31-05-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 15-03-2010 মধুবন


‘‘পরমাত্ম ভালোবাসার যোগ্য আত্মারা দুঃখীদের ফোঁটায় ফোঁটায় সুখ দাও, ব্যর্থকে সমাপ্ত ক'রে সমর্থ হও আর সময় সমীপে নিয়ে এসো"


আজ বাপদাদা চতুর্দিকে তাঁর নিজের পরমাত্ম প্রিয় বাচ্চাদের দেখছেন। এমন পরমাত্ম প্রিয় বাচ্চারা কোটি কোটির মধ্যে কতিপয় মাত্র। কেননা, এই সময়ই তোমরা পরমাত্ম ভালোবাসার অনুভব করতে পারো, সমগ্র কল্পে আত্মাদের ভালোবাসা, মহাত্মাদের, ধর্মাত্মাদের ভালোবাসা অনুভব করেছ কিন্তু পরমাত্ম ভালোবাসা শুধু এখন সঙ্গম যুগেই হয়, যা তোমরা সব বাচ্চা অনুভব করছ। কেউ যদি তোমাদের জিজ্ঞাসা করে পরমাত্মা কোথায় আছেন? তো কী জবাব দেবে? আমার সাথে আছেন। আমার সাথেই থাকেন। আমার হৃদয়েই থাকেন। এমন অনুভব করো তো না! তোমরাই জানো আর এই ভালোবাসার অনুভব তোমাদেরই আছে যে আমাদের হৃদয়ে বাবা থাকেন আর বাবার হৃদয়ে আমরা। তোমরা জানো যে এই পরমাত্ম ভালোবাসার নেশা অনুভব করার ভাগ্য আমাদেরই প্রাপ্ত হয়েছে। যখন কারও প্রতি ভালোবাসা হয়ে যায় তো তার লক্ষণ কিরকম হয়? এর লক্ষণ হবে তার প্রতি সমর্পিত হওয়া। তো পরমপিতা পরমাত্মা তোমরা সব বাচ্চাকে কী বলতে চান, সেতো তোমরা সবাই জানো। প্রত্যেক বাচ্চার কাছে বাবার এটাই চাওয়া যে আমার প্রত্যেক বাচ্চা বাবা সমান হোক। যেমন বাবা তেমন বাচ্চাদেরও যেন শ্রেষ্ঠ স্থিতি হয়। সেই শ্রেষ্ঠ স্থিতি কী? সম্পূর্ণ পবিত্রতার স্থিতি। এমন পবিত্রতা যাতে স্বপ্নেও অপবিত্রতা আসতে পারে না। এমন সম্পূর্ণ পবিত্র স্থিতি বানাচ্ছ? যেখানে সম্পূর্ণ পবিত্রতায় অপবিত্রতার লেশমাত্র নেই।

