24-06-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ  মধুবন


"এই কর্মক্ষেত্রে কর্ম হলো অনাদি বস্তু, তোমাদের কর্ম ছাড়তে হবে না কিন্তু কর্মযোগী হতে হবে "
(জগদম্বা মায়ের স্মৃতি দিবসে শোনানোর জন্য, ওনার মুখ নিঃসৃত অমূল্য মধুর মহাবাক্য )


এই সৃষ্টি হলো কর্ম ক্ষেত্র, যেখানে প্রতিটি মনুষ্য আত্মা নিজের নিজের পার্ট প্লে করে চলেছে, এতে পরমাত্মারও পার্ট রয়েছে কিন্তু তিনি আত্মাদের মতো জন্ম-মৃত্যুতে আসেন না। আত্মাদের মতো ওনার কর্মের খাতা উল্টো তৈরি হয়না। তিনি বলেন আমি তো তোমাদের অর্থাৎ আত্মাদের লিবারেট করতে এসেছি সেইজন্যই আমাকে লিবরেটর, বন্ধন থেকে মুক্তি দেওয়া সদ্গতি দাতা বলা হয়।

আত্মার উপরে যে বন্ধন তৈরি হয়েছে, তা দূর করে তাকে পবিত্র করা হয় এবং বলা হয় যে, আমার কাজ হলো আত্মাদের সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্ত করে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, তাই সৃষ্টির যে অনাদি নিয়ম ও কানুন রয়েছে সেগুলোকেও বুঝতে হবে, তারপর এই মনুষ্য সৃষ্টির বৃদ্ধি কীভাবে হয় আবার ঐ সময়টাও আসে যখন এটি হ্রাস পায়।এমন নয় যে বৃদ্ধি পেতে-পেতে কেবল বেড়েই চলে, তা নয়। হ্রাসও পায়। তাই সৃষ্টিতে প্রতিটি জিনিসের নিয়ম রয়েছে। আমাদের শরীরেরও নিয়ম আছে, প্রথমে শৈশব, তারপর কৈশোর, এরপর যৌবন, তারপর বার্ধক্য। তবে বার্ধক্য দ্রুত আসে না। বার্ধক্য আসতে-আসতে শরীর জড়াজীর্ণ হয়ে যায়, তাই প্রতিটি বিষয়ের বৃদ্ধি পাওয়া এবং তার শেষ হওয়া এটাও একটা নিয়ম। একইভাবে সৃষ্টির জেনারেশন্সেরও নিয়ম আছে। একটি জীবনের যেমন স্টেজ রয়েছে, তেমনি জন্মেরও স্টেজ আছে। আবার যে জেনারেশন্স চলে আসছে ,তারও স্টেজেস্ রয়েছে। একইভাবে সমস্ত ধর্মেরও স্টেজেস্ রয়েছে। প্রথম যে ধর্মটি আসে সেটি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয় এবং পরবর্তীতে যে ধর্মগুলো ধীরে-ধীরে আসে সেগুলোর শক্তি কমতে থাকে। তাই ধর্মের বিভাজন হওয়া, ধর্মের পথ চলা প্রতিটি বিষয় নিয়মের অধীনেই চলে, এই সমস্ত বিষয়গুলোকেও বুঝতে হবে।

