চেহারা দেখে নে রে প্রাণী, মন রূপী দর্পণে....

ওম্ শান্তি ।
তোমরা বাচ্চারাও হলে মানুষ। এ হলো মনুষ্য সৃষ্টি। এই সময় তোমরা ব্রাহ্মণ ধর্মের মানুষ হয়েছো। বাবা শিক্ষা প্রদান করেন আত্মাদের। আত্মা এখন নিজের স্ব-ধর্মের কথা জেনেছে যে আমরা আত্মারা এই শরীরকে পরিচালনা করি। এই শরীর হল আত্মার রথ। যেমন বাবা এই রথে এসে বিরাজিত হয়েছেন, তোমাদের আত্মাও এই সময়ে শরীর রূপী রথে বিরাজিত আছে। শুধুমাত্র আত্মা স্বরূপের এই জ্ঞান বিস্মৃত হয়েছে যে আমরা আত্মারা হলাম শান্ত স্বরূপ। আমাদের নিবাস হলো মূলবতনে। এই শরীর আমরা এখানে প্রাপ্ত করি। নিজের সঙ্গে এমন কথা বলতে হবে। বাবা বলেন তোমরা আত্মারা হলে শান্ত স্বরূপ। যদি তোমরা চাও আমরা শান্তিতে বসি তো নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে শান্তিধামবাসী রূপে স্থিত হও। একটু সময় শান্তিতে বসতে পারো। মানুষ শান্তিই চায়। মন শান্তি চায় - এই কথাটি আত্মা বলে, কিন্তু মানুষের এই জ্ঞান নেই যে আমি হলাম আত্মা। সে কথা ভুলে গেছে। একটি গল্প আছে না - রানীর গলায় হার ছিল আর সে খুঁজছিল বাইরে। অতএব বাবাও বোঝাচ্ছেন শান্তি তো হলো তোমাদের স্বধর্ম। বাচ্চারা বুঝেছে আমরা আত্মারা হলাম শান্ত স্বরূপ। আমরা এখানে আসি পার্ট প্লে করতে। এই অর্গান থেকে ডিট্যাচ হয়ে গেলেই আত্মা শান্ত হয়। আত্মা নিজ স্বধর্ম শান্তিতে যতক্ষণ ইচ্ছে বসতে পারে। যদি চাও আমরা এই শরীরের দ্বারা কোনো কাজ করবো না, তো শান্ত হয়ে বসে যাও। এ হল প্রকৃত সত্য শান্তি, এর খোঁজ তোমরা করো না। কিন্তু তোমাদের স্বধর্ম হল শান্ত। এখন এখানে পার্ট প্লে করছো। বাবার কাছে জেনেছো, আমরা ৮৪ জন্মের পার্ট প্লে করেছি। এই ৮৪ জন্মের চক্রের কথা কেউ জানে না। শুধুমাত্র তোমরা বাচ্চারাই জানো। প্রথমে আমরা সূর্য বংশী রাজা বা প্রজা ছিলাম পরে চন্দ্রবংশী, বৈশ্যবংশী, শূদ্রবংশী হয়েছি। এখন পুনরায় আমাদের সূর্যবংশী হতে হবে।

তোমরা বাচ্চারা সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের কথা জেনেছো, তোমরা হলে অনেক সৌভাগ্যশালী। বাবা তো যথার্থ কথা বোঝান। এ হল সদগতির মার্গ। এই কথা বোঝাতে হবে যে সর্বের সদগতি দাতা হলেন এক । এখন জেনেছো আমাদেরকে বাবা এসে ২১ জন্মের জন্য সদগতি প্রাপ্ত করাচ্ছেন। বাইরের মানুষ তো এই কথা জানেনা। তোমরা ব্রহ্মাকুমার-কুমারীরা জানো। কেউ জিজ্ঞাসা করে - তোমরা বি.কে.