বর্তমান সময় সমীপ এ আনার কারণে বাপদাদা এখন ইশারা দিচ্ছেন যে সময়ের নৈকট্য অনুসারে ব্যর্থ সঙ্কল্পও অপবিত্রতার লক্ষণ। সারাদিনে এটাও চেক করো যে কোনও ব্যর্থ সঙ্কল্প অভিমানে বা অপমানের দিকে আকর্ষণ করে না তো? কেননা, চলতে চলতে যদি বাবার দেওয়া বিশেষত্ব নিজের বিশেষত্ব মনে ক'রে অভিমানে আসো তবে এটাও ব্যর্থ সঙ্কল্পই হলো। আর আমিত্ব ভাবের অশুভ সঙ্কল্প - আমি কম নই, আমিও সব জানি, আমার এই সঙ্কল্পই যথার্থ, উঁচু। আমিত্ব ভাবের এই অবিনীত সঙ্কল্পও সূক্ষ্ম অপবিত্রতার অংশ। সুতরাং নিজেকে চেক করো কোনও প্রকারের অপবিত্রতার ব্যর্থ সঙ্কল্পের কোনো অংশ থেকে যায়নি তো! কেননা, এখন পবিত্র দুনিয়ার স্থাপনের সময় সমীপে আনয়নকারী তোমরা পরমাত্ম প্রিয় বাচ্চারা নিমিত্ত। তো যারা নিমিত্ত আত্মারা আছে তাদের ভাইব্রেশন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং চেক করো কোনও প্রকারের ব্যর্থ সঙ্কল্পও নিজের দিকে টানে না তো! কেননা, এখন পবিত্র দুনিয়া, পবিত্র রাজ্য সমীপে আসছে। দুঃখ আর অশান্তি চতুর্দিকে বিভিন্ন ভাবে বাড়ছে। তার জন্য পবিত্রতার ভাইব্রেশন আবশ্যক। দুঃখ অশান্তির কারণ অপবিত্রতা। তো অপবিত্র আত্মাদের এবং ভক্ত আত্মাদের এখন ডবল সেবা প্রয়োজন। বাণীর সেবা তো বাপদাদা দেখেছেন যে চতুর্দিকে ধুমধামের সাথে চলছে, তোমাদের প্রতি ওঠা অভিযোগও তোমরা শেষ করছো। কিন্তু এখন আত্মাদের জন্য এক্সট্রা সকাশ দরকার। সেটা হলো মন্সা সেবা দ্বারা সকাশ দেওয়া, সাহস দেওয়া, উৎসাহ উদ্দীপনা দেওয়া। তো এই সময় ডবল সেবার আবশ্যকতা আছে। এর জন্য বাপদাদা বলেছেন যে প্রত্যেক বাচ্চা নিজেকে পূর্বজ মনে করো। তোমরা এই কল্প বৃক্ষের ফাউন্ডেশন পূর্বজ আর পূজ্য আত্মা তোমরা। বাপদাদা তো দুঃখী বাচ্চাদের আওয়াজ নিরন্তর শুনে যাচ্ছেন। তোমরা সব বাচ্চার কাছে তাদের মর্মপীড়ার ধ্বনি পৌঁছানো উচিত। তোমাদের ততটাই পবিত্র আত্মা হতে হবে। তোমরা তেমন হচ্ছো, হয়েছোও কিন্তু সেইসঙ্গে এখন মন্সা সেবা বাড়াতে হবে।

আজ বিশ্বে সুখ শান্তি, সন্তুষ্টি, আত্মাদের মধ্যে কমে যাচ্ছে। তো তোমরা পরমাত্ম ভালোবাসার যোগ্য আত্মাদের এখন ভালোবাসা, সন্তুষ্টতা, খুশি ফোঁটায় ফোঁটায় (অঞ্চলি) দেওয়ার আবশ্যকতা আছে। দুঃখীদের ফোঁটায় ফোঁটায় সুখ দিতে হবে। এক তো মন্সা সেবা দ্বারা সকাশ দাও আর দ্বিতীয়তঃ, নিজের মুখমণ্ডল আর আচরণ দ্বারা বাবাকে প্রত্যক্ষ করাও। এখন যে সেবা করছো এবং করেছো তা'তে বাপদাদা খুশি যে চতুর্দিকে উৎসাহ উদ্দীপনা আছে কিন্তু এখনো একটা সেবা বাকি রয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত এই আওয়াজ তো উঠেছে যে ব্রহ্মাকুমারীরা মনুষ্য আত্মাদের ভালো বানায়, অশুদ্ধ যে ব্যবহার সেই অশুদ্ধ ব্যবহার থেকে মুক্ত করে। গভর্নমেন্ট যেটা ইউথ গ্রুপের জন্য চায় যে তারা সেই সেবা খুব ভালো করুক। কিন্তু এ'বার তাদের বলা উচিত বাবা এসে গেছেন, পরমাত্মা এসে গেছেন। তারা ঈশ্বর-প্রদত্ত জ্ঞান দিচ্ছে। আমার বাবা এসেছেন অবিনাশী উত্তরাধিকার দিতে, এখন বাবার দিকে নজর যাওয়ায় পরমাত্ম ভালোবাসা, পরমাত্মার আকর্ষণে তারাও আকৃষ্ট হবে। ওদের ভালো ভালো বলা- এটা তো হয়ে গেছে কিন্তু পরমাত্ম বাবার প্রত্যক্ষতা তাদের আকর্ষণ ক'রে ভালোয় পরিণত করবে। তো এখন তারা বাবাকে চিনুক যে, যাকে তারা স্মরণ করছে, তিনি জ্ঞান প্রদান করছেন, তাঁর কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হচ্ছে। অতএব, এখন মন্সা দ্বারা বাবার কাছে নিয়ে এসো। তোমাদের মুখমণ্ডল আর আচরণ দ্বারা, তোমাদের নয়নে বাবাকে প্রত্যক্ষ হতে দাও। তো এখন এটার জন্য নিজেদের মধ্যে প্ল্যান বানাও।

