25-01-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
02-04-2008 মধুবন
"এই বছর চার সাবজেক্টেই অনুভবের অথরিটি হও, লক্ষ্য
আর লক্ষণকে সমান বানাও"
আজ বাপদাদা চতুর্দিকে সন্তুষ্টিতে থাকা সব সন্তুষ্ট মণিকে দেখছেন। প্রত্যেকের
মুখমণ্ডলে সন্তুষ্টির প্রভা প্রতীয়মান হচ্ছে। সন্তুষ্ট মনি নিজেরও প্রিয়, বাবারও
প্রিয় আর পরিবারেরও প্রিয়। কেননা, সন্তুষ্টি মহান শক্তি। সন্তুষ্টি তখনই ধারণ করা
সম্ভব যখন সর্বপ্রাপ্তি প্রাপ্ত হয়। যদি প্রাপ্তি কম হয় তবে সন্তুষ্টিও কম হবে।
সন্তুষ্টি অন্যান্য শক্তিকেও আহ্বান করে। সন্তুষ্টির বায়ুমণ্ডল অন্যদেরও যথাশক্তি
সন্তুষ্টির ভাইব্রেশন দেয়। যে সন্তুষ্ট থাকে তার লক্ষণ হলো তাকে সদা প্রসন্নচিত্ত
প্রতীয়মান হয়। মুখমণ্ডল সদা আপনা থেকেই সুস্মিতমুখ হয়ে থাকে। সন্তুষ্ট আত্মার সামনে
কোনও পরিস্থিতি স্ব-স্থিতিকে টলাতে পারে না। যত বড় পরিস্থিতিই হোক কিন্তু সন্তুষ্ট
আত্মার জন্য কার্টুন শো-এর মনোরঞ্জন প্রতিভাত হয়। সেইজন্য সে পরিস্থিতিতে নাকাল হয়
না এবং পরিস্থিতি তাকে আঘাত করতে পারে না, হেরে যায়। সেইজন্য অতীন্দ্রিয় সুখময়
মনোরঞ্জনের জীবন অনুভূত হয়। পরিশ্রম করতে হয় না। মনোরঞ্জন অনুভব করে। তো প্রত্যেকে
নিজেকে চেক করো। কীভাবে চেক করতে। হয় জানো তো না! জানো? যে নিজেকে চেক করতে জানো,
অন্যকে নয় নিজেকে চেক করতে জানো সে হাত উঠাও। চেক করতে জানো? আচ্ছা। অভিনন্দন।
বাপদাদার বরদানও প্রতিদিন অমৃতবেলায় বিভিন্ন রূপে প্রত্যেক বাচ্চার এটাই প্রাপ্ত হয়,
খুশি থাকো, সম্পন্নতায় ভরপুর থাকো। রোজের বরদান সবার প্রাপ্ত হয়, বাপদাদা সবাইকে
একই রকম একই সাথে বরদান দেন। কিন্তু কী পার্থক্য হয়? কেন নম্বরক্রমে হয়ে যাও? দাতা
এক, দানও এক, কাউকে অল্প কাউকে বেশি দেন না, উন্মুক্ত হৃদয়ে দিয়ে থাকেন। কিন্তু কী
পার্থক্য হয়ে যায়? এর অনুভবও সকলের আছে, কেননা এখনো পর্যন্ত বাপদাদার কাছে এই আওয়াজ
পৌছায়। জানো তো না সেটা কী? কখনো কখনো, অল্প অল্প, এই আওয়াজ এখনও পর্যন্ত আসে -
বাপদাদা বলেন যে ব্রাহ্মণ আত্মাদের জীবন রূপী ডিকশনারিতে এই দুই শব্দ বের হয়ে যাওয়া
উচিত। বাবা অবিনাশী, ভাণ্ডার অবিনাশী, তোমরাও সবাই অবিনাশী শ্রেষ্ঠ আত্মা। তো কোন
শব্দ হওয়া উচিত? কখনো কখনো, নাকি সদা? সব ভাণ্ডারের সামনে চেক করো - সর্বশক্তি সদা
আছে? সর্ব গুণ সদা আছে? তোমাদের সকলের ভক্ত যখন তোমাদের গুণ গায় তখন কী বলে? কখনো
কখনো গুণ দাতা, এরকম বলে? বাপদাদা সব বরদানে সদা শব্দ বলেছেন। সদা সর্বশক্তিমান,
