30.12.2025
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
পাপের থেকে হালকা হওয়ার জন্য বিশ্বস্ত, অনেস্ট হয়ে নিজের কর্মকাহিনী বাবাকে লিখে
দিলে ক্ষমা পেয়ে যাবে”
প্রশ্নঃ -
সঙ্গমযুগে
তোমরা বাচ্চারা কোন্ বীজ বপন করতে পারো না ?
উত্তরঃ
দেহ অভিমানের।
এই বীজ থেকেই সমস্ত বিকারের বৃক্ষ জন্মায়। এখন গোটা দুনিয়াতেই ৫ বিকারের বৃক্ষের
বিস্তার হয়েছে। সকলেই কাম এবং ক্রোধের বীজ বপন করছে। তোমাদের প্রতি বাবার ডাইরেকশন
হলো - বাচ্চারা, তোমরা যোগবলের দ্বারা পবিত্র হও এবং এই বীজ বপন বন্ধ করো।
গীতঃ-
তোমাকে পেয়ে
আমরা গোটা জগৎটাকে পেয়ে গেছি…
ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি
আত্মা রূপী বাচ্চারা গান শুনলো। এখন তো সংখ্যায় কম, পরে অনেক অনেক বাচ্চা হয়ে যাবে।
প্রকৃতপক্ষে এখন খুব কমজনই তাঁর সন্তান হয়েছ। তবে এই প্রজাপিতা ব্রহ্মাকে তো সকলেই
জানে। নামই হলো প্রজাপিতা ব্রহ্মা। এনার অনেক প্রজা আছে। সকল ধর্মের মানুষই এনাকে
অবশ্যই মানবে। এনার দ্বারাই সকল মানুষের রচনা হয়েছে। বাবা বুঝিয়েছেন, লৌকিক বাবাকেও
সীমিত ক্ষেত্রের ব্রহ্মা বলা যায়, কারণ তার দ্বারাও বংশবৃদ্ধি হয়। পদবি অনুসারে
বংশবৃদ্ধি হতে থাকে। উনি সীমিত জগতের পিতা, আর ইনি অসীম জগতের পিতা। এনার নামটাই হলো
প্রজাপিতা। লৌকিক বাবা তো সীমিত সংখ্যক প্রজা রচনা করে। কেউ কেউ আবার রচনাই করে না।
কিন্তু ইনি তো অবশ্যই রচনা করবেন। কেউ কি বলতে পারবে যে প্রজাপিতা ব্রহ্মার কোনো
সন্তান নেই? গোটা দুনিয়াতেই এনার সন্তান রয়েছে। প্রজাপিতা ব্রহ্মাই হলেন সর্বপ্রথম।
মুসলমানরা যে আদম-বিবির কথা বলে, সেটা তো অবশ্যই কারোর না কারোর সম্পর্কে বলে।
প্রজাপিতা ব্রহ্মাকেই অ্যাডাম-ইভ কিংবা আদিদেব-আদিদেবী বলা হয়। সকল ধর্মের মানুষই
এনাকে মানবে। বরাবরই একজন সীমিত জগতের পিতা এবং একজন অসীম জগতের পিতা আছেন। এই অসীম
জগতের পিতা সীমাহীন সুখ প্রদান করেন। তোমরা সীমাহীন স্বর্গসুখ পাওয়ার জন্যই
পুরুষার্থ করছো। এখানে অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে সীমাহীন সুখের উত্তরাধিকার পাওয়ার
জন্য এসেছ। স্বর্গে রয়েছে সীমাহীন সুখ আর নরকে রয়েছে সীমাহীন দুঃখ। অনেক দুঃখ আসবে।
সকলে আর্তনাদ করবে। বাবা তোমাদেরকে সমগ্র বিশ্বের আদি, মধ্য, অন্তের রহস্য
