29.04.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
পতিত জগৎ থেকে সম্পর্ক ছেদ করে এক বাবার সাথে বুদ্ধিযোগকে যুক্ত করো, তাহলে মায়ার
কাছে হার হবে না"
প্রশ্নঃ -
সমর্থ (শক্তিশালী)
বাবা সাথে থাকা সত্ত্বেও যজ্ঞে এত বিঘ্ন সৃষ্টি হয় কেন? এর কারণ কী?
উত্তরঃ
এই সব বিঘ্ন
তো ড্রামা অনুসারে পড়তেই হবে, কেননা যজ্ঞে অসুররা বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিল বলেই তো
পাপের ঘড়া ভরেছিল। এতে বাবা কিছু করতে পারেন না, এটা তো ড্রামাতেই রয়েছে। বিঘ্ন
পড়তেই হবে কিন্তু বিঘ্ন দেখে তোমরা ঘাবড়াবে না।
গীতঃ-
মাতা কে আর
পিতা কে....
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা অসীম
জগতের পিতার নির্দেশ (ফরমান) শুনেছে। এই যে এই জগতের যারা মাম্মা আর বাবা রয়েছেন,
তাঁদের সাথে তোমাদের যে সম্বন্ধ, তা হল দেহের সাথে সম্বন্ধ যুক্ত। কেননা সবার প্রথমে
মা তারপর বাবার সাথে সম্বন্ধ যুক্ত হয় তারপর ভাই - বন্ধু ইত্যাদি হয়। তো অসীম
জগতের বাবার কথা হল এটাই, জগতে এই যে মাতা - পিতা রয়েছেন, তাদের সাথে বুদ্ধিযোগকে
ছিন্ন করো। এই জগতের সাথে সম্বন্ধ রেখো না, কারণ এ'সবই হল কলিযুগী ছিঃ ছিঃ সম্বন্ধ।
জগৎ অর্থাৎ দুনিয়া। এই পতিত দুনিয়ার থেকে বুদ্ধির যোগকে ছিন্ন করে একমাত্র আমার সাথে
যুক্ত করো আর তারপর নতুন জগতের সাথে যুক্ত করো। কারণ এখন তোমাকে আমার কাছে আসতে হবে।
কেবল সম্বন্ধ যুক্ত করা, আর কোনো কিছুই নয়। আর কোনো কষ্টই নেই। সম্বন্ধ তারাই
জুড়বে যারা ডায়রেকশন পায়। সত্যযুগে সম্বন্ধ প্রথমে ভালো হয়, সতোপ্রধান। তারপর
নীচে নামতে থাকে। তারপর যে সুখের সম্বন্ধ, সেটা আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকে। এখন তো
একেবারেই এই পুরোনো দুনিয়ার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়। বাবা বলেন আমার সাথে
সম্পর্ক যুক্ত করো। শ্রীমৎ অনুসারে চলো আর যা কিছু দেহের সম্বন্ধ রয়েছে, সে সব
কিছুকে ত্যাগ করো। বিনাশ তো হতেই হবে। বাচ্চারা জানে, বাবা যাকে পরমপিতা পরমাত্মা
বলা হয়, তিনিও ড্রামা অনুসারে সার্ভিস করেন। তিনিও ড্রামার বাঁধনে বাঁধা। মানুষ তো
মনে করে তিনি তো সর্বশক্তিমান। যেমন কৃষ্ণকেও সর্বশক্তিমান মনে করে। তাকে স্বদর্শন
চক্র দিয়ে দিয়েছে। তারা মনে করে তার দ্বারা সে গলা কেটেছিল। কিন্তু এটা তারা বুঝতে
পারে না যে, দেবতারা হিংসার মতো কাজ কীভাবে করবে ? তা তো তারা করতে পারে না ।দেবতাদের
জন্য বলা হয় - অহিংসা পরম ধর্ম ছিল। তাদের মধ্যে হিংসা কোথা থেকে এল ? যার যা মনে
