28.04.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
বাবার মতন লভলী হওয়ার জন্য নিজেকে আত্মা বিন্দু নিশ্চয় করে বিন্দু বাবাকে স্মরণ করো”
প্রশ্নঃ -
স্মরণে থাকার
অত্যন্ত আন্তরিক (হাড়ে হাড়ে) পরিশ্রম গুপ্ত রূপে প্রতিটি বাচ্চাকে করতে হবে - কেন?
উত্তরঃ
কারণ স্মরণ
ব্যতীত আত্মা, পাপ আত্মা থেকে পুণ্য আত্মায় পরিণত হতে পারবে না। যখন গুপ্ত স্মরণে
থাকবে, দেহী-অভিমানী হবে, তখন বিকর্ম বিনাশ হবে। ধর্মরাজের দন্ড থেকে বাঁচার সাধন
হলো স্মরণ। মায়ার ঝড় স্মরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করে তাই স্মরণের গুপ্ত পরিশ্রম করো তবেই
লক্ষ্মী-নারায়ণের মতন লভলী হতে পারবে।
গীতঃ-
ওম্ নমঃ শিবায়....
ওম্ শান্তি ।
এই মহিমা হলো
বাবার, তিনি হলেন সকলের পিতা। স্মরণ করা হয় ভগবান অর্থাৎ পিতাকে, তাঁকে মাতা-পিতা
বলা হয়, তাইনা। গড ফাদারও বলা হয়। এমন নয় সব মানুষদের গড ফাদার বলা হবে। বাবা
সম্বোধন তো লৌকিক পিতাকেও করা হয়। লৌকিক পিতাও পারলৌকিক পিতাকে স্মরণ করে। বাস্তবে
স্মরণ করে আত্মা, যে লৌকিক পিতাকেও স্মরণ করে। ওই আত্মা নিজের রূপ, নিজের
অক্যুপেশান সম্বন্ধে জানেনা। আত্মা নিজেকেই জানেনা তো গড ফাদারকে কীভাবে জানবে।
নিজের লৌকিক পিতাকে তো সবাই জানে, তাঁর কাছে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। তা নাহলে
স্মরণ কেন করবে। পারলৌকিক পিতার কাছে নিশ্চয়ই কিছু উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। বলে - ও
গড ফাদার! তাঁর কাছে দয়া, ক্ষমা প্রার্থনা করে কারণ পাপ করতে থাকে। এও ড্রামাতে
নির্দিষ্ট আছে। কিন্তু আত্মার বিষয়ে জানা এবং তারপরে পরমাত্মার পরিচয় জানা, এ হল
কঠিন সাবজেক্ট। সরলের চেয়ে সরল আবার কঠিনের চেয়ে কঠিন। যতই সায়েন্স ইত্যাদি শিখুক,
চাঁদে চলে যাক। তবুও এই নলেজের সামনে সবই তুচ্ছ। নিজেকে এবং বাবার পরিচয় জানা খুব
কঠিন। যে বাচ্চারা নিজেদেরকে ব্রহ্মাকুমার - কুমারী বলে পরিচয় দেয়, তারাও নিজেদেরকে
আত্মা নিশ্চয় করে। আমি আত্মা বিন্দু, আমার পিতাও হলেন বিন্দু - এই কথাটি ভুলে যায়।
এটাই হলো কঠিন সাবজেক্ট। নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করতে ভুলে যায় তখন বাবাকে স্মরণ করতেও
ভুলে যায়। যে আমি আত্মা ভিন্ন-ভিন্ন শরীর ধারণ করে পার্ট প্লে করি, সেই কথা ক্ষণে
ক্ষণে ভুলে যায়।এই হল মুখ্য কথা , বুঝতে হবে। আত্মা ও পরমাত্মার পরিচয়টি ছাড়া বাকি