বুঝিয়েছেন। তোমরা বাচ্চারা বাবার সামনে বসে আছো এবং পুরুষার্থ করছো। ইনি তো একাধারে
মাতা এবং পিতা। অনেক সন্তান রয়েছে। অসীম জগতের মাতা পিতার সাথে কেউ কখনো কোনো
শত্রুতা রাখে না। মাতা-পিতার কাছ থেকে কতোই না সুখ পাওয়া যায়। গায়ন আছে - তুমি হলে
মাতা-পিতা…। এই গানের অর্থ এখন বাচ্চারাই বুঝতে পারে। অন্যান্য ধর্মে তো মানুষ কেবল
পিতাকেই আহ্বান করে, মাতা-পিতা বলে না। কেবল এখানেই গান করে - তুমি হলে মাতা-পিতা,
আমরা তোমার বালক…। তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা এখন পড়াশুনা করে মানুষ থেকে দেবতা
অথবা কাঁটা থেকে ফুল হচ্ছি। বাবা একাধারে মাঝি এবং বাগানের মালিক। তোমরা ব্রাহ্মণরা
হলে অনেক রকমের মালি। মুঘল গার্ডেনেও মালি থাকে। সে অনেক টাকা মাইনে পায়। মালিদের
মধ্যেও ক্রম থাকে। কোনো কোনো মালি তো কত সুন্দর সুন্দর ফুল তৈরি করে। এক ধরনের ফুলকে
কিং অফ ফ্লাওয়ার বলা হয়। সত্যযুগে কিং অফ ফ্লাওয়ার এবং ক্যুইন অফ ফ্লাওয়ার থাকবে।
কিন্তু এখানে মহারাজা-মহারানী থাকলেও তারা ফুলের মতো নয়। পতিত হয়ে যাওয়ার জন্য
কাঁটার মতো হয়ে গেছে। পথ চলতে চলতে একে অপরকে কাঁটায় বিদ্ধ করে চলে যায়। এদেরকেই
অজামিল বলা হয়। তোমরাই সবথেকে বেশি ভক্তি করে এসেছো। বাম মার্গে পতিত হওয়ার পরে দেখো
কতো নোংরা নোংরা ছবি বানিয়েছে । সেখানে দেবতাদের ছবিই আঁকা আছে। ওগুলো সব
বামমার্গের ছবি। তোমরা বাচ্চারা এখন এইসব বিষয় বুঝতে পেরেছ। তোমরা এখন ব্রাহ্মণ
হয়েছ। আমরা এই বিকারের দুনিয়া থেকে অনেক দূরে চলে যাই। ব্রাহ্মণ পরিবারে ভাই কিংবা
বোনের সাথে বিকারে লিপ্ত হওয়া অতি জঘন্য ভাবে হামলা করার মতো অপরাধ। নাম খারাপ হয়ে
যায়। তাই ছোটো থেকে যদি কোনো খারাপ কাজ করে থাকো, সেটা বাবাকে বলে দিলে অর্ধেক মাফ
হয়ে যায়। সেইসব কথা তো অবশ্যই মনে থাকে। অমুক সময়ে আমি এই নোংরা কাজ করেছিলাম -
বাবাকে লিখে দেয়। যারা খুব বিশ্বাসী এবং অনেস্ট, তারা বাবাকে লিখে দেয় - বাবা, আমি
এই এই নোংরা কাজ করেছি, ক্ষমা করে দিও। বাবা বলছেন, ক্ষমা করা হয় না, তবে সত্যি কথা
বলে দিলে সেই বোঝাটা হালকা হয়ে যায়। এমন নয় যে একেবারে ভুলে যায়। ভুলে যাওয়া সম্ভব
নয়। ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় এইরকম কাজ না হয়, তার জন্য সাবধান করে দিই। তবে বিবেক