হয়েছে বসে লিখে দিয়েছে। ধর্মের কতই না গ্লানি করেছে। বাবা বলেন, এই সব শাস্ত্র
গুলিতে সত্য তো মাত্র আটাতে যেটুকু লবণ দেওয়া হয় ততটুকুই। এটাও লিখেছে যে, রুদ্র
জ্ঞান যজ্ঞ রচিত হয়েছিল। সেই যজ্ঞে অসুররা বিঘ্ন সৃষ্টি করতো। অবলাদের ওপরে
অত্যাচার হত। সে'কথা তো ঠিকই লেখা হয়েছে। এখন তোমরা বুঝতে পারো যে, শাস্ত্র গুলির
মধ্যে সত্য কতটুকু রয়েছে আর বানানো হয়েছে কতটা। ভগবান নিজে বলেন, এই রুদ্র জ্ঞান
যজ্ঞে বিঘ্ন অবশ্যই আসবে। ড্রামাতেই সেটা রয়েছে। এমন নয় যে পরমাত্মা সাথে রয়েছেন,
তিনিই বিঘ্নকে দূরে সরিয়ে দেবেন। এতে বাবা কী করবেন ! ড্রামাতে রয়েছে যখন তখন তো
হবেই। এই সব বিঘ্ন আসবে তবেই তো পাপের ঘড়া ভরবে, তাই না ! বাবা তোমাদেরকে বোঝান,
ড্রামাতে যেটা রয়েছে, সেটা তো হতেই হবে। অসুররা বিঘ্ন অবশ্যই সৃষ্টি করবে। আমাদের
রাজধানী যে স্থাপন হচ্ছে। আধা কল্প মায়ার রাজ্যে মানুষ কতো তমোপ্রধান বুদ্ধি,
ভ্রষ্টাচারী হয়ে যায়। তারপর তাকে শ্রেষ্ঠাচারী বানানো তো বাবার কাজ, তাই না ! আধা
কল্প লাগে ভ্রষ্টাচারী হতে। তারপর বাবা এক সেকেন্ডে শ্রেষ্ঠাচারী বানান। নিশ্চয় হতে
কী কখনো সময় লাগে ! এমন অনেক ভালো ভালো বাচ্চারা রয়েছে, যাদের সাথে সাথে নিশ্চয়
হয়ে যায়, সেই মুহূর্তেই প্রতিজ্ঞা করে। কিন্তু মায়াও তো কম পালোয়ান না। মনের
মধ্যে কিছু না কিছু ঝড় ঝঞ্ঝার সৃষ্টি করবেই। পুরুষার্থ করতে হবে যে সে'সব যেন
কর্মণাতে না আসে। সকলেই পুরুষার্থ করছে। কর্মাতীত অবস্থা এখনও হয়নি। তাই
কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারা কিছু না কিছু হয়ে যায় ।কর্মাতীত অবস্থা পর্যন্ত পৌঁছানোর
পথে বিঘ্ন তো অবশ্যই আসবে। বাবা তোমাদেরকে বুঝিয়েছেন - পুরুষার্থ করতে করতে শেষে
গিয়ে কর্মাতীত অবস্থা হয়, তখন তো এই শরীর আর থাকবে না। সেইজন্য সময় লাগে । কিছু
না কিছু বিঘ্ন পড়বেই। কখনো কখনো মায়া হারিয়েও দেয়। বক্সিং যে। চায় যে বাবার
স্মরণে থাকি, কিন্তু থাকতে পারে না । অল্প বিস্তর যেটুকু সময় এখনও বাকি রয়েছে,
ধীরে ধীরে সেই অবস্থাকে ধারণ করতে হবে। জন্মানোর সাথে সাথেই তো কেউ রাজা হয়ে যায়
না । ছোট বাচ্চা ধীরে ধীরে তো বড় হবে, এতে তো টাইম লাগে। এখন তো সময় আর অল্পই বাকি
রয়েছে। সব কিছুই পুরুষার্থের ওপরেই নির্ভর করছে। অ্যাটেনশন দিতে হবে, যেভাবেই হোক
আমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার অবশ্যই নেবো। মায়ার সাথে মোকাবিলাও অবশ্যই করবো।