কখনো শক্তিমান, কখনো সর্বশক্তিমান বলেননি। সবসময় দুটো শব্দ তোমরাও বলে থাকো, বাবাও
বলেন, সমান হও। এটা বলেন না, অল্প অল্প সমান হও। সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ, তো বাচ্চারা
কখনো কখনো কী করে? বাপদাদাও তোমাদের খেলা দেখেন তো না! বাচ্চাদের খেলা তো দেখতেই
থাকেন। বাচ্চারা কী করে, কখনো কখনো, সব নয়। যে বরদান প্রাপ্ত হয়েছে সেই বরদান ভেবে,
বর্ণন ক'রে কপিতে নোট করে, স্মরণও করে, কিন্তু বরদান রূপী বীজকে ফলপ্রসূ করে না।
বীজ থেকে ফল বের করতে পারে না। শুধু বর্ণন ক'রে খুশি হয় - খুব ভালো বরদান। বরদান হলো
বীজ কিন্তু বীজকে যত ফলপ্রসূ করা হয় ততই তা' বৃদ্ধি পায়। ফলপ্রসূ করার গুঢ়ার্থ কী?
সময়মতো কার্যে প্রয়োগ করা। কার্যে লাগাতে ভুলে যাও, শুধু কপিতে দেখে, বর্ণন ক'রো -
খুব ভালো, খুব ভালো। বাবা খুব ভালো বরদান দিয়েছেন। কিন্তু কিসের জন্য দিয়েছেন? সেটা
ফলপ্রসূ করার জন্য দিয়েছেন। বীজ থেকে ফলের বিস্তার হয়। বরদান তোমরা স্মরণ করো,
কিন্তু বরদান স্বরূপ হওয়ার ক্ষেত্রে নম্বরক্রমে হয়ে যাও। আর বাপদাদা প্রত্যেকের
ভাগ্য দেখে নিরন্তর প্রফুল্লিত হন। কিন্তু বাপদাদা হৃদয়ের আশা আগেও শুনিয়েছেন। সবাই
হাত উঠিয়েছিলে, স্মরণে আছে তোমাদের যে তোমরা কারণকে সমাপ্ত ক'রে সমাধান স্বরূপ হবে!
হোম ওয়ার্ক স্মরণে আছে? অনেক বাচ্চা আত্মিক কথোপকথনে কিংবা পত্র দ্বারা, ই-মেল
দ্বারা রেজাল্ট লিখেছেও। এটা ভালো, তোমাদের অ্যাটেনশন আকৃষ্ট হয়েছে। কিন্তু
বাপদাদার যে সদা শব্দ ভালো লাগে, সেটা থাকে? তোমরা সবাই যারা এসেছ, হয় তোমরা শুনেছ,
অথবা পড়েছ কিন্তু এক মাসের হোম ওয়ার্কে, এক মাসই হয়েছে শুধু, বেশি হয়নি; তো এক
মাসের লক্ষ্য তো রেখেছ! একে অন্যের সাথে বর্ণনও করেছো কিন্তু এক মাসের মধ্যে হোম
ওয়ার্কে যারা ভালো মার্কস নেওয়ার হয়েছ তারা হাত তোলো। যারা পাশ করেছ, পাশ করেছো উইথ
অনার তারা উঠে দাঁড়াও, পাস উইথ অনার! পাস উইথ অনার এর দর্শন করা উচিত তো না! মাতারা
নয়। বোনেদের মধ্যে থেকে টিচার্স হাত উঠায়নি। কেউ নয়। মধুবনের তোমরা? এতো অনেক কম
রেজাল্ট! (খুব অল্প উঠেছে) আচ্ছা সেন্টারেও থাকবে! অভিনন্দন, তালি তো বাজাও। বাপদাদা
মৃদু হাসেন, কাউকে যখন বাপদাদা জিজ্ঞাসা করেন যে বাপদাদার প্রতি কা'র ভালোবাসা আছে,
আর কতটা আছে? তো কী জবাব দিয়ে থাকো তোমরা? বাবা, এত আছে যে বলতে পারব না। জবাব খুব