রা কি জানো? পরীক্ষা তো হওয়া উচিত যে ব্রাহ্মণ - ব্রাহ্মণী কিনা । যদি তোমরা ব্রহ্মার সন্তান হও তবে তো তোমরা সৃষ্টি চক্রের কথা নিশ্চয়ই জানবে। পিতা রচয়িতাকে জানো? ঋষি-মুনি ইত্যাদি তো রচয়িতা ও রচনার কথা জানে না। অর্থাৎ ঈশ্বরে অবিশ্বাসী। তোমরাও অবিশ্বাসী ছিলে। তোমরাও রচয়িতা পিতা ও রচনার কথা জানতে না। স্কুলে প্রথমে অশিক্ষিতরাই আসে। তারপরে বলে স্কুলে এই সব পড়লাম। এখন তোমরা করছো ঈশ্বরীয় পড়াশোনা । পরমপিতা পরমাত্মা তোমাদের পড়াচ্ছেন। এই কথা বুদ্ধিতে থাকা উচিত। রচয়িতা তো হলেন কেবল একমাত্র শিববাবা। জ্ঞান যজ্ঞের রচনা করেন রুদ্র, এই কথা শাস্ত্রেও লেখা আছে। রুদ্র এবং শিব পরমাত্মায় কোনো তফাৎ নেই। এই কথাও আছে রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞের দ্বারা বিনাশ অগ্নি প্রজ্বলিত হয়। শুধু রুদ্র শিবের পরিবর্তে কৃষ্ণের নাম লিখে দিয়েছে। আছে সেই গীতা। বলে এই জ্ঞান যজ্ঞ দ্বারা বিনাশ অগ্নি প্রজ্বলিত হয়েছে। অর্থাৎ স্ব রাজ্যের জন্য এই জ্ঞান যজ্ঞ । এতে পুরানো দুনিয়া স্বাহা হবে। যজ্ঞে সমস্ত আহুতি বা সামগ্রী অর্পণ করা হয়। সব কিছু স্বাহা করা হয়। সুতরাং এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞে সম্পূর্ণ পুরানো দুনিয়া স্বাহা হয়ে যাবে। তোমরা এখন রাজযোগ শিখছো। এই পতিত দুনিয়ায় আর ফিরে আসবে না। এই দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। তোমরা জানো, ন্যাচারাল ক্যালামিটিজ ইত্যাদি সব হবে। এই সম্পূর্ণ নলেজ তোমাদের বুদ্ধিতে থাকা উচিত। শিববাবা বলেন - আমার বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে। বাবা হলেন সত্য, চৈতন্য, জ্ঞানের সাগর। সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের কথা জানেন। ঋষি - মুনিরা তো বলে আমরা রচয়িতা ও রচনার বিষয়ে জানিনা। তোমাদেরকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে তোমরা কি পেয়েছো? বলো - যে জ্ঞান বড় বড় ঋষি মুনিরা বলেছে যে আমরা রচয়িতা ও রচনার আদি-মধ্য-অন্তের কথা জানিনা সেই জ্ঞানের কথা আমরা জানি। রচয়িতা পিতা ব্যতীত রচনার আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য কেউ বোঝাতে পারে না। একমাত্র রচয়িতা বোঝাতে পারেন। তোমরা জানো, মাছিদেরও রানী মক্ষীকা থাকে। রানীর সঙ্গে সব মাছিরা উড়ে যায়। রানী অর্থাৎ মা, তার সঙ্গে তাদের সম্বন্ধ থাকে। অসীম জগতের পিতা এসে সব আত্মা রূপী বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে যান। তোমরা জানো - বাবা এসেছেন, আমরা আত্মা, আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন - শান্তিধামে। পুনরায় আমাদের সত্যযুগের পার্ট আরম্ভ হবে। যে পার্ট প্লে করার জন্য তোমরা দেবী-দেবতা পদ প্রাপ্ত করছো। এখানে তোমরা আসো - মানুষ থেকে দেবতা পদের অধিকারী হতে। সব গুণ এখানেই ধারণ করতে হবে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের মতন হতে হবে। দিব্য দৃষ্টি ব্যতীত তাদের দেখা যায় না। এখন তোমরা জানো আমরা সূর্য্যবংশী দেবতা হবো। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে স্বর্গের রাজধানী কীভাবে স্থাপন হয়। সত্যযুগে ছিল দেবতাদের রাজ্য কিন্তু দেবতাদের রাজ্যে রাক্ষস ইত্যাদিও দেখানো হয়েছে। এই কথা কেউ জানেনা । ভারত অনেক পবিত্র ছিল, মহিমা গানও করে সর্বগুণ সম্পন্ন... । তাদের সম্মুখে মাথা নত করে। মন্দিরও অনেক আছে। কিন্তু এই কথা জানেনা যে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম সত্যযুগের কবে এবং কীভাবে স্থাপন হয়েছে ? ভারত যে এমন উঁচু ছিল, এত নীচে এলো কীভাবে? সেই কথা কেউ জানেনা। তারা বলে এমনই ভবিতব্য আছে। কার ভবিতব্য? সেই কথাও বুঝতে পারে না। ড্রামার ভবিতব্য বুঝলেও তো হতো। ড্রামার রচয়িতা, ক্রিয়েটর, ডাইরেক্টর কে? শুধু বলে ঈশ্বরের ভবিতব্য। ড্রামা বললে তো ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তের কথা জানা উচিত। শুধু বই পড়লে তো ড্রামার জ্ঞান হবে না। যতক্ষণ না গিয়ে ড্রামা দেখছে। যেমন একবার খবরের কাগজেও বেরিয়েছিল - কৃষ্ণের চরিত্রকে নিয়ে একটা ড্রামা রচনা হয়েছে। কিন্তু না দেখা পর্যন্ত তো সেটা জানা বা বোঝা যাবে না। দেখলে বুঝতে পারবে ড্রামাতে এইসব হবে। তোমরা বাচ্চারাও ড্রামাকে এখন বুঝেছো। মানুষ বলে - বিশ্বের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফির এই চক্রটি আবর্তিত হতেই থাকে। কিন্তু কীভাবে, তা কেউ জানে না। নামও লেখা আছে - সত্যযুগ, ত্রেতা, দ্বাপর, কলিযুগ তারপরে সঙ্গমযুগ। কিন্তু মানুষ তো ভেবে নিয়েছে যুগে-যুগে আসেন। সত্যযুগ ত্রেতারও সঙ্গম হয়। কিন্তু সেই সঙ্গমের কোনো গুরুত্ব নেই। সেখানে তো কিছুই হয় না। এই কথা তোমরা জানো - সত্যযুগী সূর্য্যবংশীরা পরে চন্দ্রবংশীদের রাজ্য দিলো কীভাবে? এমন তো নয় চন্দ্রবংশীরা সূর্যবংশীদের পরাজিত করেছে। না, যে চন্দ্রবংশী রাজা থাকে তাকে সূর্য্যবংশী রাজা-রানী রাজ্য ভাগ্যের তিলক দিয়ে সিংহাসনে বসায়। রাজা রাম, রানী সীতার টাইটেল প্রাপ্ত হয়। কে দেয়? বলবে সূর্য্যবংশীরা ট্রান্সফার করেছে, এখন তোমরা রাজত্ব করো। যে সীন তোমরা বাচ্চারা সাক্ষাৎকার করেছো। কোনো যুদ্ধ ইত্যাদি হয় না। যেমন করে কাউকে রাজত্ব প্রদান করা