সেই হিসেব অনুযায়ী বাবাও বলেন যে এতে আমারও পার্ট রয়েছে। আমিও হলাম একটি সোল, আমি হলাম গড, অন্য কোনো আলাদা জিনিস নই। আমিও সোল-ই, তবে আমার কাজ অত্যন্ত বড় এবং মহান সেইজন্যই আমাকে গড বলা হয়। তোমরা যেমন আত্মা, আমিও ঠিক তেমনই। যেমন তোমার সন্তানও একজন মানুষ এবং তুমিও একজন মানুষ এর মধ্যে তো কোনো পার্থক্য নেই তাইনা? সুতরাং আমিও একজন আত্মাই। আত্মা, আত্মার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই কিন্তু কর্তব্যে অনেক বড় পার্থক্য থাকে সেইজন্যই তিনি বলেন আমার যা কর্তব্য সেটা সকলের থেকে আলাদা। আমি কোনো সীমিত দুনিয়ার ধর্ম স্থাপক নই, আমি তো দুনিয়ার ক্রিয়েটর, তারা হলো ধর্মের ক্রিয়েটর। যেভাবে ঐ আত্মারা নিজের কাজ নিজের সময় অনুযায়ী করে, ঠিক সেভাবেই আমিও আমার নির্দিষ্ট সময়ে আসি। আমার কর্তব্য বিশাল, আমার কর্তব্য মহান এবং সবচেয়ে অনন্য, সেইজন্যই বলা হয় তোমার কর্ম অনুপম। ওনাকে সর্বশক্তিমানও বলা হয়, সবচেয়ে শক্তিশালী কাজ হলো আত্মাদের মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত করা এবং নতুন দুনিয়ার জন্য স্যাপলিং লাগানো। এই কারণেই তাঁকে ইংরেজিতে হেভনলি গড ফাদার বলা হয়। যেমন খ্রাইস্টকে বলা হয় ক্রিশ্চিয়ানিটি ফাদার, তাকে হেভেনলি গড ফাদার বলা যাবে না। হেভনের স্থাপক হলেন পরমাত্মা। সুতরাং হেভেন তো ওয়ার্ল্ড হয়ে গেল তাই না, হেভেন কোনো ধর্ম নয়। সুতরাং উনি হলেন ওয়ার্ল্ডের স্থাপক এবং সেখানে এক ধর্ম, এক রাজ্য হবে, তত্ত্ব ইত্যাদি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে। সেইজন্যই তাঁকে বলা হয় হেভনলি গডফাদার।