ভালো দাও তোমরা। বাপদাদাও খুশি হয়ে যান। কিন্তু ভালোবাসার প্রমাণ কী? আজকালকার
দুনিয়ার লোকের বডি কন্সাসনেসের ভালোবাসায় তো প্রাণও বিসর্জন দিয়ে দেয়। পরমাত্ম
ভালোবাসার জন্য বাবা বলেছেন, আর বাচ্চাদের তা' করা কঠিন কেন? খুব ভালো ভালো গীত গাও
তোমরা। বাবা আমি উৎসর্গ করার পতঙ্গ, অগ্নিতে আত্ম-বলিদান দিতে প্রস্তুত। তাহলে এই
কারণ শব্দকে স্বাহা করতে পারো না?
এখন তো এই বছরের লাস্ট টার্ন এসে গেছে। পরবর্তী বছরে কী হবে সেতো বাবা আর তোমরা
দেখছ, দেখবে কিন্তু 'সময়' এই এক শব্দ দেখে তোমরা বলো তো না, সময়ের ডাক! ভক্তদের
আহ্বান, সময়ের ডাক, দুঃখী আত্মাদের আর্তনাদ, তোমাদের স্নেহি, সহযোগী আত্মাদের
ব্যাকুলতা, তোমরাই পূর্ণ করবে তো না! তোমাদের টাইটেল কী? তোমাদের কর্তব্য কী? কোন
কর্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণ হয়েছো? তোমাদের টাইটেল বিশ্ব পরিবর্তক। বিশ্ব পরিবর্তনে করা
তোমাদের কার্য, তাছাড়া, তোমাদের সাথি কে? বাপদাদার সাথে সাথে এই কার্যে তোমরা
নিমিত্ত হয়েছ। তো কী করতে হবে তোমাদের? এখনই বাবা যদি তোমাদের হাত তুলতে বলেন, তোমরা
তো সবাই হাত উঠাবে! লক্ষ্য রেখেছ, বাপদাদা দেখেছেন, টোটাল এই বছরের সিজনে সবাই
সঙ্কল্প করেছে, কিন্তু সফলতার চাবি দৃঢ়তা - করতেই হবে, তার বদলে তোমরা কখনো কখনো
করছি, চলছি, করেই নেবো এই সঙ্কল্প দৃঢ়তাকে সাধারণ বানিয়ে দেয়। দৃঢ়তার মধ্যে কারণ
শব্দ আসেই না। নিবারণ হয়ে যায়। কারণ যদি আসেও চেকিং হওয়ার কারণে, কারণ নিবারণে বদলে
যায়।
বাপদাদা রেজাল্ট চেক করেছেন, তো কী দেখেছেন?জ্ঞানী, যোগী, ধারণা স্বরূপ, সেবাধারী,
চার সাবজেক্টেই প্রত্যেকে যথাশক্তি জ্ঞানীও, যোগীও, ধারণাও করছে, সেবাও করছে। কিন্তু
চার সাবজেক্টেই অনুভব স্বরূপ, অনুভবের অথরিটির ক্ষেত্রে খামতি দেখা যায়। অনুভাবী
স্বরূপ, জ্ঞান স্বরূপেও অনুভাবী স্বরূপ অর্থাৎ জ্ঞানকে নলেজ বলা হয়ে থাকে। তো
অনুভাবী মূর্ত আত্মাতে নলেজ অর্থাৎ বোধ আছে - কী করতে হবে, কী করতে হবে না, নলেজের
লাইট আর মাইট, তো অনুভাবী স্বরূপের অর্থই হলো জ্ঞানী তু আত্মার সব কর্মে লাইট আর
মাইট ন্যাচারাল হওয়া উচিত। জ্ঞানী মানে জ্ঞান, নলেজকে জানা, বর্ণন করা, তার সাথে
সাথে সব কর্মে লাইট মাইট হবে। অনুভাবী স্বরূপ দ্বারা সব কর্ম ন্যাচারাল, শ্রেষ্ঠ আর
সফল হবে। পরিশ্রম করতে হবে না। কেননা, তোমরা জ্ঞানের অনুভাবীমূর্ত। অনুভবের অথরিটি
সব অথরিটি থেকে শ্রেষ্ঠ। জ্ঞানকে জানা আর জ্ঞানের অনুভব স্বরূপের অথরিটিতে সব কর্ম
