25.03.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা হলে মহাবীর, মায়ার ঝড় দেখে তোমাদের ভয় পেতে নেই, এক বাবা ব্যতীত আর কারোর
পরোয়া করো না, পবিত্র অবশ্যই হতে হবে"
প্রশ্নঃ -
বাচ্চাদের
মধ্যে কোন্ সাহস থাকলে তবেই খুব উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে?
উত্তরঃ
শ্রীমৎ অনুযায়ী
চলে পবিত্র থাকার। যদি অনেক ঝামেলা হয়, অনেক বিপর্যয়ও সহ্য করতে হয় - কিন্তু বাবা
পবিত্র হওয়ার যে শ্রেষ্ঠ মত দিয়েছেন সেই অনুযায়ী নিরন্তর চলতে থাকলে অনেক উচ্চ পদ
প্রাপ্ত করতে পারবে। কোনো ব্যাপারে ভয় পাওয়ার নেই, যাই কিছু হোক না কেন...নাথিং
নিউ।
গীতঃ-
ভোলানাথের থেকে
অনুপম আর কেউ নেই...
ওম্ শান্তি ।
এ হলো ভক্তি
মার্গের লোকেদের গান। জ্ঞান মার্গে গান ইত্যাদির কোনো দরকার নেই কারণ বলা হয়েছে যে
বাবার থেকে আমাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় ভক্তি মার্গের যে সব
নিয়ম-রীতি সেই সব এক্ষেত্রে আসতে পারে না। বাচ্চারা কবিতা ইত্যাদি তৈরী করে সেইটা
আর সবাইকে শোনানোর জন্য। তার অর্থও যতোক্ষণ তোমরা না বোঝাবে ততক্ষণ কেউ বুঝতে পারবে
না। এখন তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা বাবাকে পেয়েছো বলে খুশীর পারদ উপরে ওঠা উচিত। বাবা
৮৪ জন্মের চক্রের নলেজও শুনিয়েছেন। খুশী হওয়া উচিত - আমরা এখন স্বদর্শন চক্রধারী
হয়েছি। বাবার থেকে বিষ্ণুপুরীর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। সুনিশ্চিত বুদ্ধিই
বিজয়ন্তী অর্থাৎ বিজয় লাভ করে। যারা সুনিশ্চিত থাকে তারা সত্যযুগে যাবেই। তাই
বাচ্চাদের সর্বদা খুশী থাকা উচিত - ফলো ফাদার। বাচ্চারা জানে যে, শিববাবা যেই দিন
থেকে এনার (ব্রহ্মা) মধ্যে প্রবেশ করেছেন তো খুব ঝামেলা হয়েছে। পবিত্রতার উপরে খুবই
ঝগড়া চলেছে। বাচ্চারা বড় হলে, বলবে বিবাহ করো, বিবাহ না করে চলবে কি করে। মানুষ
যদিও গীতা পড়ে কিন্তু বোঝে না কিছুই। সবচেয়ে বেশী অভ্যাস ছিল বাবার (ব্রহ্মা)।
একদিনও গীতা পাঠ করা মিস্ করতেন না। যখন জানতে পারলেন গীতার ভগবান হলেন শিব, নেশা
চড়ে গেল আমি তো বিশ্বের মালিক হচ্ছি। এইটা তো হলো শিব ভগবানুবাচ, তবুও পবিত্রতারও
খুবই ঝামেলা হলো। এতে তো বাহাদুরি চাই, তাই না! তোমরা হলেই মহাবীর- মহাবীরনী। সেই
এক ব্যাতীত আর কারোর পরোয়া নেই। পুরুষ হলো রচয়িতা, রচয়িতা নিজেই পবিত্র হলে
রচনাকে পবিত্র রূপে তৈরী করেন। ব্যস্! এই ব্যাপারেই খুব ঝগড়া চলে। বড়-বড় ঘর থেকে
বেরিয়ে আসে। কারোরই পরোয়া করেনি। যাদের ভাগ্যে নেই তো বুঝবেই বা কি করে। পবিত্র
থাকতে চাইলে থাকো, না হলে গিয়ে নিজের ব্যবস্থা নিজে করো। এতো সাহস তো থাকা চাই না!