বাপদাদা দেখেছেন, সময় সময়তে বাপদাদা যে প্ল্যান দিয়েছেন বাচ্চারা সেটা অতি বিধিপূর্বক উৎসাহ- উদ্দীপনার সাথে করেছে, করছে, এর জন্য বাপদাদা সব বাচ্চাকে পদম পদম গুন অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এখন অ্যাড করো যে ভগবান অবিনাশী উত্তরাধিকার দিচ্ছেন। উত্তরাধিকার এখন নেবে না তো কখন নেবে? বাবার করুণা হয় বাচ্চাদের দুঃখ, অশান্তির বায়ুমণ্ডল দেখে। তাছাড়া, বাবা আর তোমরা জানো যে এসব তো অতির মধ্যে যেতেই হবে। অতি বিনা অন্ত হবে না। এরকম সময়ে আত্মাদের এটা অনুভব করাও, শুধু শুনিও না, অনুভব করাও যে ভগবান উত্তরাধিকার দিচ্ছেন। তোমরাও সবাই এটা জিজ্ঞাসা করো তো না যে বাবার এই প্রত্যক্ষতা কবে আর কীভাবে হবে? তো ব্রহ্মাকুমারী পর্যন্ত তারা পৌঁছেছে। কিন্তু ব্রহ্মাকুমারীদের শেখান কে! ব্রহ্মাকুমারীদের , ব্রহ্মাকুমারদের দাতা কে! সময়কে সমীপে এনে সমাপ্তি ঘটাতে হবে। সমাপ্তিকে সমীপে কে আনবে? প্রত্যেক বাচ্চা মনে করে তো না আমিই নিমিত্ত। বাবা এই দায়িত্ব নিজের সাথে বাচ্চাদের দিয়েছেন। সন শোজ ফাদার। কেউ কেউ যখন বাবাকে জেনেছে তো দেখো, তোমরা সবাই বাবাকে জানার পরে কি করেছো? চিনলে, জানলে, তাঁর বাচ্চা হয়ে গিয়ে উত্তরাধিকারের অধিকারী হয়ে গেলে। যারা অবিনাশী উত্তরাধিকার নেবে তাদের ক্যু লেগে যাওয়া উচিত, ক্যু আটকে আছে কেন? কারণ কোনো কোনো বাচ্চা এখন ব্যর্থ সঙ্কল্পের ক্যু-তে লেগে আছে। কেন, কী, কীভাবে এখনো এসবের সমাপ্তি ঘটানোতে সময় ব্যয় করছে, কিন্তু ব্যর্থ সমাপ্ত হয়নি। ব্যর্থ সমর্থ হওয়ার বিষয়ে বাধা দেয়।

তো আজ বাপদাদা ব্যর্থ সঙ্কল্পের সমাপ্তি ঘটানোর জন্য চতুর্দিকের সব বাচ্চাকে সাহস দিচ্ছেন, এখন থেকে ব্যর্থকে সমাপ্ত ক'রে সদা সমর্থ হয়ে অন্যকে সমর্থ বানাও। তাদের শুধু বার্তা দিও না সমর্থ বানাও। সমর্থ হও, সমর্থ বানাও। ব্যর্থের সমাপ্তি দিবস উদযাপন করো। হতে পারে এটা? তুমি বুঝতে পারো ব্যর্থ সঙ্কল্প নিজেরও ক্ষতি করে, সময় বরবাদ করে, সদা প্রসন্নময় ও সৌভাগ্যবান হওয়ার অনুভব কম করায়। সেইজন্য এখন সমাপ্তির সময় সমীপে নিয়ে আসতে হবে, কে করবে? তোমাকেই করতে হবে তো না! তোমরা যারা মনে করো এখন সমাপ্তির সময় সমীপে আনতে হবে, তার জন্য ব্যর্থকে সমাপ্ত করতেই হবে, করতে হবে এটা নয়, করতেই হবে। স্বপ্নেও যেন না আসে। সঙ্কল্প তো ছেড়েই দাও, এমনকি স্বপ্নেও আসা উচিত নয়। যারা নিজেদের এমন সাহসী বাচ্চা মনে করো তারা হাত তোলো। মনের হাত তুলছো তো না! ঊর্ধ্বাঙ্গের হাত তোলা তো খুব ইজি কিন্তু মনের হাত তুলছো? যারা মনের হাত তুলছো তারা হাত তোলো, মনের হাত। আচ্ছা।

