30.11.2024 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - সন (পুত্র) শো'জ ফাদার, মনমতকে ছেড়ে শ্রীমতানুসারে চলো তবেই বাবাকে শো (প্রত্যক্ষ) করাতে পারবে"

প্রশ্নঃ -
বাবা কোন্ বাচ্চাদের রক্ষা অবশ্যই করেন?

উত্তরঃ  
যে বাচ্চারা সৎ, তাদের রক্ষা অবশ্যই হয়। যদি রক্ষা না হয় তো অন্তরে নিশ্চয়ই কিছু মিথ্যা আছে। পড়াশোনা মিস্ করা, সংশয়ে আসা মানে ভিতরে কিছু না কিছু মিথ্যা আছে। মায়া তাদেরকে ল্যাং মেরে দেয় ।

প্রশ্নঃ -
কোন্ বাচ্চাদের জন্য মায়া হলো চুম্বক ?

উত্তরঃ -
যে মায়ার সৌন্দর্য দেখে আকৃষ্ট হয়ে যায়, তাদের জন্য মায়া হলো চুম্বক। যে বাচ্চারা শ্রীমতানুসারে চলে তারা আকৃষ্ট হবে না ।

ওম্ শান্তি ।
আত্মিক পিতা বসে আত্মারূপী বাচ্চাদের বোঝান, এই কথা তো বাচ্চারা নিশ্চয় করেছে আত্মিক পিতা আমাদের অর্থাৎ আত্মারূপী বাচ্চাদের পড়ান। যার জন্য বলা হয়ে থাকে - আত্মা ও পরমাত্মা আলাদা রয়েছে বহুকাল.... মূলবতনে কিন্তু আলাদা থাকে না। সেখানে তো সবাই একত্রে থাকে। আলাদা থাকে অর্থাৎ নিশ্চয়ই আত্মারা সেখান থেকে দূরে চলে যায়। এখানে এসে নিজের-নিজের পার্ট প্লে করে। সতোপ্রধান স্টেজ থেকে নেমে-নেমে তমোপ্রধান হয়। আহ্বান করে পতিত-পাবন এসে আমাদের পবিত্র করো। বাবাও বলেন, আমি প্রতি ৫ হাজার বছর পরে আসি। এই সৃষ্টির চক্র-ই হল ৫ হাজার বছরের। আগে তোমরা এই কথা কিছু জানতে না। শিববাবা বোঝান, অবশ্যই দেহের আধার নিয়েই বোঝাবেন। উপর থেকে কোনও আকাশবাণী তো করবেন না, তাইনা। শক্তি বা প্রেরণা ইত্যাদির কোনও ব্যাপার নেই। তোমরা হলে আত্মা, শরীরে এসে কথাবার্তা বলো। তেমনই বাবাও বলেন আমিও শরীর দ্বারা ডাইরেকশন দিয়ে থাকি। তারপরে সেই মতন যে যেরকম চলে, নিজেরই কল্যাণ করে। শ্রীমতানুসারে চলে বা না চলে, টিচারের কথা শোনে বা না শোনে, নিজের জন্যই কল্যাণ বা অকল্যাণ করে। পড়া না করলে নিশ্চয়ই ফেল করবে। এই কথাও বোঝানো হয় শিববাবার কাছে শিক্ষা নিয়ে অন্যদেরও শেখাতে হবে। ফাদার শো'জ সন। এখানে দেহের পিতার কথা বলা হচ্ছে না। ইনি হলেন আত্মিক পিতা। এই কথাও তোমরা বোঝো আমরা যত শ্রীমৎ অনুসারে চলবো, ততই অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবো। সম্পূর্ণ যারা চলবে তারা উঁচু পদ প্রাপ্ত করবে। না চললে উঁচু পদের প্রাপ্তি হবে না। বাবা তো বলেন, আমাকে স্মরণ করো, তবেই তোমাদের পাপ বিনষ্ট হবে। রাবণ রাজ্যে তোমাদের উপরে পাপের বোঝা অনেক আছে। বিকারগ্রস্ত হয়েই পাপ আত্মায় পরিণত হয়। পুণ্য আত্মা ও পাপ আত্মা অবশ্যই হয়। পুণ্য আত্মাদের সামনে পাপ আত্মারা মাথা নোয়ায়। মানুষের এই কথা জানা নেই