করা, এতে প্রভেদ আছে। তো অনুভব স্বরূপ কিনা চেক করো। আমি আত্মা কিন্তু চার
সাবজেক্টেই অনুভাবী স্বরূপ হয়ে সব কর্ম করি? অনুভবের অথরিটির সিটে যদি সেট হও তবে
শ্রেষ্ঠ কর্ম, সাফল্য স্বরূপ কর্ম অথরিটির সামনে ন্যাচারাল নেচার প্রতীয়মান হবে।
তোমরা ভাবো কিন্তু অনুভাবী স্বরূপ হওয়া, যোগযুক্ত, মর্মার্থযুক্ত (রাজযুক্ত) নেচার
যেন হয়ে যায়, যেন ন্যাচারাল হয়ে যায়। ধারণাতেও সর্ব গুণ আপনা থেকেই সব কর্মে যেন
প্রতীয়মান হয়। এমন অনুভাবী স্বরূপে সদা থাকা, অনুভবের সিটে সেট হওয়ার আবশ্যকতার
ব্যাপারে অ্যাটেনশন রাখা -এটা আবশ্যক। অনুভবের অথরিটির সিট অনেক গুরুত্বপূর্ণ৷
অনুভাবীকে মায়াও শেষ করতে পারে না। কেননা, মায়ার অথরিটি থেকে অনুভবের অথরিটি
পদ্মগুন উঁচু। ভাবনা আলাদা, মনন করা আলাদা, স্বরূপের অনুভাবী স্বরূপ হয়ে চলা -এখন
এর আবশ্যকতা আছে।
তো এখন এই বছরে কী করবে? বাপদাদা দেখেছেন একটা সাবজেক্টে মেজরিটি পাস হয়েছে। কোন
সাবজেক্ট? সেবার সাবজেক্ট। চতুর্দিক থেকে বাপদাদার কাছে সেবার রেকর্ড খুব ভালো ভালো
এসেছে। আর সেবার উৎসাহ উদ্দীপনা এই বছরের সেবা সমাচার হিসেবে ভালো দৃশ্যমান হয়েছে।
প্রতিটা বর্গ, প্রতিটা জোন ভিন্ন ভিন্ন রূপে সেবার সাফল্য প্রাপ্ত করেছে। এর জন্য
বাপদাদা প্রতিটা জোন, প্রতিটা বর্গকে পদম পদম গুন অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অভিনন্দন
তোমাদের। তোমরা ভালো ভালো প্ল্যানও বানিয়েছ। কিন্তু সময় অনুসারে এখন আকস্মিকতার
সিজন। তোমরা দেখেছ বা শুনে থাকবে যে এই বছরে কত ব্রাহ্মণ হঠাৎ চলে গেছে! তো
আকস্মিকতার ঘণ্টা এখন জোরালো হচ্ছে। সেই অনুসারে এখন এই বছরে চার সাবজেক্টে কতটা
অনুভাবী স্বরূপ হয়েছি! কেননা, চার সাবজেক্টেই ভালো মার্কস প্রয়োজন। যদি একটাও
সাবজেক্টে পাস মার্কস থেকে কম হয় তবে পাস উইথ অনার এর মালার দানা, বাপদাদার গলার
হার কীভাবে হবে! কোনও ভাবে পরাজিত হলে বাবার গলার হার হতে পারবে না। আর এখানে যদি
হাত তুলতে বলা হয় তো সবাই কী বলে? লক্ষ্মী- নারায়ণ হবো। ঠিক আছে, লক্ষ্মী-নারায়ণ বা
লক্ষ্মী-নারায়ণের পরিবারে সাথি হওয়াও শ্রেষ্ঠ পদ। সেইজন্য বাপদাদা শুধু একটা কথা
বলেন, এখন তীব্র গতিতে উড়তি কলায় উড়তে থাকো এবং নিজের উড়তি কলার ভাইব্রেশন দ্বারা
বায়ুমণ্ডলে সহযোগের বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত করো। প্রকৃতির জন্য তোমরা সবাই চ্যালেঞ্জ
করেছ যে প্রকৃতিকেও পরিবর্তন করেই ছাড়বে। প্রতিজ্ঞা আছে না? প্রতিজ্ঞা করেছো? করেছো?