দংশন অবশ্যই হয়। কেউ কেউ বলে - বাবা, আমি তো অজামিল ছিলাম। এগুলো সব এই জন্মেরই ঘটনা।
কবে থেকে বামমার্গে এসে পাপাত্মা হয়েছ - সেটাও তোমরা এখন জেনে গেছ। এখন বাবা আবার
আমাদেরকে পূণ্যাত্মা বানাচ্ছেন। পুন্ণ্যাত্মাদের সেই দুনিয়াটা একেবারে আলাদা। হয়তো
একটাই দুনিয়া, কিন্তু তোমরা এখন বুঝেছ যে এটা দুই ভাগে বিভক্ত। একটা পূন্যাত্মাদের
দুনিয়া, যাকে স্বর্গ বলা হয় আর একটা পাপ আত্মাদের দুনিয়া, যাকে নরক বা দুঃখধাম বলা
হয়। সুখের দুনিয়া আর দুঃখের দুনিয়া। দুঃখের দুনিয়ায় সকলে আর্তনাদ করে - আমাদেরকে
মুক্তি দাও, ঘরে নিয়ে চলো। বাচ্চারা জানে যে ঘরে গিয়ে বসে যাওয়া যাবে না, আবার
ভূমিকা পালন করার জন্য আসতে হবে। এখন তো গোটা দুনিয়াটাই পতিত। বাবার দ্বারা তোমরা
এখন পবিত্র হচ্ছো। এম অবজেক্ট তো সামনেই আছে। অন্য কেউ এই এইম অবজেক্ট দেখিয়ে বলবে
না যে আমরা এইরকম হচ্ছি। বাবা বলছেন - বাচ্চারা, তোমরা আগে এইরকম ছিলে, এখন আর নেই।
পূজনীয় ছিলে, তারপর পূজারী হয়ে গেছ। পুনরায় পূজনীয় হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করতে হবে।
বাবা কতো ভালো ভাবে পুরুষার্থ করাচ্ছেন। এই বাবা (ব্রহ্মাবাবা) সর্বদাই বুঝতে পারেন
যে আমি প্রিন্স হব। ইনি নম্বর ওয়ান, তবুও নিরন্তর স্মরণে থাকে না। ভুলে যান। কেউ
যতই পরিশ্রম করুক না কেন, এখন ওইরকম অবস্থা আসবে না। যুদ্ধের সময়েই কর্মাতীত অবস্থা
হবে। সবাইকেই পুরুষার্থ করতে হবে। এনাকেও করতে হবে। তোমরা বোঝানোর সময়ে বলো - ছবিতে
দেখুন, বাবার ছবি কোথায় আছে ? বৃক্ষের একেবারে শেষে পতিত দুনিয়ায় দাঁড়িয়ে আছেন।
তারপর নীচে তপস্যাও করছেন। কত সহজভাবে বোঝানো হয়। বাবা-ই এইসব বিষয় বুঝিয়েছেন। ইনিও
(ব্রহ্মাবাবা) আগে জানতেন না। বাবা-ই হলেন নলেজফুল, তাঁকেই সবাই স্মরণ করে - হে
পরমপিতা পরমাত্মা, তুমি এসে আমাদের দুঃখ হরণ করো। ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্কর তো
দেবতা। মূলবতনবাসী আত্মাদেরকে তো দেবতা বলা যাবে না। বাবা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করের
রহস্যও বুঝিয়েছেন। ব্রহ্মা কিংবা লক্ষ্মী-নারায়ণ তো এখানেই থাকেন। সূক্ষ্মবতনকে
কেবল এই সময়েই তোমরা বাচ্চারা দিব্যদৃষ্টির সাহায্যে দেখতে পাও। এই বাবাও ফরিস্তা