যে, দেবতারা হলেন পুণ্য আত্মা, তারা-ই পুনরায় পুনর্জন্ম নিয়ে পাপ আত্মায় পরিণত হয়। মানুষ তো ভাবে দেবতারা সর্বদাই পুণ্য আত্মা থাকেন। বাবা বোঝান, পুনর্জন্ম নিয়ে সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান স্থিতি পর্যন্ত আসে। যখন সম্পূর্ণ পাপ আত্মায় পরিণত হয়, তখন বাবাকে আহ্বান করে থাকে। যখন পুণ্য আত্মা থাকে, তখন বাবাকে স্মরণ করার দরকার পড়ে না। অতএব এইসব কথা বাচ্চারা, তোমাদের বোঝাতে হবে, সার্ভিস করতে হবে। বাবা তো গিয়ে সবাইকে শোনাবেন না। বাচ্চারা সার্ভিস করার উপযুক্ত হলে বাচ্চাদেরই যাওয়া উচিত। মানুষ তো দিন দিন অসুর হয়ে যাচ্ছে। পরিচয় না থাকার দরুন ভুল কথা বলতেও দ্বিধা করে না। মানুষ বলে গীতার ভগবান হলেন শ্রীকৃষ্ণ। তোমরা বোঝাও তিনি তো হলেন দেহধারী, তাঁকে দেবতা বলা হয়। কৃষ্ণকে বাবা বলা হবে না। এরা সবাই তো বাবাকে স্মরণ করে, তাইনা। আত্মাদের বাবা তো দ্বিতীয় কেউ নয়। এই প্রজাপিতা ব্রহ্মাও বলেন - নিরাকার বাবাকে (শিববাবাকে) স্মরণ করতে হবে। ইনি তো হলেন সাকারী পিতা। বোঝানো তো হয় অনেক, অনেকে পুরোপুরি না বুঝে উল্টো পথে চলে জঙ্গলে পৌঁছে যায়। বাবা তো পথ বলে দেন স্বর্গে যাওয়ার। তবুও জঙ্গলের দিকে চলে যায়। বাবা বোঝান, তোমাদের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায় - রাবণ। তোমরা মায়ার কাছে পরাজিত হও। পথ ভুলে আবার সেই জঙ্গলের কাঁটায় পরিণত হও। তারা স্বর্গে আসবে, কিন্তু দেরিতে। এখানে তোমরা এসেছ স্বর্গে যাওয়ার পুরুষার্থ করতে। ত্রেতাকে স্বর্গ বলা হবে না। ২৫ শতাংশ কম হয়ে যায় কিনা। তাকে ফেল ধরে নেওয়া হয়। তোমরা এখানে এসেছ পুরানো দুনিয়া ত্যাগ করে নতুন দুনিয়ায় যেতে। ত্রেতাকে নতুন দুনিয়া বলা হবে না। যারা ফেল হয় তারা সেখানে যায় কারণ সঠিক পথ অনুসরণ করে না। নীচে-উপরে হতে থাকে। তোমরা অনুভব করে থাকো স্মরণ যেরকম হওয়া উচিত সেরকম থাকে না। যারা স্বর্গবাসী হয় তাদের বলা হবে সম্পূর্ণ পাস। ত্রেতাবাসীদের ফেল বলা হবে। তোমরা নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসী হও। তা নাহলে ফেল বলা হয়। জাগতিক দুনিয়ার পড়াশোনা তো দ্বিতীয়বার পড়া যায়। এতে দ্বিতীয় বছর পড়ার ব্যাপার নেই। জন্ম-জন্মান্তর, কল্প-কল্পান্তর এই একই পরীক্ষা পাস করতে হয় যা কল্প পূর্বে করেছ। এই ড্রামার রহস্যটি ভালো ভাবে বোঝা উচিত। অনেকে ভাবে আমরা চলতে পারবো না। বৃদ্ধ মানুষ হাত ধরে চালালে চলবে, নয়তো পড়ে যাবে। কিন্তু ভাগ্যে না থাকলে যতই জোর দাও ফুলে পরিণত করার, কিন্তু ফুল তৈরি হয় না। ধুতরা ফুলও তো ফুল। কাঁটা তো বিঁধে যায়।