কাঁধ নাড়াও, হাত নয়। তো তোমাদের হমজিন্স (সতীর্থ) মনুষ্য আত্মাদের দুঃখ আর অশান্তি
থেকে পরিবর্তন করতে পারো না? এক তো তোমরা চ্যালেঞ্জ করেছ আর দ্বিতীয়তঃ, বাপদাদার
কাছেও তোমরা প্রতিজ্ঞা করেছ, এখনও আপনার কার্যে আমরা সবাই সাথি, পরমধামেও সাথি আর
রাজ্যেও ব্রহ্মা বাবার সাথি থাকবো। এই প্রতিজ্ঞা করেছ তো না! তো সাথে যাবে, সাথে
থাকবে, আর এখনও সাথে আছ। তো বাবার ইশারা সময় সময়তে প্র্যাকটিক্যালি দেখছ - হঠাৎ
এভাররেডি। দাদির সম্পর্কে ভেবেছিলে কী যে চলে যেতে পারেন? আকস্মিকতার খেলা দেখেছো
তো না!
তো এই বছরে এভাররেডি। বাবার হৃদয়ের আশা- পূর্ণকারী আশার দীপক হতেই হবে। বাবার আশা
সে তো তোমরা জানোই। হতে হবে? নাকি হয়ে যাবে, দেখে নেবে... যারা মনে করো হতেই হবে
তারা হাত তোলো। দেখো, ক্যামেরাতে আসছে। বাপদাদাকে তো খুব খুশি করো! বাপদাদাও
বাচ্চাদের ছাড়া একলা যেতে পারেন না। দেখো, ব্রহ্মা বাবাও তোমরা সব বাচ্চাদের জন্য
মুক্তির গেট খোলার জন্য অপেক্ষা করছেন! অ্যাডভান্স পার্টিও অপেক্ষা করছে। তোমরা
বন্দোবস্ত ক'রে থাকো। তোমরা অপেক্ষমান নও, বন্দোবস্তকারী। তো এই বছরে লক্ষ্য রাখো,
কিন্তু লক্ষ্য আর লক্ষণ সমান রাখো। এমন যেন না হয় লক্ষ্য অনেক উঁচু আর লক্ষণে
দুর্বলতা, না। লক্ষ্য আর লক্ষণ সমান হবে। তোমাদের হৃদয়ের যে আশা আছে সমান হওয়ার,
সেটা তখনই পূর্ণ হবে যখন লক্ষ্য আর লক্ষণ সমান হবে। এখন সামান্য সামান্য প্রভেদ হয়ে
যায় লক্ষ্য আর লক্ষণে। খুব ভালো প্লান বানাও তোমরা, নিজেদের মধ্যে আত্মিক
বার্তালাপও করো খুব ভালো ভালো। পরস্পরকে অ্যাটেনশনও দিইয়ে থাক। এখন দৃঢ়তা আমার
জন্মসিদ্ধ অধিকার, এই সঙ্কল্প অনুভব স্বরূপে নিয়ে এসো। চেক করো - যা তোমরা বলো তার
অনুভবও করো কিনা! প্রথম শব্দ আমি আত্মা, এটাই চেক করো। এই আত্মা স্বরূপের অনুভবের
অথরিটি আমি, কেননা অনুভবের অথরিটি নম্বর ওয়ান। আচ্ছা। এখন যে কোনও পরিস্থিতিতে স্ব
স্থিতিতে স্থিত থাকতে পারো?