দ্বিতীয়তঃ গড ইজ ট্রুথ (ঈশ্বর সত্য) বলা হয়, তো সত্য কী, কিসের মধ্যে ট্রুথ? এটাও বোঝার মতো বিষয়। অনেকেই মনে করে যে সত্য কথা বলে সেই গড। গড অন্য কোনো জিনিস নন, শুধু সত্য কথা বলা উচিত। কিন্তু না, গড ইজ ট্রুথ কথার অর্থ হলো গডই এসে সব বিষয়ের সত্যতা প্রকাশ করেছেন। গড ইজ ট্রুথ অর্থাৎ গড-ই সত্য বলেন সত্যের পথ দেখান, তবেই তো তাঁকে নলেজফুল বলা হয়। ওশান অফ নলেজ (জ্ঞানের সাগর), ওশান অফ ব্লিস (আনন্দের সাগর), গড নোজ (ঈশ্বর জানেন)... নিশ্চয়ই তাহলে বিশেষ কিছু জানার বিষয় আছে, তাইনা! তাহলে সেই তথ্যটি কী? এটা নয় যে এ চুরি করেছে গড নোজ। যদিও তিনি সবকিছুই জানেন, তবুও ওনার যে মহিমা রয়েছে, তা এটার উপরে যে আমাদের দুনিয়া যা নিচে নেমে গেছে তা উপরে উঠবে কিভাবে, এই চক্রের বিষয়গুলি তিনি জানেন বলেই বলা হয় গড নোজ। পরমাত্মার মহিমা সেই রূপেই প্রকাশ হয় যা মানুষের থেকে আলাদা, কারণ তাঁর জানার ক্ষমতা সকলের থেকে ভিন্ন। মানুষের জানার একটা সীমা রয়েছে, বলাও হয় যে মানুষ অল্পজ্ঞ (স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী) এবং পরমাত্মার জন্য বলা হয় তিনি সর্বজ্ঞ, যাকে ইংরেজিতে নলেজফুল বলা হয় অর্থাৎ যিনি সবকিছুর জ্ঞাতা অথবা সবকিছু জানেন। অতএব যিনি সর্বজ্ঞ তিনিই একমাত্র সত্যকে জানতে পারেন। যার কাছে যথার্থ বিষয়ের জ্ঞান থাকবে, নিশ্চয়ই তিনি তা সবাইকে দেবেন তাইনা। যদি নিজে সবকিছু জানেন অথচ অন্যদের কাউকেই তা না দেন তাতে আমাদের কি লাভ হবে। জানতে দাও। কিন্তু না, বিষয়টি তেমন নয়। তাঁর জ্ঞান থেকে আমরা কিছু না কিছু উপকার পেয়েছি বলেই তো আমরা তাঁর গুণগান করি। তাঁর শরণাপন্ন হই। যখনই কিছু সমস্যা হয় ডেকে বলি হে ভগবান! তুমিই কিছু করো, দয়া করো, কৃপা করো, আমার দুঃখ দূর করো। তাঁর কাছে আমরা কিছু না কিছু চাই তাই না ! তাঁর সাথে আমাদের কোনো সম্বন্ধ রয়েছে বলেই না আমরা তাঁকে স্মরণ করি, তিনি যেন আমাদের কোনো উপকার করেছেন। যদি কিছু নাই করতেন, তাহলে কেন আমরা তাঁর জন্য মাথা কুটতাম। যখন কেউ বিপদের সময় সাহায্য করে, তখন মনে হয় যে এ আমার এত বড় বিপদের সময় সাহায্য করেছিল, রক্ষা করেছিল, তাই তার প্রতি অন্তরে ভালোবাসা থাকে। সুতরাং পরমাত্মার প্রতিও এমনই ভালোবাসা আসে যে তিনি সঠিক সময়ে আমাদের সাহায্য করেছেন। কিন্তু এমন নয় যে কখনও কোনো মানুষের ভালো কিছু হলো আর বলল - ভগবান করেছেন। ভগবান এমনই করেন। কিন্তু তাঁর কাজ তো অনেক বড়, ওয়ার্ল্ডের কাজ, সমগ্র দুনিয়ার সম্পর্কের বিষয়। বাকি এমন নয় যে কারো খানিক টাকা-পয়সা জুটে গেল আর সে বললো ভগবান করেছেন, এটা তো আমরা যখন ভালো কর্ম করি তার ফল পাওয়া যায়। ভালো-মন্দ কর্মের হিসেব চলতেই থাকে। তার ফলও আমরা পেতেই থাকি। কিন্তু পরমাত্মা এসে যে কর্ম শিখিয়েছেন তার ফল সম্পূর্ণ আলাদা। অল্প সময়ের সুখ তো বুদ্ধির জোরেও পাওয়া যায়। কিন্তু তিনি যে নলেজ দিয়েছেন, তা দিয়ে আমরা চিরস্থায়ী সুখ পাই। তাহলে পরমাত্মার কাজ তো ভিন্ন হয়ে গেল তাইনা। এইজন্যই বলেন আমি এসেই কর্মের যে যথার্থ নলেজ তা শেখাই, যাকে বলা হয় কর্মযোগই শ্রেষ্ঠ। এখানে কর্মকে, ঘর পরিবারকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপার নেই। শুধু তোমরা নিজেদের কর্মকে কিভাবে পবিত্র করবে, তার নলেজ আমি দিই। তাহলে কর্মকে পবিত্র করতে হবে, ছাড়তে হবে না। কর্ম তো অনাদি জিনিস। এই কর্মক্ষেত্রও অনাদি। মনুষ্য থাকলে কর্মও থাকবে, কিন্তু ঐ কর্মকে তোমরা কিভাবে শ্রেষ্ঠ বানাবে সেটাই এসে শেখাই যার মাধ্যমে তোমাদের কর্মের খাতা অকর্ম থাকে। অকর্মের মানে হলো কোনো মন্দ খাতা তৈরি হয়না।