হয়ে যান। বাচ্চারা জানে - যিনি সিঁড়ির ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন, তিনিই নীচে তপস্যা করছেন।
ছবিতে খুব স্পষ্টভাবে দেখানো আছে। ইনি কখনোই নিজেকে ভগবান বলেন না। ইনি বলেন, আমি
তো একেবারে ওয়ার্থ নট এ পেনী (মূল্যহীন) ছিলাম, ততত্বম্ (তোমরাও ওইরকম ছিলে) । এখন
ওয়ার্থ পাউন্ড (অতি মূল্যবান) হয়ে যাচ্ছি। কথাগুলো কত সহজেই বোঝা যায়। কেউ কিছু
জিজ্ঞেস করলে বলো - দেখুন, আপনি কলিযুগের একদম অন্তিমে রয়েছেন। বাবা বলেন, যখন অতি
প্রাচীন বাণপ্রস্থ অবস্থা হয়ে যায়, তখনই আমি এনার মধ্যে প্রবেশ করি। ইনি এখন
রাজযোগের তপস্যা করছেন। তপস্যারত কাউকে কি দেবতা বলা যায়? রাজযোগ শিখে এইরকম হয়ে
যান। বাচ্চারা, তোমাদেরকেও এইরকম মুকুটধারী বানিয়ে দেন। এই থেকে তারপর দেবতা হবে।
কাউকে দেখানোর জন্য এইরকম ১০-২০ জন বাচ্চার ছবিও রাখতে পারো যে এনারাই এইরকম হয়ে
যান। আগে সকলের এইরকম ছবি তোলা হয়েছে। এই বিষয়গুলো তো বোঝাতে হয়। একদিকে সাধারণ ছবি,
আর অন্যদিকে দ্বি-মুকুটধারী ছবি। তোমরা বুঝতে পারছো যে আমরা এইরকম হচ্ছি। সে-ই হতে
পারবে যার বুদ্ধির লাইন একদম ক্লিয়ার থাকবে। অনেক মিষ্টি স্বভাবের হতে হবে। এখন
মানুষের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কাম, ক্রোধ ইত্যাদির বীজ আছে। সকলের মধ্যেই ৫ বিকার
রূপী বীজ থেকে বৃক্ষের বিস্তার হয়েছে। এখন বাবা বলছেন, এইরকম বীজ বপন করো না।
সঙ্গমযুগে তোমাদের দেহের অভিমানের বীজ কিংবা কাম বিকারের বীজ বপন করা উচিত নয়। এরপরে
অর্ধেক কল্পের জন্য রাবণ থাকবে না। বাবা বসে থেকে প্রত্যেকটা বিষয় বোঝাচ্ছেন। মুখ্য
বিষয় হলো মন্মনা ভব। বাবা বলছেন, আমাকে স্মরণ করো। ইনি সকলের পিছনেও আছেন, আবার
সকলের আগেও আছেন। যোগবলের দ্বারা ইনি অনেক পবিত্র হয়ে যান। শুরুর দিকে বাচ্চাদের
অনেক দিব্যদর্শন হতো। ভক্তিমার্গে যদি কেউ প্রচণ্ড ভক্তি করে, তবে তার এইরকম দর্শন
হয়। এখানে তো বসে বসেই ধ্যানস্থ হয়ে যেত, অনেকে এগুলোকে জাদুবিদ্যা ভাবত। এটা আসলে
ফার্স্টক্লাস জাদু। মীরাও অনেক তপস্যা করেছিল, সাধুসঙ্গ করেছিল। এখানে কোনো সাধু
নেই। ইনি তো বাবা। শিববাবা সকলের বাবা। অনেকে বলে - আপনাদের গুরুজীর সাথে দেখা করবো।
কিন্তু এখানে তো কোনো গুরু নেই। শিববাবা তো নিরাকার। তাহলে কার সাথে দেখা করবেন?