তো বাপদাদা এই বরদান দিচ্ছেন যে তোমরা সবাই আগামী নতুন দুনিয়াতে ২১ জন্ম সদা খুশি থাকবে। পরিশ্রম করবে না। বিভ্রম বা জটিলতার মধ্যে পড়বে না। জীবনে যা চাই, তন মন ধন সবকিছু প্রাপ্ত হবে। সুস্থ তন, আনন্দিত মন, অগাধ ধন - এই সব তোমাদের ২১ জন্মের গ্যারান্টি। আজকালকার দুনিয়ার হিসেবে বিষয়সমূহ অনেক বদলে যায়। গভর্নমেন্টের কায়দা-কানুনও বদলাতে থাকে, মানুষের বৃত্তিও বদলায়। এর জন্য প্রত্যেকের জীবনে পরিস্থিতি তো আসবেই, ব্যর্থ ঘটনাবলি, তো ব্যর্থ সমাপ্ত করার জন্য শক্তিশালী সঙ্কল্প প্রয়োজন। ওয়েস্ট শেষ করার জন্য বেস্ট সঙ্কল্প প্রয়োজন। তো প্রতিদিনের মুরলিতে যে বরদান, স্লোগান আসে সেটা শোনো। এই বরদানই শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প। যখন ব্যর্থ আসে মনের তখন শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পের দরকার। মন খালি থাকতে পারে না। মনের কিছু না কিছু সঙ্কল্প চাই। তো ব্যর্থ ওয়েস্ট বেস্ট করার জন্য এই বরদান আর স্লোগান এবং মুরলির শুরুতে যে মর্মার্থ থাকে, মনকে চেঞ্জ করার জন্য তা' প্রয়োজন। এটা করবে পারো তোমরা? দ্বিতীয়তঃ প্রত্যুষকালে যখন চোখ খোলো তখন সবকিছুর আগে শিব বাবাকে গুড মর্নিং করো। পারবে করতে? দেখ জনশ্রুতি আছে, সারাদিনে যদি কিছু ভালো দেখা যায় তবে সারাদিন ভালো কাটে। যদি কিছু খারাপ দেখে নেয় তো কী বলে? বলে, জানি না কার মুখ দেখেছি যে সারাদিন খারাপ গেছে। তো সবচাইতে ভালো কে? শিববাবা। শিববাবার প্রতি ভালোবাসা আছে তো না! তো চোখ খুলতেই শিববাবা গুড মর্নিং। আর রাতে যখন চোখ বন্ধ করতে বেডে যাচ্ছ তো শিববাবা গুড নাইট। এটা সহজ তো না! তো সারা দিন তোমাদের ভালো হবে। কেননা, শুভ সঙ্কল্প হিসেবে বরদান নিয়েছ তো না! সুতরাং এভাবে করো। তোমাদের প্রতি বাপদাদার ভালোবাসা আছেনা! তো এটা করার জন্য তোমরা আরও এগিয়ে যেতে থাকবে। তোমরা এই জীবনেও খুশির অনুভব করবে। কখনো দুঃখের তরঙ্গ আসবে না। তো মঞ্জুর, আর সহজ যোগী হও ব্যস্! আমি আত্মা, শিববাবার বাচ্চা, ব্যস্ এটাই সহজ যোগী হওয়া। চলতে ফিরতে এটা স্মরণ করো আমি আত্মা, শিববাবার বাচ্চা। এটা স্মরণ করতে পারো তো না! তো খুব ভালো।