বাবার সামনে কতো ঝামেলা হয়েছে। বাবাকে কখনো মুষরে পড়তে দেখেছো? আমেরিকা পর্যন্ত
সংবাদপত্রে বেরিয়ে গেছে। নাথিং নিউ। এইটা তো পূর্ব কল্পের ন্যায় হচ্ছে, এতে ভয়ের
কি আর আছে। আমাদের তো নিজের বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে। নিজের রচনাকে
বাঁচাতে হবে। বাবা জানেন যে সমস্ত ক্রিয়েশন হলো এই সময় পতিত। সবাইকে আমারই পবিত্র
করে তুলতে হবে বাবাকেই সকলে বলে হে পতিত-পাবন, লিবরেটর এসো, তো ওনারই সহানুভূতি জাগে।
করুণাময় যে না! তাই বাবা বোঝান- বাচ্চারা, কোনো ব্যাপারেই ভয় পেও না। ভয় পেলে এতো
উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না। মাতাদের উপরেই অত্যাচার হয়। এরও উদাহরণ রয়েছে -
দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ । বাবা ২১ জন্মের জন্য নগ্ন হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেন। দুনিয়া এই
কথাটা জানে না। পতিত তমোপ্রধান পুরানো সৃষ্টিও হবেই। প্রতিটি জিনিস নতুন থেকে আবার
পুরানো অবশ্যই হবে। পুরানো নিবাস স্থল অবশ্যই ত্যাগ করতেই হয়। নূতন দুনিয়া গোল্ডেন
এজ্, পুরানো দুনিয়া আয়রণ এজ্.... সর্বদা তো থাকতে পারে না। বাচ্চারা, তোমরা জানো
যে - এইটা হলো সৃষ্টি চক্র। দেবী-দেবতাদের রাজ্য পুনরায় স্থাপিত হচ্ছে। বাবাও বলেন
আবার তোমাদের গীতা জ্ঞান শোনাচ্ছি। এখানে রাবণ রাজ্যতে আছে দুঃখ। রামরাজ্য কাকে বলা
হয়, এইটাও কেউ বোঝে না। বাবা বলেন আমি স্বর্গ অথবা রামরাজ্য স্থাপনা করতে এসেছি।
তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা অনেক বার রাজত্ব পেয়েছো আর তারপর হারিয়েছো। এইটা সকলের
বুদ্ধিতে আছে। ২১ জন্ম আমরা সত্যযুগে থাকি, সেইটাকে বলা হয় ২১ প্রজন্ম অর্থাৎ যখন
বৃদ্ধাবস্থা হয় তখন শরীর ত্যাগ করে। কখনো অকাল মৃত্যু হয় না। এখন তোমরা যেন
ত্রিকালদর্শী হয়ে উঠেছো। তোমরা জানো শিববাবা কে? শিবের মন্দিরও অনেক তৈরী করেছে।
মূর্তি তো বাড়ীতেও রাখতে পারে, তাই না! কিন্তু ভক্তি মার্গও ড্রামাতে নির্ধারিত।
বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে হয়। কৃষ্ণের অথবা শিবের মূর্তি বাড়ীতেও রাখা যেতে পারে।
জিনিস তো হলো একই। তবে এতো দূরে দূরে কেন যাও ? ওদের কাছে গেলে কি কৃষ্ণপুরীর
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে? এখন তোমরা জানো যে, জন্ম-জন্মান্তর আমরা ভক্তি করে এসেছি।
রাবণ রাজ্যেরও কতো আড়ম্বর দেখো। এইসব হলো শেষের দিকের আড়ম্বর। রামরাজ্য তো ছিলো
সত্যযুগে, সেখানে এই বিমান ইত্যাদি সব ছিলো, আবার বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আবার এই সময়ে
সবকিছু বের হয়েছে। এখন এই সব শিখছে, যারা শেখার তারা সংস্কার নিয়ে যাবে। সেখানে এসে
আবার বিমান তৈরী করবে। ভবিষ্যতে এইটা তোমাদের কাছে সুখদায়ক হবে। এই সায়েন্স আবার