নলেজ তো সকলের বুদ্ধিতে থাকে। আমরা ৮৪ জন্ম গ্রহণ করি, সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী... হই।
এই চক্র তো খুব সহজ। সবার জন্য বোধগম্য । কিন্তু শুধু চক্রকে জানলে অত লাভ নেই, যত
নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবাকে স্মরণ করলে ততই লাভ হয়। আমি আত্মা হলাম স্টার।
তারপরে বাবাও হলেন স্টার অতি সূক্ষ্ম। তিনি হলেন সদগতি দাতা। তাঁকে স্মরণ করলেই
বিকর্ম বিনাশ হবে। এই রূপ স্মরণ কেউ নিরন্তর করে না। দেহী-অভিমানী হয় না।
ক্ষণে-ক্ষণে এই কথা যেন স্মরণে থাকে আমি হলাম আত্মা। বাবার আদেশ হল আমাকে স্মরণ করো
তো বিকর্ম বিনাশ হবে। আমি হলাম বিন্দু। এখানে এসে পার্টধারী হয়েছি। আমার মধ্যে ৫ টি
বিকারের জং পড়ে গেছে। লৌহ যুগে আছি । এখন স্বর্ণ যুগে যেতে হবে, তাই বাবাকে খুব
ভালোবেসে স্মরণ করতে হবে। এই রূপ বাবাকে স্মরণ করলে মরিচা দূর হবে। এটাই হল পরিশ্রম।
সার্ভিসের কথা তো অনেক বলে। আজ এই সার্ভিস করেছি, অনেকে প্রভাবিত হয়েছে কিন্তু
শিববাবা বোঝেন আত্মা ও পরমাত্মার জ্ঞান পয়েন্টে কিছু প্রভাব পড়েনি। ভারত হেভেন ও
হেল কীভাবে হয়। ৮৪ জন্ম কীভাবে নেয়, সতো রজো তমোতে কীভাবে আসে। শুধু এই কথা শুনে
প্রভাবিত হয়। পরমাত্মা হলেন নিরাকার, এই কথাও বুঝতে পারে। কিন্তু আমি আত্মা, আমার
মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে। বাবা হলেন বিন্দু, তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে।
তাঁকেই স্মরণ করতে হবে। সেই কথা কেউ বুঝতে পারে না। মুখ্য কথা বোঝে না। বিশ্বের
হিস্ট্রি-জিওগ্রাফির নলেজ বাবা এসে দেন। গভর্নমেন্টও চায় যে বিশ্বের
হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি থাকা উচিত। এই কথা তো তার চেয়েও সূক্ষ্ম। আত্মা কি, তাতে কীভাবে
৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে। তাও অবিনাশী। এই কথা স্মরণ করতে হবে, নিজেকে বিন্দু
নিশ্চয় করতে হবে এবং বাবাকে স্মরণ করতে হবে যার দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হবে - এই রূপ
যোগ করতে কেউ রেডি থাকে না। এই রূপ স্মরণে থাকলে তো অনেক লাভলী বা প্রিয় হয়ে যাবে।
এই লক্ষ্মী-নারায়ণ দেখো কতখানি লাভলী। এখানকার মানুষ দেখো কেমন। নিজেরাই বলে আমাদের
মধ্যে কোনো গুণ নেই। আমরা হলাম ম্লেচ্ছ, আপনি হলেন স্বচ্ছ। যখন নিজেকে আত্মা নিশ্চয়
করে বাবাকে স্মরণ করে তখন সফল হবে। তা নাহলে একটু কম সফল হবে। ভাবে আমাদের জ্ঞান