মায়াও তো কম নয়। বাবা বলেন, বাচ্চারা তোমাদেরকে আমি এখন বোঝাচ্ছি। বাবার দ্বারাই
তোমরা সদগতি পেয়ে থাকো। তারপর এই জ্ঞানের আর দরকারই থাকে না। জ্ঞানের দ্বারা সদ্গতি
হয়ে যায়। সদ্গতি বলা হয় সত্যযুগকে।
তো মিষ্টি মিষ্টি
বাচ্চাদের এখন এই লক্ষ্য প্রাপ্ত হয়েছে। বাচ্চারা এও জানে যে, ড্রামা অনুসারে
সৃষ্টি রূপী বৃক্ষ বড় হতে টাইম তো লাগবেই। বিঘ্ন তো অনেক পড়ে। চেঞ্জ তো হতে হয়।
কড়ি থেকে হীরের মতো হয়ে উঠতে হয়। রাত দিনের প্রভেদ হয়ে যায়। দেবতাদের মন্দির
এখনও পর্যন্ত তৈরী করে যাচ্ছে। তোমরা ব্রাহ্মণরা এখন মন্দির বানাবে না, কারণ সেটা
হল ভক্তি মার্গ। দুনিয়া এখন জানে না যে, ভক্তি মার্গ সমাপ্ত হয়ে এখন জ্ঞান মার্গ
জিন্দাবাদ হবে। সে'কথা কেবল তোমরা বাচ্চারাই জানো। মানুষ তো মনে করে কলিযুগ এখন
শৈশবে। তাদের সব কিছুই হল শাস্ত্র কেন্দ্রিক। বাবা বসে বাচ্চারা তোমাদেরকে সকল
বেদের শাস্ত্রের রহস্যকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বাবা বলেন, এখনও পর্যন্ত তোমরা যা কিছু
পড়েছো, সে' সব ভুলে যাও। তার দ্বারা কারও সদ্গতি হয় না। হ্যাঁ কেবল স্বল্প কালের
জন্য একটু সুখ পাওয়া যায়। সদাই সুখই সুখ পাওয়া যায়, এমন হবে না। এ' সব হল ক্ষণ
ভঙ্গুর সুখ। মানুষ দুঃখের মধ্যে থাকে, তারা এটা জানে না যে সত্যযুগে দুঃখের নামও
থাকে না। মানুষ তো সেখানকার বিষয়ে বলে থাকে যে, সেখানে কৃষ্ণপুরীতে কংস ছিল, এই ছিল
ঐ ছিল...। কৃষ্ণের জন্ম কারাগারে হয়েছিল। নানান কথা লিখে দিয়েছে। কৃষ্ণ তো হল
স্বর্গের প্রথম প্রিন্স, সে কী কোনো পাপ করেছিল ? এসব হল গল্প গাঁথা। এ সবের সত্যতা
তোমরাই এখন বুঝতে পারো যখন বাবা তোমাদেরকে সত্যটা বলেন। বাবা-ই এসে সত্যখন্ড স্থাপন
করেন। সত্যখন্ডে কতই না সুখ ছিল, মিথ্যাখন্ডে কতো দুঃখ। এ'সব মানুষ ভুলে গেছে। তোমরা
জানো যে আমরা শ্রীমতের আধারে সত্যখন্ড স্থাপন করে তার মালিক হবো।
বাবা বাচ্চাদেরকে
বোঝান, এইভাবে এইভাবে শ্রীমৎ অনুসারে চললে তোমার উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে।
বাচ্চারা এটা জানে যে, আমাদেরকে এই ঈশ্বরীয় পড়াশোনা করে সূর্যবংশী মহারাজা মহারানী
হতে হবে। সকলের মনের ইচ্ছা তো এটাই থাকে উচ্চ পদ পাওয়ার। সকলে তার জন্য পুরুষার্থ
করে। প্রকৃত ভক্ত যেখানেই যাবে সাথে করে তার প্রভুর ছবি বা মূর্তি নেবেই আর বারেবারে
তার ইষ্টকে স্মরণ করবে। বাবাও বলেন, ত্রিমূর্তির ছবি তোমরা সাথে রাখলে বারেবারে
স্মরণে আসবে। বাবার দ্বারা আমরা সূর্যবংশী ঘরানাতে যাব । ভোর বেলা উঠেই চোখ সেদিকেই