মানুষ ওইসব গুরুদের কাছে গিয়ে প্রণামী দেয়। এই বাবা তো অসীম জগতের মালিক। এখানে
ঐরকম প্রণামী দেওয়ার প্রথা নেই। ইনি পয়সা নিয়ে কি করবেন? ব্রহ্মাবাবাও বুঝতে পারেন
যে আমি বিশ্বের মালিক হয়ে যাই। বাচ্চারা যদি কিছু টাকা দেয়, তবে সেটা দিয়ে তাদের
জন্যই থাকার বন্দোবস্ত করা হয়। এইসব টাকা পয়সা তো শিববাবারও কোনো কাজে আসবে না, আর
ব্রহ্মাবাবারও কোনো কাজে আসবে না। এইসব ঘর-বাড়ি তো বাচ্চাদের জন্যই বানানো হয়েছে।
বাচ্চারাই এখানে এসে থাকে। কেউ হয়তো গরিব, আবার কেউ হয়তো ধনী। কেউ কেউ দু'টাকা
পাঠিয়ে বলে যে বাবা, আমার এই টাকা দিয়ে একটা হলেও ইঁট কিনে কাজে লাগিয়ে দেবেন। কেউ
আবার হাজার হাজার পাঠিয়ে দেয়। দু' জনের ভাবনাই সমান। তাই দু'জনের সমান প্রাপ্তি হয়।
বাচ্চারা যখন আসে, তখন যেখানে ইচ্ছে থাকতে পারে। যে বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে, সে যদি আসে,
তবে তাকে ভালো ভাবে রাখা হবে। কেউ কেউ বলে, বাবার কাছেও ওদের বেশি খাতির করা হয়। আরে,
সেটা তো করতেই হবে। অনেকে অনেক রকমের। কেউ তো যেকোনো জায়গাতেই বসে পড়ে। কেউ আবার
খুবই সংবেদনশীল, বিদেশে বড়ো বড়ো অট্টালিকায় থাকে। প্রত্যেক দেশেই বড়ো বড়ো ধনী
ব্যক্তিরা এইরকম বাড়ি বানায়। এখানে তো অনেক বাচ্চা আসে। অন্য কোনো বাবার কি এইরকম
চিন্তা ভাবনা আসবে? খুব বেশি হলে ১০, ১২ কিংবা ২০ জন নাতি নাতনি থাকবে। আচ্ছা, হয়তো
কারোর ২০০-৫০০ জন আছে, কিন্তু তার বেশি তো হবে না। এই বাবার পরিবার তো অনেক বড়ো এবং
আরো বৃদ্ধি পাবে। এখন রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। বাবার পরিবারেরও অনেক বৃদ্ধি হবে আর
প্রজাপিতা ব্রহ্মার পরিবারেরও অনেক বৃদ্ধি হবে। প্রতি কল্পে বাবা আসলেই এইসব
ওয়ান্ডারফুল কথাবার্তা তোমাদের কানে পৌঁছায়। বাবার উদ্দেশ্যেই বলা হয় - হে প্রভু,
তোমার গতি-মতি সকলের থেকে আলাদা। দেখেছো তো, ভক্তি আর জ্ঞানের মধ্যে কত ফারাক। বাবা
তোমাদেরকে বোঝাচ্ছেন - স্বর্গে যাওয়ার জন্য দিব্যগুণও ধারণ করতে হবে। এখন তো কাঁটার
মতো হয়ে গেছ। মানুষ গান করে - আমার মতো গুণহীনের মধ্যে কোনো গুণ নেই। কেবল পাঁচ
বিকার রূপী দুর্গুন আছে কারন এটা রাবণের রাজত্ব। তোমরা এখন কতো ভাল জ্ঞানলাভ করছ।
এই জ্ঞান যতটা আনন্দ দেয়, দুনিয়ার ওই জ্ঞান অতটা আনন্দ দিতে পারে না। তোমরা জানো যে
আমরা আত্মারা ওপরে মূলবতনে থাকি। সূক্ষ্মবতনে রয়েছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্কর। তবে