বাবা কত বোঝান। কাল তোমরা যে শিবের পূজা করতে তিনিই আজ তোমাদের পড়াচ্ছেন। সব কথায় পুরুষার্থ করতেই জোর দিয়ে বলা হয়। দেখা যায় - মায়া ভালো ভালো ফুল স্বরূপ বাচ্চাদের নীচে ফেলে দেয়। হাড় ভেঙে দেয়, ফলে তাদের ট্রেটর বলা হয়। যে এক রাজধানী ছেড়ে অন্যতে চলে যায় তাদের ট্রেটর বলা হয়। বাবাও বলেন আমার কাছের জন হয়ে মায়ার কাছে ফিরে গেলে তাদেরও ট্রেটর বলা হয়। তাদের চাল চলন এমনই হয়ে যায়। এখন বাবা মায়ার কবল থেকে মুক্ত করতে এসেছেন। বাচ্চারা বলে - মায়া হল খুব প্রখর, নিজের দিকে টেনে নেয়। মায়া এমন যেন চুম্বক। এই সময় চুম্বকের রূপ ধারণ করে। দুনিয়ায় কত সৌন্দর্য বেড়ে গেছে। আগেকার সময়ে এই বাইস্কোপ ইত্যাদির কি চল ছিল নাকি। এইসব ১০০ বছরে আবিস্কার হয়েছে। বাবা তো হলেন অনুভাবী, তাইনা। সুতরাং বাচ্চাদের এই ড্রামার গুহ্য রহস্য ভালো ভাবে বোঝা উচিত, প্রতিটি বিষয় সঠিকভাবে নির্দিষ্ট রয়েছে । একশো' বছরে এ যেন স্বর্গে পরিণত হয়েছে, অপোজিশনের জন্য। তখন বোঝা যায় - এবারে স্বর্গের আগমন খুব শীঘ্রই হওয়ার আছে। সায়েন্সও অনেক কাজে লাগে। সায়েন্স তো হলো খুব সুখ প্রদানকারী। সেই সুখ যাতে স্থায়ী হয় তার জন্য পুরানো দুনিয়ার বিনাশও হতে হবে। সত্যযুগের সুখ রয়েছে ভারতের ভাগ্যে। তারা তো আসেই পরে, যখন ভক্তিমার্গ শুরু হয়, যখন ভারতবাসীর পতন হয় তখন অন্য ধর্মের মানুষ নম্বর অনুসারে আসে। ভারত নীচে নামতে নামতে একবারে পতনের শেষ অধ্যায়ে এসে পড়েছে। পুনরায় উপরে উঠতে হবে। এখানেও উপরে ওঠে, নীচে নামে। কতবার যে পড়ে, তার ঠিক নেই। কেউ তো স্বীকার-ই করে না যে বাবা আমাদের পড়ান। ভালো সার্ভিসেবল বাচ্চারা, যাদের বাবা মহিমা করেন, তারাও মায়ার বশে বশীভূত হয়ে পড়ে। এমন যেন কুস্তির খেলা। মায়াও এমনভাবে লড়াই করে যে পুরো নীচে ফেলে দেয়। ভবিষ্যতে তোমরা বাচ্চারা সবই জানতে পারবে। মায়া পুরোপুরি শুইয়ে দেয়। তবুও বাবা বলেন একবার যদি কেউ জ্ঞান শোনে, তো স্বর্গে অবশ্যই আসবে। যদিও পদমর্যাদা কিছুই প্রাপ্ত হবে না। কল্প পূর্বে যে যেরকম পুরুষার্থ করেছে বা পুরুষার্থ করতে করতে পতিত হয়েছে তেমনই এখনও নীচে নামতে থাকে ও উপরে উঠতে থাকে। হার ও জিৎ আছে, তাইনা। সমস্ত কিছু নির্ভর করছে বাচ্চাদের স্মরণের উপরে। বাচ্চারা এই অসীম খাজানা প্রাপ্ত করেছে। তাদের তো লক্ষ টাকার দেউলিয়া হয়। কেউ লক্ষপতি অর্থাৎ ধনবান হয়, তাও এক জন্মের জন্য। দ্বিতীয় জন্মে কি তত ধন থাকবে নাকি। কর্মভোগও অনেক আছে। স্বর্গে কর্ম ভোগের কোনও কথা নেই। এই সময় তোমরা ২১ জন্মের জন্য কতখানি জমা করো। যারা সম্পূর্ণ পুরুষার্থ করে, পুরো স্বর্গ লাভের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে। বুদ্ধিতে থাকা উচিত আমরা যথাযথভাবে স্বর্গের