অনেক আছে। বিশ্বের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফির কথা আমরা জানি। কিন্তু যোগের চার্ট লেখে না।
খুব কম যারা এই অবস্থায় থাকে অর্থাৎ নিজেকে আত্মা ভেবে বাবাকে স্মরণ করে। অনেকের তো
প্র্যাক্টিস নেই। বাবা বোঝেন যে বাচ্চারা শুধু জ্ঞানের চক্র বুদ্ধিতে ঘোরায়। কিন্তু
আমি আত্মা, বাবার সঙ্গে আমাকে যোগযুক্ত হয়ে থাকতে হবে, যার দ্বারা লৌহ যুগ থেকে
বেরিয়ে স্বর্ণ যুগে চলে যাবো। আমি আত্মা আমাকে বাবার পরিচয় জানতে হবে, বাবার স্মরণে
থাকতে হবে, এই রূপ প্র্যাক্টিস অনেকেরই কম আছে। যদিও অনেকেই আসে। ভালো-ভালো বলে।
কিন্তু তারা এই কথাটি জানেনা আত্মায় কত জং লেগে আছে। সুন্দর থেকে শ্যাম হয়ে গেছে।
আবার সুন্দর হবে কীভাবে? সে কথা কেউ জানে না। শুধু হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি জানবার কথা
নয়। পবিত্র কীভাবে হবে? দন্ড থেকে বাঁচার উপায় হলো - শুধুমাত্র স্মরণে থাকা। যোগ
ঠিকঠাক না করতে পারলে ধর্মরাজের দন্ড প্রাপ্ত হবে। এই সাবজেক্টটি বিশাল, যা নেওয়া
কারো পক্ষে সম্ভব নয়। জ্ঞানের বিষয়ে নিজেকে সর্ব জ্ঞানী ভেবে নেয়, তাতে কোনো সন্দেহ
নেই। মুখ্য কথা হল যোগের। যোগে অনেকে দুর্বল তাই বাবা বলেন সাবধানে থাকো, শুধুমাত্র
পন্ডিত হয়ো না। আমি আত্মা, পিতাকে স্মরণ করতে হবে। বাবা আদেশ দিয়েছেন - "মন্মনাভব"
। এটা হলো মহামন্ত্র। নিজেকে স্টার নিশ্চয় করে বাবাকেও স্টার ভাবো তারপরে বাবাকে
স্মরণ করো। বাবার কোনো বিরাট রূপ দৃষ্টিতে আসে না। সুতরাং দেহী-অভিমানী হওয়াতেই
পরিশ্রম আছে। বিশ্বের মহারাজা-মহারানী হয় এক, যাদের লক্ষ প্রজা থাকে। প্রজা তো অনেক
তাইনা। হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি জানা সহজ কিন্তু যখন নিজেকে আত্মা ভেবে বাবাকে স্মরণ করবে
তখন পবিত্র হবে। এইরূপ প্র্যাক্টিস করা খুব কঠিন। স্মরণ করতে বসলে অনেক ঝড় বিঘ্ন
সৃষ্টি করবে। কেউ আধা ঘন্টা একরস স্থিতিতে যদি বসে, খুব কঠিন কাজ। ক্ষণে ক্ষণে ভুলে
যাবে। এতেই গুপ্ত রূপে সত্য পরিশ্রম প্রয়োজন আছে। চক্রের রহস্য জানা সহজ। কিন্তু
দেহী-অভিমানী হয়ে বাবাকে স্মরণ করা, সেই কথাটি খুব কম আত্মারাই বোঝে এবং সেইরূপ
অ্যাক্ট করে। বাবার স্মরণের দ্বারা তোমরা পবিত্র হবে। সুস্থ শরীর, দীর্ঘ আয়ু
প্রাপ্ত হবে। শুধু বিশ্বের হিস্ট্রি জিওগ্রাফি বোঝালে মালায় স্থান প্রাপ্ত হবে না।
স্মরণের দ্বারা মালায় স্থান অর্জন করবে। এইরূপ পরিশ্রম কেউ করতে পারে না। তারা
নিজেরাও জানে স্মরণে থাকি না। ভালো-ভালো মহারথীরাও এই বিষয়ে খুব দুর্বল। মুখ্য কথা