তাদেরকে কেবল দিব্যদৃষ্টির সাহায্যেই দেখতে পাওয়া যায়। ব্রহ্মাও এখানেই থাকেন,
লক্ষ্মী-নারায়ণও এখানেই থাকেন। ওখানে কেবল দিব্য দর্শন হয়। ব্যক্ত ব্রহ্মা কিভাবে
সূক্ষ্মবতনবাসী ফরিস্তা ব্রহ্মা হয়ে যান, তার নিদর্শন রয়েছে। এছাড়া আর কিছু নেই।
তোমরা বাচ্চারা এখন এইসব বিষয় বুঝতে পারছো এবং নিজের মধ্যে ধারণ করছো। কোনো নতুন
ব্যাপার নয়। তোমরা আগে অনেকবার দেবতা হয়েছ, দৈব রাজত্ব ছিল। এই চক্র ক্রমাগত
আবর্তিত হচ্ছে। ওই ড্রামা তো বিনাশী, আর এটা হলো অবিনাশী ড্রামা। তোমাদের ছাড়া আর
কারোর বুদ্ধিতে এগুলো নেই। বাবা বসে থেকে এইসব বোঝাচ্ছেন। এমন নয় যে এই জ্ঞান
পরম্পরায় চলে আসে। বাবা বলছেন, আমি এই সময়েই তোমাদেরকে এই জ্ঞান শোনাই। এরপর এই
জ্ঞান প্রায় লুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা রাজত্ব পেয়ে যাওয়ার পরে সত্যযুগে এই জ্ঞান থাকবে
না। আচ্ছা !
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
সর্বদা যেন স্মৃতিতে থাকে যে আমরা হলাম ব্রাহ্মণ, তাই বিকারের থেকে অনেক অনেক দূরে
থাকতে হবে। কখনোই যেন কোনো ক্রিমিনাল অ্যাসাল্ট না হয়। বাবার কাছে খুব অনেস্ট এবং
বিশ্বাসী হয়ে থাকতে হবে।
২ ) দ্বি-মুকুটধারী
দেবতা হওয়ার জন্য খুব মিষ্টি স্বভাবের হতে হবে, বুদ্ধির লাইন যেন ক্লিয়ার থাকে।
রাজযোগের তপস্যা করতে হবে।
বরদান:-
সদা
অসীমের স্থিতিতে স্থিত থেকে বন্ধনমুক্ত, জীবন্মুক্ত ভব
দেহ অভিমান হলো
লৌকিকের স্থিতি আর দেহী-অভিমানী হওয়া - এটা হলো অসীমের স্থিতি। দেহতে আসার কারণে
অনেক কর্মের বন্ধনে, লৌকিকতায় আসতে হয়। কিন্তু যখন দেহী হয়ে যাও তখন এইসব বন্ধন
সমাপ্ত হয়ে যায়। যেরকম বলা হয় যে বন্ধনমুক্তই হল জীবন্মুক্ত, এইরকম যে অসীমের
স্থিতিতে স্থিত থাকে সে দুনিয়ার বায়ুমন্ডল, ভায়ব্রেশন, তমোগুণী বৃত্তি, মায়ার
আক্রমণ, এই সবগুলি থেকে মুক্ত হয়ে যায়, একেই বলা হয় জীবন্মুক্ত স্থিতি। এই স্থিতির
অনুভব সঙ্গম যুগেই করতে হয়।
স্লোগান:-
নিশ্চয়বুদ্ধির লক্ষণ হলো নিশ্চিত বিজয়ী আর নিশ্চিন্ত, তার কাছে ব্যর্থ আসতে পারবে
না।
অব্যক্ত ঈশারা :- এখন
সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও
কর্মের গুহ্য গতিকে
জেনে অর্থাৎ ত্রিকালদর্শী হয়ে প্রত্যেক কর্ম করো তবেই কর্মাতীত হতে পারবে। যদি ছোটো
ছোটো ভুল সংকল্পরূপেও হয়ে যায় তাহলে তারও হিসেব নিকেশ খুব কঠোর হয় এইজন্য ছোটো ভুলও
বড় মনে করতে হবে কেননা এখন তোমরা সম্পূর্ণ স্থিতির নিকটে আসছো।