অধিকার প্রাপ্ত করি। এই চিন্তন করবে না যে আবার নীচে পতন হবে। ইনি সবচেয়ে নীচে নামেন এখন পুনরায় উপরে উঠতেই হবে। অটোমেটিক্যালি পুরুষার্থও হতে থাকে। বাবা বোঝান - দেখো, মায়া কতখানি প্রখর। মানুষের বুদ্ধিতে কত অজ্ঞানতা ভরে আছে, অজ্ঞানতার কারণে বাবাকেও সর্বব্যাপী বলে দেন। ভারত কত ফার্স্টক্লাস ছিল। তোমরা বুঝতে পারো আমরা এমন ছিলাম, এখন আবার অমন হচ্ছি। এই দেবতাদের কত মহিমা বর্ণনা হয়, কিন্তু তাদেরকে কেউই জানে না, তোমরা বাচ্চারা ছাড়া। তোমরাই জানো অসীম জগতের পিতা জ্ঞান সাগর এসে আমাদের পড়ান, তবু মায়া অনেককে সংশয়ে নিয়ে আসে। মিথ্যা কপট ছাড়ে না। তখন বাবা বলেন - নিজের প্রকৃত সত্য চার্ট লেখো। কিন্তু দেহ-অভিমান থাকার কারণে সত্য বলতে পারে না। তখন সেসবও বিকর্ম হয়ে যায়। সত্য বলা উচিত, তাইনা। নাহলে অনেক দন্ড ভোগ করতে হয়। গর্ভ রূপী জেলেও অনেক সাজা প্রাপ্ত হয়। তখন বলে, তওবা-তওবা... আমরা আর এমন কাজ করবো না। যখন কেউ দন্ড প্রাপ্ত করে তখনও এমন করেই ক্ষমা প্রার্থনা করে। সাজা মিললেও এমন করে। এখন তোমরা বাচ্চারা বুঝেছ মায়ার রাজ্য কবে থেকে শুরু হয়েছে। পাপ কর্ম করতেই থাকে। বাবা দেখেন - এরা এত মিষ্টি এত কোমল হয় না। বাবা কতখানি কোমল শিশুর মতন, কারণ ড্রামা অনুসারে চলতে থাকেন। বলবেন যা হচ্ছে ড্রামার ভবিতব্য। বুঝিয়েও দেন যে, ভবিষ্যতে এমন আর যেন না হয়। বাপদাদা একত্রে আছেন তাইনা। ব্রহ্মাবাবার নিজস্ব মতামত আছে, ঈশ্বরের আছে তাঁর নিজস্ব মত। বুঝতে হয় যে এই মতটি কে দিলেন? ইনিও তো পিতা তাইনা। পিতার কথা তো অমান্য করতে নেই। বাবা হলেন বরিষ্ঠ, তাই বাবা বলেন এমন ভাবো যে শিববাবা বোঝাচ্ছেন। না বুঝলে পদ প্রাপ্তিও হবে না। ড্রামার প্ল্যান অনুযায়ী বাবাও আছেন, দাদা অর্থাৎ ব্রহ্মা বাবাও আছেন। বাবার শ্রীমৎ প্রাপ্ত হয়। মায়া এমন যে মহাবীর, যোদ্ধাদের দিয়েও কোনও না কোনো উল্টো কর্ম করিয়ে দেয়। তখন বুঝে নেওয়া হয় বাবার মতানুযায়ী চলে না। নিজেরাও অনুভব করে, আমি অসুরী মতে চলি। শ্রীমৎ প্রদানকারী বাবা এসে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁরই হলো ঈশ্বরীয় মত। শিববাবা নিজে বলেন এনার (ব্রহ্মাবাবার) এমন কোনো মত যদি প্রাপ্ত হয় সেই মতামত ঠিক করার জন্যও আমি বসে আছি। আমি তো এই রথ ধারণ করেছি তাইনা। আমি এই রথ টি ধারণ করি তাই তো ইনি (ব্রহ্মাবাবা) কটু কথা (গালাগালি) শোনেন। তা নাহলে কখনও কটু কথা শোনেননি। আমার জন্য কত কথা শুনতে হয়েছে। তাই এনার রক্ষণাবেক্ষণও করতে হয়। বাবা নিশ্চয়ই রক্ষা করেন। যেমনভাবে পিতা সন্তানদের রক্ষা করেন তাইনা। যত সত্যের পথে চলবে ততই রক্ষা হয়। মিথ্যার আশ্রয় নিলে রক্ষা হয় না। তাদের জন্য তো দন্ড নির্দিষ্ট থাকে। তাই বাবা বোঝান - মায়া তো নাক দিয়ে ধরে