হল বোঝাতে পারে না। এই কথাটি যদিও কঠিন কথা। কল্পের আয়ু তারা বিশাল বানিয়ে দিয়েছে।
তোমরা ৫ হাজার বছর প্রমাণ করো। কিন্তু আত্মা-পরমাত্মার রহস্য কিছু জানে না, স্মরণ
করে না তাই অবস্থা স্থির থাকে না। দেহ-অভিমান অনেক আছে। দেহী-অভিমানী হলে তবে মালায়
মণি হতে পারবে। এমন নয় আমরা বিশ্বের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি বোঝাই তাই মালার কাছে এসে
যাব, না। আত্মা খুব সূক্ষ্ম, তাতে ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে। এই কথাটি সর্ব প্রথমে
বুদ্ধিতে বসাতে হবে, তারপরে চক্রকে স্মরণ করতে হবে। মুখ্য কথা হল যোগের। যোগী অবস্থা
চাই। পাপ আত্মা থেকে পুণ্য আত্মায় পরিণত হতে হবে। আত্মা পবিত্র হবে যোগের দ্বারা।
যোগবলের অধিকারী আত্মারাই ধর্মরাজের দন্ডভোগ থেকে বেঁচে যাবে । এই রূপ পরিশ্রম করা
খুব কঠিন তাই খুব কম জন করতে পারে। মায়ার অনেক অনেক তুফান ঝড় আসবে। এটাই হলো গুপ্ত
রূপে প্রতিটি হাড়ে হাড়ে পরিশ্রম করা। লক্ষ্মী-নারায়ণ হওয়া মাসীর বাড়ি নয় (সহজ কথা
নয়)। এইরূপ অভ্যাসে অভ্যাসী হলে চলতে ফিরতে বাবার স্মরণে থাকবে, একেই বলা হয় যোগ।
যদিও এই জ্ঞানের কথা তো ছোট বাচ্চারাও বুঝবে। চিত্রে সমস্ত যুগ ইত্যাদি আঁকা আছে।
এই কথাটি সাধারণ। যখন কোনও কার্য শুরু করা হয় তখন স্বস্তিকা চিত্র বানানো হয়। এই
চিহ্নটি হল সত্যযুগ, ত্রেতা.... যুগের বাকি উপরে ছোট করে আছে সঙ্গমযুগ। সুতরাং
প্রথমে নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবাকে স্মরণ করতে থাকলে তবেই সেই শান্তি
প্রতিষ্ঠিত হবে। যোগের দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হবে। সম্পূর্ণ দুনিয়া এই কথাটি ভুলে গেছে
আত্মা ও পরমাত্মার বিষয়ে, কেউ বলে পরমাত্মা হলেন হাজার সূর্যের চেয়ে আলোকময়, কিন্তু
তা কি করে সম্ভব। একদিকে বলে - আত্মাই সেই পরমাত্মা তাহলে তো দুইজনে এক হয়ে গেল
তাইনা। ছোট বড় কোনো তফাৎ থাকবে না। এই বিষয়েও বোঝাতে হবে। আত্মার রূপ হল বিন্দু।
আত্মাই সেই পরমাত্মা অর্থাৎ পরমাত্মার স্বরূপ হলো বিন্দু, তাইনা। এতে কোনো তফাৎ নেই।
সবাই পরমাত্মা হলে তো সবাই রচয়িতা হয়ে যায়। সকলের সদগতি করেন একমাত্র বাবা। যদিও
প্রত্যেকের নিজস্ব পার্ট রয়েছে। এই কথাটি বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে হবে। বাবা বলেন আমাকে
স্মরণ করো তাহলে কাট বা দাগ মিটে যাবে। এটাই হল পরিশ্রম। এক তো অর্ধকল্প দেহ-অভিমানী