তোমাদের কাজে আসবে। এখন এই সায়েন্স হলো দুঃখের জন্য - সেইখানে আবার সুখের জন্য হবে।
এখন স্থাপনা চলছে। বাবা নতুন দুনিয়ার জন্য রাজধানী স্থাপন করছেন, বাচ্চারা- তাই তো
তোমাদের মহাবীর হতে হবে। দুনিয়াতে এইটা লোকে কমই জানে যে ভগবান এসেছেন। বাবা বলেন
ঘর গৃহস্থে থেকেও কমল ফুলের মতন পবিত্র থাকো, এতে ভয়ের কিছু নেই। অনেক গালি দেবে।
গালি তো ইনিও অনেক পেয়েছেন। কৃষ্ণ গালি খেয়েছে- এইরকম দেখানো হয়। এখন কৃষ্ণ তো গালি
খেতে পারে না। গালি তো কলিযুগে খায়। তোমাদের যে রূপ এখন আছে - কল্পের শেষে আবার এই
সময়ে হবে। মধ্যবর্তী সময়ে কখনো হতে পারে না। জন্ম বাই জন্ম ফিচার্স পরিবর্তিত হতে
থাকে, এই ড্রামা তৈরী হয়েই আছে। ৮৪ জন্মতে যারা যে রকম (ফিচার্স) জন্মেছিলো তারাই
জন্ম গ্রহণ করবে। এখন তোমরা জানো এই ফিচার্স পরিবর্তন করে অন্য জন্মে এই
লক্ষ্মী-নারায়ণের ফিচার্স হয়ে যাবে। তোমাদের বুদ্ধির তালা এখন খুলেছে। এইটা হলো
নূতন কথা। বাবাও নতুন, কথাও নতুন। এই কথা কেউ তাড়াতাড়ি বুঝতে পারে না। যখন ভাগ্যে
থাকবে তখন কিছু বুঝবে। এছাড়া মহাবীর তাদের বলা হয় যারা কি না যতই ঝড়ঝঞ্ঝা আসুক না
কেন, অনড় থাকে। এখন সেই অবস্থা হতে পারে না। হবে অবশ্যই। মহাবীর কোনো ঝড়ে ভয় পাবে
না। সেই অবস্থা শেষে হবে- সেইজন্য গাওয়া হয়েছে অতীন্দ্রিয় সুখ গোপ-গোপীদের জিজ্ঞাসা
করো। বাচ্চারা, বাবা এসেছেন তোমাদের স্বর্গের যোগ্য করে গড়ে তুলতে। পূর্ব কল্পের
ন্যায় নরকের বিনাশ হতেই হবে। সত্যযুগে তো একই ধর্ম হবে। চাহিদাও থাকে অখন্ডতার, এক
ধর্ম হওয়া উচিত। এইটাও কারোর জানা নেই যে রামরাজ্য, রাবণ রাজ্য হলো আলাদা- আলাদা।
এখন বাবার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে শ্রীমৎ অনুযায়ী চলতে হবে। প্রত্যেকের নাড়ী দেখা
হয়। সেই অনুযায়ী আবার রায়ও দেওয়া হয়ে থাকে। বাবাও বাচ্চাদের বলেছেন- যদি বিবাহ করতে
হয় তো যাও গিয়ে করো। অনেক বন্ধু-পরিচিত ইত্যাদি বসে আছে, ওদের বিবাহ করিয়ে দেবে।
তবুও কেউ না কেউ বেরিয়ে যায়। তাই প্রত্যেকের নাড়ী দেখা হয়। জিজ্ঞাসা করে বাবা এই
অবস্থা, আমি পবিত্র থাকতে চাই, আমার আত্মীয় আমাকে বাড়ী থেকে বের করে, এখন কি করা
উচিত? আরে, এটাও জিজ্ঞাসা করছো, পবিত্র থাকতে হবে, যদি না থাকতে পারো তো গিয়ে বিবাহ
করো। আচ্ছা, মনে করো কারোর আশীর্বাদ (বিবাহের পাকা কথা) হয়েছে, খুশী হতে হবে, এইটা
কোনো ব্যাপার না। বিবাহের সময় যখন হাতে গাঁটছড়া বাঁধে সেই সময় বলে এই পতি হলো
তোমার গুরু। আচ্ছা, তুমি তাকে দিয়ে লিখিয়ে নাও, তুমি মানছো যে আমি তোমার গুরু
ঈশ্বর, লেখো। আচ্ছা, এখন আমি আদেশ দিচ্ছি পবিত্র থাকতে হবে। এর জন্য তো সাহস চাই,
তাই না ! লক্ষ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে। প্রাপ্তি খুবই মহান। কামের আগুন তখনই লাগে
যখন প্রাপ্তি সম্বন্ধে অবগত থাকে না। বাবা বলেন - এতো বড় প্রাপ্তি হয় যখন, তবে এক