মনের একাগ্রতা (ড্রিল) আচ্ছা। তিন বিন্দুর স্মৃতি স্বরূপ হতে পারো তো না! কেবল
ফুলস্টপ।
আচ্ছা। এখন এক সেকেন্ডে নিজের শ্রেষ্ঠ স্বমান বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন, এই রূহানী
স্বমানের নেশায় স্থিত হয়ে যাও। সিংহাসনাসীন আত্মা আমি, এই অনুভবে লাভলিন হয়ে যাও।
আচ্ছা।
চতুর্দিকের অতি লভলি যারা সদা বাবার লভে লীন থাকে, সদা স্বমানধারী, স্বরাজ্যধারী
বিশেষ আত্মাদের, চতুর্দিকের উৎসাহ উদ্দীপনার পাখায় ওড়ে এবং নিজের মনের ভাইব্রেশন
দ্বারা বায়ুমণ্ডল শান্ত শ্রেষ্ঠ বানায়, সবাইকে বাবার বার্তা দিয়ে দুঃখ থেকে নিষ্কৃতি
দিয়ে মুক্তির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করায়, সদা দৃঢ়তার দ্বারা সাফল্য প্রাপ্ত করে -
হৃদয়ের সমীপে থাকে এবং সমুখে আগত চতুর্দিকের এমন সকল বাচ্চাকে হৃদয়ের অতি স্নেহ আর
হৃদয়ের আশীর্বাদ, স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার।
বরদান:-
ধর্ম আর কর্ম দু'য়ের সঠিকভাবে ব্যালেন্স রেখে দিব্য
বা শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান ভব
কর্ম করার সময় ধর্ম অর্থাৎ সম্পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে।
তবে ধর্ম আর কর্ম দুয়ের ব্যালেন্স ঠিক হওয়ায় প্রভাব বাড়বে। এরকম নয় যখন কর্ম সমাপ্ত
হবে তখন ধারণা স্মৃতিতে আসবে। বুদ্ধিতে দুটো বিষয়ের ব্যালেন্স ঠিক হ'লে তবে বলা হবে
শ্রেষ্ঠ বা দিব্য বুদ্ধিমান। নয়তো, সাধারণ বুদ্ধি, কর্মও সাধারণ, ধারণাও সাধারণ হয়।
সুতরাং সাধারণের মধ্যে সমতা আনার দরকার নেই, বরং শ্রেষ্ঠত্বে সমতা হতে হবে। কর্ম
যেমন শ্রেষ্ঠ হবে তেমন ধারণাও শ্রেষ্ঠ হতে হবে।
স্লোগান:-
নিজের মন বুদ্ধিকে যদি অনুভবের সিটে সেট করে দাও তবে
আপসেট হবে না।
অব্যক্ত ইশারা :- এই অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে
জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো জ্ঞান স্বরূপ মাস্টার নলেজফুল, মাস্টার সর্বশক্তিমান
হওয়ার পরে যদি এমন কোনো কর্ম যা যুক্তিযুক্ত নয় সেটা করো তবে সেই কর্মবন্ধন অজ্ঞান
কালের কর্মবন্ধন থেকে পদ্মগুন বেশি হবে। কেননা, বন্ধনযুক্ত আত্মা স্বতন্ত্র না
হওয়ার কারণে যা চায় তা' করতে পারে না, সেইজন্য যুক্তিযুক্ত কর্ম দ্বারা মুক্তি
প্রাপ্ত করো।