হয়ে ছিলে। সত্যযুগে দেহী-অভিমানী থেকেও বাবার পরিচয় জানবে না। জ্ঞানের কথা জানবে
না। এই সময়ে তোমরা নলেজ প্রাপ্ত কর সেই নলেজ লুপ্ত হয়। সেখানে শুধু এইটুকু জানবে যে
আমরা আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য ধারণ করি। পার্ট প্লে করি। এতে চিন্তার কিছু নেই।
প্রত্যেককে নিজস্ব পার্ট প্লে করতে হবে। কাঁদলে কি হবে? এই কথাটি বোঝানো হয় যদি
বুঝতে পারে তাহলে শান্তি পাবে। নিজেরা বুঝলে অন্যদেরও বোঝাবে। বয়স্ক মানুষ বোঝায়,
কাঁদলে কি ফিরে আসবে। শরীর ত্যাগ করে আত্মা বেরিয়ে গেছে এতে কাঁদবার কিছু নেই।
জ্ঞানহীন অবস্থায় বোধ এমনই ছিল। কিন্তু তারা তো জানে না যে আত্মা ও পরমাত্মা কি
জিনিস। আত্মায় খাদ পড়েছে, তারা তো ভাবে আত্মা হল নির্লিপ্ত। সুতরাং এ'সব হলো
সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কথা। বাবা জানেন অনেক বাচ্চারা স্মরণে থাকে না। শুধু বোঝালে কি হবে।
খুব ভালো অনুভূতি হয়েছে, কিন্তু তাতে তার কল্যাণ হলো না। আত্মা-পরমাত্মার পরিচয়
প্রাপ্ত হলে যথাযথভাবে বুঝবে আমরা তাঁরই সন্তান। বাবা হলেন পতিত-পাবন। এসে আমাদেরকে
দুঃখ থেকে মুক্ত করেন। তিনি হলেন বিন্দু স্বরূপ। অতএব বাবাকে নিরন্তর স্মরণ করতে হবে।
যদিও হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি জানা কোনও বিশেষ কথা নয়। যতই বুঝতে আসুক কিন্তু এই স্থিতিতে
স্থির হয়ে থাকুক যে আমি আত্মা, এতেই পরিশ্রম আছে। আত্মা পরমাত্মার কথা তো তোমাদেরকে
বাবা এসেই বোঝান। সৃষ্টির চক্র তো খুব সহজ। যতখানি সম্ভব উঠতে বসতে দেহী-অভিমানী
থাকার পরিশ্রম করতে হবে। দেহী-অভিমানী খুব শান্ত থাকে। তারা ভাবে আমাদের সাইলেন্সে
যেতে হবে। নিরাকারী দুনিয়ায় গিয়ে বিরাজিত হতে হবে। আমাদের পার্ট এখন পূর্ণ হয়েছে।
তারা বুঝবে বাবার স্বরূপ খুব সূক্ষ্ম। উনি বিশাল লিঙ্গ স্বরূপ নন। বাবা খুবই
সূক্ষ্ম। তিনি নলেজফুল, সর্বজনের সদগতি দাতা। আমি আত্মাও নলেজফুল হচ্ছি। এমন চিন্তন
করলে তবে উচ্চ পদের অধিকারী হবে। দুনিয়ায় কেউ আত্মা ও পরমাত্মার পরিচয় জানে না।
তোমরা ব্রাহ্মণরা এখন
জেনেছো। সন্ন্যাসীরাও জানে না। তারা এসে বুঝবেও না। তারা তো সবাই নিজের নিজের
ধর্মেই আসবে। হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ফিরে যাবে। তোমাদেরই এইরূপ পরিশ্রম করলে বাবার কাছে
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে। এখন পুনরায় দেহী-অভিমানী হতে হবে। হৃদয় তো আছে আত্মাতে