এখন তোমরা সবাই যারা উত্তরাধিকার এবং যারা উত্তরাধিকার হতে চলেছ, যারা নিজেরা নিজেদেরকে বাপদাদার পাক্কা উত্তরাধিকার মনে করো, তারা হাত উঠাও। তোমরা উত্তরাধিকার? ভি.আই.পি.রাও সবাই হাত উঠাচ্ছে। তালি তো বাজাও। আচ্ছা। এখন উত্তরাধিকারী- কোয়ালিটি যাদের মধ্যে থাকবে তারা নিজের প্রতি এই সংকল্প দৃঢ় করবে, বাপদাদাকে এই সঙ্কল্প দেবে যে আমরা আজ থেকে, কবে থেকে এটা নয়, এখন থেকে ব্যর্থ সঙ্কল সমাপ্ত করেই ছাড়ব। মঞ্জুর? মঞ্জুর এটা? যদি মঞ্জুরি আছে তো হত তোলো। আচ্ছা। যারা মনে করো তোমাদের মনের সঙ্কল্প পাক্কা, তারা হাত তোলো, স্থূল হাত উঠানো নয়, মনের হাত তোলো। আচ্ছা, যারা পিছনের সারিতে তারা সবাই হাত উঠাচ্ছে। যে পাক্কা সে দু'হাত তোলো। তো আজ কোন দিন? ব্যর্থকে সমাপ্ত করা অর্থাৎ সমর্থ হওয়ার। সদা সমর্থ, আরেক কার্য কোনটা? দুঃখ আর অশান্তির সমাপ্তি দিবস সমীপে আনতে হবে। দুটো কাজ। এক, সদা সমর্থ হওয়া আর দুই, সমর্থ সময়কে সমীপে আনা। ঠিক আছে, দুটো কাজই ঠিক আছে? কাঁধ নাড়াও। কেননা, বাপদাদা মানসিক যন্ত্রণা আর দুঃখের কাতর ধ্বনি শুনতে পান। বাবা জানেন না তোমরা কেন শুনতে পাও না! বাপদাদা যখন এটা শোনেন তো তোমরা বাচ্চারা যারা নিজেদের উত্তরাধিকারী মনে করো, উত্তরাধিকার নাও, তো উত্তরাধিকারীদের অন্যদের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করানোর ব্যাপারে কৃপা হওয়া উচিৎ তো না! তোমাদের সেই কৃপা কেন আসে না? বিবেকবোধ, অসীম বৈরাগ্য আর কৃপা হওয়া উচিত । তুচ্ছ বিষয়ে কেন, কী - এর ক্যু-তে টাইম দেওয়া নিষ্প্রয়োজন। এখন, হে বাপদাদার পদম্ পদম্ বরদানের বরদানী হারানিধি বাচ্চা! এখন সঙ্কল্প দৃঢ় করো। আর দৃঢ়তার চাবি লাগাও। কর্মযোগী হও। তোমাদের কর্মযোগী লাইফ। লাইফ সদাকাল থাকে, কখনো কখনো নয়। তো এখন নিজেদের কৃপালু, দয়ালু, দুঃখহর্তা, সুখদাতা স্বরূপ ইমার্জ করো। অনেককাল থেকে বাপদাদা 'হঠাৎ' হওয়ার সময় সম্বন্ধে বলেছেন। তো হঠাৎ হওয়া সময়ের আগে অন্ততঃ ভক্তদের কাতর ডাক মঞ্জুর করো। দুঃখীদের দুঃখের আওয়াজ তো শোনো। এখন ছোট বড় প্রত্যেক বিশ্ব পরিবর্তক নিজেদেরকে বিশ্বের দুঃখ পরিবর্তন ক'রে সুখের দুনিয়ায় রূপান্তর করার উত্তরদায়ী মনে করো।

বাপদাদার এই আসা যাওয়া এটাই বা কত সময় পর্যন্ত? সেইজন্য সব হঠাৎ হওয়ার আছে। তো এখন উত্তরাধিকারী- কোয়ালিটি উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করাও, হৃদয়বান হওয়ার পার্ট প্লে করো। এরকম ভেবো না কবে হবে! হঠাৎ হবে। সেইজন্য ব্যর্থকে সমাপ্ত করতেই হবে। হতে হবে নয়, করতেই হবে। বাপদাদা রেজাল্ট দেখেছেন, সবার কর্মের গতি চেক করেছেন। পুরুষার্থের গতি চেক করেছেন। ভাণ্ডার জমা হওয়ার খাতা চেক করেছেন। তো রেজাল্টে কী দেখেছেন? জমা করার পুরুষার্থ খুব ভালো করে, কিন্তু তোমরা যা জমা করো তা'তে পার্সেন্টেজ ভিন্ন ভিন্ন হয়। যতটা জমা করেছ ব'লে ভাবো, জমা হয় কিন্তু পার্সেন্টেজে, অল্প জমা হয়, সদাকালের জমা হয় না। যতটা করো ততটা সদাকালের জন্য জমা হওয়ায় পার্থক্য আছে। সেইজন্য বাপদাদা এখন প্রতিটা বিষয়ে দৃঢ় সঙ্কল্প করান। ক্রোধের বিষয়ে করিয়েছেন, কিন্তু মন থেকেও কারও প্রতি চঞ্চলতা হবে না। কেন, কী হবে না। মুখ দ্বারা তোমরা কন্ট্রোল করেছো, কেউ কেউ ভালো করেছে কিন্তু মনের ভিতরে অল্প অল্প অব্যাহত থাকে। সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করো, তবুও বাপদাদা খুশি যে তোমাদের এদিকে অ্যাটেনশন গেছে। বুঝতে পারছো যে এতে আমারই লোকসান। বুঝেছ। আচ্ছা।