পড়বে। এও একপ্রকারের পুরুষার্থ। বাবা মত দেন যে - ভালো ভালো ভক্তরা পুরুষার্থ করে।
চোখ খুললেই যাতে কৃষ্ণের কথা স্মরণে আসে। সেইজন্য ছবি সামনে রাখে। তোমাদের জন্য তো
আরও সহজ। যদি সহজে স্মরণে না আসে, মায়া হয়রান করে, তখন এই ছবি সাহায্য করবে।
শিববাবা আমাদেরকে ব্রহ্মার দ্বারা বিষ্ণুপুরীর মালিক বানাচ্ছেন। আমরা বাবার দ্বারা
বিশ্বের মালিক হতে চলেছি। এইভাবে স্মরণ করলেও অনেক সাহায্য হবে । যে বাচ্চারা মনে
করে যে মাঝে মাঝেই স্মরণ করতে ভুল হয়ে যায়, তাদের উদ্দেশ্য বাবার রায় হল, চিত্র
সামনে রেখে দাও, তাহলে বাবা এবং উত্তরাধিকার দুই'ই স্মরণে আসবে। কিন্তু ব্রহ্মাকে
স্মরণ করতে হবে না। বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক হয়ে গেলে তখন কি আর কেউ দালালকে স্মরণ করে?
তোমরা বাবাকে খুব ভালো করে স্মরণ করলে বাবাও তোমাদেরকে স্মরণ করবেন। স্মরণের
দ্বারাই স্মরণ প্রাপ্ত হয় । এখন তোমরা তোমাদের প্রিয়তমের অ্যকুপেশনকে জানো। শিবের
তো অনেক ভক্ত। শিব - শিব বলতেই থাকে। কিন্তু সেটা তো হল ভুল - শিবকাশী, বিশ্বনাথ
তারপরে গঙ্গা বলে দেয়। জলের ধারে গিয়ে বসে পড়ে। এটা বোঝে না যে, জ্ঞানের সাগর
হলেন বাবা। বেনারসে অনেক ফরেনার্স আসে দেখার জন্য। বড় বড় ঘাট রয়েছে সেখানে, তবুও
বাবার মন্দির তাদেরকে আকৃষ্ট করে। সবাই ওঁনার কাছে যায়। মন্দির তো কারো কাছে যাবে
না। মন্দিরের দেবতাই আকৃষ্ট করে। শিববাবার আকর্ষণও আকৃষ্ট করে তাদেরকে। নম্বর ওয়ান
হলেন শিববাবা তারপর সেকেন্ড নম্বরে হলেন এই ব্রহ্মা, সরস্বতী তথা বিষ্ণু। বিষ্ণু তথা
ব্রহ্মা। ব্রাহ্মণ তথা বিষ্ণুপুরীর দেবতারা। বিষ্ণুপুরীর দেবতারা তথা ব্রাহ্মণ ।
এখন তোমাদের কাজই হল এটা - আমরাই ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হচ্ছি, তাহলে অন্যদেরকেও তার
রাস্তা বলে দিতে হবে। অন্যরা তো জঙ্গলের পথ দেখায়। কিন্তু তোমাদেরকে জঙ্গল থেকে
বের করে বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। শিববাবা এসে কাঁটার থেকে ফুলে পরিণত করেন। তোমরাও
এই কাজ করে থাকো। এই সব বিষয় একমাত্র তোমরাই জানো। কোনো রাজারানী তো নেই যে তাদেরকে
তোমরা বোঝাবে। কথিত আছে, পান্ডবদের তিন পা পৃথিবীও মিলছিল না। শক্তিশালী বাবা তাদের
সাথে ছিলেন, তাই তাদেরকে বিশ্বের বাদশাহী প্রাপ্ত করান। এখনও সেই পার্টটাই প্লে হবে,
তাই না ! বাবা হলেন গুপ্ত । কৃষ্ণের উপরে তো কোনো বিঘ্ন আসতে পারে না। এখন বাবা
এসেছেন । বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে। তার জন্য পরিশ্রম করতে হয় ।