তাইনা। আত্মাকেই বাবার সঙ্গে হৃদয় যুক্ত করতে হবে। হৃদয় শরীরে নেই। শরীরে তো সবই
স্থূল অর্গান আছে। অন্তরকে বাবার সাথে যুক্ত করা - এই কাজটি হলো আত্মার। নিজেকে
আত্মা ভেবে পরমাত্মার সঙ্গে হৃদয়টিকে যোগ করতে হবে। আত্মা খুবই সূক্ষ্ম। আত্মা কত
সূক্ষ্ম, পার্ট প্লে কতখানি করে। এটাই হলো প্রকৃতি। এইটুকু আত্মাতে কতখানি অবিনাশী
পার্ট ভরা থাকে। যা কখনও শেষ হয় না। খুবই সূক্ষ্ম। তোমরা চেষ্টা করলেও কোনো বড়
জিনিস স্মরণে আসবে। আমি আত্মা সূক্ষ্ম স্টার তো বাবাও হলেন সূক্ষ্ম। বাচ্চারা
তোমাদের সর্ব প্রথমে এই পরিশ্রম করতে হবে। এত সূক্ষ্ম আত্মাই এই সময় পতিত হয়েছে।
আত্মাকে পবিত্র করার এই হল উপায়। পড়াশোনা করতে হবে। তারপরে খেলাধুলা তো আলাদা কথা।
খেলা করাও একটি দক্ষতা। পড়াশোনা দ্বারা পদমর্যাদা প্রাপ্ত হয়। খেলাধুলার দ্বারা
পদমর্যাদা প্রাপ্ত হয় না। খেলা ইত্যাদির ডিপার্টমেন্ট আলাদা। তার সঙ্গে জ্ঞান বা
যোগের কানেকশন নেই। এই ভোগ ইত্যাদি অর্পণ করাও হলো এক প্রকারের খেলা। মুখ্য কথা হলো
স্মরণের। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
ধর্ম রাজের দন্ডের থেকে বাঁচার জন্য স্মরণের গুপ্ত পরিশ্রম করতে হবে। পবিত্র হওয়ার
উপায় হলো নিজেকে আত্মা বিন্দু নিশ্চয় করে বিন্দু বাবাকে স্মরণ করা।
২ ) জ্ঞানের ক্ষেত্রে
নিজেকে সর্ব জ্ঞানী ভাববে না, একরস অবস্থা বানানোর প্র্যাক্টিস করতে হবে। বাবার যা
আদেশ সেই আদেশ পালন করতে হবে।
বরদান:-
প্রতিটি
কর্ম করার সময় কমল আসনে বিরাজমান থাকা সহজ বা নিরন্তর যোগী ভব
নিরন্তর যোগযুক্ত
থাকার জন্য কমল পুষ্পের আসনের উপর সদা বিরাজমান থাকো কিন্তু কমল আসনের উপর তারাই
স্থিত থাকতে পারে যারা লাইট থাকে। কোনও প্রকারের বোঝা অর্থাৎ বন্ধন থাকে না। মনের
সংকল্পের বোঝা, সংস্কারের বোঝা, দুনিয়ার বিনাশী জিনিসের প্রতি আকর্ষণের বোঝা, লৌকিক
সম্বন্ধীদের মমতার বোঝা - যখন এইসব বোঝা সমাপ্ত হয়ে যাবে তখন কমল আসনের উপর
বিরাজমান নিরন্তর যোগী হতে পারবে।
স্লোগান:-
সহনশীলতার গুণ ধারণ করে নাও তাহলে অসত্যতার আশ্রয় নিতে হবে না।
অব্যক্ত ঈশারা :-
মহান হওয়ার জন্য মধুরতা আর নম্রতার গুণ ধারণ করো
কারোর সংস্কার সরল আর
মধুর হয়, তো সেই সংস্কার স্বরূপে আসে, যখন সংস্কার বাপদাদার সমান হয়ে যাবে তখন
বাপদাদার স্বরূপ সকলের কাছে প্রত্যক্ষ হবে। যেরকম বাপদাদার গুণ, হুবহু সেইরকম গুণ,
সেই কর্তব্য, সেই বাণী, সেই সংকল্প অনুভব হবে। সকলের মুখ থেকে বেরিয়ে আসবে - একে
দেখে তো শিববাবাই মনে হচ্ছে।