হয়, তেমন করেই হয়। তাদের পা ইত্যাদি ধুইয়ে রাজতিলক দেওয়া হয়। সেখানে কোনো গুরু গোঁসাই তো থাকে না। বাচ্চারা এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে আমরা দৈবী স্বভাবের হয়েছি। সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী রাজ্যে আমরা অনেক সুখে থাকবো। বাবা আমাদের দুঃখ থেকে মুক্ত করে সুখের জগতে নিয়ে যান অন্য কেউ সুখী করতে পারে না। সাধুরা নিজেরাও চায় - আমরা যেন শান্তিধাম যাই। বাবা বলেন - আমি এই সাধু সন্ত সকলের উদ্ধার করে সবাইকে শান্তিধামে নিয়ে যাই। সন্ন্যাসীরা তো আসে দ্বাপরে। স্বর্গে আমরা দেবতারা বাস করি। সেখানেও আলাদা সেকশন আছে। সূর্যবংশীদের আলাদা, চন্দ্রবংশীদের আলাদা, পরে ইসলাম, বৌদ্ধ, সন্ন্যাসী ইত্যাদি যারা আসে, সবার সেকশন আলাদা আছে। যখন আমরা রাজত্ব করতাম তখন দ্বিতীয় কেউ ছিল না। মূলবতনেও এমন মালা নম্বর অনুসারে বানানো আছে। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের হল প্রথম বংশ। তারপরে অন্য বংশের আগমন হয়েছে। এই বংশই হলো বিশালতম, অন্য ধর্ম স্থাপক যারা এসেছে - সবাই এই বংশ থেকেই এসেছে। তোমরা বলবে ইসলাম হলো দ্বিতীয় নম্বরের বংশ। বৌদ্ধ হলো তৃতীয় নম্বরের বংশ। আমরা হলাম ফার্স্ট বাকি সীমিত জগতের তো অনেক ছোট ছোট লক্ষ বংশ হবে। এখানে মুখ্য হল চারটি বংশ। সর্ব প্রথমে আসি আমরা, তারপরে ইসলাম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ইত্যাদি আসে। এখন আমাদের পতন হয়েছে। আমাদের ৮৪ জন্ম নিয়ে পার্ট প্লে করতে হয়। যারা এখন লাস্টে আছে, তারাই ফার্স্টে থাকবে। দেবী-দেবতারা এখন পতিত হওয়ার দরুন নিজেকে দেবী-দেবতা বলতে পারে না। দেবতাদের পুজো করা হয় - এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে আমরা দেবতা বংশের । শিখ ধর্মের মানুষ গুরু নানককে বিশ্বাস করে, তারা নানকের বংশের। সত্যযুগে প্রথম নম্বরে আমাদের বংশ। এর চেয়ে উঁচু বংশ হয় না। আমরা হলাম উঁচু থেকে উঁচু বংশের । আমরা সবচেয়ে বেশি সুখ ভোগ করি, পরে পতিত কাঙাল হই। সবচেয়ে বেশি দুঃখী হয়েছি আমরা। ঋণ নিয়েছি। অনেক ধনী ছিলাম, এখন গরিব হয়েছি। সব কিছু হারিয়েছি। এই হল দুঃখ ধাম। এখন বাবা পুনরায় তোমাদেরকে সুখধামের মালিক করছেন। বাকিরা সবাই চলে যাবে শান্তিধাম। অর্ধকল্প তোমরা সুখ ভোগ কর, বাকিরা সবাই শান্তিতে থাকে। তারা চায় - মুক্তিতে যাই। সুখকে কাক বিষ্ঠা সম ভাবে। তাদের তো সুখধামের অনুভব নেই। তোমাদের তো অনুভব আছে। তোমরা মহিমা কীর্তনও করো কিন্তু পতিত হওয়ার দরুন