প্রতিদিন নতুন নতুন পয়েন্ট আসতে থাকে। দেখা গেছে যে, প্রদর্শনীতে ভালো প্রভাব পড়ে।
বুদ্ধি বের করে দেখতে হবে যে প্রদর্শনীর দ্বারা ভালো প্রভাব পড়ে নাকি প্রজেক্টরের
দ্বারা? প্রদর্শনীতে বোঝালে চেহারা দেখে বোঝা যেতে পারে। যখন বুঝতে পারে যে, গীতার
ভগবান হলেন শিববাবা, তখন বাবার থেকে উত্তরাধিকার নেওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে । তার
জন্য ৭ দিন দিতে হবে। এ'কথা লিখে দাও। নাহলে বাইরে গেলেই মায়া সব ভুলিয়ে দেবে।
তোমাদের বুদ্ধিতে এসে গেছে - আমরা ৮৪ র চক্র পরিক্রমা করেছি, এখন আমাদেরকে ফিরে যেতে
হবে। তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে হবে। এই চিত্র তো অবশ্যই সাথে থাকা চাই। খুব ভালো
চিত্র। বিড়লাদের মতো যারা বিত্তশালীরা আছেন, তারাও জানেন না যে, এই লক্ষ্মী নারায়ণ
এই রাজ্য ভাগ্য কখন আর কীভাবে প্রাপ্ত করেছিলেন। তোমরা জানলে, তোমাদের তো অত্যন্ত
খুশী হওয়ার কথা। লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র সাথে নিয়েই সাথে সাথেই কাউকে বোঝাতে পারবে
যে এনারা এই পদ কীভাবে পেয়েছিলেন। এই সব কথা বুদ্ধি দিয়ে বোঝার এবং অন্যদেরকে
বোঝানোর মতো। লক্ষ্য তোমাদের অনেক উচ্চ। যে যেমন টিচার সে তেমন সার্ভিস করে থাকে।
কে কে কোন্ কোন্ সেন্টারকে কীভাবে সামলাচ্ছেন নিজের নিজের স্থিতি অনুযায়ী, বাবা সেটা
দেখেন। নেশা তো সকলের রয়েছে। কিন্তু বিবেক বলে, যে বোঝাবে সে যত সুবুদ্ধিসম্পন্ন
হবে, সে সেবাও তত ভালো করবে। সবাই তো সুচতুর হতে পারে না। সব জায়গার জন্য এক রকম
টিচার তো হওয়া সম্ভব নয়। কল্প পূর্বে যেমন ঢলেছিল তেমনই চলছে। বাবা বলেন, তোমরা
তোমাদের অবস্থাকে স্থির করার পুরুষার্থ করে যাও। এ হল কল্প কল্পের ব্যাপার। এটাই
দেখা যায় যে, কল্প পূর্বের মতোই প্রত্যেকের পুরুষার্থ চলছে। যা কিছুই ঘটে, আমরা বলে
থাকি কল্প পূর্বেও এমন ঘটেছিল। তাতে মনে খুশীও বজায় থাকে, শান্তিও । বাবা বলেন,
কর্ম করবার সময় বাবাকে স্মরণ করতে করতে কাজ করো। বুদ্ধির যোগ সেখানে (বাবার সাথে)
ঝুলে থাকলে অনেক অনেক কল্যাণ হবে। যে করবে সে-ই পাবে। ভালো করলে ভালো পাবে। মায়ার
মতে চলে সবাই খারাপই করে এসেছে। এখন (তোমাদের) প্রাপ্ত হয় শ্রীমৎ ।ভালো করলে ভালোই
হবে। প্রত্যেকে নিজের জন্যই পরিশ্রম করে। যেমন করবে তেমনই পাবে। তাহলে কেন না আমরা
বাবার সাথে যোগ যুক্ত হয়ে সার্ভিস করতে থাকি। যোগের দ্বারা আয়ু বৃদ্ধি পাবে।
স্মরণের যাত্রার দ্বারা যদি নিরোগী হতে হয় তবে কেন না আমরা বাবার স্মরণে থাকি !