জন্ম পবিত্র থাকা কী এমন বড় কথা হলো ! আমি হলাম তোমার পতি, ঈশ্বর। আমার অজ্ঞাতেই
পবিত্র থাকতে হবে। বাবা যুক্তি গুলি বলে দেন। ভারতে এইটা হলো রীতি - স্ত্রীকে বলে
দেয় তোমার স্বামী হলো ঈশ্বর। তার আদেশ পালন করে থাকতে হবে। স্বামীর পা টিপতে হবে,
কারণ মনে করে লক্ষ্মীও নারায়ণের পা টিপে দিতেন। এই অভ্যাস কোথা থেকে এলো? ভক্তি
মার্গের চিত্র থেকে। সত্যযুগে তো এইরকম ব্যাপার হয় না। নারায়ণ কি আর কখনো ক্লান্ত
হয়ে পড়ে, যে লক্ষ্মী পা টিপবে! ক্লান্ত হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই নেই। এ'সব হলে তো
দুঃখের ব্যাপার হয়ে যায়। সেইখানে দুঃখ-কষ্ট কোথা থেকে আসে। তখন বাবা ফটো থেকে
লক্ষ্মীর চিত্রই বাদ দিয়ে দিলেন। নেশা তো চড়ে, তাই না ! ছোটবেলা থেকেই বৈরাগ্য ছিল,
সেইজন্য ভক্তি খুবই করতেন। তাই বাবা অনেক যুক্তি বলে দেন। তোমরা জানো যে আমরা এক
বাবারই বাচ্চা - তাই নিজেদের মধ্যে ভাই - বোন হয়ে গেলাম। পিতামহের কাছ থেকে
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। বাবাকে ডাকা হয় অপবিত্র দুনিয়াতে। হে পতিত-পাবন সকল
সীতাদের রাম। বাবাকে বলা হয় ট্রুথ, সত্য ভূ-খন্ড স্থাপন করতে যিনি সক্ষম। তিনিই
সমগ্র সৃষ্টির আদি-মধ্য- অন্তের সত্য জ্ঞান তোমাদের প্রদান করেন। তোমাদের আত্মা এখন
জ্ঞান সাগর হচ্ছে। মিষ্টি বাচ্চাদের সাহস থাকা দরকার, আমাদের বাবার শ্রীমত অনুযায়ী
চলতে হবে। অসীম জগতের পিতা অসীম জগতের রচনাকে স্বর্গের মালিক করে দেন। তাই
পুরুষার্থ করে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নিতে হবে। সমর্পণ করতে হবে। তোমরা তাঁকে নিজের
উত্তরাধিকারী করলে তবে তিনিও তোমাদের ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার প্রদান করবেন। বাবা
বাচ্চাদের প্রতি নিজেকে সঁপে দেন। বাচ্চারা বলে বাবা এই তন-মন- ধন্যবাদ সব আপনার।
আপনি বাবাও হন, আবার বাচ্চাও হন। গায়ও - ত্বমেব মাতাশ্চ পিতা ত্বমেব... এক-এরই কত
বড় মহিমা । ওনাকে বলাই হয় সকলের দুঃখ হরণকারী, সুখ প্রদানকারী। সত্যযুগে পঞ্চ
তত্ত্বও সুখ প্রদানকারী। কলিযুগে পঞ্চ তত্ত্বও তমোপ্রধান হওয়ার কারণে দুঃখ দেয়।
সেখানে তো থাকেই সুখ। এই ড্রামা পূর্ব নির্ধারিত। তোমরা জানো যে এইটা সেই ৫ হাজার
বছর পূর্বের লড়াই। এখন স্বর্গের স্থাপনা হচ্ছে। তাই বাচ্চাদের সর্বদা খুশীতে থাকা
উচিত। ভগবান তোমাদের অ্যাডপ্ট করেছেন, তারপর বাচ্চারা তোমাদের শৃঙ্গারও করান,
অধ্যয়ণও করান। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
সর্বদা বাবার সমান হওয়ার সাহস রাখতে হবে। বাবার প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পিত থাকতে হবে।
২ ) কোনো ব্যাপারেই
ভয় পেতে নেই। পবিত্র অবশ্যই হতে হবে।
বরদান:-
সমস্যাকে উত্তরণের কলার সাধন অনুভব করে সদা সন্তুষ্ট থাকা শক্তিশালী ভব
যারা শক্তিশালী আত্মা,