বাবা বলেন আমি এই ছোট্ট সঙ্গম যুগে তোমাদের দেশ, এই করপরিয়ল দুনিয়াতে তোমাদের জন্যই এসেছি, সুতরাং অন্ততপক্ষে যেটুক সময় রয়েছে সেই সময়টুকু তো আমার খেয়াল করো। বাবার হয়েছো যখন তখন কিছুটা সময় তো শুদ্ধ থাকো। এরপর তো তোমাদের এমন প্রালব্ধ তৈরি হয়ে যাবে যে, ওই দুনিয়াতে তোমাদের কোনো পরিশ্রম করতে হবে না। এখন সামান্য পরিশ্রমের ব্যাপার, এখন তোমরা যে কোনো উপায়ে ,মরণপণ করেও পবিত্র থাকার প্রতিজ্ঞা করো। নিজের দৃঢ়তা বজায় রাখো, নিজের ধারণা গুলির মধ্যে থাকার পূর্ণ চেষ্টা করো। বাবা তোমাদের পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছেন তোমার কেবল এই সামান্য সময়ের জন্য এই পরিশ্রমটুকু করো। আমি তোমাদের আর অন্য কোনো পরিশ্রম করাই না। তোমরা যা পাচ্ছো তার তুলনায় এই পরিশ্রম কিছুই নয় ।

শুধু মুখেই ব'লো না যে আমি এটা করবো, ওটা করো.... দুনিয়া কি বলবে, ও কি বলবে... আরে দুনিয়া কি বলবে... ছেড়ে দাও এইসব। এখন তো দুনিয়াই শেষ হতে চলেছে। মৃত্যু সামনে উপস্থিত । তোমরা যে এতো বড়-বড় পরিকল্পনা করে বসে আছো, সবই তো ওয়েস্টেজ করছো। এখন বাবা বলছেন এই ওয়েস্টেজকে (অপচয়) বাঁচাও। শরীর নির্বাহের জন্য যতটা প্রয়োজন নিশ্চয়ই করো, তোমার ক্রিয়েশনের (রচনা) সাথে যতটুকু হিসাব-নিকাশ আছে ততটুকু করো, আমি কোথায় সেসব সামলাবো। এটা তোমাদেরই সামলাতে হবে। যেটা জরুরি সেটার জন্য তো তোমাদের ফ্রি করে দিচ্ছি, কিন্তু এখন এই যে এক্সট্রা (বাড়তি) যা কিছু রচনা করছো সেটার জন্য বারণ করছি কারণ এটা তো এখন ভেঙে পড়বেই, কেন নিজের ফালতু সময় ওয়েস্ট করছো। এইসব ফালতু ঝঞ্ঝাটের কারণেই তোমরা দুঃখী হয়েছো, সেসব ঝঞ্ঝাট থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে সেটাই তো শেখাচ্ছি। তা সত্ত্বেও বসে-বসে নানা বাহানা দেওয়া এটা কেমন রীতি? এরপর বাবাও বলেন যে দেখে নিও, এখন যদি আমাকে সোজা আঙুল না দাও, হাত না দাও তবে পরে আমি এইভাবে নাক ধরে নিয়ে যাবো। নাক ধরলে তো দম বন্ধ হবেই, তখন কষ্ট হবে আর শাস্তিও ভোগ করতে হবে। তাই বলা হচ্ছে এখন হাতে হাত রেখে সোজা পথে চলার সময় এসে গেছে। যদি সোজাভাবে না চলো, তবে তোমার নাক তো আমার হাতেই আসবে, তখন দেখে নিও। তারপর সেই সময় আর কিছুই করার থাকবে না, কিছুই করতে পারবে না। সেইজন্য বাবা বলেন - এখন তোমরা আমার হয়ে, আমার কাছে এসে, আমার কথা শোনার পরেও যদি কিছুই না করে, তবে তাদের জন্য খুব কঠিন শাস্তি রয়েছে। যেসব বেচারা এই বিষয়ে কিছুই জানে না তাদের কথা আলাদা। বাকি যারা জানে, যারা বসে, শুনে আবার এইসব বিষয়ে গাফিলতি করে তাদের কিন্তু রক্ষা নেই। যেমন ১০ গুণ লাভ, তেমনই ১০ গুণ ক্ষতি হবে। তখন বলা হয় নিজের ক্ষতি, নিজের লোকসানকে ....ভালোভাবে বোঝো। কিছুটা অন্তত নিজের বুদ্ধিটা তো খোলো। এখন বাবার সাথে বুদ্ধিযোগ স্থাপন করলে শক্তি পাওয়া যাবে। সুতরাং এই সমস্ত কথা বোঝো, ভুলে যেও না। এখন এই যে সময়টা চলছে একে চেনো, একটু চোখ খোলো, বুদ্ধি খোলো আর সময়ের লাভ গ্রহণ করো। নিজের পুরো ভাগ্যকে জাগিয়ে তোলো। বলেও থাকে যেমন সঙ্গ তেমনই রঙ লাগে,তাই যার মধ্যে এই ধারণা পুরোপুরি থাকবে না তার মায়ার সঙ্গের রঙ লেগে যাবে। তাই তো বলা হয় হিয়ার নো ইভিল, সী নো ইভিল, টক নো ইভিল। এমন কিছু ইভিল আছে যা এখানেও অনেকের পিছু ছাড়ে না, তারপর একে অপরের সঙ্গদোষ চেপে বসে। তাই বলা হয় সঙ্গদোষ থেকে বেঁচে থাকো। এমন ভেবো না যে, সঙ্গদোষ বাইরে আছে, এখানে নেই। না, এখানেও তারা ঘুরে বেড়ায়, কারণ এটা তাদেরই রাজ্য যে ! সেইজন্যই বাবা বলেন ভালোভাবে কবচ পরিধান করে থাকো। কবচ থাকলে তার গুলি লাগবে না। যোগেরই কবচ আছে, জ্ঞানের তলোয়ার আছে। এই সমস্ত অস্ত্র-শস্ত্র নিজের কাছে সামলে রাখো। বলাও হয় যে করবে সেই পাবে। এটা তো ভবিষ্যত প্রালব্ধ গড়ে তোলার কথা। এখানে তো প্রালব্ধ ভোগ করতে পারবে না তাই না। এখানে তো কেউ গুরু হয়ে বসতে আসেনি। এই বিষয়ে কেউ যেন মিসআন্ডারস্ট্যান্ড (ভুল বোঝাবুঝি) না করে, সেইজন্যই সবকিছু বুঝিয়ে বলা হচ্ছে। সুতরাং এই সব কথা মাথায় রেখে নিজেকে সেফ (সুরক্ষিত) রাখতে হবে। এখানে কোনো খরচের কথা হওয়া উচিত নয়। এখন এই সমস্ত খরচ অন্যদের কল্যাণার্থে ব্যবহার করতে হবে। এক একটা পাই পয়সাও এই কাজের জন্যই লাগাতে হবে। আচ্ছা।