অর্থাৎ সম্পূর্ণ বশ করে শেষ করে দেয়। বাচ্চারা নিজেরা ফিল করে মায়া গ্রাস করে তখন পড়াশোনা মিস হয়ে যায়। বাবা বলেন পড়াশোনা অবশ্যই করো। আচ্ছা, কার কোথায় দোষ আছে। এতে যে যেরকম করবে, সে ভবিষ্যতে সেরকম প্রাপ্ত করবে কারণ এখন দুনিয়া পরিবর্তন হচ্ছে। মায়া এমন ল্যাং মারে যে সেই খুশী থাকে না। তখন চিৎকার করে - বাবা, জানিনা কি হয়। যুদ্ধের ময়দানে খুব সাবধানে থাকতে হয় যাতে আক্রমণ না করতে পারে। তা সত্ত্বেও যারা খুব বলশালী হয় তারা অন্যদের পরাজিত করে। পরের দিনেও যুদ্ধ রাখা হয়। এই মায়ার লড়াই তো শেষ পর্যন্ত চলতেই থাকে। নীচে-উপরে হতে থাকে। অনেক বাচ্চারা সত্যি কথা বলে না। সম্মানের ভয় থাকে - না জানি বাবা কি বলবেন। যতক্ষণ সত্যি কথা বলবে না ততক্ষণ এগোতে পারবে না। অন্তরে বিঁধবে, তারপরে বৃদ্ধি পাবে। নিজের থেকে কখনোই সত্যি কথা বলবেনা। কোথাও দুইজন থাকলে ভাবলে অমুক বলে দিলে আমিও বলবো। মায়া খুব প্রখর। তখন বুঝে নেওয়া হয় তাদের ভাগ্যে উঁচু পদ নেই তাই তো সার্জেনের কাছে লুকায়। লুকিয়ে রাখলে রোগ নিরাময় হবে না। যত লুকিয়ে রাখবে ততই পতন হবে। ভূত তো সবার ভিতরেই আছে তাইনা। যতক্ষণ কর্মাতীত অবস্থা না হয়েছে, ততক্ষণ কুদৃষ্টিও দূর হয় না। সবচেয়ে বড় শত্রু হলো কাম বিকার। অনেকে পতিত হয়। বাবা তো বার-বার বোঝান শিববাবা ব্যতীত কোনও দেহধারীকে স্মরণ করবে না। অনেকের এমন দৃঢ় নিশ্চয় যে, তারা অন্য কারো কথা স্মরণে আসে না। পতিব্রতা স্ত্রী যেমন হয়, তাদের কু-বুদ্ধি হয় না। আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) আমাদের যিনি পড়ান তিনি স্বয়ং জ্ঞানের সাগর, অসীম জগতের পিতা, এতে কখনও সংশয় আনবে না, মিথ্যা কপট ত্যাগ করে নিজের সত্য প্রকৃত চার্ট রাখতে হবে। দেহ-অভিমানে এসে কখনও বিশ্বাসঘাতক হবে না।

২ ) ড্রামার কথা বুদ্ধিতে রেখে বাবার মতন খুব-খুব মধুর নম্র হয়ে থাকতে হবে। নিজের অহংকার দেখাবে না। নিজের মতামত ত্যাগ করে এক বাবার শ্রেষ্ঠ মতানুসারে চলতে হবে।

বরদান:-
এক বাবার লভে লভলীন হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সর্ব আকর্ষণমুক্ত ভব

বাপদাদা বাচ্চাদেরকে নিজের স্নেহ আর সহযোগের গদিতে বসিয়ে গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন। এই পথ পরিশ্রমের নয়, কিন্তু যখন হাই-ওয়ে ছেড়ে গলিতে চলে যাও বা গন্তব্যের থেকে আরও এগিয়ে যাও তখন ফিরে আসতে আবার পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রম করা থেকে বাঁচার সাধন হল এক-এর প্রেমে মগ্ন থাকা। এক বাবার লভে লীন হয়ে প্রত্যেক কাজ করো তাহলে আর কিছুই দেখতে পাবে না। সকল আকর্ষণ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
নিজের সৌভাগ্যের অনুভব - চেহারা আর চলনের দ্বারা করাও।