এখন চতুর্দিকের পরমাত্ম প্রেমী বাচ্চাদের যারা সদা বাবার ভালোবাসায় উড়তে থাকে, তীব্র পুরুষার্থী এবং সেবায় নির্বিঘ্ন প্রকৃত সেবাধারী, চতুর্দিকের এমন বাচ্চাদের বাপদাদাও দেখছেন, সেইসঙ্গে যারা দূরে আছে তাদেরও দেখছেন। আর এখানে শান্তিবনেও যারা জায়গায় জায়গায় স্ক্রিনে দেখছে, শুনছে, সেই সমস্ত বাচ্চাদের বাপদাদা সদাসর্বদা খুশি থাকো আর খুশি বিতরণ করো - এই বরদান দিচ্ছেন। প্রসন্নময় মুখমণ্ডল, যে কেউই তোমাদের সেই মুখ দেখবে, দেখে যেন খুশি হয়ে যায়। যতই হোক, নিজেদের প্রসন্নময় মুখ দেখে নিজেরাও খুশি হও, চতুর্দিকের বাচ্চাদের জন্য এবং যারা সমুখে বসে আছে সেই সব বাচ্চার জন্য এই একই বরদান। মুখমণ্ডল কখনো মলিন না হয়! যদি তোমরা নিস্তেজ হয়ে যাবে তবে বিশ্বের কী দশা হবে! সদা প্রসন্নময় মুখমণ্ডল আর সদয় আচরণে থাকো আর অন্যদেরও এরকমই বানাও। এমন সব তীব্র পুরুষার্থী বাচ্চাকে বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।

বরদান:-
নিজের মূর্তির দ্বারা বাবা আর শিক্ষকের আকৃতি প্রত্যক্ষ করিয়ে অনুভাবী মূর্তি ভব

নিজের আসল পজিশনে স্থির থাকা - এটাই স্মরণের যাত্রা, আমি যেমন আছি, আমি যার আপন - এতে স্থির থাকি, এই আসল স্বরূপের নিশ্চয় আর অনেকবারের বিজয়ের স্মৃতি দ্বারা
সদা নেশার স্থিতির সাগরে ভাসমান থাকবে। যখন সুখদাতার বাচ্চারা আছে তখন দুঃখের তরঙ্গ কীভাবে আসতে পারে, সর্বশক্তিমানের বাচ্চারা শক্তিহীন হবে কীভাবে! এই পজিশনের অনুভবে থাকো তবে তোমাদের মূর্তির দ্বারা বাবা এবং শিক্ষকের আকৃতি আপনা থেকেই প্রত্যক্ষ হবে।

স্লোগান:-
সত্যবাদী সেই হয় যার চেহারা আর আচার আচরণে দিব্যতা থাকে।

অব্যক্ত ইশারা :- সদা অবিচল অনড় একরস স্থিতির অনুভব করো যখন তোমরা বাচ্চারা নিজের এই ভ্রুকুটি আসনে অকালমূর্ত হয়ে স্থিত হবে তখন একরস স্থিতির আসনে এবং বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনে বিরাজমান হতে পারবে। যখন এই দৈবী সংগঠনের মূর্তরূপের মধ্যে একরস স্থিতির সাক্ষাৎকার প্রত্যক্ষ রূপে হবে তখন বাপদাদার প্রত্যক্ষতা যেন সমীপে আসে, তার জন্য প্রত্যেককে বাপদাদার সংস্কারে সমান হতে হবে।