এমন বাপদাদা এবং মায়ের মিষ্টি-মিষ্টি খুব ভালো, হুঁশিয়ার থাকা বাচ্চাদের প্রতি স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আচ্ছা।

প্রশ্ন : - মাম্মা , আমরা চলতে-ফিরতে যোগের উচ্চ অবস্থায় কিভাবে স্থিত হতে পারি?

উত্তর : - প্রকৃতপক্ষে আমাদের এই লাইফ ন্যাচারাল যোগের হওয়া উচিত, কারণ যোগ হলো নিশ্চয় (দৃঢ় বিশ্বাস)। তাই সবসময় নিশ্চয়কে বজায় রেখে প্র্যাকটিক্যালে সেই স্বরূপ হয়ে উঠতে হবে। নিশ্চয়ের রূপ হয়ে কর্মেন্দ্রিয়গুলোর দ্বারা কর্ম করো, স্থূল কর্মেন্দ্রিয়গুলো যে কাজই করুক না কেন, কিন্তু নিজেকে সেই সুখ স্বরূপ অবস্থায় লভলীন রাখতে হবে। তোমাদের চেহারা যেন সর্বদা সুখ স্বরূপ আর রমণীয় দেখায়। কোনো প্রকার অশুদ্ধ সংকল্প-বিকল্প যেন না থাকে। ঈশ্বরীয় আনন্দে আন্তরিক মগ্ন অবস্থায় থাকো, তাহলে আর কোনো রকম অশুদ্ধ সংকল্প-বিকল্পের উৎপত্তি হবে না। শুদ্ধ ও পবিত্র মনের ভূমিতে যে সংকল্প উৎপন্ন হবে তা লোককল্যাণে বা নিজের উন্নতির প্রতি সহায়ক হবে। এটি অত্যন্ত সুন্দর এবং মিষ্টি একটি অবস্থা যা সঠিক সময়ে সাহায্য করে। এমন ঈশ্বরীয় অলৌকিক মিষ্টি ও পবিত্র জীবন গড়ে তোলার গোল্ডেন চান্স তোমরা এখন পেয়েছো। সুতরাং এমন অবস্থা তৈরি করার জন্য একটু পরিশ্রম করো।