যথার্থ হলে কেননা আমরা চেষ্টা করি। জ্ঞান তো একেবারেই সহজ। ছোট বাচ্চারাও নিজেরা
বুঝে যায় আর বোঝায়ও। কিন্তু তাতে তো যোগী হয়ে গেল না। এটা পাকা করাতে হবে যে,
স্মরণ করো। যারা মনে করে যে মাঝে মাঝেই স্মরণ করতে মনে থাকে না, তারা চিত্র কাছে
রাখো, সেটাও ভালো। ভোর বেলায় ছবি দেখেই মনে পড়ে যাবে যে, শিববাবার থেকে আমরা
বিষ্ণুপুরীর উত্তরাধিকার নিচ্ছি। এই ত্রিমূর্তি'র চিত্রই হলো প্রধান। যার অর্থ তো
তোমরা এখন বুঝেছো। দুনিয়াতে এমন ত্রিমূর্তির চিত্র আর কারো কাছেই নেই। এ তো
একেবারেই সহজ। আমরা লিখি বা না লিখি, এটা তো সবাই জানে যে, ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপন,
বিষ্ণুর দ্বারা পালন। আচ্ছা।
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
মায়ার বক্সিং এ কখনো যেন তোমাদের হার না হয় - এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কল্প
পূর্বের স্মৃতির দ্বারা নিজের অবস্থাকে মজবুত করতে হবে। খুশীতে আর শান্তিতে থাকতে
হবে।
২ ) নিজের ভালোর জন্য
শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে । এই পুরোনো দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। মায়ার
ঝড় থেকে বাঁচার জন্য চিত্রকে কাছে রেখে বাবা আর উত্তরাধিকারকে স্মরণে রাখতে হবে।
বরদান:-
মনন
দ্বারা বাবার প্রপার্টিকে নিজের প্রপার্টি করে তোলা দিব্য বুদ্ধিমান ভব
বাবার কাছ থেকে যা
কিছু খাজানা পাওয়া যায় যদি সেগুলো নিয়ে মনন করো ,তাহলেই অন্তরে গেঁথে যাবে।
প্রপার্টি তো সকলেই সমানভাবে পেয়েছে ,কিন্তু যারা মননের মাধ্যমে সেগুলো নিজের করে
নেয় তারাই তার প্রকৃত আনন্দ আর নেশা অনুভব করে। সেইজন্যই বলা হয় - নিজেরটা নিজে
ঘুটলেই তবে নেশা চড়ে ( নিজের চেষ্টায় আত্মস্থ করলেই ফল পাওয়া যায়)। যারা সবসময় এই
মননের আনন্দেই মগ্ন থাকে তাদের দুনিয়ার কোনো জিনিস, ঝঞ্ঝাট আকর্ষণ করতে পারে না।
তারা স্বাভাবিকভাবেই দিব্যবুদ্ধির বরদান লাভ করে।
স্লোগান:-
মনের
বিভ্রান্তি সমাপ্ত করার জন্য নির্ণয় শক্তিকে বৃদ্ধি করো।
অব্যক্ত ইশারা :-
মহান হওয়ার জন্য মধুরতা এবং নম্রতার গুণ ধারণ করো
এমনটা কখনও মনে করবে
না যে আমরা তো সবসময় নত হই কিন্তু আমাদের কোনো মান নেই , আর যারা মাথা নত করে না,
মিথ্যা বলে তাদেরই বেশি প্রতিপত্তি (মান)। সেটা নয়। এটা কেবল অল্প সময়ের জন্য,
কিন্তু তোমরা দূরদর্শী বুদ্ধি রাখো, এখানে যত বেশি নত হবে অর্থাৎ নম্রতার গুণ ধারণ
করবে, তো সম্পূর্ণ কল্প জুড়েই সমস্ত আত্মা তোমাদের সামনে নমস্কার জানাবে। সত্যযুগ
ত্রেতায় রাজাদের সম্মানে কাঁধ নিচু করে নয় বরং মন থেকে নত হবে এবং দ্বাপর কলিযুগে
ঘাড় নিচু করবে।