ভুলে গেছ। এখন বাবা স্মরণ করিয়ে দেন - হে ভারতবাসী, তোমরা হলে দেবী-দেবতা ধর্মের। দ্বাপর যুগ থেকে নাম পরিবর্তন করেছো। দেবতা ধর্মের মানুষই পতিত হয়েছে। গানও গাইতে থাকে - হে পতিত-পাবন এসো। বাবা বলেছেন - তোমরা কত জন্ম পবিত্র দুনিয়ায় ছিলে। কত জন্ম পতিত দুনিয়ায় আছো। এখন পুনরায় পবিত্র দুনিয়ায় যেতে হবে। এই হল সব পাঠশালার মধ্যে অন্যতম পাঠশালা, সব যজ্ঞের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ। সম্পূর্ণ পুরানো দুনিয়া এই যজ্ঞেই স্বাহা হয়ে যাবে। হোলিকা দহন করা হয়, এই সব উৎসব গুলি হল এখনকার। আত্মা চলে যাবে, কিন্তু শরীর শেষ হয়ে যাবে। এই নলেজ কোনো সন্ন্যাসী ইত্যাদি দিতে পারে না। গীতায় কিছু লেখা আছে কিন্তু সে হল আটায় লবণ সম জ্ঞান লুপ্ত প্রায় হয়ে যায়। শিববাবা বলেন - আমরা এই যজ্ঞ রচনা করেছি, এতেই তোমরা তন-মন-ধন সব স্বাহা করো, জীবিত থেকে মৃত সম হও। এই জ্ঞান তোমরা এখন প্রাপ্ত করছো। আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সুখ ধামে যাওয়ার জন্য নিজের স্বভাব দিব্য বানাতে হবে। ড্রামার আদি- মধ্য- অন্তের রহস্যকে বুদ্ধিতে রেখে খুশীতে থাকতে হবে। সবাইকে এই রহস্য বুঝিয়ে দিতে হবে।

২ ) স্বরাজ্য নেওয়ার জন্য এই বেহদের যজ্ঞে জীবিত থেকে নিজের তন-মন-ধন অর্পণ করতে হবে। সব কিছু নতুন দুনিয়ায় ট্রান্সফার করে নিতে হবে।

বরদান:-
নিজের ললাট থেকে তৃতীয় নেত্রের সাক্ষাৎকার করানো সত্যিকারের যোগী ভব

স্মরণিক রূপে যোগীর ললাটে তৃতীয় নেত্র দেখায়। তোমরা সত্যিকারের যোগী বাচ্চারাও নিজের ললাট থেকে তৃতীয় নেত্রের সাক্ষাৎকার করানোর জন্য সদা বুদ্ধির দ্বারা এক বাবার সঙ্গে থাকো। এক বাবা দ্বিতীয় আমি, তৃতীয় কেউ নেই, যখন এইরকম স্থিতি হবে তখন তৃতীয় নেত্রের সাক্ষাৎকার হবে। যদি বুদ্ধিতে তৃতীয় কেউ এসে যায় তাহলে তৃতীয় নেত্র বন্ধ হয়ে যাবে এইজন্য যাতে সর্বদা তৃতীয় নেত্র খোলা থাকে তারজন্য স্মরণে রাখো যে তৃতীয় কেউ নেই।

স্লোগান:-
প্রশ্নচিত্ত হওয়া অর্থাৎ হয়রান হওয়া আর হয়রান করা।

অব্যক্ত ঈশারা :- সদা হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচারকে সরল বানাও, সহনশীল হও।

যে যেরকম কর্ম করে সেইরকমই তার নামও প্রসিদ্ধ হয়। কর্ম যদি শ্রেষ্ঠ হয় তাহলে নাম হবে শ্রেষ্ঠমণী। শ্রেষ্ঠমণী হওয়ার জন্য মন, বাণী, কর্মে সরলতা আর সহনশীলতা এই দুটি গুণ হলো আবশ্যক। যদি সরলতা থাকে, সহনশীলতা না থাকে তাহলেও শ্রেষ্ঠ নয়, এইজন্য সরলতা আর সহনশীলতা দুটো সাথে-সাথে চাই।