যখন আমরা যোগে বসি, তখন অন্তরে কোনো মন্ত্র, পূজা, জপ ইত্যাদি কিছুই করিনা। যেমন ভক্তি মার্গে কেউ-কেউ মনে মনে প্রার্থনা করে, মালা জপ করে, মূর্তি সামনে রেখে ফুল অর্পণ করে, সবকিছুই তারা মনের ভিতরেই করে যাকে মানস (মন্সা) পূজা বলা হবে। কিন্তু আমাদের যোগে আমরা কেবল নিজেদের স্ব-স্বরূপে স্থিত হয়ে সুখের স্বরূপ হয়ে উঠি। নিজের মন সহ সমস্ত কর্মেন্দ্রিয়কে কন্ট্রোল করে একাগ্রচিত্ত হয়ে আমরা ঈশ্বরীয় সুখের স্বরূপ হয়ে যাই, এর জন্য যোগের একটি পার্সোনাল টাইম নির্দিষ্ট থাকে। যেখানে একটা নির্দিষ্ট সময়ে বসে অভ্যাস করি। শুধু ব্যক্ত বিষয় থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে অব্যক্ত সম্বন্ধের সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখতে পারলে স্মরণ করা সহজ হয়ে যাবে। আচ্ছা। ওম্ শান্তি।

বরদান:-
বাপ-দাদার সঙ্গ দ্বারা মায়াকে দূর থেকেই মূর্চ্ছিত (অচেতন) করে দেওয়া মায়াজীত, জগতজীত ভব

যেমন বাবার স্নেহী হয়ে উঠেছো, ঠিক তেমনই বাবাকে নিজের সাথী বানিয়ে নাও, তাহলে মায়া দূর থেকেই মূর্চ্ছিত হয়ে যাবে। শুরু -শুরুর দিকে যে প্রতিজ্ঞা রয়েছে যে, তোমার সাথে খাবো, তোমার সাথে বসবো, তোমার সাথেই নিজ আত্মাকে আনন্দ দেবো... এই প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী সারাদিনের দিনচর্যার প্রতিটি কাজ বাবার সাথেই করো, তাহলে মায়া ডিস্টার্ব করতে পারবে না, তার ডিস্ট্রাকশন (ধ্বংস) হয়ে যাবে। সুতরাং সাথীকে সবসময় সাথে রাখো, এই সঙ্গের শক্তির দ্বারা বা মিলনের আনন্দে মগ্ন থাকলে মায়াজীত, জগতজীত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
নিজের উচ্চ বৃত্তির দ্বারা প্রবৃত্তির পরিস্থিতিকে চেঞ্জ করো।

অব্যক্ত ইশারা :- সদা হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচারকে সরল বানাও, সহনশীল হও। অব্যক্ত স্থিতি রূপী দর্পণকে পরিষ্কার এবং স্পষ্ট করার জন্য সরলতা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং সহনশীলতা এই তিনটি বিষয়ের উপর ধ্যান দাও। যদি এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয়েও খামতি (কমতি) থাকে, তবে দর্পণেও সেই খামতি দাগ দেখা যাবে, সেইজন্যই যে কর্মই করো না কেন তাতে যেন সাধারণত্ব দেখা না যায়। সাধারণত্বকে শ্রেষ্ঠত্বে পরিবর্তন করো, প্রতিটি কর্মে সহনশীলতা এবং বাণীতে সরলতা ধারণ করো তবেই সার্ভিসে সফলতা দেখা যাবে।