তারা সমস্যাগুলিকে এমনভাবে পার করে যেন কোনো সহজ রাস্তা সহজেই পার করছে। সমস্যাগুলো
তাদের কাছে উন্নতির সাধন হয়ে ওঠে। প্রতিটি সমস্যা তাদের কাছে পরিচিত বলে অনুভব হয়।
তারা কখনোই অবাক হয়না, বরং সদা সন্তুষ্ট থাকে। তাদের মুখ থেকে কখনও কারণ শব্দটি বের
হয় না বরং সেই সময় কারণকে নিবারণে পরিবর্তন করে দেয়।
স্লোগান:-
স্ব-স্থিতিতে স্থিত থেকে সর্ব পরিস্থিতিকে পার করাই হলো শ্রেষ্ঠত্ব ।
মাতেশ্বরী জীর অমূল্য
মহাবাক্য : -
পরমার্থের দ্বারা
আচার ব্যবহার (জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য) স্বতঃতই সিদ্ধ (প্রমাণিত) হয়ে যায় :-
ভগবানুবাচ : তোমরা
আমার দ্বারা পরমার্থকে জানলে আমার পরম পদকে প্রাপ্ত করবে। অর্থাৎ পরমার্থকে জানলে
তোমার আচার ব্যবহার সিদ্ধ হয়ে যাবে। দেখো, দেবতাদের সামনে প্রকৃতি তো চরণের দাসী
হয়ে থাকে। এই পাঁচ তত্ত্ব সুখ স্বরূপ হয়ে মনোবাঞ্ছিত সেবা করতে থাকে । এই সময়
দেখো মনোবাঞ্ছিত সুখ না মেলার কারণে মানুষের জীবনে দুঃখ, অশান্তি প্রাপ্ত হতেই থাকে।
সত্যযুগে তো এই প্রকৃতি সুখদায়ী হয়ে থাকে। দেখো, দেবতাদের জড় চিত্রেও কতো কতো
আভূষণ পরানো হয় । তো যখন চৈতন্য রূপে প্রত্যক্ষ হবেন, সেই সময় তবে কতো বৈভব হবে !
এই সময় মানুষ না খেতে পেয়ে মরছে অথচ জড় মূর্তির পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে।
তো এখানে কোথায় অন্তর দোখো। নিশ্চয়ই তারা এমন কোনো শ্রেষ্ঠ কর্ম করেছিলেন তবেই তো
তাদের এমন স্মরণিক তৈরী হয়েছে। কতো পূজাও করা হয় তাদের। তারা নির্বিকারী
প্রবৃত্তিতে থেকেও কমল ফুলের মতো অবস্থাতে, কিন্তু এখন তারা নির্বিকারী প্রবৃত্তির
পরবর্তে বিকারী প্রবৃত্তিতে চলে গেছে। যার জন্য সকল পরমার্থকে ভুলে ব্যবহারে বা
আচরণের দিকে চলে গেছে। সেইজন্য রেজাল্ট উল্টো দিকে চলে যাচ্ছে। এখন স্বয়ং পরমাত্মা
এসে বিকারী প্রবৃত্তির থেকে বের করে নির্বিকারী প্রবৃত্তি শেখাচ্ছেন আমাদেরকে। যার
দ্বারা আমাদের জীবনকে সদা কালের জন্য সুখী বানিয়ে থাকি। সেইজন্য প্রথমে চাই
পরমার্থ তারপর আচরণ। পরমার্থের মধ্যে থাকলে আচার ব্যবহার অটোমেটিক্যালি সফল হয়ে
যাবে। ওম্ শান্তি ।
অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের
ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভয় আর নিশ্চিন্ত থাকো"
ডাক্তাররা যেমন প্রথমে
রুগীর মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করে যাতে রুগীর মধ্যে ভরসা জন্মায় যে এই ডাক্তার খুব ভালো
এবং এখান থেকেই শফা (আরোগ্য) পাওয়া যাবে। ডাক্তার যতই ভালো ওষুধ দিক না কেন, যদি
বিশ্বাস না থাকে তাহলে সেই ওষুধ কাজ করে না। ঠিক তেমনই রূহানী (আত্মিক) ডাক্তারি
করার ক্ষেত্রেও নিজের স্টেজ এমনই শক্তিশালী হওয়া উচিত যাতে সবার মনে এই বিশ্বাস জাগে
যে এখানে যখন পৌঁছেছি, তখন অবশ্যই কিছু না কিছু প্রাপ্তি হবেই।